ব্যাংক খাতে দাম বৃদ্ধির পর দিনই পতনের ধারাবাহিকতা থেকে বের হতে পারল না চাঙা পুঁজিবাজারও। বস্ত্র খাতে। তালিকাভুক্ত ৩৬ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে প্রথমটির লভ্যাংশ চমৎকৃত করলেও এই খাতেও দরপতনে তৈরি হয়েছে বিস্ময়।
তবে সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের ব্যাংক খাতে দরপতনেও লভ্যাংশের অপেক্ষায় থাকা প্রধান প্রধান খাত বস্ত্র, প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ওষুধ ও রসায়ন এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিকের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তির চাঙাভাবে টানা পঞ্চম দিনের মতো বাড়ল পুঁজিবাজার।
সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার বিমা খাতের শেয়ারধারীদেরকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে। টানা প্রায় দুই মাস ধরে সংশোধনের মধ্যে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে এই খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের অবস্থান এখন সাড়ে ছয় হাজার পয়েন্টের ঘর ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। সূচকের অবস্থান এখন ২০১১ সালের ২৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৬২৭ পয়েন্ট। সেখান থেকে ৩১ পয়েন্ট কমে শেষ হয়েছে আজকের লেনদেন।
তখন অবশ্য ডিএসইএক্স সূচক ছিল না, সে সময় সূচকের নাম ছিল ডিএসই সূচক। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি চালু হয় ডিএসইএক্স সূচক।
এই ডিএসই ও ডিএসইএক্স সূচকের তুলনা করলে দেখা যায়, চালুর দিন ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৫৫। তবে সেদিন ডিএসই সূচকের মানদণ্ডে তা ছিল ৪ হাজার ১৭১ পয়েন্ট।
সূচক ৬০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পাওয়ার দিন লেনদেনেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। প্রায় দুই মাস পর লেনদেন আবার ছাড়াল আড়াই হাজার কোটি টাকার ঘর। এর আগে গত ১০ জুন ২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা আর তার আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এই লেনদেন ছিল ২০১০ সালের মহাধসের পর সর্বোচ্চ।
আগের কর্মদিবস মঙ্গলবার ব্যাংক খাতের উত্থান আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। ২০২০ সালে অর্থবছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ, চলতি বছর আরও বেশি মুনাফা করে আলোচনায় থাকা এই খাতটির ঝিমিয়ে থাকার মধ্যে সেদিন ৩১টি কোম্পানির সবগুলোর দাম বৃদ্ধি ঘটে।
পুঁজিবাজারের চাঙাভাবের মধ্যে এই খাতটির শেয়ার দর অবমূল্যায়িত বলেই ধারণা করা হয়। এর আগে গত ২৭ মেও একই দিন সব কটি কোম্পানির দাম বৃদ্ধির চিত্র দেখেছিল পুঁজিবাজার। সেদিনও এই খাতের বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী হয়ে উঠেন যে, খাতটি হয়ত ভালো করবে। কিন্তু পরের দিনেই দাম কমে যায় আর ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ২০টির দামই এখন সেই ২৭ মের দামের চেয়ে কমে।
ব্যাংক খাতে কোনো একদিন দাম বৃদ্ধি পেলেও পরে তা ধরে রাখতে না পারার এই বিষয়টি ঘটল আবার। এদিন ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে আটটির দাম বেড়েছে নগণ্য পরিমাণে। এর বিপরীতে কমেছে ১৭টির দর। শতকরা হিসেবে দাম খুব বেশি কমেছে এমন নয়, তার পরেও দ্বিগুণ সংখ্যক শেয়ারের দাম হারানো নিশ্চিতভাবেই হতাশ করেছে এই খাতের বিনিয়োগকারীদের। বাকি ৬টি ব্যাংক দাম ধরে রাখতে পেরেছে।
মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এই খাতের প্রথম কোম্পানি হিসেবে এনএলআই ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড চলতি বছরের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ইউনিট প্রতি ১ টাকা ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই লভ্যাংশ পুঁজিবাজারের অন্য খাতের কোম্পানির এর চেয়ে কিছুটা বেশি হারে লভ্যাংশের চেয়ে ভালো। কারণ, ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশের জন্য কর দিতে হয় না বিনিয়োগকারীদের, যেখানে অন্য খাতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আয়কর কেটে রাখা হয়।
এই খাতের ৩০টি ফান্ডের লভ্যাংশ ঘোষণা এখন সময়ের ব্যাপার। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আসছে আরেও ১৩টির ঘোষণা।
ফান্ডগুলো চাঙা পুঁজিবাজারে গত এক বছরে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করেছে। আর এখন লভ্যাংশ সব বিতরণ করতে হয় নগদে ফলে বেশ ভালো লভ্যাংশের আশা করা হচ্ছে।
এনএলআই দেখিয়েছে এবার লভ্যাংশ কেমন হতে পারে, কী নীতিমালায় হবে। তারা চমৎকৃত করার পর লেনদেনের শুরুতে এই খাতটি চাঙা হয়েছিল বটে, কিন্তু শেষ বেলায় দর হারিয়ে বসে বেশিরভাগ ফান্ড।
দিন শেষে ১১টি ফান্ডের দর বৃদ্ধির বিপরীতে মূল্য হারায় ১৩টি। দর ধরে রাখে বাকি ১২টি। এর মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা করা এনএলআই এর দাম কমেছে ইউনিটপ্রতি ৬০ পয়সা।
টিকল না ব্যাংকের বাড়তি দর
আগের দিন সব কটি ব্যাংকের দাম বাড়ার কারণে এই খাতটি নিয়ে যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, তাতে ধাক্কা লাগল দ্বিতীয় দিনই। বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি লেনদেনও অর্ধেক হয়ে গেছে।
যদিও দাম বৃদ্ধি ও কমার হার খুব একটা বেশি না। সবচেয়ে বেশি কমা এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার দর হারিয়েছে ২.৩৯ শতাংশ। শেয়ার দর ২৯ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৮ টাকা ৫০ পয়সা।
রূপালী ব্যাংকের শেয়ার দর ৩২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২.১৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৩১ টাকা ৯০ পয়সা।
আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর ২ শতাংশ কমে ৫ টাকার শেয়ার দিন শেষে হয়েছে ৪ টাকা ৯০ পয়সা।
ইউসিবি ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ১.৮১ শতাংশ। শেয়ার প্রতি দর ১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৬ টাকা ২০ পয়সা।
ডাচ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার দর ৮৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১.৭৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৮৪ টাকা ৪০ পয়সা।
ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার দর কমেছে দেড় শতাংশ। শেয়ার প্রতি দর ২০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৯ টাকা ৭০ পয়সা।
এ তালিকায় আছে ওয়ান ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক।
এদিন দর বৃদ্ধি পাওয়া ব্যাংকের তালিকায় ছিল ব্র্যাক ব্যাংক, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে দশমিক ৪০ শতাংশ। উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার দরও বেড়েছে একই হারে। ট্রাস্ট ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে দশমিক ৮৫ শতাংশ। ব্যাংকটির শেয়ার দর ৩৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৫ টাকা ৫০ পয়সা।
এই খাতে হাতবদল হয়েছে মোট ১১৮.৭০ কোটি টাকা যা আগের দিন ছিল ২৪৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ লেনদেন কমেছে ১২৮ কোটি টাকার মতো।
আগ্রহের কেন্দ্রে তিন খাত
এদিন যত লেনদেন হয়েছে তার ৪৩.৮২ শতাংশই হয়েছে তিনটি খাতে। এগুলো হলো বস্ত্র, প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন।
এই তিনটি খাতের ১১৪টি কোম্পানির অর্থবছর শেষ হয়েছে। যদিও একটি অংশের কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ বা লোকসানে আছে, তার পরেও এসব কোম্পানিকে ঘিরে আগ্রহের শেষ নেই। কারণ, এগুলোর বোর্ড পুনর্গঠন করে আবার চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আবার যেগুলো মুনাফায় আছে, সেগুলোর বেশিরভাগ করোনার মধ্যেও বেশ ভালো মুনাফা করেছে।
এই তিন খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বস্ত্র খাতে ৩৯৮ কোটি ২০ টাকা। আগের দিন এই খাতে হাতবদল হয়েছিল ২৭৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। এক দিনেই লেনদেন বেড়েছে ১২২ কোটি ১০ লাখ টাকা।
১০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির অর্ডার পাওয়ার পর গত সোমবার এই খাতে উত্থান দেখা দিলেও মঙ্গলবার ঘটে দর পতন। বুধবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় পুঁজিবাজারে লেনদেন ছিল বন্ধ। আর এই বিরতির শেষে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ এই খাতেই।
দিনের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি ছিল বস্ত্র খাতের ঢাকা ডাইং, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ১০ শতাংশ, দাম ২৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬ টাকা ৪০ পয়সা।
অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৯.৮৭ শতাংশ বেড়ে শেয়ার দর ১৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে হয়েছে ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।
সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৯.৮১ শতাংশ বেড়ে ২১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে হয়েছে ২৩ টাকা ৫০ পয়সা।
মালেক স্পিনিং মিলসের দর ৩০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৯.৭০ শতাংশ থেকে হয়েছে ৩৩ টাকা ৯০ পয়সা।
৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ছয়টির দর কমেছে, পাল্টায়নি চারটির, বেড়েছে বাকি ৫৮টির।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে প্রকৌশল খাতে ৩৭৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে যা ছিল ৩১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
এই খাতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বন্ধ কোম্পানি অ্যাপোলো ইস্পাতের। ৯.১৭ শতাংশ বেড়ে ১০ টাকা ৯০ পয়সার শেয়ার হয়েছে ১১ টাকা ৯০ পয়সা।
জিপিএইচ ইস্পাতের দর ৮.৫০ শতাংশ বেড়ে ৪৯.৪ টাকা থেকে হয়েছে ৫৩.৬ টাকা।
নাহি অ্যালুমিনিয়ামের দর ৬.৭৫ শতাংশ, কপারটেকের ৬.৩১, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের দর বেড়েছে ৬ শতাংশ।
সব মিলিয়ে এই খাতে বেড়েছে ৩২টি শেয়ারের দর, কমেছে ১০টির। যেগুলোর দর কমেছে, সেগুলোর দাম কমার হার খুবই কম।
তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে ৩২৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের দিন যা ছিল ২৩৭ কোটি ৮ লাখ টাকা। এই খাতে লেনদেন কমলে বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর।
এই খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত বহুদিন ধরে। বাকিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২২টির আর কমেছে ৭টির দর।
এই ৩০টি কোম্পানির সিংগভাগই মুনাফায় আছে, আর এগুলোর অর্থবছরও শেষ হয়েছে ৩০ জুন। যে কোনো দিন আসবে বোর্ড সভার খবর। আর সেই সভা শেষে ঘোষণা হবে লভ্যাংশ।
এই খাতে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সেন্ট্রাল ফার্মার। ৯.৫৭ শতাংশ বেড়ে ১৮ টাকা ৮০ পয়সার শেয়ার হয়েছে ২০ টাকা ৬০ পয়সা।
৮.৫৭ শতাংশ বেড়ে ফার কেমিক্যালের দাম ১৬ টাকা ৩০ পয়সা থেকে হয়েছে ১৭ টাকা ৭০ পয়সা।
৭.৪৮ শতাংশ বেড়েছে লিব্রা ইনফিউশনের দর। ৬৬০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে শেয়ার দর হয়েছে ৭০৯ টাকা ৮০ পয়সা।
ওরিয়ন ইনফিউশনের দাম বেড়েছে ৭.১৬ শতাংশ। ৭২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে শেয়ার দর হয়েছে ৭৭ টাকা ৮০ পয়সা।
একই গ্রুপের ওরিয়ন ফার্মার দাম বেড়েছে ৬.৮৯ শতাংশ। ৬৩ টাকা ৮০ পয়সার শেয়ার বেড়ে হয়েছে ৬৮ টাকা ২০ পয়সা।
হারানো দর কিছুটা হলেও ফিরে পেল বিমা খাত
লেনদেনের শুরুতে বিমা খাতের শেয়ারের দর পতন হলেও দিন শেষে বেড়েছে সিংহভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ার দর।
দিন শেষে এই খাতের ১০টি কোম্পানির দর কমার বিপরীতে বেড়েছে ৩৩টির। লেনদেন হয়েছে ১৭১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
আগের কর্মদিবসে এই খাতের ১১টির দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছিল ৩৯টির। লেনদেন হয়েছিল ১৮০ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
বিমা খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ৫.৮৯ শতাংশ। এছাড়া ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৫.৭২ শতাংশ। ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের ৫.১১ শতাংশ, প্রগতি লাইফের ৪.৮৮ শতাংশ, এছাড়া সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৪.৬৫ শতাংশ।
সিটি, গ্লোবাল, প্রাইম ও ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৩ শতাংশের বেশি।
অন্যান্য খাতের লেনদেন
ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের দর বেড়েছে ৬টির, কমেছে ১৩টির। লেনদেন হয়েছে ১০২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে এই খাতে ১১টির দর বাড়ার বিপরীতে কমেছিল ৬টির আর লেনদেন ছিল ১৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার।
খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৬টির, কমেছে বাকি চারটির। লেনদেন হয়েছে ১১৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের দিন এই খাতে ১২টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছিল ৭টির, লেনদেন ছিল ১০৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৮টির, কমেছে ৫টির। লেনদেন হয়েছে ১৪৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির মধ্যে শীর্ষে আছে এই খাতের সিভিও পেট্রোক্যামেকেল যার দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ।
আগের কর্মদিবসেও এই খাতে ১৭টি কোম্পানির দাম বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছিল ৬টির লেনদেন ছিল ১৩৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
একটি ফান্ডের চমকপ্রদ লভ্যাংশ ঘোষণার দিনও বেশিরভাগ ফান্ডের দর হারানোর দিন মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে লেনদেন অবশ্য বেড়েছে। ১১টির দর বৃদ্ধি, ১৩টির হ্রাস আর ১২টির দর অপরিবর্তিত থাকার দিন হাতবদল হয়েছে ১৪২ কোটি ৮ লাখ টাকা।
আগের কর্মদিবসে দিন এই খাতে ১৩টির দাম বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছিল ৯টির, লেনদেন হয়েছিল ১০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
বিবিধ খাতে এদিনও বেশ ভালো লেনদেন হয়েছে। ১৪টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১০টির, কমেছে ৩টির। হাতবদল হয়েছে মোট ১৮৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
আগের কর্মদিবসে ৭টি করে কোম্পানির দর বৃদ্ধি ও কমার দিন লেনদেন ছিল ১৮৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
এদিন আগ্রহের নতুন মোড় দেখা গেছে তথ্য প্রযুক্তি খাতে। ১১টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১০টিরই। কমেছে অন্যটির। হাতবদল হয়েছে মোট ৭৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
সূচক ও লেনদেন
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬০ দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৯৬ দশমিক ০৭ পয়েন্টে।
শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ১৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩৯ পয়েন্টে।
বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৯ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে।
ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৫১১ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই আগের দিনের তুলনায় ১৭৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ১৮৮ পয়েন্টে। লেনদেন হয়েছে মোট ৮১ কোটি টাকা।
ফাইল ছবি
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ২১ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়নের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। এদের মধ্যে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজি), ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি এবং পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি-পদায়ন করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত চারজন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজি এবং এনএসআই-এর পরিচালক (ডিআইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনকে সিআইডি’র অতিরিক্ত আইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে পুলিশ টেলিকমের অতিরিক্ত আইজি এবং র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি) ফারুক আহমেদকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি পদে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামানকে র্যাবে, এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) এ কে এম আক্তারুজ্জামানকে পুলিশ অধিদপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি (চলতি দায়িত্বে) এবং মুক্তাগাছা ২য় এপিবিএন-এর অধিনায়ক মো. কুতুব উদ্দিনকে পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
আরএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আল মামুনকে মুক্তাগাছা ২য় এপিবিএন-এর অধিনায়ক, হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সরকার মোহাম্মদ কায়সারকে বেতবুনিয়া পিএসটিএস-এর কমান্ড্যান্ট এবং এন্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খানকে সারদা বিপিএ-এর অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আব্দুল ওয়ারীশকে রংপুর পিটিসির অতিরিক্ত ডিআইজি এবং কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ডিআইজি পদমর্যাদার চারজন কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। এপিবিএন-এর ডিআইজি (এফডিএমএন) এর কার্যালয়ের প্রলয় চিসিমকে নোয়াখালী পিটিসির ডিআইজি এবং সিআইডির ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিমকে এপিবিএন-এর ডিআইজি (এফডিএমএন) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণিকে রংপুর পিটিসির ডিআইজি এবং এসবির ডিআইজি একেএম মোশাররফ হোসেন মিয়াজীকে খুলনা পিটিসির ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পাঁচজন কর্মকর্তাকে নতুন স্থানে পদায়ন করা হয়েছে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কাজী এহসানুল কবীরকে পুলিশ অধিদপ্তরের পুলিশ সুপার এবং এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহিদুর রহমানকে সারদা বিপিএ-এর পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এন্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার সালমা সৈয়দ পলি রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছেন। সবশেষে, ঝিনাইদহ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মো. শহীদুল ইসলাম এবং পুলিশ টেলিকমের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জামায়াত মননীত রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের পীরগঞ্জে জামায়াতের এক এমপির (রংপুর-৬) বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটার একাধিক প্রকল্পে ভাগনে-ভগ্নিপতি ও নিকট আত্মীয়কে সভাপতি বানিয়ে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ৩০ লক্ষ, কাবিটার ২৫ লক্ষ টাকা ও কাবিখার ৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সরকারের বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছেন সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন। তার সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় টিআরের (নগদ অর্থ) ১৪টি, কাবিটার ১১টি ও কাবিখার ৫টিসহ মোট ৩০টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ বিভাজন করে তিনি প্রকল্প দাখিল করেন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৯ নং সদর ইউনিয়নের তুলারামপুর গ্রামে এমপির বিশেষ বরাদ্দের দুটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। কাবিখা প্রকল্পে-১০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দে বর্ণিত গ্রামে ইয়াকুব আলীর বাড়ির সামনে ওয়াক্তিয়া নামাজ ঘর উন্নয়ন ও মাঠে মাটি ভরাটকরণ প্রকল্প। এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে এমপির চাচাতো বোনের স্বামী ভগ্নিপতি ইয়াকুব আলীকে।
অপর প্রকল্পটি একই গ্রামের উল্লেখিত ইয়াকুবের বাড়ি থেকে মুশফিকের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা সলিংকরণ, ইয়াকুবের পুকুর পাড়ে গাইড ওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটকরণ। এ প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে আগের প্রকল্পের সভাপতি ইয়াকুব আলীর ছেলে সালমান শরিফ শাওনকে। এই দুই প্রকল্পের সভাপতি পিতা-পুত্র। তারা দুজনই সম্পর্কে এমপির ভাগনে ও ভগ্নিপতি।
এছাড়া অন্যান্য প্রকল্পে নিকট আত্মীয়, দলীয় বিভিন্ন পদের নেতা-কর্মীদের সভাপতি করা হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সর্বত্র।
তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুকুল মিয়া প্রশ্ন করেন, ওয়াক্তিয়া ঘরের জন্য একাধিক প্রকল্পে এমপি তার বোনজামাই, ভাগনেকে প্রকল্প সভাপতি করায় এর সঠিক বাস্তবায়ন কতটুকু হবে।
ওই গ্রামের মঞ্জু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তুলারামপুর গ্রামে পুরনো জামে মসজিদ রয়েছে। যেখানে নিয়মিত শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মসজিদটির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও সেখানে কোনো বরাদ্দ না দিয়ে স্বজনপ্রীতি করে এমপি তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রকল্প দিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ‘প্রকল্পে কত টাকা বা কী বরাদ্দ আছে, সেটা আমি জানি না। অফিস থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে, তাই কাজ করছি।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল আজিজ বলেন, ‘অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘কাজ না করে টাকা তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে পরে কথা হবে।’ এ কথা বলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম গত শনিবার (২৭ জুন) নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর টার্মিনাল এলাকা, বিশ্বব্যাংক কর্তৃক নির্মাণাধীন নতুন টার্মিনাল ভবন, মাছ ঘাটের নির্মাণাধীন শেড, খানপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনারের নির্মাণাধীন টার্মিনাল, ড্রেজার বেইজ নারায়ণগঞ্জ, উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়, ডিইপিটিসি এবং ড্রেজার বেইজ হতে শীতলক্ষ্যা নদীর শাহ্ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির সম্মুখভাগ এলাকা হয়ে ধলেশ্বরী নদীর মুক্তারপুর ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত নৌপথ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালীন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, পরিচালক, প্রশাসন ও মানবসম্পদ এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ) মো. সাইফুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী (পুর) এ এইচ মো. ফরহাদ উজ্জামান ও নৌসওপ বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শাহজাহানসহ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের সকল শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুলাউড়া উপজেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন গত শনিবার (২৭ জুন) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুলাউড়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. অরুণাভ দে-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম।
সংগঠনের সদস্য সচিব অজয় দাস ও সুজিত দে-এর যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনের উদ্বোধক ছিলেন জেলা শাখার সভাপতি আশু রঞ্জন দাস। অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।
প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদ মহিম দে। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নকুল চন্দ্র দাস, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, কুলাউড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল সেনগুপ্ত, সাংবাদিক নাজমুল বারী সোহেল প্রমুখ।
ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াগামী নৌপথে ভুল বশত পদ্মার চরে আটকে পড়া ৯৯৯ ফোন পেয়ে লঞ্চে থাকা ৮৫ জন যাত্রী উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের একটি দল।
নৌপুলিশ জানায়, গত শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৮টার দিকে দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট থেকে ৮৫ জন যাত্রী নিয়ে এমভি বোয়ালি নামে একটি লঞ্চ পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে পথিমধ্যে পদ্মা নদীর মাঝখানে কুশাহাটা নামক স্থানে যাত্রীসহ আটকা পরে যায়।
পরে ৯৯৯ মাধ্যমে নৌপুলিশকে সংবাদ দিলে দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া নৌপুলিশ উদ্ধার করে অন্য আরেকটি লঞ্চ এমভি চিশতিয়াতে স্থানান্তর করে।
এসময় নৌপুলিশের সহায়তায় রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নিরাপদে পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটে পৌঁছে দেয় যাত্রীদের। তবে এসময় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ছবি: সংগৃহীত
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ধান কাটার কামলা সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে শহরের জিরো পয়েন্টে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত পরিবারের সদস্যসহ হিন্দু নেতারা অংশ নেয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. বাবুল রবিবাস, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উজ্জল কুমার দাস ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা প্রহল্লাদ বাঁশফোর।
বক্তারা বলেন, গত ৬ জুন আক্কেলপুর উপজেলার কাশিড়া গ্রামের সড়কে ধান কাটার কামলা সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালীর মাথায় গাছের ডাল দিয়ে আঘাত করেন ঢেকুঞ্চা বাউস্ত গ্রামের রেজাউল দেওয়ানের ছেলে হাসান আলী। পরে হাসপাতালে নিলে শ্যামল মারা যায়।
এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে, নিহতের পরিবার নিরাপত্তাসহ ঘটনার জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাসব্যাপী ‘পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস’ ও ‘বৃক্ষরোপণ ২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশগত স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সবুজায়ন বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে ২০টি ভিন্ন প্রজাতির ১০ হাজার চারা বিতরণ ও রোপণ করবে।
রোববার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপউপাচার্য ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. ইয়াকুব আলী; বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম; এবং জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সদস্য সম্পাদক ও কর্মসূচির উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানান, মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে এবার ২০ প্রজাতির ১০,০০০ গাছ বিতরণ ও রোপণ করা হবে। আম, ব্ল্যাককারেন্ট, আমলকী, হরিতকী, পেয়ারা, কাঁঠাল, আটা, সফেদা ও জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হবে।
মন্তব্য