কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের মসজিদ। ফাইল ছবি

দারোগাবাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ইয়াছিন নূরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো বুঝতে পারিনি কেউ এখান থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে এমন কাজ করবে। আগামী দিনে আমরা সতর্ক থাকব। মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন শরিফ রাখব না।’

কুমিল্লার একটি মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ এনে পাশের পূজামণ্ডপে রাখার ঘটনা ধরা পড়ার পর ওই মাজারের কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতে তারা আর মসজিদের বারান্দায় অরক্ষিত অবস্থায় কোরআন শরিফ রাখবে না।

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু, সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখল কারা

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার জানা যায়, নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখেছিলেন ইকবাল হোসেন নামের স্থানীয় এক যুবক। সহিংসতার আগের রাতে তিনি কোরআনটি নিয়েছিলেন মণ্ডপের পাশের শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের মসজিদের বারান্দা থেকে।

কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রওনা হন মণ্ডপের দিকে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া ছবি

ইকবাল রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে কোরআন শরিফটি হাতে নিয়ে মণ্ডপের দিকে রওনা হন। এরপর মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ফিরে আসেন। এসব দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায়।

আরও পড়ুন: মণ্ডপে কোরআন রাখায় প্রধান সন্দেহভাজন যুবক ইকবাল

নানুয়ার দিঘির পাশেই শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারটির অবস্থান। মণ্ডপ থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট। দারোগাবাড়ী মাজার নামে কুমিল্লাবাসীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি রয়েছে মাজারটির। এই মসজিদের বারান্দায় তিলাওয়াতের জন্য রাখা থাকে বেশ কয়েকটি কোরআন শরিফ। রাত-দিন যেকোনো সময় যে কেউ এখানে এসে তিলাওয়াত করতে পারেন।

কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন

ইকবালের বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে দারোগাবাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ইয়াছিন নূরীকে ফোন করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিনি।’

আরও পড়ুন: পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল

মসজিদের বারান্দায় পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই মাজারে এসে কোরআন শরিফ দিয়ে যান। এসব কোরআন শরিফে মসজিদের ভেতরের সেলফ পূর্ণ হয়ে গেছে। তাই কিছু কোরআন শরিফ বারান্দায় রাখা হয়েছিল। তাছাড়া বারান্দায় রাখলে যেকোনো সময় যে কারও জন্য তিলাওয়াতেরও সুবিধা হয়।

‘আমরা তো বুঝতে পারিনি কেউ এখান থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে গিয়ে এমন কাজ করবে। আগামী দিনে আমরা সতর্ক থাকব। মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন শরিফ রাখব না।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত ইকবালের সহযোগী অন্তত চারজন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইকবাল গ্রেপ্তার হলেই এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
ঝালকাঠিতে মন্দিরে আগুন দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ
পীরগঞ্জে ২৬ পরিবারের পাশে ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বিদ্যানন্দ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভাইরাল হওয়ায় গতি মারুফের, সঙ্গীদের কী হবে

ভাইরাল হওয়ায় গতি মারুফের, সঙ্গীদের কী হবে

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় হচ্ছে পথশিশুরা। তাদের ব্যাপারে উদাসীন সমাজসেবা অধিদপ্তর। ছবিটি ঢাকা জজকোর্ট এলাকা থেকে তোলা।

রাজধানীর পুরান ঢাকায় বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় থাকত মারুফ। সেই পার্ক, কোর্টকাচারি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সদরঘাটসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মারুফের মতো অনেক পথশিশুরাই ঘুরে বেড়ায়। তারাও পার্ক বা ফুটপাতে ঘুমায়। কেউ খাবার দিলে খায়, আবার অনেক সময় চেয়ে নিয়ে খায়। তাদের কাউকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়নি।

ঢাকার জজকোর্ট এলাকায় পথে পথে ঘুরত শিশু মারুফ। হয়ে যায় মাদকে আসক্ত। একটি সংবাদমাধ্যমের লাইভে ঢুকে ‘লকডাউন ভুয়া’ বলার পর তাকে নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। এরপর তাকে উদ্ধার করে নিরাময় শেষে মাকে খুঁজে তুলে দেয়া হয় তার কাছে।

শিশুটি এখন মাতৃস্নেহে সিক্ত। সরকারি আশ্রয় থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় মামা কথা দিয়ে যান, তার ভাগ্নেকে স্কুলে ভর্তি করবেন।

মারুফকে উদ্ধার করে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ আরও একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করে দিয়েছে তাদের কর্তব্যনিষ্ঠার প্রতি।

মারুফকে নিয়ে গেলেও তার মতোই আরও যে শিশু আছে, যারা পরিবারের বাইরে একা একা পথে ঘুরে বেরিয়ে মাদকে আসক্ত হয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় হচ্ছে, তাদের বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর পুরোপুরি উদাসীন।

রাজধানীর পুরান ঢাকায় বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় থাকত মারুফ। সেই পার্ক, কোর্ট কাচারি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সদরঘাটসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মারুফের মতো অনেক পথশিশুরাই ঘুরে বেড়ায়। তারাও পার্ক বা ফুটপাতে ঘুমায়। কেউ খাবার দিলে খায়, আবার অনেক সময় চেয়ে নিয়ে খায়।

ডান্ডি নামক এক প্রকার মাদকে আসক্ত বেশির ভাগ। মারুফের মতো নেশা বা টাকা-পয়সা নিয়ে প্রায়ই মারামারি করে।

তারা বলছে তাদেরকে কেউ এসে মাদক দিয়ে যায়। তবে কে বা কারা তাদের মাদক দেয় তারা তা বলতে পারে না।

এদের অনেকেরই বাবা-মা নেই। কেউ ভাই বা বোনের সঙ্গে থাকে। কেউ কারও সঙ্গে থাকতে থাকতে তাকেই ভাই বোন বানিয়ে নিয়েছে। এই শিশুদেরকে ব্যবহার করে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে, কখনও কখনও ভিক্ষাও করানো হচ্ছে এদেরকে দিয়ে।

পার্কের বেদিতে ডান্ডি নামক মাদক সেবন করছিল ‘আ’ আদ্যাক্ষরের ৭ থেকে ৮ বছর বয়সী এক ছেলে।

কেন খাচ্ছে জিজ্ঞেস করলে বলে, সবাই খায়, তাই সেও খায়।

বুদ্ধি হওয়ার পর বাবা-মাকে দেখেনি ছেলেটা। থাকে বোনের সঙ্গে। মানুষের কাছে খাবার চেয়ে খায়।

তার পাশে বসে ছিল আরও তিনটি শিশু। তাদের জীবন ও বক্তব্যও অনেকটা একই ধরনের। পড়াশোনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বলে, ‘এসব বড়লোকের পুলাপাইন করে। আমরা করি না।’

এই শিশুদের মধ্যে একজন পথচারী দেখলেই হাত পাতছিল। জানায়, তার বাবাও ভিক্ষা করে, মা নেই। ছোট ভাইকে নিয়ে ভিক্ষা করে দুই বেলা খায়।

পড়াশুনার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, ‘গেছিলাম, হেরা আটকাইয়া রাখে; ভালো লাগে না; সাইন দিয়া আইয়া পড়ছি।’

ভাইরাল হওয়ায় গতি মারুফের, সঙ্গীদের কী হবে
সেই পথশিশু মারুফ

কেন শুধু মারুফ

মানবাধিকারকর্মী নুর খান লিটন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে মূলেই গলদ। আসলে এসব পথশিশুরা যখন একটা অপরাধ করে বসে তখন পুলিশ, সমাজসেবা অধিদপ্তর সবাই নড়েচড়ে বসে। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা কথিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দুর্বলতাই লক্ষ্য করি।’

তিনি বলেন, ‘মারুফ যখন আলোচিত হয়, তখন সবাইকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। রাষ্ট্রের এটা দায়িত্ব, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, কখনও কখনও এসব বিষয়ে ২-১ টি পদক্ষেপ দেখলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় না। যে কারণে এইসব পথশিশুদের আশ্রয়কেন্দ বা পুনর্বাসনে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা হয় না। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও অমানবিক।’

‘সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি বেসরকারি উদ্যোগ এই শিশুদের নিয়ে কাজ করে। মারুফকে উদ্ধার থেকে শুরু করে পুনর্বাসন ও স্বজনদের হাতে তুলে দেয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা পারভেজ হাসান তরুণ পারভেজ হাসান।

নিউজবাংলাকে তিনি, ‘মারুফ ভাইরাল হয়েছে দেখে নিয়েছি সেটা নয়। মারুফ অসহায় ছিল, তার পাশে দাঁড়ানোর মতো ওই সময় কেউ ছিল না। আমরা অন্যান্য পথশিশুদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। যেকোনো পথশিশু যদি আলোর পথে ফিরতে চায়, তাকে সহযোগিতা করি। আর এই দায়িত্ব কারও একার নয়, সবার।’

জানতে চাইলে ঢাকা জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রুকনুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সরাসরি কোনো পথশিশুকে ধরতে পারি না। এটা করতে পারে পুলিশ। তারা আমাদের কাছে ধরে এনে দেয়, তখন আমরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাদেরকে (পথশিশুদের) সংশোধনাগারে দিয়ে দেই।’

ভাইরাল হওয়ায় গতি মারুফের, সঙ্গীদের কী হবে

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) শহীদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পথশিশুদের নিয়ে আমাদের একটি প্রজেক্ট রয়েছে। আমরা পথশিশুদের সংশোধনাগারে পাঠানো এমনকি তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া এসব কাজ করি। আমাদের বিভাগেই এ ধরনের কাজ রয়েছে। আমরা এসব কাজের পরিধি আরো বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’

পথশিশুদের নিয়ে চাইল্ড সেনসেটিভ স্যোসাল প্রটেকশন ইন বাংলাদেশ (সিএসপিবি) নামে একটি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পটির পরিচালক সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কিছু ক্যাম্প রয়েছে (সদরঘাট, গাবতলী)। এছাড়াও আমাদের কিছু সমাজকর্মী রয়েছে। আমাদের একটি জরুরি সেবা নম্বর (১০৯৮) রয়েছে। সেখান থেকে সংবাদ পেলে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের অধীনে আমরা সেইসব পথশিশুদের প্রথমে সংগ্রহ করি। তারপর তাদের সংশোধনাগারে পাঠাই।

‘তাদের বাবা-মা যদি পাওয়া যায় বা তারা যদি আগ্রহী হয়, তখন আমরা তাদেরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি। কোনো শিশু যদি আইন ভঙ করে ফেলে, তখন তাদেরকে গাজীপুরে কোণাবাড়ির দুটি বা যশোরের সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। সংশোধনাগারে তাদেরকে কাউন্সেলিং করা হয়। এরপর তারা যখন বলে আমরা বাড়িতে ফিরতে চায়, তখন আমরা ব্যবস্থা করি।’

ভাইরাল হওয়ায় গতি মারুফের, সঙ্গীদের কী হবে

ভাসমান শিশু কত

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪ লাখের মতো পথশিশু রয়েছে। যার অর্ধেকই অবস্থান করছে রাজধানী ঢাকায়।

অন্যদিকে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ বলছে, বাংলাদেশে পথশিশুর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। ঢাকার হিসাব অবশ্য তাদের কাছে নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ঢাকাতেই ছয় লাখ পথশিশু রয়েছে।

সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের পারভেজ হাসান বলেন, ‘এদের অধিকাংশ বসতবাড়িহীন, পোশাকহীন, রাস্তায় থাকে। এদের আবার বেশির ভাগ মাদকাসক্ত। এদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এদের জীবনটাই করুণ। তারা ছোটবেলা থেকে বিরূপ চিত্র দেখে বড় হয়েছে। তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। তাদের প্রয়োজনটা পূরণ করতে হবে। যেমন: খাবার, পোশাক, থাকার ব্যবস্থা। যাতে তারা মনে করে পিছনে যা হওয়ার হয়েছে, সামনে ভালো কিছু হবে।’

পুরান ঢাকা এলাকায় পথশিশুদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো)।

এর টিম লিডার আরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদের এখানে অনেক শিশুই থাকছে, পড়াশোনা করছে, কিন্তু অনেকেই থাকতে চায় না। আমরা চেষ্টা করি তাদের পূর্বের জীবনকে ভুলিয়ে নতুন পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে। যতটুকু সম্ভব তাদেরকে নিয়ে আমরা বিভিন্ন প্রোগ্রাম করার চেষ্টা করি।’

ভাইরাল হওয়ায় গতি মারুফের, সঙ্গীদের কী হবে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিপ্রা সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিবারের ভাঙনের কারণেই কিন্তু একজন পথশিশু তৈরি হচ্ছে। সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এই বিষয়টি নিয়ে অনেক গবেষণা প্রয়োজন। তারপর তা রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘এখন অনেক পথশিশুই মাদকাসক্ত হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পরিবার থেকে বের হয়েই কিন্তু একটা শিশু মাদক ধরে না। এই জায়গায় সমাজ, রাষ্ট্রের তাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা জরুরি। তাদের জন্য ভালো পরিবেশের পুনর্বাসনের জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
ঝালকাঠিতে মন্দিরে আগুন দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ
পীরগঞ্জে ২৬ পরিবারের পাশে ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বিদ্যানন্দ

শেয়ার করুন

অনিয়মে বেহাল রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ পাটকল

অনিয়মে বেহাল রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ পাটকল

বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় পাট কলে নানা অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

বিজেএমএর মহাসচিব আবদুল বারিক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিজেএমসির দুর্নীতির কারণে পাটকলগুলো বন্ধ হয়েছে। চুরি করে খায়, সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল এমন অবস্থা। বিজেএমসির কারণে পাটশিল্পের আজ এ অবস্থা।’

অনিয়মে বেহাল হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় পাটকল। আপ্যায়ন ব্যয়ে নয়ছয়, বিধিবহির্ভূত সম্মানি ভাতা উত্তোলন, বৈদেশিক ভ্রমণ ভাতা বিল করে টাকা তুলে নেয়াসহ হয়েছে নানা অনিয়ম।

শুধু ছয় পাটকলই নয়, বিজেএমসির প্রধান কার্যালয়েও আত্মসাৎ হয়েছে অর্থ। সবমিলিয়ে ৭৮ কোটি টাকার অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর।

সোনালি আঁশ পাট বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় একটি ফসল। স্বাধীনতার সময় পাটই ছিল দেশের প্রধান রপ্তানি ফসল। পরে নানা প্রচেষ্টা এবং চক্রান্তে থমকে যায় পাটের অগ্রযাত্রা। নানা অনিয়মে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর উৎপাদন বাড়েনি। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কার্যক্রম।

বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএমএ) মহাসচিব আবদুল বারিক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিজেএমসির দুর্নীতির কারণে পাটকলগুলো বন্ধ হয়েছে। চুরি করে খায়, সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল এমন অবস্থা। বিজেএমসির কারণে পাটশিল্পের আজ এ অবস্থা।’

তিনি বলেন, ‘এখন এ শিল্পকে বাঁচাতে হলে প্রথমে আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। যে মেশিনারিজ আছে সেগুলো অনেক পুরোনো। বিজেএমসির অনেক ঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে। তেমনি পুরো পাট খাতে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।’

আবদুল বারিক খান বলেন, ‘এ শিল্প বাঁচাতে হলে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ দিতে হবে। বিজিএমইএ গার্মেন্ট শিল্প রক্ষা করতে অনেক পলিসি সাপোর্ট দেয়। পাট খাতে এ ধরনের নীতি সহায়তা দিতে হবে।’

পাটকলে অনিয়ম

বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় পাট কলে ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নানা অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৭৮ কোটি ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩০ টাকা।

বিজিএমসির প্রধান কার্যালয়, বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেড, ইউএমসি জুট মিলস লিমিটেড, জুটো ফাইবার গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ, করিম জুট মিলস লিমিটেড, স্টার জুট মিলস লিমিটেড এবং হাফিজ জুট মিলস লিমিটেডে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে অডিট অধিদপ্তর।

বিজেএমসি কার্যালয়ে অনিয়ম

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন বা বিজেএমসি কার্যালয়ের অনিয়মে ৪০ লাখ ১০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি পেয়েছে অডিট অধিদপ্তর। আপ্যায়ন খাতে প্রকৃত খরচের বদলে বিল ভাউচার ছাড়া খরচ দেখানোর ফলে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি ৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা।

তিনজন উপদেষ্টাকে বিধিবহির্ভূতভাবে একই সঙ্গে অবসর ভাতা এবং উপদেষ্টা হিসেবে সম্মানী ভাতা দেয়ায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২৯ লাখ ৩১ হাজার ৪২৯ টাকা। প্রাপ্যের চেয়ে অতিরিক্ত হারে বৈদেশিক ভ্রমণ ভাতা বিল দেয়ায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২ লাখ ৩০ হাজার ৫২৭ টাকা।

সবচেয়ে বেশি অনিয়ম বাংলাদেশ জুট মিলসে

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের মধ্যে বড় অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বাংলাদেশ জুট মিলসে। চারটি খাতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫২ কোটি ৭১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৭ টাকা।

অডিট অধিদপ্তর বলছে, মার্কেটিং ব্যবস্থাপনার গাফিলতির কারণে ক্রেতা সংগ্রহ না করার ফলে মজুদ বেড়ে যাওয়ায় আয় কম হয়েছে। ফলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪৫ কোটি ৫২ লাখ ৫৩ হাজার ৯১৩ টাকা। বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন মিলগুলোর কাছ থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের পাওনা আদায় না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬১ টাকা।

২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত বেতনের বিপরীতে প্রদত্ত অগ্রিম অনাদায়ী অবস্থায় রয়েছে ১৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৬ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন কেনার ক্ষেত্রে কেটে নেয়া ভ্যাট ও আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়ায় দণ্ড সুদসহ সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ৯৩ লাখ ৫ হাজার ৮৫৭ টাকা।

ইউএমসি জুট মিলে টাকা পাননি সরবরাহকারীরা

রাষ্ট্রায়ত্ত ইউএমসি জুট মিলে ১১ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮ টাকার আর্থিক ক্ষতি পেয়েছে বাণিজ্যিক নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পাট বিভাগীয় প্রধান এস এ এইচ মনোয়ার আলী, চুরমুগুরিয়া কেন্দ্রের ইনচার্জ মোজাম্মেল হক, কামারপাড়া কেন্দ্রের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম এবং মিলের গোডাউন ইনচার্জ আরিফুল চালান জালিয়াতি করেছেন। বিভিন্ন পাট সরবরাহকারীর বিল পরিশোধ না করে তারা আত্মসাৎ করেছেন ২ কোটি ২৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯২ টাকা।

মিলে শ্রমিক হাজিরার বিপরীতে অতিরিক্ত শ্রমিকের মজুরি শোধ করায় ক্ষতি ৭৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮০০ টাকা। এ ছাড়া চালু তাঁতের বিপরীতে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বাজেট বরাদ্দ অপেক্ষা অতিরিক্ত ব্যয় করার ফলে প্রতিষ্ঠানের অনিয়মিত ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৮ টাকা।

বিজেএমসি নির্ধারিত হার অপেক্ষা অতিরিক্ত হারে বেলিং বাকেলস খরচ দেখানোর ফলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫ লাখ ৮ হাজার ১৪৮ টাকা।

জুটো ফাইবার গ্লাস ইন্ডাস্টিজে অনিয়ম

রাষ্ট্রায়ত্ত জুটো ফাইবার গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজে ১ কোটি ৪০ লাখ ৮৩ হাজার ১২১ টাকার আর্থিক ক্ষতি পেয়েছে বাণিজ্যিক নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

ট্রেড ডেবটরস এবং অন্যান্য অগ্রিম বাবদ অর্থ দীর্ঘদিন অনাদায়ী অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার ৩০৭ টাকা। বিভিন্ন অগ্রিম দীর্ঘদিন অনাদায়ী অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৫৫ লাখ ১ হাজার ৮১৪ টাকা।

করিম জুট মিলে আর্থিক ক্ষতি

রাষ্ট্রায়ত্ত করিম জুট মিলস লিমিটেডে ২ কোটি ৮১ লাখ ২ হাজার ৭৯৮ টাকার আর্থিক ক্ষতি পেয়েছে বাণিজ্যিক নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

করিম জুট মিলে তিনটি পুকুর বা জলাশয় লিজ দিয়ে ভ্যাট না কাটায় সরকারের ক্ষতি ৩ লাখ ৬০ হাজার ১৫০ টাকা।

কলতাপাড়া পাট ক্রয়কেন্দ্রের কেনা পাটের পরিমাণের চেয়ে কম পরিমাণ পাট মিলে গ্রহণ করায় হিসাবের গরমিল ৯৭ লাখ ৫৩ হাজার ৬১৫ টাকা।

প্রাপ্যর অতিরিক্ত হারে বেলিং হুপস ও বেলিং বাকেলস খরচ করায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৭৩ হাজার ৪৩২ টাকা। সরবরাহকারী ও বিবিধ বিল থেকে কেটে নেয়া উৎসে আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা না করায় রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫ টাকা।

অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত হারে অধিকাল ভাতা দেয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৩৯ লাখ ৮ হাজার ২৭ টাকা। এ ছাড়া শ্রমিক হাজিরায় অনুমোদনহীন কর্মচারী নিয়োজিত করায় নিরীক্ষা বর্ষেই প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ১৯ হাজার ৫৬৯ টাকা।

স্টার জুট মিলে আর্থিক ক্ষতি

রাষ্ট্রায়ত্ত স্টার জুট মিলস লিমিটেডে ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪০ টাকার আর্থিক ক্ষতি পেয়েছে বাণিজ্যিক নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

চালু তাঁতে অনুমোদিত লোকবল অপেক্ষা অনিয়মিতভাবে মোট ৬ হাজার ২০৮ জন অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করায় এবং মজুরি দেয়ায় ক্ষতি হয়েছে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৫২ হাজার ৮০০ টাকা।

বিভিন্ন সরবরাহকারীর বিল ও বিবিধ থেকে কেটে রাখা আয়কর ও ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়ায় রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ৪৮ লাখ ৩৬ হাজার ৮২৫ টাকা।

বাজেট বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও মিলের শ্রমিকদের অধিকার ভাতা স্বাভাবিক হাজিরা হিসেবে দেয়ায় মিলের ক্ষতি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৩৫ টাকা। বিপুল অঙ্কের ব্যাংক ঋণে পরিচালিত মিলের অর্থ থেকে পর্যাপ্ত অগ্রিম দেয়ার পর দীর্ঘদিনেও সমন্বয় না করায় সুদসহ আদায়যোগ্য টাকার পরিমাণ ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৮০ টাকা।

হাফিজ জুট মিলে অনিয়ম

রাষ্ট্রায়ত্ত হাফিজ জুট মিল লিমিটেডে ১ কোটি ১৮ লাখ ২৬ হাজার ২০৬ টাকার আর্থিক ক্ষতি পেয়েছে বাণিজ্যিক নিরীক্ষা অধিদপ্তর।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বছরের পর বছর কেটে নেয়া ভ্যাট, উৎসে আয়কর ও রেভেনিউ স্ট্যাম্প বাবদ প্রাপ্ত সরকারি রাজস্ব কোষাগারে জমা না করায় সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ ২৩ হাজার ৪৩ টাকা।

আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও বিজেএমসির পাটক্রয় নির্দেশনা পালনে ব্যর্থতায় খানখানাপুর পাটক্রয় কেন্দ্রে পাটের মানজনিত ও পরিমাণজনিত আর্থিক ক্ষতির জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দুই কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র সরকার ও সহকারী পাটক্রয় কর্মকর্তার কাছে পাওনা ১২ লাখ ৩ হাজার ১৬১ টাকা।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
ঝালকাঠিতে মন্দিরে আগুন দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ
পীরগঞ্জে ২৬ পরিবারের পাশে ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বিদ্যানন্দ

শেয়ার করুন

মাটির ওপর অত্যাচারে হুমকিতে প্রাণ-প্রকৃতি

মাটির ওপর অত্যাচারে হুমকিতে প্রাণ-প্রকৃতি

মাটির অবক্ষয়ে পরিবেশগত বিপর্যয় বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ছবি: এএফপি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাটির অপরিকল্পিত ও অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবহারে বাড়ছে পরিবেশগত বিপর্যয়। এটি মানবজাতিকে ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আমাদের খাদ্য, অক্সিজেনসহ অনেক নিত্য প্রয়োজন মেটানো গাছের জন্ম মাটি থেকে। এটি থাকা না থাকার ওপর নির্ভরশীল প্রাণের অস্তিত্ব। অথচ পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ এ সম্পদের ব্যবহারে চরম উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনা দেখিয়েছে মানুষ। এর ফলে প্রাণ ও প্রকৃতি হুমকির মুখে পড়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, মাটির অপরিকল্পিত ও অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবহারে বাড়ছে পরিবেশগত বিপর্যয়। এটি মানবজাতিকে ভয়াবহ ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিবেশগত বিপর্যয়ের চাপে আমরা খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছি। প্রকৃতিগতভাবে আমাদের নাভিশ্বাস বাড়ছে। কারণ মাটির ব্যবহার আসলে নিয়মতান্ত্রিক হচ্ছে না। আবার ভূমণ্ডলে মাটির আকারও বাড়ানো সম্ভব না। অথচ ক্রমাগত মানুষ বাড়ছে। এর মানে হচ্ছে সীমাবদ্ধ ভূমিতে ক্রমাগত জনসংখ্যার চাপ তৈরি হচ্ছে এবং নানামাত্রিক ব্যবহারে জমির চাহিদা বাড়ছে।

‘নগরব্যবস্থা গড়ে উঠছে; রাস্তাঘাট, শিল্প-কারখানা ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ বাড়ছে। এতে ব্যবহারযোগ্য জমি বা মাটি কমে আসছে। যেটুকু আছে তার সুরক্ষাও আমরা দিতে পারছি না। নানামাত্রিক অপরিকল্পনায় ভূমির অবক্ষয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে গাছপালা কমছে; বনজঙ্গলের পরিধি ছোট হচ্ছে। অপরদিকে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রভাব পরিবেশের ওপর এসে পড়ছে।’

মাটির অবক্ষয়ে সৃষ্ট সমস্যা নিয়ে আইনুন নিশাত বলেন, ‘এতে বন্যা, খরা, উষ্ণতা বাড়ছে; সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের উর্বর মাটিও লবণাক্ত হচ্ছে। প্রতি বছর নতুন নতুন এলাকা লবণাক্ততায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর মানে মাটির যে উৎপাদিকা শক্তি ছিল, তা অনেকাংশে কমে আসছে।

‘ফসলের উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই জমি থেকে বারবার খাদ্য উৎপাদনের নির্ভরশীলতা বেড়ে যাচ্ছে। এটা ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত।’

বাড়ছে লবণাক্ততা

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ২০০৯ সালের জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবেশ বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কারণ হলো মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ১.০৫৬ মিলিয়ন হেক্টর আবাদযোগ্য জমি বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ত। এসব জমির বেশিরভাগ শুষ্ক মৌসুমে পতিত থাকে। বাকি সময়ে জমিগুলোর উৎপাদনশীলতা দেশের অন্যান্য ভূমির তুলনায় সর্বনিম্ন স্তরে।

এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. খলিলুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাটির ওপর নির্বিচার অত্যাচার হচ্ছে; ব্যবহারে চরম অব্যস্থাপনা চলছে। কংক্রিটে ঢেকে যাচ্ছে মাটি।

‘কৃষি জমিতে হচ্ছে ইটভাটা; ফাঁকা জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে রাসায়নিক। এতে মাটির মাইক্রোস্কোপিক (ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র) উপাদান মইরা শেষ। সবাই মনে করে মাটি জীবনবিহীন, কিন্তু মাটি সার্বজনীন জীবন্ত। এটা তো কেউ মানেই না।’

মাটি বাঁচিয়ে স্থাপনা নির্মাণে গুরুত্বারোপ করে এ অধ্যাপক বলেন, ‘এটা ঠিক, আমাদের ঘরবাড়ি, নালা, বিল্ডিং, রাস্তাঘাট, শিল্প-কারখানা কিংবা অন্যান্য অবকাঠামো সবকিছুরই দরকার আছে, তবে এর সবকিছুই হতে হবে পরিবেশবান্ধব। যা-ই আমরা করিনা কেন, তা মাটিকে বাঁচিয়ে রেখেই করতে হবে, তবেই পরিবেশ ভালো থাকবে।

‘পরিবেশ ভালো না রাখা গেলে মাটির জীবনশক্তি কমে যাবে। এতে গাছপালা, উদ্ভিদ মরে যাবে এবং কমে যাবে। ফসলের উৎপাদনও কমে আসবে। মাটির অপরিকল্পিত ব্যবহার ও জীবনচক্র নষ্ট করে আসলে আমরা নিজেদেরই ধ্বংস ডেকে আনছি। এই প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য যে খুব খারাপ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্বে ৮৩৩ মিলিয়ন (৮৩ কোটি ৩০ লাখ) হেক্টর জমি আছে লবণাক্ত। বাংলাদেশেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটা বড় এলাকা লবণাক্ততায় আক্রান্ত, যার পরিমাণ ১০ লাখ ৫৬ হাজার একর। এই অঞ্চলে শুধু বর্ষাকালেই ধান হয়; বাকি সময়ে আবাদশূন্য থাকে। তাই লবণাক্ত মাটির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করাই সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেন, ‘এর জন্য এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা দরকার যাতে করে লবণ কম হয়। এ রকম ২২টি প্রযুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি আমরা, যার ব্যবহারে সুফল পাওয়া যাচ্ছে।

‘আগামীতে এ ধরনের নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে লবণাক্ত অঞ্চলের ফসল উৎপাদন বাড়াতে নিরন্তর কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।’

লবণাক্ততা কমানোর চ্যালেঞ্জকে গুরুত্ব দিয়ে ৫ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী পালন হচ্ছে মৃত্তিকা দিবস। দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়, ‘লবণাক্ততা রোধ করি, মাটির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করি।’

ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতে

ভারতের বিখ্যাত যোগগুরু জগদীশ বাসুদেব ওরফে সাধগুরু বলেন, ‘এই পৃথিবীর মাটির আমরা যে ক্ষতি করেছি, তা সাংঘাতিক। অন্যান্য জিনিস, যেমন: কোথাও বরফ গলছে, সেটা হয়তো দেখা যাচ্ছে, কিন্তু মাটির যে ক্ষতি আমরা করেছি, তা খুবই ভয়ংকর।

‘কিন্তু দুর্ভাগ্য, অধিকাংশ মানুষ মাটিকে অবহেলা করেন। যখন বুঝতে শেখেন, ততক্ষণে একটু বেশিই দেরি করে ফেলেন। এটাই সর্বনাশের বড় কারণ।’

পরিবেশগত বিপর্যয় রোধে ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তার উপায় বাতলে দিয়েছেন মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মো. খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘রাস্তাঘাট, মেগাপ্রজেক্ট কিংবা সব ধরনের শিল্প-কারখানা পরিকল্পনামাফিক করা উচিত। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অনুমোদন ছাড়া আর কোনো প্রকল্প বা অবকাঠামো নির্মাণ করা উচিত নয়। কৃষিজমি কেটে ইট ও ইটের ভাটা তৈরি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা উচিত।

‘মাটিকে জীবন্ত রাখতে হবে। মাটিতে থাকা অণুজীবগুলোকে বাঁচাতে হবে। তাহলেই ভূমি উর্বর থাকবে। ফসলি জমিতে রাসায়নিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিটি শিল্পের পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলেই আমরা পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম হব।’

অভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে আন্তর্জাতিক পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, ‘আমাদের ঘরও লাগবে, গাছপালা, কৃষিজমি, বাগানও রক্ষা করতে হবে। এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা ও তার সঠিক বাস্তবায়ন ছাড়া ভবিষ্যৎ কারও জন্যই নিরাপদ হবে না।

‘নদীভাঙন ও বন্যা ঠেকানোর জন্য শক্তিশালী বাঁধ তৈরি, সার্বক্ষণিক নদীর নাব্য রক্ষা এবং খরা থেকে বাঁচতে সহজলভ্য সেচ ব্যবস্থাই কার্যকর সমাধান আনতে পারে।’

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে তিনি আরও উন্নত প্রযুক্তির পানিশোধন প্রকল্প নেয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের অন্যতম উন্নয়ন লক্ষ্যই হলো টেকসই প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার বাড়িয়ে এবং মাটির অবক্ষয় কীভাবে সর্বোত্তম উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নির্ধারণ করে কৃষিজমি সুরক্ষা দিয়ে শিল্পোৎপাদন বাড়ানো।

‘একই সঙ্গে শিল্পের পরিত্যক্ত বর্জ্যের ব্যবহারও পরিকল্পিত রাখা, যাতে করে মাটি, পানি ও পরিবেশ বিষময় না হয়। আমরা সবকিছুর মধ্যে সেই ব্যালেন্স রক্ষা করেই পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
ঝালকাঠিতে মন্দিরে আগুন দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ
পীরগঞ্জে ২৬ পরিবারের পাশে ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বিদ্যানন্দ

শেয়ার করুন

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে ব্যাংকিং সেবায়। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন অনেক ক্যাশলেস ব্যাংকিং করি। প্লাস্টিক কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। ক্যাশলেস ব্যাংকিংয়ের দিকে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছি। একসময় দেখা যাবে নগদ টাকা ব্যবহার হচ্ছে না। ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিটকয়েন, ইথেরিয়াম এগুলোর ব্যবহার বাড়বে।’

আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস আজ। এ উপলক্ষে দেশের চারটি ব্যাংকের চার শীর্ষ কর্মকর্তা তুলে ধরেছেন আগামীর ব্যাংক ভাবনা। পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রযুক্তির বিপ্লবের মধ্যে ব্যাংকিং সেবার ধরন আগামীতে কী হতে যাচ্ছে, তারা তা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত আগামীতে কোথায় যেতে পারে, কোথায় যাওয়া উচিত, সে বিষয়েও ভাবনা তুলে ধরেছেন তারা।

পৃথিবীর ৫০০ ব্যাংকের মধ্যে যেন আমাদের ব্যাংক থাকে

ড. আহসান এইচ মনসুর, চেয়ারম্যান, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় ব্যাংকের সুযোগ-সুবিধা আগামীতে যাতে প্রত্যেক বাঙালি পরিবার পায়, সে ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রত্যেক পরিবার যেন ব্যাংকিং খাতের আওতায় আসে।

আমাদের দেশে অনেক ব্যাংক থাকলেও বড় আকারের কোনো ব্যাংক নেই। বিশ্ব পরিমাপে কোনো ব্যাংক এখনও তহবিল করতে পারেনি। কারণ আমাদের চাহিদার তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি।

আমাদের একটি ব্যাংকের সর্বোচ্চ যে সম্পদ আছে, সেটা আপেক্ষিকভাবে অনেক কম। বহির্বিশ্বে ব্যাংকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ওপর সম্পদ আছে। আমাদের একটি ব্যাংকের সর্বোচ্চ সম্পদ ১০ বিলিয়ন ডলারেরও কম।

আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাশীল ব্যাংকের প্রয়োজন। পৃথিবীর অন্তত ৫০০টি ব্যাংকের মধ্যে যেন একটি আমাদের ব্যাংক হয়। সেই মাপের ব্যাংক আমাদের দরকার।

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং
আহসান এইচ মনসুর

ব্যাংক খাতে গভর্নেন্সে (সুশাসন) বিশাল সমস্যা বিদ্যমান। এ সমস্যা ব্যাংক খাতের প্রবৃদ্ধিকে কমিয়ে ফেলবে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়টিতে অবশ্যই নজর দিতে হবে।

টেকনোলজি বা প্রযুক্তিগতভাবে আমরা খুব বেশি এগোতে পারিনি। প্রযুক্তির খরচ অনেকটা ফিক্সড। ছোট ব্যাংকের জন্য যে খরচ, বড় ব্যাংকগুলোর জন্যেও একই খরচ করতে হয়। বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্পদের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে তারা এটা ভালোভাবে করতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশের ব্যাংকের আকার ছোট, সম্পদ কম। এ জন্য এ খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় করার সামর্থ্য ব্যাংকের নেই। ফলে প্রযুক্তিগত ব্যাংকিং প্রতিযোগিতায় আমরা পিছিয়ে পড়ব। সামনের দিনে এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাংকের বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

যে ব্যাংকগুলো ছোট, মূলধন কম, তাদের জন্য প্রযুক্তি খাতের বিশাল ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন। ফলে তারা এটা করতে পারবে না।

টেকনোলজির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় জোর দিতে হবে। এখানেও ছোট ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। কারণ এটাও ব্যয়বহুল। আর আমাদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা খুবই সীমিত। সাইবার হামলা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এ খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। সাইবার হামলার বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। সাইবার হামলা সব দেশেই হয়। আমাদের এখানেও হয়েছে, আগামীতেও হবে। এ জন্য এসব বিষয়ে প্রস্তুতি আগে থেকে নিতে হবে।

ব্যাংক বেশি হওয়ার কারণে দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব দেখা গেছে। আবার ব্যাংকে সুশাসনের ঘাটতি থাকায় দক্ষভাবে পরিচালনাও সম্ভব হয় না। আগামীতে এদিকে আরও জোর দিতে হবে।

টাকাহীন যুগের জন্য ব্যাংককে প্রস্তুত হতে হবে

মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, অগ্রণী ব্যাংক

আদিকাল থেকে ব্যাংকিং পদ্ধতি বিভিন্নভাবে বিবর্তিত হয়ে আজ এ পর্যায়ে এসেছে। আমূল পরিবর্তন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হয়ে যাবে।

আমাদের গতানুগতিক ব্যাংকিং সিস্টেমে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা এখনও আগের পদ্ধতিতে ব্যাংকের মূল্যায়ন করি। ব্যাংকের কয়টি শাখা, সেটা দেখে আমরা এখনও বলি কোন ব্যাংক কত বড়। যে ব্যাংকের শাখা যত বেশি, সেই ব্যাংককে তত বড় ব্যাংক হিসেবে পরিমাপ করা হয়। সামনের দিনে এমন থাকবে না। ব্যাংকের মোবাইল ওয়ালেট কত, মোবাইল ব্যাংকিং কত, ডিজিটাল প্লাটফর্ম কেমন, ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা– এসব বিষয় মূল্যায়ন করা হবে।

আমরা এখন অনেক ক্যাশলেস ব্যাংকিং করি। প্লাস্টিক কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। ক্যাশলেস ব্যাংকিংয়ের দিকে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছি। একসময় দেখা যাবে নগদ টাকা ব্যবহার হচ্ছে না। ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিটকয়েন, ইথেরিয়াম এগুলোর ব্যবহার বাড়বে।

আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো নগদ টাকার ব্যবহার করবেই না। সব ডিজিটাল হয়ে যাবে।

আমাদের এখন থেকে সেদিকে আগ্রহী হতে হবে। কারণ গ্রাহক উপস্থিত থেকে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ এখন কমে গেছে। অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতিও আসবে। তখন মেশিন অনেক কাজ করবে, যেটা এখন মানুষকে করতে হয়। একসময় কারেন্সিও থাকবে না। তখন ব্যাংকিং পদ্ধতি অন্য রকম হবে।

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং
মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম

সেই আমূল পরিবর্তনে নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। কারণ, ব্যাংকিং সেবা পদ্ধতি অন্য রকম হলে সেই পরিবেশে নিজেদের টিকে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রযুক্তির সঙ্গে খাপখাইয়ে নিতে সক্ষমতার বিকল্প নেই। আমাদের হয়তো রাতারাতি সব কিছু পরিবর্তন হবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে এসব চালু হবে।

তখন ব্যাংকের এত শাখাও থাকবে না। কারণ একটি শাখা চালাতে অনেক খরচ। সেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে এসব কাজ করা যাবে। ঘরে বসে মানুষ যেমন ব্যাংকের অনেক সেবা পাচ্ছে, তেমনি ঘরে বসে ব্যাংকিং সেবাও দেয়া যাবে।

ব্যাংকিং সেবাতেও প্রযুক্তির বিস্ফোরণ দেখতে চাই

মো. এহসান খসরু, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড

স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানার চারটি আর বিশেষায়িত ব্যাংক ছিল দুটি। তখন ৭ কোটি মানুষের দেশে ছয়টি ব্যাংক পর্যাপ্ত ছিল না। ব্যাংকিং চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন সব মিলিয়ে ৬১টি ব্যাংক হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের সংখ্যা বাড়লেও চাহিদা তৈরি করার তেমন উদ্যোগ ব্যাংকগুলো নিতে পারেনি।

প্রান্তিক জনগণের কাছে ব্যাংক সেভাবে যেতে পারেনি। ইনোভেটিভ ব্যাংকিং হচ্ছিল না। ফলে ব্যাংকের চাহিদা তৈরির জন্য ইনক্লুসিভ ব্যাংকিং সেবা শুরু হলো। প্রান্তিক মানুষকে ব্যাংকসেবার আওতায় আনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া শুরু করে। এরপর থেকে কৃষি ও এসএমই ঋণ, রেমিট্যান্সে প্রণোদনা– সব সেবা ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়া শুরু হয়।

ব্যাংকের চাহিদা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সেবা চালু হলো। এতে অধিকসংখ্যক মানুষ ব্যাংকের সুবিধাগুলো নেয়া শুরু করে। ফলে অনেক মানুষ ব্যাংক সেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হলো।

ব্যাংকগুলোও নিজ উদ্যোগে সীমিত ক্ষমতায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংক কার্যক্রম চালু করে। কিন্তু বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকের সেবা পৌঁছে দেয়ার সক্ষমতা সব ব্যাংকের নেই। ফলে অনেক ধরনের সেবা চালু হলেও ইনক্লুসিভ ব্যাংকিংয়ের পরিপূর্ণতা এখনও আসেনি।

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং
মো. এহসান খসরু

সামনের দিনে ব্যাংকিং খাতের ফিন্যানশিয়াল ইনক্লুশনের ক্ষেত্রে টেকনোলজির অবকাঠামো সরকারিভাবে আসা দরকার। কারণ একটার পর একটা ধাক্কা আসবে। করোনার পর আসছে ওমিক্রন। আগের মতো অর্থনীতিতে প্রভাব পড়লে ব্যাংকেও তার আঘাত লাগবে।

সামনের দিনে এসব মহামারি মেকাবিলার জন্য আরও প্রস্তুতি নিতে হবে। এই মুহূর্তে সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। কারণ টিকা দেয়া না হলে মানুষের চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মুভমেন্ট কমে যায়।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ট্যাক্সি কোম্পানি উবার, কিন্তু এটা দেখা যায় না। সবচেয়ে বড় হোটেল এয়ার বিএনবি, এটাও দেখা যায় না। এগুলো টেকনোলজির বিস্ফোরণ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এগুলো পরিচালনা করা হয়।

সামনের দিনে ব্যাংকিং সেবাতেও এ জাতীয় টেকনোলজির বিস্ফোরণ দেখতে চাই, যে সেবা দেখা যাবে না, কিন্তু টেকনোলজির অবকাঠামোর কারণে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে।

এ অবকাঠামোর খরচ বহন করার সামর্থ্য সব ব্যাংকের নেই। ব্যাংকিং সিস্টেমে ইন্টিগ্রেটেড উপায়ে টেকনোলজিকে এগিয়ে নিতে হবে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে এটা করতে হবে।

টেকনোলজির মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষ যেন সরাসরি ব্যাংক সেবা পেতে পারে, সে ব্যবস্থা করা দরকার।

আগামী দিনে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের’ শাস্তি দিতে দেশে শক্তিশালী আইন হচ্ছে। ব্যাংকগুলোই ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের চিহ্নিত করবে। কিন্তু আইন যদি সাপোর্টিভ না হয়, ক্লায়েন্ট যদি রিট করে দেয়, তাহলে আর কাজ হয় না। এ জন্য আইন শক্তিশালী করা হচ্ছে।

পাশাপাশি আদালতে কোনো রিট যেন না হয়, সেদিকে দেখতে হবে। আইন যেন সরাসরি ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিপক্ষেই থাকে।

ব্যাংকিং সেবা সব মানুষের কাছে পৌঁছাবে

মো. আরফান আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড

আমরা লেজার বুক মার্কিং দিয়ে ব্যাংকসেবা শুরু করেছিলাম। স্বাধীনতার পর ’৯০-এর দশক পর্যন্ত এভাবেই চলে। এর পরই কিছু কিছু ব্যাংক অনলাইন লেনদেন চালু করে।

২০০০ সালের পর থেকে যে পরিবর্তন হয়েছে, সেটা লক্ষণীয়। ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। কম্পিউটার ও এমআইএস ব্যাংকিং (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) সফটওয়্যার ব্যবহার অনেক বেড়েছে। পরবর্তীকালে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন চলছে।

আমরা এখন পরিবর্তনের সময়ে অবস্থান করছি। বিশেষ করে ব্যাংকিং রেগুলেশনে যেমন অনেক পরিবর্তন আসছে, পাশাপাশি ব্যাংকিং পদ্ধতিরও অনেক পরিবর্তন আসছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ডিজিটাইজেশনের যুগে আমরা প্রবেশ করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগানের সঙ্গে ব্যাংকিং সেবাও পুরো ডিজিটাল করার পরিকল্পনা সব ব্যাংকেরই আছে।

ব্যাংকিং চ্যানেলে নতুন নতুন সেবা যুক্ত হচ্ছে। পারসোনাল (ব্যক্তি) ব্যাংকিংয়ে অনেক ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে একজন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সব লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে। এর সঙ্গে এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং এবং বিভিন্ন পেমেন্ট সেবাও চালু আছে। সামনে এসব সেবা আরও বাড়বে।

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং
মো. আরফান আলী

বাংলাদেশের ব্যাংকের অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সিস্টেমের আওতায় ব্যাংকিং সেবাকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে।

করপোরেট বিশ্বেও গ্রাহকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে।

ভবিষ্যতে ব্যাংকিং সেবা সব মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। এখনও ৫০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ব্যাংক সেবার বাইরে আছে। তাদের কাছে প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকসেবা পৌঁছাতে হবে। এটা ব্যাংক কমিউনিটির দায়।

আমাদের সরকারের ফিন্যানশিয়াল ইনক্লুশন স্ট্রাটেজি পেপারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মধ্যে সবার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ২০২৪ সালের মধ্যে জনসংখ্যার বিরাট অংশকে ব্যাংক সেবার আওতায় আনতে পারব এবং নতুন নতুন সেবা দিয়ে গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে পারব।

আমাদের ব্যাংকগুলো শহরভিত্তিক ছিল, কিন্তু এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যাংকের সেবা পৌঁছে গেছে। এটা আরও ছড়িয়ে দিতে হবে।

আগামী দিনের ব্যাংক খাত আরও ভালো করবে বলে আমি আশা করি। সম্পদের সমৃদ্ধি আরও ভালো হবে। ক্যারিয়ার ব্যাংকিংও ভালো হবে। ব্যাংক খাতে কাজ করার সক্ষমতা আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
ঝালকাঠিতে মন্দিরে আগুন দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ
পীরগঞ্জে ২৬ পরিবারের পাশে ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বিদ্যানন্দ

শেয়ার করুন

উন্নয়নশীলে টেকসই হওয়ার পথ খুঁজছে বাংলাদেশ

উন্নয়নশীলে টেকসই হওয়ার পথ খুঁজছে বাংলাদেশ

উন্নয়নশীলে অবস্থান টেকসই করার জন্য এখন থেকেই উপায় খুঁজছে বাংলাদেশ। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই উত্তরণে অপেক্ষা করছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নানা জটিল সমীকরণ। প্রস্তুতি হিসেবে সক্ষমতার ঘাটতি এবং তা দূর করার উপায় অনুসন্ধানে গবেষণার কাজ শুরু করেছে সরকার।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চূড়ান্ত সম্মতির পর বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট বড় কোনো দুর্ঘটনার মুখোমুখী না হলে ২০২৬ সালের পরই বিশ্ব দরবারে উন্নয়নশীলদের কাতারে স্থায়ী ঠাঁই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অঙ্গনে এই উত্তরণকে টেকসই করা না গেলে বাংলাদেশকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মুখোমুখী হতে হবে নানা জটিল সমীকরণের।

এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কোথায় কোথায় সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে এবং তা দূর করতে উপায় কী হতে পারে, তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার।

এরই ধারাবাহিকতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড সাপোর্ট মেজারস অনুবিভাগ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিভিন্ন প্রভাবের ওপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়। এতে সাত ধরনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বা সক্ষমতার ঘাটতি শনাক্ত করা হয়।

এগুলো হচ্ছে:

০১. বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা হারানো।

০২. মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের জন্য ক্রমান্বয়ে আমদানি শুল্ক হ্রাস।

০৩. কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা বা অন্যান্য প্রণোদনা দেয়ার সুযোগ সঙ্কুচিত হওয়া।

০৪. প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা।

০৫. দক্ষ ব্যবস্থাপক তথা দক্ষ মানব সম্পদের ঘাটতি।

০৬. পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক দাম ধরে রেখে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন।

০৭. দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বাইরে ডব্লিউটিওর আওতায় অন্যান্য সুবিধায় লাগাম।

সমীক্ষায় দাবি করা হয়, এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘাটতি দূর করে উত্তরণের আগেই বাংলাদেশের পরিপূর্ণ সক্ষমতা অর্জনে যত দ্রুত সম্ভব এসব বিষয়ে গবেষণা এবং যত দ্রুত সম্ভব এ সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আওতায় মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি, পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা যথাযথ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়। এই জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকেই এ সমীক্ষা চালানো হয়।

ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে গবেষণা প্রকল্প চালু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছে ট্রেড সাপোর্ট মেজারস অনুবিভাগ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সেলের মহাপরিচালক ও ট্রেড সাপোর্ট মেজার্স অনুবিভাগ প্রধান মো. হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে। কিছু চ্যালেঞ্জ আমরা তাৎক্ষণিক উদ্যোগে মোকাবিলা করতে পারব না।

‘এজন্য দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ লাগবে এবং তা হতে হবে খুবই সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত। সেখানে বিশ্ব বাণিজ্যের নানা জটিল মেরুকরণ এবং অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা উত্তরণে গবেষণালব্ধ পদক্ষেপ ছাড়া খুব বেশি এগোনো যাবে না। বাস্তবতার নিরীখে পদক্ষেপ নিতে না পারলে উত্তরণ প্রক্রিয়াটিও সুখকর হবে না। এ কারণেই গবেষণায় জোর দেয়া হয়েছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চিহ্নিত বিষয়গুলোতে উন্নততর গবেষণা করা গেলে ওই গবেষণালব্ধ ফলাফল সক্ষমতা বাড়াতে সঠিক পদক্ষেপ নিতে সহায়ক হবে। গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী দেশি-বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই গবেষণার কাজটি করা যায়, যেখানে অর্থনীতিবিদ, বাণিজ্য বিশ্লেষক, কূটনীতিক, প্রযুক্তিবিদ ও পরিকল্পনাবিদরা অন্তর্ভূক্ত থাকতে পারেন।’

কেন এই সক্ষমতার অভাব

বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাকের অন্যতম কাঁচামাল ছিল তুলা বা সুতা। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন তার জায়গা দখলে নিয়েছে এক ধরনের কৃত্রিম তন্তু।

সময়ের এই চাহিদাকে লুফে নিয়েছে বিশ্বের অনেক দেশ। তারা তুলা বা সুতার পরিবর্তে কৃত্রিম তন্তু দিয়েই বিভিন্ন পোশাক পণ্য উৎপাদন করছে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় হলেও এখন পর্যন্ত কৃত্রিম তন্তু দিয়ে পোশাক পণ্য উৎপাদনের কোনো প্রযুক্তি দেশে আনতে পারেনি। এমনকি গড়ে ওঠেনি এর কোনো পশ্চাৎ সংযোগ শিল্পও। এ দুইয়ের অপ্রতুলতার কারণে দেশের উদ্যোক্তারা কৃত্রিম তন্তু দিয়ে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি কোনোটাই করতে পারছে না।

অপরদিকে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন কারখানায় সিনিয়র ও মিডল ম্যানেজমেন্টে অনেক বিদেশি নাগরিক কর্মরত আছেন।

বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) তথ্য মতে, দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন ও মধ্যবর্তী ব্যবস্থাপক পদে ১ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। এরা তাদের দক্ষতার মাধ্যমে প্রতি বছর দেশ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় করে নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল থাকলে এ বিপুল অর্থ বিদেশে চলে যাওয়া যেমন এড়ানো যেত, পাশাপাশি এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি আরও বড় হতে পারত।

অপরদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, উত্তরণ পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে পাওয়া শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা আর থাকবে না। এর ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ শুল্ক বাড়বে। এতে দেশের রপ্তানি খাত নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাত্রা শুরুর পরপরই বাংলাদেশকে বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ), প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) এবং রিজিওনাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (আরটিএ) এর মতো বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। তখন ক্রমান্বয়ে আমদানি শুল্ক কমাতে হবে।

এছাড়া, একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা বা প্রণোদনা দেয়ার সুযোগও সংকুচিত হয়ে আসবে।

যে কারণে গবেষণায় জোর

বাজার সুবিধা না থাকা, আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেয়ার রেওয়াজ সঙ্কুচিত হওয়া- এই ত্রিমুখী প্রতিকূলতার মুখে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ কী হবে, তা অনুসন্ধান করতে গবেষণা ছাড়া বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের উৎপাদনে সক্ষমতা যাচাইয়ে তৈরি পোশাক ছাড়া কোন কোন পণ্যে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিযোগিতামূলক দামে বাংলাদেশে উৎপাদন করা যায় এবং কী ধরনের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে, তা যাচাই সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বের করার জন্যেও গবেষণা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে উৎপাদিত পণ্যসকে কীভাবে আরও বেশি রপ্তানিমুখী করা যায়, তার ওপর তেমন কোনো গবেষণা নেই।

একইভাবে উত্তরণের পর সার্ভিস সেক্টরে এর প্রভাব সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট ধারনা পেতে চান সংশ্লিষ্টরা।

কৃষিখাতে বর্তমানে দেয়া বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতি সুবিধা হ্রাস করতে হলে কৃষিখাতে এর প্রভাব কেমন হবে নিরূপণ করতে হবে।

কৃত্রিম তন্তু উৎপাদনে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প স্থাপন ও প্রযুক্তি আমদানি সহ ঘাটতি অন্যান্য খাতগুলোয় কীভাবে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায় এবং এ বিষয়ে কোন ধরনের নীতি সহায়তা দেয়া যায়, সে বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে উপায় খোঁজ করাও হবে এসব গবেষণার উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
ঝালকাঠিতে মন্দিরে আগুন দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ
পীরগঞ্জে ২৬ পরিবারের পাশে ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বিদ্যানন্দ

শেয়ার করুন

ওমিক্রন: বিশ্বকে সতর্ক করল ডব্লিউএইচও

ওমিক্রন: বিশ্বকে সতর্ক করল ডব্লিউএইচও

বিশ্বজুড়ে দ্রুত বিস্তার হচ্ছে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন। ছবি: বিবিসি

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ডাব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক ড. তাকেশি কাসাই বলেন, ‘কয়েক দফা মিউটেশন হওয়ায় ওমিক্রন নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। এ ছাড়া প্রাথমিক তথ্য বলছে, এটি অন্য সব ধরন থেকে দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে। আমাদের বেশি বেশি পরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণ করা উচিত।’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বের সব দেশকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ফিলিপাইনের ম্যানিলা থেকে ভার্চুয়ালি সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার এ সতর্কবার্তা দেন পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক ড. তাকেশি কাসাই।

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত বন্ধ করে ভাইরাসটির বিস্তার সাময়িকভাবে আটকানো যাবে। কিন্তু প্রতিটি দেশ ও জাতিকে নতুন ঢেউয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

‘সবকিছুর মধ্যে ইতিবাচক খবর হলো- ওমিক্রন সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে এই নতুন ধরন মোকাবিলায় আমাদের নতুন কিছু ভাবতে হচ্ছে না। ডেল্টা ঠেকাতে যেসব শিক্ষা আমরা পেয়েছি, নতুন এই ধরন মোকাবিলায় তা কাজে লাগাতে হবে।’

ওমিক্রন: বিশ্বকে সতর্ক করল ডব্লিউএইচও
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ডাব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক ড. তাকেশি কাসাই। ছবি: সংগৃহীত

ড. তাকেশি কাসাই আরও বলেন, ‘কয়েক দফা মিউটেশন হওয়ায় ওমিক্রন নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। এ ছাড়া প্রাথমিক তথ্য বলছে, এটি অন্য সব ধরন থেকে দ্রুত সংক্রমিত হচ্ছে। আমাদের বেশি বেশি পরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণ করা উচিত।’

আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় ১১ নভেম্বর প্রথম ‘বি.১.১.৫২৯’ ধরনটি শনাক্ত হয়, যাকে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওমিক্রন’ বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

দ্রুত এই ধরনটি ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। এ পর্যন্ত ৩৭টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে এটি শনাক্ত হয়েছে।

নতুন ধরনটি কতটা বিপজ্জনক?

সার্স কভ টু ভাইরাসের নতুন ধরনটি নিয়ে গবেষকদের উদ্বেগের মূল কারণ, এর অনেকবারের মিউটেশন। মিউটেশন হলো এমন এক অভিযোজন কৌশল, যার মাধ্যমে ভাইরাস বিরূপ বা নতুন পরিস্থিতিতেও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে।

বিজ্ঞানীরা ওমিক্রনের স্পাইক প্রোটিনে ৩২টি মিউটেশন খুঁজে পেয়েছেন। অন্যদিকে অত্যন্ত সংক্রামক হিসেবে বিবেচিত ডেল্টা মিউটেশন হয়েছে মাত্র আটবার।

স্পাইক প্রোটিনের বেশি মিউটেশন মানেই ভাইরাসটি বেশি প্রাণঘাতী- এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বহুবার মিউটেশনের কারণে ওমিক্রনের সঙ্গে মানুষের দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইমিউনিটি সিস্টেম) লড়াই করা কঠিন হতে পারে।

ওমিক্রনের স্পাইক প্রোটিন প্রচলিত করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের তুলনায় অনেকটা বদলে যাওয়ায় দেহের ইমিউনিটি সিস্টেম দ্রুত একে শনাক্ত করতে পারে না, ফলে এটি সংক্রমণের হার বাড়াতে পারে। যেকোনো করোনাভাইরাস এদের স্পাইকের সাহায্যেই শ্বাসতন্ত্রের কোষে যুক্ত হয়ে কোষের ভেতর প্রবেশ করে।

প্রাথমিক গবেষণা অনুসারে, নতুন ভ্যারিয়েন্টটি টিকার কার্যক্ষমতা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ভ্যারিয়েন্টের দুটি মিউটেশন- আর ২০৩কে এবং জি ২০৪আর ভাইরাসটির দ্রুত প্রতিলিপি তৈরি করতে সক্ষম। এ ছাড়া তিনটি মিউটেশন- এইচ৬৫৫ওয়াই, এন ৬৭৯কে এবং পি ৬৮১এইচ ভাইরাসটিকে আরও সহজে মানবকোষে প্রবেশে সাহায্য করে। তারা বলছেন, শেষ দুটি মিউটেশনের একসঙ্গে উপস্থিতি বিরল ঘটনা এবং এর ফলে ওমিক্রন টিকা প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার ইনস্টিটিউট অফ মলিকুলার বায়োটেকনোলজির আণবিক জীববিজ্ঞানী ডা. উলরিচ এলিংয়ের মতে, প্রাথমিক লক্ষণ থেকে মনে হচ্ছে করোনার নতুন রূপটি ডেল্টার চেয়ে ৫০০ শতাংশ বেশি সংক্রামক হতে পারে।

অবশ্য নতুন ভ্যারিয়েন্টটি সার্স কভ টুর আগের ধরনগুলোর তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী, এমন কোনো প্রমাণ এখনও মেলেনি। তবে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতার কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে নতুন করে চাপে ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
ঝালকাঠিতে মন্দিরে আগুন দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ
পীরগঞ্জে ২৬ পরিবারের পাশে ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বিদ্যানন্দ

শেয়ার করুন

দক্ষতার ভিত্তিতে অনুদান পাবেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

দক্ষতার ভিত্তিতে অনুদান পাবেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা

প্রকল্প পরিচালক চিত্তরঞ্জন দেবনাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, এসডিজি-৪-এর লক্ষ্য অর্জন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে। আশা করছি, জানুয়ারি থেকে মাঠপর্যায়ে অনুদান দেয়ার কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’

মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে দেশের প্রতিটি উপজেলায় দক্ষতার ভিত্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের অনুদান দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে দক্ষতা আর ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক অনুদান দেয়া হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে নিয়ে যাওয়া হবে উন্নত দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে।

ইতিমধ্যে পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশন নামে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকার বেশি।

সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মানসম্মত শিক্ষাদানে উৎসাহ পাবেন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষা বোর্ডের ফলের ভিত্তিতে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বা জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) স্তরে একজন শিক্ষার্থী পাবে ১০ হাজার টাকা। এসএসসি বা এইচএসসির ফলের ভিত্তিতে প্রতি বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা) থেকে দুজন করে ছয়জন এবং মাদ্রাসা স্তরে দুজন এবং কারিগরি/ভোকেশনাল থেকে দুজন শিক্ষার্থীকে দেয়া হবে ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার। এ ছাড়া উপজেলার একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং একজন শিক্ষিকাকে ১ লাখ টাকা করে দেয়া হবে।

শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থীই নয়, প্রতিবছর উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দেয়া হবে ৫ লাখ টাকার অনুদান। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে পুরস্কার হিসেবে নিয়ে যাওয়া হবে উন্নত দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে।

জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ২০ হাজার ৩০০ সাধারণ স্কুল, ৯ হাজার ৪০০ মাদ্রাসা, ১ হাজার ১৯০ ভোকেশনাল ইউনিটসহ সাধারণ স্কুলের ৩ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষক ও ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থী ফলের ভিত্তিতে অনুদান পাবে।

প্রকল্প পরিচালক চিত্তরঞ্জন দেবনাথ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, এসডিজি-৪-এর লক্ষ্য অর্জন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছে।

‘প্রকল্পটির ম্যানুয়াল পাস হয়েছে। এখন ম্যানুয়ালটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বই আকারে পাস হয়ে আসবে। এরপর আমরা মাঠপর্যায়ে অনুদান দেয়া শুরু করব। আশা করছি, ডিসেম্বরে ম্যানুয়ালটি পাস হবে এবং নতুন বছরের জানুয়ারি থেকে মাঠপর্যায়ে অনুদান দেয়ার কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’

ফলের ভিত্তিতে অনুদান দেয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেবে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে এ ক্ষেত্রে যেন কোনো রকম অনিয়ম না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।’

এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজের অধ্যক্ষ রাফিয়া আক্তারও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আছে, তারা এতে উৎসাহিত হবে। এতে সার্বিকভাবে দেশের শিক্ষার মান বাড়বে।

‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী আছেন। এই উদ্যোগে তারা উৎসাহিত হবেন এবং এর ফলে এক ধরনের ইতিবাচক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে।

যেভাবে দেয়া হবে পুরস্কার

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ম্যানুয়ালটি পাস হওয়ার পর এর ভিত্তিতেই পুরস্কার দেয়া হবে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, যে কনটেন্ট তৈরি করতে দেয়া হলো তার পারফরম্যান্সসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রতি উপজেলায় এ বিষয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি করা হবে। কমিটির প্রধান থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। কমিটিতে আরও থাকবেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিনিধি, কলেজ অধ্যক্ষসহ অন্যরা। কমিটির কাজ মূল্যায়ন করবেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ২০১৮ সালের ২৪ জুন ‘পারফরম্যান্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশন’ শীর্ষক প্রকল্পটি পাস হয়। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এটির কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। করোনা স্থবিরতা কাটতে শুরু করায় এবার প্রকল্পটির কার্যক্রম গতি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
ঝালকাঠিতে মন্দিরে আগুন দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ
পীরগঞ্জে ২৬ পরিবারের পাশে ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বিদ্যানন্দ

শেয়ার করুন