20201002104319.jpg
ধর্ষণের পৃষ্ঠপোষকতায় নুর গং: ছাত্রলীগ

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল: ছবি সাইফুল ইসলাম

ধর্ষণের পৃষ্ঠপোষকতায় নুর গং: ছাত্রলীগ

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল। দাবি, আইন পরিবর্তনে তাদেরও ভূমিকা রয়েছে। কারণ, ছাত্রলীগের এক নেতা এ বিষয়ে সরকারকে আইনি নোটিস দিয়েছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সংগঠন ধর্ষণে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করে আইন সংশোধন করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোভাযাত্রা করে ছাত্রলীগ। এ সময় এই অভিযোগ করা হয় নুরের বিরুদ্ধে।

ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ এনে নুরের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের ছয় নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। নুর নিজেও এই মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে সহযোগিতার অভিযোগ।

দুই সহকর্মীকে গ্রেফতাররে রাতে রোববার নুর ফেসবুক লাইভে এসে মামলার বাদীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ বলে গালি দেন।

শোভাযাত্রা শেষে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘কিছু ব্যক্তি ও সংগঠন যারা ধর্ষকদের সাপোর্ট দেয়, পৃষ্ঠপোষকতা করে। সেই নুরু গংরা এদেশের মানুষকে মিথ্যা কথা বলে সিমপ্যাথি নেয়ার চেষ্টা করছে, সেটি এখন সবাই জেনে গেছে।’

‘এই নাটকবাজদের এজেন্ডা পাকিস্তানের এজেন্ডা। এই পাকিস্তানিদেরকে কোনোভাবে আমরা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেব না।’

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল
Caption

 

ধর্ষণের সাজা বৃদ্ধিতে ছাত্রলীগের অবদান রয়েছে বলেও শোভাযাত্রায় দাবি করেন সংগঠনে সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ থেকে আমরা ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আমরা আইনি নোটিস দিয়েছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাস করেছেন।’

‘এ জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আমাদের ভাষা নেই। কারণ, তিনিই একমাত্র জনগণের নেত্রী। এটা প্রমাণ দিয়েছেন যে, অন্যায় যদি নিজ দলেরও কেউ করে কেউ পার পাবে না।’  

সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শোভাযাত্রাটি সোয়া এক ঘণ্টা পরে শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাষ্কর্য়ের সামনে এসে শেষ হয়।

ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় নুরুল হক নুরের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের ছয় নেতাকে গ্রেফতারের দাবিতে এখানেই ছয় দিন ধরে অনশন করছেন বাদী।প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

শোভাযাত্রায় যোগ দিতে ঢাকার বিভিন্ন কলেজ ও থানা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মধুর ক্যান্টিনে জড়ো হতে হন।

এ সময় তারা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ধর্ষকদের ঠাই নাই’, ‘শেখ হাসিনার বাংলায় ধর্ষকদের ঠাই নাই’ সহ নানা স্লোগান দিতে থাকে।

শোভযাত্রায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মহানগরের (উত্তর ও দক্ষিণ) নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য