ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

player
ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

কিশোরগঞ্জে ভোটের পর সহিংসতায় আহত হয়েছেন সদর থানার এক কনস্টেবল। ছবি: নিউজবাংলা

ইসি সচিব জানান, আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে। এ কারণে তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন মডেল হতে পারে। এর পরপরই লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবরটি। এরপর ভোটের পরে সংঘর্ষে মুন্সিগঞ্জে একজন ও নরসিংদীতে দুজন নিহতের খবর পাওয়া যায়। সবশেষ রাত সাড়ে ৯টায় নীলফামারিতে সংঘর্ষে এক বিজিবি সদস্য নিহত হন। এ ছাড়া ভোট শেষে হট্টগোল হয় মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ, রাজবাড়ী ও গাইবান্ধায়।

নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিতে ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ। তবে এই ভোটেও মধ্যরাত পর্যন্ত এক বিজিবি সদস্যসহ পাঁচজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালে সংঘর্ষ হয় অন্তত ১০ জেলায়। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

ভোট শেষে রাজধানীতে নিজ কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, সহিংসতাহীন নির্বাচন হয়েছে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন মডেল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরপরই লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবরটি। এরপর নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জে ভোটের পরে সংঘর্ষে তিনজন নিহতের খবর পাওয়া যায়।

সবশেষ রাত সাড়ে ৯টায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সহিংসতায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্য নিহত হয়েছেন।

ফল ঘোষণার পর গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া ভোট কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বিজিবি সদস্য হলেন নায়েক রুবেল হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায়।

তিনি জানান, ফল ঘোষণার পর লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক লোকজন নিয়ে এসে ওই কেন্দ্রে তাকে জয়ী ঘোষণার দাবি জানিয়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিতে বাধা দেয়।

তাদের হামলায় নায়েক রুবেল নিহত হন। আহত হন তিনি (প্রিসাইডিং অফিসার) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নের এক কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সংঘর্ষ হয়।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের এই সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হয়েছেন।

ভোট শেষ হওয়া আগমূহুর্তে ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ওই কেন্দ্রের সামনে বিকেল পৌনে চারটার দিকে নৌকা ও এর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমির হোসেন খানের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এটি সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়।

সে সময় মাথায় আঘাত পান সজিব হোসেন। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে চাঁদপুরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নরসিংদীর রায়পুরার ভোটের পর সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন।

উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত মো. আরিফের বাড়ি শিবপুর যোশর জাঙ্গারটেক গ্রামে। তিনি ছিলেন অটোরিকশার চালক।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, দাইরের পার সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আব্দুল ওহাবকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। এই ফল মেনে নেননি ওহাবের সমর্থকরা। ওহাব উত্তেজিত হয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

কিছুক্ষণ পর অর্ধশতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ১৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও এলোপাতাড়ি গুলিতে পুলিশের ভাড়া করা সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. আরিফ নিহত হন। গ্রামবাসীসহ আহত হন অন্তত ১০ জন।

রায়পুরায় উত্তর বাহার নগর এলাকার একটি কেন্দ্রে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

নিহতের নাম ফরিদ মিয়া বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক আব্দুল খান।

তিনি জানান, ওই ব্যক্তির সঙ্গে আসা লোকজন জানিয়েছেন যে নির্বাচনি সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হন ফরিদ।

নিহতের শ্যালক শাহ আলম বলেন, ‘আমার দুলাভাই ফরিদ মিয়া একজন রিকশাচালক। রায়পুরা উত্তর বাখর নগর এলাকায় দুই মেম্বারের মধ্যে প্রাইমারি স্কুলের বাইরে গোলাগুলি শুরু হয়। ওই গোলাগুলির মধ্যে সে পড়ে যায়। এতে তার মাথায় গুলি লাগে।’

মুন্সিগঞ্জে সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ভোটের পর গণনা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সদরের বাংলাবাজার ইউনিয়নে সংঘর্ষে নিহত হন একজন।

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াল উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই সংঘর্ষ হয় বলে জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব।

তিনি জানান, বাংলাবাজারে কেন্দ্রের ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

নিহত ব্যক্তির নাম শাকিল মোল্লা। তার স্বজনরা জানান, বাড়ি শরীয়তপুর হলেও বাংলাবাজারে নানার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন শাকিল। সেখানে ভোটের সময় নারী সদস্য প্রার্থী রাবেয়া বেগমের সমর্থক হিসেবে কাজ করছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ভোট শেষে উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয়ে রাবেয়ার সমর্থকদের সঙ্গে আরেক প্রার্থী আরফা বেগমের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। সে সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, শাকিলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার দেহে একাধিক জখম ছিল।

শৈবাল আরও জানান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা ও দিঘিরপাড় ইউনিয়ন থেকে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন জানিয়েছেন, ভোটের পর সহিংসতায় তারা আহত হয়েছেন।

ভোট শেষে হট্টগোল হয়েছে মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধায়।

মেহেরপুরের গাংনীর কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয় কেন্দ্রে ফল ঘোষণা দেয়ার আগমুহূর্তে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। কেন্দ্রের ভেতর আটকা পড়েন পোলিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

তিনি জানান, সদস্য প্রার্থী মো. আলেহীম ও রাকিব হোসেনের সমর্থকরা ফল ঘোষণার আগে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তারা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। তাদের হটিয়ে দিতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক করা হয় আলেহীম ও রাকিবকে।

কিশোরগঞ্জ সদরের বৌলাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে ফল নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এতে আহত হন সদর থানার কনস্টেবল মো. মহসীন ও গণপূর্তের হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কনস্টেবল মহসীনকে নেয়া হয় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

তবে কারা হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি।

নিউজবাংলার প্রতিবেদক হাসপাতালে উপস্থিত সদর থানার পুলিশের কাছ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন কয়েকজন চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। এক ঘণ্টা পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৫

বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু রায়হান দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ওই কেন্দ্রের ভোট আবার গণনা করা হবে। তাতেও সমাধান না আসলে আবার ভোট হবে ওই কেন্দ্রে।

রাজবাড়ির বালিয়াকান্দির সদর ইউনিয়নে ফল ঘোষণার পর পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাইককান্দি কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেকুজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কেন্দ্রের পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা একটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি আরও জানান, ওই ওয়ার্ডের সদস্যপদে আকরাম হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরপর পরাজিত প্রার্থী মো. খোকনের সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট বাক্স কেড়ে নেয়। তাতেই সংঘর্ষ বাধে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদ জানান, ব্যালটবাক্স পরে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা গেছে।

এ ছাড়া ভোট চলাকালে দিনভর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের খবরও এসেছে কিছু জেলা থেকে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘এবার সহিংসতা যাতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশি তৎপর ছিল। প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থীরাও সহনশীল আচরণ করেছেন। এতে আগের চেয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও কম হয়েছে।

’বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটবে বলেও আশা করে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রার্থীদের সহনশীল এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে সহিংসতা আরও কমবে।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

আরও পড়ুন:
মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১
নৌকাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান ট্রান্সজেন্ডার ঋতু
সহিংসতাহীন ভোট হয়েছে: ইসি
ভোট শেষের আগ মুহূর্তে সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ নেতা নিহত
ঠেলাগাড়িতে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলেন জামেলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তিস্তার পানি গড়াবে ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে

তিস্তার পানি গড়াবে ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে

২০০৩ সালে সেচ কার্যক্রম শুরু করে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প। ৭৬০ কিলোমিটার নালা থেকে এই সেচ সুবিধা দেয়া হয় কৃষকদের। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে তা এখনও সম্ভব হয়নি।

৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে তিস্তার সেচ দেয়া হচ্ছে চলতি বোরো মৌসুমে। এর মাধ্যমে এবার তিন জেলার ৫ লাখ ১২ হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পাচ্ছেন।

এবারই সবচেয়ে বেশি এলাকায় সেচ দিচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সুবিধাভোগীর হিসেবে এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

তিস্তা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ৮৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে ইতোপূর্বে সেচ প্রদানে ব্যাঘাত ঘটেছে।

সূত্র মতে, ২০১৬ সালে ১০ হাজার, ২০১৭ সালে ৮ হাজার, ২০১৮ সালে ৩৫ হাজার, ২০১৯ সালে ৪০ হাজার, ২০২০ সালে ৪১ হাজার এবং ২০২১ সালে ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া হয়।

গত মৌসুমে নির্ধারণ করা লক্ষ্যমাত্রা এবারও ঠিক রেখে ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যা ইতোমধ্যে শুরু শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বছরে প্রতি বিঘা জমিতে সেচের জন্য ১৬০ টাকা নেয়া হয় কৃষকদের কাছ থেকে এবং একর প্রতি (তিন বিঘা) নেয়া হয় ৪৮০ টাকা।

নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ১২ উপজেলার ২৪২টি পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সহযোগিতায় প্রস্তাবিত এলাকায় পর্যায়ক্রমে সেচ দেয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ২০০৩ সালে সেচ কার্যক্রম শুরু করে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প। টারশিয়ারি ও সেকেন্ডারি মিলে ৭৬০ কিলোমিটার নালা থেকে এই সেচ সুবিধা দেয়া হয় কৃষকদের।

পানি ব্যবস্থাপনা সমিতি কিশোরগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সেচ পাম্প বা শ্যালো মেশিন দিয়ে বোরো আবাদে যেখানে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়, সেখানে তিস্তা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে তা মাত্র ৪৮০ টাকায় সম্ভব।’

পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কোথাও কম বা বেশি নয়। যেখানে যতটুকু পানি প্রয়োজন সেখানে ঠিক ততটুকু পানি দিতে প্রস্তুত আমরা।

জাহাঙ্গীর জানান, সেচ সুবিধা ভালো পেতে গত মৌসুমে তারা জানুয়ারির শুরুর দিকেই বোরো আবাদ শুরু করেছিলেন। এবারও তা-ই হয়েছে। আগামী এপ্রিল পর্যন্ত তিস্তার সেচ সুবিধা পাওয়ার আশা তাদের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া বিভাগের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী শামীম বলেন, ‘পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমরা পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। কোথাও কম বা বেশি নয়। যেখানে যতটুকু পানি প্রয়োজন সেখানে ঠিক ততটুকু পানি দিতে প্রস্তুত আমরা।’

তিনি বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অতীতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাঘাত ঘটলেও এবার তা হবে না। প্রকল্প এলাকার ২৪২টি সমিতির সঙ্গে আলোচনা করেই রোটেশন অনুযায়ী পানি দেয়া হবে।

জলঢাকা উপজেলা পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তিস্তার পানি দিয়েই বোরো আবাদ করি। খরচ কম। সময়মত পানিও পাওয়া যায়।’

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী শামীম বলেন, ‘তিস্তা ব্যারেজ রির্জাভারে বর্তমানে ১৫ হাজার কিউসেক পানি রয়েছে। যা দিয়ে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে পানি দেয়া সম্ভব। নদীতে ফেব্রুয়ারির দিকে পানি কমতে থাকে। তারপরও রোটেশন অনুযায়ী দিলে সমস্যা হয় না।’

তিনি জানান, সমস্যা এড়াতেই কৃষকদের জানুয়ারির প্রথম থেকেই বোরো আবাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদৌলা জানান, এবারের চেয়ে আগামী বছর আরও বেশি এলাকায় পানি দেয়ার চেষ্টা করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সে অনুযায়ী পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পুরো মৌসুমজুড়ে সেচপ্রকল্প এলাকায় মনিটরিং করবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ। বিশেষ করে, কেউ যেন পাইপিং করে পানি নিতে না পারেন। এটা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১
নৌকাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান ট্রান্সজেন্ডার ঋতু
সহিংসতাহীন ভোট হয়েছে: ইসি
ভোট শেষের আগ মুহূর্তে সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ নেতা নিহত
ঠেলাগাড়িতে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলেন জামেলা

শেয়ার করুন

ঘোড়াকে শাসাচ্ছে নৌকা

ঘোড়াকে শাসাচ্ছে নৌকা

ভালুকায় নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহ জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা দেওয়ান মো. সারোয়ার জাহান বলেন, ‘কোনো প্রার্থী নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুর, হুমকি ও পোস্টার টানাতে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

৩ নম্বর ভরাডোবা ইউনিয়নে সোমবার বিকেলের ঘটনায় রাতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

অভিযোগে তিনি বলেন, ‘নৌকা প্রতীকের শাহ আলম তরফদারের কর্মী-সমর্থকদের কারণে প্রচার চালাতে পারছি না। তাদের হুমকি ও বাধার কারণে নিশিন্দা বাজার ও ভরাডোবা নতুন বাসস্ট্যান্ডে নির্বাচনি ক্যাম্প বানানো সম্ভব হচ্ছে না।

‘আমার পোস্টার টাঙানো মাত্রই ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। এ অবস্থায় আমার কর্মী- সমর্থকরা চরম আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।’

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘নৌকার প্রার্থীর ইশারাতে তার কর্মী নাজিম উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, খোকন, পলাশ, শরিফ, বুলু, হানিফ, নিরব ও সোহেল তরফদার ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করতে তৎপর রয়েছেন।

‘ক্লাবের বাজারে আমার নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। যেকোনো সময় তারা বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। এর পরেও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, তাহলে শতভাগ বিজয়ী হবো।’

তবে শাহ আলম তরফদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কর্মী-সমর্থকরা কারও অফিস ভাঙচুর করেনি। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আমার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তোলা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা দেওয়ান মো. সারোয়ার জাহান বলেন, ‘কোনো প্রার্থী নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সবধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

ইউনিয়ন পরিষদের ষষ্ঠ ধাপের ভোটগ্রহণ হবে ৩১ জানুয়ারি। এ ধাপে ভালুকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নসহ দেশের ২১৯টিতে ভোট হবে।

আরও পড়ুন:
মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১
নৌকাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান ট্রান্সজেন্ডার ঋতু
সহিংসতাহীন ভোট হয়েছে: ইসি
ভোট শেষের আগ মুহূর্তে সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ নেতা নিহত
ঠেলাগাড়িতে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলেন জামেলা

শেয়ার করুন

ট্রাক্টর উল্টে চালক-হেলপার নিহত

ট্রাক্টর উল্টে চালক-হেলপার নিহত

ফাইল ছবি

স্থানীয়দের বরাতে নান্দাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল মালেক জানান, আতকাপাড়া গ্রামের কাঁচা সড়ক দিয়ে বালুবোঝাই ট্রাক্টরটি যাচ্ছিল। এলাকার ফরিদ মিয়ার মাছের খামারের কাছে এটি উল্টে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এতে চালক ও হেলপার দুজনই পানিতে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়েন।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে বালুবোঝাই ট্রাক্টর উল্টে পানিতে পড়ে চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন।

উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন আতকাপাড়া গ্রামের ট্রাক্টরচালক ৩২ বছর বয়সী মো. মোস্তফা ও তার হেলপার ২২ বছর বয়সী রাফাত মিয়া।

নান্দাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল মালেক নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, আতকাপাড়া গ্রামের কাঁচা সড়ক দিয়ে বালুবোঝাই ট্রাক্টরটি যাচ্ছিল। এলাকার ফরিদ মিয়ার মাছের খামারের কাছে এটি উল্টে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। এতে চালক ও হেলপার দুজনই পানিতে ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়েন।

পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নান্দাইল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘কাঁচা সড়কে দ্রুতগতিতে চালানোর কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। নিহতদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১
নৌকাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান ট্রান্সজেন্ডার ঋতু
সহিংসতাহীন ভোট হয়েছে: ইসি
ভোট শেষের আগ মুহূর্তে সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ নেতা নিহত
ঠেলাগাড়িতে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলেন জামেলা

শেয়ার করুন

আবারও পুড়ল রোহিঙ্গাদের বসতি

আবারও পুড়ল রোহিঙ্গাদের বসতি

ফায়ার সার্ভিসের আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ছবি: নিউজবাংলা

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগুনে পুড়ে গেছে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুই ব্লকের ২৯ বসতি। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি। পরে বিস্তারিত জানা যাবে।’

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৫-এ আবারও ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে গেছে রোহিঙ্গাদের ২৯টি বসতঘর।

সোমবার রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্প-৫-এর ইরানী পাহাড় জি/২ ব্লক থেকে আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ এমদাদুল হক।

১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগুনে পুড়ে গেছে দুই ব্লকের ২৯ বসতি। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুন লাগা কারণ এখনও জানা যায়নি। পরে বিস্তারিত জানা যাবে।’

এর আগে গত ৯ জানুয়ারি উখিয়ার শফিউল্লাহ কাটা নামের একটি শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৬০০টি ঘর পুড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় হারিয়েছে।

একইভাবে গত ২ জানুয়ারি উখিয়ার বালুখালী ২০ নম্বর ক্যাম্পে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত করোনা হাসপাতালে আগুন লাগে। এতে কেউ হতাহত না হলেও হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারের ১৬টি কেবিন পুড়ে যায়।

তারও আগে গত বছরের ২২ মার্চ উখিয়ার বালুখালীতে আরেকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যু হয় অন্তত ১২ জন রোহিঙ্গার। আগুনে পুড়ে যায় ১০ হাজারের বেশি ঘর।

আরও পড়ুন:
মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১
নৌকাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান ট্রান্সজেন্ডার ঋতু
সহিংসতাহীন ভোট হয়েছে: ইসি
ভোট শেষের আগ মুহূর্তে সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ নেতা নিহত
ঠেলাগাড়িতে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলেন জামেলা

শেয়ার করুন

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

রাজশাহীর রসগোল্লা দোকানের মিষ্টি। ছবি: নিউজবাংলা

বিচিত্র ধরনের আর স্বাদের উদ্ভাবনী মিষ্টি এনে রাজশাহী শহরে সাড়া ফেলে দিয়েছে একটি মিষ্টির দোকান। খেজুরের গুড়ের মিষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন আমের রস থেকে বানানো মিষ্টি এবং কাঁচা মরিচ মিষ্টির কথা ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

রাজশাহী শহরের অলিগলিতে রয়েছে অগণিত মিষ্টির দোকান। এর মধ্যে অনেক দোকানেরই বেশ নামডাক। পরিচিত হতে এগুলোর লেগেছে বছরের পর বছর। তবে ভিন্নধর্মী কিছু উদ্যোগ নিয়ে দুই সপ্তাহে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি দোকান, যেটির নাম ‘রসগোল্লা’।

শুরুর দিন খেজুর গুড়ের মিষ্টি নিয়ে আলোচনায় আসে তারা। এরপর কাঁচা মরিচের মিষ্টি, আমের স্বাদে মিষ্টি বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছে দোকানটি। এখন এ মিষ্টির দোকানে ভিড় প্রতিদিনকার। বেশির ভাগ ক্রেতাই ছাত্র-ছাত্রী।

রাজশাহী শহরের ভদ্রা রেলক্রসিংয়ের পাশেই দুই খামারি বন্ধু মিলে চালু করেছেন এই মিষ্টির দোকান। একজন ‘সওদাগর এগ্রো’ নামক একটি খামারের মালিক আরাফাত রুবেল, অন্যজন ‘আবরার ডেইরি ফার্ম’-এর মালিক রবিউল করিম। নিজেদের খামারের দুধ থেকে ছানা করে মিষ্টি বানাচ্ছেন তারা।

গত ১ জানুয়ারি শুরু হয়েছে তাদের এ যাত্রা। প্রথম দিনই আলোচনায় জায়গা করে নেয় খেজুর গুড় দিয়ে বানানো রসগোল্লা। তাদের প্রচারের ধরনেও আছে ভিন্নতা। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেই তারা প্রচারে কাজে লাগিয়েছেন।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

প্রথম দিন বিকেলে চালু হওয়ার পর রাতেই শেষ হয়ে যায় খেজুর গুড়ের মিষ্টি। এরপর গত কয়েক দিনে দোকানে এসেছে কমলার মিষ্টি, কাঁচা মরিচ মিষ্টি, জাফরান মিষ্টি, নারকেল কাশ্মীরি মিষ্টি, ল্যাংচা, রাজকুমার, চাঁদকুমারী, নবাব, জাফরান এবং ফজলি আমের মিষ্টি। ফজলি আম খাওয়ার জন্য যেভাবে আম কাটা হয় মিষ্টির ধরনও করা হয় ঠিক তেমনই। দেখে যে কারো মনে হতে পারে সত্যিকারের আমের ফালি। আমের ফ্লেভারও বেশ টাটকা।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

ফজলি মিষ্টি নিয়ে আলোচনার মাঝেই ১২ জানুয়ারি তারা নিয়ে এসেছে হাঁড়িভাঙা মিষ্টি। রংপুরের আলোচিত আম হাঁড়িভাঙা। আমের মিষ্টি বানানোর পরিকল্পনা তাদের কয়েক মাস আগেরই। এই লক্ষ্য নিয়ে তারা আমের মৌসুমে পাকা আম পাল্প করে রেখেছিলেন ফ্রিজে। এখন সেই পাল্পের সঙ্গে দুধ আর মসলা দিয়ে প্রথমে জাল করে শুকানো হচ্ছে। ওদিকে দুধের ছানা, চিনি, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম, চেরি, কিশমিশ আর এলাচের সংমিশ্রণে করা হচ্ছে খামির। এই খামির থেকে প্রথমে বানানো হচ্ছে মিষ্টি। মিষ্টির গায়ে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে মোয়া। তারপর মিষ্টিটা বার্গারের মতো কেটে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে দুধে জাল দেওয়া আমের পাল্প। তার ওপরে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে কাঠবাদাম, কিশমিশ আর চেরি।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

দোকানের উদ্যোক্তা আরাফাত রুবেল দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। রুবেল জানান, করোনাকালে নিজেদের খামারের দুধ বিক্রি করতে বেগ পাচ্ছিলেন তারা। এই অবস্থায় বিকল্প ভাবনা হিসেবে তাদের মাথায় আসে দুধ থেকে মিষ্টি বানানোর ভাবনা। তারই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে ১ জানুয়ারি থেকে।

দুই বন্ধু নিজেদের খামারের দুধ থেকে খাঁটি ছানার মিষ্টি বানাচ্ছেন। এর বাইরে মাঠ পর্যায়ের খামার থেকেও প্রতিদিন দুধ আনতে হচ্ছে। প্রতিদিন তারা প্রায় ১৮ থেকে ২০ মণ দুধের ছানা করছেন। বানাচ্ছেন মিষ্টি।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

রুবেল জানান, তারা কিছুটা ভিন্ন ভাবনা নিয়েই এটি শুরু করেছেন। গতানুগতিক ধারার মিষ্টির বাইরে এসে তারা মানুষকে নতুন স্বাদ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এ জন্য খেজুর গুড়, আম, মরিচের স্বাদের মিষ্টির চাহিদা অনেক। যারা বাইরে থেকে আসছেন তাদের কাছে আমের মিষ্টির চাহিদা বেশ। এ ছাড়া এখন যেহেতু আমের মৌসুম নয়, তাই আমের স্বাদ পেতে অনেকেই কিনছেন।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

সব থেকে বেশি চাহিদা খেজুর গুড়ের মিষ্টির। প্রতি কেজি খেজুর গুড়ের মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা করে। আর আমের মিষ্টির কেজি ৫৫০ টাকা। এ ছাড়া ল্যাংচা ৩৫০ টাকা, কাঁচা মরিচের মিষ্টি ৩২০ টাকা, টাটকা কমলার ফালি দিয়ে বানানো মিষ্টি ৩২০ টাকা কেজি।

রুবেল জানান, আমের মৌসুম এলে আমের তৈরি মিষ্টির দাম কিছুটা কমবে।

‘রসগোল্লা’য় অচেনা স্বাদের রসগোল্লা

প্রথম দিন থেকেই দোকানে সাড়া মিলছে প্রত্যাশার থেকেও বেশি। মানুষের আগ্রহ দেখে তারা অনেক বেশি আশাবাদী হচ্ছেন। তবে এখানকার বেশির ভাগ ক্রেতা শিক্ষার্থী বা তরুণ। বাসায় নেয়ার জন্য মিষ্টির ক্রেতা তুলনামূলক কম। তারা এখানে বসে দু-একটা মিষ্টি খেয়ে চলে যাচ্ছেন।

রুবেল বললেন, তাদের মূল প্রচার হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যারা এর পাঠক, তারাই মিষ্টির দোকানে আসছেন বেশি।

আরও পড়ুন:
মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১
নৌকাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান ট্রান্সজেন্ডার ঋতু
সহিংসতাহীন ভোট হয়েছে: ইসি
ভোট শেষের আগ মুহূর্তে সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ নেতা নিহত
ঠেলাগাড়িতে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলেন জামেলা

শেয়ার করুন

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পদ্মায় ভেসে উঠল মরদেহ

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পদ্মায় ভেসে উঠল মরদেহ

প্রতীকী ছবি

পুলিশ বলছে, মরদেহের সঙ্গে রশি দিয়ে বালির বস্তা বাঁধা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমঘটিত কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে। প্রথমে ডুবে থাকলেও পরে ভেসে ওঠে মরদেহটি। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

কুষ্টিয়ায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পদ্মা নদী থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিন জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

ঘুরতে গিয়ে গত বুধবার নিখোঁজ হন বিধান হোসেন নামে ওই যুবক। তার বাড়ি সদরের জুগিয়া পালপাড়ায়। তিনি বালু ঘাটের শ্রমিক ছিলেন।

কুষ্টিয়ার ঈশ্বরদীর তালবাড়িয়ায় পদ্মা নদীর ঘাটের কাছে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে বিধানের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন লক্ষীকুন্ডা নৌ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান।

তিনি জানান, নৌ পুলিশের সদস্যরা নদী থেকে বিধানের মরদেহ তুলে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

পরিবারের বরাতে কুষ্টিয়া মডেল থানার (ওসি) ছাব্বিরুল আলম বলেন, গত ১২ জানুয়ারি সকালে বিধান বাড়ির বাইরে থেকে ঘুরতে যায়। এরপর থেকে তার হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। বিধানকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে তার বাবা কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ওসি জানান, মরদেহের সঙ্গে রশি দিয়ে বালির বস্তা বাঁধা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, প্রেমঘটিত কারণে তাকে হত্যা করা হতে পারে। প্রথমে ডুবে থাকলেও পরে ভেসে ওঠে মরদেহটি। এ ঘটনায় তিন জনকে সন্দেহ করে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আরও পড়ুন:
মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১
নৌকাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান ট্রান্সজেন্ডার ঋতু
সহিংসতাহীন ভোট হয়েছে: ইসি
ভোট শেষের আগ মুহূর্তে সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ নেতা নিহত
ঠেলাগাড়িতে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলেন জামেলা

শেয়ার করুন

১০ হাজার তরমুজ গাছ কাটলেন পাউবো কর্মকর্তা

১০ হাজার তরমুজ গাছ কাটলেন পাউবো কর্মকর্তা

কেটে ফেলা তরমুজ গাছ নিয়ে কৃষক দেলোয়ারের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনিছি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড আর বনবিভাগ আমাকে কিছুই জানায়নি। কেউ লিখিতভাবে কিছু জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মৌখিক অনুমতি নিয়েই পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলারসর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ঢালে তরমুজ চাষ করছিলেন দেলোয়ার-সালমা দম্পতি।

প্রায় আড়াই মাস ধরে পানি দেয়া আর ক্ষেত পরিস্কার করে আসছিলেন তারা। গাছে গাছে ফলও ধরেছিল। আর এক মাস অপেক্ষা করলে আরও ভালো ফলনের আশা ছিল। সেজন্য স্বামী-স্ত্রী মিলে দিন-রাত পরিশ্রমও করছিলেন।

কিন্তু গত রোববার ঘটল বিপত্তি। সেদিন বিকেলেই একে একে সবগুলো তরমুজ গাছই কেটে ও উপড়ে ফেলেছেন পাউবোর স্থানীয় প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম।

দেলোয়ার-সালমা দম্পতি দাবি করেছেন, যিনি গাছগুলো কেটেছেন তার কাছ থেকেও তরমুজ চাষের মৌখিক অনুমোদন নিয়েছিলেন তারা। এ ছাড়া বন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে আর্থিকভাবে খুশিও করা হয়েছিল।

পরে কয়েকটি এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আগাম তরমুজ চাষ শুরু করেন তারা। কিন্তু অনেক আকুতি মিনতি করেও শেষ রক্ষা হয়নি। অর্থ আর পরিশ্রম বিফলে যাওয়ায় তাদের এখন পথে বসার উপক্রম।

কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, বনবিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধের ওই ঢালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়েই গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সবজির চাষ করছেন তিনি। দুই মাস আগে সেখানে রোপন করা তরমুজের গাছগুলো ওই কর্মকর্তারাও এসে মাঝেমধ্যে দেখতেন।

কিন্তু গত রোববার কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পানি উন্নয়ন বোর্ডের মনিরুল ইসলাম প্রায় ১০ হাজার গাছ উপড়ে ফেলেন। এতে আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেলোয়ার।

দেলোয়ার জানান, ওই স্থানের দায়িত্বে থাকা বনবিভাগের মোশাররফ নামে এক কর্মকর্তাকে তিনি ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন। কিন্তু গাছগুলো কেটে ফেলার পর এখন তাকে মামলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে।

দেলোয়ারের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীর সঙ্গে এই জায়গায় কাজ করেছি। টাকা নাই তাই আমি তিনটি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি। এখন এই টাকা কিভাবে দেব। আমি ক্ষতিপূরণ চাই, না হয় মরন ছাড়া উপায় নাই।’

প্রতিবেশী নাসির মৃধা বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসী সবাই নিষেধ করেছি যে অন্তত একটা মাস সময় দেয়া হোক। তারপর আপনাদের যদি কোনো ক্ষতি হয় দেলোয়ার আপনাদের ক্ষতিপূরণ দেবে। কিন্তু তারা কারো কথা শোনেনি।’

টাকা নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বনবিভাগের কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো টাকা পয়সা নেইনি। এগুলো সব মিথ্যা। ওখানে ঘাস নষ্ট হওয়ার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী গাছ উঠাইছে, আমি উঠাইনি।’

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বেড়িবাঁধ রক্ষা প্রকল্পের প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, বেড়িবাঁধে তরমুজ গাছ লাগানোর কথা তিনি আগে জানতেন না। রোববারই প্রথম দেখেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বেড়িবাঁধ রক্ষায় লাগানো ঘাস কেটে উঠিয়ে ফেলার কারণে কিছু জায়গা রেখে বাকি তরমুজ গাছ আমি উঠিয়ে ফেলেছি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, ওই স্থানে এখন প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। তবে তরমুজ চাষ বা গাছ কাটার ব্যাপারে তিনি কিছু শুনেননি। এ ব্যাপারে তিনি খোঁজ নেবেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনিছি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড আর বনবিভাগ আমাকে কিছুই জানায়নি। কেউ লিখিতভাবে কিছু জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১
নৌকাকে হারিয়ে চেয়ারম্যান ট্রান্সজেন্ডার ঋতু
সহিংসতাহীন ভোট হয়েছে: ইসি
ভোট শেষের আগ মুহূর্তে সংঘর্ষ, ছাত্রলীগ নেতা নিহত
ঠেলাগাড়িতে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিলেন জামেলা

শেয়ার করুন