20201002104319.jpg
কেবল সাজা বৃদ্ধি নয়, দ্রুত নিষ্পত্তিতেও জোর: আইনমন্ত্রী

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করে আইনের সংশোধনীর বিষয়ে নিজ বাসায় ব্রিফ করছেন আইনমন্ত্রী। ছবি: জাব্বার খান

কেবল সাজা বৃদ্ধি নয়, দ্রুত নিষ্পত্তিতেও জোর: আইনমন্ত্রী

‘আমরা নিশ্চয় বিশ্বাস করি, ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড করায় এই অপরাধ কমে আসবে। না হলে বাড়ানোর প্রশ্নটায় আসতাম না।’

সর্বোচ্চ সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করায় ধর্ষণ কমে আসবে বলে আশা করছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বলেছেন, সাজা বাড়ানোর পাশাপাশি মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতেও জোর দেবেন তারা।

মন্ত্রিসভা সংশোধিত আইনে সায় দেয়ার পর সোমবার আইনমন্ত্রী তার গুলশানের বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সংশোধিত আইনে কী আছে, সেটি তুলে ধরেন; পাশাপাশি দেন নানা প্রশ্নের জবাব।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে অনেক বিতর্ক আছে। তারপরেও আমাদের দেশে এই ঘৃণ্য অপরাধটির যে চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, এটা বাড়ানো উচিত।’

‘সেই প্রেক্ষিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারটা আমরা সংশোধনীতে টেনে এনেছি।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় দেশ জুড়ে গড়ে উঠা আন্দোলনের মধ্যে সরকার সাজা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিল। তবে আন্দোলনকারীরা ধর্ষণকারীর মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সাজা নিশ্চিত করা, সাক্ষ্য আইনের সংশোধনসহ নানা দাবি তুলেছেন। বলেছেন, কেবল সাজা বাড়িয়ে ধর্ষণ রোধ করা যাবে না।

রাজধানীতে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের সাম্প্রতিক ছবি

 

সাজা বাড়লে ধর্ষণ কমবে কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিশ্চয় বিশ্বাস করি, ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড করায় এই অপরাধ কমে আসবে। না হলে বাড়ানোর প্রশ্নটায় আসতাম না।’

মামলা নিষ্পত্তিতে ধীরগতির বিষয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ধর্ষণ মামলা যেগুলো আগে করা হয়েছে, সেগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ করা হবে।’

বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতিরও উদ্যোগ চেয়েছেন মন্ত্রী। বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করব, তিনি যেন একটা প্র্যাকটিস ডাইরেকশন দেন; যেখানে বিজ্ঞ বিচারকবৃন্দ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই সব মামলাগুলো শেষ করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেন।’

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপিদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী। 

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন যে মামলাগুলো পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে, সেগুলো না, যেগুলো পেছনে আছে, সেগুলোও।’

আরও পড়ুন: মৃত্যুদণ্ডই ধর্ষণের উপযুক্ত সাজা

ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জটিলতা কমাতে সরকারের চিন্তা নিয়েও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা ডিজিটালাইজেশনের সাহায্যে সাক্ষীদেরকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ম্যাসেজ দেয়ার একটা পদ্ধতি অবলম্বন করছি। আমি আশা করি, এইসব নতুন পদ্ধতির ফলে ধর্ষণ এবং অন্যান্য মামলার নিষ্পত্তির দ্রুততা বৃদ্ধি পাব।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ভিডিও ফাঁসের পর গড়ে উঠা ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের এক সপ্তাহের মধ্যেই সরকার সাজা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংসদ অধিবেশনে না থাকায় মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি কার্যকর হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

যেসব আইনের সংশোধনী

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমি একটি সংশোধন প্রস্তাব উত্থাপন করি। সেটা হচ্ছে ধর্ষণের শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।’

৯ (১) ধারা সংশোধন করায় তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯ (৪) ধারাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশে আইনের ১১ (গ) ধারাও পাল্টানো হচ্ছে। এই ধারায় সাধারণ জখমের বিষয়টি আপোষযোগ্য ছিল না। সংশোধিত আইনে সে সুযোগ রাখা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় রয়েছে, যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে র্ধষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।

অন্যদিকে ৯ (৪) এর (ক) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তা হলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।

৯ (৪) এর (খ) ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তা হলে ওই ব্যক্তি অনধিক ১০ বছর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন৷

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ ধারাটিতে যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানোর মতো অপরাধের শাস্তির প্রসঙ্গ রয়েছে।

এই ধারার (গ)-তে বলা হয়েছে, কোনো নারীর স্বামী অথবা স্বামীর বাবা, মা, অভিভাবক, আত্মীয় বা স্বামীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি যৌতুকের জন্য সাধারণ জখম (simple hurt) করলে… ‘অনধিক তিন বছর কিন্তু অন্যুন এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এই দণ্ডের অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।‘

সংশোধন হচ্ছে শিশু আইনও

২০১৩ সালে সংশোধন করা শিশু আইনে আবার সংশোধনী আনা হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তবে কী কী পাল্টাচ্ছে, সেটা বলেননি তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘সংশোধনী আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় সংশোধনীগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ভেটিং সাপেক্ষে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য