প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর প্রাদেশিক সরকারের উপনির্বাচনে ভূমিধস জয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হওয়া ইমরান খানের এই পরিণতি কেন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা পর্যালোচনা।
নির্বাচন কমিশন তাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার কারণ হিসেবে রাষ্ট্রীয় উপহার বেআইনিভাবে বিক্রি করে দেয়ার কথা উল্লেখ করেছে। পাকিস্তানের রাজনীতির অতীতের নানা ঘাত-প্রতিঘাতের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে নেপথ্যে অন্য কিছু আছে কি না, এই বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হচ্ছে।
তথ্য ভুল দেয়ায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতাকে পাঁচ বছরের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। ফলে আগামী বছরে হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারছেন না।
দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সিকান্দার সুলতান রাজার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের কমিশন ইসলামাবাদ কার্যালয়ে শুক্রবার এই রায় ঘোষণা করে। রায়ে একই সঙ্গে জানানো হয়, ভুল তথ্য দেয়ার জন্য ইমরানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবে।
হঠাৎ ক্ষমতাচ্যুতির পর তেজ দেখাচ্ছিলেন ইমরান
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে চমক দেখিয়ে ক্ষমতায় আসা ইমরান খান যখন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূরণ করতে যাচ্ছিলেন, ঠিক সে সময় তার পতন ছিল বড় চমক।
এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে সাবেক এই ক্রিকেটার অভিযোগ তোলেন, আমেরিকার মদতে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। ক্ষমতা থেকে সরে গিয়ে তিনি দ্রুত জাতীয় নির্বাচন দেয়ার দাবিতে বিশাল বিশাল সমাবেশ করে নিজের জনভিত্তির প্রমাণ দিচ্ছিলেন।
কেবল পাঁচ দিন আগে জাতীয় পরিষদের আটটি আসনের উপনির্বাচনের ছয়টিতে জিতে ইমরান দেখিয়েছিলেন জনগণ তার পক্ষেই আছে। তবে এই সুখ বেশিদিন টিকল না।
অভিযোগের যে জবাব দিয়েছিলেন ইমরান
ক্ষমতা ছাড়ার চার মাসের মাথায় জাতীয় পরিষদের স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফ তোশাখানা মামলার আলোকে ইমরান খানের অযোগ্যতা চেয়ে চলতি বছরের আগস্টে নির্বাচন কমিশনে রেফারেন্স পাঠান। এতে দাবি করা হয়, ইমরান খান তোশাখানা থেকে নেয়া উপহারের বিবরণ এবং এই উপহার বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের তথ্য প্রকাশ করেননি।
৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জবাব দেন ইমরান খান। তিনি স্বীকার করেন, প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় অন্তত চারটি উপহার তিনি বিক্রি করেছিলেন। তবে সে ক্ষেত্রে তিনি কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেননি।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ২ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার রুপিতে যে উপহারগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো ৫ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে তিনি বিক্রি করেছেন। এসব উপহারের একটিতে আছে হীরাখচিত হাতঘড়ি, এক জোড়া কাফ লিঙ্ক, একটি দামি কলম এবং একটি আংটি। বাকি তিনটি উপহারের মধ্যে আছে চারটি রোলেক্স ঘড়ি।
২০১৮ সালের জুলাই থেকে পরের বছরের জুন পর্যন্ত ইমরান খান ৩১টি উপহার পেয়েছিলেন, যেগুলোর মধ্যে নিয়ম মেনে চারটির দাম পরিশোধ করেছিলেন তিনি। নিয়মটি হলো- উপহারের দাম ৩০ হাজার রুপির কম হলে, সেগুলোর জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হয় না।
২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ইমরান ৯টি উপহার পেয়েছেন। এগুলোর মধ্যে তিনটির জন্য ১০ লাখ ৭১ হাজার রুপি দিয়েছেন।
ইমরান দাবি করেন, এসব উপহার তিনি কয়েকজনকে দিয়ে দিয়েছেন; যাদের নাম প্রকাশ করেননি পিটিআই প্রধান। এসব উপহারের মধ্যে স্বর্ণ ও হীরা দিয়ে তৈরি লকেট, এক জোড়া কানের দুল (সোনা এবং হীরা) এবং হীরার একটি আংটি। এই গহনা কেনার জন্য তিনি ৫ লাখ ৪৪ হাজার রুপি জমা করেছিলেন।
২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ইমরান ১২টি উপহার পেয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচটির জন্য তিনি ১ কোটি ২৯ লাখ রুপি দিয়েছেন। ২০২১ সালের জুলাই ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ছয়টি উপহার পান; এর মধ্যে দুটির জন্য ৩১ লাখ রুপি দেন তিনি।
ইমরান আরও জানান, তার মেয়াদে বিভিন্ন কর্মকর্তারা ৩২৯টি উপহার পেয়েছেন; যার মধ্যে ফুলদানি, আর্ট পিস, লকেট এবং ডেকোরেটিভ আইটেমসহ ৫৮টি উপহার তাকে এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে উপহার দেয়া হয়েছিল। এসব উপহারের মধ্যে কেবল ১৪টি আইটেম ছিল ৩০ হাজার রুপির বেশি মূল্যের, নিয়মিত পদ্ধতি অনুসারণ করে এগুলো মূল্য তিনি পরিশোধ করেছিলেন।
শুনানিতে যেসব আর্জি নাকচ
জাতীয় পরিষদের স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফ তোশাখানা মামলার আলোকে ইমরান খানের অযোগ্যতা চেয়ে ইসিপিতে যে রেফারেন্স পাঠিয়েছিলেন, তার জবাবে ইমরান খানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, মোবাইল, ঘড়ি, জুতা এবং এ জাতীয় অন্যান্য জিনিস কমিশনের কাছে আজ পর্যন্ত সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেননি জাতীয় পরিষদের কোনো সদস্য।
যে চারটি উপহার ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে বিক্রি হয়েছিল, সেগুলো অভিযুক্তের কাছে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পৌঁছেনি। অতএব, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের করা সম্পদের বিবরণীতে সেগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিক্রয়ের পরিমাণ (এ) ব্যাংক আল-ফালাহ অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল এবং সেই পরিমাণ যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
আবার, ২ কোটি ১২ লাখ ২৬ হাজার রুপির উপহারের মূল্য ইমরান জমা দিয়েছেন; ২০১৯ সালের আয়কর রিটার্নে যা উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার আলী জাফর আদালতে পিটিআই প্রধানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন। মামলাটিকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তিনি ইমরানের বিরুদ্ধে রেফারেন্স বাতিলের জন্য পাঁচ সদস্যের ইসিপি বেঞ্চকে অনুরোধ করেছিলেন।
জাফর আলী বলেছিলেন, ‘বিভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলাটি হয়েছে। এখানে ক্ষমতা ও সংবিধানের অপব্যাবহার হয়েছে।’
ইমরানের আইনজীবীর দাবি ছিল, রেফারেন্সটি এত গুরুত্ব পাওয়ার উপযুক্ত ছিল না। অতএব, মামলাটি খারিজ করে দেয়া উচিত।
সংগীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়। ছবি: বেঙ্গল ফাউন্ডেশন
‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের প্রখ্যাত শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায় আর নেই, যার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে শনিবার তার মৃত্যু হয়।
গত সপ্তাহ থেকেই এ শিল্পী হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন। জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সময় তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাই স্নায়ু এবং নাক-কান ও গলা বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা হয় তার।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, প্রতুলের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। দ্রুত তাকে কার্ডিওলজি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে শিল্পীর ফুসফুসেও সংক্রমণ দেখা দেয়। দ্রুতই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে।
প্রতুলের গাওয়া অন্যতম জনপ্রিয় গান হলো ‘আমি বাংলায় গান গাই’, ‘ডিঙ্গা ভাসাও সাগরে সাথী রে’। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তার গানের গুণমুগ্ধ ছিলেন। মমতার তত্ত্বাবধানেই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল তাকে।
বাংলাদেশের বরিশাল জেলায় ১৯৪২ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। বাবা ছিলেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। শৈশব থেকেই গান লিখে তাতে সুর দিয়ে গাওয়ার ঝোঁক ছিল তার।
প্রতুল মুখোপাধ্যায়কে পাদপ্রদীপের আলোয় আনে তার গাওয়া ‘আমি বাংলায় গান গাই’। এ ছাড়া সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে তৈরি ‘গোঁসাইবাগানের ভূত’ ছবির নেপথ্য শিল্পী ছিলেন তিনি।
তার মতে, সৃষ্টির মুহূর্তে লেখক-শিল্পীকে একা হতে হয়। তারপর সেই সৃষ্টিকে যদি মানুষের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া যায়, কেবল তাহলেই সেই একাকিত্বের সার্থকতা। সেই একক সাধনা তখন সকলের হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় হারনাই জেলায় বিস্ফোরণস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা। ছবি: এএফপি
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় হারনাই জেলায় শুক্রবার শ্রমিক বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন।
দেশটির কোয়েটা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা শাহজাদ জাহরি এএফপিকে জানান, হারনাই জেলায় এ বোমা বিস্ফোরণে ১০ খনিশ্রমিক নিহত হন।
একই জেলার আরেক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা সেলিম তারিন এএফপিকে বলেন, ‘শ্রমিকরা কাজের জায়গা থেকে বাজারে কেনাকাটার জন্য যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই তাদের গাড়িটি আক্রমণের শিকার হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি ছিল একটি আইইডি বিস্ফোরণ।আমরা হামলার তদন্ত করছি।’
হারনাই দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটা থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি জেলা।
কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে বেলুচ লিবারেশন আর্মি প্রায়ই অন্যান্য প্রদেশের নিরাপত্তা বাহিনী বা পাকিস্তানিদের, বিশেষ করে বেলুচিস্তানের পাঞ্জাবিদের বিরুদ্ধে মারাত্মক হামলার দাবি করে।
আরও পড়ুন:
সশস্ত্র প্রহরায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: ইউএনবি
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সেনাবাহিনীর আলাদা তিন অভিযানে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত, কারাক ও খাইবার জেলায় অভিযান চালায়।
এতে আরও বিবৃতিতে বলা হয়, লাক্কি মারওয়াতে অভিযানে ১৮ সন্ত্রাসী নিহত ও ছয়জন আহত হন। কারাক জেলায় আরও ৮ সন্ত্রাসী নিহত হন।
সেনাবাহিনী আরও বলেছে, তাদের তৃতীয় অভিযানটিতে গোষ্ঠীটির নেতাসহ ৪ সন্ত্রাসী নিহত ও দুজন আহত হন।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
এলাকায় অন্য সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি নির্মূল করতে একটি ক্লিয়ারেন্স অপারেশন চালানো হচ্ছে।
সেনাবাহিনী বলেছে, দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদের বিপদ নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
আরও পড়ুন:
প্রতীকী ছবি
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি এক নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে।
তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে।
পুলিশ জানায়, একটি অ্যাপার্টমেন্টে গৃহকর্মীর কাজ করতেন ওই নারী। বৃহস্পতিবার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে।
বাহিনীটি আরও জানায়, শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা একটি নির্জন এলাকায় নারীর মৃতদেহ দেখতে পান। তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন।
কর্ণাটক থেকে পিটিআই শনিবার এ খবর জানায়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রাণ হারানো নারী বাংলাদেশি নাগরিক, যিনি ছয় বছর ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন।
তার কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। তবে তার স্বামীর বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি মেডিক্যাল ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
ওই নারী বৃহস্পতিবার তার সহকর্মীকে বলেছিলেন, তার কিছু ব্যক্তিগত কাজ আছে এবং দেরি হতে পারে। তাই সহকর্মীকে বলেন তাকে ছাড়াই চলে যেতে। তবে বাড়ি ফিরতে নারীর দেরি হলে তার স্বামী রামমূর্তি নগর থানায় অভিযোগ করেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী স্বেচ্ছায় কোনো নির্জন জায়গায় গিয়েছিলেন পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা করার জন্য। শুক্রবার সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তার মাথায় গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল।
তথ্য পাওয়ার পর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও ডগ স্কোয়াড নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পূর্ব বিভাগ পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) দেবরাজ।
আরও পড়ুন:
অস্ত্র হাতে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য। ছবি: এএফপি
ভারতের মধ্যাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১২ মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন।
নয়াদিল্লি মাওবাদীদের দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতা দমনে পদক্ষেপ জোরদার করেছে। শুক্রবার পুলিশ এই খবর জানায়।
কয়েক দশকের মাওবাদী সহিংসতায় ১০ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হন।
বিদ্রোহীদের দাবি, তারা প্রান্তিক আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সহিংসতার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছত্রিশগড়ের বিজাপুর জেলার বন-জঙ্গলে বৃহস্পতিবার এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা সুন্দররাজ পি. এএফপিকে বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১২ মাওবাদী নিহত হয়েছে।’
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে দুই শতাধিক মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হন।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, সরকার আশা করছে ২০২৬ সালের মধ্যে বিদ্রোহীদের দমন করা সম্ভব হবে।
বিদ্রোহীরা গত কয়েক বছরে সরকারি সেনাদের টার্গেট করে বেশ কিছু প্রাণঘাতী হামলা চালায়।
চলতি মাসের গোডার দিকে রাস্তায় পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে ৯ ভারতীয় সেনা নিহত হন।
আরও পড়ুন:
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সাইফ আলী খান। ছবি: ইউএনবি
ভারতের মুম্বাইয়ে নিজ বাসায় অনুপ্রবেশকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সাইফ আলী খান।
স্থানীয় সময় বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, রাত আড়াইটায় একজন অনুপ্রবেশকারী বাসায় ঢুকে সাইফ আলীকে ছয়বার ছুরিকাঘাত করে। বর্তমানে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার চলছে।
হাসপাতালকর্মীরা বলছেন, সাইফ আলী খান এখন বিপদমুক্ত। রাতে তার নিউরো সার্জারি করা হয়েছে। বর্তমানে প্লাস্টিক সার্জারি চলছে।
এ ঘটনায় বান্দ্রা থানায় একটি এজাহার করা হয়েছে। তাতে বলা হয়, সাইফ আলী যখন বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন একজন অনুপ্রবেশকারী চুপিসারে তার বাসায় ঢোকেন। এ সময়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে সাইফের হাতাহাতি হয়।
এরপর সাইফ আলী খানকে ছয়বারের বেশি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান অনুপ্রবেশকারী।
এক বিবৃতিতে লীলাবতী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ছয়টি আঘাতের মধ্যে দুটি তার মেরুদণ্ডের কাছে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।
এরই মধ্যে তার বাসার তিন পরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে তদন্ত করছে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
এক বিবৃতিতে সাংবাদিক ও ভক্তদের ধৈর্য ধারণ করতে বলেছে সাইফ আলী খান টিম।
এতে বলা হয়, ‘এটি এখন পুলিশের কাজ। আমরা আপনাদের হালানাগাদ তথ্য জানিয়ে দেব।’
কারিনা কাপুর খান টিমও একই বিবৃতি দিয়ে বলেছে, ‘পরিবারের অন্য সদস্যরা ভালো আছেন।’
আরও পড়ুন:
ইসলামি বিশ্বে নারী শিক্ষাবিষয়ক বিশ্বব্যাপী এক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মালালা ইউসুফজাই এখন পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। ছবি: এএফপি
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই শনিবার বলেছেন, তিনি তার জন্মভূমি পাকিস্তানে ফিরে আসতে পেরে ‘অভিভূত’ ও ‘আনন্দিত’।
ইসলামি বিশ্বে নারী শিক্ষাবিষয়ক বিশ্বব্যাপী এক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি এখন পাকিস্তানে অবস্থান করছেন।
ইসলামাবাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ২০১২ সালে স্কুলছাত্রী মালালাকে পাকিস্তানি তালেবানরা গুলি করে এবং এরপর তিনি বিদেশে চলে যান। বিদেশে যাওয়ার পর মাত্র কয়েকবার তিনি দেশে আসেন।
রাজধানী ইসলামাবাদে সম্মেলনে পৌঁছে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে ফিরে আসতে পেরে আমি সত্যিই সম্মানিত, অভিভূত ও আনন্দিত।’
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুই দিনব্যাপী এ শীর্ষ সম্মেলন উদ্বোধন করেন শনিবার সকালে। এতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর প্রতিনিধিরা একত্রিত হবেন।
স্থানীয় সময় রোববার ইউসুফজাইয়ের সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম এক্সে শুক্রবার তিনি বলেন, ‘আমি সকল মেয়ের স্কুলে যাওয়ার অধিকার রক্ষার বিষয়ে কথা বলব। আফগান নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য কেন তালেবান নেতাদের জবাবদিহি করতে হবে, সে ব্যাপারেও বলব।'
দেশটির শিক্ষামন্ত্রী খালিদ মকবুল সিদ্দিকী এএফপিকে জানান, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে এ সম্মেলনে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তালেবান ইসলামাবাদের এ আমন্ত্রণে কোনো সাড়া দেয়নি।
আফগানিস্তান বিশ্বের একমাত্র দেশ, যেখানে মেয়ে ও নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যেতে বাধা দেওয়া হয়। ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে তালেবান সরকার আফগানিস্তানে কঠোরভাবে ইসলামী আইন আরোপ করেছে। জাতিসংঘ একে ‘লিঙ্গ বর্ণবাদ’ বলে অভিহিত করেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, পাকিস্তান তীব্র শিক্ষা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। দেশটিতে দুই কোটি ৬০ লাখের বেশি শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে। তাদের অধিকাংশই দারিদ্র্যের কারণে স্কুলে ভর্তি হওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
প্রত্যন্ত সোয়াত উপত্যকার একটি স্কুল বাসে ২০১২ সালে পাকিস্তান তালেবান জঙ্গিদের হামলার পর ইউসুফজাই বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে ওঠেন। এরপর তাকে যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে তিনি নারী শিক্ষার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রবক্তা হয়ে ওঠেন। ১৭ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হন তিনি।
আরও পড়ুন:
মন্তব্য