× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

আন্তর্জাতিক
Israeli lie in journalist Shirins murder
hear-news
player
print-icon

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় ইসরায়েলি মিথ্যাচার

সাংবাদিক-শিরিন-হত্যায়-ইসরায়েলি-মিথ্যাচার
আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহক। ছবি: এএফপি
ইসরায়েলের প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থা- বিটস্লেম বলছে, ইসরায়েল শিরিনের হত্যা নিয়ে যে ভিডিও প্রকাশ করেছে, সে জায়গাটি হত্যাকাণ্ডের স্থান থেকে ৩০০ মিটার (৯৮৫ ফুট) দূরে। শিরিনের কর্মস্থল আল জাজিরার সানাদ নিউজ ভেরিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটও বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। তারাও দাবি করেছেন ভিডিওটি ভুয়া।  

আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে যেদিন হত্যা করা হয়, সেদিন তার মাথায় ছিল হেলমেট, গায়ে ছিল ভেস্ট। যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল ‘প্রেস’।

গুলি হেলমেট ও ভেস্টের ঠিক মাঝখান দিয়ে শিরিনের ঘাড়ে বিদ্ধ হয়। এ সময় শিরিনের সহকর্মীরা এবং পথচারীরা তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করলে গুলি চলতে থাকে। তাই তারা এগিয়ে আসতে পারেননি। নিথর পড়ে ছিল শিরিনের দেহ।

শুরুতে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। বিষয়টি প্রমাণে একটি ভিডিও প্রকাশ করে তেল আবিব। যেখানে দেখা যায়, একদল ফিলিস্তিনি গুলি ছুড়তে ছুড়তে একটি সরু গলি পার হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থা- বিটস্লেম ওই ভিডিও ধারণের স্থানটি খুঁজে পেয়েছেন। তারা বলছে, ওই ভিডিওটি শিরিন হত্যাকাণ্ডের স্থান থেকে ৩০০ মিটার (৯৮৫ ফুট) দূরের একটি স্থান।

শিরিনের কর্মস্থল আল জাজিরার সানাদ নিউজ ভেরিফিকেশন অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটও বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। তারাও দাবি করেছেন ভিডিওটি ভুয়া।

প্রপাগান্ডায় কাজ না হওয়ায় আগের অবস্থান থেকে সরে আসে ইসরায়েল সরকার। তারা এই হত্যার তদন্ত করার আশ্বাস দেয়। তবে শেষমেশ আগের রূপেই ফিরেছে ইসরায়েল সরকার। তদন্ত না করার ইঙ্গিত দিয়েছে তেল আবিব। অতীতে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় তদন্ত করে নিজ দেশে সমালোচিত হয়েছিল দেশটির সরকার।

পশ্চিম জেরুজালেম থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ইমরান খান বলেন, ‘আসলে সক্রিয় সামরিক অভিযানে একজন চাকরিরত ইসরায়েলি সেনা অফিসার বা সৈনিকের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্ত খুলতে হবে। ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টা এখন একেবারেই অসম্ভব।

‘তদন্ত হলে সরকারের ওপর হামলা হবে। বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। এ ছাড়া সাধারণত ইসরায়েলিরা সেনাবাহিনীকে অন্য চোখে দেখে। তারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে সেনারা তাদের রক্ষক।’

ইসরায়েলের জনপ্রিয় দৈনিক হারেটজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় ফৌজদারি আইন লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ নেই। ইসরায়েলি সেনারা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা ভেবেছিল ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের দিকে গুলি ছোড়া হচ্ছিল। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাংবাদিক শিরিনের আশপাশে কোনো গুলি চলেনি।

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় ইসরায়েলি মিথ্যাচার
গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক শিরিনের নিথর দেহের পাশে এক সহকর্মী। ছবি: সংগৃহীত

শিরিনের শরীর থেকে বের করা বুলেটের টুকরা প্রমাণ হিসেবে রেখেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলের সামরিক পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বলছে, তদন্ত হলে ইসরায়েলি সেনাদের সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি ইসরায়েলি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেটজের বরাতে বৃহস্পতিবার এ খবর ছেপেছে জেরুজালেম পোস্ট।

সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ দুই দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা করেছেন। ২০০০ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা বিদ্রোহের সময় পশ্চিম তীরের প্রধান শহরগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বড় বড় হামলাগুলো কভার করে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন শিরিন।

পশ্চিম তীরের শহর জেনিনে গত ১১ মে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের খবর কভার করার সময় গুলিতে নিহত হন ৫১ বছরের শিরিন। প্রত্যক্ষদর্শী এবং তার সহকর্মীদের দাবি, ইসরায়েলি স্নাইপারের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন শিরিন।

সাংবাদিক শিরিন হত্যায় ইসরায়েলি মিথ্যাচার
পূর্ব জেরুজালেমে নেয়া হচ্ছে সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকের মরদেহ। ছবি: এপি

হারেটজের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় শিরিনের পরিবার জানিয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী মৃত্যুর তদন্ত না করায় তারা বিস্মিত নয়।

‘আমরা এটিই আশা করছিলাম। এ কারণেই আমরা চাইনি তারা (ইসরায়েল) তদন্তে অংশ নিক। আমরা এই কাজের জন্য দায়ী যে কাউকেই জবাবদিহি করতে চাই।

‘যেহেতু তিনি একজন আমেরিকান নাগরিক, তাই আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। সেই সঙ্গে একটি ন্যায্য ও স্বচ্ছ তদন্ত শুরুর পাশাপাশি এসব হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’

জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। নিজের নাগরিকের হত্যার তদন্তে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

 

আরও পড়ুন:
পশ্চিম তীরে আরও ৪ হাজার বসতি গড়বে ইসরায়েল
ক্ষমা চেয়েছেন পুতিন: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী
ইসরায়েলে হামলায় তিনজন নিহত
‘ইসরায়েলে সরাসরি হামলা চালাতে পারে ইরান’
অজানা জন্ডিসে আক্রান্ত ইসরায়েলের ১২ শিশু

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Hajj without permission is a fine of two and a half lakh rupees

অনুমতি ছাড়া হজ করলেই আড়াই লাখ টাকা জরিমানা

অনুমতি ছাড়া হজ করলেই আড়াই লাখ টাকা জরিমানা এ বছর ১০ লাখ মুসলিম হজ পালন করবেন। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির পর এই প্রথমবারের মতো সৌদি আরব ১০ লাখ মুসলিমকে হজ করার অনুমতি দিবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে হাজিরা সৌদি আরবে আসা শুরু করেছে। এবার অনুমতি ছাড়া হজ পালনের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরব ঘোষণা করেছে যে কেউ অনুমতি ছাড়া হজ পালন করলে তাকে ২ হাজার ৬৬৫ ডলার (২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৪৫ ডলার) জরিমানা করা হবে।

আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাতে এমনটাই জানা গেছে।

এ ছাড়া সৌদি আরবের জননিরাপত্তা বিভাগের মুখপাত্র সামি আল-শুওয়াইরেখ বলেছেন, হজ মৌসুমে নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য সব পবিত্র স্থানের ভেতরে ও পবিত্র স্থানগুলোর দিকে যাওয়া রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, অন্যের হয়ে হজ করার প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন দেয়ার কারণে নিরাপত্তা বাহিনী ১৯ জনকে আটক করেছে।

হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। ধর্মীয় নিয়ম মোতাবেক সামর্থ্যবান মুসলিমদের জীবনে অন্তত একবার হজ করতে হয়।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত দুই বছর হজযাত্রীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার পর এই বছর সৌদি কর্তৃপক্ষ ১০ লাখ মুসলিমকে হজ করার অনুমতি দেবে।

আরও পড়ুন:
হজে যাওয়া আরও ২ বাংলাদেশির মৃত্যু
সৌদিতে বাংলাদেশি আরেক হজযাত্রীর মৃত্যু
হজযাত্রীদের আসন রিজার্ভের তথ্য চায় ধর্ম মন্ত্রণালয়
হজে গিয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশির মৃত্যু
হজের খুতবায় বাংলাসহ ১০ ভাষা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Hamas will overthrow the Israeli government in 5 minutes

‘৫ মিনিটেই ইসরায়েল সরকারকে ধসিয়ে দেবে হামাস’

‘৫ মিনিটেই ইসরায়েল সরকারকে ধসিয়ে দেবে হামাস’ হামাসের কাছে বিভিন্ন ধরনের ও পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আল-কুদস ও আল-আকসায় ইহুদিবাদী ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে ইসমাইল হানিয়াহ বলেন, লেবানন থেকে আমি আপনাদের বলছি, যে আমরা আপনার স্বপ্নকে ধ্বংস করে দেব এবং আল-কুদস আর আল-আকসায় আপনাদের কোনো স্থান নেই।

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের মধ্যে নতুন কোনো সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনের ক্ষেপণাস্ত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে দখলদার সত্তাকে ধ্বংস করে ফেলবে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম পার্স টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস প্রধান লেবাননে এক সমাবেশে রোববার বক্তব্য দেয়ার সময় সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েল সামরিক সংঘাত নিয়ে এই মন্তব্য করেন।

সেই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে কিছু আরব দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন হানিয়াহ।

ইসমাইল হানিয়াহ বক্তব্য দেয়ার সময় আরও বলেন, ’৭৪ বছর আগে থেকেই লেবানন ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতিশীল। আজ আমরা আল-আকসা মসজিদের (আসন্ন মুক্তি) দেখতে পাচ্ছি, কারণ আমরা বিজয় এবং উন্নয়নের পথে আছি, যার গতিপথ আমাদের জাতি ও আমাদের প্রতিরোধ দ্বারা নির্ধারিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ক্ষেত্রে ১৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ৫ মিনিটেরও কম সময়ে ইহুদিবাদী সরকারকে ধ্বংস করবে।

‘৫ মিনিটেই ইসরায়েল সরকারকে ধসিয়ে দেবে হামাস’
হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ

আল-কুদস ও আল-আকসায় ইহুদিবাদী ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লেবানন থেকে আমি আপনাদের বলছি, যে আমরা আপনার স্বপ্নকে ধ্বংস করে দেব এবং আল-কুদস আর আল-আকসায় আপনাদের কোনো স্থান নেই।’

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গ্যান্টজ তেলআবিব ও আরব মিত্রদের সমন্বিত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ইরানবিরোধী আঞ্চলিক সামরিক ফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব দেয়ার পরই এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য করলেন হানিয়া।

আরও পড়ুন:
গাজায় হামাসের স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলা
ফিলিস্তিনিদের পোস্ট মুছে দেয় ফেসবুক
ফিলিস্তিন সংকটের সমাধান খুঁজুন: জাতিসংঘে বাংলাদেশ
ফিলিস্তিনের জন্য ভালোবাসা
ইসরায়েলিকে হত্যা, পাল্টা হামলায় ফিলিস্তিনি নিহত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Iraq Iran close on Saudi issue

সৌদি ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ ইরাক-ইরান

সৌদি ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ ইরাক-ইরান ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-কাদিমি (ডানে) ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে দেখা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্প্রতি সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন সৌদি আরবের পরবর্তী বাদশাহ মোহাম্মদ বিন সালমান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক চুক্তি করছে ইসরায়েল। এবার সৌদি থেকে সরাসরি ইরানে গেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল-কাদিমি।

করোনার প্রাথমিক ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই মুদ্রাস্ফীতির কবলে পড়েছে গোটা বিশ্ব। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে চালানো রাশিয়ার ‘বিশেষ অভিযানে’ ব্যাহত হচ্ছে পণ্য রপ্তানি। কৃষ্ণ সাগর অনেকটায় অচল করে রেখেছে মস্কো।

এই অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্প্রতি সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করছেন সৌদি আরবের পরবর্তী বাদশাহ মোহাম্মদ বিন সালমান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক চুক্তি করছে ইসরায়েল।

এবার প্রতিবেশী ইরান সফর করছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল-কাদিমি। এর আগে রিয়াদ ঘুরে আসেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রোববার তেহরানে পৌঁছান মোস্তফা আল-কাদিমি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আল-কাদিমি বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন এবং অন্যদের সঙ্গে রাজধানীর সাদাবাদ প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন কাদিমি।

জেদ্দায় শনিবার রাতে সংক্ষিপ্ত সফরে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ব্যক্তিগতভাবে ইরাকি নেতাকে স্বাগত জানানোর পর এই সফর হলো।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বলছে, কাদিমি এবং যুবরাজ সালমান শান্ত ও গঠনমূলক সংলাপের চেষ্টা করছেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করেছেন।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সফরটিকে আঞ্চলিক শত্রু তেহরান এবং রিয়াদের সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকে। ইয়েমেন ইস্যুতে সাত বছর ধরে ইরান-সৌদি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে আছে।

আলোচনার পর সংবাদ সম্মেলনে রাইসি এবং কাদিমি সৌদি আরবের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ না করলেও অঞ্চলজুড়ে সম্পর্কোন্নয়নে জোর দিয়েছেন। ইয়েমেনে জাতিসংঘের প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কথাও জানান তারা।

ইয়েমেন ইস্যুতে দুই নেতাই বলেছেন, ‘যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ না, সংলাপই কেবল যুদ্ধের সমাধান করতে পারে।’

দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রশংসা করেন বলেন, ‘ আর্থিক লেনদেনের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ধর্মীয় তীর্থযাত্রা সহজতর করা, ইরানের শালামচেহ এবং ইরাকের বসরাকে সংযুক্ত করে এমন একটি রেলপথের কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।’

বাদদাদের মধ্যস্থতায় ২০২১ সালের এপ্রিলে তেহরান-রিয়াদ সরাসরি আলোচনা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচ দফা আলোচনা হলেও ২০১৬ সালে ছিন্ন হওয়া আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়ে এখনও কোনো চুক্তিতে আসতে পারেনি তারা।

সেই সময়ে বিক্ষোভকারীরা সৌদি আরবের পর ইরানে সৌদি কূটনৈতিক মিশনে হামলা চালায়। প্রখ্যাত এক শিয়া ধর্মীয় নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় সেখানে।

এখন পর্যন্ত এই আলোচনার একমাত্র অর্জন, জেদ্দাভিত্তিক অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশনে ইরানের প্রতিনিধি অফিস পুনরায় চালু করা।

আরও পড়ুন:
ইরানকে ছাড়াই গ্যাস তুলবে সৌদি-কুয়েত
ইরাকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় নিল ইরান

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Hajj without begging bond

হজে গিয়ে ভিক্ষা, মুচলেকায় ছাড়া বাংলাদেশি

হজে গিয়ে ভিক্ষা, মুচলেকায় ছাড়া বাংলাদেশি ফাইল ছবি
২২ জুন মতিয়ার মদিনায় ভিক্ষা করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তিনি সবাইকে বলছিলেন, তার মানিব্যাগটি ছিনতাই হয়ে গেছে। খবর নিয়ে জানা গেছে, মতিয়ার সৌদিতে কোনো হোটেল বুক করেননি। তাকে গাইড করার মতো কোনো মোয়াজ্জেমও ছিল না।

হজের সময় ভিক্ষা করার অপরাধে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। পরে বাংলাদেশ হজ মিশনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

কাউন্সিলর (হজ) জহরুল ইসলামের বরাতে বাংলা ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, ওই ব্যক্তির নাম মতিয়ার রহমান, বাড়ি মেহেরপুর জেলায়। ধানসিঁড়ি ট্র্যাভেল এয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে হজ করতে সৌদি গিয়েছিলেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ জুন মতিয়ার মদিনায় ভিক্ষা করতে গিয়ে সৌদি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। তিনি সবাইকে বলছিলেন, তার মানিব্যাগটি ছিনতাই হয়ে গেছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, মতিয়ার সৌদিতে কোনো হোটেল বুক করেননি। তাকে গাইড করার মতো কোনো মোয়াজ্জেমও ছিল না।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রাণলয় ইতোমধ্যে ওই হজ এজেন্সিকে নোটিশ পাঠিয়েছে। জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের বিরুদ্ধে হজ ও ওমরাহ আইন, ২০২১-এর ১৩ ধারার অধীনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না।

উপসচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তাদের নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

হজ অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সভাপতি শাহাদাত হোসেন তাসলিম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে জননিরাপত্তার অধীনে এক সৌদি নাগরিকসহ ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। এদের বেশির ভাগের সৌদিতে থাকার বৈধতা নেই।

তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া হজ প্রচার চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুয়া হজ ও ওমরাহ প্রচার কার্যালয় পর্যবেক্ষণের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে তারা গ্রেপ্তার হন।

সৌদি গ্যাজেটের খবরে বলা হয়, রিয়াদের চারটি স্থান এবং আল-কাসিম অঞ্চলের দুটি এলাকায় জাল হজ প্রচারণার বিজ্ঞাপন এবং বিপণনের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা। তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থও হাতিয়ে নিচ্ছিল।

হজে গিয়ে ভিক্ষা, মুচলেকায় ছাড়া বাংলাদেশি

প্রসিকিউশন জানিয়েছে, গ্রেপ্তার অবৈধ বিদেশিদের মধ্যে ১১ জন মিসরীয়, ১০ জন সিরিয়ান, ২ জন করে পাকিস্তানি ও সুদানি এবং একজন ইয়েমেনি ও বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সৌদি দূতাবাসের রাস্তার নাম ‘খাশোগজি ওয়ে’
হজযাত্রীদের আসন রিজার্ভের তথ্য চায় ধর্ম মন্ত্রণালয়
হজে গিয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশির মৃত্যু
হজের খুতবায় বাংলাসহ ১০ ভাষা
হজযাত্রীদের জন্য এক্সিম ব্যাংকের বাস উপহার

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The Khashoggi issue was suppressed by Turkey

খাশোগজি ইস্যু যে কারণে চেপে গেল তুরস্ক

খাশোগজি ইস্যু যে কারণে চেপে গেল তুরস্ক সৌদি সফরে এরদোগান ও মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের অনেক দেশের মতো অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকছে তুরস্ক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সহায়তার সন্ধানে আছে এরদোগান সরকার। এই পরিস্থিতিতে আঙ্কারা সফর করছেন সৌদি যুবরাজ।

তুরস্ক সফর করছেন সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমান। পশ্চিমা দুনিয়ায় তিনি এমবিএস নামে পরিচিত। সফরে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।

তুরস্কের ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগজিকে হত্যার পর আঙ্কারা-রিয়াদ সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ওই ঘটনার পর এই প্রথম তুরস্ক সফরে এলেন সৌদির ভবিষ্যৎ বাদশাহ।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, সফরে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ননে জোর চেষ্টা চালাবেন।

সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যায় সরাসরি মোহাম্মদ বিন সালমানকে দুষেছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবরাজ সালমান।

বিশ্বের অনেক দেশের মতো অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকছে তুরস্ক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সহায়তার সন্ধানে আছে এরদোগান সরকার। এই পরিস্থিতিতে আঙ্কারা সফর করছেন সৌদি যুবরাজ।

জ্যেষ্ঠ এক তুর্কি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘সফরটি “সম্পূর্ণ স্বাভাবিককরণ এবং প্রাক-সংকট সময়ের পুনরুদ্ধার” নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই নেতা শক্তি, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা বিষয়ে চুক্তি করেছেন।’

বহু বছরের উত্তেজনা পাশ কাটিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি আরব।

মধ্যপ্রাচ্যে হালকা হয়ে পড়া প্রভাব পুনরুদ্ধারে জোর দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ সালমান। সাফ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটাতে চান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে জর্ডান এবং মিসর গিয়েছিলেন সালমান। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। খাশোগজি হত্যায় সৌদি শাসকদের এক হাত নিয়েছিলেন বাইডেন।

জামাল খাশোজগি সৌদি শাসকদের ঘোর সমালোচক ছিলেন। ওয়াশিংটন পোস্টের হয়ে কলাম লিখতেন তিনি। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটের ঢুকে নিখোঁজ হন খাশোজগি।

পরে জানা যায়, তাকে ধরে সৌদি আরবে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠানো হয়েছিল। তারা ভুলবশত খুন করে ফেলেন খাশোগজিকে। পরে মরদেহ টুকরো টুকরো করে রাসায়নিকের সাহায্যে গলিয়ে ফেলা হয়েছিল।

খাশোগজি ইস্যু যে কারণে চেপে গেল তুরস্ক
প্রয়াত সাংবাদিক জামাল খাশোগজি। ছবি: সংগৃহীত

হত্যার এক বছর পর সৌদির একটি আদালত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়ার অপরাধে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে সাজা কমিয়ে করা হয় ২০ বছরের কারাদণ্ড। আরও তিনজনকে ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মামলা হয় ইস্তানবুলের আদালতেও। মামলায় অভিযুক্ত যুবরাজ সালমানের দুই সহযোগীসহ ২৬ সৌদি নাগরিকের তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার চলছিল। গত মাসের শেষ দিকে এই বিচার বন্ধ করে দেয়া হয়। তার তিন সপ্তাহ পর আঙ্কারা সফরে এলেন মোহাম্মদ বিন সালমান।

বিচারক জানিয়েছেন, মামলাটি সৌদি আরবের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। সৌদি সরকার সন্দেহভাজনদের হস্তান্তর করতে অস্বীকার করেছিল।

এদিকে সাংবাদিক খাশোগজির বাগদত্তা চেঙ্গিজ যুবরাজ সালমানের তুরস্ক সফর নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। জানিয়েছেন, ন্যায়বিচারের লড়াই চলবে।

টুইটে তিনি লেখেন, ‘ তিনি (সালমান) প্রতিদিন একটি ভিন্ন দেশে সফরের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক বৈধতা অর্জন করছেন, তা এই সত্যকে পরিবর্তন করবে না যে তিনি একজন খুনি।’

সালমানের সফর নিয়ে নিজ দেশেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান। বিরোধী রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা কামাল কিলিকদারোগ্লু বলেন, ‘খুনের নির্দেশদাতাকে আলিঙ্গন করা প্রেসিডেন্টের উচিত হয়নি।

গত এপ্রিলে এরদোগান সৌদি আরব সফর করেছিলেন। সে সময় প্রকাশ্যে যুবরাজ সালমানকে আলিঙ্গন করেছিলেন।

আরও পড়ুন:
৩ বছরে আড়াই কোটি পর্যটক মসজিদটিতে
তুরস্কে এরদোয়ানবিরোধীর যাবজ্জীবন
এবার ইরাকে তুরস্কের সামরিক অভিযান
বিশ্বের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু উদ্বোধন
মোমেন-ফারহান বৈঠক অনুষ্ঠিত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Netanyahu back in power in Israel

ইসরায়েলে ক্ষমতায় ফের নেতানিয়াহু!

ইসরায়েলে ক্ষমতায় ফের নেতানিয়াহু! ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি
ইসরায়েলের বর্তমান সরকার ডানপন্থি, মধ্যপন্থি এবং ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি দলসহ আটটি দলের মিশ্রণ। মাত্র এক বছর আগে সরকার গঠন করে তারা।

ইসরায়েলের জোট সরকার দেশ চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এক ঘোষণায় সোমবার সরকার জানায়, আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্ট (নেসেট) ভেঙে দেবে তারা। আর এমনটা হলে, তিন বছরের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচনে যাবে ইসরায়েল।

অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশ ইসরায়েলে কেন কোনো সরকার থিতু হতে পারছে না? তার মানে কি নেতানিয়াহু সরকার ফের ক্ষমতায় আসছে?

ইসরায়েলের বর্তমান সরকার ডানপন্থি, মধ্যপন্থি এবং ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি দলসহ আটটি দলের মিশ্রণ। মাত্র এক বছর আগে সরকার গঠন করে তারা।

প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট তার জোটসঙ্গী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার ল্যাপিডের সঙ্গে মিলে দুই বছরের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ২০২১ সালের জুনে জোট গঠন করেছিলেন। অবসান ঘটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার রেকর্ডের।

তবে বছর না কাটতেই জোটে দেখা দিয়েছে অন্তর্দ্বন্দ্ব। কয়েক সপ্তাহের জল্পনার অবসান ঘটে সোমবার। জানিয়ে দেয়, দেশ আর চালাবে না নাফতালি বেনেট সরকার।

ক্ষমতাসীন এই জোটকে একত্রিত রেখেছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বিরোধিতা। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হলো না।

কী নিয়ে জোটে অন্তর্দ্বন্দ্ব

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র, পশ্চিম তীর দখল এবং ধর্ম ও রাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে বিবাদে জড়িয়ে জোটের অনেক শীর্ষ নেতা সরকার ত্যাগ করেছেন। সেই থেকেই পতনের শুরু।

বেনেটের ডানপন্থি ইয়ামিনা পার্টির সদস্য ইডিট সিলম্যান সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলে গত এপ্রিলে ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় জোটটি। এতে আইন পাস করানোর ক্ষমতা হারায় বেনেট সরকার। এই অবস্থায় প্রশ্ন ওঠে কতদিন টিকবে এই সরকার।

ইসরায়েলে ক্ষমতায় ফের নেতানিয়াহু!
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট (বাঁয়ে) এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ার ল্যাপিড স্বীকার করেছেন যে তারা ভঙ্গুর জোটকে একসঙ্গে রাখতে অক্ষম। ছবি: রয়টার্স

এদিকে আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে ইসরায়েলি পুলিশের হামলা, পশ্চিম তীরে অভিযানের নামে গুলি করে ফিলিস্তিনি হত্যার মতো ঘটনায় আরব বিশ্বে এক ধরনের হুমকিতে আছে ইসরায়েল। যদিও জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে।

দল ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ইয়ামিনা পার্টির আরেক সদস্য নির অরবাচ গত মাসেই সরকার পতনের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেনেটকে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে দুই সপ্তাহ আসে। সেদিন অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ইসরায়েলি নাগরিক আইন সংস্কারের একটি বিল পার্লামেন্টে আটকে যায়

সেটলার আইনের বিষয়ে সাধারণত ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যায় ইসরায়েলের পার্লামেন্টে। গত পাঁচ দশকে বহুবার এটির সংস্কার হয়েছে। সরকার ও বিরোধীদের ক্রমবর্ধমান তিক্ততার কারণে সেদিন তা ব্যর্থ হয়।

কী ঘটতে যাচ্ছে

পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করতে মঙ্গলবার বৈঠক করবে দেশটির সরকার।

যদি পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়া হয় তবে জোট গঠনের চুক্তির শর্ত হিসেবে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাপিড।

কিছু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করেন, অন্য নির্বাচনে না গিয়ে একটি বিকল্প সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে ইসরায়েলের। কারণ ডানপন্থি সংখ্যাগরিষ্ঠ বিবেচনায় ইসরায়েলের সরকার ও বিরোধীদের দূরত্ব ডানপন্থি দলগুলোকে পার্লামেন্টে চাপের মধ্যে রাখবে।

এ ছাড়া অনেক ইসরায়েলি নির্বাচন নিয়ে ক্লান্ত। বছর ঘুরতে না ঘুরতে আরেকটি নির্বাচনে তাদের উৎসাহী না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

যাই হোক, যদি দেশটি নতুন সাধারণ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যায়, তবে তা পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে হবে। ২৫ অক্টোবরের সম্ভাব্য তারিখ ইতোমধ্যেই আলোচনায় আছে।

নেতানিয়াহুর ফেরার মঞ্চ হতে পারে নতুন ভোট

নেতানিয়াহু আগেই জানিয়েছিলেন, দায়িত্বে ফিরবেন। তিনি বলেছিলেন, ‘মনে হয় বাতাস বদলে গেছে। আমি এটা অনুভব করতে পারছি।’

নেতানিয়াহু শিবির এখন পার্লামেন্টের স্বতন্ত্র সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন দলকে গোছানোর চেষ্টা করছে।

জনমত জরিপের পূর্বাভাস বলছে, নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থি লিকুদ আবারও বৃহত্তম একক দল হিসেবে আবির্ভূত হবে। তবে নতুন সরকার গঠনের জন্য তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতাদের প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

জনমত জরিপ পূর্বাভাস দিয়েছে যে নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থি লিকুদ আবারও বৃহত্তম একক দল হিসেবে আবির্ভূত হবে। তবে নতুন সরকার গঠনের জন্য তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতাদের প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারবেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন:
সাংবাদিক শিরিন হত্যায় ইসরায়েলি মিথ্যাচার
সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা প্রতিহত রাশিয়ার
‘২২ বছরে ৪৭ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক হত্যা’
‘তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বর’
সাংবাদিক শিরিন হত্যায় পশ্চিমা মিডিয়ার ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The Palestinian Israeli conflict is escalating

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত বাড়ছেই

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত বাড়ছেই এই নিরাপত্তা বেড়া ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস। ছবি: এএফপি
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৫৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি। কালকিলিয়া এলাকায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা বেড়ার কাছে নাবিল আহমেদ ঘানেম হত্যার নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। উত্তরে কালকিলিয়া শহরে রোববার এ ঘটনা ঘটে।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা বলছে, নিহত ব্যক্তির নাম নাবিল আহমেদ ঘানেম। জলজুলিয়া গ্রামের কাছে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ৫৩ বছরের নাবিল পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় শহর নাবলুসের বাসিন্দা ছিলেন।

ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা বেড়া অতিক্রম করার সময় নাবিলকে গুলি করা হয়। তিনি পশ্চিম তীরের হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মতো, যারা নিয়মিত ইসরায়েলে কাজ খোঁজেন।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, ‘সন্দেহভাজন একজনকে গুলি করা হয়েছে। তিনি নিরাপত্তা বেড়া ভাঙচুর করেছেন।’

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, হত্যার জন্যই তার ওপর গুলি চালানো হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা এবং অনেক অধিকার সংগঠন এই বেড়াকে ‘বর্ণবাদের প্রাচীর’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস বেআইনি ঘোষণা করে ইসরায়েলকে বেড়াটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। তবে তাতে কর্ণপাত করেনি তেল আবিব।

ফিলিস্তিনি শ্রমিক ইউনিয়ন বলছে, প্রতিদিন অন্তত ১ লাখ ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি পারমিট নিয়ে ইসরায়েলে কাজের জন্য প্রবেশ করে। কারও কারও কাছে ইসরায়েলে কাজ করার অনুমতি আছে; অনেকে আবার অনুমোদন ছাড়াই ইসরায়েলে ঢুকতে চায়।

নাবিলের কাছে চেকপয়েন্ট অতিক্রমের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল কি না তা স্পষ্ট নয়। তার মরদেহ ইসরায়েলের কেফার সাবার মেইর মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে গেছে কর্তৃপক্ষ।

সহিংসতা বাড়ছে

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, চলতি বছর ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ৬০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে মার্চ থেকে ফিলিস্তিনি হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন।

ওয়াফার প্রতিবেদন বলছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তর-পশ্চিমে তুলকারমের দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি সামরিক চেকপয়েন্টের কাছে রোববার সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পাঁচ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন জেনিনের দক্ষিণ-পশ্চিমে বারতা শহরে অভিযান চালিয়ে আরও ১৩ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করে ইসরায়েলি বাহিনী।

জেনিনে প্রিজনার্স ক্লাবের পরিচালক মনতাসার সামুর ওয়াফাকে বলেন, ‘অভিযানটি একটি আবাসিক ভবনকে ঘিরে পরিচালিত হয়েছিল।

গত মাসে আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ জেনিনে একটি অভিযান কভার করতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে খুন হন। ৫১ বছরের শিরিন আল জাজিরা আরবি টেলিভিশনের একজন সিনিয়র সংবাদদাতা ছিলেন। চ্যানেলটি চালু হওয়ার এক বছর পর ১৯৯৭ সালে সেখানে যোগ দেন তিনি।

ফিলিস্তিনের অনেকেই শিরিনকে ২০০০ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা বিদ্রোহের সময় পশ্চিম তীরের প্রধান শহরগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বড় বড় হামলা কভার করার জন্য মনে রাখবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই হত্যার নিন্দা জানিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:
সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা প্রতিহত রাশিয়ার
‘২২ বছরে ৪৭ ফিলিস্তিনি সাংবাদিক হত্যা’
‘তিনি ছিলেন সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বর’
সাংবাদিক শিরিন হত্যায় পশ্চিমা মিডিয়ার ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আল জাজিরার সাংবাদিক নিহত

মন্তব্য

p
উপরে