ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড চায় না বিএনপি

দলের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সাইফুল ইসলাম

ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড চায় না বিএনপি

সরকারের সদিচ্ছার অভাব ও ব্যর্থতাই ধর্ষণের মতো অপরাধকে বৃদ্ধি করে। এর মূল কারণ হচ্ছে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, জবাবদিহিতার অভাব ও একনায়কতন্ত্রের ভয়াবহতা: মির্জা ফখরুল

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করছে না বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়।

এমন সাজা করে আইন করাকে সরকারের ব্যর্থতাও বলা হয়েছে বিরোধী দলটির পক্ষ থেকে।

বিএনপির ভাষ্য, ‘সরকারের সদিচ্ছার অভাব ও ব্যর্থতাই ধর্ষণের মতো অপরাধকে বৃদ্ধি করে। এর মূল কারণ হচ্ছে, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, জবাবদিহিতার অভাব ও একনায়কতন্ত্রের ভয়াবহতা।‘

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের প্রতিক্রিয়া সারাদেশে গড়ে উঠা আন্দোলনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করার দাবি উঠে।

সরকার এই দাবি মেনে নেয়ার পর অধ্যাদেশ আকারে সংশোধিত আইনটি কার্যকর করা হয়েছে।

ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন
ধর্ষণবিরোধী সাম্প্রতিক আন্দোলনে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা

মন্ত্রিসভা সাজা বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দেয়ার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘বিশ্বে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে অনেক বিতর্ক আছে। তারপরেও আমাদের দেশে এই ঘৃণ্য অপরাধটির যে চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, এটা বাড়ানো উচিত।’

রোববার দুপুরে গুলশানে দলের গুলশান কার্যালয়ে সাজা বৃদ্ধির বিষয়ে দলের অবস্থান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বলেন, ‘দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ব্যাপকতা প্রতিরোধে সরকারের চরম ব্যর্থতা প্রকাশ পায় সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা। কারণ এটি সমাধানের একমাত্র উপায় নয়।’

ধর্ষকরা সরকারি দলের প্রশ্রয়ে থাকে বলে এর কোনো বিচার হয় না বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

ধর্ষণবিরোধী লংমার্চে ফেনীতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘হামলায় এটা স্পষ্ট যে, গতকাল সারাদেশে পুলিশ বাহিনী ধর্ষণবিরোধী যে সমাবেশ করেছে তা লোক দেখানো।’

আসামিদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে বিচার সুনিশ্চিত করারও দাবি জানান ফখরুল।

‘ম্যাডাম ইজ নট ফ্রি’

এক প্রশ্নে ফখরুল বলেন, তার দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত নন, তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।

ফখরুল বলেন, ‘বলা হচ্ছে ম্যাডামের সাজা স্থগিত করা হয়েছে, তিনি নাকি মুক্ত। তিনি তো মুক্ত নন, সি ইজ নট ফ্রি। সাজা স্থগিত হলে তো তার ওপর কোনো বিধিনিষেধ থাকার কথা না।’

‘পার্থক্য হয়েছে এটুকুই তাকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। হোমলি পরিবেশের মধ্যে আছেন। যাকে সোজা কথায় বলা যায় গৃহে অন্তরীণ করা।’

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছর কারাদণ্ড পাওয়া খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে গত ২৪ মার্চ ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয় সরকার। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সাময়িক মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়।

ম্যাডাম ইজ নট ফ্রি: ফখরুল
দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজা দণ্ড স্থগিত করে গত ২৪ মার্চ খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়া হয়। পরে মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধও করেন ফখরুল। বলেন, ‘আমরা বরাবরই তার এডভান্স ট্রিটমেন্ট চেয়েছি। সেই এডভান্স সেন্টার তো আমাদের এখানে নেই। হয়তো ট্রিটমেন্ট আছে, কিন্তু আনুষঙ্গিক জিনিসগুলো নেই।’

উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা দল থেকে কেন করা হচ্ছে না- এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘আর কী বলব, আপনারা সব বুঝতেই পারেন।’

রোল মডেল কীভাবে

করোনাকালে সরকার দেশের অর্থনীতিকে মজবুত দেখাতে সূচকগুলো ভালো দেখাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আইএমএফের যে রিপোর্ট আমরা দেখছি, ভারতের জিডিপি ১০% কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের জিডিপি বেশি করে দেখিয়ে চমৎকার ইকনোমি দেখানো হচ্ছে।

‘একটা বিশেষ মহল’ বাংলাদেশকে ‘রোল মডেল’ বলে প্রচার করছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘যে হারে বেকারত্ব বেড়েছে, শিক্ষিত ছেলে-পেলেদের চাকরি নেই, সেক্ষেত্রে রোল মডেল কীভাবে বলবেন? কোন শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য