20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
‘দুশ্চরিত্রা বলার সাহস নুর কোথায় পাচ্ছে?’

ধর্ষণ মামলার বাদী তরুণীকে দুশ্চরিত্রা বলার প্রতিবাদে নুরুল হক নুরকে গ্রেফতার ও বাদীর প্রতি সংহতি জানাতে দাবিতে সমাবেশ। ছবি: ফোকাস বাংলা

‘দুশ্চরিত্রা বলার সাহস নুর কোথায় পাচ্ছে?’

ফেসবুক লাইভে এসে ধর্ষণ মামলার বাদীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ বলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে এক সমাবেশ থেকে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ও মামলার আসামি আরও তিন জনকে গ্রেফতারের সময়ও বেঁধে দেয়া হয়েছে।

ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার মামলায় সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের ছয় নেতাকে গ্রেফতারের দাবিতে অনশনকারীর প্রতি সংহতি জানতে এসে এই ক্ষোভ জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বাদীর অনশনে সংহতি জানিয়ে সেখানে সমাবেশ হয়।

সমাবেশ শেষে সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক হাসান আল মামুনসহ সব আসামিকে গ্রেফতার, ‘ভিক্টিম ব্লেইমিং’কে অপরাধ বলে বিবেচনা, যারা ফেসবুক লাইভে নারীদের প্রতি নোংরা কথা বলে তাদের বিচারের দাবি জানানো হয়।

দুই দিন আগে রোববার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নুর বাদীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ ‍আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, ধর্ষণ হয়নি, সব হয়েছে সম্মতিতে।

নুরুল হক নুরসহ আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে অনশনকারীর প্রতি সংহতি জ্ঞাপন
নুরুল হক নুরসহ সব ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা মামলার সব আসামিকে গ্রেফতারের দাবিতে বাদীর অনশনে মঙ্গলবার সংহতি জানান বিভিন্ন জন। ছবি: ফোকাস বাংলা

সমাবেশে আইনজীবী তুরিন আফরোজ বলেন, ‘আমরা সবাই যেখানে মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করছি, সেখানে নুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে তাকে দুশ্চরিত্রা বলছে। এই সাহস তিনি কোথায় পাচ্ছেন?’

২০০১ সালে সহিংসতার শিকার পূর্ণিমা শীল রানি বলেন, ‘আমি নুরের উদ্দেশে বলতে চাই, সে যেন আমার সামনে আসে যদি সাহস থাকে। আমি উপযুক্ত বিচার করে দেব।’

গণজাগরণ মঞ্চের নগেন্দু নির্মল সাহা জয় বলেন, ‘নারীকে চরিত্রহীন বলে ব্যারিস্টার মাইনুল হোসেনকে যদি জেলে যেতে হয়, তাহলে একই অপরাধে নুরুকে গ্রেফতার নয় কেন?’

যৌন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থী জোটের আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান শিবলী বলেন, ‘সমাজে ভিক্টিম ব্লেইমিং এর যে চর্চা, সেটাই নুর করেছেন, যা খুবই আপত্তিকর।’

মালয়েশিয়ায় নিপীড়নের শিকার প্রবাসী রায়হান কবির বলেন, ‘ছাত্র অধিকার পরিষদ ধর্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসছে। এ কারণে আমি নুরকে নিন্দা জানাই। আপনি আমার বোনকে দুশ্চরিত্রা বলতে পারেন না৷’

গত বৃহস্পতিবার রাতে অনশনে বসা বাদী ষষ্ঠ দিনেও মুখে খাবার তোলেননি। তার তিন মামলার দুই আসামি সাইফুল ইসলাম ও নাজমুল হুদা গ্রেফতার হলেও তিনি বলছেন, হাসান আল মামুন, নুরুল হক নুরসহ সব আসামি ধরতে হবে। নইলে তিনি অনশন ভাঙবেন না।

তুরিন আফরোজ বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে নুরকে ও বাকি আসামিদের গ্রেফতার না করলে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।’

অনশনকারীর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে তুরিন বলেন, 'একজন নারী হিসেবে আমি বলতে চাই সে (বাদী) আমার মেয়ে। আমি আমার মেয়ের জন্য রাজপথে নেমেছি। আমাদের যে সিস্টেম সেখানে যে দুর্নীতি থাকুক, সেটাকে কাটিয়ে উঠে মেয়েটি সুবিচার পাক, এটাই প্রত্যাশা।'

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লালবাগ থানায় সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন অনশনকারী তরুণী। অভিযোগ করা হয়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

ভিপি নুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মীমাংসার আশ্বাস দিয়েও কথা রাখেননি। পরে চুপ হয়ে যেতে বলেন। কথা না শুনলে অনলাইনে অপপ্রচার চালানোর হুমকি দেন।

পরে ছয় আসামির বিরুদ্ধে ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর আরও দুটি মামলা করেন বাদী।

দ্বিতীয় মামলায় বলা হয়, তাকে সহযোগিতার কথা বলে চাঁদপুর নিয়ে যান সোহাগ। ফেরার পথে ধর্ষণ করা হয়। তৃতীয় মামলায় অভিযোগ আনা হয় সাইবার বুলিং এর।

শেয়ার করুন

মন্তব্য