ওটিসি-ফেরত কোম্পানির দাপট নেই এসএমই বোর্ডে

ওটিসি-ফেরত কোম্পানির দাপট নেই এসএমই বোর্ডে

মূল মার্কেটে ওটিসি-ফেরত দুটি কোম্পানির শেয়ার দর ১৫ গুণের বেশি বাড়লেও এসএমই বোর্ডে টানা দর বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। যে চারটি কোম্পানি ওটিসি থেকে ফিরেছে, তার মধ্যে দুটির শেয়ার যে দর নিয়ে ফিরেছে, এখন দাম তার চেয়ে কম। বাকি দুটির দাম বেড়েছে কিছুটা। নতুন তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির শেয়ার দরেও উল্লম্ফন হয়নি, যা মূল মার্কেটের এক সাধারণ প্রবণতা। পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, এসএমই বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিনিয়োগ শিক্ষা বেশি থাকায় তারা গুজবে ছোটেন না। কোম্পানির মৌলভিত্তির বিবেচনায় শেয়ার কেনেন। তাই এমনটা ঘটছে।

ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফেরার পর চারটি কোম্পানির শেয়ার দর ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীদের এসএমই বোর্ডে সেটা হচ্ছে না।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন হওয়া এসএমই বোর্ডে কোম্পানির সংখ্যা মোট ছয়টি। এর মধ্যে ওটিসি থেকে ফেরা কোম্পানি চারটি। বাকি দুটি নতুন তালিকাভুক্ত।

এই ছয়টি কোম্পানির মধ্যে প্রথম দিন একটির লেনদেন হয়নি। বাকি পাঁচটির সবগুলোর দর ১৮ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ে।

সেদিন যে কোম্পানির লেনদেন হয়নি, সেটির দামও পরে ২০ শতাংশ বাড়ে।

তবে পরে দুটি কোম্পানির শেয়ার দর অনেকটাই কমে যায়। একটি দর ধরে রাখে আর একটির দর সেদিনের তুলনায় বাড়ে।

ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় মূল মার্কেটে। গত ১৩ জুন ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফেরা চার কোম্পানির দর বাড়ে ১০ শতাংশ করে। এরপর টানা বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে দুটির দর ১৫ গুণের বেশি, একটির দর প্রায় চার গুণ, একটির দর পাঁচ গুণের মতো হয়ে যায়।

পরে এই অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির তদন্ত শুরু হওয়ার পর সেখান থেকে ব্যাপক দরপতন ঘটে। এতে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

এর আগেও দুটি কোম্পানি ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফেরার পর একই ধরনের ঘটনা ঘটে। বাধাহীন গতিতে শেয়ার দর বাড়তে বাড়তে আকাশচুম্বী হয়ে যায়। পরে পড়তে পড়তে ক্ষতির মুখে পড়েন শেয়ারধারীরা।

মূল মার্কেটে এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ দর বাড়ার সুযোগ থাকলেও এসএমই বোর্ডে দর বৃদ্ধি বা হ্রাসের সার্কিট ব্রেকার ২০ শতাংশ। এ কারণে লেনদেন শুরু হওয়ার আগে যাদের মনে ধারণা ছিল যে, সেখানে শেয়ারের দর আরও বেশি গতিতে বাড়বে, সেটি ভুল প্রমাণ হয়ে গেছে এরই মধ্যে।

কেবল ওটিসি মার্কেট নয়, নতুন তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির শেয়ার দরও বাড়েনি এসএমই বোর্ডে। অথচ মূল মার্কেটে কোনো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও শেয়ার দর দ্বিগুণ, তিন গুণ, চার গুণ এমনকি আট গুণ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

এসএমই বোর্ডে যারা শেয়ার কিনতে পারেন, তারা হয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ আছে, এমন বিনিয়োগকারী।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় বিনিয়োগারীদের সঙ্গে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিশ্লেষণ আর হিসাব-নিকাশের পার্থক্য এখানেই। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যাচাই-বাছাই ছাড়াই শেয়ার কিনে থাকেন। যেগুলোর দাম বাড়ছে, সেগুলোর শেয়ার বেশি কেনেন। আর তাদের এই প্রবণতার সুযোগ নিয়ে চতুর বিনিয়োগকারীরা শেয়ারের দর কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দিতে পারেন। কিন্তু সেটি এসএমই বোর্ডে ঘটছে না।

যে দুটি কোম্পানি এসএমই বোর্ডে নতুন তালিকাভুক্ত হয়েছে, সেগুলোর একটির দর ছয় কর্মদিবসে বেড়েছে ৩০ শতাংশ, একটির ৩৫ শতাংশ।

অথচ মূল মার্কেটে দেখা গেছে, নতুন তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তিন থেকে সাত গুণ হতে সময় লাগেনি মোটেও। সম্প্রতি এক দিনে নতুন শেয়ারও সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে পারবে বলে সিদ্ধান্ত হওয়ার পরেও দ্বিগুণের বেশি হওয়ার আগ পর্যন্ত সাউথবাংলা ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়নি বললেই চলে।

আর সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর প্রায় প্রতিদিনই ১০ শতাংশ বাড়তে বাড়তে পরে লভ্যাংশ ঘোষণার পর মূল্যসীমা না থাকার দিন এক দিনে বেড়ে অভিহিত মূল্যের ৮ গুণ ছাড়িয়ে যায়।

এসএমই বোর্ড চালুর পর এখন পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে ছয় দিন। এর মধ্যে প্রথম দিন বাড়লেও পরে একটি কোম্পানির দর প্রথম দিনের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমে যায়।

একটি যত টাকায় ওটিসি থেকে ফিরেছিল, সেখান থেকে ১০ শতাংশ কমে গেছে, যদিও প্রথম দিন বেড়ে গিয়েছিল ২০ শতাংশ।

কেবল একটি কোম্পানির শেয়ার দর ওটিসি থেকে ফেরার দিনের দামের তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এসএমই প্ল্যাটফর্মে লেনদেনে অংশগ্রহণ করছে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। তারা সব জেনে-বুঝে শেয়ার কেনাবেচা করে। ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে নিয়ে গেলেই দাম বাড়বে, কেবল শেয়ার সংখ্যা কম বলেই দাম বাড়বে- এমন হিসাব-নিকাশ তারা করে না।’

তিনি বলেন, ‘মূল মার্কেটে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে। তাদের একটি বড় অংশ গুজবে কান দেয়। মূল মার্কেটে আসার ফলে কোম্পানি ভালো হবে, এমন কথা ছড়ানো হয়। কিন্তু বাস্তবে এর কিছুই হয় না।’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিনিয়োগ শিক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ওটিসি মার্কেট থেকে ফিরলেই সেই কোম্পানির শেয়ার দর বাড়বে, সেটি ঠিক নয়। বরং কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল অনুযায়ী শেয়ার দর নির্ধারিত হবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এসএমই বোর্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার উচিত।’

ওটিসি-ফেরত কোম্পানির দাপট নেই এসএমই বোর্ডে

ওটিসি থেকে ফেরা এসএমই চার কোম্পানি

বেঙ্গল বিস্কুট

এই কোম্পানিটি ফেরার দিন সবচেয়ে বেশি দাম নিয়ে এসেছে। ওটিসিতে শেষ লেনদেন হয়েছিল ১৮০ টাকায়।

লেনদেনের প্রথম দিন দাম বেড়ে হয়ে যায় ২১৩ টাকা ৩০ পয়সা। পরে সর্বোচ্চ ২৫২ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ কর্মদিবসে সেখান থেকে দাম কমে দাঁড়ায় ১২০ টাকায়।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের এই কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৭ কোটি ৯৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। শেয়ার সংখ্যা ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার। এর মধ্যে আবার ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ আছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে, যা বিক্রি করা যাবে না। ফলে বাজারে লেনদেনযোগ্য শেয়ার সংখ্যা খুবই কম।

বাজারে লেনদেনযোগ্য শেয়ারের সংখ্যা ৫২ লাখ ৭০ হাজার ৮৩২টি।

ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েজ

একমাত্র এই কোম্পানিটির শেয়ার দর প্রথম দিনের দরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

এই কোম্পানিটি লেনদেন শুরু করে ১৬ টাকা ৬০ পয়সায়। প্রথম দিনে দিনের সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে হয় ১৯ টাকা ৯০ পয়সা। পরে আরও কয়েক দিন বেড়ে সর্বোচ্চ দর হয়েছে ৩৪ টাকা ২০ পয়সা।

তবে বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪ দশমিক ৪৮ শতাশ কমে ২৯ টাকা থেকে হয়েছে ২৭ টাকা ৭০ পয়সা।

কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা। শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ শেয়ার আছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। যা এই মুহূর্তে বিক্রিতে আছে বিধিনিষেধ। ফলে বাজারে বিক্রয়যোগ্য শেয়ারের সংখ্যা ৫৩ লাখের কিছু কম।

অ্যাপেক্স ওয়েভিং

বস্ত্র খাতের এই কোম্পানিটি এসএমই বোর্ডে আসে ১২ টাকা দর নিয়ে। প্রথম দিনই সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৪ টাকা ৪০ পয়সা। এই দরে সেদিন হাতবদল হয়েছিল ৫টি শেয়ার। পরে সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ২০ টাকা ৬০ পয়সা।

তবে গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার দর কমে হয়েছে ৯ টাকা। অর্থাৎ যে দর নিয়ে ওটিসি থেকে এসেছিল, এখন কমে গেছে তার চেয়ে বেশি।

হিমদ্রি

এই কোম্পানিটি এসেছে ৮ টাকা দর নিয়ে। প্রথম দিন লেনদেনই হয়নি। পরে এক দিন ২০ শতাংশ বেড়ে ৯ টাকা ৬০ পয়সা হয়।

কোম্পানিটির পরিশোধিত ‍মূলধনের পরিমাণ ৭৫ লাখ টাকা। শেয়ার সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার। তবে বাজারে বিক্রয়যোগ্য শেয়ারের পরিমাণ খুবই কম।

কারণ, মোট শেয়ারের ৯৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ আছে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে। সরকারের শেয়ার আছে ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ আছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৭৫টি। এখানে হতে পারে, এই শেয়ারের মালিকরা কেউ বিক্রি করতে রাজি নন।

বিবিধ খাতের এই কোম্পানিটির রিজার্ভে জমা আছে ১৩৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি ১ হাজার ৮০৫ টাকা।

নতুন তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির যে চিত্র

নতুন তালিকাভুক্ত হয়ে এসএমই বোর্ডে নাম লিখিয়েছে অরিজা অ্যাগ্রো ও মাস্টার ফিড।

এর মধ্যে অরিজার শেয়ার সংখ্যা ৬ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ৪৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ অর্থাৎ ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৪ হাাজর ১৬টি শেয়ার সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে।

প্রথম দিন এই কোম্পানির শেয়ার দর অভিহিত মূল্যের ২০ শতাংশ বেড়ে হয় ১২ টাকা। পরে দাম বাড়তে বাড়তে সর্বোচ্চ দর দাঁড়ায় ২০ টাকা ৬০ পয়সা। তবে বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ১৩ টাকায়।

কোম্পানিটিও প্রাতিষ্ঠানিক বা যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ১ কোটি শেয়ার ছেড়ে ১০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর সমাপ্ত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ০২ পয়সা।

মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোটেকের শেয়ার দরও বেড়ে গিয়ে একইভাবে কমেছে। এটিও ১০ টাকায় তালিকাভুক্ত হয়ে প্রথম দিনই শেয়ার দর হয়ে যায় ১২ টাকা। এটিরও সর্বোচ্চ দর ছিল ২০ টাকা ৬০ পয়সা। আর বৃহস্পতিবারের দর ছিল ১৩ টাকা ২০ পয়সা।

কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ কোটি শেয়ার ছেড়ে ১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬৮ পয়সা।

এই কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৬ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার ৫০০। এর মধ্যে ৪ কোটি ১০ লাখ ২ হাজার ৯৫টি আছে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর হাতে।

ওটিসি-ফেরত কোম্পানির দাপট নেই এসএমই বোর্ডে

মূল মার্কেটে ওটিসি ফেরা কোম্পানির উল্টো চিত্র

ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তর না করা, লোকসানসহ নানা অনিয়মের কারণে চার কোম্পানিকে মূল মার্কেট থেকে সরিয়ে ওটিসিতে পাঠানো হয়। সুশাসনের দিক থেকে উন্নতি ও মুনাফায় ফেরার কারণে গত ১৩ জুন সেখান থেকে মূল মার্কেটে আনা হয় কোম্পানিগুলোকে।

এই স্থানান্তরের পর থেকে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটছে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর।

তবে দর বৃদ্ধি নিয়ে তদন্তের ঘোষণা আর দুটি কোম্পানির আগের শতভাগের বেশি বোনাস শেয়ার যুক্ত হওয়ার পর শেয়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার খবরে ক্রমেই কমছে।

মূল মার্কেটে ফেরার দিন তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের শেয়ার দর ছিল ১৩ টাকা। এ সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ দর উঠেছে ২০২ টাকা। অর্থাৎ শুরুর দিনের তুলনায় দাম এখন প্রায় ১৫ গুণ।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৩৮ টাকা ৪০ পয়সা। ফরে সর্বোচ্চ দরে যারা শেয়ার কিনেছেন, তাদের এখন শেয়ারপ্রতি লোকসান ৬৩ টাকা ৬০ পয়সা।

৩০ কোটি টাকার কিছু বেশি পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিতে শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৬৪ হাজার ৭৬৭। এর মধ্যে ৫৬ দশমিক ২২ শতাংশ ধারণ করে আছেন উদ্যোক্তা-পরিচালকরা। ফলে বাজারে লেনদেনযোগ্য শেয়ারের সংখ্যা ১ কোটি ৩১ লাখ ৬২ হাজার ৩৫৫টি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেড়েছে পেপার প্রসেসিংয়ের। এই কোম্পানিটি মূল মার্কেটে ফিরেছে ১৬ টাকায়। গত ১০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ২৪৭ টাকা। অর্থাৎ দাম বাড়ে ১৫ গুণের বেশি।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১৫৬ টাকা ৮০ পয়সা।

মূল মার্কেটে ফেরার সময় কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন দেখানো হয় ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। শেয়ার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার।

তবে মূল মার্কেটে ফেরার আগে ২০০ শতাংশ বোনাস যোগ করে ২০ সেপ্টেম্বর রোববার মূলধন দেখানো হয় ১০ কোটি ৪৫ লাখ। শেয়ার সংখ্যা বেড়ে হয় ১ কোটি ৪৪ লাখ ৯৬ হাজার।

এরপর থেকে টানা কমছে শেয়ার দর। বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ১৫৬ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ দাম ৯০ টাকার বেশি কমেছে।

৫০ টাকা নিয়ে ফেরা মনোস্পুল পেপারের সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ২৪৯ টাকা ৮০ পয়সা। এখন লেনদেন হচ্ছে ১৬০ টাকা ৪০ পয়সা।

এই কোম্পানিটির ক্ষেত্রেও পরিশোধিত মূলধন হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পর দরপতন ঘটতে থাকে।

এই কোম্পানিটিও মূল মার্কেটে ফেরার আগে ঘোষণা করা লভ্যাংশ সমন্বয়ের কারণে এ ঘটনা ঘটে।

এই কোম্পানিটি মূল মার্কেটে ফেরার সময় পরিশোধিত মূলধন দেখানো হয় ৩ কোটি ৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। শেয়ার সংখ্যা ছিল ৩০ লাখ ৪৮ হাজার ৩২০টি।

কিন্তু ২০ সেপ্টেম্বর মূলধন উল্লেখ করা হয় ৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। শেয়ার সংখ্যা দেখানো হয় ৯৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৫টি।

কোম্পানি দুটির সচিব মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুটি কোম্পানিই ২০১৮ সালে ২০০ শতাংশ বোনাস ঘোষণা করেছিল। কিন্তু বিএসইসির নির্দেশনা অনুসারে, তাদের অনুমোদন ছাড়া ওটিসির কোনো কোম্পানির বোনাসের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায় না। তাই মূল মার্কেটে ফেরার সময় ওই বোনাসের আলোকে শেয়ার সংখ্যা দেখানো যায়নি। সম্প্রতি বিএসইসি তাদের বোনাস অনুমোদন করায় এ তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে।

এই তিনটি কোম্পানির তুলনায় মুন্নু ফেব্রিক্সের শেয়ার সংখ্যা বেশি। আর এটির দামও বেড়েছে তুলনামূলক কম।

কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১১৫ কোটি টাকা। শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ফেরার দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১০ টাকা। প্রায় প্রতিদিন ১০ শতাংশ করে বাড়তে বাড়তে ৩০ জুন ৩৭ টাকা ২০ পয়সা হয়ে যায়। কিন্তু পরে কমতে কমতে এখন দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৬০ পয়সায়।

আরও পড়ুন:
এসএমই বোর্ড: শেয়ারদরে লাফ, লেনদেন খুবই কম
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি
সোনালী পেপার: ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফিরেই চমক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নো ডিভিডেন্ডের ছড়াছড়ি

নো ডিভিডেন্ডের ছড়াছড়ি

বুধবার ১০টিরও বেশি কোম্পানি বিনিয়োগকারীদেরকে কোনো লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি বিনিয়োগকারীদেরকে হতাশ করবে।

বুধবার পুঁজিবাজারের অন্তত ১০টি কোম্পানি কোনো লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরও কয়েকটি কোম্পানি বিপুল পরিমাণ লোকসানে আছে, যেগুলো থেকে লভ্যাংশ আসার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

বুধবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যে কয়টি কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে তার মধ্যে এক ঝাঁক কোম্পানি গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বেশ কিছু কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে নগণ্য পরিমাণে। দুটি কোম্পানি বড় অঙ্কের লোকসান দিয়েও লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। দুটি কোম্পানি মুনাফায় থেকেও লভ্যাংশ দেয়নি।

এদিন অন্তত ৩৪টি কোম্পানির লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০টি কোম্পানি কোনো লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরও কয়েকটি কোম্পানি বিপুল পরিমাণ লোকসানে আছে, যেগুলো থেকে লভ্যাংশ আসার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

যেসব কোম্পানি কোনো লভ্যাংশ দেয়নি

উসমানিয়া গ্লাস

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি উসমানিয়া গ্লাস শিট শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৬৬ পয়সা লোকসান দিয়ে কোনো লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৭টাকা ২১ পয়সা। কোম্পানিটি তিন বছর ধরেই কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না।

ওয়াইম্যাক্স ইলেক্ট্রোড

প্রকৌশল খাতের কোম্পানিটি এবার মুনাফা করেও লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি আয় করেছে ৮ পয়সা। গত বছর আয় ছিল ৫১ পয়সা। সে বছর লভ্যাংশ ছিল ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার।

জেনারেশন নেক্সট

বস্ত্র খাতের এই কোম্পানিটি এবার শেয়ার প্রতি আয় করেছে ১ পয়সা। গত বছরও একই পরিমাণ আয় করে লভ্যাংশ দেয়নি তারা। ২০১৯ সালের পর থেকে কোম্পানির কোনো লভ্যাংশ পায়নি শেয়ারধারীরা।

কেপিপিএল

তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ১৪ পয়সা লোকসানে থাকা খুলনা পেপার মিল শেষ পর্যন্ত শেয়ার প্রতি লোকসান দিয়েছে ৬ টাকা ১২ পয়সা। ২০১৪ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি ২০১৭ সাল থেকেই লোকসানে। তবে গত চার বছর মিলিয়েও এ বছরের সমান লোকসান দেয়নি কোম্পানিটি।

মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক

২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ দেয়ার ইতিহাস নেই। প্রায় প্রতি বছর বড় অঙ্কের লোকসান দেয়া কোম্পানিটি এবার শেয়ারপ্রতি ৮ টাকা ২৬ পয়সা লোকসান দিয়েছে। আগের বছরে লোকসান ছিল ৭ টাকা ৬৭ পয়সা।

মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ

একই গ্রুপের এই কোম্পানিটিও এক দশকেও মুনাফার মুখ দেখেনি, লভ্যাংশও দেয়নি। গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ৩৩ পয়সা লোকসান দিয়েছে। আগের বছর লোকসান ছিল ৩০ পয়সা।

দুলামিয়া কটন

বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি লোকসানের বৃত্ত থেকে এবারও বের হতে পারেনি।

গত জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৩৭ পয়সা। আগের বছর এই লোকসান ছিল ১ টাকা ২৮ পয়সা।

আর এন স্পিনিং

আগের দুই বছরের মতো এবারও লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি আগের বছরের তুলনায় লোকসান কমাতে পেরেছে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত তাদের শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৮৮ পয়সা।

রেনউইক যগেশ্বর

রাষ্ট্রায়ত্ত এই কোম্পানিটি এবার লোকসান কমাতে পারলেও লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ২৩ টাকা ৩২ পয়সা। আগের বছরও শেয়ার প্রতি ৩২ টাকা লোকসান দেয়ার কারণে কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানিটি।

শ্যামপুর সুগার

বরাবরের মতোই এবারও বিপুল পরিমাণ লোকসান দিয়ে লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই চিনিকলটি। গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ার প্রতি কোম্পানিটি লোকসান দিয়েছে ১২৫ টাকা ১৪ পয়সা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১২১ টাকা ৩৮ পয়সা।

৫ শতাংশ বা তার কম লভ্যাংশ যেগুলোর

আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস

কোম্পানিটি অর্ধবার্ষিকে ১ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ দেয়ার পর সেটিকেই চূড়ান্ত লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচনার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোম্পানিটি এবার শেয়ার প্রতি ২৬ পয়সা আয় করতে পেরেছে। আগের বছর তাদের লোকসান ছিল ৯৩ পয়সা।

ইভিন্স টেক্সটাইল

বস্ত্র খাতের এই কোম্পানিটি এবার শেয়ার প্রতি আয় করেছে ১ পয়সা। কিন্তু লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০ পয়সা করে।

কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত শেয়ারে ১৪ পয়সা লোকসানে ছিল। শেষ প্রান্তিকে তারা ১৫ পয়সা আয় করে।

অগ্নি সিস্টেমস

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই কোম্পানিটি এবার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছ ৩.৫ শতাংশ। এর পুরোটাই নগদ। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারে পাবেন ৩৫ পয়সা করে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী অগ্নি ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত শেয়ার প্রতি আয় করতে পেরেছে ৭৭ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ৩১ পয়সা।

কেঅ্যান্ড কিউ

কোম্পানিটি এবার ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা প্রতি ২০টি শেয়ারের বিপরীতে একটি শেয়ার পাবেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৯২ পয়সা। আগের বছর আয় হয়েছিল ৪৪ পয়সা।

হামিদ ফেব্রিক্স

কোম্পানিটি প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে লোকসান দিয়েছে ১ টাকা ৭৬ পয়সা। কিন্তু রিজার্ভ থেকে লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লভ্যাংশ পাবেন কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। উদ্যোক্তা-পরিচালকরা কোনো টাকা নেবেন না।

গত বছর কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ৪২ পয়সা আয় করে এক টাকা করে লভ্যাংশ দিয়েছিল।

তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ

কোম্পানিটি এবার ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর অর্ধেক বোনাস ও অর্ধেক নগদ। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার প্রতি ২৫ পয়সার পাশাপাশি প্রতি ২০০ শেয়ারে ৫টি বোনাস শেয়ার পাবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত তসরিফা শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৬৪ পয়সা। আগের বছর কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৮৭ পয়সা লোকসান দিয়েছিল। সে বছর লভ্যাংশ দেয়া হয়নি।

সিলফা ফার্মা

কোম্পানিটি এবার ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার প্রতি পাবেন ৫০ পয়সা।

এবার কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৮৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৮৭ পয়সা।

১০ শতাংশ লভ্যাংশ

শেয়ার প্রতি এক টাকা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে বেশ কয়েকটি কোম্পানি। এগুলো হলে:

মালেক স্পিনিং

লোকসান থেকে বের হয়ে এসে আয়ে চমক দেখাল কোম্পানিটি। ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করতে পেরেছে ৩ টাকা ৩৬ পয়সা। গত অর্থবছরে লোকসান দিয়েছিল ১ টাকা ৬৮ পয়সা।

সায়হাম কটন

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৮ পয়সা। আগের বছর শেয়ার প্রতি ৬৪ পয়সা লোকসান দিয়েছিল কোম্পানিটি। ওই বছর কোনো লভ্যাংশ পায়নি বিনিয়োগকারীরা।

রানার অটোমোবাইল

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত শেয়ার প্রতি আয় করতে পেরেছে ২ টাকা ৭০ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ৯৭ পয়সা। আয় বাড়াতে পারলেও কোম্পানিটি লভ্যাংশ দিয়েছে আগের বছরের সমান।

সিনোবাংলা

বিবিধ খাতের এই কোম্পানিটি নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার প্রতি পাবেন এক টাকা করে। এবার কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৭৯ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ১ টাকা ৩১ পয়সা।

এইচ আর টেক্সটাইল

কোম্পানিটি যে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তার অর্ধেক নগদ ও অর্ধেক বোনাস। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা এবং ৫ শতাংশ বোনাস অর্থাৎ প্রতি ২০টি শেয়ারে একটি শেয়ার পাবেন।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৮৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ছিল ১১ পয়সা।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যালস

কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার, অর্থাৎ অর্থাৎ প্রতি ১০টি শেয়ারের বিপরীতে একটি বোনাস শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৪৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৫১ পয়সা।

১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ

ভিএসএফ থ্রেড

কোম্পানিটি এবার ১১ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ১ টাকা ১০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা লভ্যাংশ নেবেন না।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা। আগের বছর আয় ছিল ১ টাকা ৪৫ পয়সা।

আরগন ডেমিন

কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ বোনাস। অর্থাৎ শেয়ার প্রতি নগদ এক টাকা এবং প্রতি ২০টি শেয়ারের বিপরীতে দেয়া হবে একটি শেয়ার।

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৭১ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ৪৬ পয়সা।

সাইফ পাওয়ারটেক

কোম্পানিটি এবার শেয়ারধারীদের ১৬ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ দেয়া হবে নগদ আর ৬ শতাংশ দেয়া হবে বোনাস। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ারপ্রতি ১ টাকার পাশাপাশি প্রতি ১০০ শেয়ারের বিপরীতে ৬টি শেয়ার পাবেন।

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করতে পেরেছে ১ টাকা ৭৫ পয়সা। আগের বছর আয় ছিল ১ টাকা ৮ পয়সা। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ৬৭ পয়সা বা ৬২ শতাংশ।

রহিম টেক্সটাইল

১৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার প্রতি পাবেন ১ টাকা ৬০ পয়সা করে।

গত বছর কোম্পানিটির আয় ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। এবার আয় কিছুটা বেড়েছে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত রহিম শেয়ার প্রতি আয় করেছে ২ টাকা ২৫ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ৭৫ পয়সা।

হাওয়েল টেক্সটাইল

কোম্পানিটি এবার বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ২ টাকা করে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ০১ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৩১ পয়সা।

এমআই সিমেন্ট

কোম্পানিটি এবার ২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ।

সমাপ্ত অর্থবছরের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৫ টাকা ৭৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৮৯ পয়সা।

জেএমআই সিরিঞ্জ

কোম্পানিটি এবার ৩০ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি তিন টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সর্বশেষ হিসাববছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (EPS) হয়েছে ৪ টাকা৩ পয়সা। আগের বছর ইপিএস হয়েছিল ৪ টাকা ৩৫ পয়সা।

শাহজিবাজার পাওয়ার

বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিটি এবার ২৮ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা একেকটি শেয়ারের বিপরীতে ২ টাকা ৮০ পয়সা এবং প্রতি ১০০ শেয়ারের বিপরীতে ৪টি শেয়ার পাবেন।

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি একেকটি শেয়ারের বিপরীতে আয় করেছে ৬ টাকা ৫৩ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ৪ টাকা ৩৮ পয়সা।

সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ ইউনাইটেড পাওয়ার

বিদ্যুৎ খাতের এই কোম্পানিটি এবার শেয়ার প্রতি ১৭ টাকা অর্থাৎ ১৭০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ১৮ টাকা ৮০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ১১ টাকা ২৬ পয়সা।

আরও পড়ুন:
এসএমই বোর্ড: শেয়ারদরে লাফ, লেনদেন খুবই কম
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি
সোনালী পেপার: ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফিরেই চমক

শেয়ার করুন

বড় লোকসান দিয়েও সিভিওর বোনাস লভ্যাংশ

বড় লোকসান দিয়েও সিভিওর বোনাস লভ্যাংশ

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৪৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৫১ পয়সা। সে বছর কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি।

শেয়ার প্রতি লোকসান পাঁচ গুণ বাড়লেও লভ্যাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরেরে জন্য বিনিয়োগকারীদেরকে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শেয়ারের বিপরীতে একটি বোনাস শেয়ার দেয়া হবে।

বুধবার পর্ষদের সভা শেষে জানানো হয়, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৪৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৫১ পয়সা।

গত বছর এবারের তুলনায় পাঁচ ভাগের একভাগ লোকসান দিয়েও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। তার আগের দুই বছর লভ্যাংশ দেয়া হয় ২০ পয়সা করে।

লোকসান দেয়ার কারণে কোম্পানিটির সম্পদমূল্য কমেছে। ২০২০ সালের ৩০ জুলাই শেয়ারের বিপরীতে সম্পদ ছিল ১৩ টাকা ৯০ পয়সার। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৫৫ পয়সা।

কোম্পানিটির উৎপাদন ২০১৭ সাল থেকে বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি উৎপাদন চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সঙ্গে ন্যাপথা ক্রয় ও বিক্রয়ের চুক্তি করেছে সিভিও। চুক্তি অনুযায়ী ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে কাঁচামাল হিসেবে ন্যাপথা সংগ্রহ করবে। এটি পরিশোধনের মাধ্যমে উন্নতমানের সলভেন্ট উৎপাদন করবে।

এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কোম্পানিটির শেয়ারদরে সম্প্রতি উল্লম্ফন হয়েছে। ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারদর ১১৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে ৮২ টাকায় নেমে আসে। কিন্তু এই চুক্তিকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে তা ২৭২ টাকায় উঠে যায়। পরে কিছুটা কমে এখন দাম ২১৩ টাকা ৬০ পয়সা।

এবার কোম্পানিটি লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে আগামী ২৫ নভেম্বর। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ২৬ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
এসএমই বোর্ড: শেয়ারদরে লাফ, লেনদেন খুবই কম
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি
সোনালী পেপার: ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফিরেই চমক

শেয়ার করুন

রানার অটোর আয় বাড়লেও বাড়েনি লভ্যাংশ

রানার অটোর আয় বাড়লেও বাড়েনি লভ্যাংশ

২০১৯ সালে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির আয় ও লভ্যাংশ কখনও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্রথম বছর শেয়ার প্রতি ১ টাকার পাশাপাশি ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২০টি শেয়ারে একটি বোনাস হিসেবে দেয়া হয়। পরের বছর লভ্যাংশ আসে ১ টাকা। কোম্পানিটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭৫ টাকা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬৭ টাকা করে শেয়ার বিক্রি করেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি রানার অটোমোবাইলস আয় বাড়াতে পারলেও লভ্যাংশ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০২০ সালের মতোই এবারও শেয়ার ১০ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি এক টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে বুধবার রানারের পরিচালনা পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত শেয়ার প্রতি আয় করতে পেরেছে ২ টাকা ৭০ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ৯৭ পয়সা।

কোম্পানিটির সম্পদমূল্য কিছুটা বেড়েছে। গত ৩০ জুন শেয়ার প্রতি সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ১৬ পয়সা, গত বছরের জুনে যা ছিল ৬৩ টাকা ৩৯ পয়সা।

২০১৯ সালে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির আয় ও লভ্যাংশ কখনও বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

প্রথম বছর শেয়ার প্রতি ১ টাকার পাশাপাশি ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২০টি শেয়ারে একটি বোনাস হিসেবে দেয়া হয়। পরের বছর লভ্যাংশ আসে ১ টাকা।

কোম্পানিটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭৫ টাকা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬৭ টাকা করে শেয়ার বিক্রি করেছে। লেনদেন শুরুর প্রথম দিনে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু পরে লভ্যাংশ আশানুরূপ না হওয়ায় দাম কমে আসে।

এক পর্যায়ে শেয়ার দর ৪০ টাকার নিচে নেমে যায়। গত দেড় বছরে পুঁজিবাজারে উত্থানের পর অবশ্য শেয়ারদর কিছুটা বাড়ে। লভ্যাংশ ঘোষণার দিন শেয়ার দর ছিল ৫৭ টাকা ৪০ পয়সা, যা এর ইস্যুমূল্যের বেশি নিচে।

এবার কোম্পানিটি লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে আগামী ২১ নভেম্বর। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ২৩ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
এসএমই বোর্ড: শেয়ারদরে লাফ, লেনদেন খুবই কম
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি
সোনালী পেপার: ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফিরেই চমক

শেয়ার করুন

অগ্নি সিস্টেমস শেয়ারে দেবে ৩৫ পয়সা

অগ্নি সিস্টেমস শেয়ারে দেবে ৩৫ পয়সা

অগ্নি ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত শেয়ার প্রতি আয় করতে পেরেছে ৭৭ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ৩১ পয়সা। কোম্পানিটি গত মার্চ পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৭১ পয়সা আয় দেখিয়েছিল। ফলে বিনিয়োগকারীরা এবার আরও বেশি আয়ের প্রত্যাশায় ছিলেন। তবে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে মাত্র ৬ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি অগ্নি সিস্টেমস আয় বাড়িয়ে লভ্যাংশ কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে লভ্যাংশ এসেছে গতবারের মতোই নগণ্য পরিমাণে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে বুধবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ৩.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার প্রতি ৩৫ পয়সা করে পাবেন।

আগের বছর বিনিয়োগকারীদেরকে ২ শতাংশ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ২০ পয়সা লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী অগ্নি ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত শেয়ার প্রতি আয় করতে পেরেছে ৭৭ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ৩১ পয়সা।

কোম্পানিটি গত মার্চ পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৭১ পয়সা আয় দেখিয়েছিল। ফলে বিনিয়োগকারীরা এবার আরও বেশি আয়ের প্রত্যাশায় ছিলেন। তবে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে মাত্র ৬ পয়সা।

কোম্পানিটির সম্পদূল্যও কিছুটা বেড়েছে। ২০২০ সালের জুনে শেয়ার প্রতি সম্পদ ছিল ১৪ টাকা ৫ পয়সার। এবার তা খানিকটা বেড়ে ১৪ টাকা ৬২ পয়সা হয়েছে।

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ২৬ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে। তবে লভ্যাংশ ঘোষণার দিন দাম ছিল ১৯ টাকা ৮০ পয়সা।

এবার কোম্পানিটি লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে আগামী ২১ নভেম্বর। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ১৫ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
এসএমই বোর্ড: শেয়ারদরে লাফ, লেনদেন খুবই কম
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি
সোনালী পেপার: ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফিরেই চমক

শেয়ার করুন

‘উচ্চমূল্যের’ কেঅ্যান্ড কিউ লভ্যাংশ দেবে ৫ শতাংশ

‘উচ্চমূল্যের’ কেঅ্যান্ড কিউ লভ্যাংশ দেবে ৫ শতাংশ

শেয়ার সংখ্যা কম থাকায় এর দাম বেশি বলে ধারণা করা হয়। লভ্যাংশ ঘোষণার দিন শেয়ার দর ছিল ২৮৩ টাকা ৩০ পয়সা। গত এক বছরে এই দর ১৭৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩৪৮ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

প্রায় তিনশ টাকা শেয়ারদরের প্রকৌশল খাতের কোম্পানি কে অ্যান্ড কিউ এবার বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা প্রতি ২০টি শেয়ারের বিপরীতে একটি শেয়ার পাবেন।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে বুধবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৯২ পয়সা। আগের বছর আয় হয়েছিল ৪৪ পয়সা।

কোম্পানিটির আয় সামান্য বাড়লেও সম্পদমূল্য আবার কিছুটা কমেছে। গত ৩০ জুন শেয়ার প্রতি সম্পদ ছিল ৭৬ টাকা ৭৪ পয়সার। আগের বছর একই সময়ে এই সম্পদ ছিল ৭৬ টাকা ৭৯ পয়সা।

সম্পদমূল্য ও আয়ের বিবেচনায় এই কোম্পানির শেয়ারদর বরাবরই থাকে বেশি। ৪ কোটি ৯০ লাখ ৩ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৪৯ লাখ ২ হাজার ৫৩০টি। এর মধ্যে ৩১.৮৮ শতাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা পরিচালকরা ধারণ করে আছেন। ফলে ৩৪ লাখ শেয়ার বাজারে বিনিময়যোগ্য।

শেয়ার সংখ্যা কম থাকায় এর দাম বেশি বলে ধারণা করা হয়। লভ্যাংশ ঘোষণার দিন শেয়ার দর ছিল ২৮৩ টাকা ৩০ পয়সা। গত এক বছরে এই দর ১৭৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩৪৮ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

কোম্পানিটির শেয়ারদর এত বেশি হলেও এর লভ্যাংশের ইতিহাস খুব একটা ভালো নয়। ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশই দিতে পারেনি। ২০১৮ সালে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা, পরের বছর ৭৫ পয়সা এবং ২০২০ সালে ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়।

এবার কোম্পানিটি লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে আগামী ১৮ নভেম্বর। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ১৯ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
এসএমই বোর্ড: শেয়ারদরে লাফ, লেনদেন খুবই কম
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি
সোনালী পেপার: ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফিরেই চমক

শেয়ার করুন

ধাক্কা সামলে মুনাফায় ফেরা তসরিফার লভ্যাংশ ঘোষণা

ধাক্কা সামলে মুনাফায় ফেরা তসরিফার লভ্যাংশ ঘোষণা

২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি টানা চার বছর নগদ এবং বোনাস মিলিয়ে লভ্যাংশ ঘোষণার পরে গত বছরই হোঁটচ খায়। তবে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রতিটি প্রান্তিকেই তারা মুনাফা করতে পারে।

আগের বছর বড় অঙ্কের লোকসান দেয়া বস্ত্র খাতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ মুনাফায় ফিরে বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে বুধবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারধারীদের জন্য ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্ধেক বোনাস ও অর্ধেক নগদ। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার প্রতি ২৫ পয়সার পাশাপাশি প্রতি ২০০ শেয়ারে ৫টি বোনাস শেয়ার পাবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত তসরিফা শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৬৪ পয়সা।

২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৮৭ পয়সা লোকসান দেয়ার পর বিনিয়োগকারীদেরকে কোনো লভ্যাংশ দেয়া হয়নি।

২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি টানা চার বছর নগদ এবং বোনাস মিলিয়ে লভ্যাংশ ঘোষণার পরে গত বছরই হোঁটচ খায়। তবে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রতিটি প্রান্তিকেই তারা মুনাফা করতে পারে।

এর মধ্যে গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ১০ পয়সা, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১২ পয়সা, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে ১৪ পয়সা আয় করে। তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আয় ছিল ৩৬ পয়সা। অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয় ২৮ পয়সা।

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ার দর ১০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২৫ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে। লভ্যাংশ ঘোষণার দিন দাম ছিল ১৮ টাকা ৪০ পয়সা।

কোম্পানিটি লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে আগামী ২২ নভেম্বর। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ২৩ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
এসএমই বোর্ড: শেয়ারদরে লাফ, লেনদেন খুবই কম
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি
সোনালী পেপার: ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফিরেই চমক

শেয়ার করুন

১ পয়সা আয় করে ২০ পয়সা লভ্যাংশ ইভিন্স টেক্সটাইলের

১ পয়সা আয় করে ২০ পয়সা লভ্যাংশ ইভিন্স টেক্সটাইলের

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইভিন্স টেক্সটাইলের কারাখানা। ছবি কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে নেয়া।

গত এপ্রিলের শেষেও কোম্পনিটির শেয়ারদর ছিল ৬ টাকা ৪০ পয়সা। তবে সম্প্রতি সহযোগী একটি কোম্পানিকে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে দাম। সেপ্টেম্বরের শেষে শেয়ারদর বেড়ে ১৫ টাকা ১০ পয়সা হয়ে যায়। তবে এরপর কমে দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৮০ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ইভিন্স টেক্সটাইল আয়ের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থ বছরের হিসাব পর্যালোচনা করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ বুধবার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।।

প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটি ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত এক বছরে শেয়ার প্রতি আয় করেছে এক পয়সা। এর বিপরীতে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে ২ শতাংশ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ২০ পয়সা।

একই খাতের আরেক কোম্পানি জেনারেশন নেক্সট শেয়ার প্রতি ১ পয়সা এবং প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ওয়াইমেক্স ইলেকট্রোড ৮ পয়সা আয় করেও লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোম্পানিটি গত মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্তও শেয়ার প্রতি ১৪ পয়সা লোকসানে ছিল। অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারে ১৫ পয়সা আয় করে মুনাফা করতে পেরেছে।

২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এবারই সবচেয়ে কম আয় হয়েছে ইভিন্স টেক্সটাইলের। এর আগে সর্বনিম্ন আয় ছিল ২০২০ সালে ২০ পয়সা, যা ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের পর হয় ১৯ পয়সা।

এর আগে ২০১৯ সালে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৭ পয়সা, ২০১৮ সালে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৬ পয়সা, ২০১৭ সালে ১ টাকা ২৮ পয়সা এবং ২০১৬ সালে ২ টাকা ২৫ পয়সা আয় করে কোম্পানিটি।

এর মধ্যে ২০১৮ সালে কোম্পানিটি মুনাফায় থেকেও লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। এর আগে তালিকাভুক্তির বছরে শেয়ার প্রতি ১ টাকার পাশাপাশি ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার, ২০১৭ সালে ১০ শতাংশ বোনাস, ২০১৯ সালে আবার ১০ শতাংশ বোনাস ও শেয়ার প্রতি ২০ পয়সা এবং ২০২০ সালে ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয় কোম্পানিটি।

গত এপ্রিলের শেষেও কোম্পনিটির শেয়ারদর ছিল ৬ টাকা ৪০ পয়সা। তবে সম্প্রতি সহযোগী একটি কোম্পানিকে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে দাম। সেপ্টেম্বরের শেষে শেয়ারদর বেড়ে ১৫ টাকা ১০ পয়সা হয়ে যায়। তবে এরপর কমে দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৮০ পয়সা।

কোম্পানিটি লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে আগামী ১৮ নভেম্বর। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ১৪ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
এসএমই বোর্ড: শেয়ারদরে লাফ, লেনদেন খুবই কম
ওটিসি থেকে ফিরেই ধামাকা, পরে হতাশা
ওটিসি থেকে ফিরেই নাগালের বাইরে চার কোম্পানি
সোনালী পেপার: ওটিসি থেকে মূল মার্কেটে ফিরেই চমক

শেয়ার করুন