× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জাতীয়
পায়রায় দখল করে প্রতিরোধের মুখে হাজী সেলিম
google_news print-icon

পায়রায় দখল করে প্রতিরোধের মুখে হাজী সেলিম

পায়রায়-দখল-করে-প্রতিরোধের-মুখে-হাজী-সেলিম
পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের কাছে ভুয়া দলিলে হাজী সেলিমের দখল করা পৌনে পাঁচ একর জমি। ছবি: নিউজবাংলা
পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের সংযোগ সড়কের পাশে ১৩ পরিবারের পাঁচ একর জমি ২০১৬ সালে দখলে নেন হাজী সেলিম। সেখানে একটি পেট্রল পাম্প বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঢাকায় পুত্র ইরফান সেলিম গ্রেপ্তারের পর এবার রুখে দাঁড়িয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পাঁচ বছর ধরে হুমকি ধামকি দেয়া লোকদের হটিয়ে সেই জমি চাষের উপযোগী করা হয়েছে।

অন্যের জমি দখলে নাম আসা ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম এবার পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের কাছে ভুয়া দলিলে পৌনে পাঁচ একর জমি দখল করার পর প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করছেন, সংসদ সদস্য তার মদিনা গ্রুপের নামে ওই জমি দখল করেছেন। পায়রা বন্দরের দিকে যাওয়া চার লেন রাস্তার পাশে পেট্রল পাম্প বসানোর চেষ্টা করেছেন।

অভিযোগ উঠেছে, জমি দখলের পর মালিকদের মারধরের হুমকি দেয়া হয়েছে। তাদের বাড়িতে ডাকাত দল হানা দিয়েছে। এভাবে তাদেরকে এলাকা ছাড়া করতে বাধ্য করা হয়েছে।

পাঁচ বছর জমি উদ্ধারে দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ফল পাননি। তবে গত অক্টোবরে ঢাকায় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের মামলায় পুত্র ইরফান সেলিম কারাগারে যাওয়া পর হাজী সেলিমের দখল করা বহু জমি উদ্ধার করেছে প্রশাসন। এই ঘটনার পর সাহসী হয়ে ভুক্তভোগীরা একজোট হয়েছেন। দখলদারদের হটিয়ে দিয়েছেন। রাত জেগে পাহারাও দিচ্ছেন।

পায়রায় দখল করে প্রতিরোধের মুখে হাজী সেলিম
হাজী সেলিমের লোকদের করা বাঁধ কেটে দিয়ে জমি আবার চাষের উপযোগী করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

হাজী সেলিমের লোকদের করা বাঁধ কেটে দিয়ে জমিটি আবার চাষের উপযোগী করা হচ্ছে।

হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে পুরান ঢাকাতেও একই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি দখলের অভিযোগ আছে। সব ক্ষেত্রেই তিনি জমি বা স্থাপনা কেনার দলিল হাজির করেন। এরপর তার লোকজন গিয়ে শক্তি দেখিয়ে সব দখল করে।

হাজী সেলিমের দখলে আছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কালের তিব্বত হল, এমনকি রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংক অগ্রণীর শত কোটি টাকা মূল্যের জমি। যেটি ইরফান সেলিমকে গ্রেপ্তারের পর উদ্ধার করে র‌্যাব বুঝিয়ে দিয়েছিল ব্যাংককে। সেই জমি থেকে আবার ব্যাংককে হটিয়ে দিয়েছেন তিনি।

ঢাকা ছাড়িয়ে নারায়ণঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকাতেও বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি দখল করেছিলেন হাজী সেলিম। তবে সেখান থেকে তাকে উচ্ছেদ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ফতুল্লার পিলকুনি এলাকায় সাখাওয়াত হোসেন নামে এক বৃদ্ধের জমিও দখলের চেষ্টা করেছিলেন হাজী সেলিম। তাকে চার বছর ধরে পানিবন্দি করে রাখার পর সম্প্রতি ভূমি অফিস থেকে সাখাওয়াতের পক্ষে রায় দেয়া হয়েছে।

পুরান ঢাকায় বধির স্কুলকে বরাদ্দ দেয়া জমিতে হাজী সেলিমের গড়ে তোলা পেট্রল পাম্পের একাংশও উদ্ধার করেছে প্রশাসন।

পায়রাতে যা ঘটেছে

দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রবেশমুখের কিছু আগে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের রাজপাড়া গ্রামের ঘটনা এটি।

ভুক্তভোগীদের এক জন চার সন্তানের জনক ইউসুফ মিনা। বয়স তার ৬৭।

পায়রায় দখল করে প্রতিরোধের মুখে হাজী সেলিম
হাজী সেলিমের জমি দখলের ভুক্তভোগী ইউসুফ মিনা। ছবি: নিউজবাংলা

আশির দশকে গ্রামের হাশেম মৃধার কাছ থেকে দুই একর জায়গা কেনেন তিনি ও তার ভাইয়ের ছেলে ইউনুস মিনা। বছর দুই আগে বিএস জরিপও তাদের নামে রেকর্ড রয়েছে।

তাদের বাড়ির পূর্বপাশে কেনা ওই জমির সঙ্গে আরও এক একর জমি ৯০ এর দশকের আগে তার আরেক সন্তান আল মামুন এবং ভাইয়ের ছেলে ইউনুস, আনোয়ার, শহিদুল, মান্নান ও দেলোয়ারের নামে কেনেন।

পাশের দুই একর জমিও সে সময় কেনা হয় আহসান পাভেল, ইসমাইল গাজী, মোজাম্মেল ও কামরুল ইসলামের নামে। এরা ইউসুফ মিনার নিকটাত্মীয়।

ওই পাঁচ একর জমি পায়রা বন্দরের সংযোগের জন্য তৈরি করা চার লেন রাস্তার পাশে। স্থানীয় কয়েক জন ওই জমি বিক্রি করতে মালিকদের নানা ভাবে প্রস্তাব দিতে থাকে। কিন্তু রাজি হননি মালিকরা।

ইউসুফ মিনা জানান, ২০১৬ সালের মে মাসে আচমকা মদিনা গ্রুপের লোকজন এসে দলিল দেখান। তারা নাকি দুই একর জমি বিক্রি করেছেন।

এরপর থেকে ভুক্তভোগীরা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদে ধরনা দিতে থাকেন জমি উদ্ধারের জন্য। কিন্তু লাভ হয়নি। পরে আদালতে যান তারা।

এতে কাজ তো হয়ইনি, উল্টো দুই বছরের মাথায় পাঁচ একর জমির পুরোটাই দখল করে নেয় হাজী সেলিমের লোকজন।

ইউসুফ মিনার স্ত্রী কহিনুর বেগম জানান, ২০১৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে মুখোশধারী ডাকাত দল তাদের ঘরে ঢুকে টাকা, স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। সেই থেকে তাদের সন্তানরা ওই এলাকা ছেড়ে কলাপাড়া উপজেলা শহরে আশ্রয় নেন। সেখানেই দোকান দিয়েছেন।

ইউসুফ মিনার ছেলে আবুল কালাম বলেন, ‘শহরে গিয়াও শান্তিতে থাকতে পারি নাই। পিরায় (প্রায়) দোহানে যাইয়া হুমকি দেয়। গত বছর বাবারে মসজিদে মাগরিবের নামাজ পরতে যাওয়ার সময় মারছে। ডরে কেউ মুখ খুলে নাই।’

পায়রায় দখল করে প্রতিরোধের মুখে হাজী সেলিম
গ্রেপ্তারের পর হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

ইউসুফ মিনার ছেলে আল মামুন কাজ করেন স্থানীয় একটি সরকারি অফিসে। বলেন, ‘হাজী সেলিমের ছেলেকে গ্রেপ্তারের খবরে আমরা ভুক্তভোগী ১৩টি পরিবারের সদস্যরা এক হয়ে জমি উদ্ধারের চেষ্টা করছি।’

আনোয়ার মিনা বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ হইছি। জোর কইরা ডর দেহাইয়া মোগো জমি দহলে নিয়া এলাকা ছাড়া করেছে হাজী সেলিম। এবার মোরা আর ছাড়মু না। মোরা এহন দিন রাইত পাহারা দিই মুগো জমি।’

পায়রায় দখল করে প্রতিরোধের মুখে হাজী সেলিম
পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের কাছে ভুয়া দলিলে হাজী সেলিমের দখল করা পৌনে পাঁচ একর জমি। ছবি: নিউজবাংলা

ভূক্তভোগীদের এক জন সৈয়দ আহসান পাভেল সংবাদকর্মী। জানান, ভুয়া কাগজ আর লোক দেখিয়ে তাদের এক একর ৪৩ শতাংশ জমি দখল করা হয়েছে। ওই জমিতে মদিনা ফিলিং সার্ভিস সেন্টার নির্মাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ওই সম্পত্তি আমরা পুনরুদ্ধার করে ফসল উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করছি। জমিতে মদিনা গ্রুপের দেয়া রিংবাধও আমরা কেটে ফেলেছি। ঘণ্টায় আড়াই হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে এক্সক্যাভেটর এনে জমি সমান করার চেষ্টা করছি।’

হাজী সেলিমের ‘ডান হাত’ শিমু চেয়ারম্যান

স্থানীয়দের অভিযোগ, পায়রা বন্দর নির্মাণ কাজ শুরু থেকেই হাজী সেলিম ওই এলাকায় দখল নেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। বন্দরের পাশের টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান শিমু মীরকে পক্ষে টানেন তিনি।

শিমু চেয়ারম্যানের লোকদের মাধ্যমেই পায়রা বন্দর ও আশপাশের এলাকায় দখল চলে।

ওই ১৩ পরিবারের পাঁচ একর জমি দখল করে হাজী সেলিমকে বুঝিয়ে দেয়ার অভিযোগ এই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধেই।

পায়রায় দখল করে প্রতিরোধের মুখে হাজী সেলিম
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান শিমু মীর। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ইউসুফ মিনার ঘরে যে ডাকাতি হয় তাতে শিমু চেয়ারম্যানের লোকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করছেন ভুক্তভোগীরা।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শিমু মীর বলেছেন, ‘হাজী সেলিম আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি। তিনি ঢাকায় থাকেন, এখানে তার ব্যবসা রয়েছে। আমি জাস্ট স্থানীয় চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে যতটুকু সহায়তা করার ততটুকুই করছি। কিন্তু তাও আগে, এখন না।’

গত ২৯ নভেম্বর বিকেলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ আছে শিমু মীর ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতে মামলা করার পর রাতেই শিমু মীরকে তার স্ত্রী ও তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে তার বিরুদ্ধে উঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মদিনা গ্রুপের বক্তব্য

মদিনা গ্রুপের ডিজিএম (ল্যান্ড) নুরুল হামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এটি এখন ডেড ইস্যু। বিষয়টি নিয়ে আদালতে দুটি মামলা চলমান। এখন আদালত সিদ্ধান্ত দেবে জমি কার। আমরা ইউসুফ মিনার ছেলে ইসমাইলের কাছ থেকে জমি কিনেছি। আমাদের কাগজপত্র আছে। এখন ওনারা (ইউসুফ) বলছে ওই জমি তাদের।’

দখলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই আমরা ঢাকা থেকে টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। ওখানে দখল করতে কেন যাব? বিষয়টি কলাপাড়া উপজেলার অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন দেখভাল করছেন। এ বিষয়ে আরও কিছু জানার থাকলে তার কাছ থেকে জেনে নিন।’

তবে কলাপাড়ায় নাসিরউদ্দিন নামে কোনো আইনজীবী আছেন কি না তা জানা যায়নি বহু চেষ্টা করেও।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জাতীয়
12 thousand 633 crores of bribe transactions in one year during Yunus period
টিআইবির খানা জরিপ

ইউনূস আমলে এক বছরে ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা

ইউনূস আমলে এক বছরে ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা ছবি: সংগৃহীত

মুহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের (২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) এক বছরে বিভিন্ন সেবা খাতে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

টিআইবি বলছে, জরিপটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের দুর্নীতির চিত্রের বিশ্লেষণ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক এক জরিপের ফলাফলে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নমুনাকাঠামো ব্যবহার করে দেশের আটটি বিভাগের গ্রাম ও শহরাঞ্চল থেকে দুই ধাপে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১ হাজার ১৪৯টি এলাকা নির্বাচন করে এই জরিপ করেছে টিআইবি। জরিপে সুনির্দিষ্ট ১৮টি সেবা খাতের চিত্র উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৩ সালে এই জরিপ করেছিল টিআইবি।

বর্তমান জরিপের ফলাফল বলছে, ২০২৩ সালের মতো ২০২৫ সালেও পাসপোর্ট (৭৬.৬ শতাংশ) ও বিআরটিএ (৬৩.৫) থেকে সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এরপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি ও বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা। এসব খাতে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণও সবচেয়ে বেশি।

তবে সার্বিকভাবে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। গত বছরে খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ৫ হাজার ১২৪ টাকা।

জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় ঘুষ ও দুর্নীতির উচ্চহার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা হয়ে আছে। পাশাপাশি কৃষি, স্থানীয় সরকার, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট ও বিআরটিএ খাতেও দুর্নীতির প্রবণতা বেড়েছে বা আগের মতোই রয়ে গেছে।

দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। তাদের মতে, পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিগ্রস্ত। আবার প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই দুর্নীতির অভিযোগ কোথায় ও কীভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই।

দুদক সম্পর্কে ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) সম্পর্কে মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার জানলেও অভিযোগ করার হার খুবই কম। অভিযোগ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয়নি বা কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, দুর্নীতির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বিচারহীনতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির বদলে সুবিধা পাওয়া।

জরিপে আরও দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের পরিবারগুলো শহরের তুলনায় বেশি ঘুষের শিকার হয় (৬৬ শতাংশ বনাম ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ)। তবে ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলোকে বেশি টাকা দিতে হয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়।

টিআইবির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ‘নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী’ ব্যক্তিদের জন্য এ পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা চালু হলেও তা দুর্নীতি কমাতে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের এখনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, ফলে ঘুষ ও দুর্নীতির সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।

মন্তব্য

জাতীয়
India launched tourist visa for Bangladeshis

বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা চালু করল ভারত

বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা চালু করল ভারত ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন বা ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে এই ক্যাটাগরির ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক) পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা—এই পাঁচটি প্রধান শহরের ভিসা কেন্দ্রগুলো থেকে পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ করা শুরু হবে। তবে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরের ভিসা সেন্টারগুলোতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হবে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত প্রায় দুই বছর ধরে সাধারণ ভ্রমণ বা ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান স্থগিত রেখেছিল ভারত। হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এই ঘোষণা দিতে পেরে তিনি বিশেষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মেডিকেল ভিসা প্রসঙ্গে দিনেশ ত্রিবেদী উল্লেখ করেন যে, এই ক্যাটাগরির ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া আগে থেকেই চালু রয়েছে এবং এর পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হবে। বিশেষ করে মানবিক বিবেচনায় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দীর্ঘ বিরতির পর সাধারণ ভিসা চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা মিশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন দিনেশ ত্রিবেদী। দায়িত্ব শুরুর প্রথম দিনেই ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে ভিসা সেন্টার পরিদর্শন করে সাধারণ আবেদনকারীদের কথা শুনবেন এবং সেবার মান উন্নয়নে গণমাধ্যমকর্মীদের সুচিন্তিত পরামর্শ গ্রহণ করবেন। ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মন্তব্য

জাতীয়
Presenting identity card of Indian High Commissioner Dinesh Trivedi to the President

রাষ্ট্রপতির কাছে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর পরিচয়পত্র পেশ

রাষ্ট্রপতির কাছে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর পরিচয়পত্র পেশ ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। সাবেক এই রেলমন্ত্রীকে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের জন্য ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় নয়াদিল্লি। গত ১২ জুন তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছান এবং দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

এদিকে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দীনেশ ত্রিবেদীকে একটি বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করেছে ভারত সরকার। গত ২৪ জুন জারি করা এক সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে দায়িত্বরত থাকাকালীন তাঁকে ভারতের কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। মূলত আনুষ্ঠানিক প্রটোকলের ক্ষেত্রে এবং রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার তালিকায় (টেবিল অব প্রিসিডেন্স) তিনি এই উচ্চমর্যাদা ভোগ করবেন।

তবে স্মারকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মর্যাদা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এটি দীনেশ ত্রিবেদীর ব্যক্তিগত সম্মাননা হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে ভারতের স্থায়ী প্রটোকল তালিকায় বা ‘টেবিল অব প্রিসিডেন্স’-এর মৌলিক কাঠামোতে কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। কূটনৈতিক মহলে দীনেশ ত্রিবেদীর এই বর্ধিত মর্যাদা দুই দেশের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য

জাতীয়
Passengers were rescued by breaking the emergency door due to mechanical failure in the US Bangla flight

ইউএস-বাংলা উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি, জরুরি দরজা ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার

ইউএস-বাংলা উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি, জরুরি দরজা ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে উড্ডয়নের প্রাক্কালে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পরে জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানের দরজা ভেঙে উড়োজাহাজটিতে থাকা ৭০ জন যাত্রীকে নিরাপদ স্থানে বের করে আনা হয়।

জানা গেছে, ফ্লাইটটি রানওয়ের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় হঠাৎ ককপিটের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় ‘ফায়ার অ্যালার্ম’ বা অগ্নি-সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। বিপদ টের পেয়ে অভিজ্ঞ পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে উড়োজাহাজটি থামিয়ে দেন এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে বিষয়টি অবহিত করেন। ইঞ্জিনে ত্রুটির খবর ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হয় এবং তারা দ্রুত বিমান থেকে নামার চেষ্টা করেন। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তড়িৎ পদক্ষেপে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সকলকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উড্ডয়নের আগেই যান্ত্রিক গোলযোগ শনাক্ত হওয়ায় একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। উড্ডয়ন বাতিল করে কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পর এবং সকল নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পর সকাল ৮টার দিকে ফ্লাইটটি পুনরায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।

বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ইঞ্জিনের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমনটি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং বিমানবন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। সময়োচিত এই পদক্ষেপের কারণে যাত্রীদের জীবন রক্ষা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মন্তব্য

জাতীয়
Separate tribunals proposed to decongest drug cases Home Minister

মাদক মামলার জট কমাতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদক মামলার জট কমাতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আত্মরক্ষায় অস্ত্র প্রদানের পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, যাদের একটি বড় অংশ সিনথেটিক ও সেমি সিনথেটিক মাদকের শিকার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, বর্তমান মাদকচক্রগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। তাঁর ভাষায়, “পরিস্থিতি অনেকটা ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারে’র মতো।” এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে সরকার মাদক আইন সংশোধনের কাজ শুরু করেছে এবং চলতি সংসদ অধিবেশনেই সংশোধিত আইনটি উত্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

মামলা জট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাতেও প্রচুর মামলা ঝুলে আছে। প্রথাগত আদালত ব্যবস্থায় এই বিশাল সংখ্যক মামলার বিচার সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ। তাই বিচার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে ‘স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি প্রচলিত আদালতেও মাদকের বিচার কাজ যথারীতি অব্যাহত থাকবে।

মাদকাসক্তদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষে সরকারের গৃহীত মেগা প্রকল্পের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে এদিন ১৫টি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রকে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয় এবং মোট ৭৩টি কেন্দ্রকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

মন্তব্য

জাতীয়
Consensus on river management in the meeting of the Minister of Water Resources of China with the Prime Minister

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বৈঠকে নদী ব্যবস্থাপনায় ঐকমত্য ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং-এর এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিস্তা নদী প্রকল্পসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের কারিগরি ও গবেষণাধর্মী সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে।

বৈঠকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে চলমান নদী খনন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে বাংলাদেশের বহুল আলোচিত তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীন সরকারের সক্রিয় কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন। এছাড়া নদীভাঙন রোধ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশনের উন্নয়নে চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রত্যুত্তরে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি ২০০৫ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং গত বছর চীনা পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বর্তমান সহযোগিতা অত্যন্ত বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর। মন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন যে, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের সফল অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগিয়ে প্রভূত উন্নতি করতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্যও আমন্ত্রণ জানান।

অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকের শেষে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি বিশেষ বই উপহার দেন। এই উচ্চপর্যায়ের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠকের ফলে বাংলাদেশের পানিসম্পদ উন্নয়নে চীনের সাথে সহযোগিতার এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো।

মন্তব্য

জাতীয়
Courtesy meeting of the Minister of International Department of CPC with the Prime Minister

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রভাবশালী মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক পর্যায়ের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের প্রারম্ভে লিউ হাইশিং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নয়বার চীন সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি সগৌরবে জানান যে, ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক চীন সফরের দুর্লভ স্থিরচিত্র তাঁর সম্মানে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জাদুঘরে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। মন্ত্রী বিএনপি ও সিপিসি-র মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের গুরুত্ব উল্লেখ করে ভবিষ্যতে গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

লিউ হাইশিং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, চীন সর্বদা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের দৃঢ় সমর্থক। তিনি পারস্পরিক সম্মান ও গভীর বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেন। প্রত্যুত্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চলমান বিভিন্ন মেগা প্রকল্প এবং বিশেষ করে চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণে চীনের সক্রিয় কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের যে বন্ধুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য রয়েছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও বিকশিত হবে।

চীনের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন ভাবনার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন যে, তারেক রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবন লাভ করবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিনসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। চীনের পক্ষ থেকেও সিপিসি-র আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মন্তব্য

p
উপরে