ছোট ভিডিও তৈরির প্ল্যাটফর্ম টিকটক সম্পর্কিত গ্রুপগুলোর ওপর নজরদারি শুরুর কথা জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ।
তিনি বলেন, মানবপাচার ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর টিকটক নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের কার্যক্রম আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘নেগেটিভলি’ দেখছে।
নিজ কার্যালয়ে বুধবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এমন কথা জানান তিনি।
টিকটককেন্দ্রিক অপরাধ বন্ধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান শহীদুল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘টিকটকের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এই পাচারকেন্দ্রিক অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। উঠতি বয়সী কিশোরী-তরুণীদের মডেল বা স্টার বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে পাচার করছে।
‘এ জন্য আমরা টিকটককে নেগেটিভলি দেখছি। টিকটককেন্দ্রিক অপচেষ্টা বন্ধে আমরা এটি আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’
পাচারের শিকার ও পাচারকারীরা কীভাবে ভারতে যায়, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পাচারের শিকার ও পাচারকারীরা অবৈধভাবে ভারতে যায়। এরপর অবশ্য চক্রের ভারতীয়দের সহায়তায় আধার কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়। আধার কার্ড থাকলে ভারতে মুভমেন্ট করা যায়।’
সম্প্রতি ভারতের কেরালায় এক বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নিপীড়নের ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর ওই ঘটনায় ভারতে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশি এক তরুণ রিফাতুল ইসলাম হৃদয় বা ‘টিকটক হৃদয় বাবু’। বেঙ্গালুরুতে গ্রেপ্তার হৃদয় পালানোর সময় পায়ে গুলিবিদ্ধ হন।
ভারতে সেই বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় হৃদয়ের বিরুদ্ধে রাজধানীর হাতিরঝিল থানাতেও মামলা হয়েছে। ২৭ মে মানবপাচার প্রতিরোধ, দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলাটি করেন নির্যাতনের শিকার তরুণীর বাবা।
টিকটক হৃদয়কে দেশে ফেরত আনার চেষ্টা করার কথাও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।