লক্ষ্যচ্যুত পরিষদকে বাঁচাতে চাই: সুহেল

সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের নতুন কমিটির আহ্বায়ক এ পি এম সুহেল। ছবি: সাইফুল ইসলাম

লক্ষ্যচ্যুত পরিষদকে বাঁচাতে চাই: সুহেল

‘নুরদের অসাংগঠনিক মনোভাবের বিরুদ্ধে কথা বললে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বাম, গোয়েন্দাদের এজেন্টসহ অন্যান্য ট্যাগ দেয়া হয়। মানসিক রোগী বানিয়ে দেয়ার পাশাপাশি সাময়িক অব্যাহতির নামে হেনস্থা করাসহ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয় এরা। এমনকি মিডিয়াকেও তারা কীভাবে থ্রেট দিয়েছে দেখেছেন আপনারা।’

‘সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ’ ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা এ পি এম সুহেল বলেছেন, সংগঠনকে নুরুল হক নুর ও রাশেদ খাঁনদের স্বেচ্ছাচার থেকে বাঁচাতে চাইছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ২২ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন সুহেল। ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন সংগঠন থেকে।

সংবাদ সম্মেলনের পর নিউজবাংলার সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন সুহেল, যিনি কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হয়ে আলোচিত হয়েছিলেন। তবে সুহেল বলেছেন, এখনই তিনি সব বলবেন না, সময় এলে সব কিছু খোলাসা করবেন।

পরিষদ ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের কারণ কী?

আমরা পরিষদ ভাঙিনি। বরঞ্চ, পরিষদের যে মূল লক্ষ্য ছিল, সেখান থেকে যারা সরে গিয়ে স্বেচ্ছাচারী মনোভাব দেখিয়ে সংগঠনে ‘যা খুশি করে আসছে’ তাদের থেকে পরিষদকে বাঁচাতে পূর্ব নামে ফিরে গিয়ে নতুন কমিটি করেছি।

পূর্ব নাম মানে কী?

২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন গড়ে উঠে। সেই প্লাটফর্মের আন্দোলনকারীদের একাংশ মিলে আমরা বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ গঠন করি। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল রাজনীতি মুক্ত সামাজিক সংগঠন হিসেবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা।

কিন্তু ২০২০ এর ১৭ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে সংগঠনের নাম সংক্ষিপ্ত করা হয়। নাম রাখা হয় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। আমরা অনেকেই যদিও এর বিরোধিতা করি।

লক্ষ্যচ্যুত পরিষদকে বাঁচাতে চাই: সুহেল
নুরুল হক নুর ও রাশেদ খাঁনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নতুন কমিটির ঘোষণা দিচ্ছেন এ পি এম সুহেল। ছবি: নিউজবাংলা

নাম পাল্টালে কী সমস্যা?

নামের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও নীতি-নৈতিকতাও পাল্টে যায়। বিশেষ করে নুর তার একক স্বেচ্ছাচারিতায় সংগঠনে যা খুশি করতেন। নিজের ইচ্ছামতো সংগঠন চালাতেন।

এতদিন প্রকাশ্যে কিছু বলেননি কেন?

সংগঠনের স্বার্থে আর শোধরানোর সুযোগ দিয়ে এতদিন আমরা চুপ ছিলাম। তবে সম্প্রতি তাদের আর্থিক অস্বচ্ছতা, তৃণমূলকে অবমূল্যায়ন, ত্যাগী ও পুরাতন নেতাদের সাময়িক বহিষ্কার করাসহ নানা ঘটনায় আমরা অবশেষে উদ্যোগী হয়েছি সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবার ভয় থাকা স্বত্ত্বেও।

নিরাপত্তা নিয়ে কী ধরনের ভয়?

নুরদের অসাংগঠনিক মনোভাবের বিরুদ্ধে কথা বললে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, বাম, গোয়েন্দাদের এজেন্টসহ অন্যান্য ট্যাগ দেয়া হয়। মানসিক রোগী বানিয়ে দেয়ার পাশাপাশি সাময়িক অব্যাহতির নামে হেনস্থা করাসহ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয় এরা। এমনকি মিডিয়াকেও তারা কীভাবে থ্রেট দিয়েছে দেখেছেন আপনারা।

মানুষ এদের অন্ধভাবে বিশ্বাস করে, আর এরা মানুষের এই বিশ্বাসকেই নোংরাভাবে ব্যবহার করে।

রাশেদ খান (সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক) বলেছেন, আপনাকে তারা বহিষ্কার করেছেন। ফলে আপনারা তাদের কেউ না।

হ্যাঁ, সেটা তারা করেছে। তবে এর কারণটা তো বলেনি। সেটা আমি বলছি।

একের পর এক অস্বচ্ছতা সামনে আসতে থাকে৷ এমনকি সংগঠনের যেসব আর্থিক লেনদেন ছিল, সেগুলোর সঠিক হিসাব কখনও দেয়নি। আমরা অনেকেই তখন প্রতিবাদ করি। তখন আমাকেসহ আরও অনেকেকেই তারা বহিষ্কার করে দেয়। এটা নিয়ে তো সংগঠনে তখন অনেক প্রতিবাদ হয়েছে।

নুর তার পাঁচ সহযোগীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ নিয়ে সংগঠনের ভেতর কি আলোচনা হয়েছে?

সংগঠনের ৮০ ভাগ সহযোদ্ধা এই বিষয়ে জানে। সমাধানের অনেক চেষ্টাও করেছে। নুর-মামুনরা তখন সমাধানকারীদের উল্টো ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করেন, সংগঠন থেকে বেরও করে দেন।

নুর তো বলছেন, এটি রাজনৈতিক মামলা…

সেটা কীভাবে? আমরা তো জানি মামুন নিজেই মেয়েটিকে আদালতে যেতে বলেছিলেন।

মেয়েটির বাবা একজ মৌলভী। মামুনের ধারণা ছিল, এই পরিবার থেকে আসা একজন এই বিষয়টি নিয়ে উচ্চবাচ্য করবে না। আর যদি করেও থাকে, তাহলে তারা একে ভিন্নখাতে নিয়ে যাবে বলে ধারণা ছিল।

এখন মামলাটিকে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চাইছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিক্টিমকে নোংরাভাবে আক্রমণ করেছে। এখানেই তো তার মনোভাব স্পষ্ট হয়েছে। নুর বলেছেন, মেয়েটি ইচ্ছা করেই সব করেছেন। তাতে নাকি তিনি দুশ্চরিত্রা হয়ে গেছেন। মানলাম। কিন্তু নুর তাহলে সেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে চলেন কেমনে? তিনি কি চরিত্রবান?

লক্ষ্যচ্যুত পরিষদকে বাঁচাতে চাই: সুহেল
হাসান আল মামুন, নাজমুল হাসান সোহাগ, নুরুল হক নুরকে গ্রেফতারের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর অনশন

আপনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, বাদীর অভিযোগ সত্য, কীভাবে এটা জানলেন?

মামুনের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সে কথা সবাই জানে। মেয়েটি খাবার এনে মামুনসহ আমাদের খাওয়াতেন।

আরও পড়ুন: মামুনের কথায় অপপ্রচার: আদালতে আইনজীবীর স্বীকার

ছাত্র অধিকার পরিষদের কাছে মেয়েটা অনেক আগে থেকে বিচার চেয়ে আসছেন। তার সব ঘটনা খুলে বলেছেন। ন্যায়বিচারের দাবি করেছেন। তখন তাকে (বাদী) বারবার আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সমাধান হয়নি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইউরোপে নতুন শ্রমবাজার, সার্বিয়ায় গেলেন ৯ কর্মী

ইউরোপে নতুন শ্রমবাজার, সার্বিয়ায় গেলেন ৯ কর্মী

ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় যাচ্ছেন বাংলাদেশের ৯ কর্মী। এবারই প্রথম দেশটিতে যাচ্ছে প্রশিক্ষিত কর্মীরা। ছবি: সংগ্রহীত

সার্বিয়ার একটি কোম্পানির চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে বৈধভাবে প্রথমবারের মতো ৯ কর্মীকে পাঠাল বাংলাদেশ। ২ বছর মেয়াদে এ চাকরিতে খাওয়া, চিকিৎসা ও বাসস্থান সুবিধা পাওয়া যাবে। শিগগিরি দেশটিতে আরও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠান হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় প্রথমবারের মতো কর্মী পাঠাল বাংলাদেশ।

দেশটির একটি কোম্পানির চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে এই প্রথম বৈধভাবে ৯ প্রশিক্ষিত কর্মী গেলেন সার্বিয়ায়।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক মো. শহীদুল আলম বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার সকালে টার্কিশ এয়ালাইনসের একটি ফ্লাইটে প্রথমবারের মতো এই কর্মীদের পাঠানো হয়

মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের ছোট্ট দেশটিতে।

শিগগিরই দেশটিতে আরও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৭টি শর্তে সার্বিয়ায় ভিসা পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেয়া হয়।

সার্বিয়ার বেডেম এনার্জি সলিউশন্স কোম্পানির জন্য ৩২ জন কর্মীর চাহিদাপত্র পায় রিক্রুটিং এজেন্সি লিংক-আপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩২ জন কর্মীর চাহিদাপত্রের বিপরীতে ভিসাপ্রাপ্ত ১৩ জন কর্মীর নিয়োগ অনুমতি দেয় মন্ত্রণালয়।

আর এর সঙ্গে স্মার্ট কার্ড ইস্যুসহ ১৭টি শর্ত জুড়ে দেয় মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে অন্যতম প্ৰধান শর্ত হচ্ছে—রিক্রুটিং এজেন্সির একজন প্রতিনিধি তাদের সঙ্গে যাবেন।

সার্বিয়ান এই কোম্পানি ট্রাক ড্রাইভার, এক্সকাভেটর ড্রাইভার, টিম লিডার, সিএনজি কম্প্রেসার মেকানিক, ট্রাক মেকানিক, ট্রাক ওয়াসার, কুক এবং ক্লিনার পদে কর্মীর চাহিদা দেয়। তাদের বেতন ৩০০ থেকে ৫৭০ ইউরো পর্যন্ত।

অন্যান্য সুবিধার মধ্যে আছে খাবার, চিকিৎসা ও বাসস্থান। যাতায়াত কোম্পানি বহন করবে। চাকরির মেয়াদ হবে ২ বছর। যা নবায়নযোগ্য। ৮ কর্মঘণ্টা কাজ করতে হবে।

এছাড়া বিমান ভাড়া যোগদানের সময় কর্মী বহন করবে এবং অন্যান্য শর্তাবলী সার্বিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য হবে।

শেয়ার করুন

বিসিএস ক্যাডার ভেবে বিয়ে, মৃত্যুতে শেষ

বিসিএস ক্যাডার ভেবে বিয়ে, মৃত্যুতে শেষ

সুসময়ের ছবি। স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে নুসরাত জাহান। ছবি: সংগৃহীত

‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করে। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। সে একটা ফ্রড।’

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টার থেকে নুসরাত জাহান নামের ২৭ বছর বয়সী এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও নুসরাতের কোনো সাড়া পাননি। পরে ওই ভবনের সভাপতি শেরেবাংলা নগর থানায় বিষয়টি জানান।

দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে আগারগাঁও থানার পুলিশ আসে। তারা বাসার দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় নুসরাতকে দেখতে পায়।

পুলিশ জানায়, নুসরাত তার স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয়ের কোয়ার্টারের একটি বাসায় সাবলেট থাকত। নুসরাত খাগড়াছড়ির সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী বলেও জানা যায়।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সি ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে নুসরাতের স্বামী পলাতক।

‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করে। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। সে একটা ফ্রড।’

ওসি আরও বলেন, মামুন ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা জানার পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

‘মামুনের প্ররোচনায় নুসরাত আত্মহত্যা করেছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা নুসরাতের আত্মীয়স্বজনদের খবর দিয়েছি।’ তার বাবা অভিযোগ করলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ওসি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নুসরাতের মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন

সৌদিগামীদের দেশে কোয়ারেন্টিন চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সৌদিগামীদের দেশে কোয়ারেন্টিন চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সোনারগাঁ হোটেলে সৌদি অ্যারাবিয়া এয়ারলাইনস অফিসের সামনে দেশটিতে গমনেচ্ছু শ্রমিকদের ভিড়- ফাইল ছবি/ নিউজবাংলা

তাই হলে করোনার এই সময়টাতে সৌদি আরবে যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের খরচ সাশ্রয় হবে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বাংলাদেশের প্রস্তাবটি বিবেচনার করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সৌদি আরবে যাওয়ার পর দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনের পরিবর্তে শ্রমিকদের দেশেই কোয়েন্টিনে রেখে পাঠাতে চায় বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে আলাপও হয়েছে ঢাকার।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে শনিবার বিষয়টি নিয়ে ফোনালাপ হয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বলেছেন, বাংলাদেশের শ্রমিকরা দেশে কোয়ারেন্টাইন শেষ করে সৌদি গেলে সেদেশের কোয়ারেন্টাইন থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে।

তাই হলে করোনার এই সময়টাতে সৌদি আরবে যেতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের খরচ সাশ্রয় হবে বলে উল্লেখ করেন মোমেন। বাংলাদেশের প্রস্তাবটি বিবেচনার করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে বিদেশি নাগরিকদের সৌদি ভ্রমণে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করে দেশটির সরকার। দেশটিতে ভ্রমণ করতে যাওয়া সব বিদেশি নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড চিকিৎসা সংক্রান্ত ইনস্যুরেন্স করতে হয়। এই ইনস্যুরেন্সের আওতায় হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিনের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সব মিলিয়ে বাড়তি খরচ পড়ে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা।

করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশি শ্রমিকের সৌদি যাওয়ার অনুমতি দেয়ায় ফোলানাপে দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানান মোমেন।

এ সময় হজ প্রসঙ্গেও কথা হয় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ জানান, এ বছর করোনা মহামারির কারণে অন্য দেশ থেকে কোনো ব্যক্তি সৌদি আরবে গিয়ে হজ পালন করার সুযোগ পাবেন না। তবে সৌদিতে অবস্থানরত সৌদি নাগরিকের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকরাও হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

রোহিঙ্গা বিষয়টিও তুলে ধরেন আব্দুল মোমেন। তিনি জানান, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সেদেশে নিরাপদ মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে। এ বিষয়ে তিনি সৌদি আবরের সহযোগিতা কামনা করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের করবেন বলে জানান।

শেয়ার করুন

ভোটের গুরুত্ব করোনার চেয়ে বেশি: সিইসি

ভোটের গুরুত্ব করোনার চেয়ে বেশি: সিইসি

বরিশাল সার্কিট হাউজে আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে বক্তব্য দেন সিইসি। ছবি: নিউজবাংলা

‘নির্বাচন করলেই করোনা সংক্রমণ বাড়ে, তা সঠিক নয়। রাজশাহীতে এখন নির্বাচন নেই, অথচ করোনা বৃদ্ধি।’

নির্বাচনের গুরুত্ব আলাদা, করোনার চেয়েও বেশি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

আসন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার সকালে বরিশাল সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত বৈঠকে সিইসি এমন মন্তব্য করেন।

দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন করলেই করোনা সংক্রমণ বাড়ে, তা সঠিক নয়। রাজশাহীতে এখন নির্বাচন নেই, অথচ করোনা বৃদ্ধি।’

দেশ-বিদেশের এমন নানা চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, করোনার চেয়েও নির্বাচনের গুরুত্ব বেশি।

জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে দেয়ার প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেন সিইসি। বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছেই থাকা উচিত। কেননা ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির কাজ তারাই করেছে।’

সার্কিট হাউসে ওই বৈঠকে বিভাগীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে আগামী ২১ জুন হতে যাওয়া ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে মাঠ কর্মকর্তাদের কথা শোনেন সিইসি।

বৈঠকে মাঠ কর্মকর্তাদের অনেকেই নির্বাচন নিয়ে নানা শঙ্কা প্রকাশ করেন। জানান, অভ্যন্তরীণ দলাদলিতে নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা হতে পারে।

এ জন্য প্রতি ইউনিয়নে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দেবার দাবি জানান তারা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে নির্দেশনা দিয়ে সিইসি বলেন, দলমত না দেখে আচরণবিধি ভঙ্গকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বরিশা‌লের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। বি‌শেষ অতি‌থি ছি‌লেন বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল, ব‌রিশাল মে‌ট্রোপ‌লিটন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, রেঞ্জ ডিআই‌জি এস এম আক্তারুজ্জামান, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মেদ খান, বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন।

শেয়ার করুন

৭৫ ভাগ পৌরসভার বেতন ৭০ মাস পর্যন্ত আটকে

৭৫ ভাগ পৌরসভার বেতন ৭০ মাস পর্যন্ত আটকে

সুনামগঞ্জ পৌরসভার পৌর ভবন। ফাইল ছবি

পৌরসভা শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠনটি জানায়, এখন ১ হাজার ২৬ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা অবসরকালীন ভাতা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ৩২৯টি পৌরসভার ১১ হাজার ৬৭৫ জন কর্মচারীর ৮৭৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।

দেশের ৭৫ শতাংশ পৌরসভার কর্মীর বেতন-ভাতা দুই থেকে ৭০ মাস পর্যন্ত বকেয়া পড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

পৌরসভা শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠনটি জানায়, এখন ১ হাজার ২৬ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা অবসরকালীন ভাতা বকেয়া রয়েছে। পাশাপাশি ৩২৯টি পৌরসভার ১১ হাজার ৬৭৫ জন কর্মচারীর ৮৭৫ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার সংগঠনটি সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের আট দফা দাবি তুলে ধরে। কর্মীদের দুর্ভোগের কথা জানিয়ে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে জেলা প্রশাসক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল সাত্তার বলেন, ‘সংবিধানের ৫১(১) অনুচ্ছেদে পৌরসভাগুলোকে প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের অন্য প্রশাসনিক ইউনিটের কর্মচারীদের সঙ্গে সীমাহীন বৈষম্য থাকার কারণে পৌরসভার কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে।

‘সরকারের নির্দেশনা মেনে প্রায় ৩২ হাজার পৌর কর্মচারী রাত-দিন পরিশ্রম করলেও বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।’

৭৫ ভাগ পৌরসভার বেতন ৭০ মাস পর্যন্ত আটকে
বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। ছবি: নিউজবাংলা

সাত্তার বলেন, ‘নতুন মেয়ররা স্বেচ্ছাচারিতা অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচিত হয়েই পুরোনো মাস্টাররোলের কর্মচারীদের ছাঁটাই করে অর্থের বিনিময়ে নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিচ্ছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আব্দুল আলিম মোল্লা বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের কর্মচারীদের বেতন খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও পৌর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে গত বছরের মতো মাত্র ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

‘জাতীয় বাজেটের পরিমাণ হাজার হাজার কোটি টাকা বাড়লেও পৌর কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি।’

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের আট দাবি হলো-

১. বেতন-ভাতা যেগুলো বকেয়া ছিল, সেটা জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে ৭৯২ কোটি টাকার ৫০ ভাগ বা ৩৪৬ কোটি টাকা সাহায্যে অর্থ বিভাগে চিঠি দেয়া হয়, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে গত বছরের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্ট স্থানীয় সরকার বিভাগকে সংবিধানের ২০ ধারা মোতাবেক বেতন দিতে আদেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। উচ্চ আদালতের এই আদেশ দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।

২. পৌরসভাগুলো আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বাজেটে এর কর্মচারীদের বেতন খাত নং ৩৬৩১১০১-এ আর্থিক অনুদান বৃদ্ধি করে ইউনিয়ন পরিষদের মতো সংশোধিত বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করাসহ প্রতিবছর এ বরাদ্দ অব্যাহত রাখতে হবে।

৩. স্থানীয় সরকার বিভাগের গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন করে বকেয়া বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন ভাতা স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রস্তাবিত ৭৯২ কোটি টাকা বেতন খাতে বরাদ্দ করতে হবে।

৪. তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী প্রয়াত জিল্লুর রহমানের ঘোষণা বাস্তবায়ন করে কেন্দ্রীয়ভাবে অবসরকালীন ভাতা দিতে হবে।

৫. পৌরসভার বেতন-ভাতা পরিশোধ না করে রাজস্ব খাত থেকে দরপত্র আহ্বান বা অন্য ব্যয় যাতে করতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের তদারকি জোরদার করতে হবে।

৬. রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য এ-সংক্রান্ত কমিটিতে জনপ্রতিনিধির পরিবর্তে কর্মকর্তাদের পদায়ন করতে হবে।

৭. স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক আয়-ব্যয়সংক্রান্ত বিষয়ে সব পৌরসভাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

৮. নিয়োগে দুর্নীতি রোধে সব ধরনের নিয়োগে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশিষ্টতা বাড়াতে হবে।

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল আদালতে ৪০ দিনে হাজার শিশুর জামিন

ভার্চুয়াল আদালতে ৪০ দিনে হাজার শিশুর জামিন

ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে ৪০ দিনে জামিনে মুক্ত হয়েছে এক হাজার ১৭ শিশু। ফাইল ছবি

ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে ৪০ কার্যদিবসে সারাদেশের সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৫টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে ৬৩ হাজার ৭৫ জনকে জামিন দিয়েছেন। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে দেশে জারি করা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ৪০ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল আদালত থেকে ১ হাজার ১৭ শিশুকে জামিন দেয়া হয়েছে।

সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান শনিবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিউজবাংলাকে সাইফুর রহমান বলেন, ‘কঠোর বিধিনিষেধের সময় বিগত ৪০ কার্যদিবসে দেশের বিভিন্ন আদালত থেকে ভার্চুয়ালি শুনানি করে ১ হাজার ১৭ শিশুকে জামিন দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থেকে তাদের মুক্তিও দেয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে ৪০ কার্যদিবসে সারাদেশের সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৫টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে ৬৩ হাজার ৭৫ জনকে জামিন দিয়েছেন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে দেশের সকল আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে জরুরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য সীমিত পরিসরে কিছু কোর্ট খোলা রাখা হয়। যেখানে ভার্চুয়ালি শুনানি হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে কোর্ট সংখ্যা বাড়ানো হয়।

করোনার কারণে গত বছরের ২৬ মার্চ প্রথমে আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তার এক মাস পর ২৬ এপ্রিল ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর উদ্যোগ নেন প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রী।

পরে ওই বছরের ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

এর দুই দিন পর ৯ মে ভার্চুয়াল কোর্ট সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সে বছরের ১০ মে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা প্রসঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ফুল কোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান বিচরপতির সভাপতিত্বে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন।

ফুলকোর্ট সভায় ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর আওতায় উচ্চ আদালত এবং নিম্ন আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্র্যাকটিস ডাইরেকশন অনুমোদিত হয়। পরে বিজ্ঞপ্তিত জারি করে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২০ সালের শেষের দিকে করোনা সংক্রমণ কমে আসলে ফের নিয়মিত আদালত শুরু হয়। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে আবারও আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে গত ১২ এপ্রিল থেকে ভার্চুয়াল আদালতে বিচার কাজ শুরু হয়।

শেয়ার করুন

লঘুচাপে উত্তাল সাগর, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

লঘুচাপে উত্তাল সাগর, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

লঘুচাপের কারণে বঙ্গোপসাগর এখন উত্তাল। তাই উপকূলীয় অঞ্চলে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে জানান, এ সতর্ক সংকেত শুধুমাত্র সমুদ্রের জন্য। ল্যান্ডের জন্য না। আগামী এক দুই দিন এটা থাকবে।

বর্ষাকালে এমন সংকেত মাছ ধরার ট্রলার ও জেলেদের উদ্দেশে দেয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ১০ মিনিটা আগেই এই সংকেত দেখিয়েছি। বর্ষাকালে লঘুচাপ হয়ে অনেক সময় নিম্নচাপ হয়। সেক্ষেত্রে ঢেউ হয়। বাতাস থেকে ঢেউ বেশি থাকে। এটা লেখা থাকেই যে মাছ ধরা ট্রলার বা নৌকার জন্য। তারা কোস্টের কাছে যেতে পারবে তবে বেশি গভীরে যেন না যায়।

লঘুচাপে উত্তাল সাগর, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
ছবি: উইন্ডি ডটকম

‘আমরা বলেই দিই যে গভীর সমুদ্রে মেঘমালা সৃষ্টি হয়। তখন বড় ঢেউয়ের সম্ভাবনা থাকে। তার কারণে যেন কোনো ক্ষতি না হয়। এর আগেও এমন হয়েছে। লঘুচাপ ল্যান্ডে না আসা পর্যন্ত আজ কাল এটা থাকবে। এটা মূলত সাবধানতার জন্য দেয়া হয়েছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি হতে বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা সারাদেশে অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শেয়ার করুন