তৃণমূল নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার বিষয়টি আবার দেখা গেল। রোববারের চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে ভোট করে ২০১টি ইউনিয়নে জিতেছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এর বিপরীতে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন ৩৮৮টি ইউনিয়নে।
গত ১০ নভেম্বর ৮৪০টি ইউনিয়নে ভোটের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সে সময় ঠিক হয় ভোট হবে ২৩ ডিসেম্বর। পরে পেছানো হয় তিন দিন।
এর মধ্যে বেশ কিছু ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। রোববারের ভোটে কয়েকটি ইউনিয়নে ফলাফল স্থগিত থাকে। একটিতে দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর ভোট সমান হয়।
বাকি ৭৮১টি ইউনিয়নে ভোটের ফল প্রকাশ করা হয়। এই ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৩৮৭টি ইউনিয়নে জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০১টি ইউনিয়নে জিতেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে দলের প্রতীক নৌকাকে চ্যালেঞ্জ করা ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।
এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত দুই জেলা মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে মোট ২৮টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। সেখানে নির্বাচিত সবাই ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী। তবে তারা কেউ নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট করেননি। সেখানে আওয়ামী লীগ কাউকে প্রতীক না দিয়ে উন্মুক্ত রাখে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তির জ্ঞাতিগোষ্ঠী, আঞ্চলিকতা নানা কিছু নির্ভর করে। সে কারণে ফলাফল বিপর্যয়।
তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ২৬৭ জন নেতা নৌকার পরাজয়ের কারণ হয়েছিলেন।
প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনেও কয়েক শ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের হারিয়েছেন দলের নেতারা।
কোন বিভাগে বেশি বিদ্রোহ
বিভাগওয়ারি ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিদ্রোহী নেতারা নৌকাকে সবচেয়ে বেশি বিপাকে ফেলেছেন সিলেট বিভাগে। এই বিভাগের চার জেলায় নৌকা যত এলাকায় জিতেছে, প্রায় সমানসংখ্যক এলাকায় জয় পেয়েছেন বিদ্রোহী নেতারা।
এই বিভাগে নৌকা জয় পেয়েছে ৩২ ইউনিয়নে, অন্যদিকে বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন ২৬টিতে।
দলের মধ্যে এক বা একাধিক নেতার ভোট ভাগাভাগির সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও স্বতন্ত্র পরিচয়ে বিএনপির, কোথাও জামায়াতের নেতারা, কোথাওবা অন্য প্রার্থী জয় পেয়েছেন।
সিলেটের পর বিদ্রোহী নেতারা নৌকা বেশি ডুবিয়েছেন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থানের ঢাকা বিভাগে। এখানে নৌকা জিতেছে ৬৫টি ইউনিয়নে, আর বিদ্রোহীরা জিতেছেন ৩৯টি এলাকায়।
এমনকি দলের ঘাঁটি ফরিদপুরের একটি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতেই হেরে গেছেন নৌকার প্রার্থীরা। সেখানে বিএনপির তিনজন নেতা চেয়ারম্যান হয়েছেন, যেখানে নৌকার চেয়ারম্যান থাকবেন শুধু একজন।
রাজশাহী বিভাগে নৌকা জিতেছে ৫৯ ইউনিয়নে, বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন ৩২টিতে। খুলনা বিভাগে নৌকা জিতেছে ৩৭ ইউনিয়নে, বিদ্রোহীরা ২৬টিতে। বরিশাল বিভাগে নৌকা জিতেছে ১০টিতে; বিদ্রোহীরা ৬টিতে।
এই তুলনায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের পরিস্থিতি তাও কিছুটা ভালো। সর্ব উত্তরের বিভাগটিতে নৌকা জয় পেয়েছে ৬১ ইউনিয়নে, বিদ্রোহীরা ২৬টিতে, মধ্যাঞ্চলের বিভাগটিতে নৌকা জিতেছে ৩২টিতে, বিদ্রোহীরা ১৫টিতে আর সর্ব দক্ষিণের বিভাগটিতে নৌকা জিতেছে ৯১টিতে, বিদ্রোহীরা ৩১টিতে।
কী বলছেন দলের নেতারা
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দলে মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলে বিদ্রোহ দেখা যায়। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের পদক্ষেপ, ভবিষ্যতে আর কখনও মনোনয়ন না দেয়ার সতর্কতার পরও বিদ্রোহী নেতারা সেসব গা করেননি।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আবদুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তির জ্ঞাতিগোষ্ঠী, আঞ্চলিকতা নানা কিছু নির্ভর করে। সে কারণে ফলাফল বিপর্যয়।’
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলেন, ‘তৃণমূল, অর্থাৎ ইউনিয়ন, থানা ও জেলা থেকে যে তথ্য-উপাত্ত পাঠানো হয়, আমার মনে হয় সেখানে কোনো সমস্যা আছে। আমার মনে হয়, তারা ঠিকমতো নাম পাঠাচ্ছেন না।’
তৃণমূলে দলের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে যে বিভেদ তৈরি হয়েছে, সেটি জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে অবশ্যই প্রভাব পড়বে না। কারণ সেখানে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কেউ দলের বিরুদ্ধে যায় না।’
একই প্রশ্নে দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্পর্ক নেই। যারা বিদ্রোহী হয়েছেন তারা তো জানেন, এটা ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে আমরা মনে করি।’
নৌকার চেয়ে বিদ্রোহীরাই বেশি
সারা দেশ মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি ইউনিয়নে জিতলেও আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিভাগের ফরিদপুরের পরিস্থিতি ভিন্ন।
এই জেলায় বোয়ালমারীতে ১০টি এবং আলফাডাঙ্গায় তিনটি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে নৌকার প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন তিনটিতে। তার মধ্যে দুটি আবার আলফাডাঙ্গা উপজেলায়।
বোয়ালমারীতে শুধু একটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। সেখানে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন তিনটিতে। ইসলামী আন্দোলনও জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের সমান একটিতে।
এই জেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন ছয়টি ইউনিয়নে।
তৃণমূল, অর্থাৎ ইউনিয়ন, থানা ও জেলা থেকে যে তথ্য-উপাত্ত পাঠানো হয়, আমার মনে হয় সেখানে কোনো সমস্যা আছে। আমার মনে হয়, তারা ঠিকমতো নাম পাঠাচ্ছেন না।
পাবনায় নৌকার প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন চারটি ইউনিয়নে। জেলায় দলের বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন ১১টিতে। বিএনপি ও জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নৌকার সমান চারটিতে জয় পেয়েছেন।
ঝিনাইদহেও প্রায় একই পরিস্থিতি। সেখানে নৌকা জয় পেয়েছে পাঁচটি ইউনিয়নে। বিপরীতে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ১০টিতে।
নীলফামারীতে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন তিনটিতে, আর নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহীরা জিতেছেন দ্বিগুণসংখ্যক ছয়টিতে।
অতটা খারাপ না হলেও সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জেও নৌকার চেয়ে বেশি জিতেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন সাতটি ইউনিয়নে। দলের বিদ্রোহীরা সেখানে জিতেছেন ৯টিতে। একই অবস্থা মৌলভীবাজারেও। সেখানেও নৌকা জিতেছে সাতটিতে, বিদ্রোহীরা জিতেছেন ৯টিতে।
টাঙ্গাইলেও বেশি জিতেছেন দলের বিদ্রোহীরা। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেয়ে জিতেছেন ৯ জন আর মনোনয়ন না পেয়ে প্রার্থী হয়ে জিতেছেন ১০ জন।
ভোলাতেও নৌকা নিয়ে জিততে পেরেছেন তিনজন, আর নৌকা না পেয়ে প্রার্থী হয়ে বাজিমাত করেছেন চারজন।
শেরপুরে নৌকা নিয়ে জিতেছেন দুজন, বিদ্রোহীরা জিতেছেন তিনটি এলাকায়।
গাইবান্ধা জেলায় নৌকা নিয়ে জিতেছেন চারজন, আর দলের প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে জিতেছেন পাঁচজন আওয়ামী লীগ নেতা।
লক্ষ্মীপুরে নৌকা নিয়ে জিতেছেন ছয়জন, বিদ্রোহীরা জিতেছেন সাতটিতে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে চারটি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। সেখানে আওয়ামী লীগ একটিতেও জয় পায়নি। বিদ্রোহীরাও অবশ্য জিততে পারেনি কোথাও। বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তিনটিতে আর জামায়াতের একজন একটিতে জয় পেয়েছেন।
আওয়ামী লীগ-বিদ্রোহী সমানে সমান
সাতক্ষীরায় নৌকার প্রার্থী ও বিজয়ী বিদ্রোহী নেতার সংখ্যা সমানসংখ্যক, তিনজন করে।
গাজীপুরে ভোট হয়েছে দুটি ইউনিয়নে। এর মধ্যে একটিতে নৌকার প্রার্থী এবং একটিতে দলের বিদ্রোহী নেতা জয় পেয়েছেন।
ময়মনসিংহ জেলায় নৌকা নিয়ে জিতেছেন ১০ জন প্রার্থী। বিপরীতে নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে লড়াই করে জিতেছেন আটজন।
খুলনা বিভাগে যশোরে নৌকা নিয়ে জিতেছেন চারজন নেতা। বিপরীতে বিদ্রোহী নেতা জিতেছেন তিনটি এলাকায়। পাশের জেলা নড়াইলে নৌকা নিয়ে জিতেছেন সাতজন, আর বিদ্রোহীরা জিতেছেন পাঁচটিতে।
রাজশাহী বিভাগের বগুড়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন তিনটি ইউনিয়নে। দলের বিদ্রোহীরা জিতেছেন দুটিতে।
রংপুর বিভাগে কুড়িগ্রামে নৌকা নিয়ে জিতেছেন সাতটি ইউনিয়নে। বিপরীতে বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন ছয়টি এলাকায়।
চট্টগ্রাম বিভাগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জিতেছেন পাঁচটি ইউনিয়নে। নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন চার এলাকায়।
একই বিভাগের কক্সবাজারে নৌকার প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন পাঁচ ইউনিয়নে। আর বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন তিনটিতে।
অন্যান্য জেলায় কী চিত্র
বাকি জেলার মধ্যে রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগ সাতটিতে, দলের বিদ্রোহী দুটিতে, ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ ১৪টিতে, দলের বিদ্রোহী একটিতে, দিনাজপুরে আওয়ামী লীগ ১০টিতে, দলের বিদ্রোহী একটিতে, রংপুরে আওয়ামী লীগ সাতটিতে ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন দুটিতে।
রাজশাহী বিভাগে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ১০টিতে, বিদ্রোহীরা চারটিতে, সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ ১৫টিতে, বিদ্রোহীরা ছয়টিতে, নাটোরে আওয়ামী লীগ আটটিতে, বিদ্রোহীরা চারটিতে, নওগাঁয় আওয়ামী লীগ ১১টিতে, বিদ্রোহীরা পাঁচটিতে জয় পেয়েছেন।
এই জেলার জয়পুরহাটে আওয়ামী লীগ রোববারের ভোটে ১২টির সব কয়টিতে জয় পেয়েছে। বিদ্রোহীরা সেখানে একটিতেও জিততে পারেননি। বিএনপির একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছেন একটিতে।
খুলনা বিভাগের খুলনায় একটি ইউনিয়নেই ভোট হয়েছে। তাতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। একই বিভাগের কুষ্টিয়ায় নৌকার প্রার্থীরা জিতেছেন সাতটি ইউনিয়নে, দলের বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন চারটিতে, মাগুরায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ছয়টিতে আর বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন একটিতে।
এই বিভাগে চুয়াডাঙ্গার চারটি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে, যার প্রতিটিতেই জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা।
বরিশাল বিভাগের বরিশালে নৌকার প্রার্থীরা দুটি ইউনিয়নে এবং বিদ্রোহী প্রার্থী একটিতে, পটুয়াখালীতে পাঁচটি ইউনিয়নে জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা, বিদ্রোহী প্রার্থীর জয় এসেছে একটিতে।
ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোণায় নৌকা নিয়ে জিতেছেন আটজন প্রার্থী। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জয় পেয়েছেন তিনজন।
এই জেলার জামালপুরে রোববার ভোট হয়েছে ১২টি ইউনিয়নে, যার প্রতিটিতেই জয় পেয়েছেন নৌকা।
ঢাকা বিভাগের মানিকগঞ্জে নৌকার প্রার্থীরা জিতেছেন ৯টিতে, বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন চারটিকে, মুন্সীগঞ্জে নৌকা জিতেছে ৯ ইউনিয়নে, নরসিংদীতে নৌকা জিতেছে সাতটিতে, বিদ্রোহীরা চারটিতে, কিশোরগঞ্জে নৌকা ৯টিতে, বিদ্রোহীরা ছয়টিতে, রাজবাড়ীতে নৌকা ছয়টিতে এবং বিদ্রোহীরা জিতেছেন দুটি ইউনিয়নে।
এই বিভাগে গোপালগঞ্জে ১২টি ইউনিয়নের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। অন্যদিকে মাদারীপুরের ৯টি ও শরীয়তপুরের ১৯টি ইউনিয়নে বিজয়ীরা সবাই আওয়ামী লীগ ঘরানার। এই দুই জেলায় আওয়ামী লীগ কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দিয়েছিল।
সিলেট বিভাগের সিলেটে নৌকার প্রার্থীরা জিতেছেন সাতটি ইউনিয়নে। অন্যদিকে বিদ্রোহীরা জিতেছেন চারটিতে। হবিগঞ্জে নৌকা জয় পেয়েছে ১১ ইউনিয়নে, বিপরীতে বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন চারটি এলাকায়।
চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রামে নৌকা জিতেছে ১৭টি ইউনিয়নে, বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছে পাঁচটিতে, নোয়াখালীতে নৌকা জিতেছে ৯টিতে, বিদ্রোহীরা ৬টিতে, কুমিল্লায় নৌকা ১২টিতে, বিদ্রোহীরা দুটিতে, চাঁদপুরে নৌকা ১১টিতে আর বিদ্রোহীরা জিতেছেন চার ইউনিয়নে।
এই বিভাগের চার জেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কোনো প্রার্থী জয় পায়নি অথবা বিদ্রোহী ছিল না।
বান্দরবানের আটটি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা ছয়টিতে এবং দুটিতে কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন প্রার্থী, খাগড়াছড়ির আটটির মধ্যে নৌকা পাঁচটিতে আর তিনটিতে দল নিরপেক্ষ প্রার্থী এবং রাঙামাটির ১০টির মধ্যে একটিতে নৌকা ও বাকি ৯টিতে দল নিরপেক্ষ স্থানীয়রা জয় পেয়েছেন।
এই বিভাগের আরেক জেলা ফেনীতে ভোট হয়েছে মোট ১৫টিতে। এর মধ্যে নৌকা জয় পেয়েছে ১৪টিতে, একটিতে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী।
প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিউজবাংলার জেলা প্রতিনিধিরা।
ছবি: সংগৃহীত
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার ফারজানা শারমীন বলেছেন, নারী ও শিশুর সুরক্ষায় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে নীতিনির্ধারক, সুশীল সমাজ ও সামাজিক সংগঠনকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মক্ষেত্র: নারীর নিরাপদ শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে জাতীয় কাঠামো প্রণয়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্বব্যাংকের আমব্রেলা ফ্যাসিলিটি ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটি, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের থিংকিং, ইনোভেশন অ্যান্ড জেন্ডার ল্যাবের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
ফারজানা শারমীন বলেন, ‘নারী ও শিশুর সুরক্ষায় কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। আমরা সবসময় নির্যাতনের পরে আইনগত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে তৎপর হই। কিন্তু অপরাধের পেছনের মূল কারণগুলো অনুসন্ধান করি না এবং অপরাধ নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করি না। অপরাধীরা এই সুযোগ ব্যবহার করছে। আমাদেরকে এখন শেকড়ে হাত দিতে হবে। আইন ও নীতির কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় মনোযোগ দেওয়া।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্যাথরিন ব্রিন কামকং, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট সাবাহ মইন।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের থিংকিং, ইনোভেশন অ্যান্ড জেন্ডার ল্যাবের প্রধান ড. সায়েদ শায়েখ ইমতিয়াজ। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ড. সোমা দে।
ছবি: সংগৃহীত
২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির জন্য শিল্প ও সংস্কৃতি পাঠ্যবইয়ে ৪টি অধ্যায়ে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামে এই বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হবে। বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষার সম্প্রসারণ, নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এতে সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এসব বিষয়ে একটি টেকসই ক্যারিয়ার পাথওয়ে গড়ে উঠবে। আগামী ৫ বছরে এ খাতে প্রায় ৫০-৬০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা চাই আপনাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। সে লক্ষ্যে কীভাবে তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষকতা-সম্পর্কিত প্রস্তুতি যুক্ত করা যায় এবং কীভাবে যৌথভাবে দক্ষ শিক্ষক তৈরি করা যায়—সেসব বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়; বরং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে। এ জন্য কারিকুলাম উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষক তৈরির বিষয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক মি. গিলবার্ট হুংবোর সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বুধবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকে মন্ত্রী শোভন কাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইএলওর নেতৃত্ব ও অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য আইএলওর বৈশ্বিক জোট গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইএলওর সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
বৈঠকে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৩৯টি আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে এবং এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে সকল মৌলিক আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থনের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তিনি শ্রম খাত সংস্কার ও জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ গঠনের অগ্রগতি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আইএলওতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার ইতিবাচক নিষ্পত্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী আইএলও মহাপরিচালককে বাংলাদেশ সফর করে বাংলাদেশের চলমান শ্রম খাত সংস্কার কার্যক্রম এবং শ্রমিক কল্যাণে গৃহীত উদ্যোগগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনের আহ্বান জানান।
আইএলও মহাপরিচালক বাংলাদেশের শ্রম খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে আইএলওর দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সম্ভাব্য সফরের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদযাপিত হয়েছে। সরকারি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২৯ মে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় শুধু এ বছরের জন্য বুধবার (১০ জুন) দিবসটি উদযাপিত হয়েছে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের সব দেশের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদানকে এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বুধবার এ কথা বলা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী পৃথক পৃথক বাণী প্রদান করেছেন, যা ক্রোড়পত্র আকারে দেশের বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে।
এ বছর আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে প্রতিপাদ্য হলো Invest in Peace। আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার সকালে সেনাকুঞ্জ, ঢাকা সেনানিবাসের শাহাদাতবরণকারী শান্তিরক্ষীদের পরিবার এবং আহত শান্তিরক্ষীদের বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সেনাকুঞ্জে পবিত্র কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরুর পর শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্বপালনকালীন শাহাদাতবরণকারীদের জন্য দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ উপস্থাপনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ‘ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক’ জ্যেষ্ঠতম শান্তিরক্ষী হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বক্তব্য প্রদান করেন। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সবশেষে, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের সব শান্তিরক্ষীদের প্রতি শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘সংঘাত, সহিংসতা এবং মানবিক সংকটে আক্রান্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তিরক্ষীরা অসীম সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। পরিবার-পরিজন থেকে বহুদূরে অবস্থান করে শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ও কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে তাদের এই মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হয়।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব সাহসী শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ একই সঙ্গে তিনি শাহাদাতবরণকারী শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহত শান্তিরক্ষী সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শাহাদাতবরণকারী বীর সদস্যদের পরিবার ও আহত শান্তিরক্ষীদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কর্তব্য পালনকালে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর বাংলাদেশের ছয়জন বীর শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দাগ হ্যামারশোল্ড’ পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে, প্রধানমন্ত্রী ভিডিও টেলিকনফারেন্স (ভিটিসি)-এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনৈতিক, তিন বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক (রুটিন দায়িত্ব), বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরার লক্ষ্যে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ টকশো প্রচারিত হয়েছে। এ ছাড়া International Day of United Nations Peacekeepers Journal-এর ১২তম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আজ (বুধবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪৯(১)(ঘ)(আ) অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আশ্রাফুল আলমকে ইসলামী ব্যাংকের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. আশ্রাফুল আলম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে অংশ নেবেন। পাশাপাশি ব্যাংকের কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য, মতামত ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগের এ উদ্যোগ ব্যাংকটির কার্যক্রমে আস্থা ও শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় অস্থিরতা দেখা দেয়। নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেক গ্রাহক। এ সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানতও তুলে নেওয়া হয়। এতে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি ও স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ব্যাংক খাতে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরাও এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের যেকোনো অস্থিরতা পুরো ব্যাংক খাতেই প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। তারই ধারাবাহিকতায় ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত এলো।
ছবি: সংগৃহীত
উদ্ভাবনী সৌরশক্তিচালিত ভাসমান বিদ্যালয় উদ্যোগের মাধ্যমে চলনবিল অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্গম জনগোষ্ঠীর কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার অনন্য স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা ‘সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থা’। আন্তর্জাতিক এই অবদানের জন্য সংস্থাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইউনেস্কো কনফুসিয়াস সাক্ষরতা পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে। ইউনেস্কো ঢাকা আয়োজিত এক বিশেষ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই গৌরবময় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ব্যুরো অব নন-ফরমাল এডুকেশনের (বিএনএফই) মহাপরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তী এবং ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশনের (ক্যাম্পে) নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কারের বিভিন্ন দিক এবং বর্তমান যুগের প্রযুক্তিনির্ভর সাক্ষরতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই স্থানীয় উদ্ভাবনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কার্যক্রম শুধু শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তিই বাড়ায় না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে সহায়তা করে। সরকারও এমন কার্যকর উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত ও সম্প্রসারণে কাজ করছে। অনুষ্ঠানে ড. সুসান ভাইজ সাক্ষরতার রূপান্তরমূলক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, সাক্ষরতা কেবল পড়তে ও লিখতে শেখার বিষয় নয়; এটি মানুষকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সক্ষমতা দেয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আজীবন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে এমন উদ্ভাবনী প্রকল্পের ভূমিকা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উল্লেখ্য, এই পুরস্কারে সিধুলাইয়ের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের ন্যাশনাল অ্যাডাল্ট লিটারেসি এজেন্সি এবং মরক্কোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ভূষিত হয়েছে।
সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার এই ভাসমান বিদ্যালয় প্রকল্পটি মূলত দেশের বৃহত্তম জলাভূমি অঞ্চল চলনবিলের জলপথে পরিচালিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত শিক্ষা ব্যবস্থা। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বিশেষ করে বর্ষাকালে নদী-খাল উপচে পড়ার কারণে যখন স্থানীয় শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তখন শ্রেণিকক্ষের সব সুবিধাসম্পন্ন এই নৌকাগুলোই শিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি করে দেয়। স্থানীয় নৌকা নির্মাণশৈলী ও আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয়ে গঠিত এই বহরে বর্তমানে সিধুলাই ৫৬টি নৌকা পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ২৬টি ভাসমান শ্রেণিকক্ষ, ১০টি ভাসমান গ্রন্থাগার ও কম্পিউটার ল্যাব এবং ৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। বাকি নৌকাগুলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা এবং যাতায়াত নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই ঐতিহাসিক অর্জন সম্পর্কে সিধুলাই স্বনির্ভর সংস্থার নির্বাহী পরিচালক স্থপতি মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, স্থানীয় মানুষের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং অংশগ্রহণকে ভিত্তি করেই এই টেকসই সমাধান গড়ে উঠেছে। তাদের বিশ্বাস, যে সমস্যার মুখোমুখি একটি সম্প্রদায় প্রতিদিন হয়, সেই সমস্যার সবচেয়ে কার্যকর সমাধানের ধারণাও সেই সম্প্রদায়ের মানুষের ভেতর থেকেই আসে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টারই ফসল এবং এটি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগাবে। ১৯৬৭ সাল থেকে ইউনেস্কো এই আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা পুরস্কার দিয়ে আসছে, যার মধ্যে চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় প্রবর্তিত এই কনফুসিয়াস পুরস্কারের অর্থমূল্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতি বছর বিশ্বের তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এর আগে বাংলাদেশ থেকে ২০১৩ সালে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন এবং ২০২৩ সালে ফ্রেন্ডশিপ এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি চাঙা করতে নজিরবিহীন কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিকরা দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসলে তাদের মোট বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ ইনসেনটিভ বা কমিশন প্রদান করা হবে। একই সাথে প্রকৃত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ৯ শতাংশ সুদে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চাইছি তা নয়, দেশিয় বিনিয়োগকারীদেরও উৎসাহিত করতে চাইছি। এ জন্য আমরা ডিরেগুলেশন (নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ) পদ্ধতির মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি।” ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “সুদের হার কমালে যদি দেখা যায় যে এটি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে এবং দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে, তবে সরকার নিশ্চয়ই সেটি গ্রহণ করবে।” তবে বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
পূর্ববর্তী শাসনের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম সাবিকুন্ নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেন, “স্বৈরাচারের সময় এই দেশে কী হয়েছে তা সবাই জানেন। অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, যার ফল একদিনে পাওয়া যায় না। খারাপ পলিসির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।” তিনি জানান, বর্তমান সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কারে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে যার সুফল পেতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।
বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে গৃহীত আর্থিক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে।” এই তহবিল থেকে গ্রহণযোগ্যতা থাকা সমস্যাগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জটিলতা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন কৌশল সম্পর্কে তিনি আরও জানান, “সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বিদেশ থেকে কোনও বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক যদি দেশে ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) নিয়ে আসতে পারেন, তবে আমরা তাদের নিয়ে আসা মোট বিনিয়োগের ১.৫ শতাংশ ইনসেনটিভ বা কমিশন হিসেবে দেব।” এর ফলে প্রবাসী ও যোগ্য প্রতিনিধিরা দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে আরও উৎসাহিতহবেনবলেতিনিআশাপ্রকাশকরেন।
মন্তব্য