ফাঁসি নয়, অধ্যক্ষ মুহুরীর তিন খুনির আমৃত্যু কারাদণ্ড

ফাঁসি নয়, অধ্যক্ষ মুহুরীর তিন খুনির আমৃত্যু কারাদণ্ড

চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়েছে আপিল বিভাগ। ফাঁসি থেকে বাঁচলেও তাদের আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে।

যাদের সাজা কমেছে তারা হলেন- তসলিম উদ্দীন ওরফে মন্টু, আজম ও আলমগীর কবির ওরফে বাইট্টা আলমগীর।

চট্টগ্রামে এদের সবাই জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার বলে পরিচিত।

মঙ্গলবার বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ আপিল বিভাগের তিন সদস্যের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ রায় দেয়।

আপিল বিভাগ সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে, সেই সঙ্গে বলে দিয়েছে যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদণ্ড।

অধ্যক্ষ মুহুরীর আরও তিন খুনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় নিয়ে আগে থেকেই কারাগারে বন্দি।

২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর সকাল সোয়া সাতটার দিকে চট্টগ্রামের জামালখানের বাসায় ঢুকে হত্যা করা হয় অধ্যক্ষ মুহুরীকে। তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। সে সময় এই ঘটনাটি তুমুল আলোচিত হয়।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর সারাদেশে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। তখন জামায়ত-শিবিরের ক্যাডাররা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।

এই ঘটনায় অধ্যক্ষ মুহুরীর স্ত্রী উমা মুহুরী হয়ে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

২০০৮ সালের ২৭ মার্চ উপরোক্ত তিন জন এবং নাসির নামে আরো এক জনের ফাঁসি এবং চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ আসে। পরে নাসির পুলিশের সঙ্গে কথিত ক্রসফায়ারে মারা যান।

বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান মহিউদ্দিন ওরফে মাইন উদ্দীন, হাবিব খান, শাজাহান এবং সাইফুল ওরফে ছোট সাইফুল। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করে খালাস পান শাজাহান।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত বলেন, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চার জনের ডেথ রেফারেন্স উচ্চ আদালতে এসেছিল। এদের এক জন মারা যাওয়ায় বাকি তিন জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছিল হাইকোর্ট।

‘পরে ওই তিন আসামি আপিল করেন। আপিল বিভাগ আজ তাদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, এই যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদণ্ড।’

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত। আর আসামিপক্ষে ছিলেন হেলাল উদ্দিন মোল্লা।

শেয়ার করুন