× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অনুসন্ধান
কাশেম আজিম সিন্ডিকেটের দুর্নীতি ডুবছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
hear-news
player
google_news print-icon

কাশেম-আজিম সিন্ডিকেটের দুর্নীতি, ডুবছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

কাশেম-আজিম-সিন্ডিকেটের-দুর্নীতি-ডুবছে-নর্থ-সাউথ-ইউনিভার্সিটি
অভিযোগ আছে, নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করে চলেছে কাশেম-আজিম সিন্ডিকেট। তাদের কাছে অসহায় ট্রাস্টি বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য। কাশেম-আজিম সিন্ডিকেটের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করে ব্যর্থ হয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আর যান না ট্রাস্টি বোর্ডের স্থায়ী সদস্য ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল।

দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। ১৯৯২ সালে যাত্রা শুরু করা এই উচ্চ-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন ডুবতে বসেছে ট্রাস্টি বোর্ডের প্রভাবশালী দুই সদস্য এম এ কাশেম ও আজিম উদ্দীন আহমদের দৌরাত্ম্যে।

অভিযোগ আছে, নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করে চলেছে কাশেম-আজিম সিন্ডিকেট। তাদের কাছে অসহায় ট্রাস্টি বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য। কাশেম-আজিম সিন্ডিকেটের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ করে ব্যর্থ হয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আর যান না ট্রাস্টি বোর্ডের স্থায়ী সদস্য ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত কয়েক বছর কাশেম-আজিম সিন্ডিকেটই ঘুরেফিরে ট্রাস্টি বোর্ডের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কেনায় অনিয়ম করেছেন, ভর্তি-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। তাদের এসব অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে বোর্ডের কোনো সদস্য প্রতিবাদ করলেই তাকে কৌশলে কোণঠাসা করে দেয়া হয়। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির দখল নিয়ে আছে এই সিন্ডিকেট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল থেকে ট্রাস্টিদের আর্থিক সুবিধা ও সিটিং অ্যালাউন্সের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ ও বিদেশ ভ্রমণের ঘটনা তদন্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ইউজিসির তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির আর্থিকসহ সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২৮ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব পুনর্নিরীক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের মনোনীত প্রতিষ্ঠান দিয়ে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি যে ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত তার ডিডে বলা আছে, মানবহিতৈষী, দানশীল, জনহিতকর, অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও অবাণিজ্যিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হবে। ট্রাস্টের অর্থের জোগান দেবে।

কাশেম-আজিম সিন্ডিকেটের দুর্নীতি, ডুবছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

জানা গেছে, গাড়িগুলো কেনার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন ট্রাস্টি এম এ কাশেম। তিনি এ পর্যন্ত চারবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান আজিম উদ্দীন এর আগে তিনবার চেয়ারম্যান ছিলেন।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় একটি ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে। এই ট্রাস্টি বোর্ড একটি মানবহিতৈষী, দানশীল, জনহিতকর, অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু আজিম উদ্দীন আহমেদ ও এম এ কাশেম মানবহিতৈষী ও অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটিকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপদান করে শত শত কোটি টাকা বাণিজ্য করছেন। সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং এ ধারা অব্যাহত রেখেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের স্বার্থে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এমন লাগামহীন দুর্নীতি ও বিশ্ববিদ্যালয়টিকে জঙ্গি তৈরির কারখানায় রূপান্তর করা দুই ট্রাস্টি আজিম উদ্দীন ও এম এ কাশেমের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির হাত থেকে প্রতিষ্ঠান ও দেশকে বাঁচানোর দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

কাশেম-আজিম সিন্ডিকেটের দুর্নীতি, ডুবছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ট্রাস্টি আজিম উদ্দীন ও এম এ কাশেমের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয় মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. সুফি সাগর সামস্ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ট্রাস্টির দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দুই ট্রাস্টি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আশালয় হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে জমি কিনে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। ২০১৯ সালে বিলাসবহুল গাড়ি কিনে ২১ কোটি টাকা অপব্যয় ও আত্মসাৎ করেন। ইউজিসির অনুমোদনের বাইরে ১০টি সেকশন চালু করে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তিপূর্বক বিশাল অঙ্কের টাকা বাণিজ্য করেন এবং এই টাকা বিভিন্নভাবে আত্মসাৎ করেন।

তবে নিউজবাংলার কাছে সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন এম এ কাশেম ও আজিম উদ্দীন।

আরও পড়ুন: ‘দুর্নীতি-জঙ্গিবাদের কবল’ থেকে নর্থ সাউথকে রক্ষার দাবি


দুর্নীতিবাজদের কারণে ক্যাম্পাসেই যান না ট্রাস্টি আব্দুল আউয়াল

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের স্থায়ী সদস্য আব্দুল আউয়াল বুধবার নিউজবাংলাকে অভিযোগ করে জানিয়েছেন, মূলত দুর্নীতিবাজদের কারণেই ক্যাম্পাসে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

আব্দুল আউয়াল জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই তারা তিনজন পরিশ্রম করেছেন; অনুমোদনের জন্য দৌড়ঝাঁপ করেছেন। ক্যাম্পাস গড়ে তোলা থেকে শুরু করে সরকারি অনুমোদন সব কাজই করেছেন তারা তিনজন।

কাশেম-আজিম সিন্ডিকেটের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘যেহেতু তারা দুনীতি করে, তাই আমি ওইদিকে যাই না। ওরাও আমাকে কোনো নোটিশ পাঠায় না। আমি তো ওইখানের পার্মানেন্ট ট্রাস্টি মেম্বার। কাশেম, আজিম, শাহজাহান সিন্ডিকেট মিলে এই দুর্নীতিগুলো করছে। এই কারণে আমি ওইদিকে যাই না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ট্রাস্টি সদস্য তালিকায় নাম নেই কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে বাদ দেয়ার ক্ষমতা নেই ওদের। নর্থ সাউথের ২০১০ সালে যে ট্রাস্টি বোর্ড হইছিল, ওইখানে আমার নাম ট্রাস্টি বোর্ডের পার্মানেন্ট মেম্বার হিসেবে আছে। আমাকে বাদ দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

‘কাশেম-আজিমদের আমি পরে নিয়েছি’

আব্দুল আউয়াল আক্ষেপ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করার মূল লোক আমি। সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন, তারা মারা গেছেন। আর এই যে কাশেম-আজিমরা এখন আছে, এদের আমি পরে নিয়েছি।

‘এটা প্রতিষ্ঠা করা, সরকার থেকে পারমিশন নেয়া- সবই আমরা করেছি। পুরো ক্যাম্পাসই আমার হাতে হয়েছে। কিন্তু যখনই তারা চুরি শুরু করল, তখনই আমি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। পরে একটা মামলা করি।’

দুর্নীতির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের এই স্থায়ী সদস্য আরও বলেন, ‘এই যে গাড়িঘোড়া কিনছে ১০ কোটি, ১২ কোটি টাকায়। কিন্তু এটা তো একটা ট্রাস্ট। এটা একটা নন-প্রফিটেবল প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে তো ১০ টাকাও কেউ নিতে পারবে না।

আরও পড়ুন: সাউথইস্ট ব্যাংক নিয়ে অপপ্রচারের নেপথ্যে কাশেম-আজিম সিন্ডিকেট


‘কোনো সিটিং অ্যালাউন্সও নিতে পারে না। আমি কখনোই এক টাকাও সিটিং অ্যালাউন্স নিতাম না। কিন্তু এরা নিয়েছে। এখন দেখতেছি, এরা লাখ লাখ টাকা নিচ্ছে। এ থেকেই বোঝা যায়, এদের চরিত্র কী। এসব তো আমার পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব না। তাই আমি যাই না।’

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি কেনা অবশ্যই অনিয়ম’

অভিযোগ আছে, বোর্ড অফ ট্রাস্টিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় তিন কোটি টাকার গাড়ি কিনেছেন। কিন্তু এটি তো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। সে ক্ষেত্রে এটা তারা করতে পারেন কি না?

নিউজবাংলার এমন প্রশ্নে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে স্পষ্ট বলা আছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় যত আয় করবে তা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ চালিয়ে যা অতিরিক্ত থাকবে, সেটা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য উন্নয়নকাজ করা হবে।

‘এখানে গাড়ি কেনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা যে কমিটমেন্ট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু করেছেন, তার সঙ্গে এটা কোনোভাবেই যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি কেনা অবশ্যই অনিয়ম। এটা আর্থিক স্বেচ্ছাচারিতা। এখন এগুলোই হচ্ছে আর কী।’

কাশেম-আজিম সিন্ডিকেটের দুর্নীতি, ডুবছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
গত কয়েক বছর কাশেম-আজিম সিন্ডিকেটই ঘুরেফিরে ট্রাস্টি বোর্ডের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে

বোর্ড অফ ট্রাস্টির সদস্যরা সিটিং অ্যালাউন্স হিসেবে কখনো কখনো এক লাখ টাকা নিয়েছেন, কখনো কখনো ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এটা ইউজিসির প্রতিবেদনের তথ্য। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা এটা করতে পারেন কি না?

এমন প্রশ্নে ড. আলমগীর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিটিং অ্যালাউন্স নেয়ার যে সংস্কৃতি, সেটা অন্য কোথাও আছে কি না আমার জানা নেই। তবে বাংলাদেশে এটা ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ড মিটিংয়ে সিটিং অ্যালাউন্স নেয়াটা যুক্তিযুক্ত না। ইউজিসির নির্দেশনায় বলা আছে, কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সিটিং অ্যালাউন্স নিতে পারে, এর বেশি না।’

‘শিক্ষার্থীদের ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে’

এক প্রোগ্রামের কথা বলে দশটা প্রোগ্রাম চালাচ্ছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।

এমন সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, ‘এটা তারা কোনোভাবেই করতে পারে না। একটা ডিপার্টমেন্টের অধীনে আন্ডার গ্র্যাজুয়েশন প্রোগ্রাম একটাই থাকতে পারবে। তারা যেটা করছে, সেটা সম্পূর্ণ অবৈধ। শুধু তা-ই না, এসব প্রোগ্রামের অধীনে যেসব শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট নিচ্ছে, সেগুলোরও কোনো বৈধতা নেই।

‘এভাবে শিক্ষার্থীদের ব্ল্যাইমেইল করা হচ্ছে। এটা যেকোনো ধরনের গুরুতর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। কারণ কোনো শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে খেলার অধিকার নেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তারা এটা জেনেশুনে করেছে। এখন ভাব দেখাচ্ছে যে তারা এটা জানে না। এখন অনুমতির জন্য বলছে। এটা হয় নাকি?’

‘সবার মনোরঞ্জন করে চলি, নোংরামি পছন্দ করি না’

এসব অভিযোগের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আজিম উদ্দীন নিউজবাংলাকে বলেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি তো শুধু আমাদের দুজনের না। প্রায় ২৬ জন মিলে আমরা এটা প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা সেখানে ট্রাস্টি।

‘আমি চতুর্থবার নর্থ সাউথের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হলাম। এই প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে আমার কোনো অসুবিধা হয়নি। আমি সবার মনোরঞ্জন করে চলি। এত নোংরামি আমি পছন্দ করি না। আমরা জীবনে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, আমাদের সবাই চেনে।’

আজিম উদ্দীন বলেন, ‘নর্থ সাউথে বাই রোটেশন চেয়ারম্যান হয়। আগে আমরা ১০ বছরে হয়তো বাই রোটেশন হয়ে যেতাম। এখন সদস্য কমে যাওয়ার কারণে আমরা আগে হচ্ছি। আমি চার বছর পরেই চলে আসছি।

‘আগে এত তাড়াতাড়ি আসা সম্ভব হতো না। এটা বাই রোটেশনে হয়। এখানে কোনো ইলেকশন হয় না। এটা আমাদের একটা ট্রাস্ট, আমরা এটা সুন্দরভাবে করে যাচ্ছি।’

‘যখন যে রাজা তখন তাকে সালাম দিতে হয়’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে এম এ কাশেম দাবি করেন, তার সময়ে কোনো গাড়িই কেনা হয়নি। কোনো রকম দুর্নীতি হয়নি।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমার সময় কোনো গাড়িই কেনা হয় নাই। কোনো টাকাও দেয়া হয় নাই। কোনো রকম দুই নম্বর কাজও হয় নাই।’

এম এ কাশেম এ সময় পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, কিছু লোক তাদের ব্যাপারে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে সব সরকারের সঙ্গেই তার সুসম্পর্ক ছিল। এখনো আছে।

এম এ কাশেম বলেন, ‘যখন যে রাজা তখন তাকে সালাম দিতে হয়। যখন এরশাদ ছিল তখন তাকে সালাম দিয়েছি, যখন খালেদা ছিল তখন তাকে দিয়েছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছি, এখনো দিচ্ছি। দান-অনুদানেও জড়িত আছি।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অনুসন্ধান
There is no compulsion to commit immorality in Eden

‘ইডেনে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার ঘটনা নেই’

‘ইডেনে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার ঘটনা নেই’ ইডেন কলেজ ছাত্রলীগে সংঘাত চলাকালে এক শিক্ষার্থী ‘দেহ ব্যবসায়ী প্রেসিডেন্ট চাই না, চাই না’ লেখা সংবলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করেন। ফাইল ছবি
কলেজ প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ওঠা শিক্ষার্থীদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি। কলেজ অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ঘিরে অস্থিরতা তদন্তে কলেজ প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করে। চার সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক মোহাম্মদ জিয়াউল হক, অধ্যাপক কাজী আতিকুজ্জামান, অধ্যাপক সুফিয়া আখতার ও অধ্যাপক মেহেরুন্নেসা মেরী।

কলেজে ছাত্রলীগের কোন্দল চলাকালে এক গ্রুপের অভিযোগ ছিল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করেন। ওই সময় এক শিক্ষার্থী মাস্ক পরে ‘দেহ ব্যবসায়ী প্রেসিডেন্ট চাই না চাই না’ লেখা সংবলিত প্লাকার্ডও প্রদর্শন করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে ইডেন মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও তৎপরবর্তীকালে অন্যান্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ঘটনাগুলো এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু শিক্ষার্থীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া হলে সিট বাণিজ্য ও মারামারির ঘটনাসহ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কলেজ প্রশাসন বিধি অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্যকে ফোন করলে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি সিট বাণিজ্যের অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি। আমাদের শিক্ষার্থীদের অনুপাতে হলের সিট সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। সে হিসাবে যারা অভিযোগ করেছে এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তাদের সবার রুমে যতটা সিট তার চেয়ে বেশি মেয়ের উপস্থিতি রয়েছে। কেউ বলেনি যে তারা সেখানে অর্থের বিনিময়ে থাকছে। তারা বলেছে, পরিচয় বা আত্মীয়তার সূত্রে তারা এখানে কিছুদিন থাকছে।’

‘এখন আমরা হল প্রশাসনের সঙ্গে বসে আলোচনা করে যেসব রুমের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে সেসব রুমে গিয়ে খতিয়ে দেখব যে তারা আসলে কিসের ভিত্তিতে থাকছে।

‌এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ‘তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। তারা সিট বাণিজ্যের অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি। কমিটি ফাইন্ডিংসগুলো দিয়েছে। এখন এসব ব্যাপারে আমরা কী ব্যবস্থা নেব তা বসে ঠিক করা হবে।’

তদন্ত কমিটি কিছুই না পেয়ে থাকলে কী দেখবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমরা দেখব যেসব শিক্ষার্থী থাকেন তারা কেন থাকেন। আমরা এসব বিষয় বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দেখব। তারা যেন বাইরে থেকে শিক্ষা জীবন চালিয়ে নিতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার বিরুদ্ধে নগ্ন করে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘এ ব্যাপারে তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কেউ এ ব্যাপারে কিছু বলেনি।’

‘কলেজ প্রশাসনের চেয়ে আমার ক্ষমতা বেশি’ শীর্ষক রিভার অডিও ফাঁসের বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, ‘এটা আসলে কেউ বলতেই পারে। বলা আর বাস্তবতা তো এক না। আমাদের এখানে হল কতৃপক্ষ ছাড়া কারও এলটমেন্ট দেয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

কোন কোন ঘটনায় কাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি শাস্তির সুপারিশ করেছে জানতে চাইলে সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য বলেন, ‘তদন্ত কমিটি কিছু সুপারিশ করেছে। সেসবের আলোকে যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার তাদের সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন কোন ঘটনায় কার কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে সাংবাদিকরা দ্রুতই জানতে পারবেন।’

আরও পড়ুন:
ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের ‘আমরণ অনশন’ টিকল ১ ঘণ্টা
‘ইডেন ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক কেন বহিষ্কার হলেন না?’
আমৃত্যু খাবার মুখে না তোলার প্রতিজ্ঞা ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতদের
সংবাদ সম্মেলনে ইডেন ছাত্রলীগের বহিষ্কৃতরা
ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত, বহিষ্কার ১৬

মন্তব্য

অনুসন্ধান
Jobs 6 Step Progress in Implementing Annual Performance Agreements

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে জবির ৬ ধাপ অগ্রগতি

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে জবির ৬ ধাপ অগ্রগতি
সর্বমোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট পেয়ে র‍্যাংকিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ৯৪ দশমিক ৪৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আর ৯৩ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট লাভ করে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) মূল্যায়নে দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। বিগত অর্থবছরে এক্ষেত্রে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল নবম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফিরোজ আলম নিউজবাংলাকে মঙ্গলবার এ তথ্য জানান।

ইউজিসির সচিব অধ্যাপক ড. ফেরদৌস জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এপিএ বাস্তবায়নের জন্য শুদ্ধাচার কৌশল কর্মপরিকল্পনা, ই-গভর্ন্যান্স ও উদ্ভাবন, অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থা, সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি সিটিজেন চার্টার এবং তথ্য অধিকার বিষয়ক পৃথক ছয়টি ফোকাল পয়েন্ট রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও ইউজিসি নির্ধারিত এপিএর আওতায় সর্বমোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট পেয়ে এবারও র‍্যাংকিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এপিএ মূল্যায়নে ৯৪ দশমিক ৪৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আর ৯৩ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট লাভ করে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে জবি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত মূল কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং সদস্য সচিব হচ্ছেন রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান।

এই অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক। ভবিষ্যতে শীর্ষ স্থানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান নিশ্চিত করতে সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

একটি প্রতিষ্ঠানে বা সংস্থায় সেবা প্রদানে গতিশীলতা আনয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার ২০১৪-১৫ সালে দেশে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সংক্ষেপে এপিএ চালু করে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার উন্নয়ন, সব স্তরের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিরূপণ এবং সরকার ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ ও রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়ন অনেকটা সহজ হয়।

আরও পড়ুন:
ছাত্রী হলে প্রবেশের সময় রাত ১০টা করার দাবি
রাষ্ট্রপতির ছেলের গাড়িচালককে মারধর মামলার প্রতিবেদন জমা পড়েনি
জবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি: মামলায় আসামি ৩
সাংবাদিকদের হুমকি, জবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে জিডি
পারিশার ফোনটি ৪ হাজারে বিক্রি

মন্তব্য

অনুসন্ধান
Education Ministers importance in meditation

ধ্যানে গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর

ধ্যানে গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর ধ্যানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। ফাইল ছবি
‘লক্ষ্য স্থির করে জীবনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য, শুদ্ধাচার চর্চার জন্য, অর্থাৎ যা কিছু আমাদের সঠিক পথে এগিয়ে দেবে, জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে এবং একটা উন্নত, সুখি সমৃদ্ধ জীবন দিতে পারবে তার সব কিছু অর্জনের পথে ধ্যান গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে যে অসততা, অন্যয়, অস্থিরতা, নেতিবাচকতা রয়েছে তা দূর করতে ধ্যান চর্চা দরকার।’

দেশের প্রায় পাঁচ কোটি শিক্ষার্থীর ধ্যান চর্চায় অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে সমাজে সৎ, সাহসী, আশাবাদী, সহমর্মী ও ইতিবাচক মানুষ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

সোমবার রাজধানীর আইডিইবি ভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোস্ট-কোভিড টোটাল ফিটনেস কর্মসূচি উদ্বোধনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ধ্যানে গুরুত্ব শিক্ষামন্ত্রীর
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পোস্ট-কোভিড টোটাল ফিটনেস কর্মসূচি উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। নিউজবাংলা

প্রধান অতিথি দীপু মনি বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা মানবিক মূল্যবোধগুলোর চর্চা করে আলোকিত মানুষ হোক। ধর্মচর্চা ও আত্মিক উন্নয়নে ধ্যান গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক-মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য, সকল হতাশা-নেতিবাচকতা দূর করার জন্য, সকল আসক্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ার জন্য ধ্যান বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

‘লক্ষ্য স্থির করে জীবনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য, শুদ্ধাচার চর্চার জন্য, অর্থাৎ যা কিছু আমাদের সঠিক পথে এগিয়ে দেবে, জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে এবং একটা উন্নত, সুখি সমৃদ্ধ জীবন দিতে পারবে তার সব কিছু অর্জনের পথে ধ্যান গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে যে অসততা, অন্যয়, অস্থিরতা, নেতিবাচকতা রয়েছে তা দূর করতে ধ্যান চর্চা দরকার।’

শিক্ষার্থীদের ধ্যান চর্চার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ধ্যান বা মেডিটেশন চর্চার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের দৈহিক, মানসিক ও আত্মিকভাবে সুস্থ ও সবল করে তোলা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের দক্ষ, যোগ্য, মানবিক ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

‘শিক্ষার্থীদের আমরা বিজ্ঞান মনস্ক, প্রযুক্তি-বান্ধব, উদ্ভাবনে দক্ষ, মানবিক ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবো। আমাদের এ প্রয়াসের সাফল্যে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে ধ্যান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টোটাল ফিটনেস কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমি আশা করবো সবার মধ্যে ধ্যানের চর্চাটা ছড়িয়ে দিতে।’

মনোচিকিৎসক ও সাহিত্যিক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মশিউর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ফরহাদুল ইসলাম, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো ওমর ফারুকসহ কর্মকর্তারা।

ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টোটাল ফিটনেস প্রোগ্রামের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এর সাফল্য কামনা করেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বর্তমানে যে হতাশা, অস্থিরতা, মাদকাসক্তি, ডিজিটাল আসক্তি, অসহিষ্ণুতা এমনকি আত্মহননের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তা নিরসনে এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি অভিমত দেন।

আরও পড়ুন:
নিজ ক্লাসের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো যাবে না: শিক্ষামন্ত্রী
ধর্ম শিক্ষা বাদ দেয়ার খবরটি গুজব: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষাব্যবস্থায় আসছে আমূল পরিবর্তন
শিক্ষার্থীরা এবার বেশি এনার্জি নিয়ে পড়তে পারবে: শিক্ষামন্ত্রী
নতুন শিক্ষাক্রমে সপ্তাহ হবে ৫ দিনে: শিক্ষামন্ত্রী

মন্তব্য

অনুসন্ধান
Belayt finally became a student of State University

অবশেষে স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র হলেন বেলায়েত

অবশেষে স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র হলেন বেলায়েত বেলায়েত শেখ এখন স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র। ফাইল ছবি
রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন গাজীপুরের ৫৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বেলায়েত শেখ। কিন্তু দূরত্ব ও মায়ের আপত্তির কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশে ভর্তি হয়েছেন।

গাজীপুরের আলোচিত বেলায়েত শেখ অবশেষে স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের শিক্ষার্থী হলেন। তিনি বেসরকারি এই বিদ্যায়তনে জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর পর পর চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন ৫৫ বছর বয়সী অদম্য এই বিদ্যানুরাগী।

রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একই বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দূরত্ব ও মায়ের আপত্তির কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন।

বেলায়েত বলেন, ‘রাজশাহীতে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে মায়ের আপত্তি ছিল। তাছাড়া গাজীপুর থেকে রাজশাহীর দূরত্বও অনেক। এখানে ভর্তি হওয়ায় এখন বাড়ি থেকেই ঢাকায় ক্লাস করতে পারব।’

স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বেলায়েতের ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাসরিন আক্তার। তিনি জানান, বেলায়েত ২৭ সেপ্টেম্বর এই বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

নাসরিন আক্তার বলেন, ‘বেলায়েতের জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ ও সাধনা আমাদের অভিভূত করেছে। তার এই অগ্রযাত্রায় অংশ হতে পারায় আমাদের ভালো লাগছে।’

বেলায়েত ১৯৮৩ সালে প্রথমবার মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেও টাকার অভাবে সেবার নিবন্ধন করতে পারেননি। ১৯৮৮ সালে তিনি আবারও এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সে বছর সারা দেশে বন্যার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি।

এর কয়েক মাস পর তিনি একজন আলোকচিত্রী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ‘দৈনিক করতোয়া’র গাজীপুর জেলার শ্রীপুর প্রতিনিধি।

কর্মজীবন শুরুর পর বেলায়েত আর পড়ালেখা না করার সিদ্ধান্ত নেন। ছোট ভাইদের মাধ্যমে নিজের অধরা স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বর্তমানে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক।

অদম্য বেলায়েত অবশেষে ২০১৯ সালে এসএসসি ও ২০২১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। যে বছর তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দেন, একই বছর তার ছোট ছেলেও এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

আশপাশের মানুষের উপহাস আর বিদ্রূপ উপেক্ষা করে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া বেলায়েতের স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়ার। সে অনুসারে চলতি বছরের ১১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু সুযোগ পাননি।

পরে একে একে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেন তিনি। সবশেষে তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হলেন।

আরও পড়ুন:
জাবির ফল দেখে বেলায়েত বললেন, ‘আমার ভাগ্য খারাপ’
জাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে সেই বেলায়েত আহত
রাবিতে পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত বেলায়েত
ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দেবেন ৫৫ বছরের বেলায়েত

মন্তব্য

অনুসন্ধান
LEGAL NOTICE ON ELECTION OF PARENTAL REPRESENTATIVES OF VIKARUNNISA

ভিকারুননিসার অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন বন্ধে আইনি নোটিশ

ভিকারুননিসার অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন বন্ধে আইনি নোটিশ ফাইল ছবি
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু তিন্না খুরশিদ আদালত কর্তৃক ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক মনোনীত হয়েছেন, সেহেতু অবশ্যই তার ভোটার হওয়ার আইনগত অধিকার রয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা এবং নির্বাচন অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হলো।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২২ সালের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন এবং নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা বন্ধ রাখার জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক তিন্না খুরশিদ জাহানের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির সোমবার এ নোটিশ পাঠান।

শিক্ষাসচিব, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কলেজের এডহক কমিটির চেয়ারম্যান এবং অধ্যক্ষ বরাবর ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হয়।

হুমায়ন কবির সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, তিন্না খুরশিদ তার ভাইয়ের মেয়ের অভিভাবক হিসেবে মনোনীত হন আদালতের আদেশে। এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীর সিদ্ধান্ত নিয়ে তিন্না খুরশিদকে চিঠি লেখেন।

পরে ২০২২ সালের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য তিন্না খুরশিদ অভিভাবক হিসেবে ফরম পূরণ করে জমা দেন। কিন্তু তার নাম অন্তর্ভুক্ত না করেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।

একপর্যায়ে তিন্না খুরশিদ তার নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য শিক্ষাসচিব, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান, স্কুলের এডহক কমিটির চেয়ারম্যান এবং অধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করেন। আবেদনে সাড়া না পেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু তিন্না খুরশিদ আদালত কর্তৃক উক্ত শিক্ষার্থীর অভিভাবক মনোনীত হয়েছেন, সেহেতু অবশ্যই তার ভোটার হওয়ার আইনগত অধিকার রয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা এবং নির্বাচন অনুষ্ঠান বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হলো।

এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:
ভিকারুননিসায় কামরুন নাহারের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ
এ অধ্যক্ষ ছাড়া কি ভিকারুননিসা চলবে না: হাইকোর্ট
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষ কামরুন নাহারের পদত্যাগ দাবি

মন্তব্য

অনুসন্ধান
National University Masters Result Released Pass 68 19

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ফল প্রকাশ, পাস ৬৮.১৯%

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ফল প্রকাশ, পাস ৬৮.১৯%
রোববার বিকেলে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ৯০৯ জন। ১১৭টি কেন্দ্রে ১৭৫টি কলেজে ৩০টি বিষয়ে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৯ সালের মাস্টার্স শেষ পর্ব পরীক্ষায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ১৯ শতাংশ।

রোববার বিকেলে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ৯০৯ জন। ১১৭টি কেন্দ্রে ১৭৫টি কলেজে ৩০টি বিষয়ে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ পরিচালক মো. আতাউর রহমান সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ফলাফল জানানো হয়।

প্রকাশিত ফলে কোনো প্রকার অসংগতি বা ভুল পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধন অথবা ফল সম্পূর্ণ বাতিল করার ক্ষমতা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংরক্ষণ করে।

মুঠোফোন থেকে এসএমএসের মাধ্যমে বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এই ফল পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন:
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডিতে ভর্তির আবেদন শুরু ১৪ জুন
অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল প্রকাশ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তি আবেদন শুরু
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ভর্তির আবেদন শুরু ২২ মে
ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ফল প্রকাশ

মন্তব্য

অনুসন্ধান
Comilla University closed due to BCL conflict

ছাত্রলীগের দ্বন্দ্বে বন্ধ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রলীগের দ্বন্দ্বে বন্ধ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শনিবার বিকেলে অস্ত্র হাতে মুখোমুখি অবস্থান নেয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ। ফাইল ছবি: নিউজবাংলা
আগামী ১০ থেকে ১৭ অক্টোবরের সব পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ছাত্রদের এবং সোমবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত হলগুলো বন্ধ থাকবে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল বন্ধ ঘোষণা ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোববার এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সভা শেষে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আমিরুল হক চৌধুরী।

তিনি জানান, আগামী ১০ থেকে ১৭ অক্টোবরের সব পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। রোববার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ছাত্রদের এবং সোমবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত হলগুলো বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজস্ব পরিবহন ছাড়া সব পরিবহন বন্ধ থাকবে।

শুক্রবার রাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ছাত্রলীগ সভাপতি ও সম্পাদকের সই করা এক বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ নিয়ে কুবি ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ তার ফেসবুক আইডিতে উল্লেখ করেন, ‘কমিটি বিলুপ্তির কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দেবে।’

শুক্রবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারে শনিবার বেলা ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থান নেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। উপাচার্য স্যারসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জরুরি মিটিংয়ে আজকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
ক্যাম্পাসে অস্ত্র হাতে ঘুরছে ছাত্রলীগের ২ গ্রুপ

মন্তব্য

p
উপরে