× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Rubels body is in the village house with no wife
hear-news
player
print-icon

কোনো স্ত্রীর কাছেই নয়, গ্রামের বাড়িতে রুবেলের মরদেহ

কোনো-স্ত্রীর-কাছেই-নয়-গ্রামের-বাড়িতে-রুবেলের-মরদেহ
উত্তরায় গাড়িতে ভায়াডাক্টের অংশ বা বক্স গার্ডার পড়ে নিহত রুবেল। ছবি: নিউজবাংলা
ময়নাতদন্ত করার পর মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দেয় হাসপাতালে। সেখানে দুর্ঘটনায় নিহত আইয়ুব আলী হোসেন রুবেলের মরদেহ নিতে একে একে হাজির হন তার স্ত্রী দাবিদার সাত নারী।

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট- বিআরটি প্রকল্পের ক্রেন থেকে ভায়াডাক্টের অংশ বা বক্স গার্ডার প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে নিহত ৫ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টায় তিনটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ মরদেহ নিয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গ ত্যাগ করে।

অবশ্য ময়নাতদন্ত করার পর মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে কিছুটা জটিলতা দেখা দেয় হাসপাতালে। সেখানে দুর্ঘটনায় নিহত আইয়ুব আলী হোসেন রুবেলের মরদেহ নিতে একে একে হাজির হন তার স্ত্রী দাবিদার সাত নারী।

তবে শেষ পর্যন্ত তাদের কাউকেই রুবেলের মরদেহ দেয়া হয়নি। সমঝোতার ভিত্তিতেই শেষপর্যন্ত মরদেহ বুঝে দেয়া হয় রুবেলের ভাই জিয়ার কাছে। মরদেহ এরপর পাঠানো হয় তার গ্রামের বাড়িতে।

সোমবারের দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া রুবেলের ছেলে হৃদয়ের খালাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা রুবেলের মরদেহ বুঝে নিয়েছেন। মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি মেহেরপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তাকে সমাহিত করা হবে।’

তার আগে এক এক করে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল ছেড়ে যায়।

প্রথমে নিহত ঝর্না আক্তার ও তার দুই সন্তান জান্নাতুল ও জাকারিয়ার মরদেহ নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স বেরিয়ে যায়। এরপর ফাহিমা আক্তারের মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স বের হয়ে যায়। দুটি অ্যাম্বুলেন্সই জামালপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

সবশেষে বের হয় আইয়ুব আলী হোসেন রুবেলের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স।

নিহত ঝর্ণা ও ফাহিমার ভাই মনির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি দুই বোন ও বোনের দুই সন্তানের মরদেহ বুঝে পেয়েছি। তাদেরকে জামালপুরে দাফন করা হবে। অ্যাম্বুলেন্স তাদেরকে নিয়ে জামালপুর রওনা দিয়েছে।’

রুবেলের একাধিক স্ত্রীর বিষয়ে জানতে চাইলে হৃদয়ের খালাতো ভাই জাহাঙ্গীর বলেন, ‘যদি কেউ এমন থাকে, তাহলে উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এখন হৃদয় তার বাবা রুবেলকে তাদের গ্রামের মেহেরপুর নিয়ে যাচ্ছে।’

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোহসীন বলেন, ‘বিকেলে পাঁচজনের লাশই হস্তান্তর হয়েছে। রুবেলে লাশ তার ভাই জিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাকে গ্রামের বাড়ি মেহেরপুরে নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
গার্ডার দুর্ঘটনা: স্ত্রী-সন্তান হারানোর শোক কীভাবে সইবেন জাহিদ
‘উত্তরবঙ্গের ট্রেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বুধবার’
কর্তৃপক্ষের অবহেলায় মৃত্যু, রিট করতে বলল হাইকোর্ট
বিআরটি প্রকল্পের কাজ বন্ধের নির্দেশ
বক্স গার্ডার দুর্ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Transferred 16 employees due to doctors harassment in own hospital

নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকের হয়রানিতে ১৬ কর্মচারীকে বদলি

নিজ হাসপাতালে চিকিৎসকের হয়রানিতে ১৬ কর্মচারীকে বদলি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি মেইলে দুটি পত্র পেয়েছি। তাতে বলা হয়েছে, এই বদলি জনস্বার্থে করা হয়েছে।’

মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সম্প্রতি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন ওই হাসপাতালেরই এক চিকিৎসক। পরে এ হাসপাতালে কর্মচারীদের অব্যবস্থানা ও নৈরাজ্য বন্ধে আন্দোলন শুরু করেন চিকিৎসকরা।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সরকারি ওই হাসপাতালটির ১৬ কর্মচারীকে একযোগে বদলীর আদেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বদলীর আদেশসহ এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, আগামী সাত কর্মদিবসে কর্মচারীদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরীফুল আলম।

তিনি বলেন, ‘আমি মেইলে দুটি পত্র পেয়েছি। তাতে বলা হয়েছে, এই বদলী জনস্বার্থে করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে তাদের বদলী করা হয়েছে।’

বদলীর আদেশ পাওয়া কর্মচারীরা হলেন- অফিস সহায়ক সিরাজুল ইসলাম, বিউটি আক্তার, দুলাল বসুনিয়া, জানুরাম সরকার, নুরুজ্জামন, রইস উদ্দিন, মহিত আল রশিদ উদয়, আল আমিন ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, মোরশেদ হাবীব, শাহজাদা মিয়া ও আবু জাফর।

এ ছাড়া নিরাপত্তা প্রহরী রহমত আলী, পরিচ্ছন্নকর্মী হাসিনা বেগম, ওয়ার্ড মাস্টার আবুল হাসান, স্টোনো টাইপিষ্ট আব্দুল আলীমকেও অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থো সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক এবিএম রাশেদুল আমীর তার মাকে চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে ভর্তির জন্য অতিরিক্ত ২৫০ টাকা দাবি করা ছাড়াও বকশিস হিসেবে আরও ২০০ টাকা দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন হাসপাতালের পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন রাশেদুল আমীর।

সর্বশেষ গত সোমবার হাসপাতাল চত্বরে মানববন্ধন করেন চিকিৎসরা।

আরও পড়ুন:
কলেজছাত্রীকে ‘যৌন হয়রানি’: অভিযোগ তদন্তে কমিটি
নিজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়ে বিস্মিত চিকিৎসক
যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক আটক
দাঁতের ব্যথায় পল্লি চিকিৎসকের কাছে গিয়ে শিশুর মৃত্যু
‘অশালীন আচরণ করায়’ শিক্ষককে ক্লাসে যেতে মানা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Boat sinking One after another the dead bodies are found the death toll has increased to 68

নৌকাডুবি: একের পর এক মিলছে দেহ, মৃত বেড়ে ৬৮

নৌকাডুবি: একের পর এক মিলছে দেহ, মৃত বেড়ে ৬৮
পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক শেখ মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লোক ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার তৃতীয় দিনে আরও ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এ নিয়ে তিন দিনে পাওয়া গেল ৬৮ মরদেহ।

এ তথ্য নিশ্চিত করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায় জানান, এখনও অন্তত ৪ জন নিখোঁজ আছে।

তিনি জানান, দিনাজপুর সদর থেকে ১ জন এবং বোদার বিভিন্ন জায়গা, দেবীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকা থেকে ১৭টি মরদেহ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার ৬৮ মরদেহ, ৪ জন নিখোঁজের তথ্য এবং ঘটনার পরপরই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা ১৫ জন হিসাবে এখন পর্যন্ত নৌকাটিতে ৮৭ জন যাত্রী ছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে থানা পুলিশ ও স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানায়, নৌকা উল্টে যাওয়ার পর অনেকেই সাঁতরে তীরে উঠে চলে যায়। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন ধারণা করছে, নৌকায় একশরও বেশি যাত্রী উঠেছিল।

এই দুর্ঘটনার জন্য অসচেতনভাবে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠাকেই দায়ী করছেন নৌকার মাঝি ডিপজল ও ঘাট ইজারাদার আব্দুল জব্বারসহ স্থানীয় প্রশাসন।

গত রোববার বেলা আড়াইটার দিকে আউলিয়া ঘাট থেকে বদেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার জন্য একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মানুষ হুড়োহুড়ি করে উঠতে থাকেন। সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

নৌকাডুবি: একের পর এক মিলছে দেহ, মৃত বেড়ে ৬৮

ভিডিওতে দেখা যায়, ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ছিল। এ সময় অনেকেই নৌকাটিকে যেতে নিষেধ করছিলেন এবং কেউ কেউ ‘ডুবে যাবে’ বলেও চিৎকার করছিলেন। তবে সে চিৎকার আটকাতে পারেনি নৌকাটিকে।

বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। সেদিন দুপুরের দিকে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ইঞ্জিনচালিত ওই নৌকায় করে নদী পার হচ্ছিলেন।

বোদা থাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিডিও দেখলে বুঝতে পারবেন যে একজন চিৎকার করতেছে, সেই লোকটি আমাদের একজন এসআই। আমরা অনেক চেষ্টা করেও অতিরিক্ত লোক ওঠা বন্ধ করতে পারিনি। বেশি লোক ওঠায় এই দুর্ঘটনা।’

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক শেখ মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লোক ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকাডুবির ঘটনায় পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীপংকর রায়কে প্রধান করে একটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
পূজার পোশাক কিনতে জমানো টাকায় হচ্ছে সন্তানের সৎকার
করতোয়ায় নৌকাডুবি: দুই দিনে উদ্ধার ৫০ মরদেহ
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩
নৌকাডুবি: করতোয়ার পাড়ে ৫ নিখোঁজের অপেক্ষায় ধীরেন
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Ignoring the obstacles the pilgrims got into the boat like a current
করতোয়ায় নৌকাডুবি:

বাধা উপেক্ষা করে স্রোতের মতো নৌকায় উঠেছিলেন পুণ্যার্থীরা

বাধা উপেক্ষা করে স্রোতের মতো নৌকায় উঠেছিলেন পুণ্যার্থীরা
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী নিরঞ্জন রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকাটিতে অনেক লোক উঠতেছিল, কেউ কারো কথা শুনতেছিল না। অনেকে বউ-বাচ্চা নিয়ে উঠতেছিল। একজন আরেকজনকে নিষেধ করতে করতে বহু লোক ওঠে। কাইও (কেউ) কারো কথা শোনেনাই। যখন নৌকাটা ছাড়ি দিছিল, তখন ডোবা ডোবা ভাব। সবাই ভয় পাইতেছিল। কিছুদূর যাওয়ার পর পানির স্রোত শুরু হয়। ঢুলতে ঢুলতে নৌকাটা ডুবে যায়।’

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬১ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এই দুর্ঘটনায় কেউ হারিয়েছেন স্ত্রী-সন্তান, কেউ বাবা-মা; কেউ বা হারিয়েছেন পুরো পরিবার।

স্থানীয়রা বলছেন, এর আগে কোনো দুর্ঘটনায় একসঙ্গে এত লাশ দেখেননি এই জনপদের মানুষ। সারি সারি এমন লাশে পঞ্চগড়ের আকাশ ভারী হয়ে উঠছে।

তবে, এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য অসচেতনভাবে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠাকেই দায়ী করছেন নৌকার মাঝি ডিপজল ও ঘাট ইজারাদার আব্দুল জব্বারসহ স্থানীয় প্রশাসন।

গত রোববার বেলা আড়াইটার দিকে আউলিয়া ঘাট থেকে বদেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার জন্য একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মানুষ হুড়োহুড়ি করে উঠতে থাকেন। সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় নৌকাটিতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ছিল। এ সময় অনেকেই নৌকাটিকে যেতে নিষেধ করছিলেন এবং কেউ কেউ ‘ডুবে যাবে’ বলেও চিৎকার করছিলেন। তবে সে চিৎকার আটকাতে পারেনি নৌকাটিকে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর অপর পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। সেদিন দুপুরের দিকে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মালম্বীরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদী পার হচ্ছিলেন।

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে জানান, সেদিন নির্দিষ্ট ঘাট থেকে ২০০ গজ ভাটিতে নৌকায় যাত্রী তুলছিলেন মাঝি ডিপজল। সেসময় ঘাটে পুলিশ সদস্য ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উপস্থিতি ছিলেন। হ্যান্ড মাইকে বার বার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পারাপারে নিষেধ করছিলেন তারা। পাড়ে থাকা অন্য লোকজনও তাদের নিষেধ করেন।

বাধা উপেক্ষা করে স্রোতের মতো নৌকায় উঠেছিলেন পুণ্যার্থীরা

নৌকাটিতে যখন অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হচ্ছিল, তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত যাত্রীদের নৌকা থেকে নামতে বলা হচ্ছিল; কিন্তু সে নির্দেশনা কানে তোলেননি কেউ। কানায় কানায় পূর্ণ যাত্রীসহ ঝুঁকি নিয়েই নৌকাটি ছাড়েন মাঝি।

ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী নিরঞ্জন রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকাটা যখন মন্দিরের দিকে যাবে, তখন অনেক লোক উঠতেছিল, কেউ কারো কথা শুনতেছিল না। অনেকে বউ-বাচ্চা নিয়ে উঠতেছিল। একজন আরেকজনকে নিষেধ করতে করতে বহু লোক ওঠে। কাইও (কেউ) কারো কথা শোনে নাই।’

তার বর্ণনায়, ‘যখন নৌকাটা ছাড়ি দিছিল, তখন ডোবা ডোবা ভাব। সবাই ভয় পাইতেছিল। কিছুদূর যাওয়ার পর পানির স্রোত শুরু হয়। ঢুলতে ঢুলতে নৌকাটা ডুবে যায়। কেউ লাফ দিয়ে পানিত নামছে। কেউ চিৎকার দিছে, আর বলছে বাঁচাও বাঁচাও। আমরা কয়জনকে উদ্ধারও করছি।’

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামন হাট ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহমুদুল হক। ওই সময় নদীতে মাছ ধরছিলেন তিনি।

নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আউলিয়া ঘাট থেকে বদেশ্বরী মন্দিরে যাওযার নৌকায় এত লোক ছিল যে, দাঁড়াবার জায়গা ছিল না। তখন পুলিশ বার বার নিষেধ করছে। ওখানে যারা ছিল তারাও নিষেধ করছে। কেউ কথা শোনে নাই। পুলিশের কথা শুনলে এত বড় ঘটনা ঘটত না।’

তিনি যোগ করেন, ‘একবার যায়া তো আবার আসি লোক নিতে পারিল হয় নৌকাটা। একবারে এত লোক ওঠার দরকার কী আছিল।’

রায়হান নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘যখন নৌকাটি ছাড়ে, তখন তো বহু লোক ছিল। সবাই আতংকে ছিল। হঠাৎ মাঝ নদীতে গিয়ে নৌকার যাত্রীরা চিল্লানো শুরু করে। এ সময় নৌকায় থাকা অনেকে যাত্রীদের নড়াচড়া না করতে বলেন। পর মুহূর্তেই নৌকাটি তলিয়ে যেতে শুরু করে।’

তার ভাষ্য, ‘ওই সময় অনেকে পাড়ে থাকা ছোট নৌকায় করে ১২ জনকে জীবিত এবং ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করে। মহিলা মানুষ সাঁতার না জানায় বেশি মারা গেছে, ছোট ছোট বাচ্চারাও মারা গেছে।

‘আমি জীবনে এতগুলো লোক মরা দেখি নাই, রাইতোত ঘুমাইতে পারি নাই’, যোগ করেন তিনি।

ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিলেন সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, তবে ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণক্ষমতার হলেও নৌকাটিতে যাত্রী ছিল শতাধিক।

দুর্ঘটনাকবলিত নৌকার দৈর্ঘ্য ৩৪ হাত, প্রস্থ্য ১১ হাত। নৌকায় প্রতি এক হাত দূরত্বে একজন করে থাকলেও ৩৪ জন যাত্রী বহন করবে নৌকাটি। একটু চাপাচাপি করে যাত্রী তুললেও সংখ্যাটি ৫০ এর বেশি হওয়ার কথা নয়। সেখানে শতাধিক যাত্রী উঠে কীভাবে? প্রশ্নের জবাবে ইজারাদার জব্বার আলী বলেন, ‘প্রশাসনের লোকজন দেখেছে। তাদের নিষেধ উপেক্ষা করে নৌকা ছাড়ার সময় হুরমুর করে যাত্রীরা নৌকায় উঠে পড়ে।’

বাধা উপেক্ষা করে স্রোতের মতো নৌকায় উঠেছিলেন পুণ্যার্থীরা

বেঁচে ফেরা নৌকার মাঝি ডিপজলের বরাতে তিনি আরও বলেন, ‘কিছুদূর যাওয়ার পর নৌকাটি টলমল করলে আবার পেছনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন মাঝি। সে সময় যাত্রীরা ভয়ে বেশি নড়াচড়া করলে কাত হয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।’

জেলা পরিষদ থেকে এক বছরের জন্য আব্দুল জব্বারের নামে ইজারা দেয়া হয়েছে খেয়া ঘাটটি। অংশীদার রয়েছেন একাধিক। ঘাটে মোট চারটি নৌকা রয়েছে। দুইটি ঠেলা নৌকা ও দুইটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত। পারাপারে যাত্রী প্রতি ১০ টাকা করে নেয়া হয়।

আব্দুল জব্বার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অসাবধানতা ও অসচেতনার জন্য এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ ঘাটে নিরাপত্তা জোরদার ছিল না, এমনটাও দাবি করেছেন তিনি।

বেশি লাভের আশায় ইজারাদার ঘাটে যাত্রীর তুলনায় পর্যাপ্ত নৌকা ব্যবহার করেননি দাবি করে স্থানীয় বাবুল হোসেন। বলেন, ‘পূজার কারণে লোকজনের চাপ অনেক। তারা চারটি নৌকা ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু একটি ছোট নৌকা ও বড় নৌকা দিয়েই দিন পার করেন তারা। যাত্রীর তুলনায় নৌকা বেশি ছিল না। তাই সময়ের কথা চিন্তা করে মানুষ ঝুঁকি নিয়েছে। এজন্য এই সর্বনাশ হয়েছে।’

বোদা থাকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই ঘটটি ইজারা দেয়া। একটি ছোট আরেকটি বড় নৌকা ছিল। কিন্তু নৌকাটি আগের ঘাটে ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি ভিডিও দেখলে বুঝতে পারবেন যে একজন চিৎকার করতেছে, সেই লোকটি আমাদের একজন এসআই। আমরা অনেক চেষ্টা করেও অতিরিক্ত লোক ওঠা বন্ধ করতে পারিনি। বেশি লোক ওঠায় এই দুর্ঘটনা।’

ঘটনাস্থলে থাকা মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু আনসার মো রেজাউল করিম শামিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকাটা মূল ঘাট থেকে ২০০ মিটার উজানে দাঁড়াইছে। আমরা মূল ঘাটে ছিলাম, প্রশাসনও ছিল। সেখানে লোক তুলছে, মানুষজন হুড়াহুড়ি করে উঠছে। আমরা দূর থেকে চিল্লাইছি লোক বেশি না উঠতে, কিন্তু শোনে নাই। তাছাড়া মাঝ নদী থেকে নৌকা ফিরতেছিল, কিন্তু তখন নৌকা ঘোরানোর সময় পানি ওঠে ডুবে গেছে।’

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক শেখ মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লোক ছিল। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকাডুবির ঘটনায় পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীপংকর রায়কে প্রধান করে একটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে মৃত বেড়ে ৪৩
নৌকাডুবি: করতোয়ার পাড়ে ৫ নিখোঁজের অপেক্ষায় ধীরেন
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Boat sinking in Kartoa The queue of dead bodies is increasing

করতোয়ায় নৌকাডুবি: লাশের সারি বাড়ছেই

করতোয়ায় নৌকাডুবি: লাশের সারি বাড়ছেই
দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মন্জিল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল এবং নদীর পানি কমার কারণে মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হবে।’

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় মরদেহ বেড়েই চলছে। উদ্ধার কার্যক্রমের তৃতীয় দিনের শুরুতে আরও ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ নিয়ে উদ্ধার হওয়া মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৬ জনে।

নৌকাডুবিতে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে তৃতীয় দিনের মতো উদ্ধার কাজ শুরু হয়।

দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মন্জিল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সকাল ৯টা পর্যন্ত ৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল এবং নদীর পানি কমার কারণে মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হবে।’

মরদেহ মাড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে পরিবারের কাছে হস্তন্তর করা হবে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সহযোগীতা করছেন স্থানীয়রাও।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত মৃত, নিখোঁজ ও হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিদের মিলিয়ে হিসাব করলে ৯৮ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। ওসি জানিয়েছেন, এর বাইরেও অনেক যাত্রী সাঁতরে সে সময় তীরে উঠেছিলেন। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে নৌকাটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর অপর পাড়ে বদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া পূজা উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। রোববার দুপুরের দিকে মূলত ওই ধর্মসভায় যোগ দিতে সনাতন ধর্মালম্বীরা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদী পার হচ্ছিলেন।

ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিলেন সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, তবে ৫০ থেকে ৬০ জনের ধারণক্ষমতার হলেও নৌকাটিতে যাত্রী ছিল শতাধিক। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে নদীর মাঝপথে নৌকাটি ডুবে যায়। অনেকে সাঁতার জানায় তীরে আসতে পারলেও সাঁতার না জানা বিশেষ করে নারী ও শিশুরা পানিতে ডুবে যায়। মনে করা হচ্ছে, স্রোতের কারণে অনেক মরদেহ পানিতে ভেসে যেতে পারে।

নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী মাড়েয়া বামনপাড়া এলাকার সুবাস চন্দ্র রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমিও নৌকায় ছিলাম। নৌকায় শতাধিক যাত্রী ছিল। আমরা নৌকায় ওঠার পরপরই নৌকায় পানি ঢুকতে শুরু করে। এ সময় মানুষজন নৌকার মধ্যেই হুড়োহুড়ি শুরু করেন। পরে যে পাশেই যাচ্ছিলাম, সে পাশেই নৌকায় পানি ঢুকছিল।

‘আমরা পাঁচজন বন্ধু ছিলাম। কোনো মতে সাঁতার কেটে প্রাণে বেঁচে যাই। অন্য যাত্রীরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে বাঁচার আকুতি করছিল। তবে এত মানুষ মারা যাবে, তা বুঝতে পারিনি।’

এই প্রাণহানির জন্য জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলামও অতিরিক্ত যাত্রী বহনকে দায়ী করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ঘটনাস্থলে মারওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পুলিশ ছিল। তারা সবাই ওই নৌকায় এত লোক উঠতে নিষেধ করেছিলেন।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: করতোয়ার পাড়ে ৫ নিখোঁজের অপেক্ষায় ধীরেন
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jsobala saved her husband by despising death

মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা

মরণ তুচ্ছ করে স্বামীকে বাঁচালেন যশবালা
যশবালা জানান, নৌকার সবাই নদীতে পড়ে যায়। তিনি তখন সাঁতরে গিয়ে ছোট বাঁশের খুঁটি আঁকড়ে ধরেন ও স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। কিছু দূরে দেখেন তার স্বামী শুকাতু স্রোতে ভেসে যাচ্ছেন আর খাবি খাচ্ছেন। 

নৌকা ডুবে যাওয়ার পর অন্য অনেকের সঙ্গে নিজের জীবনও সংকটে। সাঁতার জানা থাকায় কিছুটা দূরে গিয়ে অবলম্বন হিসেবে পেয়ে যান বাঁশের একটি খুঁটি। ওদিকে অসুস্থ স্বামী সাঁতার জানেন না। তীব্র স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাকে।

এই পর্যায়ে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে ছেড়ে দেন বাঁশের খুঁটি। এগিয়ে যান স্বামীকে বাঁচাতে। এক পর্যায়ে তাকে ধরে ফেলেন তিনি। আর প্রাণে বেঁচে যান দুজনই।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার, পঞ্চগড়ে। মহালয়ার পূজায় অংশ নিতে নৌকায় করে অন্য অনেকের সঙ্গে বদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন বোদা উপজেলার ষাটোর্ধ্ব শুকাতু চন্দ্র বর্মণ ও তার স্ত্রী যশবালা রানী।

মাঝনদীতে নৌকা ডুবে গেলে শতাধিক যাত্রীর সঙ্গে তারা দুজনও পড়ে যান করতোয়ায়। যশবালা সাঁতরে তীরমুখী হলেও সাঁতার না জানায় তার স্বামী ডুবে যেতে থাকেন। তা দেখে নিজের জীবন তুচ্ছ করে এগিয়ে যান স্বামীর দিকে। এক পর্যায়ে স্বামীর নাগাল পেয়ে তাকে নিয়ে কোনোক্রমে ভেসে থাকেন। পরে লোকজন এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।

তারা দুজন এখন চিকিৎসাধীন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে গিয়ে কথা হয় যশবালার সঙ্গে।

সে সময়ের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে আতঙ্কে কেঁপে উঠছিলেন তিনি।

নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকা পাড়ে ভিড়তেই আমরা আগে উঠেছিলাম। পরে হুড়মুড় করে আরও লোকজন উঠা শুরু করল। আমি আমার অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে তখন নেমে যেতে চেয়েছিলাম, সে সুযোগ পাই নাই। মাইক দিয়ে এত লোক উঠতে নিষেধ করছিল। তবুও কেউ কথা শুনলো না। মাঝখানে ডুবে গেল নৌকা।’

তিনি জানান, নৌকার সবাই নদীতে পড়ে যায়। তিনি তখন সাঁতরে গিয়ে ছোট বাঁশের খুঁটি আকড়ে ধরেন ও স্বামীকে খুঁজতে থাকেন। কিছু দূরে দেখেন তার স্বামী শুকাতু স্রোতে ভেসে যাচ্ছেন আর খাবি খাচ্ছিলেন।

যশবালা এ পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে জীবনেও পড়িনি। আমি সাঁতার জানি, আমার স্বামী সাঁতার জানত না। সাঁতরে তাকে গিয়ে ধরেছি। এরপর স্থানীয় উদ্ধারকারীরা নৌকা নিয়ে এসে আমাদের দুজনকে তুলে নেয়।

‘আমি দেখি আমার স্বামী নৌকার উপর একদম নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। তখনই আমাদের দুজনকে হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এখন আমরা সুস্থ আছি।’

স্বামীর দিকে চেয়ে তিনি যেন আনমনেই বলে উঠেলেন, ‘মরে গেলেও স্বামীকে ছাড়া ডাঙ্গায় আসতাম না।’

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় নৌকাটি। তাতে থাকা যাত্রীদের বেশির ভাগই মহালয়ার পুণ্যার্থী ছিলেন। তারা নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দিরে প্রার্থনার জন্য যাচ্ছিলেন।

এ দুর্ঘটনায় রোববার ও সোমবার দুই দিনে ৫০ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৭ জন নিখোঁজের তথ্য দিয়েছে ঘটনাস্থলে বসানো জেলা প্রশাসনের তথ্য কেন্দ্র। আর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রোববার উদ্ধার হওয়া ১৫ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছিল। এছাড়া দুর্ঘটনার পর অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছিলেন।

আরও পড়ুন:
পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: মৃত বেড়ে ৩২
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Seeing the boat sinking in Karatoya they jumped to the rescue

করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা

করতোয়ায় নৌকা ডুবতে দেখে উদ্ধারে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা
খাঁজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল (রোববার) থেকে ১৭ জনকে আমি উদ্ধার করেছি। তার মধ্যে চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। নদীর পাড়ে প্রথম দফায় যে লাশের সারিগুলো পড়ে ছিল, সেগুলো আমরা স্থানীয়রাই উদ্ধার করেছি। ততক্ষণ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কেউ ঘাটে এসে পৌঁছেনি।’

পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার সময় মারেয়া আউলিয়া ঘাটে ছিলেন খাঁজা রহমান। বদ্বেশ্বরী মন্দিরে মহালয়া দেখবেন বলে এসেছিলেন।

নদী পার হতে নৌকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সে সময়ই মাঝনদীতে নৌকা ডুবতে দেখে যাত্রীদের বাঁচাতে কিছু না ভেবেই তিনি ঝাঁপ দেন করতোয়ায়। একে একে তুলে আনেন ১৭ জনকে। তবে এর মধ্যে নিথর পেয়েছিলেন চারজনকে।

খাঁজার মতো দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় কয়েক যুবক নদীতে নেমে পড়েন উদ্ধারকাজে। তাদের হিসাবে, ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগে তারাই তুলে আনেন ২৭ জনকে। এর মধ্যে মরদেহ ছিল ১২টি।

বোদা উপজেলায় করতোয়ার মারেয়া আউলিয়া ঘাটে গিয়ে কথা হয় স্থানীয় এই উদ্ধারকারীদের সঙ্গে।

খাঁজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল (রোববার) থেকে ১৭ জনকে আমি উদ্ধার করেছি। তার মধ্যে চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছি। নদীর পাড়ে প্রথম দফায় যে লাশের সারিগুলো পড়ে ছিল, সেগুলো আমরা স্থানীয়রাই উদ্ধার করেছি। ততক্ষণ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কেউ ঘাটে এসে পৌঁছেনি।’

খাঁজা জানান, ঘটনার পর থেকে সোমবার পর্যন্ত তিনিসহ স্থানীয় উদ্ধারকারীদের অনেক যুবকই বাড়ি ফেরেনি। নদীতে ডিঙি নৌকাতেই থাকছেন আর প্রয়োজনমতো নদীতে নেমে চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকাজ।

আরেক উদ্ধারকারী মারুফ বিল্লাহ্ বলেন, ‘চোখের সামনে নৌকাটি কাত হয়ে ডুবে গেল। আমি তখন এপারে (মারেয়া) ছিলাম। নৌকা ডোবার সঙ্গে সঙ্গে আমি ও খাঁজাসহ অন্যরা নদীতে সাঁতরে যাই এবং উদ্ধারের চেষ্টা করি। আমি নিজে দুদিনে ১২টা লাশ তুলেছি।’

লাশ উদ্ধারের অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে স্থানীয় আশিক রহমান বলেন, ‘লাশগুলো অথৈ পানির ভেতরে। মাঝে মাঝে নিজেরই দম বন্ধ হয়ে যায়। কিছু লাশ বালুর ভেতরে পুঁতে গেছে। বালু সরিয়ে দুজন-তিনজন মিলে লাশ তুলতে হয়েছে।’

স্থানীয় এই যুবকরাই এখন নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে তীরে ভিড় জমানো মানুষদের কাছে নির্ভরতার জায়গা। তাদের কাছে প্রিয় মানুষটিকে খুঁজে দেয়ার আকুল আবেদন নিয়ে মানুষগুলো ফিরে ফিরে আসেন।

ঘাটে কথা হয় নিখোঁজ ফুপাতো ভাইয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকা মিঠুন চন্দ্রের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস কাজ করে। কিন্তু খাঁজা-মারুফরা দিন-রাত কাজ করছে। তারা আমাদের ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করছে। তাদের অবদান আমরা ভুলব না।’

মানুষের জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক ঝাঁপিয়ে পড়া এই যুবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মারেয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামিম।

তিনি জানান, শুরুতেই এই যুবকরা উদ্ধারকাজে এগিয়ে না গেলে হয়তো লাশের সংখ্যা আরও বাড়ত।

তিনি বলেন, ‘আমি এই ছেলেদের স্যালুট জানাই। তাদের অবদান অনেক। নিজেদের জীবন বাজি রেখে তারা দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের উৎসাহিত করতে আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেছি।’

রোববারের এই নৌকাডুবির ঘটনায় সোমবার রাত পর্যন্ত ৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত, নিখোঁজ ও হাসপাতালে ভর্তি ব্যক্তিদের মিলিয়ে হিসাব করলে নৌকার মাঝিসহ ৯২ আরোহীর তথ্য পাওয়া গেছে।

বোদা থানার ওসি সুজয় কুমার রায় জানিয়েছেন, এর বাইরেও অনেক যাত্রী সাঁতরে সে সময় তীরে উঠেছিলেন। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে নৌকাটিতে শতাধিক যাত্রী ছিল।

আরও পড়ুন:
বাধা না মেনে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠায় নৌকাডুবি: ডিসি
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
নৌকাবাইচ দেখতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রে নিখোঁজ দুই শিশু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The childs cremation is being done with the money collected to buy puja clothes

পূজার পোশাক কিনতে জমানো টাকায় হচ্ছে সন্তানের সৎকার

পূজার পোশাক কিনতে জমানো টাকায় হচ্ছে সন্তানের সৎকার করতোয়ায় ডুবে মারা গেছেন রবিনের স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের ৫ জন। ছবি: নিউজবাংলা
রবিন বলেন, ‘বাচ্চাটা খুব বায়না ধরেছিল নতুন কাপড় নেবে। আমি বলেছিলাম, মহালয়া শেষ হলে তারপর কিনে দেব। আমার বাচ্চার আর নতুন কাপড় পরানো হলো না। আমার আজ সব শেষ হয়ে গেল। কী নিয়ে বেঁচে থাকব আমি...?’

মহালয়া দেখতে গিয়ে নৌকাডুবিতে হারিয়েছেন স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলেকে। ছেলের জন্য নতুন জামা কেনার টাকা জমিয়েছিলেন। সেই টাকায় এখন স্ত্রী-সন্তানের সৎকারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিডুবা ছত্রশিকারপুর গ্রামের রবিন চন্দ্র রায়।

রবিন কাজ করেন ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে। স্ত্রী মিনতি রাণী ও তিন বছরের ছেলে বিষ্ণু রায়সহ পরিবারের পাঁচজনকে নিয়ে রোববার তিনি মহালয়া দেখতে করতোয়া নদীর ওপারে বদ্বেশ্বরী মন্দির যাচ্ছিলেন।

নৌকায় করে যাওয়ার সময় মাঝনদীতে সেটি ডুবে যায়। রবিন একা সাঁতরে তীরে ফেরেন। এরপর একে একে উদ্ধার হয় তার স্ত্রী-সন্তান এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লক্ষ্মী রাণী ও তিন বছর বয়সী ভাতিজা দীপঙ্কর রায়ের মরদেহ।

রবিনের চোখে-মুখে শূন্যতা। ভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সারা দিন কাজ করে টাকা জমাচ্ছিলাম ছেলের নতুন কাপড়চোপড় কেনার জন্য। সেই টাকা দিয়ে এখন লাশ সৎকার করতে হবে।

‘বাচ্চাটা খুব বায়না ধরেছিল নতুন কাপড় নেবে। আমি বলেছিলাম, মহালয়া শেষ হলে তারপর কিনে দেব। আমার বাচ্চার আর নতুন কাপড় পরানো হলো না। আমার আজ সব শেষ হয়ে গেল। কী নিয়ে বেঁচে থাকব আমি...?’

ওই নৌকায় থাকা দিপুও গিয়েছিলেন মন্দিরে।

তিনি বলেন, ‘আমরা মহালয়া দেখার জন্য যাচ্ছিলাম। মাঝখানে যাওয়ার পর হঠাৎ করে নৌকা দুলতে থাকে। তারপর আমি নিচে পড়ে যাই। কিছুক্ষণ কিছুই বুঝতে পারিনি। তারপর সাঁতার কাটলাম।

‘আমি আমার নিজ হাতে তিনটা লাশ উদ্ধার করেছি। আরও কয়েকজনকে বাঁচিয়েছি। বেশি লোক নেয়ায় নৌকাটা ডুবে যায়। ১০০ জনেরও বেশি লোক আমরা নৌকায় ছিলাম।’

দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার ইউনিয়নের আটজনের লাশ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে চারজনই রবিনের স্বজন। বিষয়টি আসলে অনেক কষ্টদায়ক। পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ।’

বোদা উপজেলার মারেয়া আউলিয়া-বদ্বেশ্বরী ঘাটে করতোয়া নদীতে রোববার দুপুরে ডুবে যায় নৌকাটি। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত অর্ধশত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন:
করতোয়ায় নৌকাডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক
পঞ্চগড়ে নৌকা ডুবে ২৪ মৃত্যু
নৌকাডুবি: নিখোঁজ চাচা-ভাতিজাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার
নৌকাবাইচ দেখতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্রে নিখোঁজ দুই শিশু
রাজশাহীতে পদ্মায় নৌকাডুবি, ৩ জন নিখোঁজ

মন্তব্য

p
উপরে