20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
ধর্ষণ: পাঁচ দিনের বিচারে যাবজ্জীবন

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া আব্দুল মান্নান সরদার

ধর্ষণ: পাঁচ দিনের বিচারে যাবজ্জীবন

আসামির আইনজীবীর অভিযোগ, বিচারক তাকে বলেছেন, তিনি দ্রুত রায় দিতে চান। তাগিদের কারণে তিনি শুনানির যথাযথ সুযোগ পাননি। 

বাগেরহাটের মোংলায় শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বিচার শুরুর পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এলো এই রায়।

বাগেরহাটের নারী ও শিশু ট্রাইব্যনাল-২ এর বিচারক নূরে আলম এই রায় দেন।

দণ্ডিত ব্যক্তি হলেন মোংলা উপজেলার মাকোড়ডোন গ্রামের আব্দুল মান্নান সরদার। ৫০ বছর বয়সী আসামি এলাকার একটি ভূমিহীন আশ্রয় প্রকল্পের বাসিন্দা। আদালত তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, বিচার দ্রুত সম্পাদনের তাগিদের কারণে তিনি শুনানির যথাযথ সুযোগ পাননি।

আরও পড়ুন: ৪ শিশুকে হেনস্তার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেফতার

মোংলা উপজেলায় সাত বছর বয়সী ওই শিশুকে ধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠন হয় ১২ অক্টোবর সোমবার। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতন নিয়ে তখন রাজধানীসহ দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছিল। পরদিন ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার থেকে শুনানি শুরু হয়।

ধর্ষণের অভিযোগে ৩ অক্টোবর মামলা করেন ওই শিশুর মামা। এজাহারে বলা হয়েছে, বিস্কুট দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান সরদার। এরপরই মান্নানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বেঞ্চ সহকারী গোপাল চন্দ্র পাল বলেন, ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার বাদীপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়া হয়। পরদিন ১৪ অক্টোবর বুধবার সাক্ষ্য দেন চিকিৎসক, বিচারিক হাকিম, নারী পুলিশ সদস্য এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনে সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়।

১৬ ও ১৭ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার হওয়ায় ১৮ অক্টোবর রোবরার চতুর্থ কার্যদিবসের শুনানি শুরু হয়। এদিন দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা বাদী বিবাদী পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনেন বচিারক। এরপর সোমবার তিনি রায়ের দিন ঠিক করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সহকারি কৌঁসুলি (এপিপি) রনজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সুষ্পষ্ট বলা আছে, কোনো ধর্ষণের ঘটনার অভিযুক্ত সঙ্গে সঙ্গে আইন প্রয়োগকারি সংস্থার হাতে ধরা পড়লে সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করা যাবে। এই শিশু ধর্ষণের মামলাটি তারই প্রমাণ।

রনজিৎ কুমার মন্ডল বলনে, মামলাটি পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেছে। ঘটনার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার, ধর্ষণের শিকার শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা, সাক্ষী হাজির ও অভিযোগপত্র দাখিল দ্রুত করেছে পুলিশ। শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কারণে ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিচারকাজ শেষ করতে সময়ক্ষেপন হয়নি।

আরও পড়ুন: কেবল সাজা বৃদ্ধি নয়, দ্রুত নিষ্পত্তিতেও জোর: আইনমন্ত্রী

আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফৌজদারি মামলায় এতো কম সময়ে বিচার কাজ শেষ করার নজির বাংলাদেশে এই প্রথম।

দরিদ্র আসামির নিজের জন্য আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য না থাকায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন লিগ্যাল এইডের আইনজীবী লিয়াকত আলী মোল্লা। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, আইনজীবী হিসেবে তিনি বিচারের এ প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি। সময়ের স্বল্পতার কারণে তিনি অনেক তথ্য আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি। সাক্ষীদের ভালোভাবে জেরাও করতে পারেননি। তিনি বলেন, বিচারক আদালতে তাকে বলেছেন, তিনি বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। এ কারণে তিনি সময় চেয়ে আদালতের কাছে কোনো আবেদন করা থেকে বিরত থেকেছেন।

তিনি বলেন, উচ্চ আদালত এক রায়ে বলেছে ‘জাস্টিস হারিড ইজ জাস্টিস ব্যারিড (বিচার প্রদানে তাড়াহুড়া করা হলে ন্যায়বিচারের কবর রচিত হয়)।’

নারী উন্নয়ন ফোরামের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক সমন্বয়কারি ও সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উন্নয়নকর্মী রিজিয়া পারভীন বলেন, এই রায়ের মধ্যে দিয়ে বিচার কার্যের যে দীর্ঘসূত্রতা ছিল বা সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের বিচার না পাওয়ার যে ভ্রান্ত ধারণা ছিল, তা অনেকাংশে দূর হবে। দেশের সকল আইন প্রয়োগকারি সংস্থা ধর্ষণের মামলাগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলে মনে করেন এই নারী নেত্রী।

শেয়ার করুন

মন্তব্য