× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The intensity of winter will decrease from Sunday
google_news print-icon

শীতের তীব্রতা কমবে রোববার থেকে

শীতের-তীব্রতা-কমবে-রোববার-থেকে
কনকনে ঠান্ডায় আগুন থেকে উষ্ণতা নিচ্ছে একদল শিশু-কিশোর। রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে ছবিটি তুলেছেন পিয়াস বিশ্বাস
শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের পাঁচ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। মঙ্গলবার থেকে ঢাকায় টানা চারদিন ধরে দিনের তাপমাত্রা রয়েছে ১৪ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

পৌষের শীতে কাঁপছে সারা দেশ। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। জানুয়ারির শুরু থেকে সেটার দাপট বাড়তে থাকে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শীতের এমন তীব্র অনুভুতি রোববার থেকে কমতে শুরু করবে।

গত মঙ্গলবার একদিনে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশের পাঁচ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। জেলাগুলো হলো নওগাঁ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা। আবহাওয়াবিদদের ভাষায় এই অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

এর মধ্যে দেশের সর্বোনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজার ও সীতাকুণ্ডে ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

মঙ্গলবার থেকে দিনের তাপমাত্রায় কিছুটা পরিবর্তন এসেছে রাজধানী ঢাকা ও এর পাশ্ববর্তী এলাকায়। ঢাকায় টানা চারদিন ধরে দিনের তাপমাত্রা রয়েছে ১৪ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। শুক্রবার দুপুর ১২টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯১ ভাগ।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মৃদু শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা হয় ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শৈত্যপ্রবাহে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয় তাপমাত্রা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সারা দেশ এখন কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে, যার ফলে সূর্যের আলোর অনুভূতি পাওয়া যাচ্ছে না, আবার দেখাও যাচ্ছে না।’

রোববার থেকে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গতকাল কুয়াশা কাটতে প্রায় ৪টা বেজে গিয়েছিল। আজ (শুক্রবার) ৩টার পর পর কুয়াশা কেটে গেছে। কাল আর একটু এগিয়ে আসবে। এভাবে আশা করি রোববারের মধ্যে তীব্র শীতের অনুভূতি কমে যাবে।’

নদী, পাহাড় ও পাশ্ববর্তী দেশ থেকে কুয়াশার কারণে দেশের সব জায়গায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার পরিবর্তন হয়েছে। রাতে তাপমাত্রা কমতে থাকলেও দিনে কুয়ায়াশার কারণে সেটি বাড়তে পারে না। যার ফলে দেশের সব অঞ্চলেই তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির ঘরে আটকে আছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং এটি দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ার কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র শীতের অনুভূতি থাকতে পারে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
3 new upazilas and 1 thana got approval

অনুমোদন পেল নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা

অনুমোদন পেল নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকারের বৈঠক অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ৩টি নতুন উপজেলা ও ১টি নতুন থানা গঠনের অনুমোদন দিয়েছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’। বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের ১২১তম বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন যে, প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং জনসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলো গঠন করা হয়েছে।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরাংশের ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা। চট্টগ্রাম মহানগরীর পার্শ্ববর্তী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নয়নের লক্ষ্যে হাটহাজারী থানাকে দ্বিখণ্ডিত করে নতুন ‘হালদা’ থানা গঠনের প্রস্তাবও বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে।

উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠকে রাজউকের ‘পূর্বাচল নতুন শহর’ প্রকল্পের ভৌগোলিক বিভক্তি দূর করতে প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলো স্থায়ীভাবে ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পটির প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা অনেক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এই নতুন উপজেলা ও থানাগুলো গঠনের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাও সহজ হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসব প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা নিকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূরণ হলো।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cyber ​​security is now more important than border guarding Information Minister

সীমান্ত পাহারার চেয়েও এখন সাইবার নিরাপত্তা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

সীমান্ত পাহারার চেয়েও এখন সাইবার নিরাপত্তা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তার সনাতন ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সময়ে একটি বিশাল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সিন্দুক পাহারা দেওয়ার চেয়ে তার কম্পিউটারকে হ্যাকারমুক্ত রাখা এবং দীর্ঘ সীমান্ত পাহারার চেয়েও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) খিলগাঁওস্থ আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে বাহিনীর মিডিয়া সেল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল চুরির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, “যুদ্ধ কেবলই সমরাস্ত্রের বিষয় নয়, যোগাযোগ কেবলই মানুষের কণ্ঠস্বর বিনিময় করা নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল চুরির ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে- ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে কীভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।” তিনি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য বাহিনীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। মন্ত্রী মনে করেন, ডিজিটাল লিডারশিপ গ্রহণ করার এই মানসিকতা বাহিনীকে আরও সময়োপযোগী করে তুলবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এএম সাজ্জাদ মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সময়ের স্পন্দনে, আকাঙ্ক্ষা পূরণে’। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে জ্ঞান ও মনোজগৎকে স্থির রাখার কোনো অবকাশ নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় জ্ঞান ও মনোজগতকে স্থিতিশীল রাখার কোনো সুযোগ নেই। প্রতি মুহূর্তে আমাদের চিন্তার দিক থেকে গতিশীল থাকতে হবে এবং চলমান আপগ্রেডিং সিস্টেমের মধ্যে থাকতে হবে। তা না হলে আজকে যিনি আধুনিক, আগামীকালই তিনি অচল হয়ে যেতে পারেন।”

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে এই ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। তিনি এই উদ্ভাবনী উদ্যোগকে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের জন্য একটি শিক্ষণীয় মডেল হিসেবে উপস্থাপন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদও তাঁর বক্তব্যে বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি আনসার বাহিনীর ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 senior police officers retired

অবসরে গেলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩ কর্মকর্তা

অবসরে গেলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩ কর্মকর্তা ফাইল ছবি

সরকারি চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় পুলিশের দুই অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) এবং একজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) অবসরে গেছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ছিল তাদের শেষ কর্মদিবস।
অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- পুলিশ সদর দপ্তরের ডেভেলপমেন্ট শাখার অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ, ঢাকা রেঞ্জের প্রধান রেজাউল করিম মল্লিক (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এবং ডিআইজি মো. আবুল খায়ের।
অবসরে যাওয়া অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ ডেভেলপমেন্ট শাখার আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ছিলেন।
জানা গেছে, চলতি মাসের ৪ জুন রেজাউল করিম মল্লিক অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। ওই সময় তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির দায়িত্বে ছিলেন। একই পদে থেকে তাকে অবসরে যেতে হলো। গত ২৮ জুন পুলিশের চার অতিরিক্ত আইজিপিকে বিভিন্ন দপ্তরে পদায়ন করা হলেও রেজাউল করিম মল্লিককে কোথাও পদায়ন করা হয়নি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হওয়ার আগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ছিলেন। গত বছরের ১২ এপ্রিল রেজাউল করিম মল্লিককে ডিবিপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগে দায়িত্ব পালনের সময় রেজাউল করিম মল্লিক রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি-মন্ত্রী, আমলা ও দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে ভূমিকা রাখেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি বঞ্চনার শিকার হন বলেও জানা যায়।
অন্যদিকে ডিআইজি আবুল খায়ের ট্রাফিক অ্যান্ড ড্রাইভিং স্কুলের (টিডিএস) ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তিন কর্মকর্তার শেষ কর্মদিবসে পুলিশ সদর দপ্তরের অফিসার্স ক্যাফেটেরিয়ায় বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
With respect and love a final farewell to the legendary artist Mustafa Manowar

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ বিদায়

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ বিদায় ছবি: সংগৃহীত

অশ্রু, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হলো দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারকে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।

এর আগে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ বিটিভি প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম জানাজার নামাজ।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক বিশিষ্টজন।

পরে বেলা ১১টার দিকে মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কফিন রাখা হলে একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, ত্রপা মজুমদার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, শারমিন এস মুরশীদ, কেরামত মাওলাসহ অনেকে।

শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গোলাম মোস্তফা একাডেমি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, প্রাচ্যনাট, বটতলা, দূরন্ত স্টেশন, বঙ্গরঙ্গ নাট্যদলসহ অসংখ্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই গুণী মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজার জন্য। এরপর প্রিয় কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

গত সোমবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না, ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শিল্প ও সংস্কৃতিকে মুক্তির সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনের নির্দেশ অমান্য করে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার কক্ষে সাহসী ভূমিকা রাখেন তিনি।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী বাংলাদেশে পাপেট থিয়েটারকে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি শিশুদের জন্য অসংখ্য কালজয়ী টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Awami League will not be able to run the program under any new name Information Advisor

আওয়ামী লীগ কোনো নতুন নামেও কর্মসূচি চালাতে পারবে না: তথ্য উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ কোনো নতুন নামেও কর্মসূচি চালাতে পারবে না: তথ্য উপদেষ্টা ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ আছে; ততদিন রিফাইন্ড বা তৃণমূল কোনো নামেই দলটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা একেবারেই অনুচিত। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ভারতে অবস্থান করা ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করে এবং সেসব বক্তব্যের অনুবাদ প্রচার করেছে বাংলাদেশের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। তাই, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বক্তব্য প্রচারে কী ব্যবস্থা নেবে সরকার?

সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষেধ এবং এ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনা দেশের গণমাধ্যমগুলোকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রিফাইন্ড কিংবা তৃণমূল কোনো নামেই দলটি কার্যক্রম চালাতে পারবে না।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সুদৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণ এবং নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এতে অন্য কোনো দেশের ‘কনসার্ন’ থাকার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের সংকট অত্যন্ত গভীর ও মানবিক। বর্ষায় নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র অভাব উত্তরাঞ্চলের মানুষকে চরম সংকটে ফেলে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণ করা। এই কাজে চীনের বিপুল দক্ষতা (এক্সপার্টিজ) এবং প্রয়োজনীয় ফান্ড রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রকল্পটি নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম দেশ হিসেবে জনগণ ও তার নিজস্ব স্বার্থে পদক্ষেপ নেবে। এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রকাশের অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে। আমাদের এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে অন্য কোনো দেশের কনসার্ন হওয়ার কারণ দেখি না। ভারত বা অন্য যেকোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই এনগেজ করবে। যদি কারো কোনো সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা কনসার্ন থাকেও, বাংলাদেশ তা মাথায় রাখবে। এসব সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো আপস না করেই কাজ করবে।

বিগত আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে শুধু একটি নয়, একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। আমরা যেকোনো দেশের সঙ্গে পারস্পরিক ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করেই কাজ করব।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, এই প্রকল্প বা ব্যারাজ নির্মাণের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করা ছেড়ে দিচ্ছে। আমরা তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তবে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ নিজেদের স্বার্থেই দ্রুত করতে হবে।

ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mustafa Monwar was a unique artist of multifaceted talents Minister of Information

মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য শিল্পী: তথ্যমন্ত্রী


মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য শিল্পী: তথ্যমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন দেশের বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য শিল্পী এবং তার অবদান শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভি প্রাঙ্গণে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি মরহুমের প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশের বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এবং অন্তর্গতভাবেই একজন খাঁটি শিল্পী। দেশের সকল প্রতিভাবান মানুষের তালিকা করা হলে মুস্তাফা মনোয়ার প্রথম সারির অনন্য মানুষ হিসেবে গণ্য হবেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করে তার জান্নাত প্রার্থনা করেন।

মুস্তাফা মনোয়ারের বৈচিত্র্যময় কর্মজীবনের ওপর আলোকপাত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের কৈশোর থেকেই আমরা তার বহুমুখী প্রতিভা ও কাজের সাথে পরিচিত। তিনি শিল্পকলা ও সাহিত্যের জগতের বহু ক্ষেত্রে বিচরণ করেছেন। নিজে যেমন মেধার অবিরাম চর্চা করেছেন, ঠিক তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার যখনই যেখানে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই তার কর্মের আন্তরিকতা, দক্ষতা, যোগ্যতা এবং সর্বোপরি এক অনন্য মননশীলতার গভীর ছাপ রেখে গেছেন।’

মুস্তাফা মনোয়ারের স্মৃতিবিজড়িত কর্মস্থল বিটিভি প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে পারাকে পরম সৌভাগ্য উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বিটিভি পরিবার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে মরহুমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করেন।

বিটিভি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই জানাজার নামাজে বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, বিটিভির কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং মরহুমের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা অংশ নেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A 77 percent increase in the number of people killed and 33 injured in mob violence in June
এমএসএফ প্রতিবেদন

জুনে মব সহিংসতায় নিহত ৩৩, আহত বেড়েছে ৭৭ শতাংশ

জুনে মব সহিংসতায় নিহত ৩৩, আহত বেড়েছে ৭৭ শতাংশ ছবি: সংগৃহীত
# দীর্ঘ হচ্ছে সহিংসতার শিকার মানুষের তালিকা # অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে পুশ ইনের চেষ্টা # কারা হেফাজতে মৃত্যু ৯ # গভীর হচ্ছে নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের পরিবেশ

দেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বা মব জাস্টিস কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। জুন মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং ১২৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর আগের মাসে এই ধরনের সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২ এবং আহত হয়েছিলেন ৭১ জন। সেই হিসাবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মব সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও আহতের হার আশঙ্কাজনকভাবে প্রায় ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে এমএসএফ।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনার সংখ্যা তুলে ধরে সংগঠনটি বলেছে, জুন মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতির দিকে গেছে এবং অধিকতর অস্থিতিশীল রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, ব্যাপক গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার এবং সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি—এসব সূচকে উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।

এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩০৩ জন আহত এবং দলীয় সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন। সংগঠনটি বলছে, রাজনৈতিক সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দলীয় ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের হামলা, উভয় ক্ষেত্রেই হতাহতের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হওয়া থেকে বোঝা যায়, রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই সহিংস ও অনিরাপদ হয়ে উঠছে।

এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় নিহত হয়েছে তিনজন। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

এ মাসে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হামলা ও হুমকির ঘটনা ঘটেছে ১৯টি। আইনি হয়রানির শিকার হয়েছেন ৬ জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩ জন অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক।

এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে নদী, সড়ক, রেললাইন ও ফসলি জমিতে পড়ে থাকা অবস্থায় ৬৫টি অজ্ঞাত ও নামীয় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ৫৩।

এমএসএফের সংগৃহীত তথ্য বলছে, জুনে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে ৬ জন নিহত এবং ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। জুনে ভারত থেকে ৪২৩ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়। যার ফলে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের জীবন যাপন করছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে সহিংসতা কিছু ক্ষেত্রে কমলেও ভারত থেকে পুশ ইনের চেষ্টা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা একটি বড় মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জুন মাসে ৩৪৮ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুনে ৯ জন মৃত ও ২ জন জীবিতসহ মোট ১১ নবজাতককে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এই মাসে মাদক কারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে