হেফাজতে বিএনপি-জামায়াত জোটের সবাই বাদ

রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে হেফাজতের নতুন কমিটি ঘোষণা করছেন মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী। ছবি: নিউজবাংলা

হেফাজতে বিএনপি-জামায়াত জোটের সবাই বাদ

হেফাজত বরাবর নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করলেও এর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রায় সবাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা আর হাতে গোনা দুই-এক জন ছাড়া বাকি সবাই ছিলেন বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক। যে কারণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হেফাজত নানা সময় বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্য সাধনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের নতুন যে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক নেতা আছেন আগের মতোই। তবে বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক দলগুলোর কোনো নেতাই স্থান পাননি।

হেফাজতের ঢাউস কেন্দ্রীয় কমিটির আকারও ছোট করা হয়েছে। ১৫১ সদস্যের কমিটিকে নামিয়ে আনা হয়েছে ৩৩ সদস্যে।

এর পাশাপাশি ৯ সদস্যের একটি খাস কমিটি করা হয়েছে, যার কাজ যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে। এই কমিটিতে আছেন হেফাজতের শীর্ষ নেতারা।

অরাজনৈতিক দাবি করা হেফাজতের এই কমিটিরও সব নেতা রাজনীতি থেকে মুক্ত নন। তবে পার্থক্য হলো, প্রথমবারের মতো এই কমিটির নেতারা বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক দলের কেউ নন।

এই কমিটির যে নেতারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের বেশির ভাগই খেলাফত আন্দোলনের নেতা। এটি হাফেজ্জী হুজুর নামে পরিচিত মোহাম্মদ উল্লার দল। তার নাতি আতাউল্লাহ হাফেজ্জীকে নায়েবে আমির বা সহসভাপতি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিকদের বাদ দেয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, যিনি গত কয়েক বছরে উগ্র বক্তব্য দিয়ে দেশজুড়ে একটি সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তার পাশাপাশি তার দল খেলাফত মজলিসেরও কোনো নেতাকে রাখা হয়নি এই কমিটিতে।

কেবল কেন্দ্রীয় কমিটি নন, জেলা কমিটিতেও এই পরিবর্তনগুলো আসবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ স্থানীয় কমিটিগুলো থেকেও বিএনপি-জামায়াতের শরিকদের বাদ দেয়া হবে।

ঢাকা মহানগর কমিটি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এখানেও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত কাউকে রাখার সম্ভাবনা কম।

বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক বাদ দেয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী সরাসরি এভাবে বক্তব্য দিতে নারাজ।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাদ দেয়ার প্রশ্নই নেই। আমাদের এখানে আজকে যারা উপস্থিত হয়েছেন সবাই হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন। এর আগে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন ১৫১ জন। এখন আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট পরিসরে কমিটি করেছি। এর পরে কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে কাদের রাখা হবে, না রাখা হবে।’

যারা কারাগারে আছেন, তাদের অপরাধী মনে করে কমিটিতে রাখা হয়নি কি না- এ বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কাউকে অপরাধী মনে করার ক্ষমতা আমাদের নেই। অপরাধী মনে করতে পারে আদালত।’

অরাজনৈতিক হেফাজতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার

সম্পত্তিতে নারীর সমানাধিকারের বিরোধিতার অংশ হিসেবে ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি যাত্রা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রভাবমুক্ত হলো কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এই সংগঠনটি।

হেফাজত বরাবর নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন দাবি করলেও এর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রায় সবাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা আর হাতে গোনা দুই-এক জন ছাড়া বাকি সবাই ছিলেন বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক।

যে কারণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হেফাজত নানা সময় বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশ্যসাধনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্সের সমমান দেয়ার উদ্যোগ নেয়। সে জন্য একটি কমিটি করে আল্লামা শফীকেই করা হয় প্রধান। কিন্তু বিএনপি জোটের শরিক মুফতি ফজলুল হক আমিনী, মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাসরা সেই উদ্যোগকে ভণ্ডুল করে দেন।

২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনে হেফাজতের কারও বিচারের দাবি ওঠেনি। তার পরেও মঞ্চের সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করে ৫ মে ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি দেয় সংগঠনটি।

হেফাজতে বিএনপি-জামায়াত জোটের সবাই বাদ
মানবতাবিরোধী অপরাধের হেফাজতের কারও বিচার করা না হলেও তারা মাঠে নামে। আর সফল হলে তখন লাভবান হতো জামায়াত

এই আন্দোলনে হেফাজত সফল হলে জামায়াতের মানবতাবিরোধী অপরাধী নেতারা বেঁচে যেতে পারতেন। কিন্তু হেফাজতের কী লাভ হতো, তা তর্কের ঊর্ধ্বে নয়।

ওই ঘটনার পর পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হেফাজতের নেতারা বিএনপি-জামায়াত জোটের হয়ে কাজ করেছেন প্রকাশ্যেই। শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালানো হয়েছে-এমন অভিযোগ তুলে তাদের আবেগী বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করে বলে ধারণা করা হয়। আর সে সময় আলোচিত হয়ে ওঠা সেই নির্বাচনে সবগুলো এলাকাতেই আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়, যদিও তার পাঁচ বছর আগে সবগুলো এলাকাতেই জিতেছিল ক্ষমতাসীন দল।

তবে পরে সেই গণহত্যার প্রমাণ দিতে পারেনি হেফাজত আর প্রাথমিকভাবে যারা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছিল, তাদের অনেকেই জীবিত ফিরে আসেন। আর সরকারের সঙ্গে দূরত্বও কমিয়ে আনে হেফাজত।

শাপলা চত্বরের সেই ঘটনাপ্রবাহের পর অবশ্য আল্লামা শফী আওয়ামী লীগ সরকারের কাছাকাছি আসতে পারেন আর ২০১৭ সালে তার হাতেই কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত তুলে দেয়া হয়।

তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আবার ঘুরে যায়। ওই মাসের শেষ দিকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় হাঙ্গামায় আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর নভেম্বরে হেফাজতের যে সম্মেলন করা হয়, তাতে শফীর অনুসারীদের বাদ দেয়া হয়। ১৫১ সদস্যের যে কমিটি করা হয়, তাদের শতাধিক নেতাই বিএনপি-জামায়াতের শরিক দলের নেতা।

১৫ নভেম্বরের সম্মেলনের বিরোধিতা করে শফীপন্থিরা আগের দিন সংবাদ সম্মেলন করেই অভিযোগ করেন, বিএনপি-জামায়াতের দখলে যাচ্ছে হেফাজত। আর কমিটি গঠনের পর তাদের এই অভিযোগ প্রকারান্তরে সত্য বলেই প্রতিভাত হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু ভারতের সরকারপ্রধান নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর সমালোচনা করে আসছিল হেফাজত। তবে সফরের তিন দিন আগে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে নেতারা ঘোষণা করেন, তাদের কোনো কর্মসূচি থাকবে না সেদিন।

হেফাজতে বিএনপি-জামায়াত জোটের সবাই বাদ
সমমনা ইসলামী দলের ব্যানারে ২৫ মার্চ হেফাজত নেতারা ঘোষণা দেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় এলে তারা সরকার পতনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করবেন

তবে ২৫ মার্চ বায়তুল মোকাররমে সমাবেশ করে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, ‘মোদি ঢাকায় এলে সরকার পতনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হবে’।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে হেফাজতের কী সম্পর্ক সে ব্যাখ্যা কখনও সংগঠনটি দেয়নি। আর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে হেফাজতের নেতাদের গ্রেপ্তার শুরু হওয়ার পর থেকে আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বারবার বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় কে থাকবে না থাকবে, সে ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দুই দফা দেখা করে সমঝোতার চেষ্টা করেন হেফাজত মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী। আর ১৫ এপ্রিল বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক নেতায় পরিপূর্ণ কমিটি ভেঙে দেন বাবুনগরী। সেই রাতেই অবশ্য গঠন করা হয় আহ্বায়ক কমিটি।

এরপর থেকেই বলাবলি হচ্ছিল, হেফাজত এখন বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রভাবমুক্ত হবে। হলোও তাই।

নতুন কমিটিতে কারা

৩৩ সদস্যের কমিটিতে আমির ও মহাসচিব পদে নতুন মুখ নেই। দুই শীর্ষ নেতা জুনাইদ বাবুনগরী ও নুরুল ইসলাম জিহাদী সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না আগেও।

নায়েবে আমির হয়েছেন আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মাওলানা আবদুল হক, মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, মাওলানা মীযানুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা মুহিব্বুল হক, মাওলানা ইয়াহইয়া, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা তাজুল ইসলাম, মুফতি জসিমুদ্দীন।

যুগ্ম মহাসচিব হয়েছেন মাওলানা সাজেদুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মাওলানা আব্দুল আউয়াল, (নারায়ণগঞ্জ), মাওলানা লোকমান হাকীম (চট্টগ্রাম), মাওলানা আনোয়ারুল করীম (যশোর), মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী।

সহকারী মহাসচিব হযরত মাওলানা জহুরুল ইসলাম (মাখজান), মাওলানা ইউসুফ মাদানী (আল্লামা শফীর ছেলে)।

তবে ইউসুফ মাদানী এই পদ ও কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে মাওলানা মীর ইদ্রিস (চট্টগ্রাম)কে।

অর্থ সম্পাদক হয়েছেন মুফতি মুহাম্মদ আলী (মেখল), সহ-অর্থসম্পাদক মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী (নাজিরহাট)।

প্রচার সম্পাদক হয়েছেন মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী (সাভার) সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা জামাল উদ্দীন (কুড়িগ্রাম)।

দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী (উত্তরা, ঢাকা), সহকারী দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা ওমর ফরুক (নোয়াখালী)।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন মোবারাকুল্লাহ, (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), ফয়জুল্লাহ্ (মাদানীনগরের পীর), ফোরকানুল্লাহ খলিল (দারুল মা'আরেফ, চট্টগ্রাম), মোশতাক আহমদ, (খুলনা দারুল উলুম), রশিদ আহমদ, (কিশোরগঞ্জ), মাওলানা আনাস (ভোলা), মাহমুদল হাসান (ফতেহপুরী) ও মাহমুদুল আলম (পঞ্চগড়)।

হেফাজত নতুন কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরী কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। মহাসচিব নূরুল ইসলাম জিহাদীরও রাজনৈতিক কোনো পরিচয় নেই। তিনি রাজধানীর খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।

নতুন খাস কমিটির সদস্য মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী একসময় ইসলামী ঐক্যজোটের সহসভাপতি থাকলেও, ২০১৮ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। মীযানুর রহমান চৌধুরী গাজীপুরের কাপাসিয়ার মাদ্রাসা দাওয়াতুল হকের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও, বিএনপি নেতা আ স ম হান্নান শাহের মৃত্যুর পর আর রাজনীতি করেননি। তিনি কাপাসিয়ার শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন।

নতুন কমিটির নায়েবে আমির আতাউল্লাহ হাফেজ্জী খেলাফত আন্দোলনের আমির। দলটি বিএনপি-জামায়াতের জোটে নেই। এ ছাড়াও নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তিনি এখন রাজনীতিতে নেই।

বিএনপি-জামায়াতের যে সঙ্গীরা বাদ

২০ দলের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর নেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ (মধুপুর), মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ সাদী, মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মাওলানা আনোয়ারুল করিম (যশোর) ও মাওলানা নুরুল ইসলাম খান (সুনামগঞ্জ) জায়গা পাননি।

যদিও সংগঠনটির সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর হেফাজতের আনাসপন্থিদের দলে যোগ দিয়েছেন। গত ২ জুন তাদের এক সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।

মামুনুল হক ছাড়াও বাদ পড়েছেন জমিয়ত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও নাসির উদ্দিন মুনির।

এ ছাড়াও দলটির ফজলুল করীম কাসেমী ও মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীও কমিটিতে স্থান পাননি।

হেফাজতে বিএনপি-জামায়াত জোটের সবাই বাদ
গত ১৫ মে হাটহাজারী মাদ্রাসায় সম্মেলনে ১৫১ সদস্যের যে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়, তাতে একশ জনেরও বেশি নেতা বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক ছিলেন

জমিয়ত নেতা মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী ছিলেন হেফাজতের আইনবিষয়ক সম্পাদক। তিনিও এবার কমিটিতে নেই।

বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের ছয়জন নেতা স্থান পেয়েছিলেন গত নভেম্বরের সম্মেলনে। এদের মধ্যে উপদেষ্টামণ্ডলীতে থানা দলের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, নায়েবে আমির হওয়া আহমাদ আবদুল কাদেরকেও বাদ দেয়া হয়। কাদের ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন।

এ ছাড়া জমিয়ত নেতা মাওলানা মাসউদুল করীম, মাওলানা শামসুল ইসলাম জিলানী, মাওলানা তাফহিমুল হক, মুফতি মুনির হোসাইন কাসেমী ও মাওলানা লোকমান মাজহারীও এবারের কমিটিতে স্থান পাননি।

জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হেফাজতের গত কমিটি দাওয়াহ সম্পাদক হওয়া মাওলানা নাজমুল হাসানও বাদ পড়েছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কেন বাদ দিল, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। গতকালকেও শুনলাম আমার নাম আছে।’

আরও পড়ুন:
হেফাজতের কমিটির ২ নেতাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্ষোভ
শফীর ছেলে হেফাজতের কমিটিতে
বাবুনগরী ফের আমির, জায়গা পাননি মামুনুল
হাটহাজারীতে সহিংসতা: রিমান্ডে হেফাজত নেতা
মামুনুলের জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা ও ধর্ষণের ‘প্রমাণ’ পেল পুলিশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

একজন মানুষ কয়বার জন্মায়: খালেদা প্রসঙ্গে হাছান

একজন মানুষ কয়বার জন্মায়: খালেদা প্রসঙ্গে হাছান

বিভিন্ন নথিতে খালেদা জিয়ার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও এসব তারিখের পরিবর্তে ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করেন বিএনপির চেয়ারপারসন। ছবি: সংগৃহীত

‘মেট্রিক পরীক্ষার ফরমে খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল। আবার তার বিবাহ সনদে জন্মের তারিখ উল্লেখ আছে ৫ আগস্ট ১৯৪৪ সাল। ১৯৯১ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তখন সরকারি নথিতে তার জন্মতারিখ উল্লেখ আছে ১৯ আগস্ট ১৯৪৭ সাল। আর বর্তমানে যে পাসপোর্ট তিনি ব্যবহার করছেন, সেখানে তার জন্মতারিখ উল্লেখ আছে ৫ আগস্ট ১৯৪৬ সাল। এবং অতি সম্প্রতি তিনি যে করোনার টেস্ট করেছেন, সেখানে তার জন্মের তারিখ উল্লেখ আছে ৮ মে ১৯৪৬ সাল। কটি জন্ম তারিখ হলো!’

‘একজন মানুষ কয়বার জন্মায়’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের কাছে এ প্রশ্ন রেখে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আপনারা বেগম খালেদা জিয়াকে এভাবে পাঁচ-ছয়টি জন্মের তারিখ দিয়ে কেন বারবার জন্মগ্রহণ করালেন!’

সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার জন্মদিনের বিভিন্ন তারিখ ব্যবহারের বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, রোববার হাইকোর্টের এই রুল জারির পর মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান মন্ত্রী।

পাসপোর্ট ও করোনা টেস্ট রিপোর্টে খালেদা জিয়ার জন্মতারিখের চিত্র নিজের আইপ্যাড থেকে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন হাছান মাহমুদ।

বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলতে চাই, মেট্রিক পরীক্ষার ফরমে খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল। আবার তার বিবাহ সনদে জন্মের তারিখ উল্লেখ আছে ৫ আগস্ট ১৯৪৪ সাল। ১৯৯১ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তখন সরকারি নথিতে তার জন্মতারিখ উল্লেখ আছে ১৯ আগস্ট ১৯৪৭ সাল। আর বর্তমানে যে পাসপোর্ট তিনি ব্যবহার করছেন, সেখানে তার জন্মতারিখ উল্লেখ আছে ৫ আগস্ট ১৯৪৬ সাল। এবং অতি সম্প্রতি তিনি যে করোনার টেস্ট করেছেন, সেখানে তার জন্মের তারিখ উল্লেখ আছে ৮ মে ১৯৪৬ সাল। কটি জন্ম তারিখ হলো!’

১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার জন্মনিবন্ধনের সব নথি হাইকোর্টে জমা দেয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুন অর রশিদ রিটটি করেছেন।

সরকারি কোনো নথিতে খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ ১৫ আগস্ট উল্লেখ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে ১৫ আগস্ট কেক কাটা হয় সেদিনের হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করার জন্য, উৎসাহ দেয়ার জন্য, ১৫ আগস্টের এই মর্মান্তিক ঘটনাকে উপহাস করার জন্য।’

হাছান দাবি করেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবরা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মের তারিখ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন এবং তারা আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন, আদালতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘একজন মানুষের পাঁচটা জন্মতারিখ হওয়া মানে, তার জন্মের তারিখ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, এটা তারাই করেছেন। সরকার বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি বলেনি। আদালত নির্দেশনা দিয়েছে বিধায় সরকারকে আদালতে সমস্ত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে বক্তব্য রেখেছেন সেগুলো হাইকোর্টের প্রতি, আইন-আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের মতো বলেও মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী।

বিএনপি অবশ্য তিন বছর ধরে ১৫ আগস্ট ঘটা করে জন্মদিন পালন করছে না। কোনো কেক সেদিন কাটা হয় না। আর দলের পক্ষ থেকে কর্মী-সমর্থকদেরকেও কেক না কেটে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করার অনুরোধ করা হয়।

তবে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এটা মানছেন না। তারা ফেসবুক লাইভে এসে কেক কাটেন ১৫ আগস্ট।

আরও পড়ুন:
হেফাজতের কমিটির ২ নেতাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্ষোভ
শফীর ছেলে হেফাজতের কমিটিতে
বাবুনগরী ফের আমির, জায়গা পাননি মামুনুল
হাটহাজারীতে সহিংসতা: রিমান্ডে হেফাজত নেতা
মামুনুলের জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা ও ধর্ষণের ‘প্রমাণ’ পেল পুলিশ

শেয়ার করুন

ফারুকদের ‘মূল্যায়ন করছে না’ আওয়ামী লীগ

ফারুকদের ‘মূল্যায়ন করছে না’ আওয়ামী লীগ

শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, ‘ফারুকদের মতো কর্মীরা আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছে। তাদের শ্রমে-ঘামে আজ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায়। অথচ ফারুকের মতো কর্মীরা অবহেলিত রয়ে গেছে। দলকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ফারুকদের মতো কর্মীদের সঠিক জায়গায় মূল্যায়ন করা উচিত।’

নোয়াখালীর সেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ফারুক ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।

নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমে ২৬ মে ‘দাপুটে ছাত্রলীগ নেতা ফারুক এখন রিকশাচালক’ নামে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। তারপর বিষয়টি আলোচনায় আসে।

প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে তাকে উপহার দেয়া হয়েছে ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা। এরপর নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের নেতারাও তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছে।

রোববার রাতে জেলা শহর মাইজদীর রশিদ কলোনির চেয়ারম্যান পার্কে ফারুকের হাতে অর্থ সহায়তা তুলে দেন নোয়াখালী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীন।

এ সময় ফারুককে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন শাহীন।

ফারুক নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলা যুবলীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক, কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রলীগের দুঃসময়ের সঙ্গী ছিলেন তিনি।

১৯৯৫ সালে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ওই বছরই কবিরহাট পদুয়া শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি, ২০০৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, ‘ফারুকদের মতো কর্মীরা আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছে। তাদের শ্রমে-ঘামে আজ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায়। অথচ ফারুকের মতো কর্মীরা অবহেলিত রয়ে গেছে। দলকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে ফারুকদের মতো কর্মীদের সঠিক জায়গায় মূল্যায়ন করা উচিত।’

আরও পড়ুন:
হেফাজতের কমিটির ২ নেতাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্ষোভ
শফীর ছেলে হেফাজতের কমিটিতে
বাবুনগরী ফের আমির, জায়গা পাননি মামুনুল
হাটহাজারীতে সহিংসতা: রিমান্ডে হেফাজত নেতা
মামুনুলের জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা ও ধর্ষণের ‘প্রমাণ’ পেল পুলিশ

শেয়ার করুন

‘বারবার জ্বর আসছে খালেদার’

‘বারবার জ্বর আসছে খালেদার’

ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিনের বিষয়ে রিটটি আদালতের আমলেই নেয়া উচিত হয়নি। অনেকেরই জন্মদিন আর সার্টিফিকেটের জন্মতারিখ এক না। তার ক্ষেত্রেও এমন হতে পারে। এটি কোনো ইস্যু হতে পারে না।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফুসফুস ও কিডনি জটিলতার কারণে বারবার জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দুপুরে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা জানাতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চিকিৎসকদের কাছ থেকে যতটুকু জেনেছি তার (খালেদা জিয়া) হার্টের সমস্যা আছে, সেই সমস্যা না গেলে তার লাংসে যেভাবে পানি এসে যায় সেটা বন্ধ হবে না।’

‘যেটা তারা (চিকিৎসক) মনে করছেন, কিডনি ইজ নট ফ্যাংশনিং প্রপারলি। তার লিভারও ঠিকভাবে কাজ করছে না।’

‘যে কারণে জ্বর চলে গেলে আবারও তার জ্বর আসছে। গতকাল তার জ্বর এসেছিল।’

এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন। যেটা বারবার করে তারা বলছেন, আমাদের হাসপাতালগুলো ইক্যুইপ্ট না। তাকে অ্যাডভান্স সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা করানো উচিত।

‘বারবার জ্বর আসছে খালেদার’
সোমবার দুপুরে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসনের সর্বশেষ অবস্থা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

এদিকে দেশে রাজনীতি নেই বলেই আওয়ামী লীগ ভিন্ন বিষয়কে সামনে এনে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিনের বিষয়ে রিটটি আদালতের আমলেই নেয়া উচিত হয়নি। অনেকেরই জন্মদিন আর সার্টিফিকেটের জন্মতারিখ এক না। তার ক্ষেত্রেও এমন হতে পারে। এটি কোনো ইস্যু হতে পারে না।

জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত কাজ নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিক্যাল টিম বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা করছে।

পোস্ট কোভিড নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে খালেদা জিয়া গত ২৭ এপ্রিল বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। ৩ মে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয় তাকে।

অবস্থার উন্নতি হলে এক মাস পর গত ৩ জুন চিকিৎসকদের পরামর্শে খালেদা জিয়াকে কেবিনে ফিরিয়ে আনা হয়।

এর আগে গত ১৪ এপ্রিল গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা‘য় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন বিএনপি চেয়ারপারসন। করোনামুক্ত হন ৯ মে।

আরও পড়ুন:
হেফাজতের কমিটির ২ নেতাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্ষোভ
শফীর ছেলে হেফাজতের কমিটিতে
বাবুনগরী ফের আমির, জায়গা পাননি মামুনুল
হাটহাজারীতে সহিংসতা: রিমান্ডে হেফাজত নেতা
মামুনুলের জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা ও ধর্ষণের ‘প্রমাণ’ পেল পুলিশ

শেয়ার করুন

আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হলেন শহীদুজ্জামান

আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হলেন শহীদুজ্জামান

সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রোববার প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব সংসদে তুললে সংসদ তা গ্রহণ করে।

আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার। সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়েছিল।

ধামইরহাট-পত্নিতলার সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিরও সভাপতি।

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৪ এপ্রিল মারা যান সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু। গত ২২ এপ্রিল তার আসন শূন্য ঘোষণা করে সংসদ।

রোববার সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব সংসদে তুললে সংসদ তা গ্রহণ করে।

এদিকে শহীদুজ্জামান সরকারের জায়গায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সংরক্ষিত আসনের সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান।

এ ছাড়া আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। আর ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

আর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন কানিজ ফাতেমা আহমেদ। এই কমিটির সদস্য আসলামুল হক মারা যাওয়ায় একটি সদস্যপদ শূন্য হয়।

আরও পড়ুন:
হেফাজতের কমিটির ২ নেতাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্ষোভ
শফীর ছেলে হেফাজতের কমিটিতে
বাবুনগরী ফের আমির, জায়গা পাননি মামুনুল
হাটহাজারীতে সহিংসতা: রিমান্ডে হেফাজত নেতা
মামুনুলের জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা ও ধর্ষণের ‘প্রমাণ’ পেল পুলিশ

শেয়ার করুন

‘যোগ্য প্রার্থী’ থাকলেও উপনির্বাচনে সিপিবির ‘না’

‘যোগ্য প্রার্থী’ থাকলেও উপনির্বাচনে সিপিবির ‘না’

ফাইল ছবি

বামপন্থি দলটির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমান সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে এই উপনির্বাচনেও মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকবে না এবং আগের নির্বাচনের মতোই এই নির্বাচনও অংশগ্রহণমূলক হবে না। তাই এসব আসনে যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও সিপিবি অংশগ্রহণ করবে না।

নিজেদের ‘যোগ্য প্রার্থী’ থাকলেও বর্তমান সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় সংসদের তিন আসনে আসন্ন উপনির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানায় বামপন্থি দলটি।

রাজধানীর পল্টনে মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে এই উপনির্বাচনেও মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থাকবে না এবং আগের নির্বাচনের মতোই এই নির্বাচনও অংশগ্রহণমূলক হবে না। তাই এসব আসনে যোগ্য প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও সিপিবি অংশগ্রহণ করবে না।

‘স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচনব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সে জন্য সিপিবি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। ভোটাধিকারসহ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সিপিবি তীব্র গণসংগ্রাম গড়ে তুলবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন।

উপস্থিত ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল কাদের, সাদেকুর রহমান শামীম, কাজী রুহুল আমিন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক আবিদ হোসেনসহ আরও অনেকে।

গত ৪ এপ্রিল আসলামুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা-১৪, ১৪ এপ্রিল আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে কুমিল্লা-৫ আর ১১ মার্চ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মৃত্যুতে ফাঁকা হয় সিলেট-৫ আসন।

গত ২ জুন নির্বাচন কমিশন এক বৈঠকে এই তিন আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৮ জুলাই।

১৫ জুন মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। মনোনয়ন বাছাই হবে ১৭ জুন। ১৮, ১৯ ও ২০ জুন আপিলের দিন ঠিক করা হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের শেষ দিন ২৩ জুন। প্রতীক বরাদ্দের তারিখ ২৪ জুন।

আরও পড়ুন:
হেফাজতের কমিটির ২ নেতাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্ষোভ
শফীর ছেলে হেফাজতের কমিটিতে
বাবুনগরী ফের আমির, জায়গা পাননি মামুনুল
হাটহাজারীতে সহিংসতা: রিমান্ডে হেফাজত নেতা
মামুনুলের জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা ও ধর্ষণের ‘প্রমাণ’ পেল পুলিশ

শেয়ার করুন

‘খালেদার করোনার দায় আ.লীগের কাঁধে আসতে পারে’

‘খালেদার করোনার দায় আ.লীগের কাঁধে আসতে পারে’

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির সময় হেফাজতের ব্যানারে বিএনপি-জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণে যে তাণ্ডব হয়েছে, সেটিকে অস্বীকার করা এবং অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপচেষ্টা বিএনপি মহাসচিবের মিথ্যাচারেরই বহিঃপ্রকাশ। ভাবছি, কখন যে তিনি আবার বলে বসেন, খালেদা জিয়ার করোনা হওয়ার জন্যও আওয়ামী লীগ দায়ী।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার দায় আওয়ামী লীগের ওপর চাপানো হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী।

‘মার্চের তাণ্ডব হেফাজত নয়, আওয়ামী লীগেরই সাজানো’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী এ শঙ্কা জানান।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির সময় হেফাজতের ব্যানারে বিএনপি-জামায়াতের সক্রিয় অংশগ্রহণে যে তাণ্ডব হয়েছে, সেটিকে অস্বীকার করা এবং অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপচেষ্টা বিএনপি মহাসচিবের মিথ্যাচারেরই বহিঃপ্রকাশ। ভাবছি, কখন যে তিনি আবার বলে বসেন, খালেদা জিয়ার করোনা হওয়ার জন্যও আওয়ামী লীগ দায়ী।’

এ বছরের ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ যেসব ঘটনা চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ঘটেছে, সেগুলো কারা ঘটিয়েছে, সেই ভিডিও ফুটেজ সরকারের কাছে আছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আসামিদের বিচার হচ্ছে, যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। মির্জা ফখরুল যখন এই কথাগুলো বলেন, তখন প্রমাণিত হয় তারা যে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তা অস্বীকার করার জন্যই বলেছেন। এ রকম জঘন্য মিথ্যাচার একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদের কাছ থেকে কখনও কাম্য নয়।’

বরং ওই সব ঘটনায় তার নিন্দা জানানো উচিত ছিল জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেটি না করে বরং এভাবে মিথ্যাচার করে এ ধরনের ঘটনাকে উসকে দেয়া হচ্ছে, প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে, এটি কখনও সমীচীন নয়।’

জনগণের উত্তাল আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে বলে মির্জা ফখরুল যে মন্তব্য করেছেন, তার জবাবেও কথা বলেছেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কথা আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার ৬ মাস পর থেকে, অর্থাৎ ১২ বছর ধরে শুনে আসছি। বাস্তবতা হচ্ছে, জনগণের রায় নিয়ে পরপর তিনবার জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেছেন, দেশ পরিচালনা করছেন। এসব কথা বলে নিজেরা নিজেদের হাস্যকর করে তুলছেন।’

বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর পারিবারিকভাবে দুই দফা ক্ষমতায় ছিলেন বলেও মন্তব্য করেছেন হাছান মাহমুদ।

সম্প্রতি মির্জা ফখরুল দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ ইতিহাস বিকৃতি করছে। তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফখরুল সাহেব পারিবারিকভাবে দুবার ক্ষমতায় ছিলেন। তার বাবা এরশাদ সাহেবের মন্ত্রী ছিলেন। তিনি আবার খালেদা জিয়ার মন্ত্রী ছিলেন। তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধুর নাম রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ সব প্রচারযন্ত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ক্রমাগতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল।’

ওই সময় জাতির পিতাকে অস্বীকার করা হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার খলনায়ককে নায়ক বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আজকে যখন ঠিক ইতিহাসটা জনগণ জানতে পারছে, তখন তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে। এ জন্য তারা এসব কথা বলছে।’

জিয়াউর রহমানের খেতাব

জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সঠিক উত্তর দিতে পারবে। তবে এ কথা ঠিক, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছেন।’

গণমাধ্যমকর্মী আইন

গণমাধ্যমকর্মী আইন প্রণয়নের অগ্রগতির বিষয়েও জানতে চাওয়া হয় তথ্যমন্ত্রীর কাছে। তিনি বলেন, ‘আইনের চূড়ান্ত খসড়া আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে মন্ত্রিসভায় যাবে।

‘এ আইন প্রণীত হলে বিএনপির সময় গণমাধ্যমকর্মীদের যে শ্রমিক বানিয়ে দেয়া হয়েছিল, সেটি থেকে মুক্তি লাভ হবে। সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্তদের আইসি সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। যেকোনো সময় ছাঁটাই করা অনেকটা বন্ধ হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
হেফাজতের কমিটির ২ নেতাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্ষোভ
শফীর ছেলে হেফাজতের কমিটিতে
বাবুনগরী ফের আমির, জায়গা পাননি মামুনুল
হাটহাজারীতে সহিংসতা: রিমান্ডে হেফাজত নেতা
মামুনুলের জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা ও ধর্ষণের ‘প্রমাণ’ পেল পুলিশ

শেয়ার করুন

সিলেট-৩: ভোটে থাকছে বিএনপিও

সিলেট-৩: ভোটে থাকছে বিএনপিও

সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলা হলেও প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। আর বিএনপির পক্ষ থেকে এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তবে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বলা হলেও প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

শিল্পপতি শফি আহমদ চৌধুরী চিকিৎসার জন্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহমদ রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্যার এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। প্রার্থী হওয়ার জন্য এরই মধ্যে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। সোমবার বিকেলে তিনি সিলেটে পৌঁছবেন।’

শফি চৌধুরী ২০০১ সালে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের কাছে পরাজিত হন তিনি।

গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ জুলাই আসনটিতে উপনির্বাচন হবে।

হাবিবুর রহমান হাবিবকে শনিবার এই আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এর আগে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি নিজেদের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিককে প্রার্থী মনোনীত করে।

আরও পড়ুন: দুই ডজনকে ডিঙালেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা



সাবেক সংসদ সদস্য শফি চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় এই আসনে জমজমাট লড়াইয়ের আশা করছেন ভোটাররা।

শফি চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী রাজু আহমদ বলেন, তিনি মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন। তার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র তুলে তা পূরণ করে জমার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শফি চৌধুরীর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণার ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, ‘এমনটি আমিও শুনেছি। তবে নিশ্চিত করে কিছু জানি না। শফি চৌধুরী দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’

কামরুল হুদা বলেন, ‘এই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে না, এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। কেউ এই সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া দলীয় নেতা-কর্মীদেরও বলে দেয়া হবে তার সঙ্গে না থাকার জন্য।’

আরও পড়ুন:
হেফাজতের কমিটির ২ নেতাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্ষোভ
শফীর ছেলে হেফাজতের কমিটিতে
বাবুনগরী ফের আমির, জায়গা পাননি মামুনুল
হাটহাজারীতে সহিংসতা: রিমান্ডে হেফাজত নেতা
মামুনুলের জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা ও ধর্ষণের ‘প্রমাণ’ পেল পুলিশ

শেয়ার করুন