× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Heat custody is now far from soft politics
google_news print-icon

গরম হেফাজত এখন নরম, রাজনীতি থেকে দূরে

গরম-হেফাজত-এখন-নরম-রাজনীতি-থেকে-দূরে
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর ঘিরে বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষের প্রতিবাদ জানিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। ফাইল ছবি
হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘আমরা এখন রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত আছি। কারণ আমরা তো অরাজনৈতিক সংগঠন। আগে দিয়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু এখন আমাদের দেয়ার সুযোগ নেই।’

২০২১ সালের মার্চ-এপ্রিল। ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামীর নেতারা বারবার বলছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় এলে সরকারের পতন ঘটিয়ে ফেলবেন তারা।

আয়োজন ছিল মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীর। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বন্ধু ভারতের সরকারপ্রধানকে ঠেকাতে সংগঠনটি দেশের নানাপ্রান্তে যে তাণ্ডব দেখাচ্ছিল, সে সময় তাদের নেতাদের বক্তব্য ছিল ভীষণ গরম।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগের দিন ২৫ মার্চ বায়তুল মোকাররমের সামনে সংগঠনটির সে সময়ের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির আগমনই হবে সরকারের পতনের ক্ষেত্র, যদি সরকার আমাদের দাবি না মানে।’

এই সফর চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে তাণ্ডবের পর ২৮ মার্চ হরতাল ডাকে সংগঠনটি। আগের দিন বায়তুল মোকাররমের সামনে সমাবেশে আরেক যুগ্ম মহাসচিব ফজলুল করিম কাসেমী বলেন, ‘হরতালে বাধা দিলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।’

গরম হেফাজত এখন নরম, রাজনীতি থেকে দূরে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা করে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় হেফাজত সমর্থকরা। ফাইল ছবি

৩১ মার্চ হরতালে তাণ্ডবের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেয়া ১১ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে তুলাধুনা করে হেফাজত বিবৃতিতে বলে, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসী ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করার চক্রান্ত আমরা গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে নস্যাৎ করে দেব, ইনশাআল্লাহ।… কোনো অপশক্তির হুমকি-ধমকিকে নায়েবে রাসুল ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা পরোয়া করে না।’

তবে গ্রেপ্তার অভিযানের মুখে পরে সবই পরোয়া করেছে হেফাজত। সংগঠনের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে রাজনীতিসংশ্লিষ্ট সবাইকে। বারবার নেতারা বলছেন, রাজনীতি নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই।

হেফাজত নিয়ে সংগঠনের নেতা-কর্মীরাই এখন হতাশ। সংগঠন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন, এমন নেতার সংখ্যাও কম নয়।

এই যেমন সাবেক নায়েবে আমির আবদুর রব ইউসূফী। হেফাজতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

হেফাজতের চরিত্রে পরিবর্তন হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিক। আপনাদের মন্তব্য তো সব সময় যথার্থ হয়। তবে এ বিষয়ে যারা এখন সংগঠনের দায়িত্বে আছেন তারা ভালো বলতে পারবেন। আমি তো এখন সংগঠনের দায়িত্বে নেই।’

হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘আমরা এখন রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত আছি। কারণ আমরা তো অরাজনৈতিক সংগঠন। আগে দিয়েছে এটা ঠিক। কিন্তু এখন আমাদের দেয়ার সুযোগ নেই।’

গ্রেপ্তারের পর থেকেই চুপচাপ, ‘রাজনীতি থেকে দূরে’

গত বছরের এপ্রিলে প্রথমে মামুনুল হক, এরপর হেফাজতের আরও বেশ কয়েকজন নেতাকে ওই বছরের মার্চ ও এপ্রিলের শুরুর দিকে সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে তাণ্ডবের পুরোনো মামলাগুলো সচল হয়।

এরপর থেকে রাজনৈতিক কোনো ইস্যু দূরে থাক, ধর্মীয় কোনো বিষয়েও দেশজুড়ে কোনো কর্মসূচি নেই সংগঠনটির।

হেফাজত নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা সামনে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেবে না।

সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম শুরু থেকেই অরাজনৈতিক সংগঠন। রাজনীতির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

কোনো কর্মসূচি না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক নেতা এখনও জেলে আছেন। আমরা যদি এই মুহূর্তে কর্মসূচি দেই, তাহলে ওদের বের হওয়াটা আরও মুশকিল হয়ে যাবে। আর আমাদের আমির তো বলেছেন, সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানো আমাদের কাজ না।’

সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু দেশে সামনে নির্বাচনের বিষয় আছে। এ সময় আমরা কর্মসূচি দিলে আমাদের রাজনৈতিক বলা হবে। সে জন্য আমরা কর্মসূচি দিচ্ছি না। তবে আমাদের সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতার বিষয় নেই।’

ধর্মীয় কর্মসূচিও কেন নেই জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভক্তের অভাব নেই। কিন্তু আমাদের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে অনেকে জেলে রয়েছেন। এ অবস্থায় যদি আমরা কর্মসূচি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি তাহলে তো সমস্যা সৃষ্টি হবে। এ জন্য আমরা কর্মসূচি দিচ্ছি না।’

হেফাজতে ইসলামের প্রভাবশালী নেতারা মৃত্যুর কারণে সংগঠন দুর্বল হয়েছে বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘১৪ মাসের মধ্যে আমাদের চারজন মুরব্বি, দুজন আমির ও দুজন মহাসচিব মারা গেছেন। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। এটি কাটিয়ে উঠতে আমাদের সময় লাগবে।

‘আমাদের নেতারা সবাই জেল থেকে বের হয়ে এলে, আশা করি আমরা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব।’

গরম হেফাজত এখন নরম, রাজনীতি থেকে দূরে

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। ফাইল ছবি

তাণ্ডব, হুমকির পর গ্রেপ্তার অভিযান

গত বছরের ২৬ মার্চ ও এর পরবর্তী সময়ে নানা কর্মসূচি দেয় হেফাজত। এর মধ্যে ২৬ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় হেফাজত সমর্থকরা।

এরপর চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় হামলা হয়। সেখানে গুলিতে প্রাণ হারায় কয়েকজন। এরপর কয়েক দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পরে নারায়ণগঞ্জে চলে তাণ্ডব।

এরপর গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে নারী নিয়ে মামুনুল হক অবরুদ্ধ হওয়ার পর তাকে উদ্ধার করতে গিয়েও তাণ্ডব চালান হেফাজত কর্মীরা।

গরম হেফাজত এখন নরম, রাজনীতি থেকে দূরে

হেফাজতে ইসলামের তখনকার যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গত ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ফাইল ছবি

সোনারগাঁ তো বটেই, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, সুনামগঞ্জের ছাতকেও ত্রাস তৈরি করে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সেই সঙ্গে অনলাইনে বিশেষ করে ফেসবুক লাইভে চলতে থাকে হুমকি-ধমকি।

তবে সরকারপ্রধান পার্লামেন্টে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একাধিক স্থানে যখন হেফাজতকে সতর্ক করে দিয়ে কড়া বক্তব্য দেন, সেই সঙ্গে সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়, তখন হেফাজতের বক্তব্য নরম হয়ে আসে।

আরও পড়ুন: হেফাজত নেতা মামুনুল গ্রেপ্তার

বিভিন্ন মামলায় শীর্ষস্থানীয় ৩০ নেতাসহ সারা দেশে এক হাজার ২৩০ জনেরও বেশি কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

এই গ্রেপ্তার অভিযানের মুখে বিএনপির সঙ্গে জোট ভেঙে দেয় দুটি ধর্মভিত্তিক দল, যাদের নেতারা ছিলেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

এরপর থেকে হেফাজতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা আর উত্তেজক কোনো বক্তব্য না দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করেন তাদের নেতাদের মুক্তির দাবি নিয়ে।

সর্বশেষ গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন হেফাজত নেতারা। অনুরোধ করেন তাদের সংগঠনের নেতাদের মুক্তি দিতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরের মতো বলেন, যারা নিরপরাধ তাদের সরকার আটকে রাখবে না, কিন্তু যারা অপরাধে সম্পৃক্ত, তাদের বিচার চলবে।

পুলিশ, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই গত বছরের সহিংসতার মামলাগুলো তদন্ত করছে। পাশাপাশি ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের মামলাগুলো সচল হয়েছে।

কমিটি বিলুপ্ত, শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু

নেতাদের মুক্তির জন্য দেনদরবারের মধ্যে ২৫ এপ্রিল রাতে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন বাবুনগরী। বাদ দেয়া হয় রাজনীতি সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমেদ শফীর মৃত্যুর পর নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে জুনাইদ বাবুনগরীকে আমির করে ১৫১ সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়, তাতে সিংহভাগকেই বিএনপি জোটের শরিক বিভিন্ন ইসলামী দল থেকে নেয়া হয়।

এই কমিটি বিলুপ্ত করার মাস দেড়েক পর ৭ জুন বাবুনগরী ৩৩ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করেন। এই কমিটির কেউ সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত নন।

সে সময় হেফাজতের বলিষ্ঠ কোনো অবস্থান না নেয়াকে কেন্দ্র করে সংগঠনে হতাশা দেখা দেয়। বিভিন্ন ফেসবুক পেজে কর্মী-সমর্থকরা নানাভাবে সমালোচনা করতে থাকেন।

এর মধ্যে গত ১৯ আগস্ট মারা যান বাবুনগরীও। ২৯ নভেম্বর মারা যান মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীও।

পরে হেফাজতের আমিরের দায়িত্ব পান জুনায়েদ বাবুনগরীর মামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বরাবর স্বল্পভাষী। কওমি অঙ্গনে পরিচিত হলেও সারা দেশে সেভাবে তাকে নিয়ে আলোচনা কখনও ছিল না।

কার্যক্রম কীভাবে চলছে?

শুরু থেকেই সংগঠনটির চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে পরিচালিত হতো। তবে ঢাকার মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর ঢাকার খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

গত ২৯ নভেম্বর নূরুল ইসলাম জিহাদী মারা যাওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হন মাওলানা সাজিদুর রহমান। তিনি সংগঠনটির ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার আমির ছিলেন। এরপর থেকে আবার হাটহাজারীতেই কেন্দ্র চলে যায়।

জাতীয় রাজনীতি বা কওমি অঙ্গনে সাজিদুর তেমন ‘প্রভাবশালী’ হিসেবে পরিচিত নন। আল্লামা আহমদ শফী ও বাবুনগরীর সময়ে মূল নেতৃত্বেও ছিলেন না তিনি।

গরম হেফাজত এখন নরম, রাজনীতি থেকে দূরে

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত

বেশ কয়েক মাস পর বুধবার চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক ডেকেছেন সংগঠনের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।

হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মুহিউদ্দিন রাব্বানী নিউজবাংলাকে বলেন, আসলে দীর্ঘদিন আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক হয় না। তবে কী বিষয়ে আলোচনা হবে সেটার আলোচ্যসূচি এখনও নির্ধারণ হয়নি।’

যেভাবে আলোচনায় হেফাজত

২০১০ সালে হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে নারী নীতিমালার বিরুদ্ধে সংগঠনটির যাত্রা।

তবে সংগঠনটি জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করে ২০১৩ সালে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে। শাহবাগ থেকে ইসলাম সম্পর্কে কটূক্তি হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে ওই বছরের ৬ এপ্রিল সংগঠনটি ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করে।

তাদের এই শোডাউন ব্যাপক নজর কাড়ে বিভিন্ন মহলের। তবে এর ঠিক এক মাস পর ৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে শাপলা চত্বরে অবস্থানকালে মধ্যরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে পালাতে বাধ্য হন হেফাজতের নেতা-কর্মীরা। এরপর সংগঠনটি অনেকটা চুপসে যায়।

পরে সরকারের সঙ্গেও দেশের শীর্ষ এই আলেমের যোগাযোগ বাড়ে। কওমি মাদ্রাসা দাওরায়ে হাদিসের সনদের সরকারি স্বীকৃতি দেয়া হয়। এতে কৃতজ্ঞ হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরিয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীকে ‘কওমি জননী’ উপাধিও দেয়া হয়।

তবে আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর হেফাজত বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ আলেমদের নিয়ন্ত্রণ চলে আসায় সংগঠনটি সরকারবিরোধী অবস্থানে চলে যায়।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Courtesy meeting of Chhatra Dal with two newly appointed vice chancellors of Chabir

চবির নবনিযুক্ত দুই উপউপাচার্যের সঙ্গে ছাত্রদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

চবির নবনিযুক্ত দুই উপউপাচার্যের সঙ্গে ছাত্রদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলামের সঙ্গে বুধবার (১৭ জুন) সাক্ষাৎ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা।

উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপউপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. সফিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সকল নেতারা এবং কর্মীদের শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। উপউপাচার্যরা বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর হোক। শিক্ষার্থীবান্ধব সকল কাজে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ছাত্রদলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।’ উপউপাচার্যরা আরও বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন রয়েছে, এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছাত্রদলের সহযোগিতা লাগবে।’ উপস্থিত সবাইকে মাননীয় উপউপাচার্যরা ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ছাত্রদলের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং নানা বিষয়ে উপউপাচার্যদের অবহিত করেন। বিশেষ করে আবাসন, নিরাপত্তাহীনতা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন নেতারা।

শাখা ছাত্রদলের নেতারা নবনিযুক্ত উপউপাচার্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন ছাত্রদলের নেতারা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দীন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় প্রমুখ। এ সময় শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা এবং কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Chhatra Dal protested against the camp to protest the staged drama of disappearance and abduction

গুম-অপহরণের সাজানো নাটকের প্রতিবাদে শিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

গুম-অপহরণের সাজানো নাটকের প্রতিবাদে শিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্রশিবিরের গুম ও অপহরণের নাটক সাজানো এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনের প্রতিবাদে রাজধানী শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল। শনিবার (১৩ জুন) রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত এই বিক্ষোভ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।

রাত ৯টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং মিছিলজুড়ে তারা ছাত্রশিবিরের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা গণমাধ্যমকে জানান, ছাত্রশিবির রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে গুম ও অপহরণের সাজানো নাটক তৈরি করছে, যা প্রকৃতপক্ষে গুমের শিকার হওয়া আসল ভুক্তভোগীদের চরম অবমাননার শামিল।

এছাড়া অনলাইনে সংঘবদ্ধ চক্র তৈরি করে তারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যা দোষারোপ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

একই সাথে শিবিরের গুপ্ত নেতাকর্মীদের দ্বারা বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনসহ নানা ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের যে প্রমাণ মিলছে, তারই তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাতে ছাত্রদল রাজপথে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If it comes to power Jamaat will be more fascist than Awami League Rashed Khan

ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট হবে জামায়াত: রাশেদ খান

ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট হবে জামায়াত: রাশেদ খান রাশেদ খান। ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামী কখনো ক্ষমতায় গেলে তারা আওয়ামী লীগের চেয়েও ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট হবে এবং তখন কারও রক্ষা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। শনিবার (১৩ জুন) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও অভিযোগ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্টের ওপর ঘটে যাওয়া একটি সাইবার জটিলতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জামায়াত-শিবিরের কড়া সমালোচনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান বলেন, তাঁর লেখালেখির কারণে জামায়াত-শিবিরের নাকি খুব ক্ষতি হচ্ছে, আর সে কারণেই বিশাল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে তুরস্ক থেকে ১৬টিরও বেশি ভুয়া কপিরাইট ক্লেইম বা অভিযোগ করে তাঁর ফেসবুক আইডি আট দিনের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আট দিন পর শনিবার তিনি পুনরায় তাঁর আইডিতে পোস্ট করার সুযোগ পেলেও কপিরাইট ক্লেইমগুলোর এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি।

তিনি কিছু গণমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করেছিলেন যার জন্য সংশ্লিষ্ট কোনো মিডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা কপিরাইট ক্লেইম করা হয়নি, বরং তুরস্ক থেকে জামায়াত-শিবিরের নিয়োগকৃত লবিস্ট টিম এই কাজ পরিচালনা করেছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা রাশেদ খান অভিযোগ করেন যে, জামায়াত-শিবির মূলত কোনো ধরনের ভিন্নমতে বিশ্বাস করে না। তাঁর আইডিতে চালানো সাম্প্রতিক সাইবার আক্রমণ এবং তাঁর মা-বাবাকে তুলে গালিগালাজ করাই দলটির এমন মানসিকতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

জামায়াত-শিবির তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওদের ভুয়া ও মিথ্যা ন্যারেটিভ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল সম্পর্কে আমাদের এখন থেকেই সোচ্চার হতে হবে। অন্যথায় তারা যদি কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পায়, তবে ১৯৭১ সালে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ তারা অত্যন্ত কঠিনভাবেই নেবে বলে তাঁর আশঙ্কা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
During the time of Yunus a great trading center developed Ghulam Mawla Roni

ইউনূস কোম্পানি'র এক অংশ চেহারা পাল্টে ফেলেছে, বাকি অংশ পালিয়েছে: গোলাম মাওলা রনি

ইউনূস কোম্পানি'র এক অংশ চেহারা পাল্টে ফেলেছে, বাকি অংশ পালিয়েছে: গোলাম মাওলা রনি

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি অভিযোগ করেছেন, ওই সময়ে ক্ষমতাকেন্দ্রিক একটি বিশাল ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে উঠেছিল। ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাদের তিনি ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই গোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি, তাদের কর্মকাণ্ড এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের নানা খতিয়ান তুলে ধরেন।

গোলাম মাওলা রনি ব্যাখ্যা করেন, এই ‘কোম্পানি’র মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশ ছিল। প্রথম অংশটি হলো শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী গ্রুপ, যারা ওই সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বড় বড় সুবিধা লুটে নিয়েছে। দ্বিতীয় অংশটিতে ছিলেন আমলাতন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর এমন কিছু সদস্য, যাদের বাড়ি চট্টগ্রামে কিংবা যারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সাথে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। এছাড়া এনজিও এবং ব্যাংকিং খাতের একটি বড় চক্র এই সময়ে জড়িত ছিল, যারা বিভিন্ন ছোটখাটো জরিপ বা রিপোর্টের নামে শত শত কোটি টাকার ফান্ড এনে নিজেদের মতো করে খরচ করেছে।

অর্থনৈতিক লুটপাটের অভিযোগ তুলে এই কলামিস্ট বলেন, বিগত সরকারের আমলে যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০০ বিলিয়ন ডলার, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে। এই অতিরিক্ত ২০ বিলিয়ন ডলার বা আড়াই লাখ কোটি টাকা কোথায় ব্যয় হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সাথে বিভিন্ন বড় ব্যবসায়ীকে ঋণ মওকুফ ও রিশিডিউলের নামে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের লাখ লাখ কোটি টাকা শেষ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। রনির মতে, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত দুই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস হয়নি।

ভিডিওর শেষ অংশে তিনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন এই কোম্পানির শীর্ষ ব্যক্তিরা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল ও অপমান করতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিলেন, যার কারণে এখন তাদের কোনো ‘মোরাল কারেজ’ বা নৈতিক শক্তি অবশিষ্ট নেই। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির কারণেই বর্তমানে ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ তাদের রূপ বদলে বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সাথে সমঝোতা বা একীভূত হয়েছে, একাংশ নিজেদের চেহারা লুকিয়ে ফেলেছে এবং বাকি অংশটি বিচার এড়াতে ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rashed Khans post advising Jamaat MPs to take political class to Home Minister

জামায়াত এমপিদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ‘রাজনৈতিক ক্লাস’ করার পরামর্শ দিয়ে রাশেদ খাঁনের পোস্ট

জামায়াত এমপিদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ‘রাজনৈতিক ক্লাস’ করার পরামর্শ দিয়ে রাশেদ খাঁনের পোস্ট

জাতীয় সংসদে নিজেদের পারফরম্যান্স বাড়াতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে ‘রাজনৈতিক ক্লাস’ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার (১০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন।

রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, গত অধিবেশনে খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে এবার জামায়াতের এমপিদের ইসলামী ব্যাংকের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে সংসদে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন কোর্সের বা সিলেবাসের বাইরের বিষয় নিয়ে কথা বলা শুরু করেন, তখন জামায়াতের এমপিরা রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান। তাদের রাতদিনের প্রশিক্ষণ যেন মুহূর্তেই বৃথা হয়ে গেল। এই পরিস্থিতিতে সংসদে ভালো করতে হলে তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকেই রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্যথায়, একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জামায়াতের ৬৮ জন এমপির এভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়াটা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা তার পোস্টে আরও বলেন, আগে মানুষের ধারণা ছিল জামায়াতের লোকেরা বেশি শিক্ষিত এবং তাদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণও বেশ উন্নত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, দলে মনোযোগী ছাত্র থাকলেও দক্ষ প্রশিক্ষকের বড়ই অভাব রয়েছে। তাই শেখার যেহেতু কোনো শেষ নেই এবং শিখতে কোনো লজ্জাও নেই, জামায়াতের এমপিরা নির্দ্বিধায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ক্লাস করতে পারেন।

পরিশেষে তিনি জানান, তারা জামায়াতে ইসলামীকে সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে দেখতে চান। বিরোধী দল হিসেবে তারা দুর্বল হলে দেশের মানুষ সংসদে পুনরায় আওয়ামী লীগের শূন্যতা অনুভব করতে শুরু করবে, যা মোটেও কাম্য নয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Abu Said of Kulaura has been nominated as the vice president of the Central Youth Party

কুলাউড়ার আবু সাইদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি মনোনীত

কুলাউড়ার আবু সাইদ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি মনোনীত আবু সাইদ আহমদ। ছবি: নিউজ বাংলা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার সন্তান ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বিএনপির নেতা আবু সাইদ আহমদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি মনোনীত হয়েছেন। সম্প্রতি ঘোষিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে তাকে সহসভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জানা যায়, আবু সাইদ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। তিনি ২০০৬ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ১৭ বছর যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৩ সালে গঠিত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মনোনীত হন।

ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সে সময় তিনি ঢাকার তৎকালীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং মতিঝিল থানা যুবদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে স্বপরিবারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Interim government failed to do justice to the nation Jamaat Ameer

অন্তর্বর্তী সরকার জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেনি: জামায়াত আমির

অন্তর্বর্তী সরকার জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেনি: জামায়াত আমির ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতির সঙ্গে ইনসাফ করতে পারেনি। তারা ইনসাফ করতে পারলে দেশের চিত্র ভিন্ন হতো। মঙ্গলবার (৯ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে ‘ছায়াবাজেট’ প্রস্তাবনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফল সুষ্ঠু হয়নি। জনগণের প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট পেশ করছি, তা বাস্তবায়নের জন্য সততা ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। সততা ও জবাবদিহিতা না থাকলে সরকার যত বড় বাজেটই দিক না কেন, সেটি কার্যকর হবে না।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের বিদ্যমান কর ব্যবস্থা বা ট্যাক্সেশন প্রক্রিয়ায় নানা ত্রুটি রয়েছে। এসব দুর্বলতা দূর করে রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, অর্থবছরকে ক্যালেন্ডার বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করবে বিরোধী দল।

বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা যে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছি, তার আসল বিচারক হবে জনগণ। বাজেটের প্রস্তাবনা যদি জনস্বার্থের বিপক্ষে যায়, তাহলে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আমাদের সহযোগিতা করবেন।

এ সময় তিনি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। জনগণের কল্যাণ, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্তব্য

p
উপরে