20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন

ড. কামাল হোসেন ও সুব্রত চৌধুরী।

ড. কামালের বিবেকের কাছে সুব্রতদের প্রশ্ন

গণফোরামের বহিষ্কৃত নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, গণফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। আহ্বায়ক কমিটি বহিষ্কারের মতো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

২৭ বছরের দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের কাছে সুব্রত চৌধুরীর প্রশ্ন, গঠনতন্ত্র্র অনুযায়ী এটা তিনি করতে পারেন কি না।

দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়ার প্রতিও তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন গণফোরামের বহিষ্কৃত নির্বাহী সভাপতি। বলেছেন, ‘এটি ছেলেমানুষি কাজ’।

করোনাকালেও শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিশেষ সভা বসে। দলের ভেতর বিভেদের মধ্যে কামাল হোসেন এই পক্ষের সভায় যোগ দেন ভার্চুয়ালি।

গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা
কেন্দ্রীয় কমিটির এই সভায় মোস্তফা মহসিন মণ্টু, সুব্রত চৌধুরীদের বহিষ্কার করা হয়

সভায় দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মণ্টু, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ থেকে আসা আবু সাইয়িদ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, হেলালউদ্দিনকে এই সভায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সুব্রত চৌধুরী, লতিফুল বারী হামিম, খান সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল হাসিব চৌধুরীকে আগেই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল দল থেকে। সেটাও চূড়ান্ত করা হয় এই সভায়।

এই সিদ্ধান্ত মানছেন না বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন সুব্রত। তার দাবি, এটি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বৈধ হয়নি। কারণ, গণফোরামে এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। আহ্বায়ক কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নেই।

গণফোরামে দুটি পক্ষ তৈরি হওয়ার পর গত ৪ মার্চ দলের কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন কামাল হোসেন। সিদ্ধান্ত হয় পরবর্তী কাউন্সিল না হওয়া কামাল হোসেন সভাপতি ও রেজা কিবরিয়া সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন: মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রতদের গণফোরাম থেকে বহিষ্কার

আহ্বায়ক কমিটি হলেও এই সিদ্ধান্তে তো কামাল হোসেনের সমর্থন আছে- এমন প্রশ্নে সুব্রত বলেন, ’২৭ বছরের একটা দল। ওনার বিবেককে প্রশ্ন করেন, ওনি এই কমিটির আহ্বায়ক কি না।

‘এটা সো কল্ড আহ্বায়ক কমিটি। আমরা তো এই কমিটি মানি না। আহ্বায়ক কমিটি তো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার তো কোনো ক্ষমতাই নেই।’
সুব্রতর ক্ষোভ রেজা কিবরিয়ার প্রতি। তিনি বলেন, ‘তিনি গত এক বছর ধরে দলটিকে নিয়ে ছেলেখেলা করছেন। তার সব কটি কাজ গঠনতন্ত্র বিরোধী। আমরা এই তথাকথিত সিদ্ধান্ত মানি না।’

রেজা কিবরিয়াকে ‘সঙ’ আখ্যা দিয়ে সুব্রত বলেন, ‘আমরা গণফোরামের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলাম একটা রাজনৈতিক সঙ কে। ওনি না বোঝেন রাজনীতি, না বোঝেন সংগঠন। ওনি একজন স্বেচ্ছাচারী।’

কী পরিপন্থী কাজ করেছেন- এমন প্রশ্নে বহিষ্কৃত নেতা বলেন, ‘ওনার প্রতিটা কাজই গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী।’

গণফোরামের মণ্টু সাইয়িদদের বিক্ষোভ
জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা চলাকালে মোস্তফা মহসিন মণ্টুর নেতৃত্বে বাইরে অন্য ইস্যুতে দলের একাংশের বিক্ষোভ

মণ্টু-সুব্রতরাও গণফোরামের সভা ডেকেছেন। আগামী ২৬ ডিসেম্বর দলের জাতীয় সম্মেলনের ডাক দেয়া হয়েছে। সেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কামাল হোসেনকেও। যদিও কামাল হোসেন স্পষ্টত তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

সুব্রত বলেন, ‘আমাদের কাছে এটার (বহিষ্কারাদেশ) গুরুত্বই নই। এটা হচ্ছে নাবালকসুলভ আচরণ। আমরা গঠনতন্ত্র মেনে কাজ করার চেষ্টা করছি। দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছি।’

রেজা কিবরিয়ার পক্ষের মোকাব্বির খান অবশ্য পাত্তা দিচ্ছেন না সুব্রতদের বক্তব্যই। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘যারা বহিষ্কার হয়ে থাকে তারা সবসময়ই এমন কথা বলে থাকেন।

আরও পড়ুন: ভেতরে রেজা কিবরিয়া বাইরে মন্টু

‘কেউই তো এটা বলে না যে আমাকে সঠিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা বলবেনই যে আমরা মানি না বা এই সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী। কিন্তু তারা কতখানি গঠনতন্ত্র মেনে কাজ করেন সেটাও তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন।’

মোকাব্বির বলেন, ‘গণফোরাম মানেই ড. কামাল হোসেন। তিনি এটার সভাপতি ছিলেন। তিনি এই দল গঠন করেছেন। ওনার সাথে আমরা সবাই ছিলাম। কামাল হোসেন স্যার আমাদের প্রত্যেকটা সভাতে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, কথা বলেন।’

গত বছরের ২৬ এপ্রিল গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিলে কামাল হোসেন সভাপতি ও রেজা কিবরিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর দলের একদল নেতাকর্মীকে নিয়ে বর্ধিত সভায় করেন মণ্টু। ২৬ ডিসেম্বের দলের কাউন্সিলের ঘোষণা দিয়ে তার নেতৃত্বে ২১০ সদস্যের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য