‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে গত জুনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫ জন। এর বাইরে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ৩ মামলায় ৩১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সবচেয়ে বড় সহিংসতা হয়েছে নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজে। ওই প্রতিষ্ঠানের এক ছাত্রের ফেসবুক পোস্টের জেরে গুজব ছড়িয়ে জুতার মালা পরিয়ে অপদস্থ করা হয় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে। গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল থেকে ক্ষমতাসীন দলের সভা মঞ্চে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া বাগেরহাটে বিক্ষোভ থামাতে গিয়ে আহত হন অন্তত ১২ পুলিশ সদস্য।
দেশে এসব ঘটনার সপ্তাহ দুয়েক আগে ভারতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আলোচিত নেতা নূপুর শর্মা। তার মন্তব্যে ভারতের মুসলমানদের পাশাপাশি গোটা মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভ ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নূপুরকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিজিপি। ওই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় বাংলাদেশেও। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে জুনের মধ্যভাগে বেশ কয়েকটি মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।
বিজেপির বহিষ্কৃত নেত্রী নূপুর শর্মার আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে উত্তেজনা ছড়ায় বাংলাদেশেও। ছবি: সংগৃহীত
নড়াইলে সহিংসতা, শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার
নূপুর শর্মার সমর্থনে ১৭ জুন ফেসবুকে পোস্ট দেন নড়াইল মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের এক হিন্দু শিক্ষার্থী। এ ঘটনার জেরে পরদিন দিনভর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, সহিংসতা চলে। গুজব ছড়িয়ে দেয়া হয় ওই শিক্ষার্থীর পক্ষ নিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস।
এরপর পুলিশ পাহারায় স্বপন কুমার বিশ্বাসকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দাঁড় করিয়ে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেয় একদল ব্যক্তি। শিক্ষক স্বপন কুমার হাত উঁচিয়ে ক্ষমা চাইতে থাকেন। পরে তাকে তুলে নেয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।
মোবাইল ফোনে ধারণ করা এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সামনে শিক্ষকের এমন অপদস্থ হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় সারা দেশে।
শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় তাদের সামনে শিক্ষকের গলায় জুতার মালা পরানো হয়নি। তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবীরের সামনেই জুতার মালা পরানো হয় অধ্যক্ষের গলায়। এ ঘটনায় প্রথমে ওসি শওকতকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে সরিয়ে নেয়া হয় মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক শেখ মোরছালিনকে।
নূপুর শর্মার সমর্থনে পোস্ট দেয়া হিন্দু শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়ের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাহুলের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন মির্জাপুর হাজিবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন।
ধর্ম অবমাননার মামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ পর শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় আরেকটি মামলা করে পুলিশ। সেই মামলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সিলেটে গ্রেপ্তার কলেজছাত্র
নূপুর শর্মার সমর্থনে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় অভিযোগে গত ১৭ জুন সিলেটে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শ্রাবণ সাঁওতাল রাজ জাফলং চা বাগানের বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
তার বিরুদ্ধে গোয়াইনঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমরুল কবীর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। এই মামলায় কারাগারে আছেন রাজ।
ভারতীয় রাজনীতিবিদ নূপুর শর্মাকে সমর্থন করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ায় গ্রেপ্তার শ্রাবণ সাঁওতাল। ছবি: নিউজবাংলা
গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওমর ফারুক মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে আছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তার (রাজ) বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলছে। রাজের ফেসবুক পোস্টটি কোথা থেকে দেয়া হয়েছে তা যাছাই করে দেখার জন্য আমরা সিআইডির সাইবার অপরাধ বিভাগকে পাঠিয়েছি। সেখান থেকে এখনও রিপোর্ট আসেনি। ওই রিপোর্ট আসার পর অভিযোগপত্র দেয়া হবে।’
বাগেরহাটে গ্রেপ্তার ছাত্রী কারাগারে
বাগেরহাটের চিতলমারীতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে এক কলেজছাত্রী রনিতা বালাকে ১৯ জুন হেফাজতে নেয় পুলিশ। সেদিন থানায় হামলা চালায় একদল মানুষ। এতে আহত হন অন্তত ১২ পুলিশ সদস্য।
ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে মামলা করেন শেরেবাংলা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন মুন্সি। ওই মামলায় রনিতা কারাগারে আছেন।
অন্যদিকে চিতলমারী থানায় হামলার ঘটনায় ৫৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ জনকে আসামি করে ২১ জুন মামলা করে পুলিশ। এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ২১ জন।
বাগেরহাট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী পুলিশ পরিদর্শক এস এম আশরাফুল আলম জানান, অভিযুক্ত ছাত্রী জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল। পরে তদন্তে পাওয়া যায়, মেয়েটি নিজেই ওই পোস্ট দেন।
কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে করা মামলাটি তদন্ত করছেন চিতলমারী থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মধুসূধন বিশ্বাস। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে ১৫৩/২৯৮ ধারায় মামলা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তার সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। জানতে পেরেছি, বুঝে হোক আর না বুঝে হোক তিনি ধর্ম নিয়ে প্রায়ই নানা কথা বলতেন। এই মাসেই আমি মামলার চার্জশিট দেয়ার পরিকল্পনা করছি।’
খুলনা দুই মামলায় গ্রেপ্তার দুই যুবক
খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের কিংকর কুণ্ডুর বিরুদ্ধে ১৪ জুন তার ফেসবুক আইডি থেকে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠে।
এর দুই দিন পর স্থানীয় কয়েক যুবক তার বাড়িতে হামলা করে ও খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও পুলিশ গিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ওই রাতেই কিংকর কুণ্ডুকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর হোসেন মামলা করেন।
ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কনি মিয়া বলেন, ‘কিংকর কুণ্ডুর বিরুদ্ধে যে এজাহার হয়েছে, সেখানে কয়েকটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে কিংকরের বাড়িতে যারা হামলা চালিয়েছে তাদের অজ্ঞাত আসামি ধরে সব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার জন্যও কয়েকটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনও কেউ গ্রেপ্তার হননি।
‘কিংকর কুণ্ডু কারাগারে আছেন। মামলাটির তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দেয়া হবে।’
খুলনায় আরেক ঘটনায় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর একটি ওয়াজের পোস্টে বিতর্কিত কমেন্ট করার অভিযোগে ২৮ জুন কয়রা উপজেলায় উৎপল মণ্ডলকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ বি এম এস দোহা বলেন, ‘ওই যুবকের ফেসবুক কমেন্টকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ তাদের ভাগবা এলাকার বাড়িতে হামলা করতে যায়। তবে পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে পাঁচজনকে আটক করে নিয়ে আসে। হেফাজতে নেয়া হয় উৎপলকেও।’
‘তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও জনরোষ তৈরির অভিযোগে কয়রা থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম মামলা করেছেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
গাইবান্ধায় সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার
নূপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে গাইবান্ধায় ১০ জুন জুমার নামাজের পর বিক্ষোভে নামে কয়েকটি ইসলামি দল। জেলা ইমাম-ওলামা পরিষদ, ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের ব্যানারে শত শত নেতা-কর্মী এতে অংশ নেন।
মিছিলটি শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বের হয়ে কাচারিবাজার মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশ করেন তারা।
ওই সমাবেশস্থলের পাশে শহীদ মিনার চত্বরে পৌর আওয়ামী লীগের পূর্বনির্ধারিত সম্মেলন চলছিল। মিছিলকারীরা সম্মেলনস্থলের মাইক বন্ধ করতে বলেন। একপর্যায়ে তারা মাইক, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর শুরু করেন ও ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেন।
এ ঘটনায় ১২ জুন মামলা করেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াজেদ হাসান শাওন। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ দেড় শতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পরপরই এজাহারনামীয় চার আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত চলছে। তাছাড়া মামলার পর অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় চারজনসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন। অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের শনাক্তসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
যশোরে যুবককে পিটুনি
নূপুর শর্মার সমর্থনে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ারের অভিযোগ ওঠে যশোরের চুড়িপট্টি এলাকার একটি জুয়েলারি দোকানের কর্মচারী অনুপ সাহার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১৩ জুন বিকেলে জেলা পোস্ট অফিসসংলগ্ন মসজিদের সামনে তাকে পিটুনি দেয় স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশে দেয় তারা।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুজ্জামান জানান, বিক্ষুব্ধ জনতার কাছ থেকে ওই যুবককে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তার ফেসবুকে আইডি যাচাই করে স্ট্যাস্টাস কিংবা শেয়ারের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ জন্য তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে তোলা হয়। সেদিনই তিনি জামিনে ছাড়া পান।
আরও পড়ুন:সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে অতীতে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে এবং আইনি পদ্ধতিতে চলতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এ মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী।
মোহাম্মদ শিশির মনির সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ১৩ বছরে এই মামলার তদন্ত শেষ করে রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি। আমরা মনে করি, এটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি বড় ধরনের ব্যর্থতা। তবে এই সরকার আসার পর হাইকোর্ট বিভাগের এক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে একটি উচ্চতর টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
‘সে টাস্কফোর্স আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে হাইকোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবেন।’
এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘অতীতে এই মামলাটিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে দেওয়া হয়নি। এই মর্মেও তদন্তে কিছু তথ্য-উপাত্ত এসেছে। অতীতে এই ইনভেস্টিগেশন (তদন্ত) সিস্টেমকে (প্রক্রিয়াকে) অবস্ট্রাকশন (বাধাগ্রস্ত) করা হয়েছে। ইনভেস্টিগেশন প্রসেসকে সঠিকভাবে আইনি পদ্ধতিতে চলতে দেওয়া হয়নি।
‘১৩ বছরে অনেক সাক্ষ্য-প্রমাণই গায়েব হয়ে গেছে। তবে সবকিছুর পরও এখন একটি আশার আলো দেখা যাচ্ছে। আমরা আশা করি স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই হাইকোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তারা একটি গ্রহণযোগ্য এবং সত্যিকার একটি বিচার পরিচালনা করার মতো উপযুক্ত তদন্ত রিপোর্ট আদালতের সামনে দাখিল করবেন।’
সাংবাদিক রুনির ভাই ও মামলার বাদী নওশের রোমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করব, যেহেতু আগের সরকার এখন নেই। আগের সরকারকে আমরা মনে করতাম যে, আগের সরকারের সংশ্লিষ্ট কেউ বা সরকার স্বয়ং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কারণ যত ধরনের নাটক হয়েছে, ডিএনএ টেস্ট থেকে শুরু করে আমাদের হয়রানি এবং নানা সময়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী যেসব কথাবার্তা বলেছেন, স্বয়ং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, কারও বেডরুমের পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব তার না।
‘এই শব্দটা থেকেই আমরা আসলে মনে করি যে, তৎকালীন সরকার বা তাদের সংশ্লিষ্ট কেউ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তবে এখন যেহেতু সব কিছু পরিবর্তন হয়েছে, এখন কিছুটা আশার আলো আমরা দেখতে পাচ্ছি।’
এ মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে সাগর-রুনির একমাত্র ছেলে মেঘ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন তো দেখতেছি ওরা কাজ করতেছে। একটু হইলেও আমরা হোপফুল। আশা করা যাচ্ছে পজেটিভ কিছু একটা শুনতে পারব।’
রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। এ সময় বাসায় ছিল তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ।
সাগর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টিভিতে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।
এ হত্যার ঘটনায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তদন্তে ব্যর্থতার একপর্যায়ে ডিবি থেকে র্যাবকে এই মামলা তদন্ত করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
এ হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই খুনিদের ধরা হবে বলে সময় বেঁধে দেন। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি কথার ফানুস হয়েই নিষ্ফল হয়। বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে এখন পর্যন্ত ১১৬ বার সময় নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:অমর একুশে বইমেলায় ‘সব্যসাচী’ স্টলে সংঘটিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে একাডেমির পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মোহাম্মদ হারুন রশিদকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আগামী তিন দিনের মধ্যে কমিটিকে এ বিষয়ে একাডেমির মহাপরিচালক বরাবর লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বাংলা একাডেমি মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
এতে বলা হয়, ‘বাংলা একাডেমি আয়োজিত চলমান অমর একুশে বইমেলা-২০২৫-এর দশম দিনে (১০ ফেব্রুয়ারি) সোমবার সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ১২৮ নম্বর সব্যসাচী স্টলে সংঘটিত অনভিপ্রেত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
বাংলা একাডেমি প্রেসের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ খোরশেদ আলমকে সদস্য সচিব করা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ খালিদ হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ রোমেল, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রতিনিধি মো. আবুল বাশার ফিরোজ শেখ এবং শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ খালিদ মনসুর।
মেহেরপুরে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা এবং পরিবেশ দূষণের ঘটনায় ভ্রাম্যমান আদালত চারটি ইটভাটাকে সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছে।
ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের শুকুরকান্দি গ্রামে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত চারটি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানটি পরিচালনা করেন গাংনী উপজেলা (ভূমি) সহকারী কমিশনার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদ্দাম হোসেন ।
অভিযানে দেখা যায়, ভাটাগুলোতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছিল না এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছিল। এর ফলে পরিবেশের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ছিল।
ইটভাটাগুলোর মধ্যে থ্রি স্টারকে ১ লাখ টাকা, জনতা ব্রিকসকে ১ লাখ, রুপসা ব্রিকসকে ১ লাখ এবং সমতা ব্রিকসকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহযোগিতায় ইটভাটাগুলোর চুলা পানি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া কাঁচা ইটগুলো পানি দিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমান আদালত জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন:অমর একুশে বইমেলার একটি বুক স্টলে বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোলের ঘটনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণ নাগরিকের অধিকার এবং দেশের আইন উভয়ের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে।’
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘একুশে বইমেলা হলো দেশের লেখক ও পাঠকদের প্রাণের মেলা। এটি বাংলাদেশের সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, চিন্তক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষের মিলনস্থল। এই মেলায় এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা শুধু বাংলাদেশের উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চাকে ক্ষুণ্ণ করে না, বরং ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের মর্যাদার প্রতি অবমাননা প্রদর্শন করে।’
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ এবং বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেলায় নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং এই তাৎপর্যপূর্ণ স্থানে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘অন্তর্বর্তী সরকার সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে দেশে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সরকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঘটনাটি তদন্ত করে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।’
আরও পড়ুন:চলমান অভিযান ডেভিল হান্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে কোনো শয়তান যেন পালাতে না পারে, সে আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে মঙ্গলবার ‘দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ ও তাদের দোসর, দুষ্কৃতিকারী, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে, কিন্তু তাদের দোসররা দেশে-বিদেশে সরকারের বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা এ দেশের জনগণের সম্পদ অন্যায়ভাবে লুটপাট করে অঢেল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে। যারাই তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে, তাদের দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়েছে, দলীয় বাহিনীর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের লেলিয়ে দিয়েছে, অন্যায়ভাবে মামলা-হামলা দিয়ে হেনস্তা করেছে।
‘গণমাধ্যমগুলো দখল ও নিয়ন্ত্রণ করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে শায়েস্তা করেছে। অনুগত পুঁজিবাদী শ্রেণি তৈরি করে সম্পদ লুণ্ঠন করেছে। সিভিল সার্ভিস ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করেছে। আদালতের স্বাধীনতা খর্ব করেছে। এককথায় ফ্যাসিস্ট সরকার পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অন্যায়ভাবে ব্যবহার করেছে। আর এখন অবৈধ সম্পদ ব্যবহার করে অপশক্তির সম্পৃক্ততায় নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের পুলিশ বাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আইনি প্রক্রিয়ায় এ সকল অপরাধীদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গ্রেপ্তার করেছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।’
উপদেষ্টা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সারা দেশের অভিযান সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কার্যক্রম তদারকি করা হবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে স্থাপিত জয়েন্ট অপারেশন সেন্টারের মাধ্যমে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘মেট্রোপলিটন এলাকায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিযান পরিচালনায় সমন্বয় করবেন। সিএমএম আদালত, এমএম আদালত, সিজেএম আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারকগণ, জেলা ম্যাজিস্ট্রটরা, স্পেশাল আদালতের বিচারকগণ, আদালতে সরকারপক্ষের আইনজীবীগণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য নিয়োজিত।’
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রত্যেক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে চাই। তাদের বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হতে বলব।
‘অপারেশন ডেভিল হান্টের বিষয়ে আমি বলব, কোনো শয়তান যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে পালিয়ে না যেতে পারে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আইনজীবীদের আমি বলব, কোনোভাবেই যেন কোনো সন্ত্রাসী জামিন না পায়, সবোর্চ্চ সতর্ক থাকুন।’
আরও পড়ুন:বিচার বিবেচনা ছাড়া হুটহাট কাউকে জামিন না দিতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
রাজধানীর রাজারবাগে মঙ্গলবার দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইনপ্রয়োগ বিষয়ক কর্মশালায় এ আহ্বান জানান তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘মামলার এজাহার সুন্দর করে লিখেন, তথ্য দিন। গত ১৫ বছর ধরে অরাজকতা, গুম ও খুন হয়েছে। প্রতিটি হত্যার বিচার হতে হবে, এ বার্তা দিতে হবে। তা না হলে এ পদে থাকার কোনো মানে হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। পতিত সরকার ও তার দোসররা লাখ লাখ টাকায় দেশকে অস্থিতিশীলের চেষ্টা করছে।’
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘মবতন্ত্র ভয়াবহ। বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে সব বিভাগ যদি ঠিকঠাক কাজ করে, তাহলে মবতন্ত্র কমে যাবে। সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।’
দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ২০২৪ সালে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম, যা আগের বছরে ছিল দশম।
১০০ স্কোরের মধ্যে ২৩ পেয়েছে বাংলাদেশ। সমান স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে কঙ্গো ও ইরান।
ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. মো. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
এর আগে ২০২৩ সালে বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দশম ছিল। সে বছর বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৪।
সংবাদ সম্মেলনের টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন,
‘দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে ২৩। সমান স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে কঙ্গো ও ইরান। তালিকার উচ্চক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৫১তম অবস্থানে রয়েছে।’
দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)-২০২৪ প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘সিপিআই-২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর ২৩, যা বিগত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ বছর স্কোর বিবেচনায় উচ্চক্রম (ভালো থেকে খারাপ) অনুসারে দুই ধাপ অবনতি হয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫১তম এবং নিম্নক্রম অনুসারে ১৪তম।
‘দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান ১৭ পয়েন্ট নিয়ে সর্বনিম্ন স্কোর ও অবস্থানে রয়েছে।’
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের এ বছরের নিম্ন স্কোর ও অবস্থান প্রমাণ করে যে, বিগত ১৩ বছর কর্তৃত্ববাদী সরকার মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও বাস্তবে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, লালন করেছে, এমনকি দুর্নীতি সংঘটনে সহায়তা ও অংশগ্রহণ করেছে। এর প্রভাবে যথেচ্ছ লুটপাট, দুর্নীতিবাজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে তোষণ, আইনের সঠিক প্রয়োগ না করা এবং সার্বিক কাঠামোগত দুর্বলতায় বাংলাদেশের অবস্থানের ক্রমাবনতি হয়েছে।’
টিআইর সিপিআই সূচকের বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৪ সালে স্কোর বিবেচনায় বাংলাদেশের নিম্নমুখী যাত্রা সুস্পষ্ট। ২০১২ থেকে সূচকে ব্যবহৃত ১০০ স্কেলে বাংলাদেশের স্কোর ২০২২ সাল পর্যন্ত ২৫ থেকে ২৮-এর মধ্যে আবর্তিত ছিল। ২০২৩ সালে এক পয়েন্ট অবনমন হয়ে ২৪ এবং ২০২৪ সালে আরও এক পয়েন্ট অবনমন হয়ে ২৩ হয়েছে।
সিপিআই স্কোরের ২০১২ থেকে ২০২৪ মেয়াদে প্রবণতা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টানা চার বছরসহ মোট ছয়বার বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৬, তিনবার ২৫ এবং একবার করে ২৪, ২৭ ও ২৮।
নিম্নক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ছিল সর্বোচ্চ চারবার ১৩তম, তিনবার ১৪তম, দুইবার ১২তম এবং একবার করে ১৫, ১৬ ও ১৭তম।
বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর এ সূচক প্রকাশ করছে। ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রথম তালিকাভুক্ত হয়।
আরও পড়ুন:
মন্তব্য