সেই কাঞ্চনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পিরের মুরিদ মায়ের

সেই কাঞ্চনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পিরের মুরিদ মায়ের

৪৯ মামলার আসামি কাঞ্চনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে তার মা কমরের নেহারসহ পরিবারের সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

কমরের নেহার তার লিখিত অভিযোগে বলেন, তার স্বামীর মৃত্যুর পর কাঞ্চন সবার সম্পদ আত্মসাৎ করতে উঠেপড়ে লাগে। সম্পদ নিয়েই তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কাঞ্চন নানা সময় ভুয়া দলিল তৈরি করে মা ও অন্য ভাই-বোনদের সম্পদ দখল করার পাঁয়তারা করে।

আলোচিত ৪৯ মামলার আসামি একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন তার মা কমরের নেহার।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

কমরের নেহার রাজারবাগ দরবার শরিফের পির দিল্লুর রহমানের মুরিদ। সংবাদ সম্মেলনের সময় তার সঙ্গে ছিলেন বড় ছেলে আকতার ই কামাল, ছোট মেয়ে ফাতেমা আক্তার, কাঞ্চনের মামাতো ভাই শাকেরুল কবির ও তার দুই বোন।

৮৪ বছর বয়সী কমরের নেহারের পক্ষে তার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান মেয়ে ফাতেমা আক্তার।

কমরের নেহার তার লিখিত অভিযোগে বলেন, তার স্বামীর মৃত্যুর পর কাঞ্চন সবার সম্পদ আত্মসাৎ করতে উঠেপড়ে লাগে। সম্পদ নিয়েই তাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। কাঞ্চন নানা সময় ভুয়া দলিল তৈরি করে মা ও অন্য ভাই-বোনদের সম্পদ দখল করার পাঁয়তারা করে। সম্পদের জন্য কাঞ্চন মায়ের বিরুদ্ধেই দুটি মামলা করে। এমনকি নিজের মায়ের নামের সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে অন্য নারীকে মা বানিয়ে জাল দলিল তৈরি করে। এ ঘটনা সামনে আসার পর কাঞ্চনের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।

স্বামী ডা. আনোয়ার উল্লাহ ১৯৮৬ সালে রাজারবাগ পিরের মুরিদ হয়েছিলেন দাবি করে কমরের নেহার বলেন, ‘তিনি (স্বামী) জীবিত থাকার সময় আমি আমার বড় ছেলে ও মেয়ে রাজারবাগ পিরের মুরিদ হই।’

কমরের নেহার তার স্বামীর সম্পদের বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘আমার স্বামী আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান ছিলেন। তিনি অনেক জমিজমা ক্রয় করেন। তার ঢাকার শেওড়াপাড়া, শাহজাহানপুর থানার শান্তিবাগে বাড়ি, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবাইলে ফ্যাক্টরি, তক্কার মাঠে জমি, পিলকুনিতে ৪টি প্লট রয়েছে। এ ছাড়া তিনি নোয়াখালীতে পৈতৃক সূত্রে অনেক জমিজমা লাভ করেন। তার মৃত্যুর পর এই সম্পত্তিগুলো কাঞ্চনসহ সবার মধ্যে বণ্টন হয়, যা প্রত্যেকের সচ্ছল জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট।

‘আমার স্বামী আমার জন্যও আলাদা কিছু সম্পত্তি কিনেছিলেন। আমার ও স্বামীর ইচ্ছা অনুযায়ী, কিছু জমি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দান করার নিয়ত করেছিলাম। কিন্তু আমার দানের বিষয়টি অন্য সন্তানরা মেনে নিলেও কাঞ্চন মানতে পারেনি। সে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে যেন আমি আমার ভাগের সম্পত্তিটুকু পুরোটাই তাকে লিখে দিই; কোনোভাবেই যেন মাদ্রাসায় জমি দান না করি। কাঞ্চন সম্পত্তির ওপর লোভ সামলাতে পারে না পেরে অন্য এক মহিলাকে মা বানিয়ে আমার জমির জাল দলিল তৈরি করে। ওই জাল হেবা দলিলের জন্য আমরা ২০০৯ সালে একটি মামলাও করেছিলাম যার নং ১৩৯২৬।’

কমরের নাহার বলেন, ‘…এক যুগ আগে কাঞ্চন আমাকে মৃত দেখিয়ে এবং তার একমাত্র বোন ফাতেমা আক্তারকে বাদ দিয়ে সকল সম্পদের ওয়ারিশনামা তৈরি করে। কাঞ্চনের বানানো জাল দলিল বাতিল করতে এবং আমার মেয়ের ওয়ারিশসত্ব ফিরিয়ে আনতে আমি আদালতের দ্বারস্থ হই। তখন কাঞ্চন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা শুরু করে। আমি তার মা হওয়া সত্ত্বেও আমার বিরুদ্ধে দুটি, বড় ভাই আকতার ই কামালের বিরুদ্ধে সাতটি, বোনের বিরুদ্ধে তিনটি এবং তার মামাতো ভাই শাকেরুল কবিরের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে।’

২০১৪ সালে নিজের অংশ থেকে মুহম্মদীয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসার নামে ৭৬ শতাংশ জমি দান করেন বলে উল্লেখ করেন কমরের নেহার।

তিনি বলেন, ‘এটা কাঞ্চন মেনে নিতে পারেনি। সে ওই জমিসহ আমার অংশের সম্পদ তার নামে লিখে দিতে আমাকে চাপ দিতে থাকে। সেই সাথে দানের জমি ফিরিয়ে দিতে রাজারবাগ দরবার শরিফ ও মুহম্মদীয়া জামিয়া শরিফ মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট লোকজনের ওপর মামলা-হামলা করতে থাকে। অনেককে সে রক্তাক্ত করে হাসপাতালে পাঠায়। এমনকি মাদ্রাসায় যাওয়া বোরকা পরিহিতা নারীদেরও সে উত্ত্যক্ত করত। এরপর সে রাজারবাগ পিরের সম্পর্কে উল্টাপাল্টা বক্তব্য প্রচার করতে থাকে।

‘পির সাহেব নাকি আমাকে বাইয়াত করে ভুলভাল বুঝিয়ে আমার সব সম্পত্তি লিখে নিচ্ছেন। আমি নাকি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত করে পির সাহেবকে সব সম্পত্তি লিখে দিচ্ছি। এমন মিথ্যা সে মিডিয়ায় প্রচার করতে থাকে। আমি কোনো সম্পত্তি পির সাহেবকে লিখে দিইনি। যতটুকু সম্পত্তি আমি দান করেছি, সেটা একটা মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য; পির সাহেব বা দরবার শরিফের নামে নয়। আমি স্বেচ্ছায় ওই সম্পদ দান করেছি।’

পিরের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাঞ্চন কুৎসা রটাচ্ছেন উল্লেখ করে কমরের নেহার বলেন, ‘সে প্রচার করে, আমি নাকি আমাদের শান্তিবাগের বাড়ি পির সাহেবকে লিখে দিয়েছি, পির সাহেবের মেয়ের বিয়েতে স্বর্ণের মুকুট দিয়েছি, জাপান থেকে তার পাঠানো একটা গাড়ি পির সাহেবকে দিয়ে দিয়েছি। এসবই ভিত্তিহীন, মিথ্যা কথা। কাঞ্চনের সাথে আমাদের পারিবারিক বিরোধ। সেটার সাথে পিরকে জড়িয়ে মাদ্রাসার জায়গাটা দখল করতে চায় সে।’

কাঞ্চনের মায়ের দাবি, জাপান থেকে ফিরে এসে তার ছেলে ১৯৯৫ সালে রাজারবাগ পিরের মুরিদ হন। এমনকি তার দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠানও রাজারবাগ দরবার শরিফে হয়।

ছেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অভিযোগ পাঠ করার পর কমরের নেহার ও তার পরিবারকে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে চাইলে তারা জানান, কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে তারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেননি। তারা শুধু তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

এরপরও কাঞ্চনের জাল হেবা দলিল সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর না দিয়ে সংবাদ সম্মেলনস্থল ছাড়েন।

পরিবারের সব অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে একরামুল আহসান কাঞ্চন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার মা-ভাই-বোন পির সাহেব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে এই সংবাদ সম্মেলন করেছেন। পিরের কয়েকজন সহযোগী মাদ্রাসার দানের বাইরেও আমাদের আরও জায়গা হাতিয়ে নিবার পাঁয়তারা করছিল, এটা আমি বুঝতে পেরেছিলাম। তখন আমি বাধ্য হয়ে আমার মায়ের কাছ থেকে গোপনে স্বাক্ষর নিয়ে আমাদের নারায়ণগঞ্জের ১৭১ শতাংশ জায়গার হেবা দলিল তৈরি করি। আর তাতে উল্লেখ করা হয়, আমার মায়ের মৃত্যুর পর আমার মায়ের অংশের ওই জমির মালিক হব আমি, আমার বড় ভাইয়ের দুই ছেলে ও আমার ছোট ভাই বাদল।

‘আমার মা, বড় ভাই ও বোন যেহেতু পিরের মুরিদ। আর তারা ওই সম্পদ পিরকে দিয়ে দিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাই আমি এই কাজ করেছিলাম। আমার যদি সম্পদের প্রতি লোভ থাকত তাহলে তো সব আমার নিজ নামেই নিতাম। আমার ছোট ভাই আর ভাতিজাদের নাম রাখতাম না।’

কাঞ্চনের দাবি, ‘পিরের লোকেরা যে আমাদের সম্পদ নিয়ে যাচ্ছিল তার প্রমাণও মিলে ওই হেবা দলিল করার কিছুদিন পর। আমার মায়ের কাছ থেকে ওই ১৭১ শতাংশ জমির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে নেয় পিরের লোকজন। তখন তারা সেই অংশের কিছু জমি একজনের কাছে বিক্রি করে দেয়।

‘তখন আমার তৈরি করা হেবা দলিল সামনে আসলে তারা বিপদে পড়ে যায়। তখন মাকে দিয়ে আমিসহ আমার ছোট ভাই ও দুই ভাতিজার নামে দুটি মামলা করানো হয়। একটি মামলায় জমি ফিরিয়ে দেয়ার শর্তে মায়ের সাথে আমাদের আপস হয়। অন্যটি এখনও চলছে।’

মাকে মৃত দেখিয়ে বোনের অংশ বাদ দিয়ে ওয়ারিশনামা তৈরির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাঞ্চন বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। যদি এমনটা হতো তাহলে তো আমার মা আমার বিরুদ্ধে মামলা করত। তাদের জিজ্ঞেস করেন মামলা কেন করল না।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের শেষ দিকে কমরের নেহার বলেন, ‘সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক এই বিরোধে কাঞ্চন একটি পক্ষে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে পুরো পরিবার এক আছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে কমরের নেহারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে, মেয়ে, ভাগ্নে, ভাগ্নিরা। তিনি দাবি করেছিলেন, ভিডিও কলের মাধ্যমে ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলেন ছোট ছেলে কামরুল আহসান বাদল ও তার পরিবারের সদস্যরা। তবে বাদল ও তার পরিবারের সদস্যদের সেখানে যুক্ত থাকার দৃশ্য চোখে পড়েনি।

নিউজবাংলা যোগাযোগ করে বাদলের পরিবারের সঙ্গে। টেলিফোনে কথা হয় বাদলের স্ত্রী তসলিমার সঙ্গে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ওই সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলাম না। আমাদের কাছে তো ভিডিও কল করার মতো কোনো ফোনই নাই।’

ভিডিও কলে যুক্ত থাকার কথা কেন বলা হলো, তা জানতে চাইলে তসলিমা বলেন, ‘তা বলতে পারব না। আমরা কাঞ্চন ভাই বা আমার শাশুড়ির বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আমাদের এসব থেকে দূরে রাখেন।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শাহবাগে কফিন মিছিল

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শাহবাগে কফিন মিছিল

পুলিশের বাধার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রতীকী কফিন মিছিলটিকে শাহবাগ এলাকা থেকে সরে যেতে হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীরা ‘ভাই কবরে খুনি কেন বাহিরে’, ‘৯ দফার সংগ্রাম চলবে চলবে’, ‘আইন করে হাফ পাস দিতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় বিচার, সারা দেশে বাস ভাড়া অর্ধেক করা এবং নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় প্রতীকী মরদেহের কফিন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা।

প্রতীকী কফিন নিয়ে রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা । সেখানে তাদের অবস্থান না নিতে পুলিশ অনুরোধ করলে কফিন নিয়ে তারা মিছিল শুরু করেন। পরে শাহবাগ মোড় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির এলাকায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীরা ‘ভাই কবরে খুনি কেন বাহিরে’, ‘৯ দফার সংগ্রাম চলবে চলবে’, ‘আইন করে হাফ পাস দিতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

ছাত্রদের মিছিলটি ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ। শাহবাগ থানার ওসি শেখ মো কামরুজ্জামান বলেন, ‘যান চলাচল ব্যাহত হয় এরকম কোনো কাজ আমরা তাদের করতে দেব না। প্রয়োজনে যান চলাচল ব্যাহত না হয় এমন কোনো স্থানে দাঁড়িয়ে তারা তাদের প্রোগ্রাম সম্পন্ন করবে। মিছিল নিয়ে তারা রাস্তায় হাঁটলেও যান চলাচল ব্যাহত হবে। তাই আমরা তাদের এটিও করতে দেব না।’

সড়কে অনিয়মের প্রতিবাদে ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শনিবার রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ এলাকায় ‘লাল কার্ড’ দেখিয়েছে আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকে প্রতীকী কফিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

আন্দোলনকারীদের একটি অংশ কফিন ছাড়া শুধু ব্যানার নিয়ে শাহবাগ গণগ্রন্থাগারের সামনে থেকে মিছিল শুরু করে। শাহবাগে অবস্থান নেয়া পুলিশ সদস্যরা জাতীয় জাদুঘরের সামনে আটকাতে গেলে আন্দোলনকারীদের অন্য একটি অংশ কফিন নিয়ে শাহবাগের ফুলের দোকানের পাশ থেকে এসে শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে অবস্থান নেয়।

এরপর রমনা জোনের এডিসি হারুন অর রশীদ শিক্ষার্থীদের অবস্থান না নিতে অনুরোধ করলে তারা মিছিল শুরু করে। আন্দোলনকারীরা শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় এসে তাদের কর্মসূচি শেষ করেন।

এসময় আন্দোলনকারীদের শিক্ষার্থীদের পক্ষে স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ইনজামুল হক রামিম তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের আজকের এই কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করছি। তারপরও আমরা আজকে রেলপথ এবং নৌপথ মন্ত্রণালয়ে আমাদের স্মারক পৌঁছে দেব। সড়ক ব্যবস্থাপনায় আলোর পথ দেখানোর জন্য আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচী এবং প্রতিবাদী গানের আসরের আয়োজন করা হবে।

‘আমাদের আন্দোলন নিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বিতর্কমূলক বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। আমরা এটির তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

শেয়ার করুন

কালো ব্যাজ নিয়ে সোমবার রামপুরায় থাকবে শিক্ষার্থীরা

কালো ব্যাজ নিয়ে সোমবার রামপুরায় থাকবে শিক্ষার্থীরা

সড়কে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় রোববার ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

সোমবারের কর্মসূচি নিয়ে সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘আমরা আগামীকাল ঠিক দুপুর ১২টায় সড়কে নাইম আর মাইন উদ্দিনসহ যারা মারা গিয়েছে, তাদের জন্য শোক প্রকাশ, কালো ব্যাজ ধারণ এবং মুখে কালো কাপড় বাঁধব।’

সড়কে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রোববার রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ এলাকায় ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এ কর্মসূচি শেষে সোমবার একই জায়গায় দুপুর ১২টায় নাইম আর মাইন উদ্দিনের মতো সড়কে প্রাণ হারানো লোকজনের জন্য শোক প্রকাশ ও কালো ব্যাজ ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

রামপুরা ব্রিজের ওপর রোববার দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। বেলা ১টা ৫ মিনিটে তারা অবস্থানস্থল থেকে চলে যায়। ওই সময় তাদের হাতে ছিল নানা ধরনের ব্যঙ্গচিত্র।

ব্যঙ্গচিত্রে নানা স্লোগানের মধ্যে আছে, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘গণপরিবহনে হাফ পাস চাই’, ‘জাতির ভবিষ্যৎ মরলে কে গড়বে সোনার বাংলা’।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া খিলগাঁও সরকারি মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘আমরা আমাদের যে ১১ দফা দাবি আছে, তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন কারও বিপক্ষে না। আমরা সবার হয়ে এই আন্দোলন করছি। অথচ আমাদের আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু লোক অপপ্রচার চালাচ্ছে।

‘এসব অপপ্রচার করে আমাদের থামিয়ে দেয়া যাবে না। আমরা আমাদের চলমান আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি আর যাব।’

সোমবারের কর্মসূচি নিয়ে সোহাগী বলেন, ‘আমরা আগামীকাল ঠিক দুপুর ১২টায় সড়কে নাইম আর মাইন উদ্দিনসহ যারা মারা গিয়েছে, তাদের জন্য শোক প্রকাশ, কালো ব্যাজ ধারণ এবং মুখে কালো কাপড় বাঁধব।’

এর আগে শনিবার সড়কে অব্যবস্থাপনার প্রতি লাল কার্ড দেখায় ১১ দফা দাবিতে রামপুরায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

রামপুরা ব্রিজের ওপর ওই দিন দুপুর ১২টার পর পরই অবস্থান নেয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ওই সময় তারা লাল কার্ড উঁচিয়ে সড়ক ও পরিবহন খাতের লুটপাট আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় পুরো সিস্টেম জড়িত। এই সিস্টেমে ঘুষ আছে, লুটপাট আছে। এর সঙ্গে জড়িত সরকারি-বেসরকারি লোক। এই লুটপাট ও দুর্নীতিকে আজ আমরা লাল কার্ড দেখাচ্ছি।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের ‘রেফারি’ দাবি করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা জানায়।

সোহাগী বলেন, ‘যখন ফুটবল খেলা হয়, খেলোয়াড়রা ভুল করলে লাল কার্ড দেখায়। আমরা সেই রেফারিদের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছি।

‘আমরা দেখাতে চাই বাংলার মাটিতে দুর্নীতি হচ্ছে, যে মাটিতে ছাত্রসমাজ বড় বড় আন্দোলন করেছে। আজ আবার ২০২১ সালে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি।’

শেয়ার করুন

ডিআরইউ’র মিঠু-হাসিব-নাদিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন

ডিআরইউ’র মিঠু-হাসিব-নাদিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ডিআরইউর এই নেতাকে অভিনন্দন জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘এই দলের সবাইকে একটি সফল মেয়াদের জন্য শুভকামনা। আপনাদের সঙ্গে কাজ করার আশা রইল।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নব নির্বাচিত সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম হাসিব ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাদিয়া শারমিনকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সেইসঙ্গে তাদের সঙ্গে কাজ করারও ইচ্ছে পোষণ করেছে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস।

দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ডিআরইউর এই নেতাকে অভিনন্দন জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হওয়ায় নজরুল ইসলাম মিঠু, নুরুল ইসলাম হাসিব (ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটিং লিডারশিপ প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারী) এবং নাদিয়া শারমিনকে (২০১৫ ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ওমেন অফ কারেজ) অভিনন্দন।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘নবনির্বাচিত এই দলের সবাইকে একটি সফল মেয়াদের জন্য শুভকামনা। আপনাদের সঙ্গে কাজ করার আশা রইল।’

৩০ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি পদে ৪৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মিঠু। সাধারণ সম্পাদক পদে ৫০০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন হাসিব। আর সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নাদিয়া পান ৯৭৩ ভোট।

শেয়ার করুন

লাল কার্ডের পর এবার শিক্ষার্থীদের ব্যঙ্গচিত্র

লাল কার্ডের পর এবার শিক্ষার্থীদের ব্যঙ্গচিত্র

সড়কে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রোববার রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ এলাকায় ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

রামপুরা ব্রিজের ওপর রোববার দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। ১টা ৫ মিনিটে তারা অবস্থানস্থল থেকে চলে যায়। ওই সময় তাদের হাতে ছিল নানা ধরনের ব্যঙ্গচিত্র।

রাজধানীর রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়ে সড়কে অব্যবস্থাপনায় জড়িতদের শনিবার লাল কার্ড দেখিয়েছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এর এক দিন পর একই জায়গায় অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করেছে তারা।

নিরাপদ সড়ক সংশ্লিষ্ট ১১ দফা দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রামপুরায় এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা।

রামপুরা ব্রিজের ওপর রোববার দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে অবস্থান নেয় তারা। ১টা ৫ মিনিটে তারা অবস্থানস্থল থেকে চলে যায়। ওই সময় তাদের হাতে ছিল নানা ধরনের ব্যঙ্গচিত্র।

ব্যঙ্গচিত্রে নানা স্লোগান লেখা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘গণপরিবহনে হাফ পাস চাই’, ‘জাতির ভবিষ্যৎ মরলে কে গড়বে সোনার বাংলা’।

ওই সময় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া খিলগাঁও সরকারি মডেল কলেজের সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘আমরা আমাদের যে ১১ দফা দাবি আছে, তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন কারও বিপক্ষে না। আমরা সবার হয়ে এই আন্দোলন করছি। অথচ আমাদের আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু লোক অপপ্রচার চালাচ্ছে।

‘এসব অপপ্রচার করে আমাদের থামিয়ে দেয়া যাবে না। আমরা আমাদের চলমান আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি আর যাব।’

সোমবারের কর্মসূচি নিয়ে সোহাগী বলেন, ‘আমরা আগামীকাল ঠিক দুপুর ১২টায় সড়কে নাইম আর মাঈনউদ্দিনসহ যারা মারা গিয়েছে, তাদের জন্য শোক প্রকাশ, কালো ব্যাচ ধারণ এবং মুখে কালো কাপড় বাধা হবে।’

এর আগে শনিবার সড়কে অব্যবস্থাপনার প্রতি লাল কার্ড দেখায় গণপরিবহনে হাফ পাস চালু, নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবিতে রাজধানীর রামপুরায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

রামপুরা ব্রিজের ওপর ওই দিন দুপুর ১২টার পরপরই অবস্থান নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ওই সময় তারা লাল কার্ড উঁচিয়ে সড়ক ও পরিবহন খাতের লুটপাট আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনায় পুরো সিস্টেম জড়িত। এই সিস্টেমে ঘুষ আছে, লুটপাট আছে। এর সঙ্গে জড়িত সরকারি-বেসরকারি লোক। এই লুটপাট ও দুর্নীতিকে আজ আমরা লাল কার্ড দেখাচ্ছি।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের ‘রেফারি’ দাবি করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা জানায়।

সোহাগী বলেন, ‘যখন ফুটবল খেলা হয়, খেলোয়াড়রা ভুল করলে লাল কার্ড দেখায়। আমরা সেই রেফারিদের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছি। আমরা দেখাতে চাই, বাংলার মাটিতে দুর্নীতি হচ্ছে, যে মাটিতে ছাত্রসমাজ বড় বড় আন্দোলন করেছে। আজ আবার ২০২১ সালে আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি।’

শেয়ার করুন

স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক সন্দেহে গৃহকর্মীকে খুন: পিবিআই

স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক সন্দেহে গৃহকর্মীকে খুন: পিবিআই

গৃহকর্মীকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার গৃহকর্তা ও তার স্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবেই উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পিবিআই জানতে পারে, গৃহকর্মী ওই নারী খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রাজধানীর দিয়াবাড়ির ঝাউবন থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ বুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানতে পেরেছে, ওই নারী খুন হয়েছেন। তিনি ছিলেন গৃহকর্মী।

গৃহকর্তার সঙ্গে ‘সম্পর্কে’ জড়িয়েছেন এমন সন্দেহে তার স্ত্রী ওই গৃহকর্মীকে খুন করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় আগারগাঁওয়ে পিবিআইয়ের ঢাকা মেট্রো উত্তরের অফিসে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে আছে এমন সন্দেহে নিয়মিত গৃহকর্মী পারভীনকে নির্যাতন করতেন গৃহকত্রী। গত ১ নভেম্বর ঝগড়াঝাটির একপর্যায়ে পারভীনকে গৃহকত্রী লাঠি দিয়ে বেদম পেটায়। মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যু হয় পারভীনের। তিনি এক সন্তানের জননী, বাড়ি দিনাজপুরে।

পরে গৃহকর্তা ও তার স্ত্রী পরামর্শ করে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে তাদের ড্রাইভারের সহায়তায় প্রাইভেটকারে করে তুরাগ দিয়াবাড়ী এলাকায় ঝাউবনে ফেলে আসা হয় মরদেহটি।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবেই উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের নাম-ঠিকানা ও মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনসহ আসামিদের গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, মরদেহ শনাক্তের পর পিবিআইয়ের তদন্ত দল তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। তার গ্রামের বাড়িতে তার স্বামী মোমিনুলসহ অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তখন জানা যায় ভিকটিম পারভীন এক-দেড় বছর আগে অভাবের তাড়নায় স্বামী সন্তানসহ ঢাকা শহরে চলে আসেন। গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

তিনি বলেন, ‘তদন্তে আরও জানা যায় ওই গৃহকর্মীর স্বামী ঢাকায় রিকশা চালাতেন। ঐ বাসায় কাজ নেয়ার পর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারতেন না তিনি। একদিন তার স্ত্রী ফোনে জানান, তাকে গৃহকত্রী মারধর করে আটকে রেখেছে। এ সংবাদ পেয়ে স্বামী গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর তিনি একদিন ঐ বাসায় গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসেন, কিন্তু এরপর আর কোনো দিন দেখা করতে পারেননি। পরে গত অক্টোবরে তিনি তার গ্রামের বাড়ি চলে যান।’

জিজ্ঞাসাবাদে ওই গৃহকর্মীর স্বামী পিবিআইকে জানান, ঐ বাসায় তার স্ত্রী ৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। কাজ নেয়ার পর থেকে গৃহকর্তা প্রতি মাসে তাকে মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে এক হাজার টাকা করে পাঠাতেন। বাকি টাকা জমা থাকতো, কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে দিত না।

হত্যার শিকার নারীর স্বামী মোমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এই মামলায় দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ গোপন করার কাজে সহায়তা করায় ড্রাইভার রমজান আলীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন

পুনম সিনেমা হলের পাশে আগুন নিয়ন্ত্রণে

পুনম সিনেমা হলের পাশে আগুন নিয়ন্ত্রণে

পুনম সিনেমা হলে পাশে এভাবেই আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সা‌র্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, আগুনে এখনও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষ‌তি তদন্ত সা‌পে‌ক্ষে জানা যাবে।

রাজধানীর রায়েরবাগ কদমতলীতে পুনম সিনেমা হলের পাশে একটি কয়েল ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় তারা। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট।

প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে ওই কয়েল ফ্যাক্টরির আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে নিউজবাংলাকে জানান ফায়ার সা‌র্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে সংস্থাটির মিডিয়া কর্মকর্তা মো. রায়হান।

তিনি বলেন, ‘আগুনে এখনও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষ‌তি তদন্ত সা‌পে‌ক্ষে জানা যাবে।’

শেয়ার করুন

ভাড়া চাওয়ায় বাড়ির মালিককে গলা কেটে হত্যা

ভাড়া চাওয়ায় বাড়ির মালিককে গলা কেটে হত্যা

প্রতীকী ছবি

নিহতের চাচাতো ভাই আল-আমিন বলেন, ‘মাত্র ২৭ দিন আগে বিয়ে করেছিল জহির। নতুন বউটা বিধবা হলো। পূর্ব বাসাবোর কদমতলায় তার বাসা।’

রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় দুই বছর আগের বকেয়া বাড়ি ভাড়া চাওয়ায় জহির মুন্সি নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোহাম্মদ নাজমুল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করছে সবুজবাগ থানা পুলিশ।

শুক্রবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। পরে ভোরে ময়নাতদন্তের জন্য জহিরের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

জহিরের চাচাতো ভাই আল-আমিন জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে জহিরকে ফোন করে পূর্ব বাসাবো হক সোসাইটির শেষ মাথায় খালপাড়ে নিয়ে যান নাজমুল। পরে সেখানে জহিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে জহিরের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা।

তিনি আরও বলেন, দুই বছর আগে জহিরের বাসায় ভাড়া থাকতেন নাজমুল। পরে অন্যত্র চাকরি হলে তিনি বাসা ভাড়ার ৭ হাজার টাকা না দিয়ে চলে যান। তিন দিন আগে নাজমুলের সঙ্গে আবারও দেখা হয়ে গেলে পাওনা টাকা চান জহির। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটিও হয়। এর জের ধরেই জহিরকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন নামজমুলকে আটক করে পুলিশে দেয়। এ সময় নাজমুলের সঙ্গে থাকা তার বোন জামাই আলমগীর পালিয়ে যান।

আল-আমিন বলেন, ‘মাত্র ২৭ দিন আগে বিয়ে করেছিল জহির। নতুন বউটা বিধবা হলো। পূর্ব বাসাবোর কদমতলায় তার বাসা।’

সবুজবাগ থানার (উপপরিদর্শক) এসআই মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা রাতে খবর পেয়ে সবুজবাগ হক সোসাইটির শেষ মাথায় খালপাড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় জহিরের মরদেহ দেখতে পাই। পরে সেখান থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি ভোরের দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার ভগ্নিপতি আলমগীরকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় জহিরের বাবা মকলেস মুন্সি বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।’

শেয়ার করুন