× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
BRTA doesnt know that passengers are cheating
google_news print-icon

এখনও ওয়েবিল, জানেই না বিআরটিএ

এখনও-ওয়েবিল-জানেই-না-বিআরটিএ
বাসের ওয়েবিলে যাত্রীসংখ্যা লিখছেন চেকার। ছবি: নিউজবাংলা
ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর বাসভাড়া বাড়িয়ে বিআরটিএ ঘোষণা দিয়েছিল, ওয়েবিল পদ্ধতিতে কোনো বাস চলবে না। একই ঘোষণা ছিল মালিকদেরও। কিন্তু চার মাস পর দেখা যাচ্ছে ঢাকার প্রায় সব বাস চলে ওয়েবিলে। আর এতে নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে। যাদের নিয়ন্ত্রণ করার কথা, সেই বিআরটিএর চেয়ারম্যান ও ট্রাফিক পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন কোন বাস ওয়েবিলে চলে, নিউজবাংলার কাছে তার তালিকা চেয়েছেন।

মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে বিকাশ পরিবহনে করে কুড়িল পর্যন্ত দূরত্ব ৯ দশমিক ৯ কিলোমিটার। নির্ধারিত ২ টাকা ১৫ পয়সা হিসেবে ভাড়া হওয়ার কথা ২১ টাকা, কিন্তু বিকাশ পরিবহন নিচ্ছে ৪০ টাকা।

এই টাকায় অবশ্য যাওয়া যায় উত্তরার কামারপাড়া পর্যন্ত। সেই দূরত্বের হিসাবে ভাড়া হয়তো ঠিক আছে। যাত্রীদের প্রশ্ন হলো, কুড়িল গিয়ে কামারপাড়ার ভাড়া কেন দিতে হবে?

আবার কামারপাড়ার ভাড়া নিয়ে যাত্রী কুড়িলে নামিয়ে দেয়ার পরও সেখান থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত যাত্রী তুলতেই থাকে বাসটি।

আরও পড়ুন: ওয়েবিলে বাস চলবে না: মালিক সমিতি

বাড়তি ভাড়া আদায়ে গত কয়েক বছর ধরে ওয়েবিল পদ্ধতি চালু হয়েছে রাজধানীতে। এই পদ্ধতিতে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া না কেটে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক আদায় করা হয়। কেউ মাঝপথে নেমে গেলেও তার কাছ থেকে আদায় করা হয় পুরো পথের দূরত্ব, যা লোকাল বাসের ক্ষেত্রে কখনও হওয়ার কথা নয়।

আইনে এভাবে ভাড়া কাটার কোনো বৈধতা নেই। যখন বাসভাড়া নিয়ে শোরগোল হয়, তখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে ঘোষণা করে, ‘এক টাকাও বাড়তি আদায় করা যাবে না। কেউ আদায় করলেই শাস্তি পেতে হয়।

আরও পড়ুন : বাসে যাত্রী ঠকানোর ‘ওয়েবিল’

গত নভেম্বরে ডিজেলের দাম বাড়ার পর ওয়েবিলের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিআরটিএ ঘোষণা দেয়, ওয়েবিলে কোনো বাস চলবে না। বাসমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহও সংবাদ সম্মেলন করে একই ঘোষণা দেন।

সে সময় বাড়তি বাসভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে ডেকে বেশ কয়েক দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিআরটিএ। দিনশেষে কত টাকা জরিমানা করা হলো, তাও বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়।

এর আগেও একই পদ্ধতিতে কাজ করে শেষে ক্ষান্ত দিয়েছে বিআরটিএ। এবারও তারা তাই করেছে। এখন আর ওয়েবিলের নামে দ্বিগুণের বেশি ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে বিআরটিএর কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।

এমনকি ২৫টি বাসের রুট পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে সেটির বিষয়েও আর কিছু করেনি সংস্থাটি। পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেল, সেই বাসগুলো কথা দিয়েছে, তারা আইন মেনে ভাড়া কাটবে। এরপর রুট পারমিট বাতিল না করে তাদের আরও সময় দেয়া হয়েছে।

এখনও ওয়েবিল, জানেই না বিআরটিএ

রাজধানীর এই ছয়টি রুটে বাসভাড়া নতুন নির্ধারিত বাসভাড়ার দ্বিগুণেরও বেশি।

দুই কিলোমিটার পর পর ওয়েবিল, ভাড়া কিলোমিটারে ৫ টাকা

মোহাম্মদপুর থেকে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত চলা স্বাধীন পরিবহনেও দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হয় বিকাশ পরিবহনের কৌশলেই। নিউ ইস্কাটনের বিয়াম গলি থেকে রামপুরা পর্যন্ত ভাড়া নেয় ২০ টাকা। দূরত্ব চার কিলোমিটার। হিসাব করে দেখা যায়, প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া পড়ছে পাঁচ টাকা।

কিন্তু সরকার যে বাসভাড়া ঠিক করেছে, তাতে ভাড়া হওয়ার কথা ১০ টাকা। তাহলে কেন ২০ টাকা নেয়?

জবাব হলো দুটি ওয়েবিল বসানো হয়েছে। একটি ওয়েবিল থেকে আরেকটির দূরত্ব দুই কিলোমিটার। তাতে সর্বনিম্ন ভাড়া আসে ১০ টাকা, সেই হিসাবে চার কিলোমিটারে দুটি ওয়েবিল বসিয়ে ভাড়া নেয়া হচ্ছে ২০ টাকা।

মিরপুর-১ নম্বর থেকে বনশ্রী যাওয়া আলিফ পরিবহনে চলাচল করা যাত্রী মৌসুমী ইসলাম বলেন, ‘শেওড়াপাড়া থেকে বিএএফ শাহীন কলেজের সামনে নামলে নিচ্ছে ২০ টাকা। এই ২০ টাকা ভাড়ায় যাওয়া যাবে গুলশান-১ পর্যন্ত। এর কারণ হচ্ছে ওয়েবিল। আমি শাহীনে নেমে কেন গুলশান-১-এর ভাড়া দেব?’

বাড্ডার নতুনবাজার থেকে বিমানবন্দর মোড় পর্যন্ত ৯ দশমিক ৩ কিলোমিটার দূরত্বে রাইদা পরিবহন ভাড়া নিচ্ছে ৩০ টাকা।

মগবাজার থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার পথের জন্য প্রভাতী বনশ্রী ভাড়া নিচ্ছে ৪০ টাকা।

এখনও ওয়েবিল, জানেই না বিআরটিএ
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে স্বাধীন পরিবহনের বাসে ওয়েবিলে যাত্রীসংখ্যা লিখছেন চেকার। ছবি: নিউজবাংলা

ভাড়ার চার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, থাকলেও মানে না শ্রমিকরা

স্বাধীন পরিবহনে উঠে এক যাত্রী বাংলামোটর থেকে রামপুরা যাবেন বলে ১০ টাকা ভাড়া দিলেন। যিনি ভাড়া কাটছেন, তিনি বললেন, ‘২০ ট্যাকা দেন। দুইডা ওয়েবিল আছে। ১০ ট্যাকা কইরা ২০ টাকা।’

স্বাধীন পরিবহনের বেশির ভাগ বাসেই ভাড়ার চার্ট ছিঁড়ে ফেলা হলেও সেই বাসে ছিল। আর সেটি দেখিয়ে সেই যাত্রী বললেন, ‘তোর চার্টে দেখ কত ভাড়া।’

পরিবহন শ্রমিক বললেন, ‘চার্ট মাইন্যা বাস চলে না।’

এরপর বাসের অন্য যাত্রীরা পক্ষ নিলেন সেই যাত্রীর। আর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চুপ করে গেলেন শ্রমিক।

কিন্তু সব বাসে ভাড়ার চার্ট নেই। সেগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আবার আইন অনুযায়ী ভাড়ার কথা বললে শ্রমিকরা এভাবে চুপ হন না। আর ঝগড়াঝাটি করতে রাজি না হয়ে দাবি করা ভাড়া মিটিয়ে রাগে গজগজ করতে থাকেন যাত্রীরা।

আরও পড়ুন : যাবেন মগবাজার, ভাড়া দেবেন মতিঝিলের

ওয়েবিল আছে, জানেনই না বিআরটিএ চেয়ারম্যান

অনেক অভিযান, অনেক ঘোষণার পর ‘যেই লাউ সেই কদু’ পরিস্থিতি নিয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারের মুখোমুখি হয়ে নিউজবাংলা জানতে পেরেছে, এই নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান জানেনই না কোন কোন বাস ওয়েবিলে চলে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিআরটিএ প্রধান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট করে কোন গাড়ি, কত টাকা ভাড়া বেশি নিচ্ছে, সেটা বলেন। আমরা ওয়েবিল মানি না। ওয়েবিল তো স্বীকৃত না।’

তিনি পরে আবার বলেন, ‘যখনই যেটা পাড়তেছি, তাকে জরিমানা করছি। আপনি সুনির্দিষ্টভাবে বাসের নাম বলেন। আমরা ওই বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন : বাড়তি ভাড়া রোধে ব্যর্থ পুরোনো পথেই হাঁটছে বিআরটিএ

নিজেও ওয়েবিল মানেন না বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন বিআরটিএ প্রধান। বলেন, ‘ওয়েবিল মালিকদের মনগড়া। এটা তো আইন না। আমরা কোনো দিনই ওয়েবিলকে স্বীকার করি নাই, করবও না।’

যদি স্বীকার নাই করেন, তাহলে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না- এমন প্রশ্ন ছিল জনাব মজুমদারের কাছে।

জবাবে তিনি স্বীকার করতে চাননি যে বিআরটিএ নিষ্ক্রিয়। তিনি বলেন, ‘শাস্তি তো হচ্ছেই। আপনি নিজেও অভিযোগ করতে পারেন। মোবাইল কোর্ট তো আমাদের প্রতিদিনই আছে। কেউ বেশি ভাড়া নিলে বা যাত্রীরা অভিযোগ করলে জরিমানা করছে।

‘আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা জরিমানা করছেন, মামলা করছেন। যাত্রীরা ম্যাজিস্ট্রেটকে বলবে যে তাদের থেকে ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে।’

মোহাম্মদপুর থেকে স্বাধীন পরিবহনে চলা যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিআরটিএ-র ম্যাজিস্ট্রেট কোথায় থাকেন তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। তাদের পেলে না অভিযোগ দেব।’

বিআরটিএ চেয়ারম্যানকে এই যাত্রীর অভিযোগ জানালে তার বক্তব্য কিছুটা পাল্টায়। তখন তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের অলিতেগলিতে ঘুরে দেখার মতো ম্যাজিস্ট্রেট নাই আমার। আমার সাতজন ম্যাজিস্ট্রেট কোথায় দেব বলেন?’

ওয়েবিলে কোন কোন বাস চলে, সেটি জানেন না ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মুনিবুর রহমানও। তিনি নিউজবাংলাকে এ-সংক্রান্ত প্রশ্নে বলেন, ‘আপনার কাছে তথ্য থেকে থাকলে কমিশনার স্যার বরাবর চিঠি দেন। আপনি উল্লেখ করে দেন কোন কোন পরিবহন কোন কোন রুটে ওয়েবিলের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছে। আমরা ব্যবস্থা নেব।’

ওয়েবিলে বাস চলবে না- এমন ঘোষণা দেয়ার পরও কেন চলছে, সে বিষয়ে জানতে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা ও মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহর বক্তব্য পায়নি নিউজবাংলা। তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: ২৫ বাস কোম্পানির রুট পারমিট বাতিলের সুপারিশ

সেই ২৫ বাসের রুট পারমিট বাতিল হয়নি

বিআরটিএ ২৫ বাসের রুট পারমিট বাতিলের ঘোষণা দিলেও সেসব বাসের যাত্রী টানার কারণ কী- এমন প্রশ্নে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঢাকা মেট্রোর আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির (মেট্রো আরটিসি) এর সভাপতি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম। মেট্রো আরটিসি থেকেই রুট পারমিট শুরু হয় এবং রুট পারমিট বাতিলের সিদ্ধান্ত সেখানে হয়।

‘২৫ বাসের রুট পারমিট বাতিল বিষয়ে আমরা তাদের চিঠি দিয়েছি। আমি জানি যে, এ বিষয়ে সেখানে একটা মিটিংও হয়েছে এবং সিদ্ধান্তও হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো আমরা লিখিত পাই নাই। মেট্রো আরটিসিতে একটু খবর নেন তারা কী করেছে।’

শফিকুল ইসলামের কাছেও জানা গেল না, সেই বাসগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কত দূর। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন তো এমন ৫০টা চিঠি আমি স্বাক্ষর করি। তিনি (বিআরটিএ চেয়ারম্যান) কবে চিঠি পাঠিয়েছেন সেটা সুনির্দিষ্টভাবে আমার মনে নাই। বিআরটিএ যদি এমন প্রস্তাব আমাদের কাছে পাঠিয়ে থাকে, তবে এটা বাতিল না করার কোনো কারণ নাই। তবে এটা করা হয়েছে কি না বা কী পর্যায়ে আছে সেটা আমি জানি না।’

পরে ডিএমপি কমিশনারের পরামর্শে এ বিষয়ে সবশেষ তথ্য জানতে যোগাযোগ করা হয় ডিএমপি ট্রাফিকের অতিরিক্ত কমিশনার মুনিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই ২৫ কোম্পানি আমাদের কাছে অঙ্গীকার করেছে যে তারা যেটা করেছে (অতিরিক্ত ভাড়া আড়ায়), সেটা ঠিক করেনি। তারা নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া নেবে এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘তারা আবেদন করায় কমিটি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই ২৫ কোম্পানির বাস বন্ধ করলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হবে। করোনার কারণে এমনিতেই বাস কমে গেছে, এই বাসগুলো বন্ধ করে দিলে আরও ঝামেলা হবে। ঢাকার মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আমরা তাদের অবজারবেশনে রেখেছি। পরবর্তী মিটিংয়ে গত তিন মাসের অবজারবেশন তুলে ধরা হবে এবং ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আর পড়ুন: ভাড়া বেশি নিলে বাস ডাম্পিং

‘ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে কী করেন, সেটা জনগণকে জানান’

যাত্রীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তাদের (বিআরটিএ) ম্যাজিস্ট্রেট যে কাজ করে তার ফলাফল কী? কিছুটা কমছে বলতে কতটা কমছে, সেটার রেজাল্ট দেন।’

এখনও ওয়েবিল, জানেই না বিআরটিএ

যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাসভাড়া নেয়া কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া বেঁধে দিলেও তাতে গা নেই ড্রাইভার-হেল্পারদের। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আমাদের (বিআরটিএ) অভিযান চালানোর আগে এই পথে ছিল ১৫ টাকা, অভিযান চালানোর পরে হয়েছে ১২ টাকা। এমন একটা উদাহরণ দিক তারা। না হলে আপনি কীসের কাজ করলেন?’

মোজাম্মেলের ধারণা, বাস মালিকদের ভয় পায় বিআরটিএ। নইলে অবৈধ ওয়েবিল কীভাবে খোদ রাজধানী শহরে চলে, সেই প্রশ্ন রেখেছেন তিনি। বলেন, ‘বাসের রুট পারমিট বাতিল করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করলেও তারা মালিকদের বিরুদ্ধে কিছুই করবে না।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Mother and daughter killed in Mohammadpur

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা হত্যার পর স্কুলড্রেস পরে বেরিয়ে যায় গৃহকর্মী

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসায় গৃহিনী মালাইলা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যার পর বাথরুমে গোসল করে গৃহকর্মী আয়েশা (২৩)। এরপর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসার ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ বাসার সপ্তম তলার ৭/বি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, মাত্র চার দিন আগে বাসার দারোয়ান মালেকের মাধ্যমে ওই মেয়েকে আনা হয়। পরে গৃহকর্মী হিসেবে নিহত মালাইলা আফরোজের বাসায় কাজ দেওয়া হয়। তখন নিজের নাম আয়েশা বলে পরিচয় দেয়। পরে মা-মেয়েকে হত্যার পর নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বের হয়ে যায় সেই মেয়ে।

ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত মালাইলা আফরোজ (৪৮) গৃহিণী। মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাফিসার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম পেশায় শিক্ষক। তিনি উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক।

ভবনের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নাফিসার বাবা স্কুলের উদ্দেশে সকাল ৭টার দিকে বের হয়ে যান। সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরখা পরে ওই বাসার লিফটে ওঠে সাত তলায় যায় গৃহকর্মী আয়েশা। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে ড্রেস পরে মুখে মাস্ক লাগিয়ে বের হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাফিসার বাবা বাসায় ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।

নিহত নাফিসার বাবা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাসায় একজন কাজের মহিলা দরকার ছিল। সাধারণত গেটে অনেকে কাজের সন্ধানে আসেন। চার দিন আগে একটি মেয়ে আসে। বোরকা পরিহিত মেয়েটি বাসার দারোয়ান খালেকের কাছে কাজের সন্ধান করলে সে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর আমার স্ত্রী মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে কাজে রেখে দেয়।

পরে স্ত্রীর মুখে শুনেছি, মেয়েটার নাম আয়েশা। বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর। জেনেভা ক্যাম্পে চাচা-চাচির সঙ্গে থাকে। বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা গেছে। তার শরীরেও আগুনে পোড়ার ক্ষত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মেয়েটা কাজ শুরুর পর প্রথম দুদিন সময়মতো এসেছে। গতকাল সে সাড়ে ৯টার দিকে আসে। আজ কী হয়েছে, এটা তো আর বলার অবস্থায় নেই।

এদিকে ঘটনাস্থল ফ্ল্যাটটিতে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ। বাসার আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা।

পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, মাকে হত্যার পর ওই মেয়েটি দৌড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হয়তো ইন্টারকমে সিকিউরিটি গার্ডকে ফোন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে ইন্টারকমের লাইনটি খোলা পাওয়া যায়। মেয়েটি খুব সুন্দরভাবে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করে বাথরুমে গিয়ে গোসল করে শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে নাফিসার স্কুলের ড্রেস পরে নির্দ্বিধায় গেট দিয়ে বেরিয়ে যায়।

তল্লাশি করে বাথরুমে একটি সুইচ গিয়ার ও একটি ধারাল অস্ত্র পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছুরি দুটি দিয়ে মা-মেয়েকে হত্যা করেছে গৃহকর্মী আয়েশা। এ ঘটনায় ওই বাসার দারোয়ান মালেককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান জানান, পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খবর পায়। মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে নেওয়ার পর মারা যায়। পরে লাশ দুটি সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি, সেসব যাচাই-বাছাই চলছে।

গৃহকর্মীর প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি, হত্যার আগে-পরে তার উপস্থিতি ও অ্যাকটিভিটিজ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাব।

বাসার ভেতরের অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বলছে, বাসায় ধস্তাধস্তির আলামত রয়েছে, মেঝেতে এবং দেওয়ালে রক্তের দাগ রয়েছে। আলমারি ও ভ্যানিটি ব্যাগ তছনছ অবস্থায় রয়েছে। যা মনে করছি, প্রাথমিকভাবে কিছু খোয়া যেতে পারে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে আমরা একজনকেই দেখেছি, পরে দেখব আশপাশে আরও কেউ ছিল কি না?

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি ধারাল ছুরি উদ্ধার করেছে এবং হত্যাকারী ফ্রেশ হয়েছে বাথরুমে— এমন আলামত পাওয়া গেছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Youth Dal leader shot dead in Mirpur

মিরপুরে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা

মিরপুরে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মিরপুর ১২ নম্বরের সি-ব্লক মোড়ে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এ ঘটনায় একজনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মফিজুর রহমান গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি পল্লবী থানা যুবদলের নেতা ছিলেন। তবে কে বা কারা গুলি করেছে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক জানান, গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে নেয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্য থেকে জানা যায়, কিবরিয়াকে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে বিএনপি নেতাকে গুলি করার খবর এসেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা কি নিয়ে এই গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে পল্লবী সেকশন-১২ এ অবস্থিত বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারিতে বসে থাকা অবস্থায় পল্লবী থানা যুবদল সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে মোটরসাইকেলযোগে এসে তিনজন দুর্বৃত্ত ভেতরে ঢুকে তার মাথা, বুকে ও পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে ৭ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cocktail explosions set two buses on fire in the capital at midnight

রাজধানীতে মধ্যরাতে ককটেল বিস্ফোরণ, দুটি বাসে অগ্নিসংযোগ

রাজধানীতে মধ্যরাতে ককটেল বিস্ফোরণ, দুটি বাসে অগ্নিসংযোগ

রাজধানীতে আবারও ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে গুলিস্তান, সূত্রাপুর, মিরপুর বেড়িবাঁধ, হাতিরঝিল ও কারওয়ান বাজার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট এলাকায় দুইটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পরপরই দুর্বৃত্তরা দ্রুত সরে পড়ে।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সূত্রাপুর ও মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

একই রাতে হাতিরঝিলের রেইনবো ক্রসিং ও কারওয়ান বাজারের মাছের আড়তের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এভাবে একের পর এক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগে নাশকতার আশঙ্কা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট, কাকরাইল মোড়, কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালায় পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে অন্তত ২০টির বেশি ককটেল বিস্ফোরণ এবং ১১টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে রাজধানীতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জনগণের মাঝে ভীতি ছড়ানোই তাদের উদ্দেশ্য।”

তিনি আরও বলেন, “রাজধানীতে শঙ্কার কিছু নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে।”

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ ও ঝটিকা মিছিলে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের অধিকাংশই রাজধানীর বাইরে থেকে আসা বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতাকারীদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
8 party leaders are gathering at Paltan intersection

৮ দলের সমাবেশ, পল্টন মোড়ে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

৮ দলের সমাবেশ, পল্টন মোড়ে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা

পাঁচ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের ডাকা গণসমাবেশে অংশ নিতে রাজধানীর পল্টন এলাকায় আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। বেলা দুইটায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর ঢাকার আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের বায়তুল মোকাররম মসজিদের আশপাশে ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি বাস্তবায়ন, নভেম্বরে গণভোট, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আট দল।

এর আগে গত ছয়ই নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছিল এই দলগুলো।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
34 leaders and workers of A League and allied organizations were arrested in the capital

রাজধানীতে আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৪ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীতে আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৪ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৪ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক ক্ষুদেবার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, রাজধানীতে ঝটিকা মিছিল পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অংশগ্রহণকারী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৩৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
New elite Gulshan South Club approved in Gulshan

গুলশানে অনুমোদন পেল নতুন অভিজাত ‘গুলশান সাউথ ক্লাব’

গুলশানে অনুমোদন পেল নতুন অভিজাত ‘গুলশান সাউথ ক্লাব’

রাজধানীর গুলশানে আরও একটি নতুন অভিজাত ক্লাবের যাত্রা শুরু হলো। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মস থেকে ‘গুলশান সাউথ ক্লাব’ নামে একটি নতুন ক্লাবের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেছে।

গতকাল (৩ নভেম্বর ) ক্লাবটির নিবন্ধন অনুমোদনের পর এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

গুলশান সাউথ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ড. সৈয়দ মো. শাহান শাহ শাহীন। উদ্যোক্তা পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জনাব মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।

এছাড়া ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন আরও সাতজন— খান মোহাম্মদ ইকবাল, কৃষিবিদ মো. ইউনুস আলী, মো. খালিদুজ্জামান, মোহাম্মদ নূর নবী, আব্দুল আউয়াল বিপ্লব, মো. এনামুল হক এবং জুবাইদা নাজনীন প্রমুখ।

নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে গুলশান এলাকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Online service has been launched in BMU to avoid suffering from long queues for booking tickets and seeing doctors

টিকেট কাটা ও ডাক্তার দেখাতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি এড়াতে বিএমইউতে অনলাইন সেবা চালু

টিকেট কাটা ও ডাক্তার দেখাতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি এড়াতে বিএমইউতে অনলাইন সেবা চালু

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর বহির্বিভাগ টিকেট কাটতে এখন থেকে আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। রোগীরা বিএমইউ এর ওয়েবসাইটে (https://bmu.ac.bd) গিয়ে অনলাইনে পেমেন্ট সম্পন্ন করে ব্যবস্থাপত্রটি (টিকেট) প্রিন্ট করে টিকেটে উল্লেখিত বিভাগ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ডাক্তার দেখিয়ে পরামর্শ নিতে পারবেন। মূলত রোগীদের ভোগান্তি নিরসন ও দুর্ভোগ লাঘবসহ অযাচিত ভিড় এড়াতে এবং বহিবির্ভাগ চিকিৎসাসেবা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যেই অনলাইন টিকেটিং সিস্টেম চালু করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এরফলে এখন থেকে বাসায় বসেই অনলাইনে কাটা যাবে বিএমইউ এর বহির্বিভাগের টিকেট। একইসঙ্গে সকাল থেকেই হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখাতে করতে হবে না দীর্ঘ অপেক্ষা। আজ বুধবার ২৯ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে এই কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে বিএমইউ ও পূবালী ব্যাংক এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

বিএমইউ এর সম্মানিত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলামের সঞ্চালানায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, অনলাইন টিকেট সিস্টেম দেশের প্রয়োজনে চালু করা হয়েছে। যেকোনো দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সবসময় জনগণ কেন্দ্রিক হয়। শিক্ষা ও গবেষণা দেশের মানুষের জন্যই হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে দেশের মানুষের জন্য। আমরা অনেকদিন থেকে ভাবছিলাম রোগীদের যেন দীর্ঘ অপেক্ষা করতে না হয়। অনলাইন টিকেটিং সিস্টেম দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি কমাবে। এই পদ্ধতিতে রোগীরা তাদের চাহিদামতো সময়ে চিকিৎসককে দেখাতে পারবেন। সময়ের ব্যবধানে সবকিছু অনলাইন সিস্টেমে হবে। অনলাইন নানাদিক থেকে সুবিধা দিবে। টিকেট কাটতে আর হাসপাতালে দীর্ঘ লাইন দিতে হবে না জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মোঃ শাহিনুল আলম বলেন, ওয়েটিং টাইমটাকে চেম্বার বা হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে যেতে চাই। হাসপাতালে অপেক্ষা করা লাগবে না। তবে এই কার্যক্রমে শুরুর দিকে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তা ওভারকাম করার জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাংবাদিক, গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা ইতিবাচকভাবে তুলে ধরলে বিএমইউ এর এই প্রচেষ্টা অবশ্যই সাফল্য পাবে। প্রায় সকল রোগীই বিএমইউ এর চিকিৎসাসেবায় সন্তুষ্ট। কিন্তু দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কাটা, ডাক্তার দেখাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা তাদেরকে কষ্ট দেয়। সেই কষ্ট দূরীকরণের লক্ষ্যেই আজকের এই উদ্যোগ। বিএমইউকে ডিজিটালাইজড হাসপাতালে রূপান্তরেরর কার্যক্রম চলমান আছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে অটোমেশনের বিকল্প নাই। বিএমইউ এর অটোমেশন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতেই হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ, আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান, পূবালী ব্যাংক লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

তারা বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাসেবা, উচ্চতর মেডিক্যাল শিক্ষা ও গবেষণায় একটি আস্থার নাম। আজকেরই এই উদ্যোগ দেশের জন্য একটি মাইলফলক। এর মাধ্যমে মূলত রোগীরাই সবচাইতে বেশি উপকৃত হবেন। আগামী দিনে সেবার সকলক্ষেত্রেই এটা চালু করতে পারলে রোগীরা স্বাছন্দ্যে টিকেট কাটা থেকে শুরু করে সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।

মন্তব্য

p
উপরে