× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
What is the responsibility of Itna Mithamin road due to flood in Sylhet
hear-news
player
print-icon

সিলেটে বন্যায় ইটনা-মিঠামইন সড়কের দায় কতটুকু

সিলেটে-বন্যায়-ইটনা-মিঠামইন-সড়কের-দায়-কতটুকু
কিশোরগঞ্জ হাওরে ইটনা-মিঠামইন সড়ক। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ‘যে রাস্তার কথা বলছেন, সেখানে কিন্তু বড় বড় কয়েকটি সেতু আছে পানি সরে যাওয়ার জন্য। ওই অঞ্চলে এখনও পানিই আসেনি। পানি সরে যাওয়ার তাই প্রশ্নও আসে না। সেখানে দুটি বড় নদীও আছে, সেদিক দিয়েও পানি সরে যেতে পারে।’

গত কয়েক দিনের পাহাড়ি ঢলের বন্যায় বিপর্যস্ত সিলেট-সুনামগঞ্জসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলা। সরকারের হিসাবে এখন পর্যন্ত দেশের ১০ জেলার ৬৪ উপজেলায় বন্যা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ২১টি জেলার নদীগুলোর পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বন্যায় তলিয়ে যেতে পারে দেশের আরও কয়েকটি অঞ্চল।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কিশোরগঞ্জের হাওরে ইটনা-মিঠামইন সড়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশের দাবি, এ সড়কটির কারণেই বন্যার পানি নেমে যেতে পারছে না। ফলে সিলেট-সুনামগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা কেন?

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত তিন দিনে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২ হাজার ৪৫৮ মিলিমিটার, যা সিলেটের সুরমা নদী হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পুরো বাংলাদেশে এক বছরে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২ হাজার ৩০০ মিলিমিটার। অর্থাৎ এ বছর এই অঞ্চলে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা পুরো মৌসুমের বৃষ্টিপাতকে এরই মধ্যে ছাড়িয়ে গিয়েছে। ভারত থেকে ঢল আকারে নেমে আসা এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি এবারের বন্যার মূল কারণ বলে মনে করছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

পূর্বাভাস কেন্দ্র বলেছে, এ মুহূর্তে দেশের ১১টি নদীর পানি ১৭টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

পূর্বাভাস কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমান বন্যার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমরা দেখেছি, মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে পরপর তিন দিনে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা উজানে নামছে, যেখানে আমাদের দেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২ হাজার ৩০০ মিলিমিটার।

‘এত বেশি পানি বাংলাদেশের ভেতরে এসে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এবারের বন্যার এটাই মূল কারণ। এত অল্প সময়ে এত বৃষ্টি আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে সাধারণত বৃষ্টি বেশি হয়। বেশি বৃষ্টিপাতের মাস জুলাই এবং আগস্ট। মূল মাসের আগেই বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া পূর্বাভাস আছে, দেশের ভেতর ও বাইরে এবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ার। যেহেতু জুলাই মাস আসন্ন, তাই আমাদের সতর্ক হতে হবে।

‘মূল মৌসুম শুরুর আগেই আমরা এবার বন্যা দেখেছি। মে মাসে একটা বন্যা হয়েছে। এবারকার বন্যা তৃতীয়বারের মতো বন্যা। এত বড় বন্যার আঘাত আসলে সেটা সহ্য করা কঠিন। এ কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হচ্ছে।’

দেশের উত্তরাঞ্চলে যে বন্যা, তাকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন এই কর্মকর্তা। আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘উত্তর অঞ্চলের বন্যা মৌসুমের স্বাভাবিক বন্যা। এখানে বন্যা পরিস্থিতি ব্যাপক আকার ধারণ করবে না। উত্তর অঞ্চলের বন্যা সর্বোচ্চ অবস্থানে ওঠার পর পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যে নেমে যাবে।

‘সর্বোচ্চ অবস্থানে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করতে থাকবে। আগামী তিন-চার দিনে উত্তর অঞ্চলে পানি সর্বোচ্চ অবস্থানে যাবে। এরপর পানি নেমে যাবে। উত্তর অঞ্চলের বন্যায় টাঙ্গাইল পর্যন্ত প্লাবিত হবে।’

সিলেট অঞ্চলের বন্যায় ইটনা, মিঠামইন সড়কের দায় আছে কি না জানতে চাইলে তা উড়িয়ে দেন দুর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে রাস্তার কথা বলছেন, সেখানে কিন্তু বড় বড় কয়েকটি সেতু আছে পানি সরে যাওয়ার জন্য। ওই অঞ্চলে এখনও পানিই আসেনি। পানি সরে যাওয়ার তাই প্রশ্নও আসে না। সেখানে দুটি বড় নদীও আছে, সেদিক দিয়েও পানি সরে যেতে পারে।

‘পানিটা এসেছে সিলেটের সুরমা নদীতে, কুশিয়ারাতেও এখনও পানি আসেনি। চেরাপুঞ্জি থেকে যে পানিটা আসে সেটা সাধারণত ফ্ল্যাশ ফ্লাড হয়। গত মাসের ১৬-১৭ তারিখে পানিটা বেড়েছিল, সেটি কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্য কমে এসেছিল। এবারও সেটি আশা করি কমে যাবে। এই পানি মেঘনা দিয়ে চলে যাবে।’

বন্যা নিয়ন্ত্রণে কী করছে সরকার?

দেশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্য নদীগুলোর নাব্যতা কমে যাওয়াকে দায়ী করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি জানান, ‘প্রতি মনসুনে উজান থেকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন টন পলি ওপর থেকে নিচে নেমে আসে। এই যে পলি আসছে, এতে আমাদের নদীর নাব্য ঠিক থাকে না। তলদেশ উঁচু হয়ে যায়। এতে পানির ধারণক্ষমতা কমে যায়।

‘ফলে বর্ষায় যখন প্রচুর পানি আসে, তখন সেটি বিভিন্ন দিকে ছুটে বের হয়ে যায়। এর ফলে নদীর পাড় আর ধরে রাখতে পারে না। আমাদের পক্ষে তো পুরো দেশের নদীর পাড় ব্লক দিয়ে বাঁধ তৈরি সম্ভব না। এটা অনেক ব্যয়বহুল। স্থানভেদে প্রতি মিটারের জন্য লাগবে ১০ লাখ টাকা। অনেক টাকার বিষয়। এত ব্যয় সরকারের পক্ষে করা সম্ভব হয় না।’

মাটির বাঁধ তৈরি করা হলেও তা স্থানীয়দের অবহেলায় পানি রোধ করতে পারে না বলেও জানান তিনি। জাহিদ ফারুক বলেন, ‘মাটি দিয়ে বাঁধ তৈরি করে ঘাস লাগিয়ে বনায়ন করলে ভাঙনের পরিমাণটা কমে আসে। আমরা গাছ লাগালেও দেখা যায়, এসব এলাকায় যেহেতু গ্যাস নেই, কৃষকরা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা এই গাছ কেটেই তাদের রান্নাবান্না করে। তারপর ইটের ভাটায় কাঠটা এখান থেকে নিয়ে যায়।

‘আমাদের একটি ধারণা আছে যে সব দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে সব সামলে রাখা সম্ভব নয়। এখানে যদি সাধারণ মানুষ সহযোগিতা না করে, তাহলে কিন্তু এটা প্রতিরোধ সম্ভব হবে না।’

নদীর নাব্যতা ফেরাতে ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর আওতায় খাল ও নদী খননের কাজ করা হচ্ছে বলে জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা ৬৪ জেলায় খাল খনন করছি। প্রথম পর্যায়ে ৬২৮টি ছোট নদী-খাল আমরা খনন করছি ড্রেজিং করে। এর ৭০ শতাংশ কাজ আমরা শেষ করতে পেরেছি।

‘দ্বিতীয় পর্যায়ে ২ হাজার ৩৪টি ছোট নদী-খাল আমরা নিচ্ছি। উজান থেকে ১ হাজার ১২০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার পানি আসে বর্ষা মৌসুমে। আর শুষ্ক মৌসুমে আসে ১৪৭ বিলিয়ন কিউবিক মিটার। পলি মাটি ড্রেজিং করতে হয়। এটা অনেক ব্যয়বহুল প্রজেক্ট। এটা যদি আমরা মেইনটেইন করে রাখতে পারি, তাহলে পানি ওভারফ্লো হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হলো বড় যে নদীগুলো আছে, প্রস্থে ১০-১২ বা ১৫ কিলোমিটার, সেগুলোকে আমরা মেইনটেইন করতে পারি না। বেশির ভাগেই এখন চর পড়ে গেছে। আমরা প্রকল্প হাতে নিয়েছি বড় নদীগুলোকে সাত-আট কিলোমিটারের মধ্যে নিয়ে আসব ম্যাক্সিমাম। এটাকে আমরা ড্রেজিং করব।

‘এই ড্রেজিং ম্যাটেরিয়ালটা দিয়ে বাকি যে জায়গাটা আছে দুপারে সেটা আমরা জমি রিক্লেইম করব। উঁচু করব। এটা ফসলের জন্য ব্যবহার করব। কিছু জায়গায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন করব। এর মধ্যে কিছু জায়গা থাকবে ফ্ল্যাড প্লেইন হিসেবে।’

আরও পড়ুন:
বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবায় ১৪০ মেডিক্যাল টিম
বন্যা: কুড়িগ্রামে খাদ্য-বিশুদ্ধ পানির সংকট
বন্যার পানি নামতে বাধা হলে সড়ক কাটার নির্দেশ মন্ত্রীর
হবিগঞ্জে ৪০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি হাজারও পরিবার
বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন সিলেটে মোমবাতি সংকট

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Why mosquitoes bite more dengue infected people

ডেঙ্গু-জিকা আক্রান্তকে কেন বেশি কামড়ায় মশা

ডেঙ্গু-জিকা আক্রান্তকে কেন বেশি কামড়ায় মশা ভাইরাস কেবল আক্রান্তকে কাবু করেই ক্ষান্ত হয় না, তার দিকে আরও মশাকে আকৃষ্ট করতেও সাহায্য করে। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে জিকা ও ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে রোগ দুটির জন্য দায়ী ভাইরাসের বিশেষ ভূমিকা আছে। এই ভাইরাস কেবল আক্রান্তকে কাবু করেই ক্ষান্ত হয় না, তার দিকে আরও মশাকে আকৃষ্ট করতেও সাহায্য করে।

অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক ভাইরাসের রয়েছে বিস্ময়কর নানান ক্ষমতা। এগুলো পোষকের দেহের গন্ধ পরিবর্তনের ক্ষমতাও রাখে। আর এই পরিবর্তিত গন্ধে আকৃষ্ট হয় মশার মতো প্রাণী। অনেক দূর থেকেও এরা ঠিকঠাক খুঁজে নিতে পারে আক্রমণের নিশানা।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে জিকা ও ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে রোগ দুটির জন্য দায়ী ভাইরাসের বিশেষ ভূমিকা আছে। এই ভাইরাস কেবল আক্রান্তকে কাবু করেই ক্ষান্ত হয় না, তার দিকে আরও মশাকে আকৃষ্ট করতেও সাহায্য করে।

পিআর-রিভিউ জার্নাল সেল-এ প্রকাশিত এক গবেষণার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল নেচার। এতে বলা হয়, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ সৃষ্টিকারী দুটি ভাইরাস তাদের পোষকের দিকে আরও বেশি মশা আকৃষ্ট করতে কিছু উপাদান নির্গত করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, জিকা ও ডেঙ্গু সৃষ্টিকারী ভাইরাসগুলো নিজেদের সুবিধার জন্য তাদের পোষকের দেহের গন্ধে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। গবেষকেরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। পরিবর্তিত এই গন্ধ রক্তপিপাসু মশাকে করে তোলে আরও আগ্রাসী।

এর মাধ্যমে নতুন নতুন মশার মাধ্যমে আক্রান্তের দেহ থেকে নিরোগ দেহে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায় ভাইরাস। গবেষণা নিবন্ধের সহলেখক সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজিস্ট গং চেং বলেন, ‘কেবল জিকা ও ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে নয়, মশাবাহিত অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রেও ভাইরাস একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করতে পারে।’

আক্রান্তের শরীরে উৎকট গন্ধ

লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের রোগ-নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ জেমস লোগান বলেন, ‘কিছু রোগ তাদের পোষকের গন্ধ বদলাতে পারে। ভাইরাস এবং অণুজীব নিজেদের সুবিধার জন্য বিবর্তিত হয়ে এমনটা করে থাকে।

‘উদাহরণস্বরূপ মোজাইক ভাইরাসে সংক্রামিত শসাগাছ থেকে এক ধরনের উপাদান নির্গত হয়, যা কীটপতঙ্গকে আকৃষ্ট করে। এসব পতঙ্গের মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদকে সংক্রামিত করে ভাইরাস। ম্যালেরিয়া সৃষ্টিকারী পরজীবীগুলো তাদের পোষকদের শরীরের গন্ধ পরিবর্তনের মাধ্যমে মশাকে কাছে টানতে প্রলুব্ধ করে।’

জিকা এবং ডেঙ্গু ভাইরাসগুলোও মশাকে আকৃষ্ট করতে একই কৌশল বেছে নেয় কি না তা দেখতে চেং এবং তার সহকর্মীরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালান। এ জন্য সংক্রামিত এবং নিরোগ ইঁদুরগুলোকে আলাদা ঘরে রেখেছিল তারা।

তারপর দুটি কক্ষের ইঁদুরের শরীরের গন্ধ মশা-ভর্তি চেম্বারে ছড়িয়ে দেয়া হয়। দেখা গেছে এরপর ৬৫-৭০ শতাংশ মশা সংক্রামিত ইঁদুরের ঘরের দিকে হামলে পড়েছে।

প্রতিটি ঘরের বাতাসের রাসায়নিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংক্রামিত ইঁদুরগুলো থেকে নির্গত গন্ধ মাত্রা ছিল বেশি উৎকট। এর মধ্যে অ্যাসিটোফেনন নামে একটি বায়ুবাহিত উপাদানও পাওয়া গেছে।

গবেষকরা দেখেছেন, জিকা বা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ইঁদুর সুস্থ ইঁদুরের তুলনায় ১০ গুণ বেশি অ্যাসিটোফেনন তৈরি করে। আর এই উপাদান তাড়িত করেছিল মশাদের।

ত্বকে অ্যাসিটোফেনন উৎপন্নকারী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার স্বাভাবিক। তবে তাদের সংখ্যা সাধারণত ত্বকের কোষ থেকে নিঃসৃত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রোটিনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ডেঙ্গু বা জিকায় আক্রান্ত ইঁদুরের দেহে এই প্রোটিন তৈরির জন্য দায়ী জিনটির সক্রিয়তা কমে যায়।

সংক্রামিত ইঁদুরের ত্বকে অ্যাসিটোফেনন উৎপাদনকারী ব্যাকটেরিয়া বেশি মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে, যা ইঁদুরগুলোর গন্ধকে বেশি উৎকট করার পাশাপাশি রক্তপিপাসু মশাকে আকৃষ্ট করে।

গবেষকরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির বগলের ঘাম নিয়েও পরীক্ষা করেছেন। এতে দেখা গেছে, যারা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের বেশি অ্যাসিটোফেনন তৈরি হচ্ছে। মশাও তাদের দিকে বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে।

গবেষণায় সংক্রামিত ইঁদুরকে ভিটামিন ‘এ’ খাইয়ে (সাধারণত ত্বকের অবস্থার চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত হয়) বেশ ভালো ফল মিলেছে। দেখা গেছে এতে অ্যাসিটোফেননের পরিমাণ কমে আসে।

মালয়েশিয়ায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমাতে ভিটামিন এ-এর ব্যবহার পরীক্ষার উদ্যোগও নিয়েছেন গবেষকরা।

আরও পড়ুন:
শনাক্ত হাজার ছাড়াল, হার ১৩.৩০ শতাংশ
করোনার ঊর্ধ্বগতিতে সরকারি চাকুরেদের মাস্ক পরার নির্দেশ
চোখ রাঙাচ্ছে চতুর্থ ঢেউ, শনাক্ত হার ছাড়াল ১১ শতাংশ
শনাক্তের হার ছাড়াল ১০ শতাংশ
করোনা শনাক্তের হার এবার ৭ শতাংশ ছাড়াল

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Why does the pot break quickly?

হাঁড়িভাঙ্গা কেন দ্রুত পাকে

হাঁড়িভাঙ্গা কেন দ্রুত পাকে হাঁড়িভাঙ্গা আম। ছবি: নিউজবাংলা
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাঁড়িভাঙ্গা আম নরম হলে কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যায়, ন্যাচারাল বৈশিষ্ট্য থাকে না। দ্রুত আম পাকা বন্ধে আমাদের কোনো ট্রিটমেন্ট বা মেডিসিন নেই।’

রংপুরের পদাগঞ্জ থেকে গত বছর ১১ জুলাই ২০ কেজি পরিপক্ব হাঁড়িভাঙ্গা আম কিনে বাড়ি ফেরেন মীরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ইসহাক আলী। ওইদিন বিকেলে একটি কুরিয়ারের মাধ্যমে সেই আম ছেলেকে পাঠান। ১৪ তারিখ সকালে কুরিয়ার থেকে আম সংগ্রহ করেন আরশাদ আলী। ততক্ষণে পেকে গেছে সব আম।

আরশাদ আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৪ ও ১৫ তারিখে কিছু আম খেতে পারছি। এত বেশি পেকেছে যে বাকি আম ফ্রিজে রাখার মতো উপায় ছিল না। তাই ফেলে দিতে হয়েছে।’

কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্টমেন জেলির কারণে এই আম দ্রুত পাকে বা নষ্ট হতে থাকে। কীভাবে এই জেলির প্রভাব কমানো যায়, তা বের করতে গবেষণা চলছে।

৯ বছর ধরে মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকায় আম চাষ করছেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সমস্যা দেখা দেয়, যখন হাঁড়িভাঙ্গা আম পাকা শুরু করে। একবারে পাকতে শুরু করলে বিপদে পড়তে হয়। আম পরিপক্ব হলে প্রতিদিনই গাছ থেকে ঝরে পড়ে, দ্রুত পেকে যায়।’

আমচাষি আমজাদ হোসেন বলেন, ‘পাকা আমের কোনো মূল্য নেই। ৫ টাকা কেজিতেও কেউ নিতে চায় না। পাকলে তিন দিনও থাকে না। ওই সময় মেডিসিন দিয়েও কোনো লাভ হয় না। এটি একটি প্রবলেম। তা ছাড়া কোনো প্রবলেম নেই।’

হাঁড়িভাঙ্গা কেন দ্রুত পাকে

স্থানীয় তৈয়ব আলীও জানান একই কথা। তিনি বলেন, ‘বাড়ির গাছের আম পাকলে মেলা দিন (অনেক দিন) খাওয়া যায়। যত পাকে তত মজা খাইতে। এমনকি বেশি পাকা আম দিয়ে সকালবেলা আমরা পন্তা (পান্তা) ভাত খাই। কিন্তু হাঁড়িভাঙ্গা দিয়ে হয় না, বেশি পাকলে সেই আম আর খাওয়া যায় না, ফেলে দিতে হয়।’

চলতি বছরের ২৩ মে রংপুরে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে এক কর্মশালায় হাঁড়িভাঙ্গা আমের ‘সেলফ লাইফ’ নিয়ে গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। সেখানে রংপুর অঞ্চলের কৃষি কর্মকর্তা এবং বিপণন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, হাঁড়িভাঙ্গা আম অত্যন্ত সুস্বাদু। কিন্তু সমস্যা হলো এটা বেশি পাকলে খাওয়া যায় না বা দ্রুতই নষ্ট হতে বসে। বেশি দিন সংরক্ষণে সমস্যা। এই আম কীভাবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়, সেই বিষয়েও কর্মশালায় আলোচনা হয়েছে।

রংপুর বিপণন বিভাগের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, দেশের বাইরেও এই আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হচ্ছে, আরও বেশি অর্জন করা সম্ভব। কিন্তু এই আম দ্রুত পাকা নিয়ে একটু নেতিবাচক কথাও আছে।

তিনি বলেন, ‘আমটি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং মাংস বেশি, কিন্তু পাকলে সর্বোচ্চ তিন দিন থাকে। এরপর খাওয়ার উপযোগিতা নষ্ট হয়ে যায়, সে কারণে রপ্তানিকারকরা অনেকে রপ্তানি করতে ভয় পান। তাই এই আমের ‘সেলফ লাইফ’ (স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কতদিন ভালো থাকে) কীভাবে বাড়ানো যায়, সে নিয়ে কর্মশালায় প্রস্তাব তোলা হয়েছে। এই প্রস্তাব গৃহীতও হয়েছে।’

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাঁড়িভাঙ্গা আম নরম হলে কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যায়, ন্যাচারাল বৈশিষ্ট্য থাকে না। দ্রুত আম পাকা বন্ধে আমাদের কোনো ট্রিটমেন্ট বা মেডিসিন নেই।’

হাঁড়িভাঙ্গা কেন দ্রুত পাকে

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশিষ কুমার সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাঁড়িভাঙ্গা আমের সমস্যা দুটি। একটা ছিল অলটারনেট বিয়ারিং (এক বছর আম ধরে আরেক বছর ধরে না বা কম ধরে) আর একটা ছিল স্টমেন জেলি (বেশি পাকলে খাওয়া যায় না বা দ্রুত পাকে)। আমরা অলটারনেট বিয়ারিং থেকে ওভারকাম করতে পেরেছি। কারণ সেখানে (পদাগঞ্জে) একটি ৪৫ বছর বয়সী গাছ রয়েছে। সুতরাং অলটারনেট বিয়ারিং আর নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই আমের সেলফ লাইফ নিয়ে অলরেডি গবেষণা শুরু করেছি। এর মধ্যে একটি রয়েছে স্টমেন জেলি (বেশি পাকলে খাওয়া যায় না বা দ্রুত পাকে) নিয়ে। আমরা স্টাডি করে দেখছি স্টমেন জেলির উপজাতক পাওয়া যায় কি না?

‘আমরা ক্রস চেক করছি। যেমন- হাঁড়িভাঙ্গার সঙ্গে হাঁড়িভাঙ্গা, হাঁড়িভাঙ্গার সঙ্গে বারি-৪, বারি-৩ ক্রস করছি, এভাবে একাধিক জাতের সঙ্গে ক্রস চেক হচ্ছে। স্টমেন জেলিটা কীভাবে ওভারকাম করা যায়, সেটা নিয়ে এখন গবেষণা চলছে।’

রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত বছর মাসতোয়া এগ্রো লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান দেশের বাইরে হাঁড়িভাঙ্গা আম রপ্তানি করেছে। এবারও আমরা আম রপ্তানি করতে চাই। এ ছাড়া ব্যক্তিপর্যায়ে অনেকে বিদেশে রপ্তানি করেছেন।

‘কোনো ফার্ম বা প্রতিষ্ঠান হাঁড়িভাঙ্গা আম রপ্তানি করতে চাইলে আমরা অবশ্যই তাকে বা তাদের হেল্প করব। সে ক্ষেত্রে সরকারের যে নিয়মকানুন আছে, সেগুলো অবশ্যই মেইনটেইন করতে হবে।’

হাঁড়িভাঙ্গা কেন দ্রুত পাকে


বাজারে আম আসবে ১৫ জুন

এই অঞ্চলের বিখ্যাত আম ‘হাঁড়িভাঙ্গা’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসছে আগামী ১৫ জুন। গত মঙ্গলবার মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ বাজারে এই আমের বিপণন, বাজারব্যবস্থা, পদাগঞ্জ হাট সংস্কার, রংপুরের বাইরের ব্যবসায়ী- বেপারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থিক লেনদেনের নিশ্চয়তা, পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধসহ নানা বিষয়ে চাষিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে রংপুরের প্রশাসন।

বৈঠকে আম কেনাবেচা এবং পরিবহনে যাতে কোনো ধরনের হয়রানি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার দাবি করেছেন চাষিরা।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রংপুর মেট্রোপলিটনসহ জেলার আটটি উপজেলায় এবার হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১ হাজার ৮৮৭ হেক্টর জমিতে এবার আমের আবাদ হয়েছে।

এর মধ্যে মেট্রোপলিটন এলাকায় ২৫, রংপুর সদর উপজেলায় ৬০, কাউনিয়া উপজেলায় ১০, গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৩৭, মিঠাপুকুর উপজেলায় ১ হাজার ২৭০, পীরগঞ্জ উপজেলায় ৬০, পীরগাছায় ১০, বদরগঞ্জে ৪০০ এবং তারাগঞ্জে ১৫ হেক্টর রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৪৩৬ টন।

রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহীন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চাষিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এ বছর আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৯ হাজার ৪৩৬ টন। প্রতি টন গড়ে বিক্রি হবে ৩৩ হাজার টাকায়। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে প্রায় শতকোটি টাকার আম (হাঁড়িভাঙ্গা) বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।’

কৃষি বিপণন এই কর্মকর্তা বলেন, ‘চাষি বা ব্যবসায়ীদের আম সঠিকভাবে সর্টিং, গ্রেডিং ও প্যাকেজ করে বিক্রি করতে অনুরোধ করেছি, যাতে তারা লাভবান হন। এ ছাড়া অনলাইনে আম বিক্রি করতে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। আমচাষিরা যাতে আম বিক্রি করতে কোনো ধরনের অসুবিধায় না পড়েন, সে জন্য সারা দেশের ৯২ জন ফল ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বর কালেক্ট করে তা লিফলেট আকারে বিতরণ করেছি আমরা।’

হাঁড়িভাঙ্গা কেন দ্রুত পাকে

হাঁড়িভাঙ্গা আমের খ্যাতি যাদের হাত ধরে ছড়িয়েছে (সম্প্রসারক) তাদের একজন আবদুস সালাম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে হাঁড়িভাঙ্গা আমের চাষ করছি। এই আম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন দেশে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন। অনেক সুনাম রয়েছে। আমরা এটা বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানি করতে চাই। জিআই পণ্য হিসেবে দেখতে চাই। ২০১৭ সালে আবেদন করার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না।’

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কিছুদিনের মধ্যেই এই আম বাজারে আসবে। আমরা চাষিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। হাট সংস্কারে স্থানীয়দের দাবি ছিল সেটাও করে দিয়েছি।’

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হাঁড়িভাঙ্গা আরও প্রসারিত হবে বলে আশা জেলা প্রশাসকের।

আরও পড়ুন:
কপাল খুলল হাঁড়িভাঙ্গা আম চাষিদের
হাঁড়িভাঙ্গা নিয়ে বিপাকে রংপুরের চাষিরা
বাজারে হাঁড়িভাঙ্গা
হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্য অ্যাপ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
What will the hydrogen peroxide of Sitakunda mix with the clouds?

সীতাকুণ্ডের হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড কি মেঘে মিশবে?

সীতাকুণ্ডের হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড কি মেঘে মিশবে? বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মেঘে মিশে যাওয়ার তথ্য ছড়িয়েছে ফেসবুকে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের মেঘে মিশে যাওয়ার দাবির বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর ডিএমপি কর্মকর্তারা বলছেন তাদের নামে ফেসবুকে প্রচার করা তথ্যটি ভুয়া।  

সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের পর সেখানকার কনটেইনারের হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড আকাশের মেঘে মিশে গেছে। এর ফলে আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিতে না ভিজতে সতর্ক করে একটি পোস্ট শেয়ার হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের আশংকার কোনো ভিত্তি নেই। মনগড়া তথ্য প্রচার করে জনমনে ভীতি তৈরি করা হচ্ছে।

ফেসবুকে শেয়ার করা পোস্টের শেষে ‘ডিএমপি পরিচালক’ উল্লেখ রয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো বার্তা দেয়ার তথ্য নাকচ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ফেসবুকের পোস্টে বলা হয় (বাক্য ও বানান অপরিবর্তিত), ‘ব্রেকিং... সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।। আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে কোন বৃষ্টি আসলে কেউ এটা তে ভিজবেন না। চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড ভয়াবহ আগুনে যে, রাসায়নিক কেমিক্যাল গুলো ঝলসে গেছে। তার ফলে আকাশের মেঘ গুলোতে HYDROGEN PER OXIDE GAS টা মিশে গিয়েছে। সকলকে সতর্ক বার্তাটি প্রদান করুন, নিজে বাঁচুন, অন্য কে ও সাহায্য করুন৷ বিশেষ করে বৃদ্ধদের বৃষ্টির সময় ঘর থেকে বের হতে দিবেন না। -ডিএমপি পরিচালক’

ডিএমপির কর্মকর্তারা নিউজবাংলাকে জানান, ডিএমপিতে পরিচালকের কোনো পদ নেই। এই পদ ব্যবহার করে প্রচার করা ম্যাসেজটি ভুয়া।

ডিএমপির মুখপাত্র উপ-কমিশনার মো. ফারুক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিএমপির পক্ষ থেকে এমন কোনো ম্যাসেজ পাঠানো হয়নি। যারা এ ধরনের তথ্য ছড়াচ্ছে তাদের শনাক্তে আমাদের সাইবার টিম কাজ করছে।’

হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের মেঘে মিশে যাওয়ার দাবির বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এম গোলজার হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মূলত ডিকম্পোজ হয়ে অক্সিজেন তৈরি হয়। এই এইচটুওটু (H2O2) মূলত হাইড্রোজেন আর অক্সিজেন। এটাকে ভেঙে অক্সিজেন রিলিজ হয় আর পানি তৈরি হয়। হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডকে যদি কনটেইনারে রাখা হলে উত্তাপে অক্সিজেন রিলিজ হয়ে ব্লাস্ট (বিস্ফোরিত) হয়।’

বিএম কনটেইনার ডিপোর হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের মেঘের সঙ্গে মেশার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড সেভাবে থাকবে না। ওটা ডিকম্পোজ হয়ে যাবে। ডিকম্পোজ হয়ে গেলে অক্সিজেন বাতাসের সঙ্গে চলে যাবে, আর পানিটা নিচে থাকবে। এটা মেঘের সঙ্গে মেশার কোনো সুযোগ নেই।’

একই মত দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম মিজানূর রহমান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড নিজে জ্বলে না, কিন্তু সে যখন বেশি হিটেড অবস্থায় থাকে তখন ডিকম্পোজ হয়ে অক্সিজেনের লেভেলটা বেড়ে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে।’

মেঘের সঙ্গে এই যৌগ মিশলেও কোনো ক্ষতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মেঘের সঙ্গে মিশলে তখন সেটা আর হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড থাকবে না। সেটা অক্সিজেনে কনভার্ট হয়ে যাবে। তখন আর কোনো ক্ষতি নেই।

একই বিভাগের অধ্যাপক ড. ওমর আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড নিজে জ্বলে না, কোন কারণে হিট হলে সেটা অক্সিজেন প্রডিউস করে। আর সেই অক্সিজেন অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে। হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ভেঙে খুব পিওর অক্সিজেন তৈরি করা যায়। আর এটা অনেক দামি হয়।’

হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মেঘে মিশে মানুষের ক্ষতির কারণ হওয়ার দাবিকে ‘কাল্পনিক ও অবান্তর কথাবার্তা’ বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক ওমর।

অন্যদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শাহ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে এসিড বৃষ্টি হয়ে থাকে। আমাদের দেশেও সামান্য হয়, তা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায়। কারখানা থেকে বের হওয়া ধোঁয়া বা অন্যান্য রাসায়নিক জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে বৃষ্টি শুরুর প্রথম ১-২ মিনিটে ঝরে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে সাধারণত ডিসেম্বর, জানুয়ারি মাসে, যে সময় বৃষ্টিপাত কম হয়, তখন খুবই অল্প পরিমাণে এসিড বৃষ্টি হয়ে থাকে। এতে বৃষ্টি পানির রং লালচে দেখা যায়। এই এসিড বৃষ্টিতে খুবই সামান্য ক্ষতি হয়ে থাকে। এবং তা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় হয়।

‘আমাদের দেশে এ ধরনের এসিড বৃষ্টি হলেও সীতাকুণ্ডের কনটেইনারে থাকা হাইড্রোজেন পার-অক্সাইডের কারণে হবে না। এটা ভ্রান্ত ধারণা।’

আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ শাহ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যখন বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হয় না, সেই সময়টায়- বিশেষ করে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে এসিড বৃষ্টি হয়। আর তা হয় ধোঁয়ায় থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড, সিলিকনের মতো পদার্থ মিশে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সঙ্গে নিচে নেমে আসে এবং খুব অল্প সময়েই তা ঝরে যায়।’

আরও পড়ুন:
হাসপাতালে ভিড় না করতে অনুরোধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ডিপোর আগুনে কারও দায় থাকলে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরিচয় না মেলা মরদেহ শনাক্তে লাগবে এক মাস
চট্টগ্রাম বার্ন ইউনিটে সুযোগ-সুবিধার অভাব: সামন্ত লাল
মৃতের সংখ্যা সংশোধন, সীতাকুণ্ডে প্রাণহানি ৪১

মন্তব্য

বাংলাদেশ
One of the original ancestors of the blue eyed man

নীল চোখের মানুষের মূল পূর্বপুরুষ একজনই!

নীল চোখের মানুষের মূল পূর্বপুরুষ একজনই! বিশ্বে নীল চোখের মানুষদের কেবল একজন পূর্বপুরুষ ছিলেন, যিনি সম্ভবত প্রায় ১০ হাজার বছর আগে বসবাস করতেন কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে। ছবি: সংগৃহীত
গবেষকরা দেখেছেন, বিশ্বে নীল চোখের মানুষদের কেবল একজন পূর্বপুরুষ ছিলেন, যিনি সম্ভবত প্রায় ১০ হাজার বছর আগে বাস করতেন কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে। তার মধ্যে এক জেনেটিক মিউটেশন ঘটেছিল, যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। সেই একজন মানুষ না থাকলে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের চোখ হতো বাদামি।

প্রত্যেক মানুষেরই আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। আর এই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে আপনি আপনার এমন আত্মীয়কে (একই বংশোদ্ভূত) খুঁজে বের করতে পারবেন, যার সঙ্গে কখনও আপনার দেখাই হয়নি। থাকুক তিনি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে।

শুনতে অবাক লাগলেও পৃথিবীর সব নীল চোখের মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি সত্য। গবেষণায় দেখা গেছে- পূর্ববর্তী, পরবর্তী, এমনকি ভবিষ্যতে যারা আসবে তারা সবাই একটি সাধারণ কেন্দ্রে সম্পর্কিত। আর এ কারণে দূরবর্তী আত্মীয়কে সহজেই চিনে নিতে পারবেন নীল চোখের অধিকারীরা।

গবেষকরা দেখেছেন, বিশ্বে নীল চোখের মানুষদের কেবল একজন পূর্বপুরুষ ছিলেন, যিনি সম্ভবত প্রায় ১০ হাজার বছর আগে বাস করতেন কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে। তার মধ্যে এক জেনেটিক মিউটেশন ঘটেছিল, যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। সেই একজন মানুষ না থাকলে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের চোখ হতো বাদামি।

বলা হয়ে থাকে, মেলানিনের কারণে বাদামি হচ্ছে মানুষের চোখের স্বাভাবিক রং। উত্তর ইউরোপে ওসিএ২ নামে জিনে একটি মিউটেশন দেখা যায়। এতে আইরিসে মেলানিনের উৎপাদনকে ব্যাহত করে। এর ফলে চোখের রং হয়ে যায় নীল।

চোখের রঙের সঙ্গে জিনের সম্পর্ক ওতপ্রোত। বলা যেতে পারে যে, সব চোখ একই রঙের। আর এর কারণ মেলানিন নামক রঞ্জক, যা আমাদের চোখের রং দেয়। স্বাভাবিকভাবেই তা বাদামি।

ডেনমার্কের ইউনিভার্সিটি অফ কোপেনহেগেনের অধ্যাপক হ্যান্স আইবার্গ বলছেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের সবার চোখ ছিল বাদামি। তবে একটি জেনেটিক মিউটেশন আমাদের ক্রোমোজোমে ওসিএ২ জিনকে প্রভাবিত করে। যার ফলে একটি ‘সুইচ' তৈরি হয়, আক্ষরিক অর্থে যা বাদামি চোখ তৈরি করার ক্ষমতা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে সেই মিউটেশন ক্রমেই পরবর্তী প্রজন্ম হয়ে ছড়িয়ে গেছে মানবজাতিতে।’

গবেষকরা দেখেছেন, বিশ্বে নীল চোখের মানুষদের কেবল একজন পূর্বপুরুষ আছেন, যিনি সম্ভবত ১০ হাজার বছর আগে কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলে বাস করতেন।

চোখের রঙের জেনেটিকস গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশেরও বেশি নীল চোখের মানুষের জিনে একই ক্ষুদ্র মিউটেশন রয়েছে, যা আইরিসের রং নির্ধারণ করে।

এই গবেষণার মতে, মিউটেশনটি কেবল একজনের মধ্যে ঘটেছিল। আর তিনিই বিশ্বের নীল চোখের অধিকারীদের পূর্বপুরুষ।

হিউম্যান জেনেটিকস জার্নালে বলা হয়েছে, ‘নীল চোখের রঙের জন্য দায়ী মিউটেশনগুলো সম্ভবত কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিম অংশ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। প্রায় ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার বছর আগে নিওলিথিক যুগে ইউরোপের উত্তর অংশে তখন বড় ধরনের কৃষিবিল্পব (অ্যাগ্রিকালচারাল মাইগ্রেশন) ঘটেছিল।

অধ্যাপক হ্যান্স বলেন, ‘মানুষের চোখের রঙের তারতম্য আইরিসে মেলানিনের পরিমাণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এভাবে আমরা দেখতে পেয়েছি, নীল চোখের ব্যক্তিদের চোখে মেলানিনের পরিমাণে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।

‘এ থেকে আমরা এই উপসংহারে আসতে পারি যে, সব নীল চোখের মানুষ একই পূর্বপুরুষের সঙ্গে যুক্ত। তারা সবাই ডিনএনের এই মিল উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে।’

নীল চোখের নারী-পুরুষ সবার চোখের ডিনএনএর জেনেটিক সিকোয়েন্স একই। অন্যদিকে বাদামি চোখের অধিকারীদের ক্ষেত্রে ডিএনএর সেই এলাকায় যথেষ্ট পরিমাণে ভিন্নতা রয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Why Kurigram is so poor

এত গরিব কেন কুড়িগ্রাম

এত গরিব কেন কুড়িগ্রাম
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ দরিদ্র মানুষ নিয়ে দেশে দারিদ্র্যের শীর্ষে অবস্থান করছে কুড়িগ্রাম জেলা। এক সময়ের মঙ্গাপীড়িত এই জেলাটির ‘মঙ্গা কলঙ্ক’ ঘুচে গেলেও দারিদ্র্য এখনও কাটেনি। রংপুর বিভাগের এই জেলাটির কেন এমন দশা?

পাকিস্তান আমলে কুড়িগ্রাম জেলার ৯৮ ভাগ মানুষই ছিল গরিব। স্বাধীনতার পরও প্রায় প্রতি বছরই মঙ্গাপীড়িত হয়ে এক বেলা, আধবেলা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে এই জেলার অসংখ্য মানুষকে। তবে নানামুখী প্রচেষ্টা ও উদ্যোগের ফলে এখান থেকে মঙ্গা ঘুচে গেছে দুই দশক আগেই। তবুও দারিদ্র্যের সঙ্গে কুড়িগ্রামবাসীর লড়াই এখনও থামেনি।

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত সীমান্তবর্তী এবং বৃহৎ নদ-নদী যুক্ত জেলা কুড়িগ্রাম। আয়তন প্রায় ২ হাজার ২৫৫ দশমিক ২৯ বর্গকিলোমিটার আর জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ। জেলার ৯ উপজেলার মধ্যে ৭ উপজেলার সঙ্গেই ভারতের তিন রাজ্যের সীমান্ত প্রায় ২৭৮ দশমিক ২৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৩২ কিলোমিটার সীমানাজুড়ে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই।

জেলা সদরের সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে রৌমারী এবং ৩টি ইউনিয়ন নিয়ে চর রাজিবপুর উপজেলা গঠিত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, চর রাজিবপুরই দেশের সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা। এই উপজেলার প্রায় ৭৯.৮ ভাগ মানুষই হতদরিদ্র। এমনকি কুড়িগ্রামের সবচেয়ে কম দরিদ্র ফুলবাড়ি উপজেলায়ও ৬৯ ভাগ মানুষ হতদরিদ্র জীবন-যাপন করে।

কুড়িগ্রামে গরিব মানুষের এমন ছড়াছড়ির জন্য প্রধানত নদ-নদীর ভাঙন আর কর্মসংস্থানের অভাবকেই দায়ী করা হয়। সারা বছরই নদ-নদীর ভাঙনে গৃহহীন হয় এই জেলার কয়েক হাজার পরিবার।

বছরের বেশির ভাগ সময়ই বেকার থাকতে হয় এখানকার মানুষদের। এর মধ্যে নারী শ্রমিকরা কোনো কাজ পায় না বললেই চলে। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এখানকার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। কিন্তু সারা বছরে তাদের ফসল হয় মাত্র একটি। তাই বছরে বড়জোর ৩ থেকে ৪ মাস তাদের হাতে কাজ থাকে।

অন্যদিকে এই জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর ভারত অংশে বাঁধ দেয়ার কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চর পড়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে প্রচণ্ড খরা দেখা দেয় সেসব অঞ্চলে। নদীটির নাব্যতা না থাকায় বর্ষা মৌসুমে দেখা দেয় বন্যা। এ ছাড়া প্রচণ্ড শীতল আবহাওয়াসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামলাতে হয় এই জনপদকে।

এত গরিব কেন কুড়িগ্রাম

নিজেদের দারিদ্র্যের জন্য রাজনৈতিকভাবে অবহেলিত থাকাকেও দায়ী করে কুড়িগ্রামবাসী। তবে জেলার একটি মহলের মতে, মাঠপর্যায়ে দুর্নীতির কারণেই সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সেখানে খুব বেশি ফলপ্রসূ হয় না। অন্যান্য জেলার তুলনায় কুড়িগ্রামে এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ পিছিয়ে থাকায় এর সুফল প্রত্যন্ত জনপদে পৌঁছায় না। ফলে দারিদ্র্য হ্রাস পায় খুবই কম।

বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, এ জেলার একটি পরিবারের মাসিক গড় আয় বড়জোর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। বর্তমানে এই আয়ে একটি পরিবারের পর্যাপ্ত খাবার নিশ্চিত করাও সম্ভব হয় না। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বস্ত্রের মতো মৌলিক চাহিদার খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হয় কুড়িগ্রামবাসীকে।

নিজের দুরবস্থার কথা বলতে গিয়ে চর রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হামার এডে নদীভাঙনে সহায়সম্বল শেষ। এলা দিন আনে দিন খাওয়া নাগে। কামলার দামও নাই। ধান কাটার মৌসুমে আড়াই-তিন শ টাকা পাওয়া যায়। জিনিসের যে দাম, তাতে ৫ জনের সংসার চলে না। চাল-ডাল আনতেই টাকা শেষ।’

একই এলাকার নারী শ্রমিক বুলবুলি আক্তার জানান, একে তো নারী, তার ওপর মিল-কারখানা না থাকায় খুব বেশি কাজের সুযোগ নেই তার। কৃষিকাজের মৌসুমে কদাচিৎ কাজের সুযোগ এলেও দুই-আড়াই শ টাকার বেশি হাজিরা পান না তিনি।

চর রাজিবপুরেরই বিচ্ছিন্ন কোদালকাটি ইউনিয়নের আনছের আলী বলেন, ‘সরকার যে রিলিফ দেয়, সেডা কখন আইসে কারে দেয় আমরা কবার পারি না। সব রিলিফ মেম্বার, চেয়ারম্যানরা ভাগাভাগি কইরা খায়। আমগোর পাকা রাস্তা নাইক্যা। কিছুদিন আগে সরকারে কারেন্ট দিছে, হেইডাও আবার এক দিন থাকলে ছয় দিন থাকে না। তবে নদীভাঙনই এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা।’

এত গরিব কেন কুড়িগ্রাম
তিস্তার পানিতে তলিয়ে যাওয়া চরের ফসল

চররাজিবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো বলেন, ‘বিবিএস যে তথ্য দিয়েছে, তা অনেকটাই সত্য। কারণ আমাদের রাজিবপুর উপজেলায় তিনটি নদ রয়েছে। তাই বছরের বেশির ভাগ সময় নদীভাঙন লেগেই থাকে। এতে আমাদের উপজেলাটি ছোট হয়ে যাচ্ছে। এই এলাকার মানুষ তাদের সহায়সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।’

নিজ এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের বিশেষ নজরের পাশাপাশি নদীশাসন, পর্যটন এলাকা তৈরি এবং তাঁতশিল্পসহ মিল-কারখানা স্থাপন প্রয়োজন বলে মনে করেন চেয়ারম্যান।

এই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘চর রাজিবপুর বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলা। ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ি দিয়ে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে নৌকাই এই এলাকার বাসিন্দাদের প্রধান ভরসা।’

বর্তমানে চর রাজিবপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে শিক্ষা, বাসস্থানসহ সরকারের কয়েকটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানান ইউএনও।

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জেলায় পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রকল্প তদারকি কিংবা দুর্নীতি রোধে নজরদারির অভাব রয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিকভাবেও আমাদের জেলা পিছিয়ে আছে। দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

জেলার দারিদ্র্যের বিষয়ে চিলমারী, রৌমারী, চররাজিবপুর নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনের এমপি ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের রোল মডেল। আমাদের দেশে পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে। সেখানে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু নির্মাণ অসম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামবাসীকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। দেশের উন্নয়নে মেগা প্রকল্পে ব্রহ্মপুত্র সেতু প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়ন করা গেলে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবে কুড়িগ্রাম।’

কুড়িগ্রামে ইতোমধ্যে স্থলবন্দর, নৌবন্দর, ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ট্রেন চলাচল বাস্তবায়ন হয়েছে। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন হলেও এই জেলা থেকে দারিদ্র্য অনেকাংশে কমে যাবে বলেও দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
৫১ লাখ পরিবারে ৫ হাজার করে টাকায় দারিদ্র্য নামবে ১০ ভাগে
সাড়ে ছয় কোটি গরিবের তথ্য জানেন না অর্থমন্ত্রী
আড়াই কোটি নতুন গরিবের তথ্য স্বীকার করি না: অর্থমন্ত্রী
করোনায় দারিদ্র্য বেড়ে দ্বিগুণ: জরিপ
অভাবে বলদের ভূমিকায় স্ত্রী-সন্তান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Why children disobey their mother after 12 years

১২ বছরের পর কেন শিশুরা মায়ের ‘অবাধ্য’

১২ বছরের পর কেন শিশুরা মায়ের ‘অবাধ্য’ গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ বছর বয়সের পর শিশুর কাছে মায়ের কণ্ঠের গুরুত্ব কমতে থাকে। ছবি: সংগৃহীত
গবেষকরা বলছেন, একটা বয়সের পর মায়ের কণ্ঠের গুরুত্ব কমে যাওয়ার ভালো দিকই বেশি। কারণ এই প্রক্রিয়া কিশোর-কিশোরীদের বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে সাহায্য করে, সংযোগ তৈরি করে। পরিবারের বাইরে তাদের সামাজিকভাবে পারদর্শী করে তোলে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা অপরিচিত কণ্ঠের দিকে আকৃষ্ট হয়। ১২ বছর পার হলেই ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারায় সবচেয়ে কাছের স্বজন মায়ের কণ্ঠস্বর।

বিষয়টি একদমই প্রাকৃতিক বলে প্রমাণিত হয়েছে গবেষণায়। তবে অনেক পরিবার একে ভেবে নেয় শিশুর ‘অবাধ্য’ হওয়ার লক্ষণ হিসেবে।

জার্নাল অফ নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণার ফল বলছে, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ প্রক্রিয়ায় টিনএজ শিশুরা অন্যদের কণ্ঠস্বরকে আমলে নিতে শুরু করে বলেই মায়ের কণ্ঠ বাড়তি গুরুত্ব হারাতে শুরু করে।

‘তুমি কি আমার কথাও শুনছ’- মায়েরা অহরহ এমন প্রশ্ন টিনএজারদের করে থাকেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা এর সঠিক জবাব দিলে উত্তরটি ‘না’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আর এই ‘না’ এর পেছনে সত্যিই টিনএজারদের কোনো দায় নেই। বয়ঃসন্ধিকালের শিশুদের মস্তিষ্কের ওপর নতুন গবেষণা বলছে, কিছু কণ্ঠস্বরের প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়া সময়ের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই বদলে যায়। একটা সময়ে মায়ের কণ্ঠস্বরও কিশোর-কিশোরীর কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শিশুদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা গেছে, ১২ বছর বা তার কম বয়সীদের স্নায়ু মায়ের কণ্ঠস্বরের প্রতি ভীষণভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়। সক্রিয় হয়ে ওঠে মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সেন্টারস এবং আবেগ-প্রক্রিয়া করার কেন্দ্রগুলো।

তবে এরপর শিশুদের মস্তিষ্কে বেশ পরিবর্তন আসে। এ সময়ে মায়ের কণ্ঠ আগের মতো মস্তিষ্ককে আর আন্দোলিত করে না। এর পরিবর্তে অন্যসব কণ্ঠে (পরিচিত বা অপরিচিত) তাদের মস্তিষ্ক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এই পরিবর্তন এতটাই স্পষ্ট যে গবেষকরা মায়ের কণ্ঠের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে শিশুদের বয়স অনুমান করতে পেরেছেন।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মনোচিকিৎসক ড্যানিয়েল অ্যাব্রামস বলেন, ‘একটি শিশু যেমন তার মায়ের কণ্ঠে আন্দোলিত হয়, তেমনি একজন কিশোর নতুন কণ্ঠেও আকৃষ্ট হয়।

‘একজন কিশোর হিসেবে আপনি জানেন না যে আপনি এটি করছেন। আপনি নতুন বন্ধু এবং সঙ্গী পেয়েছেন। তাদের সঙ্গেই আপনি সময় কাটাতে চান। আপনার মন ক্রমে সংবেদনশীল এবং আকৃষ্ট হচ্ছে অপরিচিত কণ্ঠের দিকে।’

গবেষকরা বলছেন, এটি কিশোর মস্তিষ্কের সামাজিক দক্ষতা তার বিকাশের লক্ষণ। একজন কিশোর ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের পরিবার থেকে দূরে সরে যায় না; তাদের মস্তিষ্ক একটি সুস্থ উপায়ে পরিপক্ব হওয়ার কারণেই এই পরিবর্তনটি ঘটে।

গবেষণা বলছে, একজন মায়ের কণ্ঠস্বর শিশুর স্বাস্থ্য এবং বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুদের মানসিক চাপের মাত্রা, সামাজিক বন্ধন, খাওয়ার দক্ষতা এবং কথা বলার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। তবে একপর্যায়ে মায়ের কণ্ঠের চেয়ে অন্য সব কণ্ঠ তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্নায়ুবিজ্ঞানী বিনোদ মেনন বলেন, ‘যখন কিশোর-কিশোরীরা তাদের বাবা-মায়ের কথা শোনে না, তখন তাদের অনেকে ভুল বুঝতে পারেন। তবে এর আসল কারণ একেবারেই ভিন্ন। তারা বাড়ির বাইরের কণ্ঠের প্রতি আরও মনোযোগ দিতে বাধ্য হয়।’

২০১৬ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের মস্তিষ্ক তাদের মায়ের কণ্ঠের সঙ্গে ভীষণভাবে জড়িত।

পরে গবেষকদলটি ১৩ থেকে সাড়ে ১৬ বছর বয়সী ২২ কিশোর-কিশোরীর ওপর পরীক্ষা চালায়। এতে দেখা গেছে, মায়ের কণ্ঠস্বর তাদের মস্তিষ্কে তেমন প্রভাব ফেলেনি। এর পরিবর্তে কিশোর-কিশোরীদের শোনা সব কণ্ঠ তাদের শ্রবণ প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত নিউরাল সার্কিটকে সক্রিয় করে। মস্তিষ্ক তখন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাছাই করে এবং তৈরি করে সামাজিক স্মৃতি।

স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা বলছেন, যেসব শিশু অটিজমে আক্রান্ত, তারা তাদের মায়ের কণ্ঠস্বরের প্রতি তেমন শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখায় না। অন্তর্নিহিত নিউরোবায়োলজিক্যাল প্রক্রিয়াটি আরও ভালো করে বোঝা গেলে সামাজিক বিকাশের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়া যাবে।

মেনন বলেন, ‘একটি শিশু একপর্যায়ে স্বাধীন হয়ে ওঠে। এটি একটি অন্তর্নিহিত জৈবিক সংকেত।

‘এটাই আমরা উদ্ঘাটন করেছি। এটি একটি সংকেত, যা কিশোর-কিশোরীদের বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হতে সাহায্য করে, সংযোগ তৈরি করে। যা তাদের পরিবারের বাইরে সামাজিকভাবে পারদর্শী করে তোলে।’

আরও পড়ুন:
আমৃত্যু তারুণ্য ধরে রাখার এ কেমন অদ্ভুত উপায়
শঙ্খ নদে দুই শিশুকে হারালেন বাবা
নির্মাণাধীন ভবনের গর্তে পড়ে শিশুর মৃত্যু
যৌন মিলনের পর অনেকে কেন কাঁদেন?
‘সূর্যই ঘুরছে পৃথিবীর চারদিকে’, আমানতের দাবি কেন ভুল

মন্তব্য

p
উপরে