× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

বাংলাদেশ
Chubni in Padma Fakhrul warns of legal system
hear-news
player
print-icon

পদ্মায় চুবনি: আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ফখরুলের

পদ্মায়-চুবনি-আইনি-ব্যবস্থার-হুঁশিয়ারি-ফখরুলের
খালেদা জিয়ার উক্তি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বলেছে, স্প্যানগুলো যে বসাচ্ছে, সেটা ছিল তার কাছে জোড়াতালি দেয়া। পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, তাতে চড়া যাবে না, চড়লে সেটা ভেঙে যাবে। তার সঙ্গে তার কিছু দোসররা। তাদের কী করা উচিত? পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে পদ্মা নদীতে টুস করে ফেলে দেয়া উচিত।’

পদ্মা সেতুতে নিয়ে চোবানোর যে কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাকে হত্যার হুমকি হিসেবে দেখছে বিএনপি। সরকারপ্রধানকে এই ধরনের কথা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নইলে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আওয়ামী লীগপ্রধান পদ্মা সেতু, বেগম খালেদা জিয়া ও ড. ইউনূসকে নিয়ে বক্তব্য রাখার পরদিন বৃহস্পতিবার তার জবাব দেন ফখরুল।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শ্রমিক দলের আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।

বিএনপি ক্ষমা চেয়ে পদ্মা সেতু ব্যবহার করতে পারবে- তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন একটি উক্তির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ফখরুল বলেন, ‘এই সেতু তথ্যমন্ত্রীর বাবার টাকায় হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এই ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় এই ধরনের উক্তি করলে তার যে আইনগত বিষয় থাকে, সেটা আমরা নেব।’

কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী

আগের দিন রাজধানীতে আওয়ামী লীগের দলীয় এক আলোচনায় শেখ হাসিনা জানান, পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক যেন সরে যায়, সে জন্য ড. ইউনূস, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক নানা সক্রিয় চেষ্টা চালিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, এই সেতু ভেঙে পড়ে যাবে- এই ধরনের বক্তব্য রাখায় খালেদা জিয়ার প্রতিও ক্ষোভ জানান শেখ হাসিনা।

নানা বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি পদ্মা সেতুবিরোধীদের সেতুতে নিয়ে চোবানোর কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার উক্তি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বলেছে, স্প্যানগুলো যে বসাচ্ছে, সেটা ছিল তার কাছে জোড়াতালি দেয়া। পদ্মা সেতু বানাচ্ছে, তাতে চড়া যাবে না, চড়লে সেটা ভেঙে যাবে। তার সঙ্গে তার কিছু দোসররা। তাদের কী করা উচিত? পদ্মা সেতুতে নিয়ে গিয়ে ওখান থেকে পদ্মা নদীতে টুস করে ফেলে দেয়া উচিত।’

ড. ইউনূসের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যিনি (ড. ইউনূস) এমডি পদের জন্য পদ্মা সেতুর মতো টাকা বন্ধ করেছেন, তাকেও আবার পদ্মা নদীতে নিয়ে দুটি চুবনি দিয়ে উঠিয়ে নেয়া উচিত, মরে যাতে না যায়। পদ্মা নদীতে দুটি চুবনি দিয়ে সেতুতে উঠিয়া নেয়া উচিত। তাহলে যদি এদের শিক্ষা হয়।’

‘এটা প্রচ্ছন্নভাবে হত্যার হুমকি’

ফখরুল বলেন, তিনি মনে করেন সরকারপ্রধানের এই বক্তব্য প্রচ্ছন্নভাবে খালেদা জিয়া ও ড. ইউনূসকে হত্যার হুমকি।

তিনি বলেন, ‘দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে তিনি রয়েছেন, যেভাবেই আসুন না কেন। তিনি এই ধরনের উক্তি করতে পারেন না।

‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রী, তাকে সরাসরি হত্যার হুমকির শামিল। সেতু থেকে ফেলে দেয়া- এটা কখনই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। আমরা বিস্মিত হয়েছি এবং ক্ষুব্ধ হয়েছি এবং প্রচণ্ডভাবে নিন্দা জানাই তার এই উক্তিকে।’


আরও পড়ুন: পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের মিশনে মাহফুজ আনামও: প্রধানমন্ত্রী

ফখরুল বলেন, ‘এই রকম অরাজনৈতিক, অশালীন বক্তব্য কেউ কখনও আশা করতে পারে না। কিন্তু ওনার স্বভাবই এটা। তিনি এভাবেই কথা বলেন এবং এভাবেই তার প্রতিপক্ষকে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং আক্রমণ করেন, যা রাজনৈতিক কোনো শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।

‘আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের জাতি এই ধরনের নেতৃত্ব থেকে এই ধরনের কথাবার্তা শুনেছে।’

ড. ইউনূস সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন, সেটি নিয়ে ফখরুল বলেন, ‘এটাও পুরোপুরিভাবে আমি মনে করি যে সমস্ত রকম রাজনৈতিক শিষ্টাচার, শালীনতা, ভদ্রতা, সবকিছুর বাইরে। এই কথাটা বলার অর্থই হচ্ছে তিনি প্রচ্ছন্ন হুমকি বলা যায়। জীবনের প্রতি হুমকিই বলা যায়।’

আগের দিন পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়ার পেছনে ড. ইউনূসের ভূমিকা আছে বলে পুরোনো অভিযোগ নতুন করে তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

বলেন, ‘পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করাল ড. ইউনূস। কেন? গ্রামীণ ব্যাংকের একটা এমডির পদে তাকে থাকতে হবে। তাকে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, গ্রামীণ ব্যাংকের উপদেষ্টা হতে, ইমেরিটাস উপদেষ্টা হিসেবে থাকার জন্য, আরও উচ্চ মানের। কিন্তু সেখানে সে থাকবে না। তার এমডিই থাকতে হবে। কিন্তু তার বয়সে কুলায় না।

‘কিন্তু প্রতিহিংসা নেয় ড. ইউনূস এবং যেটা আমরা শুনেছি মাহফুজ আনাম। তারা আমেরিকায় চলে যায়, স্টেট ডিপার্টমেন্টে যায়। হিলারির কাছে ইমেইল পাঠায়। বিশ্বব্যাংকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিস্টার জোয়েলিক তার শেষ কর্মদিবসে কোনো বোর্ডসভায় না, পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়।’

ওনার বাপের টাকায় সেতু নয়

ক্ষমা চেয়ে বিএনপিকে পদ্মা সেতু ব্যবহার করতে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ যে পরামর্শ দিয়েছেন, তার কী জবাব দেবেন- এমন প্রশ্ন ছিল একজন সাংবাদিকের।

জবাবে ফখরুল বলেন, ‘এটা ওনার বাবার টাকায় তৈরি করা না, বাংলাদেশের মানুষের টাকায় তৈরি করা। বাংলাদেশের মানুষের এটা পুরোপুরি ট্যাক্সের টাকা। এই টাকাও তারা লুট করেছে। ১০ হাজার কোটি টাকার সেতু তারা ৩০ হাজার কোটি টাকায় বানিয়েছে।

এই সেতুর নাম শেখ হাসিনার নামে হওয়া উচিত বলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যে বক্তব্য রেখেছেন, সে বিষয়ে তার মতামত জানতে চাইলে ফখরুল কিছু বলতে রাজি হননি। বলেন, ‘এটা আমার বিষয় না।’

সরকারকে বাধ্য করা হবে

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণে সরকারকে বাধ্য করার ঘোষণাও দিয়েছেন ফখরুল।

বিএনপির নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা এখন কোনো চিন্তা করছি না। নির্বাচন কীভাবে হবে, সেই চিন্তা করছি। আমাদের কথা একদম পরিষ্কার, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর নতুন করে একটা নির্বাচনের অধীনে জনগণের ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।’

সরকার যদি না মানে তাহলে কী করবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারকে মানাতে বাধ্য করব আমরা, জনগণ বাধ্য করবে।’

গত দুটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না, এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি কখনও বলে না ভুল ছিল। নির্বাচনে না যাওয়াও ভুল ছিল না, যাওয়াটাও ভুল ছিল না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যাইনি কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে, পরবর্তী নির্বাচনে গেছি এটা প্রমাণ করতে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।’

আপনারা সব সময় এই মুহূর্তে সরকারের পদত্যাগ চান। তাহলে জাতীয় সংসদে বিএনপির সদস্যরা কেন পদত্যাগ করছেন না- এমন প্রশ্ন রাখেন একজন সাংবাদিক।

উত্তরে ফখরুল বলেন, ‘সময় এলেই পদত্যাগ করবে। সময় যখন আসবে, তখন দেখবেন ঠিকই পদত্যাগ করেছে।’

বিদেশিদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করে বিএনপি আগামী নির্বাচকে ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে বলে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ফখরুল বলেন, ‘এটা সব সময় তারা বলে থাকেন। নির্বাচন তো তারা লুট করে নিয়ে যান। গত দুটি নির্বাচন তারা চুরি করে, ডাকাতি করে নিয়ে গেছেন। জনগণকে ভোট দিতে দেননি। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে দেননি। উল্টো বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপান।

‘আমেরিকায় গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের কাছে সাহায্য চেয়েছেন, নির্বাচনে যেন বিএনপি আসে। আমরা বিদেশিদের সঙ্গে এই ধরনের কোনো অনুরোধ করি না।’

‘লুটপাটের কারণে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি’

এর আগে ফখরুল নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিএনপির কর্মিসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সেখানেও তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

বিএনপি নেতার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের লুটপাটের কারণে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দেশের রিজার্ভ সংকটে ফেলে দিয়েছে সরকার। অথচ এদিকে কোনো খেয়াল নেই। বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Why the miserable situation in load shedding Rizvi

লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতি কেন: রিজভী

লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতি কেন: রিজভী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
‘বিদ্যুতের সীমাহীন ব্যর্থতার মূল কারণ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর আত্মীয়স্বজনের বেপরোয়া লুণ্ঠন। এরা স্বদেশ ও সমাজকে এড়িয়ে আত্মীয় তোষণ করতে গিয়েই বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিয়ে জনগণকে শোষণ করার পথ উন্মুক্ত করেছে।’

বিদ্যুৎ খাতে গত এক যুগে উন্নয়ন হলে হঠাৎ লোডশেডিং কেন- এই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপি নেতার অভিযোগ, ‘বিদ্যুৎ নিয়ে নানা রংচংয়ের কথা বলা হয়েছে। জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ১৫২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই এখন অচল। ফলে লোডশেডিংয়ের ভয়াবহ ছোবলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ রাজধানীও বিপন্ন হয়ে পড়েছে।’

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন ‘উন্নয়নের এত যে ঢাকঢোল বাজানো হলো, তাহলে সারা দেশে লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ পরিস্থিতি কেন?’

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি শাসনামলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ছিল নাজুক। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও তার জোটের বড় পরাজয়ের পেছনে যেসব কারণ কাজ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল বিদ্যুৎ খাত নিয়ে ব্যর্থতা।

এই পাঁচ বছরে বিএনপি সরকার একটিও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে পারেনি, উল্টো এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন কার্যাদেশ বাতিল করেছে। বিদ্যুতের দাবিতে এখানে সেখানে বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে সেই সরকার। এমনকি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিও হয়েছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপ নেয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এই সময়ে কয়েক গুণ বেড়েছে এবং এটাকে সরকার সাফল্য হিসেবে প্রচার করে আসছে।

তবে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ গত কয়েক বছরে লোডশেডিং শব্দটা ব্যবহার করত না। তারাই এখন লোডশেডিংয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আর না কেনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এ জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হবে জানিয়ে তিনি দুঃখও প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ আমরা সবার ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সবাই পাচ্ছিল। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে উপকরণগুলো সেগুলোর দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। যেমন ডিজেলের দাম বেড়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, এলএনজির দামসহ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। কয়লা এখন প্রায় পাওয়াই যায় না।’

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে কুইকরেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে। বিএনপি এখনও তার সমালোচনা করে যাচ্ছে।

রিজভী বলেন, ‘বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কুইক রেন্টাল স্থাপন করতে ভর্তুকি দিতে হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। এই টাকা কীভাবে খরচ হচ্ছে, সেটি নিয়ে কেউ যাতে প্রশ্ন তুলতে না পারে সে জন্য দায়মুক্তি আইন করা হয়েছে।

‘বিদ্যুতের সীমাহীন ব্যর্থতার মূল কারণ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর আত্মীয়স্বজনের বেপরোয়া লুণ্ঠন। এরা স্বদেশ ও সমাজকে এড়িয়ে আত্মীয় তোষণ করতে গিয়েই বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি দিয়ে জনগণকে শোষণ করার পথ উন্মুক্ত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার উন্নয়নের হাতির ভেতরে দাঁত যে নেই, সেটি এখন স্পষ্ট। তার উন্নয়ন যে একটা ভোজবাজি, তা এখন দৃশ্যমান। ফাঁপা উন্নয়নের তাস দিয়ে যে মানুষের মন জেতা যাবে না, সেটি তিনি বোঝার চেষ্টা করেননি। বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখন এমনই যে, যে জনপদের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়া হয় সেটিকেই মনে হয় অন্ধকার গোরস্থান।’

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন আলিফ লায়লার কাহিনিকে হার মানাবে

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের সঙ্গে আরবের রূপকথার তুলনাও করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘পদ্মা সেতু উদ্বোধন নিয়ে যে কাণ্ড করা হলো তা আরব্য রজনীর আলিফ লায়লার কাহিনিকেও হার মানাবে।

‘অধিকাংশ প্রিন্ট মিডিয়ার প্রথম পাতা জুড়ে শেখ হাসিনার গুণকীর্তনের কাহিনি ছাপা হয়েছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হরদম প্রচার করা হয়েছে শেখ হাসিনার উচ্ছ্বাস।’

রিজভী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর জাঁকজমক উদ্বোধনে শুধুমাত্র টয়লেট নির্মাণ করতেই শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমের খবর— প্রবল বন্যায় বানভাসি মানুষের জন্য জনপ্রতি মাত্র ১৮ টাকা ও দেড় কেজি চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এ যেন কর্মহীন অর্ধাহার-অনাহারক্লিষ্ট মানুষের প্রতি নির্মম পরিহাস।

‘এই পরিস্থিতি সরকারের অসৎ অনাচারের একটি সুনিশ্চিত ভঙ্গি। সরকারের এমন আচরণ দুঃস্বপ্নের অতীত এক অভিঘাত। সরকারের কারণেই এই বন্যা মানবতার অস্তিত্বকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।’

সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের সর্বস্ব নিয়ে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতা।

আরও পড়ুন:
একজনকে বাঁচাতে গিয়ে ঝরল ২ প্রাণ
বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাতে ঘুম নেই চাঁদপুরবাসীর
প্রচণ্ড লোডশেডিং হচ্ছে, এটা ভয়াবহ: ফখরুল
এত লোডশেডিং কেন, জানালেন প্রধানমন্ত্রী
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কেবল অপারেটরের মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The effects of the Russia Ukraine war are felt in the country Quader

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশে পড়তে পাড়ে: কাদের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশে পড়তে পাড়ে: কাদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি
‘যারা ঘরে বসে লিপ সার্ভিস দেয় তাদের ত্রাণ কার্যক্রম হলো এক ধরনের ত্রাণ বিলাস। বিএনপির মধ্যে কোনো ভদ্রতা নেই। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও যে অসভ্য ভাষায় কথা বলে তা কাম্য নয়।’

সারা বিশ্বে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে পাড়ে।’

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার বন্যা কবলিত ১০ জেলার অসহায় মানুষের হাতে শেখ হাসিনার পক্ষে থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও উপকমিটি।

যেকোনো বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের ইতিহাস বলে মন্তব্য করেছেন সেতুমন্ত্রী। বলেন, ‘দেশের যেকোনো দুর্যোগে সবার আগে মানুষ পাশে দাঁড়াতে ছুটে যায় আওয়ামী লীগ।’

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা ঘরে বসে লিপ সার্ভিস দেয় তাদের ত্রাণ কার্যক্রম হলো এক ধরনের ত্রাণ বিলাস। বিএনপির মধ্যে কোনো ভদ্রতা নেই। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও যে অসভ্য ভাষায় কথা বলে তা কাম্য নয়।

‘বিএনপির ভাষা হলো রাস্তার ভাষা। তারা রাস্তার ভাষায় কথা বলে আর রাজনীতির ভাষায় কথা বলে আওয়ামী লীগ।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। ওই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

আরও পড়ুন:
‘বিএনপির আন্দোলনের কথা শুনলে জনগণ রসিকতা করে’
ফখরুলের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ কাদেরের
চলে গেলেন আওয়ামী লীগ নেতা মুকুল বোস
পদ্মা সেতু নিয়ে দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ
বিএনপির নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ কল্পিত: কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
People joked when they heard the name of the movement on the face of BNP

‘বিএনপির আন্দোলনের কথা শুনলে জনগণ রসিকতা করে’

‘বিএনপির আন্দোলনের কথা শুনলে জনগণ রসিকতা করে’ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। ছবি: সংগৃহীত
‘আওয়ামী লীগ হচ্ছে এ দেশের গণমানুষের দল। দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে আছে আওয়ামী লীগ। সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে যেকোনো দুর্যোগে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।’

বিএনপির আন্দোলনের কথা শুনলে জনগণ রসিকতা করে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কার্যালয়ে মঙ্গলবার বন্যাকবলিত ১০ জেলার মানুষকে শেখ হাসিনার পক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষে অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও উপকমিটি।

হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ হচ্ছে এ দেশের গণমানুষের দল। দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে আছে আওয়ামী লীগ। সুখে-দুঃখে, আপদে-বিপদে যেকোনো দুর্যোগে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।’

১৯৭০ সালের ভয়াবহ বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘১৯৭০ সালের ভয়াবহ বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে দেশের যখন ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল, তখন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। দাঁড়িয়ে ছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

‘এরপরে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেকোনো দুর্যোগ, বিপাকে দেশের মানুষের পাশে আছে আওয়ামী লীগ। সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গে সিলেটসহ ১০ জেলায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।’

বিএনপির মিথ্যাচারের কথা উল্লেখ করে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘সিলেট, সুনামগঞ্জসহ অন্যান্য অঞ্চলে বন্যা দেখার দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তারপরেও মিথ্যাচার করছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সেনাবাহিনী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

‘বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। দেশের মানুষ বলছে সরকার দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে। দেশের মানুষ বলছে সিলেটবাসীর মধ্যে যে পরিমাণ ত্রাণ দেয়া হয়েছে, তা নজিরবিহীন। এত ত্রাণ কখনও দেয়া হয়নি। তারপরও বিএনপির নেতারা বাসায় ও প্রেস ক্লাবে বসে নিয়মিত সরকারের নামে মিথ্যাচার, বিষোদগার করে যাচ্ছেন।’

বিএনপির নেতিবাচক কর্মকাণ্ড দেশের জনগণ ভুলেনি উল্লেখ করে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি এখন আর জনগণের জন্য নয়। তাদের রাজনীতি হুমকি-ধমকি, মাস্তানির কথাবার্তা। প্রতিদিন তাদের কার্যালয়ে, বাসায়, প্রেস ক্লাবে সরকারের সমালোচনা করাই হচ্ছে বিএনপির কাজ।

‘১৩ বছর ধরে তারা বলছে ঈদের পরে আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাবে, কিন্তু এবার বলছে বন্যার পরে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলে পতন ঘটানো হবে। বিএনপির আন্দোলনের কথা শুনে জনগণ এখন রসিকতা করে।’

সভাপতির বক্তব্যে বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘দেশের মানুষকে বাঁচাতে বন্যার্তদের সাহায্য করতে আওয়ামী লীগ ট্রেনিংপ্রাপ্ত। অসহায় দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলা লাগে না।’

অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, কার্যনির্বাহী সদস্য রেমন্ড।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগের ৭৩
আওয়ামী লীগ নেতাকে দুর্বৃত্তের গুলি
বিএনপির নেতারা কথা বলে বেশি, কাজ করে কম: নানক
৫০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকব: শেখ সেলিম
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান: বিত্তবানদের প্রতি হানিফ সংকেত

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Raushan returned to Thailand after 7 days

৮ দিন পর ফের থাইল্যান্ডে রওশন

৮ দিন পর ফের থাইল্যান্ডে রওশন আবার চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গেছেন রওশন এরশাদ। ছবি: সংগৃহীত
গত বছরের ৫ নভেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংকক নিয়ে যাওয়া হয় রওশনকে। তিনি থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ফুসফুসের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ২৭ জুন দেশে ফেরেন জাপা নেত্রী।

ছয় মাস চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরার আট দিন পর আবার চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ।

মঙ্গলবার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্যাংককের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে রাহ্গির আল মাহি সাদ এরশাদ ও পরিবারের সদস্যরা।

রওশনের সহকারী একান্ত সচিব মামুন হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ম্যাডাম (রওশন এরশাদ) এবার রুটিন চেকাপের জন্য গিয়েছেন। তবে কবে ফিরবেন সেটা বলতে পারি না।’

বিমানবন্দরে বিরোধীদলীয় নেতাকে বিদায় জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এ সময় মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু, কো- চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সালমা ইসলাম, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙা, প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, সাহিদুর রহমান টেপা, ফখরুল ইমাম, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, নাসরিন জাহান রতনা, নাজমা আক্তারসহ জাতীয় পার্টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ৫ নভেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংকক নিয়ে যাওয়া হয় রওশনকে। তিনি থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ফুসফুসের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

গত ২৭ জুন দেশে ফেরেন জাপা নেত্রী। বাজেট অধিবেশনেও যোগ দেন তিনি। গত শনিবার জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে রাজধানীর একটি হোটেলে মতবিনিময় সভায়ও অংশ নেন। সেই সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে চিকিৎসার সময় দলের কেউ তার খোঁজ নেয়নি।

অথচ যাদের দল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, তারাই নিয়মিত খোঁজ রেখেছেন। মসজিদ, মাজারসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

আরও পড়ুন:
রওশনের মতবিনিময়ে জাপার বিভক্তি ফের প্রকাশ্যে
সংসদে রওশনকে দেখে ছুটে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
পদ্মা সেতু নির্মাণে সমালোচকদের মুখে চুনকালি: রওশন
দেশে ফিরলেন রওশন এরশাদ
রওশন এরশাদকে দেখে দেশে ফিরলেন জি এম কাদের

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Extreme load shedding is horrible Fakhrul

প্রচণ্ড লোডশেডিং হচ্ছে, এটা ভয়াবহ: ফখরুল

প্রচণ্ড লোডশেডিং হচ্ছে, এটা ভয়াবহ: ফখরুল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি শাসনামলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ছিল নাজুক। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও তার জোটের বড় পরাজয়ের পেছনে যেসব কারণ কাজ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল বিদ্যুৎ খাত নিয়ে ব্যর্থতা। এই পাঁচ বছরে বিএনপি সরকার একটিও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে পারেনি, উল্টো এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন কার্যাদেশ বাতিল করেছে। বিদ্যুতের দাবিতে এখানে সেখানে বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে সেই সরকার। এমনকি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিও হয়েছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির হঠাৎ করে অবনতিকে ভয়াবহ বলে ‍উল্লেখ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, বিদ্যুতের উন্নয়নের কথা যে বাকসর্বস্ব, সেটি প্রমাণ হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এই মন্তব্য করেন।

গত ২৫ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে টানা আট দিন উত্তরার বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেন তিনি। করোনামুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে আসেন। আগের দিন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ তুলে ধরেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘প্রচণ্ড লোডশেডিং হচ্ছে- এটা ভয়াবহ। সরকারের শতভাগ বিদ্যুতের যে কথা, আজকের এই অবস্থা (লোডশেডিং) প্রমাণ করে যে আমরা যে কথাগুলো বলে আসছি- সেগুলো বাকসর্বস্ব কথা। এগুলো (কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট) করার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে দুর্নীতি করা, এসব করে নিজেদের পকেট ভারী করা, বিদেশে গিয়ে বাড়িঘর তৈরি করা।’

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি শাসনামলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ছিল নাজুক। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও তার জোটের বড় পরাজয়ের পেছনে যেসব কারণ কাজ করেছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল বিদ্যুৎ খাত নিয়ে ব্যর্থতা।

এই পাঁচ বছরে বিএনপি সরকার একটিও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে পারেনি, উল্টো এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন কার্যাদেশ বাতিল করেছে। বিদ্যুতের দাবিতে এখানে সেখানে বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছে সেই সরকার। এমনকি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিও হয়েছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি নানা পদক্ষেপ নেয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এই সময়ে কয়েক গুণ বেড়েছে এবং এটাকে সরকার সাফল্য হিসেবে প্রচার করে আসছে।

তবে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ গত কয়েক বছরে লোডশেডিং শব্দটা ব্যবহার করত না। তারাই এখন লোডশেডিংয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে। দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আর না কেনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এ জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হবে জানিয়ে তিনি দুঃখও প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ আমরা সবার ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সবাই পাচ্ছিল। কিন্তু এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে উপকরণগুলো সেগুলোর দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। যেমন ডিজেলের দাম বেড়েছে, তেলের দাম বেড়েছে, এলএনজির দামসহ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। কয়লা এখন প্রায় পাওয়াই যায় না।’

ফখরুল অবশ্য মনে করেন বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়ন হয়নি। পুরো খাতটিই ভঙ্গুর। তিনি বলেন, ‘এখন এটা প্রমাণিত হচ্ছে যে আমরা যেটা বলে আসছিলাম আল্টিমেটলি দেখা যাবে যে সবই একেবারে ভঙ্গুর অবস্থা। সেই ভঙ্গুর অবস্থার দিকেই আমরা চলে যাচ্ছি।

পদ্মা সেতুতে কাজ হবে না

বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র ‘অবরুদ্ধ’ দাবি করে বিএনপি নেতা বলেন, এই পরিস্থিতি রেখে হাজারটা পদ্মা সেতু করলেও বর্তমান সরকার জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না।

‘দেশের জনগণ আমাদের পাশে থেকে বারবার ভোট দিচ্ছে। আমাদের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আছে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন দিয়ে দেখুক না উনাদের প্রতি কতটুকু আস্থা আছে?

‘হাজারটা পদ্মা সেতু করেও কোনো লাভ হয় না। আইয়ুব খান যে উন্নয়ন করেছিল পাকিস্তান আমলে… কিন্তু জনগণের রাজনৈতিক মুক্তি যদি না হয়, জনগণ যদি গণতন্ত্রকে না পায়, গণতন্ত্র যদি না থাকে, তার অধিকার যদি না থাকে, তার ভোটাধিকার না থাকে সেখানে কিন্তু কোনো লাভ হয় না।’

মানুষ ভোট দিচ্ছে কোথায়- এমন প্রশ্ন রেখে বিএনপি নেতা বলেন, ‘জনগণের আস্থাটা গ্রহণ করছেন তিনি কীভাবে? তিনি তো কাগজে-কলমে সিল মেরে আগের রাত্রে ভোট দিচ্ছেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের মতো আরকি।’

রিজার্ভের ৭ বিলিয়ন ডলার সরকারসংশ্লিষ্টদের পকেটে

বাংলাদেশের বিজার্ভ থেকে সরকারঘনিষ্ঠদের ঋণ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে সরকারের শীর্ষ মহলের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রদানের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৩৪ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার।

‘ওই ধরনের প্রায় সবটাই (ফোর্সড লোন অধিকাংশই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের) পর্যবসিত হয়েছে। আইএমএফ এই ধরনের ঋণের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অন্তর্ভুক্ত না করতে বলেছে। এই সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার অবয়বে আর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই বলললেই চলে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার অর্থনীতির সকল নিয়মকানুন ভঙ্গ করে, রিজার্ভের সকল বিধি ভঙ্গ করে শুধুমাত্র নিজেদের ঘনিষ্ঠ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লাভবান করার জন্য রাষ্ট্রের এই ভয়াবহ ক্ষতি করে চলেছে। ইডিএফ্ ঋণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করে বিদেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ি, ব্যবসা, স্থাপনা তৈরি করে দেশের অর্থনীতির ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করছে। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সামাজিক, অর্থনীতি ও সমগ্র অর্থনীতিকে দেউলিয়া করে ফেলবে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির গতকালের সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।'

নতুন করে জনশুমারির দাবি

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশজুড়ে জনশুমারি ও গৃহগণনার কাজ সঠিকভাবে হয়নি বলে পরিকল্পনামন্ত্রীর স্বীকারোক্তি থেকে বোঝা যায় কী অবস্থা। প্রকৃতপক্ষে জনশুমারি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই সরকারের আমলে সব ধরনের সমীক্ষা জরিপ এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী হওয়ার প্রকৃত তথ্য কখনই পাওয়া সম্ভব হয়নি।

‘জনগণকে এবং বিশ্বজনমতকে বিভ্রান্ত করার জন্য, দেশের উন্নয়ন সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করার জন্যই সরকার এই ধরনের নীতিবিবর্জিত কার্য্কলাপ করে চলেছে। ফলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশের সকল তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। বিএনপি সঠিক পদ্ধতিতে প্রকৃত জনশুমারি ও গৃহগণনার ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছে।’

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া ভোটে যাবে না বিএনপি

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, এটা নির্ভর করবে নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হবে কি না তার ওপর। যদি নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হয় তাহলে আমাদের অংশগ্রহণ অবশ্যই দৃশ্যমান হবে। আর যদি না হয় হবে না।

‘আমরা খুব স্পষ্ট করে বলেছি বাংলাদেশে যদি একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন করতে হয় এখানে অবশ্যই একটা নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার থাকতে হবে। তা না হলে এখানে কোনোমতেই আপনার যদি একেবারে স্বর্গ থেকে নির্বাচন কমিশনার নিয়ে আসেন তাহলেও সেটাকে সুষ্ঠু করতে পারবেন না- ইমপসিবল।'

দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার ব্যর্থ

সিলেট অঞ্চলে বন্যার্তদের পাশে সরকার দাঁড়ায়নি বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, ‘বন্যাকবলিত এলাকায় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। বানভাসি মানুষের মাঝে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসনে সরকারের কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান নয়।

‘অবিলম্বে দুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্য, বস্ত্র, গৃহনির্মাণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থার জোর দাবি জানানো হয় স্থায়ী কমিটির সভায়।'

সম্প্রতি সাভারে স্কুলশিক্ষক হত্যা, নড়াইলে অধ্যক্ষকে অপমানসহ সারা দেশে সামাজিক নৈরাজ্যের চিত্রে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ফখরুল। জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এই বিষয়টি আলোচনা হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি মনে করে, ‘এই অনির্বাচিত সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা না থাকায় সমাজের সকল পর্যায়ে নীতিনৈতিকতার চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত পার্লামেন্ট এবং সরকার গঠনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সমাজ সৃষ্টি করলেই সমাজে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি।'

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বন্যার্তরা সরকারি ত্রাণ পাচ্ছে না: বিএনপি
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু
‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ চেইন পুনঃপরীক্ষা করা উচিত’
ঈদের পর আন্দোলন শুনে কষ্ট হয় তথ্যমন্ত্রীর
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Comilla is an example of good election

‘ভালো নির্বাচনের দৃষ্টান্ত কুমিল্লা’

‘ভালো নির্বাচনের দৃষ্টান্ত কুমিল্লা’ কুমিল্লা সিটিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা। ফাইল ছবি
‘এই নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ শুধু অংশগ্রহণই করেনি, অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটা নির্বাচন। চমৎকার প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হয়েছে, এখানে যে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পেরেছে, ভোটের মাধ্যমে তারা তাদের মনমতো প্রার্থীকে জয়ী করেছে। আমি মনে করি যে নির্বাচনের ইতিহাসে এটি একটি দৃষ্টান্ত।’

গত ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যে ভোট হয়েছে, সেটিকে ভালো ভোটের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পেরেছে, ভোটের মাধ্যমে তারা তাদের মনমতো প্রার্থীকে জয়ী করেছে।

ভোটের ২০ দিন পর মঙ্গলবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ অনুষ্ঠান হয়। মেয়র হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা আরফানুল হক রিফাতকে শপথ পড়ান প্রধানমন্ত্রী আর কাউন্সিলরদের শপথ পড়ান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

কুমিল্লার এই ভোট গত কয়েক বছরের ভোটের মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ২০১৪ সালের পর থেকে বিভিন্ন নির্বাচনে সহিংসতা, ভয়ভীতি, ভোটারদের বাধা, একজনের ভোট আরেকজনের দিয়ে দেয়ার যে বিস্তার অভিযোগ উঠেছিল, তার কিছুই হয়নি কুমিল্লায়।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে এই প্রথম ভোট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও দিনভর কোনো অভিযোগ করেননি। একেবারে শেষ পর্যায়ের চারটি কেন্দ্রের ফল ঘোষণার আগে হাঙ্গামার পর পরাজিত প্রার্থী দুই বারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু অভিযোগ করেন, তাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে পরে সেই চারটি কেন্দ্রসহ সব কেন্দ্রের আলাদা ফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সেসব ফলে দেখা যায়, সাক্কুর এজেন্টরা আগেই কেন্দ্র থেকে ফল নিয়ে এসেছেন। কেন্দ্র থেকে আলাদা ঘোষিত ফলাফলে সাক্কুর এজেন্টদের সই ছিল এবং তারা কোনো অভিযোগ করেননি।

কুমিল্লার এই ভোট আওয়ামী লীগের জন্য বেশ স্বস্তিকর এই কারণে যে, শহরের ভোটে ১৯৭৩ সালের পর তারা প্রথম জয় পেয়েছে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে সদর আসনে জয়ের পর সিটি করপোরেশনের দুটি নির্বাচনের মধ্যে প্রথমবার ২০১২ সালে ৩০ হাজার এবং পরেরবার ২০১৭ সালে ১১ হাজার ভোটে হেরে যান আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এবার স্বল্প ভোটে হলেও জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীনরা।

নৌকা নিয়ে রিফাত ভোট পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩১০টি, ঘড়ি প্রতীকে সাক্কুর পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ জন। ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩৪৩টি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এই নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ শুধু অংশগ্রহণই করেনি, অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক একটা নির্বাচন। চমৎকার প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনটা হয়েছে, এখানে যে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পেরেছে, ভোটের মাধ্যমে তারা তাদের মনমতো প্রার্থীকে জয়ী করেছে। আমি মনে করি যে নির্বাচনের ইতিহাসে এটি একটি দৃষ্টান্ত।’

জনগণ যে আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে, তার মর্যাদা রক্ষা করতে বিজয়ীদের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘মানুষের আস্থা, বিশ্বাসটা যেন আপনাদের ওপর থাকে। যে বিশ্বাস নিয়ে ভোটার আপনাকে ভোট দিয়েছেন, সেই বিশ্বাসে যেন কখনও চিড় না ধরে, সেই বিশ্বাস যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেই বিশ্বাসটাকে ধরে রেখে আরও বিশ্বাস যেন অর্জন করতে পারেন, সেদিকেই আপনারা বিশেষ দৃষ্টি দেবেন।’

কমিশনের চিন্তা বাদ দিন

উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘মোটা অঙ্কের কমিশন’-এর চিন্তা বাদ দিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতেও বলেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘যারা কাউন্সিলর ও মেয়র তাদের আমি এতটুকু বলব যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্প করতে হলে, এই একটা উন্নয়ন প্রকল্প করতে গেলে, একটা মোটা অঙ্কের কমিশন পাওয়া যাবে, ওই চিন্তা যেন কারও মাথায় না থাকে।

‘এই উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিলে পরে তার বাস্তবায়নের সুফল মানুষ কতটুকু ভোগ করবে, আর তার থেকে, এই উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাষ্ট্র কতটুকু লাভবান হবে, এই অর্থটা কতটুকু ফেরত আসবে আর কতটুকু মানুষের কাজে লাগানো যাবে, সেটাই মাথায় রাখবেন।’

আরও পড়ুন:
জীবনের ওপর ফের আঘাতের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর
দক্ষিণে ব্যাপক উন্নয়ন করবে পদ্মা সেতু: প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Prime Minister is also worried about the security personnel

জীবনের ওপর ফের আঘাতের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর

জীবনের ওপর ফের আঘাতের শঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ীদের শপথ পড়ানোর অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিএমও
১৯৮১ সালে ঘরে গুলি, প্রকাশ্য জনসভায় ব্রাশ ফায়ার, গ্রেনেড হামলা, ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে বা ট্রেনে অথবা গাড়িবহরে হামলা করে হত্যার চেষ্টা থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা বারবার নিরাপদে বেঁচে ফিরেছেন দলীয় বহু নেতা-কর্মীর প্রাণের বিনিময়ে। দলের পক্ষ থেকে হিসাব করা আছে, তাকে হত্যায় মোট ১৯ বার চেষ্টা করা হয়েছে। সব ঘটনায় মামলাও হয়নি। আবার মামলা হলেও বছরের পর বছর ধরে চলছে সেসব মামলা।

নিজের জীবন ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, যেকোনো সময় আঘাত আসতে পারে। এমনকি তার নিরাপত্তায় যারা কাজ করছেন তাদের নিয়েও চিন্তিত সরকারপ্রধান।

ঢাকা সেনানিবাসের পিজিআর সদরদপ্তরে মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি যেটা সব সময় অনুভব করি, আমি জানি আমার জীবনটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমি বাংলাদেশে আসার পর বারবার আমার ওপর আঘাত এসেছে। আমার পার্টির অনেক নেতা-কর্মী তারা জীবন দিয়ে আমাকে রক্ষা করেছেন। মানবঢাল তৈরি করে আমাকে রক্ষা করেছেন।

‘কাজেই আপনারা যখন দায়িত্ব পালন করেন, স্বাভাবিকভাবে আমার চিন্তাও থাকে আপনাদের জন্য, সকলের জন্য। কারণ, যেকোনো সময় আঘাত আসতে পারে।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার রাতে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। হত্যার ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর বারবার বঙ্গবন্ধুর বড় কন্যাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে।

ঘরে গুলি, প্রকাশ্য জনসভায় ব্রাশ ফায়ার, গ্রেনেড হামলা, ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে বা ট্রেনে অথবা গাড়িবহরে হামলা করে হত্যার চেষ্টা থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা বারবার নিরাপদে বেঁচে ফিরেছেন দলীয় বহু নেতা-কর্মীর প্রাণের বিনিময়ে।

দলের পক্ষ থেকে হিসাব করা আছে, তাকে হত্যায় মোট ১৯ বার চেষ্টা করা হয়েছে। সব ঘটনায় মামলাও হয়নি। আবার মামলা হলেও বছরের পর বছর ধরে চলছে সেসব মামলা। একাধিক মামলায় রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে জনা ত্রিরিশের বেশি আসামির ফাঁসির দণ্ড হয়েছে। তবে কোনো রায় এখনও কার্যকর হয়নি।

পিজিআর সদস্যদের কর্তব্যপরায়ণতা, দক্ষতা, বিশ্বস্ততা প্রশংসনীয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু আপনারা কখনও নিজের জীবনের কথা চিন্তা করেন না। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, তুফান–সবকিছু মাথায় নিয়েও আপনারা আপনাদের কর্তব্য পালন করেন, দায়িত্ব পালন করেন। আমি আপনাদের আন্তরিকভাবে দোয়া করি এবং আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই আপনারা যে এত কষ্ট স্বীকার করেন।’

‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় গার্ডসের লক্ষ্য’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে রেজিমেন্টের সবাইকে কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আন্তরিকতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠা এবং দেশপ্রেমের শপথে বলীয়ান হয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, পেশাগত অনুশীলনের মাধ্যমে রেজিমেন্ট আগামীতে আরও সমৃদ্ধ হোক আমি সেটাই আশা করি। এ ক্ষেত্রে যা যা দরকার অবশ্যই আমরা তা করব।’

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আবারও বাড়তে থাকায় সবাইকে সতর্ক থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। যারা এখনও বুস্টার ডোজ নেননি, তাদের দ্রুত বুস্টার ডোজ নিতেও অনুরোধ জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে ঈদ কার্ড পাঠালেন জি এম কাদের
পদ্মা সেতু ইট-কাঠের স্থাপনা নয়, এটি আত্মমর্যাদা: শেখ হাসিনা
পদ্মা সেতু স্বর্ণ দুয়ার খুলে দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
সংসদে রওশনকে দেখে ছুটে গেলেন প্রধানমন্ত্রী
ষড়যন্ত্রের কারণে পদ্মা সেতু হতে ২ বছর বিলম্ব: প্রধানমন্ত্রী

মন্তব্য

p
উপরে