‘নয়া দামানের’ সেই শাইল ধান কোথায়

‘নয়া দামানের’ সেই শাইল ধান কোথায়

মৌলভীবাজারের বড়লেখার কিছু জমিতে এখনও চাষ হয় শাইল ধান। ছবি: নিউজবাংলা

সিলেট অঞ্চলে একসময় ব্যাপক হারে শাইল ধানের আবাদ হতো। এখন শখের বসে কেউ কেউ এর চাষ করে। এই ধানের ফলনে দীর্ঘ সময় লাগে এবং ফলন কম হয়, তাই কৃষক বর্তমানে হাইব্রিড ধানের দিকেই ছুটছেন।

‘আইলারে নয়া দামান আসমানের তেরা

বিছানা বিছাইয়া দেও শাইল ধানের নেরা।।

দামান বও, দামান বও।

গানের এই লাইনগুলো এখন দেশজুড়ে অসংখ্য মানুষের মুখে মুখে। এই নয়া দামান, মানে নতুন বর, তার বসার জন্য যে বিছানা বিছিয়ে দেয়া হচ্ছে তাতে শাইল ধানের নেরা (নেরা মানে খড়) কেন? এই ‘নেরার’ বিশেষত্ব কী? শাইল ধানই বা কোনটা?

শাইল ধান নিয়ে এমন প্রশ্নে আক্ষেপ ঝরে পড়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখার প্রবীণ কৃষক বেনু দাসের কণ্ঠে। স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, ‘আগে এই অঞ্চলে প্রচুর শাইল ধানের চাষ হতো। এই ধানের চাল সুগন্ধি ও খেতে সুস্বাদু। শাইল ধানের চাল দিয়ে বিভিন্ন জাতের পিঠা, চিড়া ও মিষ্টান্ন তৈরি হতো।’

প্রবীণ এই কৃষক বলেন, এখন আর শাইল ধান বা এ রকম পুরনো জাতের ধান খুব একটা চাষ হয় না। এখন সবাই হাইব্রিড জাতের উচ্চ ফলনশীল ধানে ঝুঁকেছেন।

সিলেট বিভাগ হাওরবেষ্টিত। বিভাগের চার জেলাতেই রয়েছে হাওর। হাওরের প্রধান শস্য বোরো ধান। তবে অপেক্ষাকৃত উঁচু ভূমিতে আউশ এবং আমনেরও আবাদ হয়।

স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানান, শাইল ধানের স্থানীয় পর্যায়ের একটি জাত। যা রোপা আমন মৌসুমে, সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে চাষ হয়। আবার শাইল ধানের মধ্যেও কয়েকটি জাত রয়েছে। যেমন ইন্দ্রশাইল, কাকশাইল, ময়না শাইল, কামিনীশাইল, মোটাশাইল, কার্তিক শাইল প্রভৃতি। জাতভেদে স্বাদ ও গন্ধে রয়েছে তারতম্য। শাইল ধানকে অনেকে শালি ধানও বলে থাকেন।

সিলেট অঞ্চলে একসময় প্রচুর পরিমাণে শাইল ধানের চাষ হতো। তবে বর্তমানে উচ্চফলনশীল জাতের প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে এটিসহ স্থানীয় পর্যায়ের ঐতিহ্যবাহী জাতগুলো।

‘নয়া দামানের’ সেই শাইল ধান কোথায়

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩ চিকিৎসকের নাচের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহিত

ধানের মতো সিলেট অঞ্চলের গানেরও খ্যাতি রয়েছে। এই অঞ্চলের অসংখ্য বাউল-বৈষ্ণব সাধক, লোককবি, শিল্পী সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা গান ও সংস্কৃতিকে। তাদের গানে উঠে এসেছে এ অঞ্চলের ফসল, প্রকৃতি ও জীবনাচরণ। স্বভাবতই এসেছে এ অঞ্চলের ধানের কথাও।

আরও পড়ুন: ‘নয়া দামানে’ ভাইরাল ঢামেক হাসপাতালের ৩ চিকিৎসক

হবিগঞ্জে জন্ম নেয়া কিংবদন্তি গণসংঙ্গীতশিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাস আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘উজান গাঙ বাইয়া’তে লিখেছেন, ‘অঘ্রাণে আমাদের দেশ ভারী সুন্দর হয়ে ওঠে। ধানের দেশে বাড়ি আমাদের। ধানের গন্ধে বড় হয়েছি। এই ধানই আমায় গান দিয়েছে। এই গানই কৃষক আন্দোলনকে আরও স্ফূরিত করেছিল।’

হেমাঙ্গ বিশ্বাসের এই বইয়ে শাইল ধানের বর্ণনাও রয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘শালি ধানের মাঠ। আশ্বিন-কার্তিক মাসে সড়কের মাথার কাছে ঢেউ দুলিয়ে আছাড় খেয়ে পড়ত ময়না শাইল, কার্তিক শাইল, কালিজিরা, কৃষ্ণচূড়া- কত রকমের ধান। কত বর্ণ, কত গন্ধ। ধানের শিষ টেনে কচি ধানের দুধ বের করে খেতাম। ...আমাদের দেশে আউশ আর শালি ধানের চাষ হতো খুব। মাঝেমাঝে আখের চাষ হতো।’

১৯১২ সালে জন্ম নেয়া হেমাঙ্গ বিশ্বাস নিজের এলাকায় শাইল ধানের খুব চাষ দেখলেও এখন সিলেট অঞ্চলে এই ধরনের ধান হয় না বললেই চলে। শৌখিন কোনো কোনো কৃষক সামান্য পরিমাণে চাষ করছেন। এসব ধান চাষে কৃষি অফিসেরও কোনো উৎসাহ নেই। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে ধানের বৈচিত্র্য। হারিয়ে যাচ্ছে সুগন্ধি ধান। কেবল গানেই উল্লেখ থাকছে এসব ধানের, বাস্তবে তা মিলছে না।

শাইল সুনামগঞ্জ অঞ্চলেরই ধান বলে দাবি করেছেন ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন। তিনি বলেন, ‘একসময় ব্যাপক হারে এই ধানের আবাদ হতো। এখন শখের বসে কেউ কেউ এর চাষ করেন। এই ধানের ফলনে দীর্ঘ সময় লাগে এবং ফলন কম হয়, তাই কৃষক বর্তমানে হাইব্রিড ধানের দিকেই ছুটছেন।’

আরও পড়ুন: ‘নয়া দামানের’ উৎসের সন্ধানে

শাইল ধান সুনামগঞ্জে এখন আর তেমন হয় না বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরিদুল হাসান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হবিগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক তমিজ উদ্দিন ও মৌলভীবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক কাজী লুৎফুর বারী জানান, এই দুই জেলায় সামান্য পরিমাণে শাইল ধানের আবাদ হয়।

‘নয়া দামানের’ সেই শাইল ধান কোথায়

নয়া দামানের সবশেষ কাভারের গায়িকা তোশিবা বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

শাইলসহ সুগন্ধি জাতের এসব ধান কেন এখন আগের মতো চাষ হচ্ছে না, এমন প্রশ্নে সুনামগঞ্জের বাসিন্দা সরকারি চাকরিজীবী দেবল সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ধান দেরিতে পাকে। উৎপাদনে সময় বেশি লাগে। তখন হাওরে বন্যা হলে ফসল তলিয়ে যায়। এ ছাড়া এটার ফলনও হয় কম। তাই আগের মতো চাষ হয় না। এখন আধুনিক জাতের উচ্চফলনশীল ব্রি ২৮, ২৯ ধানের কারণে এই ধানটা আর চাষ হচ্ছে না।’

একই ধরনের তথ্য জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের উপপরিচালক সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শাইল ধান প্রতি বিঘায় দুই থেকে আড়াই মণ হয়। অথচ উচ্চফলনশীল জাতের ধান প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ হয়। এ কারণে শাইলসহ ধানের স্থানীয় পুরনো জাতগুলো চাষে কৃষকের আগ্রহ কম। তবে কেউ কেউ শখে সামান্য পরিমাণে এসব ধান চাষ করে থাকেন।’

এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘উৎপাদন কম হলেও এই ধানের চাল উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। এ ছাড়া সুগন্ধি জাতের চাল বিদেশে রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে।’

আরও পড়ুন: যার কণ্ঠে ভাইরাল ‘নয়া দামান’

ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে কাজ করছেন জিনবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আবেদ চৌধুরী। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জন্ম নেয়া এই বিজ্ঞানী বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থায় গবেষক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি নিজের এলাকা কুলাউড়ায় নতুন ও হারিয়ে যাওয়া জাতের ধানের উৎপাদন ও প্রসারে কাজ করছেন।

ড. আবেদ মনে করেন, ধানের নতুন জাতের উদ্ভাবন, পুরনো জাতের সংরক্ষণ, গবেষণা ও চাষাবাদকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে পৃষ্ঠপোষকতা ও উৎসাহ দেয়া হয় না বলে এগুলোর ব্যাপারে সবাই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

‘নয়া দামানের’ সেই শাইল ধান কোথায়
সিলেট অঞ্চলে আবাদ করা শাইল ধানের ক্ষেত

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত আবেদ চৌধুরী ২০১৭ সালে দেশে অবস্থানের সময় এই প্রতিবেদককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘একমাত্র বাংলাদেশেই বিজ্ঞানকে বুদ্ধিভিত্তিক চর্চা ধরা হয় না। বিজ্ঞানীরা এখানে বুদ্ধিজীবী নন। আমি ধানের নতুন জাত আবিষ্কার করি, পুরনো জাতকে সংরক্ষণ ও নতুনভাবে চাষ করি; কিন্তু বুদ্ধিজীবী নই। অথচ আমি যদি এসব না করে ধান নিয়ে কবিতা লিখতাম তা হলে আমাকে বুদ্ধিজীবী বলা হতো।’

আরও পড়ুন: ‘নয়া দামান’ কপিরাইট ফ্রি

‘নয়া দামান’ গানে নয়া দামানকে বসানোর জন্য বিছানায় শাইল ধানের খড় বিছিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে কেন- তার উত্তরও খুঁজেছে নিউজবাংলা।

সুনামগঞ্জের ভাটি এলাকার বাসিন্দা দেবল সরকার বলেন, ‘এই ধানের খড়গুলো খুব সুন্দর। ক্ষেতে ধান কাটার পরে এই ধানের খড় দেখলে দূর থেকেই চেনা যায়। এটি দীর্ঘ ও বসার জন্য আরামদায়ক।’

একই তথ্য জানিয়ে লোকসংস্কৃতি গবেষক সুমনকুমার দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শাইল ধানের খড় অনেক দীর্ঘ ও সরু। ফলে বসতে আরাম। তাই এই খড় বসার জন্য ব্যবহৃত হয়।’

হাওরাঞ্চলের একাধিক কৃষক জানিয়েছেন, হাওরে যাত্রাপালা, গানের আসর, পূজাপার্বনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দর্শক-অতিথিদের বসতে দিতে আগে শাইল ধানের খড় ব্যবহৃত হতো।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিউজবাংলার মৌলভীবাজার প্রতিনিধি এমএ হামিদ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি কাজল সরকার ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি মোসাইদ রাহাত।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মোবাইল ফোন বন্ধ হচ্ছে না

মোবাইল ফোন বন্ধ হচ্ছে না

মন্ত্রণালয় বলছে, এনইআইআর দেশে একেবারেই নতুন। তাই সাধারণ মানুষ মোবাইল নিবন্ধন করতে ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ জন্য সরকার এখনই মোবাইল ফোন বন্ধের পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে। বৈধ বা অবৈধ কোনো ধরনের মোবাইল ফোন সেট একবার চালু হলে তা যেন আর বন্ধ না হয়, সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অবৈধ মোবাইল ফোন সনাক্ত করে বন্ধ করার সিদ্ধান্তের এক মাসেরও কম সময়ে তা থেকে সরে এল সরকার। কোনো ধরনের মোবাইল ফোন সেট বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশনা দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

বিটিআরসি বলছে, ১ জুলাই থেকে তিন মাস পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর ১ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এ ব্যবস্থা চালুর পর অবৈধভাবে আনা মুঠোফোন শনাক্ত করা হচ্ছিল। অবৈধ ফোন প্রমাণ দিয়ে নিবন্ধনের জন্যও বলা হচ্ছিল।

এতে প্রচুর আন-অফিসিয়াল বা অবৈধ ফোন সনাক্ত হয়, প্রথম ১০ দিনেই এ সংখ্যা ৪ লাখ অতিক্রম করে। অর্থাৎ এ সংখ্যক সেট বৈধভাবে আমদানি বা দেশে উৎপাদন হয়নি। কোনো না কোনোভাবে এগুলো শুল্ক এড়িয়ে বিদেশ থেকে এসেছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, এনইআইআর দেশে একেবারেই নতুন। তাই সাধারণ মানুষ মোবাইল নিবন্ধন করতে ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ জন্য সরকার এখনই মোবাইল ফোন বন্ধের পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে। বৈধ বা অবৈধ কোনো ধরনের মোবাইল ফোন সেট একবার চালু হলে তা যেন আর বন্ধ না হয় সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র নিউজবাংলাকে বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, বৈধ বা অবৈধ কোনো মোবাইল সেটই বন্ধ হবে না। সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি থেকে রেহাই দেয়ার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, ‘তবে ফোন বন্ধ না হলেও গ্রাহকের সমস্ত তথ্য আমাদের ডাটাবেজে চলে আসবে। মোবাইলের আইএমইআই নাম্বার পরিবর্তন করা তখন কঠিন হবে। যেহেতু আমাদের ডাটাবেজে সব মোবাইলের তথ্য থাকবে, তাই আইএমইআই আর ক্লোন হবে না, ডুপ্লিকেট করাও একেবারেই কমে যাবে।’

বিটিআরসি বলছে, এখনও বাজারে বিক্রি হওয়া মোট ফোনের ৭০ শতাংশ হয় ফিচার ফোন, যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না। তাই নিবন্ধনের সঙ্গেও তারা অভ্যস্ত নয়। আবার নানা প্রমাণপত্র দিয়ে তাদের পক্ষে মোবাইল ফোন সেট নিবন্ধনও সম্ভব হচ্ছে না।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাধারণ মানুষের ভোগান্তিসহ এ খাতের নানা বিষয় নিয়ে গত ১২ অক্টোবর সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়। এতে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টাও অংশ নেন। ওই বৈঠকেই মোবাইল ফোন বন্ধ না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনাও দেয়া হয়।

বিটিআরসি বলছে, আগস্টের সর্বশেষ হিসাব মতে দেশে চার মোবাইল ফোন অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা (সক্রিয় সিমকার্ড) ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ১ হাজার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্কহার অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি। এ কারণে প্রতিবেশি অনেক দেশের তুলনায় এ দেশে মোবইল ফোন সেটের দাম অনেক বেশি। স্মার্ট ফোন আমদানিতে এ দেশে ৫৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়।

এ কারণে প্রতিবেশি দেশসহ বিভিন্ন দেশে থেকে প্রচুর মোবাইল ফোন আন অফিসিয়াল উপায়ে আসে। বৈধভাবে আমদানি হওয়া এসব ফোনের চেয়ে লাগেজে (আন অফিসিয়িাল) আসা মোবাইল ফোন সেট অনেক কম দামে পাওয়া যায়।

বেশি দামের কারণে দেশে স্মার্ট ফোন ব্যবাহরকারীর সংখ্যাও অনেক কম। অনেকেরই স্মার্ট ফোন ব্যবহারের সামর্থ্য নেই। দেশে মোট ফোনের ৪০ শতাংশ স্মার্ট ফোন, যা ভারতে ৬৯, পাকিস্তানে ৫১, নেপালে ৫৩ ও শ্রীলঙ্কায় ৬০ শতাংশ।

শেয়ার করুন

সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের ফল প্রকাশ

সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের ফল প্রকাশ

প্রতীকী ছবি

গত বছরের ১ মার্চ আড়াই হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। গত ২৮ জানুয়ারি এ পদের ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ফলাফলে ৮ হাজার ১৪৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে পিএসসি। তবে তথ্য বিভ্রাট ও প্রশাসনিক কারণে ১৫ জনের সুপারিশ স্থগিত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে পিএসসির ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

জানতে চাইলে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (নন ক্যাডার) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে নিয়োগের জন্য ৮ হাজার ১৪৪ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে। আর তথ্য বিভ্রাট ও প্রশাসনিক কারণে ১৫ জনের সুপারিশ স্থগিত করা হয়েছে।’

গত বছরের ১ মার্চ আড়াই হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। গত ২৮ জানুয়ারি এ পদের ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি এমসিকিউর ফল প্রকাশ করলে দেখা যায়, এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ হাজার ২২৮ জন।

এরপর উত্তীর্ণ প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৮ হাজার ২৮৮ জন।

শেয়ার করুন

শাহজালালে বসবে নতুন রাডার, বাড়বে নজরদারি-রাজস্ব

শাহজালালে বসবে নতুন রাডার, বাড়বে নজরদারি-রাজস্ব

প্রতীকী ছবি

পুরনো রাডারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় দেশের আকাশসীমায় কোনো আকাশযান চলাচল করলে তা থেকে রাজস্বও আদায় করতে পারছে না সরকার। এসব এলাকায় রাডার কাভারেজ দিয়ে আয় করছে ভারত ও মিয়ানমার।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩০ বছরের পুরনো রাডার সরিয়ে বসানো হবে নতুন রাডার। এই রাডার স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যেই ফ্রান্সের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালাস এলএএস-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চুক্তিটি অনুষ্ঠিত হয়।

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান ও থ্যালাসের ভাইস চেয়ারম্যান নিকোলাস নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ ম্যাঁরি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে যে রাডার রয়েছে, এটি কার্যক্ষমতা হারিয়েছে অনেক আগে। প্রায় ৩০ বছর আগে স্থাপন করা এই রাডার দিয়ে আকাশপথে নজরদারি চালাতে হিমশিম খেতে হয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে। তার ওপর সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরে নতুন নিয়ন্ত্রণে আসা বিস্তীর্ণ এলাকা এর আওতার বাইরে থেকে যায়। ফলে ওইসব এলাকা দিয়ে কোনো আকাশযান উড়ে গেলে তা জানতে পারছে না বাংলাদেশ। এতে আকাশপথের সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় দেশের আকাশসীমায় কোনো আকাশযান চলাচল করলে তা থেকে রাজস্বও আদায় করতে পারছে না সরকার। এসব এলাকায় রাডার কাভারেজ দিয়ে আয় করছে ভারত ও মিয়ানমার।

শাহজালালে বসবে নতুন রাডার, বাড়বে নজরদারি-রাজস্ব
বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান ও থ্যালাসের ভাইস চেয়ারম্যান নিকোলাস চুক্তিতে সই করেন

এয়ারলাইন্সগুলো বলছে, পুরনো রাডার দিয়ে সব ক্ষেত্রে সেবা নিশ্চিত করতে পারছে না বেবিচক। নতুন রাডার বসানোর প্রকল্পটি গত বছরের ৮ জুন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পায়। বেবিচক আশা করছে, ২০২৪ সাল নাগাদ এই রাডার বসানোর কাজ সম্পন্ন হবে।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘নতুন এ অত্যাধুনিক রাডার স্থাপনের ফলে দেশের সমগ্র আকাশসীমা নজরদারির আওতায় আসবে। এর ফলে বাংলাদেশের আকাশ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করা সকল বিদেশি উড়োজাহাজ শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং এদের থেকে ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায় করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এভিয়েশন খাতের উন্নয়নের একটি বড় পদক্ষেপের সাক্ষী হয়ে থাকছি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাডার, এটিসি টাওয়ার স্থাপন ছাড়াও কমিনিউকেশন, নেভিগেশন, নজরদারি ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে।’

এর আগেও একবার রাডার প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল বেবিচক। ২০১২ সালে সরকারি-বেসরকারি মালিকানার ভিত্তিতে রাডার প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমতি দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। অনুমোদনের পর ২০১৫ সালে দরপত্রও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় বাতিল হয়ে যায় সেই উদ্যোগ।

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক হামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল চান হানিফ

সাম্প্রদায়িক হামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল চান হানিফ

দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে ‘গৌরব ৭১’-এর প্রতিবাদ মিছিল। ছবি: নিউজবাংলা

মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘এ পর্যন্ত যতগুলো সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটি ঘটনার বিচার করুন। যদি সাধারণ আইনে না হয়, তাহলে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অপকর্মকারীদের বিচার করুন। আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশকে আবারও যেন ফিরিয়ে আনতে পারি।’

কুমিল্লা, নোয়াখালী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।

তিনি বলেছেন, ‘এ পর্যন্ত যতগুলো সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটি ঘটনার বিচার করুন। যদি সাধারণ আইনে না হয়, তাহলে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অপকর্মকারীদের বিচার করুন। আমরা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশকে আবারও যেন ফিরিয়ে আনতে পারি। আমরা সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে যে শঙ্কা ও ভীতি রয়েছে, সেটি দূর করতে চাই।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক প্রতিরোধ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার প্রতিবাদে ‘গৌরব ৭১’ নামের একটি সংগঠন এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘রামু, নাসিরনগর, শাল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছিল, সেগুলোর বিচার এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। বিচার বিলম্ব হওয়ার কারণে মৌলবাদী শক্তিরা সাহস পাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ, অতি দ্রুত এই ঘটনাগুলোর বিচার শেষ করুন।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের সমাজ থেকে লোকসংস্কৃতি হারিয়ে গেছে। এখন গ্রামে নাটক, পালাগান, যাত্রা নেই। জারি-সারি, ভাটিয়ালি, পুঁথিগান কোনোটাই আর হয় না। এগুলো সব বন্ধ হয়ে গেছে। এখন এগুলোর বদলে জায়গা করে নিয়েছে ওয়াজের নামে বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা বলে মানুষকে ধর্মান্ধ করা।’

জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বীজ বপন করেছেন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘স্বপ্নের বাংলাদেশ আমাদের মাঝ থেকে ধীর ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিরোধ সমাবেশ থেকে আমাদের মৌলবাদী গোষ্ঠীকে চিরতরে নিপাত করার শপথ নিতে হবে। শেখ হাসিনার একজন কর্মীও থাকতে এই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে দেয়া হবে না। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ আমরা গড়বই।’

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সামাদ বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক এ হামলাগুলোর লক্ষ্য কোনো হিন্দু জনগোষ্ঠী নয়। আক্রমণের লক্ষ্য বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনা। আমাদের মূল কাজ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষা করা। এ জন্য আমাদের আদর্শ ও নিষ্ঠাবান কর্মী তৈরি করতে হবে।’

ড. সামাদ বলেন, ‘আমাদের ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের অনুরোধ, বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর বাহাত্তরের সংবিধানকে ফিরিয়ে আনুন। বাহাত্তরের সংবিধানে যদি আমরা ফিরে যেতে পারি, তাহলে এই ধর্মান্ধদের আমরা উৎখাত করতে পারব। ফলে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে আমরা কায়েম করতে পারব।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফি, নাটোর-৪ আসনের সাংসদ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, ঢাকা-৪ আসনের সাংসদ সানজিদা খানম, চাঁদপুর-২ আসনের সাংসদ নুরুল আমিন রুহুল, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসসহ অনেকে।

সমাবেশ শেষে শহীদ মিনার থেকে লাঠি হাতে মৌলবাদ প্রতিরোধ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহীদ মিনার থেকে শেখ রাসেল টাওয়ার হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়।

শেয়ার করুন

নতুন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস

নতুন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস

পিটার ডি হাস

মার্কিন সিনেট অনুমোদন দিলে বর্তমান রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারের স্থলাভিষিক্ত হবেন হাস। মিলার বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নেন ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর।

২০২২ সালের শুরুতেই বাংলাদেশে আসছেন ঢাকায় নিয়োগ পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। ক্রমেই অর্থনৈতিক শক্তিতে বদলাতে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’ মজবুত করতে গত জুলাইয়ে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ পিটার ডি হাসকে চূড়ান্ত করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গত মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার।

মিলার জানান, পেশায় কূটনীতিক পিটার হাস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে অর্থনীতি ও বাণিজ্যবিষয়ক উপসহকারী মুখ্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এর আগে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের মুম্বাই মিশনে কাজ করেছেন।

এদিকে এই নিয়োগের পক্ষে বুধবার মার্কিন সিনেটে ফরেন রিলেশন্স কমিটির সদস্যদের সামনে বক্তব্য রাখেন পিটার ডি হাস। বক্তব্যে তিনি ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে ভূমিকা রাখা, রোহিঙ্গা পুনর্বাসন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলা ও দুই দেশের বাণিজ্য অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেবেন বলে জানান।

সিনেট অনুমোদন দিলে বর্তমান রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলারের স্থলাভিষিক্ত হবেন হাস। মিলার বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে শপথ নেন ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর।

সিনেটে দেয়া বক্তব্যে হাস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রায় পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য বন্ধু এবং অংশীদার। একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সমগ্র অঞ্চলকেই উপকৃত করবে। রাষ্ট্রদূত হলে আমি এমন নীতিমালা এগিয়ে নেব, যা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে উন্নত করবে এবং একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, পরস্পর সংযুক্ত, প্রতিরোধক্ষম ও নিরাপদ অঞ্চলে পরিণত করবে।’

হাস জানান, তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাজ অব্যাহত রাখবেন। এ ছাড়া সব রোহিঙ্গার মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার থাকবেন।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু এবং স্বাস্থ্য যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি পর্যবেক্ষণ করে তিনি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী এবং ক্রমবর্ধমান। এ বছর ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছতে সহায়তা করবে।’

শেয়ার করুন

উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় বক্তা গ্রেপ্তার

উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় বক্তা গ্রেপ্তার

উসকানি দেয়ার অভিযোগে মাওলানা আব্দুর রহিম বিপ্লবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

সিআইডি জানায়, বুধবার দেশের একজন ইসলামি বক্তা মাওলানা আব্দুর রহিম বিপ্লবী একটি ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেয়ার সময় উসকানিমূলকভাবে বলেন, ‘মূর্তির পায়ে যারা পবিত্র কুরআন শরিফ রেখেছে তাদেরকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে গ্রেপ্তার না করলে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মসজিদ থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং বাংলাদেশে একটি পূজামণ্ডপও রাখব না।’

পূজামণ্ডপে হামলায় উসকানি দেয়ার অভিযোগে মাওলানা আব্দুর রহিম বিপ্লবীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৩ অক্টোবর দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিন ভোরে কুমিল্লা শহরের নানুয়ার দিঘির পাড়ে একটি পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়া যায়। পরে একদল লোক কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ তুলে মণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনার জের ধরে সেদিনই চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কিছু মন্দিরে হামলা চালানো হয়। সহিংসতায় কয়েকজন নিহত হয়।

সিআইডি জানায়, ওই দিনই দেশের একজন ইসলামি বক্তা মাওলানা আব্দুর রহিম বিপ্লবী একটি ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেয়ার সময় উসকানিমূলকভাবে বলেন, ‘মূর্তির পায়ে যারা পবিত্র কুরআন শরিফ রেখেছে তাদেরকে ১৪ অক্টোবর, বৃহস্পতিবারের মধ্যে গ্রেপ্তার না করলে ১৫ অক্টোবর শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মসজিদ থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং বাংলাদেশে একটি পূজামণ্ডপও রাখব না।’

এ ছাড়া তিনি কুমিল্লার পূজাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে নিহতের ঘটনায় পুলিশকে দায়ী এবং দোষী করে অপমানজনক, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, অবজ্ঞা এবং উগ্র বক্তব্য প্রচার করে বলে সিআইডি জানায়।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, এই বক্তব্য বিভিন্নভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেন ও জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে থাকে।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফলে অনেকেই তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। বিষয়টি সিআইডির সাইবার মনিটরিং সেলের নজরে এলে তারা দ্রুত সেই আব্দুর রহিম বিপ্লবীকে শনাক্ত করে।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহমুদুল ইসলাম তালুকদারের তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক মোসাম্মৎ শাজেনা লতার নেতৃতে সাইবার মনিটরিং সেলের একটি টিম মাওলানা আব্দুর রহিম বিপ্লবীকে গ্রেপ্তার করে। আব্দুল রহিমের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় মামলা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পূজামণ্ডপ সম্পর্কিত উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার কথা আব্দুর রহিম স্বীকার করেছেন। তার এই বক্তব্য সিআইডি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য সংরক্ষণ করেছে।

এ ধরনের বক্তব্য প্রদানকারীদের তথ্য সিআইডিকে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ। তিনি বলেন, ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়ার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাবার চেষ্টা করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

শেয়ার করুন

চলতি মাসেই স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা

চলতি মাসেই স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা

১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেশে দেড় কোটি।

শিক্ষার্থীদের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজারের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই টিকার ৬০ লাখ ডোজ সরকারের হাতে রয়েছে। এখান থেকে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে দুই ডোজ টিকা দেয়ার কাজ সম্পন্ন হবে।

করোনার সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে এ মাসের মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানের একটি হোটেলে জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক টিকা দেয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজারের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই টিকার ৬০ লাখ ডোজ সরকারের হাতে রয়েছে। এখান থেকে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে দুই ডোজ টিকা দেয়ার কাজ সম্পন্ন হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের তালিকা আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। তালিকা পেলে চলতি মাসেই তাদের টিকা দেয়া শুরু হবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের স্কুলশিক্ষার্থীর সংখ্যা দেড় কোটির মতো। তাদের টিকা দেয়ার প্রস্তুতি আমাদের আছে। আমাদের হাতে ফাইজারের টিকাও আছে। নতুন করে ৭২ ও ৯০ লাখ টিকার দুটি চালান শিগগিরই আসবে।’

জাহিদ মালেক জানান, দেশের মানুষকে করোনার সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে ইতোমধ্যেই ২১ কোটি ডোজ টিকা কেনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ মাসে প্রায় তিন কোটি টিকা দিতে পারব। টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় আসবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘কিছুদিন আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা বলেছে, আমরা টিকা কর্মসূচিতে ভালো করছি। আমরা বলেছিলাম আমাদের টিকা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য। তারাও সম্মতি দিয়েছে।’

শেয়ার করুন