চন্দ্রিমায় জিয়ার লাশ: এরশাদকে সাক্ষী মানলেন ফখরুল

চন্দ্রিমায় জিয়ার লাশ: এরশাদকে সাক্ষী মানলেন ফখরুল

ঢাকার চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ রয়েছে জোর দাবি বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ দাফন করা হয়েছিল। এটা তো চাঁদের আলোর মতো পরিষ্কার। এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু হতে পারে না। কারণ তৎকালীন সেনা অধিনায়ক জেনারেল এরশাদ নিজেই জিয়াউর রহমানের লাশ বহন করেছেন।’

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে তার মরদেহ নেই প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ বলছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জানান, চন্দ্রিমায় যে জিয়ার মরদেহ রয়েছে সেই সাক্ষী প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নিজের কাঁধে জিয়ার মরদেহ বহন করেছেন সে সময়ের সেনা অধিনায়ক।

গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘দুদিন আগে এক দলীয় সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জিয়া কোথায় যুদ্ধ করেছেন সেই প্রমাণ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবর নেই বলেও মন্তব্য করেন।

ঢাকার চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ রয়েছে জোর দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের লাশ দাফন করা হয়েছিল। এটা তো চাঁদের আলোর মতো পরিষ্কার। এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু হতে পারে না। কারণ তৎকালীন সেনা অধিনায়ক জেনারেল এরশাদ নিজেই জিয়াউর রহমানের লাশ বহন করেছেন।’

১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তাকে সমাহিত করা হয় সেখানেই। পরে সেখান থেকে সরিয়ে জিয়ার দেহাবশেষ চন্দ্রিমা উদ্যানে সমাহিত করার কথা জানানো হয় বিএনপি থেকে। দেহাবশেষ কফিনে করে আনা হয়েছিল, কিন্তু কফিনের মুখ তখন খোলা হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শোক দিবসের আলোচনায় সভায় কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীও। জানান, চন্দ্রিমায় জিয়াউর রহমানের কোনো মরদেহ নেই। এটা বিএনপিও জানে।

সম্প্রতি চন্দ্রিমা উদ্যানে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজকে চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়ার কবরে গিয়ে যে মারামারি করল বিএনপি, তারা জানে না যে সেখানে জিয়ার কবর নাই, জিয়া নাই ওখানে, জিয়ার লাশ নাই? তারা তো ভালোই জানে। তাহলে এত নাটক করে কেন? খালেদা জিয়াও ভালোভাবে জানে।’

খোদ এরশাদের কাছ থেকেই এ তথ্য শোনা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়া কি বলতে পারবে তারা তাদের (স্বামী ও) বাবার লাশ দেখেছে? গুলি খাওয়া লাশ তো দেখাই যায়। তারা কি দেখেছে কখনও বা কেউ কি কোনো ছবি দেখেছে কখনও? দেখেনি। কারণ ওখানে কোনো লাশ ছিল না। ওখানে একটা বাক্স আনা হয়েছিল। সেখানে ওই বাক্সের ফাঁক দিয়ে যারা দেখেছে, সেই এরশাদের মুখ থেকেই শোনা, কমব্যাট ড্রেস পড়া ছিল। জিয়াউর রহমান তখন প্রেসিডেন্ট। সে তখন কমব্যাট ড্রেস পড়ে না। এটা কি বিএনপির লোকরা জানে না?’

জিয়াউর রহমানের মতো নেতাকে নিয়ে এমন বক্তব্য দেয়াকে রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্যই জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও সমাধি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার করেছেন।

‘তাদের এসব কথা বলার মানে হচ্ছে তারা কিছু ইস্যু তৈরি করছে। আর তারা যে রাজনীতিতে দেউলিয়া হয়ে গেছে এটাই বড় প্রমাণ। মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা মাত্র।’

চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের মরদেহ নেই প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি জাফরুল্লাহ চৌধুরীও

শুক্রবার রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ জাদুকর শেখ হাসিনা। কী অপূর্ব পরিকল্পনায় তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনের রাতে সবকিছু উল্টে দিলেন। ঠিক একইভাবে এখন উনি বলতে শুরু করেছেন চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের শবদেহ নেই।

‘শেখ হাসিনা ইতিহাস ভুলে গেছেন। জিয়াউর রহমানের বডি যারা গ্রহণ করেছে তাদের অনেক এখনও বেঁচে আছেন। সর্বকালে বৃহৎ জনসমাগম হয়েছিল জিয়াউর রহমানের মরদেহ যখন মানিক মিয়া এভিনিউতে আনা হয়েছিল।’

আরও পড়ুন:
‘রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াকে কবর দিতে কেউ দেখেনি’
খালেদার দুই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৫ সেপ্টেম্বর
১৫ ও ২১ আগস্টের মূল কুশীলব জিয়া পিতা-পুত্র: বিচারপতি মানিক
খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ২০ অক্টোবর
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার শুনানি ফের পেছাল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আর ধোঁকা খেতে রাজি নই, প্রধানমন্ত্রীকে সাকি

আর ধোঁকা খেতে রাজি নই, প্রধানমন্ত্রীকে সাকি

সাকি বলেন, ‘প্রয়োজনে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে। তার জন্য সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে তাদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। যারা যারা এখনো গড়িমসি করে রাস্তায় নামছেন না, তাদের রাস্তায় নামাতে হবে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া নির্বাচনে গিয়ে আর ধোঁকা খেতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

রংপুরের সুমি কমিউনিটি হলরুমে সোমবার দুপুরে দলটির ১৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সাকি বলেন, ‘আপনি বলেছিলেন সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন কিন্তু কথা রাখেন নাই। কথা না রেখে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। কাজেই আপনার কথায় আর কেউ বিশ্বাস করে না। বাংলার মানুষ আপনার পদত্যাগ চায়।’

তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে আপনাকে সম্মান দিয়ে আমরা রাজনৈতিক দলগুলো আপনার ডাকে গিয়েছিলাম। ২৯ তারিখ রাতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দিয়ে, প্রশাসনের লোকজন দিয়ে, নিজেদের গুন্ডাবাহিনী দিয়ে রাতে ব্যালট ছাপিয়ে নিলেন। ব্যালট বাক্স ভরে নিলেন।

‘কোথাও কোথাও ভোটই আছে ১০০ সেখানে পড়েছে, ১১০ বা ১২০টা। এতই অতি উৎসাহী ছিলেন তারা। আমরা জনগণ আর ধোঁকা খেতে রাজি নই। সুষ্ঠু নির্বাচনের নমুনা মানুষ দেখেছে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেশে আরেকটি নির্বাচনের জন্য লড়াইয়ের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে। তার জন্য সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে তাদের বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

‘যারা যারা এখনো গড়িমসি করে রাস্তায় নামছেন না, তাদের রাস্তায় নামাতে হবে। সবাইকে আন্দোলনে নামিয়ে গণঅভ্যুত্থানের পথ সৃষ্টি করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
‘রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াকে কবর দিতে কেউ দেখেনি’
খালেদার দুই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৫ সেপ্টেম্বর
১৫ ও ২১ আগস্টের মূল কুশীলব জিয়া পিতা-পুত্র: বিচারপতি মানিক
খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ২০ অক্টোবর
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার শুনানি ফের পেছাল

শেয়ার করুন

বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে, প্রশ্ন কাদেরের

বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে, প্রশ্ন কাদেরের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আপনাদের লিডার কে? শেখ হাসিনার বিকল্প একজন নেতা আপনাদের দেখান৷’

আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে হবেন, সে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সোমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ প্রশ্ন করেন।

আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক উপকমিটি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

এতে দেয়া বক্তব্যে কাদের বলেন, দেশে শেখ হাসিনার বিকল্প নেতা নেই।

ওই সময় তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আপনাদের লিডার কে? শেখ হাসিনার বিকল্প একজন নেতা আপনাদের দেখান৷’

তিনি বলেন, ‘বিএনপিতে পরবর্তী নির্বাচনের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে? এর জবাব যদি টেমস নদীর পাড়ে (লন্ডন) চলে যায়, তা দেশের মানুষ কোনো দিনও গ্রহণ করবে না।

‘আমি বিএনপিকে প্রশ্ন করতে চাই, আগামী নির্বাচনে আপনাদের লিডার কে? আন্দোলনে আপনাদের লিডার কে? কাকে ঘিরে আন্দোলন করবেন? কাকে ঘিরে সরকার গঠন করবেন?’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আমাদের লিডার হচ্ছে শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার বিকল্প একজন নেতা আপনাদের দেখান৷ একজনকে দেখাবেন; পলাতক, দণ্ডিত আসামি।

‘দণ্ডিত, পলাতক এক ব্যক্তি। তিনিই আপনাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এটা কি বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে? এটা কি শেখ হাসিনার বিকল্প হতে পারে? মানুষ এত বোকা নয়। বিএনপিকে ভোট দিয়ে লাভ নেই।’

আরও পড়ুন:
‘রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াকে কবর দিতে কেউ দেখেনি’
খালেদার দুই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৫ সেপ্টেম্বর
১৫ ও ২১ আগস্টের মূল কুশীলব জিয়া পিতা-পুত্র: বিচারপতি মানিক
খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ২০ অক্টোবর
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার শুনানি ফের পেছাল

শেয়ার করুন

উপজেলা আ. লীগের কমিটি নিয়ে পাকুন্দিয়ায় বিক্ষোভ

উপজেলা আ. লীগের কমিটি নিয়ে পাকুন্দিয়ায় বিক্ষোভ

উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে রোববার বিকেলে পাকুন্দিয়া ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ করেন একাংশের নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা কমিটিকে উদ্দেশ করে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপন বলেন, ‘সোহরাব উদ্দিনের মতো লোককে কমিটিতে দিয়ে পাকুন্দিয়ায় যে আগুন লাগানো হয়েছে, সে দাবানলে আপনারাই পুড়ে ছারখার হবেন।’

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন একাংশের নেতা-কর্মীরা।

রোববার বিকেলে ঈদগাহ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে এ বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপনের সভাপতিত্বে সমাবেশ হয়।

উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি বাবুল আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন নারান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি শফিকুল ইসলাম শফিক, জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীরসহ অনেকে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সোহবার উদ্দিনকে বহিষ্কার এবং কমিটি বাতিলের দাবি জানান বক্তারা।

নারান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়েছে। তার মাধ্যমে পুরো উপজেলার জামায়াত-বিএনপির চিহ্নিত নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন এলাকার চোর-ডাকাতদের এই কমিটিতে ঢোকার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে মানা হবে না।’

জেলা শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আতাউল্লাহ সিদ্দিক মাসুদ বলেন, সোহরাব উদ্দিন মানবতাবিরোধী মামলার আসামি। এ কারণেই ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগ তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ঘোষণা করেছে। তাকে আহ্বায়ক ঘোষণার পর থেকেই এই কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছেন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

তিনি বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে এই কমিটি বাতিল করা না হলে সড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে নামবেন।

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘এ উপজেলায় বহু ত্যাগী এবং পরীক্ষিত নেতা-কর্মী থাকতে সোহরাবের মতো লোককে আহ্বায়ক ঘোষণা করা হলো কেন?’

জেলা কমিটির নেতাদের উদ্দেশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোতায়েম হোসেন স্বপন বলেন, ‘সোহরাব উদ্দিনের মতো লোককে কমিটিতে দিয়ে পাকুন্দিয়ায় যে আগুন লাগানো হয়েছে, সে দাবানলে আপনারাই পুড়ে ছারখার হবেন।

‘অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করা না হলে আগামী ৪ অক্টোবরের পর কঠোর আন্দোলনে নামতে হবে।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বুরুদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা রুবেল, সুখিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ টিটু, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম দেওয়ান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ বোরহান উদ্দিন ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন।

চলতি বছরের ২২ জুলাই জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করে জেলা আওয়ামী লীগ। এ দিন সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিক্ষোভ করে আসছে উপজেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা-কর্মী। কমিটি ঘোষণার এক দিন পরই তাকে অবাঞ্ছিত করে কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

৯ সেপ্টেম্বর সোহরাব উদ্দিনকে আহ্বায়ক রেখেই ৬৭ সদস্যের কমিটির অনুমোদন করে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ। সে কমিটির তথ্য প্রচার হয় ১৩ সেপ্টেম্বর।

এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে কথা হয় সোহরাব উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৬৭ সদস্যের কমিটিতে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি বা বিতর্কিত কোনো লোককে রাখা হয়নি। তারা এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে পাকুন্দিয়ার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইচ্ছা করলেই সবাইকে তো আর কমিটিতে
রাখা যায় না। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ বৃহৎ সংগঠন। এই হিসেবে নতুন কমিটি ঘোষণা হলে যারা বাদ পড়েন বা পদবঞ্চিত হন, তাদের মান-অভিমান থাকেই। অনেকে অসন্তুষ্ট হতেই পারেন।’

সবাইকে নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ করবেন বলেও জানান সোহরাব উদ্দিন।

আরও পড়ুন:
‘রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াকে কবর দিতে কেউ দেখেনি’
খালেদার দুই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৫ সেপ্টেম্বর
১৫ ও ২১ আগস্টের মূল কুশীলব জিয়া পিতা-পুত্র: বিচারপতি মানিক
খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ২০ অক্টোবর
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার শুনানি ফের পেছাল

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামী লীগের

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামী লীগের

রোববার গাজীপুরে জাহাঙ্গীর বিরোধী বিক্ষোভে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ। ছবি: নিউজবাংলা

বিগত বিক্ষোভ সমাবেশে সরাসরি কোনো সমালোচনা না করলেও রোববার মেয়র জাহাঙ্গীরের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানসহ এক ডজন নেতা।

মেয়র জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে গাজীপুর আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ। মধ্যরাতে নিজ বাসায় বসে জাহাঙ্গীরের কথোপকথনের একটি ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিনও জাহাঙ্গীরের বিচার দাবিতে গাজীপুরে বিক্ষোভ হয়েছে। এ নিয়ে টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরের ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধও করেন তারা। অবরোধের কারণে টঙ্গী-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে হঠাৎ থমকে যায় গাড়ির চাকা। প্রভাব পড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।

রোববার বিকেল ৪টায় টঙ্গীর শিলমুন ও টিএন্ডটি বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে ৪৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ, মহানগর তাঁতীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আমান, ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক মনির হোসেন সাগর, ছাত্রলীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সুজনসহ কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় টিএন্ডটি বাজার এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় এক ঘন্টা টঙ্গী-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।

একই সময়ে ৫৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আহবায়ক আলী আফজাল খান দুলুর নেতৃত্বে আরও একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ন আহবায়ক কামরুজ্জামান জামান, এনতাজ মোড়ল, হাজী কাশেম সরকার, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম স্বপন, যুবলীগ নেতা সেতু সরকার, রুমি সরকার, রাসেল, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান পিংকু প্রমুখ।

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা গাজীপুর আওয়ামী লীগের
বিক্ষোভকারীদের অবরোধে বন্ধ হয়ে যায় সড়কে যান চলাচল

জাহাঙ্গীরকে বর্জনের ঘোষণা

বিগত বিক্ষোভ সমাবেশে সরাসরি কোনো সমালোচনা না করলেও রোববার মেয়র জাহাঙ্গীরের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানসহ এক ডজন নেতা।

২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন ও পুরস্কারপ্রাপ্তি উপলক্ষে গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগ জনসভা করবে। ওই জনসভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র জাহাঙ্গীরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ওই জনসভায় মেয়র বিরোধীরা ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। আর এ জন্যই রোববার সন্ধ্যায় টঙ্গী থানা আওয়মীলীগের দলীয় কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই মেয়রের সমালোচনায় সরব হন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মেয়র জাহাঙ্গীরের পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেন তারা।

সভায় মহানগর তাঁতীলীগের সভাপতি শাহ আলম জাহাঙ্গীরের কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘গাজীপুরের শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারকে নিয়ে সমালোচনা করে মেয়র জাহাঙ্গীর লাই পেয়েছে। লাই পাওয়ার কারণে সে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সমালোচনা করার সাহস পেয়েছে। তার জিহ্বা লম্বা হয়ে গেছে, সেই জিহ্বা এখনই কেটে দিতে হবে। জামাত-বিএনপির সঙ্গে গোপন বৈঠক করতে করতে তার অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে বিপক্ষে বলে ফেলে।’

টঙ্গী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি কাজী মঞ্জুর বলেন, ‘ব্যক্তি জাহাঙ্গীর বা মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আমাদের কোন আক্রোশ নেই। আমরা সবাই মুজিব আদর্শের সন্তান। জাহাঙ্গীর আলম বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ন্যাক্করজনক যে বক্তব্য দিয়েছেন তার জন্য অবশ্যই তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। নয়তো টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ সহিংস কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

৫৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক সেলিম হোসেন মেয়র জাহাঙ্গীরকে নাবালক উল্লেখ করে বলেন, ‘নাবালক একটি ছেলে এসে মাত্র সোয়া তিন বছরে বঙ্গবন্ধুর নৌকাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। সেই নৌকাটি সংস্কার করবে আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আমরা যেন সবাই মিলে একটি নৌকায় উঠে আমাদের গন্তব্যে যেতে পারি।’

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটুক্তির কারণে মেয়র জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার ও মেয়র পদ থেকে পদত্যাগেরও দাবি জানান সেলিম।

সভায় মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘মেয়র জাহাঙ্গীর শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি কটুক্তি করেননি, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি, চেতনার প্রতি সে কটুক্তি করেছেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে ৬৪টি জেলায় ৪৫ হাজার করে লোক মারা গেছে। অত্যন্ত সুচতুরভাবে তিনি এই গাণিতিক হিসেবটি দিয়েছেন। ৩০ লক্ষ শহীদকে তিনি কটাক্ষ করেছেন। এই হিসেবটি তার একটি প্রমাণ। খালেদা জিয়া বলেছেন, ত্রিশ লক্ষ লোক মারা যায় নাই, আর সে একটা গাণিতিক হিসেব দিয়ে দেখিয়ে দিল ২৮ লক্ষ ৮০ হাজার লোক মারা গেছে। সুতরাং এটা স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের আওয়াজের প্রতিধ্বনি।’

আজমত বলেন, ‘ইতোমধ্যে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে আমি স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রতি কটাক্ষ যিনি করবেন তার সাথে রাজনৈতিক কোন সম্পর্ক তো নয়ই, কোন সামাজিক সম্পর্কও রাখা যাবেনা।’

তিনি জানান, গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি দেশের বাইরে অবস্থান করেও তার নির্বাচনী এলাকায় একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকার নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে দিয়েছেন, জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সামাজিক এবং রাজনৈতিক সকল ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তার কোন মিছিল মিটিংয়ে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যাবেনা।

আজমত বলেন, ‘আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যে কথা বিএনপি জামাত বলতে পারে নাই, এই ধরণের বক্তব্য জাহাঙ্গীর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার পর এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।’

আজমত উল্লাহ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আমাদের মনে যে দুঃখ, সেই দুঃখের বহিঃপ্রকাশ একদিন করে, দুইদিন করে বন্ধ রাখলে চলবে না। এটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।’

২৮ তারিখের জনসভায় তাই গণজোয়ার সৃষ্টির আহবান জানান তিনি।

প্রস্তুতি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, সহ-সভাপতি ওসমান আলী খান, কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন, টঙ্গী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুল হক, অধ্যক্ষ জাহিদ আল মামুন, ৫১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য আব্দুল আলিম মোল্লা, শ্রমিক নেতা মতিউর রহমান বিকম, ৪৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু, কৃষকলীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন হেলাল, ৫৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লা, ৫০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী আবু বক্কর সিদ্দিক, মহানগর যুবলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন মোল্লাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন:
‘রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াকে কবর দিতে কেউ দেখেনি’
খালেদার দুই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৫ সেপ্টেম্বর
১৫ ও ২১ আগস্টের মূল কুশীলব জিয়া পিতা-পুত্র: বিচারপতি মানিক
খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ২০ অক্টোবর
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার শুনানি ফের পেছাল

শেয়ার করুন

বিএনপি খালি কলসি, বাজে বেশি: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি খালি কলসি, বাজে বেশি: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘খালি কলসি যেমন বেশি বাজে, বিএনপিও ঠিক সে রকম। কয়েক দিন মির্জা ফখরুল বাজেন, বিরতি দিয়ে রিজভী সাহেব, আবার কয়েক দিন গয়েশ্বর বাবু তালে-বেতালে বাজেন। তাদের নিয়ে জনগণের মাঝে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের বাগাড়ম্বর শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।’

রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে খালি কলসি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ। কথিত ঐক্য করে পরের নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপির ফের ভরাডুবি হবে বলে তিনি মনে করেন।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রোববার আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, ‘নির্বাচনের বেশি দিন বাকি নেই। সেই নির্বাচনে আমরা পুরো সাংগঠনিক শক্তিতে অংশ নিলে ২০১৮ সালের মতোই বিজয় হবে। সে সময় ডান, বাম, অতি বাম সবাইকে নিয়ে বিএনপি যে ঐক্য করেছিল, তাদের সেই ঐক্যের শক্তি হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। আবারও তাদের ভরাডুবি হবে।

‘খালি কলসি যেমন বেশি বাজে, বিএনপিও ঠিক সে রকম। কয়েক দিন মির্জা ফখরুল বাজেন, বিরতি দিয়ে রিজভী সাহেব, আবার কয়েক দিন গয়েশ্বর বাবু তালে-বেতালে বাজেন। তাদের নিয়ে জনগণের মাঝে হাস্যরস তৈরি হয়েছে। তাদের প্রতিদিনের বাগাড়ম্বর শুনতে শুনতে জনগণের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যাদের নিয়ে ঐক্য করে, তাদের মধ্যেই প্রচণ্ড অনৈক্য। কয়েক দিন ধরে বিএনপি বলছে, সর্বশক্তি নিয়োগ করে সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তারা শুধু কাগুজে ঐক্য করতে পারে, যা এর আগে হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল। আবারও তারা ‘ঐক্য প্রক্রিয়া’ নামে কিছু একটা শুরু করেছে।

‘বিশ্বনেতারা এখন শেখ হাসিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। জাতিসংঘ পুরস্কৃত করেছে প্রধানমন্ত্রীকে। শুধু বিএনপি নেতারাই ভিন্ন কথা বলছেন। তারা শুনেও শোনেন না, বুঝেও বোঝেন না।’

রোববার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাছান মাহ্‌মুদ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল মোনাফ সিকদারের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার।

বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা জহির আহমদ চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, পৌর মেয়র শাহজাহান সিকদার, আবুল কাশেম চিশতিসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াকে কবর দিতে কেউ দেখেনি’
খালেদার দুই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৫ সেপ্টেম্বর
১৫ ও ২১ আগস্টের মূল কুশীলব জিয়া পিতা-পুত্র: বিচারপতি মানিক
খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ২০ অক্টোবর
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার শুনানি ফের পেছাল

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারপ্রধান সফল হননি অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এমনকি রোহিঙ্গাদের যে সমস্যা, সে সমস্যারও কোনো সমাধান তিনি নিয়ে আসতে পারেননি। আমরা যেটা মনে করি, এখানে সবচেয়ে বড় যে প্রবলেম দাঁড়িয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বলুন বা সরকার বলুন, তারা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি।’

রোহিঙ্গা সংকটকে জিইয়ে রেখে সরকার পশ্চিমা বিশ্বের সহানুভূতি আদায় করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে রোববার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নবগঠিত আংশিক কমিটির নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সরকারপ্রধান সফল হননি অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘এমনকি রোহিঙ্গাদের যে সমস্যা, সে সমস্যারও কোনো সমাধান তিনি নিয়ে আসতে পারেননি। আমরা যেটা মনে করি, এখানে সবচেয়ে বড় যে প্রবলেম দাঁড়িয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী বলুন বা সরকার বলুন, তারা কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি।

‘এটা জিইয়ে রেখে পশ্চিমাদের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে। যারা স্টেকহোল্ডার আছেন, যেমন: স্পেন, ভারত, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত যেতে পারেনি। এই সমস্যা সমাধানের কোনো পথ তারা বের করতে পারেনি।’

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ শুরু হয়। মিয়ানমার সেনা ও দোসরদের এ নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের এ আগমনে রোহিঙ্গা সংকট নতুন মাত্রা পায়।

জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রীর অর্জন নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ফখরুল আরও বলেন, ‘অর্জন তার একটাই; আরও বেশি মিথ্যাচার কীভাবে করা যায়। আপনারা লক্ষ করবেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশে মানুষের অধিকারগুলো হরণ করা হয়েছে। দেশে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থার সাথে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

‘প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন জাতিসংঘে দেয়া তার গোটা বক্তব্যের কোথাও তিনি তা উল্লেখ করেন নাই।’

রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি চায় সরকার: ফখরুল
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দলের নেতাদের সঙ্গে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মিথ্যাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় যেসব লেখালেখি হয়েছে তা খণ্ডানোর জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে তিনি অনেকগুলো নেতিবাচক কথা বলেছেন। আমরা তার এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

‘পাশাপাশি আমরা আশা করি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনি সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন, যাতে সত্যিকার অর্থে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হতে পারে।’

বক্তব্য দেয়ার সময় ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াকে কবর দিতে কেউ দেখেনি’
খালেদার দুই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৫ সেপ্টেম্বর
১৫ ও ২১ আগস্টের মূল কুশীলব জিয়া পিতা-পুত্র: বিচারপতি মানিক
খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ২০ অক্টোবর
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার শুনানি ফের পেছাল

শেয়ার করুন

শুধু স্লোগান নয়, অনলাইনে সোচ্চার হোন

শুধু স্লোগান নয়, অনলাইনে সোচ্চার হোন

রাজধানীর আইডিইবি ভবনে রোববার বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ছবি: নিউজবাংলা

নওফেল বলেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মীকে অনলাইনে সোচ্চার হতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে সোচ্চার হতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

রাজধানীর আইডিইবি ভবনে রোববার বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

নওফেল বলেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ আওয়ামী লীগের সব নেতা-কর্মীকে অনলাইনে সোচ্চার হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটে অবশ্যই আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করব। তবে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে যখন প্রয়োজন হবে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক কর্মীরা দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’

বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান তুলে ধরে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন এক নম্বর হয়েছে। এটি শেখ হাসিনার অবদান। তাকে পুরস্কৃত করল জাতিসংঘ। অথচ একটি গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর কন্যার বিরুদ্ধে উদ্ভট কথা বলছে। এদের বিরুদ্ধে কথা না বলে শুধু স্লোগান দিয়ে লাভ নেই।’

নওফেল বলেন, ‘আফগানিস্তানে যখন তালেবান ক্ষমতায় আসল বাংলাদেশের একটি গোষ্ঠী আগেরবার সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে যায়, এদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে দেশে খুন করার পরিকল্পনা শুরু করে তারা।’

খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আহসান উল্লাহ মাস্টার সাহেবসহ অনেকেই তাদের হাতে খুন হয়েছেন। এ কারণে নেতা-কর্মীদের এসব বিষয়ে আরও সোচ্চার হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ফাল্গুনী হামিদসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
‘রাঙ্গুনিয়ায় জিয়াকে কবর দিতে কেউ দেখেনি’
খালেদার দুই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি ৫ সেপ্টেম্বর
১৫ ও ২১ আগস্টের মূল কুশীলব জিয়া পিতা-পুত্র: বিচারপতি মানিক
খালেদা জিয়ার ১১ মামলার শুনানি ২০ অক্টোবর
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার শুনানি ফের পেছাল

শেয়ার করুন