মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রতদের গণফোরাম থেকে বহিষ্কার

জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরামের কেন্দ্রীয় সভা চলাকালে বাইরে সমাবেশ করেন মোস্তফা মহসিন মণ্টু- আবু সাইয়িদরা

মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রতদের গণফোরাম থেকে বহিষ্কার

রেজা কিবরিয়ার উপস্থিতিতে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন ড. কামাল হোসেন

২৮ বছর পর নিজ দল থেকে বহিষ্কার হলেন গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ থেকে আসা আবু সাইয়িদের বিরুদ্ধেও নেয়া হয়েছে একই ব্যবস্থা।

বহিষ্কৃত বাকি দুই জন হলেন জগলুল হায়দার আফ্রিক, হেলালউদ্দিন।

সুব্রত চৌধুরী, লতিফুল বারী হামিম, খান সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল হাসিব চৌধুরীকে আগেই সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল দল থেকে। সেটাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফলে কামাল হোসেনের দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হলো আট জনের।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া।

রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে গণফোরামে সম্প্রতি বিরোধ দেখা দেয়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে আলাদা কাউন্সিল করার ঘোষণা দেন মণ্টু। আগামী ২৬ ডিসেম্বরের কাউন্সিলে আমন্ত্রণ জানানো হয় কামাল হোসেনকেও।

এই ঘটনায় মণ্টুসহ আট জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠান কামাল হোসেন।

এর মধ্যে রেজা কিবরিয়ার উপস্থিতিতে দলের কমিটির সভায় কামাল হোসেন ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে জানিয়ে দিলেন, তিনি কিবরিয়া পুত্রের (আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া) পাশেই আছেন।

সভা শেষে গণফোরামের সদস্য মোশতাক আহমদ সভার সিদ্ধান্ত পড়ে শুনান।

গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায়
জাতীয় প্রেসক্লাবে রেজা কিবরিয়ার উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সভা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

রেজা কিবরিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলভঙ্গ ও গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগের বিষয়ে পাঠানো শোকজ নোটিসের জবাব না দেয়ায়’ মন্টু, সাইয়িদ, সুব্রত ও জগলুলকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

আগামী ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গণফোরামের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান রেজা।

এই সিদ্ধান্ত সভায় উপস্থিত সদস্যরা হাততালি দিয়ে সমর্থন জানালেও মহানগর গণফোরামের হারুন তালুকদার দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমি এসব সিদ্ধান্ত সমর্থন করি না।’

পরে সভার সভাপতি সাংসদ মোক্তাদির খান বলেন, ‘একজন সমর্থন করেনি। বাকিরা হাততালি দিয়ে এসব সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। এসব সিদ্ধান্ত পাস হলো।’

সভার শুরুতে সভাপতি ড. কামাল হোসেন দলটির জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে কর্মী বাড়ানোর নির্দেশ দেন। বলেন, ‘আপনারা প্রতিটা জেলাতে দলকে সংগঠিত করুন, তরুণ ও নারীদের সংখ্যা বাড়ান। সারাদেশে সভা-সমাবেশ করুন এবং গণফোরামের নীতি-আদর্শ মানুষের কাছে তুলে ধরুন।’

রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘এক দলকে ছেড়ে আরেক দল করা বা অন্য দলে চলে যাওয়া এটা অনেক হয়েছে গণফোরামে। কিন্তু দলকে ছেড়ে দলের ক্ষতি করার চেষ্টা করাটা এটা একটু অন্যরকম ব্যাপার।’

আরও পড়ুন: ভেতরে রেজা কিবরিয়া বাইরে মন্টু

গত বছরের ২৬ এপ্রিল গণফোরামের বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিলো গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে। সে সময় কামাল হোসেন সভাপতি ও রেজা কিবরিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। আর এ নিয়ে দলে তৈরি হয় বিভেদ।

১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বের হয়ে এসে কামাল হোসেন গণফোরাম গঠন করেন। তখন থেকেই মোস্তফা মহসিন মণ্টু দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

গণফোরামের এই বিশেষ সভা চলাকালে মণ্টু সাইয়িদ, সুব্রতদের নেতৃত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়। তবে দলের বিভেদ নিয়ে নেতারা কিছু বলেননি। তারা কথা বলেছেন ধর্ষণ এবং পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য