বহিষ্কারেও ভোটে বিএনপির তৃণমূল, পঞ্চম ধাপে চেয়ারম্যান ৮৩

player
বহিষ্কারেও ভোটে বিএনপির তৃণমূল, পঞ্চম ধাপে চেয়ারম্যান ৮৩

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ধাপেও বিএনপির অনেক নেতা স্বতন্ত্র ব্যানারে প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন। গ্রাফিক্স: নিউজবাংলা

তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের মতো পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও বিএনপির তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে চমক দেখিয়েছেন। এই ভোট বর্জন করা বিএনপি আগের ধাপগুলোতে ভোটে অংশ নেয়া তৃণমূলের নেতাদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিলেও পঞ্চম ধাপের ভোটে অংশ নেয়ায় বেশ কয়েকজনের পদ কেড়ে নিয়েছে। তাতেও নেতারা ভোট থেকে দূরে থাকেননি।

বিএনপির বর্জনের মধ্যেও চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটির নেতাদের ফলাফলের চমক অব্যাহত রয়েছে।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯৬ জন এবং চতুর্থ ধাপে ৯৮ জনের পর পঞ্চম ধাপের নির্বাচনেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলটির ৮৩ জন তৃণমূল নেতা চেয়ারম্যান হয়েছেন।

বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচন বর্জন করলেও দলটির তৃণমূলের নেতারা ভোট থেকে দূরে থাকতে চাইছেন না। স্বতন্ত্র প্রার্থীর পরিচয়ে ভোটের মাঠে তারা অবস্থান ধরে রাখতে চাইছেন।

চলতি বছর পৌরসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনার পর বর্তমান সরকার আর নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো ভোটে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ফলে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তাদের কোনো প্রার্থী নেই।

তবে গত ২ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, বিএনপি আসলে এই নির্বাচন থেকে একেবারে দূরে নেই।

সেদিন ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে এক ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করাটা সঠিক নয়। তাই বিএনপি এ নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না। তবে বিএনপি থেকে কেউ স্বতন্ত্র হয়ে অংশ নিলে সেখানে বাধা নেই।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে ফলাফল ঘোষণা করা ৬৬২টি ইউনিয়নে নৌকার ৩০৮, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ১৯০, বিএনপি ৮৩ এবং অন্যান্য ৮১ জন চেয়ারম্যান হয়েছেন।

এরপর মোট তিনটি ধাপের নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় ধাপের নির্বাচনের আগে ভোটে দাঁড়ানোয় বিএনপি বেশ কয়েকজন নেতাকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। কারণ উল্লেখ না করলেও এটি বিএনপির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জের কারণে, সেটি নিশ্চিত করেছেন নেতারা।

পঞ্চম ধাপে ৫ জানুয়ারিতে ৭০৮টি ইউনিয়নে ভোটের তফসিল ঘোষণা হয়। তবে বেশ কিছু ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভোট হয় ৬৬৪টি ইউনিয়নে ভোট হয়। এর মধ্যে ২টি ইউনিয়নে ফলাফল স্থগিত হয়, বাকি ৬৬২টি ইউনিয়নে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০৮টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হয়েছেন নৌকা নিয়ে লড়াই করা আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া নেতারা জিতেছেন ১৯০ ইউনিয়নে।

বহিষ্কারেও ভোটে বিএনপির তৃণমূল, পঞ্চম ধাপে চেয়ারম্যান ৮৩
বিএনপি নির্বাচন অংশ না নেয়ায় ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক পায়নি দলটির নেতারা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

এদিন চার জেলায় মোট ৪৬টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে দলীয় প্রতীক ছাড়া। এর মধ্যে ছিল কিশোরগঞ্জের ১৪টি, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুরে ১৫টি করে এবং মাদারীপুরের দুটি।

বাকিদের মধ্যে বিএনপির রাজনীতি সম্পৃক্ত ৮৩ জন ছাড়া অন্যদের মধ্যে জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িত ১৩ জন, জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে জড়িত ৪ জন আর ১৯ জন বিভিন্ন দলের রাজনীতি করেন, কেউ কেউ কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

বিএনপির রাজনীতিতে জড়িতরা সবচেয়ে ভালো করেছেন রাজশাহী বিভাগে। সেই বিভাগে দলটির সঙ্গে জড়িত ২০ জন পেয়েছেন জয়।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ ইউনিয়নে জয় এসেছে সিলেট বিভাগে, রংপুর বিভাগে জয় এসেছে ১৫টিতে, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ টিতে, ঢাকা বিভাগে ৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে জয়ী ৬ জন এবং খুলনা বিভাগে জয়ী ৪ জন বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। বরিশাল বিভাগে বিএনপির কেউ জিততে পারেননি।

চতুর্থ ধাপের নির্বাচনেও বিএনপির নেতারা সবচেয়ে বেশি ভালো করেছিলেন উত্তরের দুই বিভাগ রাজশাহী ও রংপুরে। ওই ধাপে সিলেট বিভাগেও তারা দারুণ করেছিলেন।

জানতে চাইলে বিএনপির মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেখুন আমার জানা নেই মহাসচিব ঠিক কী বলেছেন। কিন্তু আমার মনে হয় তিনি এটা বলতে চেয়েছেন যে, দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী। এখন একজন তো দলের পদে থেকে হাঁস মার্কাতে নির্বাচন করতে পারবেন না। তিনি নির্বাচন করুক। সেটার ওয়েটাই তো এটা। যে দলীয় কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে সেটা করতে হবে, স্বাধীনভাবে।’

বহিষ্কারেও ভোটে বিএনপির তৃণমূল, পঞ্চম ধাপে চেয়ারম্যান ৮৩

রাজশাহী বিভাগে ২০ জয়

এই বিভাগে ভোট হয়েছে মোট ১২২টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে ২টিতে ফল ঘোষণা স্থগিত আছে। বাকিগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক জয় পেয়েছে ৬১টিতে। দলের বিদ্রোহী নেতারা জিতেছেন ৩৫টিতে আর বিএনপির নেতারা ২০ ইউনিয়নে এবং ৪টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন জামায়াত নেতারা।

এর মধ্যে বগুড়ায় সবচেয়ে বেশি ৬টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্তরা। এরা হলেন: দুপচাঁচিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে মোয়াজ্জেম হোসেন, চামরুল ইউনিয়নে শাহজাহান আলী, জিয়ানগরে আনোয়ার হোসেন এবং গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নে আব্দুল ওহাব মণ্ডল, মহিষাবান ইউনিয়নে আব্দুল মজিদ মণ্ডল ও নশিপুর ইউনিয়নে রাজ্জাকুল আমিন তালুকদার রোকন।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ৫ জন পেয়েছেন জয়। এরা হলেন: বড়বিহানলী ইউনিয়নে মাহমুদুর রহমান মিলন, আউচপাড়ায় ডিএম শাফি, শুভডাঙ্গায় মোশারফ হোসেন, গণিপুরে মনিরুজ্জামান রঞ্জু ও গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নে হাবিবুর রহমান।

জয়পুরহাটের ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটিতেই জয় পেয়েছেন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এরা হলেন: আটাপুর ইউনিয়নে আবু চৌধুরী, বাগজানা ইউনিয়নে নাজমুল হক এবং ধরঞ্জী ইউপিতে আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের মধ্যেও তিনটিতে জয় পেয়েছেন বিএনপির রাজনীতিতে জড়িতরা। এরা হলেন: বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে আতাউল হক কমল, রানিহাটি ইউনিয়নে রহমত আলী ও গোবরাতলা ইউনিয়নে রবিউল ইসলাম টিপু।

নওগাঁয় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত ২ জন পেয়েছেন জয়। এরা হলেন: পত্নীতলা উপজেলার আমাইড়ে শহীদুল ইসলাম ও শিহাড়া ইউনিয়নে তোফাজ্জল হোসেন।

নাটোরের ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে নলডাঙ্গা উপজেলার বিপ্রবেলঘরিয়ায় জিতেছেন বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান আলী।

এই বিভাগের বাকি দুই জেলা পাবনা ও সিরাজগঞ্জে বিএনপি সংশ্লিষ্ট কেউ জয় পাননি।

বহিষ্কারেও ভোটে বিএনপির তৃণমূল, পঞ্চম ধাপে চেয়ারম্যান ৮৩

সিলেটে জয় ১৭ ইউনিয়নে

এই ইউনিয়নে ভোট হয়েছে মোট ৭৫টি ইউনিয়নে। অন্যগুলোর মধ্যে নৌকা জিতেছে ২৯ টিতে। ২১ ইউনিয়নে জিতেছেন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির ১৭ জন, জামায়াতের ৪ জন জয়ী হয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির ১ জন, জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের ২ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আর নির্দলীয় ২ জন প্রার্থী এবার জয় পেয়েছেন।

এর মধ্যে হবিগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ৭টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন বিএনপি নেতারা।

এরা হলেন মাধবপুরের নোয়াপাড়া ইউনিয়নে সৈয়দ মো. আতাউল মোস্তফা সোহেল, ছাতিয়াইন ইউনিয়নে মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাসেদ, আদাঐর ইউনিয়নে মীর খুরশেদ আলম, চৌমুহনী ইউনিয়নে মাহবুবুর রহমান সোহাগ ও শাহজাহানপুর ইউনিয়নে পারভেজ হোসেন চৌধুরী।

চুনারুঘাট উপজেলায় জিতেছেন গাজীপুর ইউনিয়নে মোহাম্মদ আলী ও উবাহাটা ইউনিয়নে এজাজ ঠাকুর চৌধুরী।

মৌলভীবাজারে বিএনপির রাজনীতিতে জয় পেয়েছেন ৬টি ইউনিয়নে। এরা হলেন শ্রীমঙ্গল ১নং মির্জাপুর ইউনিয়নে মিজলু আহমদ চৌধুরী, ৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নে দুদু মিয়া, ৪নং সিন্দুরখান ইউনিয়নে ইয়াছিন আরাফাত রবিন, কমলগঞ্জ পতনঊষার ইউনিয়নে অলি আহমদ খান, মুন্সিবাজার ইউনিয়নে নাহিদ আহমদ তরফদার এবং আদমপুর ইউনিয়নে আবদাল হোসেন (ঘোড়া)।

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুলে জয়ী আবদুল মালিক চৌধুরী এবং, ঝিঙ্গাবাড়িতে জয়ী মাস্টার আবু বকর বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের মাসুক মিয়া ও ভীমখালী ইউনিয়নের আক্তারুজ্জামান তালুকদার বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।

বহিষ্কারেও ভোটে বিএনপির তৃণমূল, পঞ্চম ধাপে চেয়ারম্যান ৮৩

রংপুর বিভাগে জয় ১৫ ইউনিয়নে

উত্তরের বিভাগ রংপুরে ফল ঘোষিত হয়েছে মোট ৬৮ ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জয় পেয়েছে সর্বোচ্চ ৩৩ ইউনিয়নে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন ১৪টিতে। বিএনপির রাজনীতিতে জড়িতরা জয় পেয়েছেন ১৫টিতে।

বাকিগুলোর মধ্যে জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িতরা ২টিতে, জাতীয় পার্টির রাজনীতে জড়িতরা ৩টিতে এবং একটিতে জয় পেয়েছেন এমন একজন, যিনি রাজনীতিতে জড়িত নন।

এর মধ্যে বিএনপির তৃণমূলের নেতারা একক জেলা হিসেবে সর্বোচ্চ ৬টিতে জয় পেয়েছেন দিনাজপুরে।

এরা হলেন চিরিরবন্দর উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নে এনামুল হক শাহ, আব্দুলপুর ইউনিয়নে ময়েনউদ্দিন শাহ, ভিয়াইল ইউনিয়নে আব্দুর রাজ্জাক শাহ, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে আজগার আলী মাষ্টার, পার্বতীপুর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নে নজরুল সরকার এবং মোস্তফাপুর বিএনপি মতিয়ার রহমান।

নীলফামারী ও কুড়িগ্রামে তিনটি করে ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন বিএনপির তৃণমূল নেতারা।

এর মধ্যে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়িতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম কালু, বামুনিয়া ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মমিনুর রহমান মোটর সাইকেল ও জোড়াবাড়ি ইউনিয়নে ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রাক্তন সভাপতি সাখাওয়াত হাবিব বাবু জয় পেয়েছেন।

কুড়িগ্রামে রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নে আব্দুল রাজ্জাক, যাদুরচরে সরবেশ আলী এবং রাজিবপুর উপজেলায় সদর ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন মিরন মো. ইলিয়াস।

পঞ্চগড়ের দুটি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন বিএনপির নেতারা। এরা হলেন: দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গায় ফরিদুল ইসলাম এবং চিলাহাটিতে হারুন অর রশীদ।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সদর ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত মোকছেদুর রহমান মোকছেদ।

গাইবান্ধায় বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত কেউ জয় পাননি।

বহিষ্কারেও ভোটে বিএনপির তৃণমূল, পঞ্চম ধাপে চেয়ারম্যান ৮৩

চট্টগ্রাম বিভাগের জয়ের অর্ধেকই চাঁদপুরে

চট্টগ্রাম বিভাগের ১৩৫টি ইউনিয়নে ভোট হয় সেদিন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭০টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের বিদ্রোহী নেতারা জয় পেয়েছে ৪০ ইউনিয়নে। বিএনপির নেতারা ১৫টিতে, একটিতে জামায়াত নেতা, ৬টিতে নির্দলীয় প্রার্থী এবং বিভিন্ন দলের সঙ্গে সম্পৃক্তরা জয় পেয়েছেন ৪টিতে।

এর মধ্যে বিএনপি সংশ্লিষ্টরা সবচেয়ে বেশি ৭টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন চাঁদপুরে।

এদের মধ্যে ৬ জনই ফরিদগঞ্জ উপজেলায়। এরা হলেন: ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নে জসিম উদ্দিন মিয়াজী স্বপন, ৩নং সুবিদপুর (পূর্ব) ইউনিয়নে বেলায়েত হোসেন, ৪নং সুবিদপুর ইউনিয়নে মহসীন হোসেন, ৫নং গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নে শাহজাহান পাটোয়ারী, ৭নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে আবু তাহের এবং ১২নং চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নে শাহজাহান মাষ্টার।

হাইমচর উপজেলার ৩নং আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নে সাবেক উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সরদার আব্দুল জলিল জয় পেয়েছেন।

কুমিল্লায় জয় পেয়েছেন দুই জন। এরা হলেন: চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসিতে সাদেকুর রহমান এবং বরকইটে নুরে আলম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপিসংশ্লিষ্ট দুই জন জয় পেয়েছেন। এরা হলেন: সদর উপজেলার মজলিশপুরে কামরুল হাসান এবং আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা ইউনিয়নে ফাইজুর রহমান।

এছাড়া চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আহলা করলডেঙ্গা ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক মান্নান, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নে জিতেছেন বিএনপি সমর্থিত শামসুল আলম লাভলু এবং বান্দরবানের সুয়ালক ইউনিয়নে জিতেছেন উক্যনু মার্মা।

ঢাকা বিভাগে ৭ জন

ঢাকা বিভাগে সেদিন ভোট হয়েছে ১৪৪টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৭টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছে নৌকা। ৩৫ ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ৭টি ইউনিয়নে বিএনপির নেতারা। আর চার জেলার ৪৬ ইউনিয়নে ভোট হয়েছে দলীয় প্রতীক ছাড়া।

এর মধ্যে তিনটিতেই জয় এসেছে মানিকগঞ্জে।

হরিরামপুরের গালা ইউনিয়নের উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শফিক বিশ্বাস, হরিরামপুরের দৌলতপুর খলশী ইউনিয়নের জিয়াউর রহমান এবং বাঘুটিয়া ইউনিয়নের যুবদলের সাবেক কর্মী আমজাদ হোসেন জয় পেয়েছেন।

টাঙ্গাইলে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত দুই জন পেয়েছেন জয়। এরা হলেন: মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নে ডি এ মতিন, বানাইল ইউনিয়নে আব্দুল্লাহ আল মামুন।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার সদর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান এবং ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ১ নং কামারখালী ইউনিয়নে জিতেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি রাকিব হোসেন চৌধুরী জয় পেয়েছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগে ৬ জয়

এই বিভাগে ভোট হয়েছে মোট ৬১ ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জয় পেয়েছে ৩১টিতে। দলের বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছে ২৩টিতে। ৬ ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন বিএনপির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা আর একটিতে নির্দলীয় প্রার্থী।

এই ৬টির মধ্যে তিনটি নেত্রকোণার এবং তিনটি শেরপুরের।

নেত্রকোনার মদন উপজেলার চানগাঁও ইউনিয়নে জয়ী নুরুর আলম তালুকদার, নায়েকপুর ইউনিয়নে জয়ী হাবিবুর রহমান ও ফতেপুর ইউনিয়নে জয়ী সামিউল হায়দার সফি বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নে জাহাঙ্গীর আলম, কাংশা ইউনিয়নে আতাউর রহমান ও নলকুড়া ইউনিয়নে জয়ী রুকুনুজ্জামান জামান বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।

খুলনায় ৪ জয়

এই বিভাগে ভোট হয়েছে মোট ৫২ ইউনিয়নে। এই বিভাগে নৌকা মার্কা জয় পেয়েছে ২৪ ইউনিয়নে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতারা জয় পেয়েছেন ২১টিতে। বিএনপি জয় পেয়েছে ৪টিতে, দুটিতে জামায়াত এবং একটিতে অন্যান্য।

এই চার জনের মধ্যে তিন জনই কেশবপুর উপজেলার। এরা হলেন মজিদপুর ইউনিয়নের মুহাম্মদ পলাশ, সুফলকাঠি ইউনিয়নের মঞ্জুর রহমান এবং সাতবাড়িয়ায় রেজাউল করিম।

সাতক্ষীরায় আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নে বিজয়ী রুহুল কুদ্দুসও বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত।

এছাড়া ৬টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে বরিশাল বিভাগের পিরোজপুরে। এর মধ্যে ৩টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ, একটিতে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ২টিতে নির্দলীয় প্রার্থী।



** প্রতিবেদনটি তৈরিতে বিভিন্ন জেলায় নিউজবাংলার প্রতিনিধিদের সহায়তা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতার যত অভিযোগ
নবনির্বাচিত মেম্বারকে গুলি করে হত্যা
ইউপিতে নৌকার পরাজয়ের দায় কেন্দ্রের: উবায়দুল মোকতাদির
ভোটে হেরে কার্যালয়ের চেয়ার বাড়ি নিয়ে গেলেন প্রার্থী
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও ইসির দায়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র

নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র

নির্মাণক্ষেত্রগুলোতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শ্রমিকরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি খাতে। ১০ বছরে শুধু নির্মাণ খাতে কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

অনেক দুর্ঘটনা, মৃত্যু- তারপরও নিরাপদ হয়নি কর্মক্ষেত্র। বকেয়া বেতন কিংবা শ্রম-অধিকার প্রশ্নে এখনও বঞ্চিত শ্রমিক। নিশ্চিত হচ্ছে না ন্যূনতম জীবনমান। কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাত নির্মাণশিল্প। গত ১০ বছরে এই খাতে নিহত হয়েছে ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ লেবার স্টাডিজ (বিলস) পরিসংখ্যানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ২০২১ সালে ১ হাজার ৫৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বলেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছে পরিবহন, নির্মাণ ও কৃষি এই তিন খাতে।

প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। রাজধানীসহ দেশজুড়ে গড়ে উঠছে বিপুলসংখ্যক বহুতল ভবন। এসব ভবন নির্মাণে শ্রমিকদের দুর্ঘটনা এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের কোনো ধরনের জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয় না।

বহুতল ভবনে নির্মাণ শ্রমিকরা অরক্ষিত অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি এসব দুর্ঘটনা থেকে পথচারীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। ফলে নির্মাণ শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশের মানুষ ও ভবনের নিচের পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন। কেউ কেউ মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।

মালিকদের অবহেলা, শ্রমিকদের সচেতনতার অভাব এবং শ্রম আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া এবং এ আইনের দুর্বলতার কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

১০ বছরে নিহত ১ হাজার ১০২ জন

২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল এই ১০ বছরে নির্মাণ খাতে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১০২ জন শ্রমিক।

২০২১ সালে নির্মাণ খাতে ১৫৪ জন শ্রমিক নিহত হন।

এর আগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নির্মাণ খাতে ২০১১ সালে ১১১ জন, ২০১২ সালে ১১৩ জন, ২০১৩ সালে ৯৫ জন, ২০১৪ সালে ১০২ জন, ২০১৫ সালে ৬১ জন, ২০১৬ সালে ৮৫ জন এবং ২০১৭ সালে ১৩৪ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ১৬১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

২০১৯ সালে নিহত হয়েছেন ৯৪৫ জন শ্রমিক। এরপর ১৫৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারান।

২০২০ সালে কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৭২৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নির্মাণ খাতে ৮৪ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

জাতীয় বিল্ডিং কোডে কর্মকালীন একজন শ্রমিকের কী কী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না। ২০১৪ সালের জাতীয় ভবন নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী কাজের সময় কাজের শ্রমিকের মাথায় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। যারা কংক্রিটের কাজে যুক্ত, তাদের হাতে গ্লাভস ও চোখের জন্য ক্ষতিকর কাজে চশমা পরিধান করতে হবে। ওয়েল্ডার ও গ্যাস কাটার ব্যবহারের সময় রক্ষামূলক সরঞ্জাম যেমন গ্লাভস, নিরাপত্তা বুট, অ্যাপ্রন ব্যবহার করতে হবে।

ভবনের ওপরে কাজ করার সময় শ্রমিকদের নিরাপত্তায় বেল্ট ব্যবহারও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে এর কোনোটিই বাস্তবে দেখা যায় না।

দুর্ঘটনার কারণ

বিলস বলছে, নির্মাণকাজে ভালো সিঁড়ির অভাব ও সিঁড়িতে পর্যাপ্ত আলোর অভাব, এলোমেলোভাবে রড, বালু ও ইট রাখা, কর্মক্ষেত্রে নেট না থাকা অথবা নাজুক নেটের ব্যবহার, কপিকলের ব্যবস্থা না থাকা, হেলমেট, গ্লাভসের ব্যবস্থা না করা, খালি পায়ে কাজ করা, অসাবধানতা ও অসচেতনভাবে আবদ্ধ স্থানে প্রবেশ, প্রচণ্ড রোদে কাজ করা, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতির ব্যবহার, বিশ্রাম কম; দুর্বল মাচা, দেয়াল বা মাটি চাপা পড়া, ঝুলন্ত অবস্থায় কাজের সময় বেল্ট ব্যবহার না করা, ভালো জুতা বা বুট ব্যবহার না করা, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।

এ ছাড়া ওপর থেকে পড়ে শ্রমিকের অঙ্গহানি ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। মাটিচাপা পড়ে, মাটি বহনকারী গাড়ি দুর্ঘটনা, অগ্নিদগ্ধ হওয়া, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, চোখে আঘাত লাগা বা অন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথায় আঘাত পাওয়া, হাত-পা কেটে বা ভেঙে যাওয়া ও আবদ্ধ গ্যাসেও মৃত্যুর হার বাড়ছে।

শ্রম আইন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়োগকারীর। শ্রমিকের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ছাড়া নিয়োগকারী কাউকে কাজে নিয়োগ করতে পারবেন না।

আইনে এমন বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজধানীর একাধিক নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, গামবুট, হেলমেট, নিরাপত্তা বেল্টসহ নিরাপত্তা উপকরণ ছাড়াই কাজ করছেন শ্রমিকরা।

সংশ্লিষ্টরা যা বলেন

ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশের (ইনসাব) সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এ নির্মাণ সেক্টরে ৩৭ লক্ষাধিক পেশাজীবী জড়িত। শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রম আইনে মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘শিল্প স্বাস্থ্য সেফটি কমিটি’ গঠন করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে এই কমিটি নেই। ফলে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা মালিক পক্ষকে চাপ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিলসের পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ বলেন, নির্মাণ খাতের বড় বড় ফার্ম কিছুটা নীতিমালা মেনে চলে। কিন্তু ছোট কিংবা ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনগুলো এই নীতিমালা মানতে চায় না। এ জন্য ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পরিদর্শনের জন্য তাদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা দিতে হবে। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করবে। না হলে এসব ঘটনা এড়ানো যাবে না।

আরও পড়ুন:
নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতার যত অভিযোগ
নবনির্বাচিত মেম্বারকে গুলি করে হত্যা
ইউপিতে নৌকার পরাজয়ের দায় কেন্দ্রের: উবায়দুল মোকতাদির
ভোটে হেরে কার্যালয়ের চেয়ার বাড়ি নিয়ে গেলেন প্রার্থী
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও ইসির দায়

শেয়ার করুন

দেশে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ

দেশে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ

অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কাঁচা পাটের মণ প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ফাইল ছবি

বিজেএমএ মহাসচিব এম বারিক খান বলেন, ‘প্রতি বছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে পাট কিনে তা মজুদ করে, পরবর্তীতে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করে। যার ফলে গত বছর ১৮শ টাকার কাঁচা পাট সাত হাজার টাকায়ও কিনতে হয়েছে।’

প্রথমবারের মতো কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে পাট ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। প্রতিবছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে এবছর উচ্চসাঁট পাটের প্রতি মণ তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ), বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) ও বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) নির্বাহী বোর্ডের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

যদিও পাট আইনে এভাবে কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণ করার সুযোগ নেই। ফলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণের দাবি জানানো হলেও বাস্তবে তা করা হয় না।

তবে পাট আইনে বলা আছে, ‘সরকার, আদেশ দ্বারা বিভিন্ন শ্রেণির পাট বা পাটজাত পণ্যের সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করতে পারবে, এবং সব এলাকা বা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা নির্দিষ্ট কোনও এলাকা বা গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে উক্তরূপে মূল্য নির্ধারণ করা যাবে। এবং এই আদেশ দ্বারা নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্যের কম বা সর্বোচ্চ মূল্যের বেশি দামে কোন ব্যক্তি পাট বা পাটজাত পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে না।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) মহাসচিব এম বারিক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি বছরই কাঁচা পাট সংগ্রহ নিয়ে জটিলতার মধ্যে পড়তে হয়। দেশে যে পরিমাণ পাট উৎপাদন হয় তার প্রায় ৮০ শতাংশ দেশীয় পাটকলগুলো ব্যবহার করে। কিন্ত বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে পাট কিনে তা মজুদ করে, পরবর্তীতে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করে। যার ফলে গত বছর ১৮শ টাকার কাঁচা পাট সাত হাজার টাকায়ও কিনতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে আর কৃষকরা যাতে ন্যায্য দাম পায় সেজন্য এবছর উচ্চাসাঁট কাঁচা পাটের মণ প্রতি দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। পাট ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী ও সংগঠনের নেতারা একত্রিত হয়ে এই দাম নির্ধারণ করেছে। আশা করি এ দামেই এ বছর পাট কেনা সম্ভব হবে।’

এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, এ খাতের অসাধু মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে কাঁচাপাট মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি করে। এতে উৎপাদিত পন্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি বাজার ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে, বিদেশী ক্রেতারা বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত চার থেকে পাঁচ কোটি কৃষক, শ্রমিকের জীবন আজ হুমকির সম্মুখীন। এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশের পাটশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবরও চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত মূল্য ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে সুবাতাস বইছে। একের পর এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে সবাইকে অবাক করে দিচ্ছেন রপ্তানিকারকরা।

অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে সদ্যসমাপ্ত ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় গিয়ে ঠেকেছে অর্ধবিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারে। বর্তমান বিনিময় হারে (৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। লক্ষ্যের চেয়ে বেশি এসেছে ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এই উল্লম্ফনে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক, চামড়া, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্যসহ প্রায় সব খাতেই অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। ব্যতিক্রম শুধু ছিল পাট খাত।

২০২০-২১ অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ১১৬ কোটি ১৫ লাখ (১.১৬ বিলিয়ন) ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে রপ্তানি তালিকায় চামড়াকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল এই খাত।

সেই সুদিন ফুরিয়ে গেছে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে। অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৯ কোটি ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ৬৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার। এই ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ৬৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এই হিসাবেই জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে পাট খাতে রপ্তানি আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এদিকে, লোকসানের চাপে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) ২৫টি পাটকল ২০২০ সালের ১ জুলাই বন্ধ করে দেয় সরকার। সে কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো পাটকল এখন উৎপাদনে নেই; সরকারিভাবে পাট ও পাটজাত পণ্য এখন আর রপ্তানি হয় না।

আরও পড়ুন:
নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতার যত অভিযোগ
নবনির্বাচিত মেম্বারকে গুলি করে হত্যা
ইউপিতে নৌকার পরাজয়ের দায় কেন্দ্রের: উবায়দুল মোকতাদির
ভোটে হেরে কার্যালয়ের চেয়ার বাড়ি নিয়ে গেলেন প্রার্থী
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও ইসির দায়

শেয়ার করুন

মিলারের আবেগভরা বিদায়ী কথন

মিলারের আবেগভরা বিদায়ী কথন

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার বলেন, এই মহান দেশের এত মানুষের উষ্ণতা, ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং উদারতা অনুভব করতে পেরে নিজেকে একজন অনন্য বাংলাদেশি বলে মনে হচ্ছে। ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস

শুক্রবার বিকেলের ফ্লাইটে দেশের পথে উড়াল দেয়া রবার্ট আর্ল মিলারের এক আবেগী কথন প্রকাশ করেছে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। যার পরতে পরতে রয়েছে গত তিন বছর বাংলাদেশে তার অবস্থানের স্মৃতি আর অভিজ্ঞতা।

তিন বছরের কূটনৈতিক মিশন শেষে নিজ দেশে ফেরত গেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার। ৩৫ বছরের কূটনৈতিক ক্যারিয়ারে এটা ছিল তার শেষ সরকারি মিশন। এরপর অবসর জীবন কাটাবেন তিনি।

শুক্রবার বিকেলের ফ্লাইটে দেশের পথে উড়াল দেয়া মিলারের এক আবেগী কথন প্রকাশ করেছে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। যার পরতে পরতে রয়েছে গত তিন বছর বাংলাদেশে তার অবস্থানের স্মৃতি আর অভিজ্ঞতা।

নিউজবাংলার পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

আমাকে যদি বাংলাদেশে আমার তিন বছরের প্রিয় স্মৃতি জানতে চাওয়া হয়, তাহলে তার সব বর্ণনা করা আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

কিন্তু আমি জানি এখানকার রিকশার রং আর চালকদের মুখের অবয়ব, কথা আমার মনে পড়ে যাবে। পুরান ঢাকার ছাদ আর রংবেরঙের ঘুড়ি, বিদ্যুতের তারে পাখির নাচানাচি আর সন্ধ্যার আকাশে উড়ে যাওয়া পাখির ঝাঁক আমাকে স্মৃতিকাতর করবে।

মিলারের আবেগভরা বিদায়ী কথন

আমার চোখে ভাসবে স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুরা গ্রামের রাস্তায় হেঁটে বাড়ি যাচ্ছে। জাহাজভর্তি চট্টগ্রামের নদী। কক্সবাজারের সাম্পান বা চাঁদের নৌকা, যা আমার চোখে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর নৌকা।

সিলেটের গাঢ় সবুজ পাহাড় আর বরিশালের উদ্দাম সবুজ আমি কোনো দিন ভুলব না। বান্দরবানের পাহাড় ও সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভে সকালের কুয়াশা দেখার স্মৃতি আমার জীবনের অনন্য অর্জন।

গত তিন বছরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জীবনের একটি বড় সম্মান এবং আনন্দ।

আমি বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী এবং আরও মজবুত হবে। সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি যেমন ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া ভাষণে বলেছিলেন, আমেরিকার আসল পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে নাগরিক থেকে নাগরিক, বন্ধু থেকে বন্ধু, মানুষ থেকে মানুষ। আমি আশা করি আমি আমাদের বন্ধু-থেকে-বন্ধু আর বন্ধনকে শক্তিশালী করতে কিছুটা হলেও অবদান রেখেছি।

আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম আমার প্রথম আট মাসে আমি বাংলাদেশের আটটি বিভাগ ঘুরে দেখব। আমি তা করার মতো ভাগ্যবান ছিলাম। এই মহান দেশের এত মানুষের সঙ্গে দেখা করতে পারা, উষ্ণতা, ভালোবাসা, আন্তরিকতা এবং উদারতা অনুভব করতে পেরে আমিও নিজেকে একজন অনন্য বাংলাদেশি বলে মনে করি।

মিলারের আবেগভরা বিদায়ী কথন

বাংলাদেশের জনগণের আন্তরিকতা ও অনুগ্রহের স্মৃতি আমি আমৃত্যু হৃদয়ে ধারণ করব। এই অসাধারণ দেশে এমন একটি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত অতিথি হওয়ার সুযোগের জন্য আমি কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয় নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।

যখন রাষ্ট্রদূত হাস আসবেন, অনুগ্রহ করে তাকেও একই উষ্ণতা দেখান এবং আমাকে এবং আমার পরিবারের প্রতি অনুগ্রহ করে সদয় থাকবেন।

আরও পড়ুন:
নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতার যত অভিযোগ
নবনির্বাচিত মেম্বারকে গুলি করে হত্যা
ইউপিতে নৌকার পরাজয়ের দায় কেন্দ্রের: উবায়দুল মোকতাদির
ভোটে হেরে কার্যালয়ের চেয়ার বাড়ি নিয়ে গেলেন প্রার্থী
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও ইসির দায়

শেয়ার করুন

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালে চাপ কম

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালে চাপ কম

ব্যাপক সংখ্যায় আক্রান্ত হলেও হাসপাতালগুলোয় করোনা রোগীর ভিড় কম। ফাইল ছবি

ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি ৩২টি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা ৪ হাজার ৭৩৬টি। শয্যা খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৬১টি। ১ জানুয়ারি রাজধানীর করোনা হাসপাতালগুলোয় মোট রোগী ভর্তি ছিল ৩৫৫ জন। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১৭৫ জন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলা করছে দেশ। গত তিন সপ্তাহে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৮ হাজার জনের। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আক্রান্ত অনুপাতে হাসপাতালে রোগীর ভিড় নেই। বাড়েনি অক্সিজেনের চাহিদাও।

করোনা সেবায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বাড়তি উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে হাসপাতালগুলো। বাড়ানো হচ্ছে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী আর অক্সিজেন সরবরাহ।

ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি ৩২টি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যাসংখ্যা ৪ হাজার ৭৩৬টি। শয্যা খালি রয়েছে ৩ হাজার ৫৬১টি। ১ জানুয়ারি রাজধানীর করোনা হাসপাতালগুলোযয মোট রোগী ভর্তি ছিল ৩৫৫ জন। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭৫ জন।

রাজধানীর হাসপাতালগুলোয় মোট আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৭৭৮টি। এর মধ্যে খালি রয়েছে ৬৩৩টি। তিন সপ্তাহ আগে ১৩৮টি আইসিইউ বেডে রোগী ছিল। কিছুটা বেড়ে বর্তমানে আইসিইউতে রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জন।

ঢাকায় করোনা আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষায় ৭০ শতাংশের মধ্যেই ওমিক্রন ধরন পাওয়া গেছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এ তথ্য জানায়। ওমিক্রন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তদের ৭০ শতাংশই ঢাকা বিভাগের। এ কারণে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে ঢাকার হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ কিছুটা বেশি।

সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি ৪৩৬টি করোনা হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে মোট শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ৫১৬টি। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৮১টি শয্যাই খালি পড়ে আছে। এসব হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১ হাজার ২৩৭টি, যার মধ্যে ১ হাজার ১২টি খালি। তিন সপ্তাহ আগে আইসিইউর শয্যা খালি ছিল ১ হাজার ২১৩টি।

ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরিসংখ্যান অনেক কম। একই সঙ্গে আইসিইউ এবং অক্সিজেনও তুলনামূলক অনেক কম লাগছে।

দেশে হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেনের দৈনিক চাহিদা ১২০ থেকে ১৫০ টন। এখনও চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ফের হাসপাতালগুলোকে পুনরায় প্রস্তুতির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স ও চিকিৎসদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। তবে করোনা নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে হাসপাতালে রোগীর জায়গা দেয়া সম্ভব হবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘ওমিক্রন রোগীদের চিকিৎসা অধিকাংশই হচ্ছে বাসাবাড়িতে। হাসাপাতালে রোগী আসছে কম। তবে কিছুদিনের মধ্যেই দেশে এই চিত্র পাল্টে যাবে। কারণ দেশে করোনা চিকিৎসা সরকার বিনা মূল্যে দিচ্ছে।

‘দেশে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সংখ্যাটা মূলত ধরা যায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার। এর ৩ থেকে ৫ শতাংশ লোক হাসপাতালে ভর্তি হয়।’

ডা. সায়েদুর রহমান, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবার আগে ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকা দিতে হবে। তা ছাড়া আগের করোনা ঢেউয়ে আক্রান্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে হবে। তাহলেই হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার সংখ্যাটা কম থাকবে।

‘তবে দেশে এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ। এখনও ৬০ শতাংশ মানুষ টিকার বাইরে। সংক্রমণ এভাবে বাড়তে থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালগুলো রোগীতে ভর্তি হয়ে যাবে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শঙ্কাটা অবশ্যই ঠিক।

আরও পড়ুন:
নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতার যত অভিযোগ
নবনির্বাচিত মেম্বারকে গুলি করে হত্যা
ইউপিতে নৌকার পরাজয়ের দায় কেন্দ্রের: উবায়দুল মোকতাদির
ভোটে হেরে কার্যালয়ের চেয়ার বাড়ি নিয়ে গেলেন প্রার্থী
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও ইসির দায়

শেয়ার করুন

র‍্যাব যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সৃষ্টি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

র‍্যাব যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সৃষ্টি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শুক্রবার সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের নগদীপুর গ্রামে নাগরিক সংবর্ধনা সভায় র‌্যাব নিয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। তারা এই বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, দক্ষ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবকে শিখিয়েছে তাদের নিয়ম ও শৃঙ্খলা। কীভাবে মানুষের সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন।

শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের নগদীপুর গ্রামে শিক্ষানুরাগী যুক্তরাজ্য প্রবাসী জিল্লুর রহমানের নাগরিক সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। তারা এই বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, দক্ষ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবকে শিখিয়েছে তাদের নিয়ম ও শৃঙ্খলা। কীভাবে মানুষের সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে, কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে (হাউ টু ইন্টারগেশন)- র‍্যাবকে এসব কিছু শিখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্বীকার করেছে, র‌্যাবের কারণে আমাদের এখানে সন্ত্রাসবাদ কমেছে। বিদেশিরা একতরফা তথ্য পেয়ে আমাদের র‌্যাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’

গত ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ‘গুরুতর’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে র‌্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ রয়েছেন।

শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ-সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেছিলেন, তখন তার পাশে ছিলেন যুক্তরাজ্য শাসিত জিব্রাল্টারের ব্যবসা, পর্যটন ও বন্দরমন্ত্রী ভিজয় দারিয়ানানি; যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টম হান্ট ও পল ব্রিস্টো।

আরও উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শামীমা শাহরিয়ার, যুক্তরাজ্য প্রবাসী নদগীপুর গ্রামের বাসিন্দা জেড আই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জিল্লুর হোসাইন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির প্রমুখ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘র‌্যাব বাংলাদেশে নিজেদের কাজকর্মের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করেছে। তারা খুবই কার্যকরী (ইফেক্টিভ), খুব দক্ষ (ভেরি ইফেশিয়ান্ট)। তারা দুর্নীতিগ্রস্তও নয়। এ কারণেই তারা জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। তাদের কারণে আমাদের দেশের সন্ত্রাসী কার্যক্রম কমে গেছে। গত কয়েক বছরে হলি আর্টিজানের পর আর কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা হয়নি। এটা সম্ভব হয়েছে র‌্যাবের কারণেই।’

তিনি বলেন, ‘আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট নিজে র‌্যাবের কৃতিত্বের কথা স্বীকার করেছে। কিন্তু এখন কিছু লোক যারা আইনশৃঙ্খলা পছন্দ করে না, যারা সন্ত্রাস পছন্দ করে কিংবা ড্রাগ পছন্দ করে তারাই র‌্যাবকে পছন্দ না করে বিদেশিদের কাছে নালিশ করছে।’

মন্ত্রী আবদুল মোমেন আরও বলেন, ‘স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ মানুষ নিখোঁজ হয়। তো এর দায় কে নেবে? আর আমাদের দেশে যারা নিখোঁজ হয়, পরবর্তী সময়ে দেখা যায় আবার তারা বের হয়ে আসছে। গত ১০ বছরে ৬০০ জন নিখোঁজ হয়েছে।’

বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন ও হারিছ চৌধুরীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘হারিছ চৌধুরী ১৫ বছর ধরে নিখোঁজ ছিলেন। তিনি ঢাকায়ই আত্মগোপন করে ছিলেন। হুজুর সেজে তাবলিগ করতেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মারা যান তিনি। সালাহ উদ্দিন সাহেবকে আসামের শিলং পাওয়া গেছে।

‘যারা র‌্যাবকে পছন্দ করে না, তারাই অপপ্রচার করছে। সব দেশেই কিছু মৃত্যু হয়। বাংলাদেশেও কিছু হয়েছে। আগে বেশি ছিল, এখন খুব কম হচ্ছে। তার পরও যখন এমন মৃত্যু হয়, তখন বিচারিকভাবে সেটি তদন্ত হয়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে দুটি ক্ষেত্রে র‌্যাব অন্যায় করেছিল, সেই ঘটনার বিচার হচ্ছে। ওদের শাস্তিও হচ্ছে। র‌্যাবের যদি দুর্বলতা থাকে, যদি কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়, অবশ্যই সেখানে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তিবিশেষের ওপর হঠাৎ করে এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে সেটা ন্যায়সংগত নয়।’

যারা র‌্যাব ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নালিশ করেছে তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আসেন, দেখেন, লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন। আসল ঘটনা উদ্ধার করেন। তারপর আপনারা সিদ্ধান্ত নেন।’

আরও পড়ুন:
নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতার যত অভিযোগ
নবনির্বাচিত মেম্বারকে গুলি করে হত্যা
ইউপিতে নৌকার পরাজয়ের দায় কেন্দ্রের: উবায়দুল মোকতাদির
ভোটে হেরে কার্যালয়ের চেয়ার বাড়ি নিয়ে গেলেন প্রার্থী
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও ইসির দায়

শেয়ার করুন

সশরীরে ক্লাস বন্ধেও এবার খোলা হল

সশরীরে ক্লাস বন্ধেও এবার খোলা হল

গত ১০ অক্টোবর হল খুলে দেয়ার পর শিক্ষার্থীরা বন্ধুদের পাশে পেয়ে এভাবেই আনন্দ প্রকাশ করে। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের হলে রাখাটাই উত্তম। হলগুলো বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই।’

করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সশরীরের ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও এবার আর হল বন্ধ করছে না।

শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড মো আখতারুজ্জামান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংহতি রেখে আমাদেরও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ক্লাসগুলো অনলাইনে চলবে। তবে আবাসিক হল বন্ধ করা হবে না।’

হল বন্ধ না করার ব্যাপারে উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের হলে রাখাটাই উত্তম। হলগুলো বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই।’

বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়টির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের আলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীর শিক্ষা কার্যক্রম আজ শুক্রবার থেকে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতায় অব্যাহত থাকবে।

আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো সীমিত পরিসরে সকাল নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে। জরুরি পরিষেবা (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ইন্টারনেট, স্বাস্থ্যসেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি) যথারীতি অব্যাহত থাকবে।

শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ আবাসস্থলে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে সভা, সমাবেশ ও জনসমাগম না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়লে ১৭ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। সে সময় হলগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর গত ৫ অক্টোবর চতুর্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য হল খুলে দেয়া হয়। পরে ১০ অক্টোবর থেকে খুলে দেয়া হয় সবার জন্য।

হল খুলে দেয়ার ৭ দিন পর থেকে সশরীরে ক্লাসে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়। গত ৭ জানুয়ারি করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে না।

তবে করোনার সংক্রমণ ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে ১১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া, পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার ৩০ ছুঁই ছুঁই হয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর একই পথে হাঁটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন জানিয়েছে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেবে।

আরও পড়ুন:
নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতার যত অভিযোগ
নবনির্বাচিত মেম্বারকে গুলি করে হত্যা
ইউপিতে নৌকার পরাজয়ের দায় কেন্দ্রের: উবায়দুল মোকতাদির
ভোটে হেরে কার্যালয়ের চেয়ার বাড়ি নিয়ে গেলেন প্রার্থী
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও ইসির দায়

শেয়ার করুন

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

গত ২ সপ্তাহে করোনা রোগী ও সংক্রমণ হার বৃদ্ধি পেয়েছে টানা।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে গত ৪ অক্টোবর। গত ৯ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। দুই সপ্তাহের মাথায় শনাক্তের হার এখন ৩০ ছুঁইছুঁই।

টানা ১৫ দিন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেল। শনাক্তের হার এখন অবশ্য ৩০ শতাংশ ছুঁইছুঁই।

গত ৭ জানুয়ারি পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছাড়ানোর পর প্রায় প্রতিদিনই এর চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো তথ্যে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনার নতুন রোগী পাওয়া গেছে ১১ হাজার ৪৩৪ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার পাওয়া গেছে ২৮ দশমিক ৪৯।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে দেশে আক্রান্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৬ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৯৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে মারা গেছে ১২ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ১৯২ জনের।

আগের দিন শনাক্ত হয়েছিল ১০ হাজার ৮৮৮ জন। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার করোনা আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজন। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

করোনার ঢেউ মানে কী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি থেকে এর নিচে নেমে এলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ধরা হয়। উল্টোপথে যাত্রা অর্থাৎ সংক্রমণের হার ৫-এর নিচে থেকে ৫ ছাড়ালে পরবর্তী ঢেউ আঘাত হেনেছে ধরা হয়।

তবে এক দিনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না। পরপর দুই সপ্তাহ যদি সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি বা কম থাকে, তাহলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বা পরবর্তী ঢেউ আঘাত হেনেছে বলে ধরা হয়।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পর ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তা নিয়ন্ত্রণে আসে। মার্চের শেষে আবার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। সেটি নিয়ন্ত্রণে আসে গত ৪ অক্টোবর।

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার করোনা আক্রান্ত রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামাচ্ছেন স্বজনরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

এরপর থেকে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ক্রমেই কমছিল। এক পর্যায়ে ২ শতাংশের নিচে নেমে ১ শতাংশের কাছাকাছি চলে আসে। তবে শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণের হার ক্রমে বাড়তে থাকে।

গত ৭ জানুয়ারি শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এক দিন ছাড়া প্রতিদিনই এই হার বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা।

এই ১৫ দিনে রোগী ১ হাজার ১৪৬ জন থেকে বেড়ে ছয় গুণ হয়ে গেছে এবং প্রায় প্রতিদিনই তা বাড়ছে।

এই কয়দিনে কেবল দুটি শনিবার আগের দিনের তুলনায় কম রোগী পাওয়া গেছে। এর কারণ অবশ্য ভিন্ন। প্রতি শুক্রবার সাধারণত করোনার পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নমুনা কম জমা পড়ে। এ কারণে পর দিন কম রোগী পাওয়া যায়।

তৃতীয় ঢেউয়ে শনাক্ত বাড়লেও মৃত্যু কম

তবে প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ের তুলনায় এবার মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম।

করোনার প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার দিন পর্যন্ত সারা দেশে শনাক্ত হয়েছিল পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৫ জন। সেদিন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছিল আট হাজার ১৬১ জন।

গত বছরের ২০ মার্চ যেদিন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিশ্চিত হয়, সেদিন পর্যন্ত দেশে ভাইরাসটিতে শনাক্ত হয়েছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৭০৬ জন। মৃত্যু হয় ৮ হাজার ৬৬৮ জনের।

করোনার প্রথম ঢেউয়ে ছড়ায় ইতালীয়, ইউকে ও সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট।

গত ৪ অক্টোবর যেদিন দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসা নিশ্চিত হয়, সেদিন পর্যন্ত দেশে ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয় সেদিন পর্যন্ত দেশে শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৮ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয় ২৭ হাজার ৫৯১ জনের।

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশ

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার করোনা আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে যাচ্ছেন এক স্বজন। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

অর্থাৎ দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বেশি। এই ঢেউয়ে শনাক্ত হয় ৯ লাখ ৯০ হাজার ৫২ জন। আর মৃত্যু হয় ১৮ হাজার ৯২৮ জন।

প্রাণঘাতি দ্বিতীয় ঢেউয়ে ছড়ায় করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নামে ভারতীয় ধরন। তৃতীয় ঢেউয়ে ছড়াচ্ছে নতুন ধরন ওমিক্রন, যদিও ডেল্টাও ছড়াচ্ছে সমানতালে।

তবে গত ৯ জানুয়ারি থেকে সংক্রমণের হার ও রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলেও মৃত্যুর সংখ্যা ৪ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জন পর্যন্ত উঠানামা করে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু জামিল ফয়সাল অবশ্য মনে করেন, এই পরিসংখ্যানের কারণে অসতর্ক থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই বলেছিল ওমিক্রনে মৃত্যুর হার কম। সেটা জেনে লোকজন স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছে। এমনকি সরকার যে বিধিনিষেধ দেখাচ্ছে, সেটিও সঠিকভাবে মানছে না। তবে এখনও ডেল্টার প্রাধান্য রয়েছে।

‘ডেল্টায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা খুবই অসুস্থ হচ্ছে, হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। তাদের সমস্যা আগের মতোই হচ্ছে। এ ছাড়া যাদের মধ্যে ডায়াবেটিকস, উচ্চ রক্তচাপ ছাড়া অন্যান্য ক্রনিক ডিজিজ আছে, এই ধরনের রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হলে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর হওয়া উচিত।

আসছে নতুন নতুন বিধিনিষেধ

তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় গত ১৩ জানুয়ারি থেকে নানা বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে, তবে এগুলো অনেকটাই কাগুজে বাঘে পরিণত হয়েছে।

তবে বিপর্যয়ের আশঙ্কায় সরকারের পক্ষ থেকে ‘অ্যাকশন নেয়ার’ ঘোষণা এসেছে। যেদিন তৃতীয় ঢেউ নিশ্চিত হয়েছে, সেদিন স্কুল-কলেজ আবার বন্ধ করে দেয়ার আদেশ এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সশরীরে ক্লাস বাদ দিয়ে আবার অনলাইনে ক্লাস নেয়ার ঘোষণা এসেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

পাশাপাশি টিকা কার্ডের শর্তে সামাজিক অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১০০ জনকে ঢুকতে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বই মেলা ও বাণিজ্য মেলায় কোনো সীমা বেঁধে দেয়া না হলেও সেখানে টিকা সনদ ছাড়া যাওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত সাধারণ ছুটি, লকডাউন বা শাটডাউনের মতো বিধিনিষেধ দেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে সরকার।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় ঢেউয়ে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল থেকে প্রথমে লকডাউন ও ১ জুলাই থেকে শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ দেয়া হয়। গত ১১ আগস্ট শাটডাউন প্রত্যাহার করা হয়।

আরও পড়ুন:
নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতার যত অভিযোগ
নবনির্বাচিত মেম্বারকে গুলি করে হত্যা
ইউপিতে নৌকার পরাজয়ের দায় কেন্দ্রের: উবায়দুল মোকতাদির
ভোটে হেরে কার্যালয়ের চেয়ার বাড়ি নিয়ে গেলেন প্রার্থী
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও ইসির দায়

শেয়ার করুন