সন্তানদের কী জবাব দেব, রায়ে বিস্মিত উমার প্রশ্ন

চট্টগ্রামে ২০০১ সালে খুন হওয়া অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীর স্ত্রী উমা মুহুরী

সন্তানদের কী জবাব দেব, রায়ে বিস্মিত উমার প্রশ্ন

প্রায় দুই দশক আগে চট্টগ্রামে বাসায় ঢুকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করা হয় অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীকে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন খুনির সাজা পাল্টে আপিল বিভাগ দিয়েছে আমৃত্যু কারাদণ্ড

চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীর খুনিদের ফাঁসির সাজা কমিয়ে দেয়ার খবরে ক্ষুব্ধ তার স্ত্রী উমা মুহুরী।

আপিল বিভাগের রায়ের পর উমার শঙ্কা জেগেছে, খুনিরা ভবিষ্যতে আবার কারাগার থেকে বের হয়ে আসে কি না।

স্বামীর খুনির ফাঁসির রায় পাল্টে দিয়েছে আপিল বিভাগ। এ খবর পেয়ে উমা গণমাধ্যমকে বলেছেন তার হতাশা, ক্ষোভের কথা।

বলেন, ‘আমি কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। শুনেছিলাম ২০০৩ সালে রায় হয়েছিল (হয়েছিল ২০০৮ সালে)। তখন মনে করেছিলাম, সাজা হবে। আমি আমার ছেলে-মেয়েদের কী জবাব দেব?’

প্রায় দুই দশক আগে চট্টগ্রামের জামালখানে নিজ বাসায় মুহুরীর খুন নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল।

২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর সারাদেশে সহিংসতার মধ্যে মুহুরীর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করা হয়।

এই শিক্ষকের ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা ছিল না। তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন এবং সে জন্য তাকে খুন হতে হয় বলে অভিযোগ। জামায়াত-শিবিরের চিহ্নিত ক্যাডাররা এই ঘটনা ঘটায় বলে শুরু থেকে তথ্য এসেছে গণমাধ্যমে।

সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাও ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আশ্বাস দেন পাশে থাকার।

২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিচারিক আদালত চার জনকে ফাঁসি এবং চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। দণ্ডিতদের সবাই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।

ফাঁসির দণ্ড পাওয়া একজন পরে পুলিশের সঙ্গে কথিত ক্রসফায়ারে প্রাণ হারান, যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া একজন উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান।

হাইকোর্ট ফাঁসির দণ্ড পাওয়া তসলিম উদ্দীন ওরফে মন্টু, আজম ও আলমগীর কবির ওরফে বাইট্টা আলমগীরের ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখে। এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আবেদন করেন আপিল বিভাগে।

মঙ্গলবার আপিল বিভাগ তিন জনের সাজা পাল্টে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। আদালত এও বলেছে, দণ্ডিতদের আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: ফাঁসি নয়, অধ্যক্ষ মুহুরীর তিন খুনির আমৃত্যু কারাদণ্ড

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত বলেছেন, কোন যুক্তিতে কেন সাজা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে তা পুরো রায় বের হলে জানা যাবে।

মুহুরীর স্ত্রী উমা বলেন, ‘ভবিষ্যতে এরা জেল থেকে বের হবে না, বের হয়ে যে কিছু করবে না, এটা আপনারা কীভাবে বুঝতে পারবেন? আমরা এই রায়ে হতাশ।’

হাইকোর্টের খুনিদের ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখার কথা জানতেন উমা। বলেন, ‘আমরা যেদিন শুনেছি রায় হয়ে গেছে, তখন শুধু কার্যকর হওয়া বাকি ছিল। সেখানে নতুন করে ঘটনাটা মেনে নেওয়া যায় না।’

গোপাল কৃষ্ণ চৌধুরীর জামাতা বিজয় কিষাণ চৌধুরীর আশঙ্কা, সরকার পাল্টালে তার শ্বশুরের খুনিরা আবার না কারাগার থেকে বের হয়ে আসে।

নিউজবাংলাকে বিজয় বলেন, ‘আদালতের রায় নিয়ে তো আমাদের বলার কিছু নেই। তবে আমরা হতাশ। কারণ সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে আসামিরা আবার রায় পরিবর্তন করিয়ে বের হয়ে আসবে না, তা কে বলতে পারে?’

বিজয় বলেন, ‘খুনিরা সবাই শিবিরের চিহ্নিত ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ছিল। তারা চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসের জনপদ ও মৃত্যুপুরী হিসেবে পরিণত করেছিল। তাদের জোট আবার সরকারে এলে সে সুযোগ তো নেবেই।’

শেয়ার করুন