তালেবানের এবারের শাসন কেমন হবে

তালেবানের এবারের শাসন কেমন হবে

গত রোববার কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্যালেস দখল করে তালেবান। ছবি: এএফপি

দীর্ঘ দুই দশক ধরে তালেবান ভেবেছে, ফের ক্ষমতায় গেলে তারা কীভাবে দেশ শাসন করবে। আফগানিস্তানের শাসনব্যবস্থা কেমন হতে যাচ্ছে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিশ্ব।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল গত রোববার তালেবান ঘিরে ফেলার একপর্যায়ে দেশবাসীকে কিছু না জানিয়ে পালিয়ে যান আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

ঘানির পলায়নের খবর জানাজানি হওয়ার পর কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে কোনো বাধা ছাড়াই একে-৪৭ রাইফেল হাতে ঢোকে আফগান যোদ্ধারা।

প্রেসিডেন্ট প্যালেসের কয়েক মাইল দূরে ওই সময় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শত শত আফগান নাগরিক জড়ো হয়েছে। তারা সবাই দেশ ছাড়তে উন্মুখ।

বিদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। চারদিকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

বিদেশি সামরিক বিমানে উঠতে মরিয়া বিপুলসংখ্যক আফগান। তাদের সরাতে ফাঁকা গুলিও ছোড়া হয়। মানুষজনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিলও করা হয়।

রোববার কাবুলে প্রবেশের আগে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছিল তালেবান।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গ টেনে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সে সময় টুইটবার্তায় জানান, দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ড. আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ ও সাবেক মুজাহিদীন নেতা গুলবুদ্দিন হিকমতিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় পরিষদ গঠন করা হচ্ছে।

অবশ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের বক্তব্য খুব একটা আমলে নেয়নি তালেবান। রাষ্ট্রক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারা।

বিদায়ী আফগান সরকারের সঙ্গে যতটুকু কথা তালেবান নেতারা বলবেন, তা আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার স্বার্থেই। এর বেশি কিছু নয়।

দি ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো ধরনের লড়াই ছাড়াই ক্ষমতা হস্তান্তর হচ্ছে দেখে কাবুলের অনেক নাগরিক কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কাবুল দখল নিয়ে ২৫ হাজারের বেশি আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়।

তালেবান আগের মতো নেই, তাদের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে- সংগঠনটির নেতাদের এসব বক্তব্য শুরুতে কিছু মানুষ বিশ্বাস করে। তাদের বিশ্বাসে খুব দ্রুতই আঘাত হানতে সক্ষম হয় তালেবান।

ক্ষমতায় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বসেনি তালেবান। তবে কয়েকটি প্রদেশে নারীদের কর্মস্থলে যেতে নিষেধ করেছে সংগঠনটি।

নিজেদের যোদ্ধাদের সঙ্গে মেয়েদের বিয়ে দিতে বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাইম বলেন, যুদ্ধ শেষ হয়েছে। তালেবান বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে চায় না। এবারের শাসনকাঠামো শিগগিরই সবাইকে জানানো হবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্কেরও আহ্বান জানান তিনি।

তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও উপনেতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদর বলেন, ‘এবারের যুদ্ধে আমরা জয়ী হব, এমন আশা ছিল না।

‘দেশকে আমরা কীভাবে সেবা করতে পারি, তাতেই এখন জোর দেয়া হবে।

‘আমরা আশ্বস্ত করে বলতে চাই, দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।’

তালেবানের প্রধান নেতা এ মুহূর্তে হিবাতুল্লাহ আখুনজাদা হলেও দেশের ক্ষমতা গ্রহণের পর মোল্লা বারাদরই জনসমক্ষে বেশি হাজির হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আফগানিস্তান দখলের মিশন তালেবানের শেষ।

পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকা সংগঠনটির অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতাকে এখন আফগান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে। তাদের মধ্যে সিরাজুদ্দিন হাক্কানি, প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা ইয়াকুব উল্লেখযোগ্য।

আফগান সরকারের মন্ত্রীদের বিষয়ে বেলজিয়ামভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সদস্য অ্যান্ডরু ওয়াটকিন্স বলেন, ‘তালেবানের মধ্যে কি সরকারের কার্যক্রম চালানোর মতো জনবল রয়েছে, নাকি তারা মন্ত্রণালয়ের বর্তমান কর্মকর্তাদের আপৎকালীন সময়ে কাজ চালিয়ে নিতে বলবে?’

এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি তালেবান। তাদের নিয়ে পশ্চিমা দেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। তারা তালেবান সরকারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করতে চায় না।

তবে মানবিক সহায়তার মাধ্যমে আফগানিস্তানের নতুন শাসকের কাছ থেকে যৌক্তিক ব্যবহার পেতে আগ্রহী কয়েকটি দেশ।

আফগানিস্তানের পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তালেবানের জয়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘আফগানিস্তানে মানসিক দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙেছে তালেবান।’

অন্যরা পাকিস্তানের মতো অতটা উচ্ছ্বসিত নয়।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ‘তালেবানকে দ্বিপক্ষীয়ভাবে কেউ স্বীকৃতি দিক, তা আমরা চাই না।

‘সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকারসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে তালেবান শর্ত মানলে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয় ভাবা যেতে পারে।’

তালেবানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আফগানিস্তান শাসনের নতুন মডেল হাজির করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের নতুন সরকারকাঠামো পশ্চিমা গণতন্ত্রের আদলে হবে না। তবে এটি সবার অধিকার রক্ষা করবে।’

দীর্ঘ দুই দশক ধরে তালেবান ভেবেছে, ফের ক্ষমতায় গেলে তারা কীভাবে দেশ শাসন করবে।

আফগানিস্তানের শাসনব্যবস্থা কেমন হতে যাচ্ছে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে পুরো বিশ্ব।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রতিরক্ষায় ৭ নতুন সংস্থার ঘোষণা মোদির

প্রতিরক্ষায় ৭ নতুন সংস্থার ঘোষণা মোদির

নরেন্দ্র মোদি বলেন, সংস্থাগুলো তৈরির সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। এই নতুন সাতটি সংস্থা আগামী দিনে দেশের সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী ভিত তৈরি করবে।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির ক্ষেত্রে বেসরকারি পুঁজি বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে এক লাফে অনেকটাই এগিয়ে গেল ভারত সরকার। ৩০০ বছরের পুরোনো ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের পরিবর্তে সাতটি নতুন কোম্পানি তৈরির ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

চলতি মাসের শুরুতেই সরকার ভেঙে দেয় অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড (ওএফবি)। কলকাতায় ১৭১২ সালে তৈরি ওএফবি ভারতের ৪১টি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির সরকারি ফ্যাক্টরি নিয়ন্ত্রণ করত। ওএফবিকে ১ অক্টোবর নিষ্ক্রিয় ঘোষণা করে সরকার।

এর পরিবর্তে শুক্রবার সাতটি নতুন প্রতিরক্ষা সংস্থার ঘোষণা করেন মোদি। দেশের ৪১টি অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরিকে এদিন সরকার পরিচালিত সাতটি করপোরেট সংস্থায় রূপান্তরিত করা হয়। ভারতকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তিতে রূপান্তরিত করাই হবে এর লক্ষ্য।

মোদি বলেন, ‘গত সাত বছরে দেশ মেক ইন ইন্ডিয়া মন্ত্রের সঙ্গে নিজেদের সংকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করেছে। আজ দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যে স্বচ্ছতা, যে বিশ্বাস রয়েছে, যে তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে কাজের সুবিধা রয়েছে তা আগে কোনো দিন ছিল না। স্বাধীনতার পর প্রথমবার আমাদের প্রতিরক্ষা বিভাগে এত সংস্কার হচ্ছে। এতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।’

যে সাতটি নতুন প্রতিরক্ষা সংস্থা হবে, সেগুলো হলো মিউনিশন ইন্ডিয়া লিমিটেড (এমআইএল), আরমার্ড ভেহিকেলস নিগম লিমিটেড (অবনি), অ্যাডভান্স উইপনস অ্যান্ড ইক্যুইপমেন্ট ইন্ডিয়া লিমিটেড (এডব্লুই ইন্ডিয়া), ট্রুপ কমফোর্টস লিমিটেড (টিসিএল), যন্ত্র ইন্ডিয়া লিমিটেড (ওয়াইআইএল), ইন্ডিয়া অপটেল লিমিটেড (আইওএল) ও গ্লিডার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (জিআইএল)।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্থাগুলো তৈরির সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। এই নতুন সাতটি সংস্থা আগামী দিনে দেশের সামরিক শক্তির ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী ভিত তৈরি করবে।

ভারতীয় অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরিগুলোর গৌরবময় অতীতের কথা উল্লেখ করে মোদি জানান, এই সাতটি প্রতিরক্ষা সংস্থা পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। ইতিমধ্যে ৬৫ হাজার কোটি টাকার বেশি সংস্থাগুলোকে দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এই সংস্থাগুলোর প্রতি দেশের ক্রমবর্ধমান আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে।

গত পাঁচ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

আদালতের নির্দেশ ছাড়া প্রকাশ্যে ফাঁসি নয়: তালেবান

আদালতের নির্দেশ ছাড়া প্রকাশ্যে ফাঁসি নয়: তালেবান

আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ ছাড়া প্রকাশ্যে শাস্তি দেয়া যাবে না বলে জানান তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। ছবি: এএফপি

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড ও লাশ ঝুলিয়ে রাখা যাবে, অন্যথায় নয়।’

অপরাধীদের প্রকাশ্যে শাস্তি না দিতে স্থানীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে তালেবান সরকার। আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলেই কেবল জনসমক্ষে শাস্তি দেয়া যাবে।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বৃহস্পতিবার টুইটারে এসব বার্তা দেন বলে ডনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মুজাহিদ বলেন, ‘দেশের মন্ত্রিপরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনো ধরনের শাস্তি প্রকাশ্যে দেয়া যাবে না। অপরাধীদের শাস্তি কার্যক্রম প্রকাশ্যে প্রচারের কিছু নেই। তবে আদালত যদি অপরাধীদের প্রকাশ্যে শাস্তি দিতে বলে, সে ক্ষেত্রে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলে জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড ও লাশ ঝুলিয়ে রাখা যাবে, অন্যথায় নয়।’

তালেবান মুখপাত্র বলেন, ‘অপরাধীকে দণ্ডিত করা হলে তার শাস্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে। তাহলে মানুষ তার অপরাধ সম্পর্কে জানতে পারবে।’

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে নিজেদের শীর্ষস্থানীয় ৩৩ নেতাকে নিয়ে ইসলামিক আমিরাত গঠন করে তালেবান। ইসলামিক আমিরাতের মন্ত্রিসভার নাম দেয়া হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।

গত মাসে আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরে কথিত চার অপহরণকারীকে হত্যা করে প্রকাশ্যে তাদের লাশ ঝুলিয়ে দেন তালেবান যোদ্ধারা।

ওই ঘটনায় বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। তালেবান তাদের আগের শাসনামলে ফিরে যাচ্ছে দেখে অধিকার সংগঠনসহ অনেকে উদ্বেগ জানায়।

গত মাসে তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবি বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, তালেবান সরকার ফের অপরাধীদের অঙ্গচ্ছেদ করতে পারে। প্রকাশ্যে এ শাস্তি কার্যকর নাও হতে পারে।

তুরাবির ওই বক্তব্যের পর অবশ্য আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে প্রকাশ্যেই লোকজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

তালেবানের নব্বই দশকের শাসনামলে তুরাবি আফগানিস্তানের বিচারমন্ত্রী ছিলেন।

এদিকে শুক্রবার সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে শেখ আব্দুল হাকিমকে নিয়োগ দিয়েছে তালেবান সরকার।

তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার বিশ্বস্ত সহযোগী ও পশতুন ধর্মীয় নেতা হাকিম এর আগে কাতারে গোষ্ঠীটির সমঝোতা দলের নেতৃত্বে ছিলেন।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

গঙ্গাদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রতিমা বিসর্জন

গঙ্গাদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রতিমা বিসর্জন

প্রতিমা বিসর্জনে পানি দূষণ ঠেকাতে ঘাটে ক্রেনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘গঙ্গার জলে যেন কোনোভাবে দূষণ না ছড়ায় তা নিশ্চিত করতে আমরা যাবতীয় ব্যবস্থা রেখেছি। এ জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ, পুরকর্মী ও কাঠামোগত ব্যবস্থা থাকছে।’

ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গার নির্দেশনা মেনে গঙ্গার পানি দূষণ ঠেকাতে পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রতিমা বিসর্জনসহ বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ।

গত বছর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব প্রতিমা বিসর্জন শুরু করে সংগঠনটি। তবে এ বছর আরও বড় পরিসরে এ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কলকাতার মুখ্য প্রশাসক পশ্চিমবঙ্গের পরিবহনমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘গঙ্গার জলে যেন কোনোভাবে দূষণ না ছড়ায় তা নিশ্চিত করতে আমরা যাবতীয় ব্যবস্থা রেখেছি। এ জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ, পুরকর্মী ও কাঠামোগত ব্যবস্থা থাকছে।’

পর্ষদ সূত্রে জানা যায়, কোভিড বিধিনিষেধ মেনে এ বছর গঙ্গার ১৭টি নির্দিষ্ট ঘাটে দুর্গা বিসর্জন দেয়া হবে। জাজেস ঘাট, নিমতলা ও কদমতলা ঘাটে মূলত বেশি বিসর্জন হয়। তাই এই তিন ঘাটে চারটি ক্রেন থাকবে। জলে প্রতিমা পড়লে ক্রেন দিয়ে কাঠামো তুলে নেয়া হবে যেন বেশিক্ষণ জলে পড়ে না থাকে।

এমনকি গঙ্গার ধারে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফুলমালাসহ পূজার অন্যান্য সামগ্রী ফেলতে হবে বলে জানানো হয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ থেকে।

এদিকে রাজ্যের লর্ড হেস্টিংসের দুই ঘাটে এ বছর থেকেই পরীক্ষামূলক বিসর্জনের ব্যবস্থা নিয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। এ বিষয়ে রাজ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘বিসর্জনে দূষণ নিয়ে অভিযোগ কাটাতেই হেস্টিংসের দুই ঘাটে জল দিয়ে প্রতিমা গলানোর জন্য হোসপাইপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব উপায়ে বিসর্জনের জন্য দক্ষিণ দমদম এলাকারও বেশ কয়েকটি পুকুর চিহ্নিত করেছে পর্ষদ। দক্ষিণ দমদম, সল্টলেক, বাগুইআটি, কেষ্টপুর এলাকার দুর্গা প্রতিমা ওই সব পুকুরে বিসর্জন দেয়া হবে। এ জন্য পুকুরের জলের নিচে একটি সিনথেটিক লাইনার লাগানো থাকবে, যেন পূজার ফুল ও মালার মতো সামগ্রী জল থেকে দ্রুত তুলে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা যায়। এতেই দূষণ অনেকটা কমানো যাবে বলে মনে করেন দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কর্তারা।

পশ্চিমবঙ্গের দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র জানিয়েছেন, ‘জল দূষণ ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা।'

তিনি আরও জানান, দুপুর ১২টার পর বিসর্জন শুরু হওয়ার কথা। এ সময় নিরাপত্তায় থাকছে ৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য। নিরঞ্জনে সাহায্য করতে ২ হাজার পুরকর্মী থাকছেন। গঙ্গায় স্পিড বোটে চলবে নজরদারি।

এ ছাড়া রিভার ট্রাফিক গার্ড ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল মজুত থাকছে। থাকছে ওয়াচ টাওয়ার। বিসর্জনে ডিজে ও মাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার বাড়ির ও ছোট বারোয়ারি পূজার বিসর্জন হবে। ১৮ অক্টোবর বিসর্জনের শেষ দিন। প্রথম দিনে প্রায় দেড় হাজার প্রতিমা বিসর্জনের কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

তালেবানকে সহায়তায় প্রস্তুত, স্বীকৃতি দিতে নয়: তুরস্ক

তালেবানকে সহায়তায় প্রস্তুত, স্বীকৃতি দিতে নয়: তুরস্ক

আঙ্কারায় বৃহস্পতিবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুর সঙ্গে দেখা করেন তালেবানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। ছবি: এএফপি

আঙ্কারায় মুত্তাকির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসোগলু বলেন, ‘তালেবানের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। স্বীকৃতি দেয়া ও সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’

আফগানিস্তানে চলমান মানবিক সংকট নিরসনে তালেবানকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তুরস্ক। তবে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিতে রাজি নয় দেশটি।

তালেবানের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এসব বার্তা দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতা দখলের পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে মরিয়া তালেবান। সম্প্রতি কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও করে তালেবানের প্রতিনিধিদল।

এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার তুরস্কে পৌঁছান তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি।

তালেবানের ওপর পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা আফগান পরিস্থিতি আরও নাজুক করতে পারে বলে বৈঠকে সতর্ক করেন মুত্তাকি।

আঙ্কারায় মুত্তাকির সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসোগলু বলেন, ‘তালেবানের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

‘স্বীকৃতি দেয়া ও সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আফগান অর্থনীতি ভেঙে পড়তে দেয়া যাবে না। বাইরের দেশে থাকা আফগানিস্তানের অ্যাকাউন্ট যেসব পশ্চিমা দেশ জব্দ করেছে, তাদের আরও নমনীয় হতে হবে, যাতে করে আফগান জনগণ তাদের বেতন ঠিকমতো পায়।’

১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে যায়। এরপরই দেশটিতে তহবিল প্রকল্প স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক।

ন্যাটোভুক্ত দেশের মধ্যে একমাত্র মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্ক। চলতি বছরে আগস্টের শেষে আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা চলে যাওয়ার পর দেশটি পুনর্গঠনে বিভিন্নভাবে সহায়তা করার উদ্যোগ নেয় আঙ্কারা।

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা আসার প্রধান পথ কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার প্রস্তাবও দিয়েছিল তুরস্ক। তবে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তালেবান নেতারা।

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষ কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফের জানান, নিয়মিত ফ্লাইট শুরু হওয়ার আগে কাবুল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভুসোগলু বলেন, ‘আজকে আমরা আরেকবার তালেবান সরকারকে বুঝিয়েছি, শুধু আমাদের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্যও কাবুল বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।’

কাভুসোগলু জানান, আফগান মেয়েদের স্কুলে ও নারীদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিতে তালেবানের প্রতি বৈঠকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা তালেবান সরকারকে বলেছি, আমাদের এই আহ্বানকে পূর্বশর্ত বা দাবি হিসেবে না দেখতে। এটি শুধু আমাদের নয়, বিশ্বের অন্যান্য মুসলমানপ্রধান দেশেরও চাওয়া।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে জড়ো হচ্ছে উগ্রবাদীরা: পুতিন

আফগানিস্তানে জড়ো হচ্ছে উগ্রবাদীরা: পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত

মস্কোর উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন সামনে রেখে এসব মন্তব্য করলেন পুতিন। ওই সম্মেলনে তালেবানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সম্মেলনটি।

তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার সুযোগে ইরাক, সিরিয়ার উগ্রবাদীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং আফগান ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে বলে সতর্ক করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা প্রধানদের সঙ্গে বুধবার এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে অংশ নেন পুতিন। ওই সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

পুতিন বলেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সহজ নয়। চতুর্দিক থেকে দেশটিতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রবেশ করছে।

আফগান বার্তা সংস্থা খামা প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রুশ রাষ্ট্রপ্রধান আপাতদৃষ্টিতে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যরা আবার তৎপর হচ্ছে বলে আভাস দিয়েছেন।

কট্টরপন্থি মতাদর্শে মিল থাকলেও তালেবান ও আইএস একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর নতুন শাসকদল হিসেবে আইএসকে খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি তালেবান।

তালেবান শাসকদলের জন্য আইএসকে বড় হুমকি বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করলেও আইএসের আফগান শাখা আইসিস-কে আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক মদদপুষ্ট নয় বলে তাদের গুরুত্ব দিতে নারাজ তালেবান।

পুতিন জানান, আফগানিস্তানে সক্রিয় হয়ে ওঠার মাধ্যমে উগ্রবাদীরা প্রতিবেশী দেশগুলোতেও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এমনকি আশপাশের দেশগুলোতে নিজেদের সাংগঠনিক সম্প্রসারণও করতে পারে।

কাবুলের নেতৃত্বে থাকা তালেবানকে নিয়ে আশাবাদী হলেও এশিয়ার দেশগুলোতে নতুন করে জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও উদ্বিগ্ন মস্কো।

এদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে উগ্রবাদ ছড়াতে তালেবান শাসকদল আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলেও বারবার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে বিশ্ব সম্প্রদায়কে।

মস্কোর উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন সামনে রেখে এসব মন্তব্য করলেন পুতিন। ওই সম্মেলনে তালেবানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সম্মেলনটি।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

জ্বর নিয়ে হাসপাতালে মনমোহন সিং, মোদির টুইট

জ্বর নিয়ে হাসপাতালে মনমোহন সিং, মোদির টুইট

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। ফাইল ছবি

সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির মুখপাত্র প্রণব ঝা জানান, মনমোহন সিং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার স্বাস্থ্য নিয়ে অস্পষ্ট গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, যা সত্য নয়।

জ্বর ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। রাজধানী নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে (এআইআইএমএস) চিকিৎসাধীন তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের এপ্রিলে করোনাভাইরাস পজিটিভ হওয়ায় একবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মনমোহন। সে সময় একই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা ও ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার এই আইনপ্রণেতার বয়স বর্তমানে ৮৯ বছর।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে জ্বরে ভুগছিলেন মনমোহন। বুধবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল।

সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির মুখপাত্র প্রণব ঝা জানান, মনমোহন সিং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার স্বাস্থ্য নিয়ে অস্পষ্ট গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, যা সত্য নয়।

পূর্বসূরির সুস্থতা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বৃহস্পতিবার সকালে করা টুইটে তিনি লেখেন, ‘ড. মনমোহন সিংয়ের দ্রুত সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্য কামনায় প্রার্থনা করছি।’

মনমোহন সিংয়ের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবরে টুইটারে তার সুস্থতা কামনা করে বার্তা দিয়েছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরঞ্জিত সিং চান্নি, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট, মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের অনেকে।

ভারতে টানা দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মনমোহন সিং; প্রথমবার ২০০৪ সালে এবং তারপর ২০০৯ সালে। দেশটির প্রথম শিখ প্রধানমন্ত্রী তিনি।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন

কাবুলের বুশ বাজারের নাম বদলে হলো মুজাহিদিন বাজার

কাবুলের বুশ বাজারের নাম বদলে হলো মুজাহিদিন বাজার

কাবুলে বুশ বাজারের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। ছবি: টোলো নিউজ

বাজারটির নাম রাখা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নামে। বুশের শাসনামলেই ২০০১ সালে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়ে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করে আন্তর্জাতিক জোট। ২০ বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেই তাই বাজারটির নাম বদলে দিল তালেবান।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের অন্যতম পরিচিত একটি জায়গা বুশ বাজার। কুয়াই মারকাজ এলাকায় অবস্থিত বাজারটির নাম বদলে দিয়ে শাসকদল তালেবান।

স্থানীয় টোলো নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি সপ্তাহে বাজারটির নাম পাল্টে ‘মুজাহিদিন বাজার’ করার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাজারটিতে কয়েক শ দোকানপাট ও স্টল রয়েছে। খেলাধুলার জিনিস, বিদ্যুৎ সামগ্রী ও বৈদ্যুতিক পণ্য, কাপড়চোপড়, পোশাক, ডিটারজেন্ট, নানা রকম পানীয় থেকে শুরু করে বাজারটিতে রয়েছে নানা রকম পণ্যের সমাহার।

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের অভিযান শুরুর পর থেকে বাজারটিতে অনেক সামরিক সরঞ্জামও বিক্রি হতো। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ঘাঁটি থেকে বাজারটিতে আনা হতো এসব সরঞ্জাম।

তাই বাজারটির নাম রাখা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নামে। বুশের শাসনামলেই ২০০১ সালে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালিয়ে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করে আন্তর্জাতিক জোট।

২০ বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসেই তাই বাজারটির নাম বদলে দিল তালেবান।

বিদেশি সেনারা সদলবলে আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর বাজারটিতে এখন কেবল সাধারণ বিক্রয়যোগ্য পণ্য বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোকানদাররা।

বাজারের প্রধান মোহাম্মদ কাশিম বারহাক বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল যে কাবুল পৌরসভায় এই বাজারটির নিবন্ধন রয়েছে আরিয়া রোজ বাজার নামে। বাজারের নিবন্ধনপত্রেও এই নামটিই রয়েছে। কিন্তু তালেবান এর নাম রেখেছে মুজাহিদিন বাজার।’

স্থানীয় বিক্রেতারা জানান, বাজারটিতে কেনাবেচা এখন আগের চেয়ে অনেক কম।

সৈয়দ জাবেদ নামের এক দোকানদার বলেন, ‘খুব বেশি ক্রেতা নেই। ব্যবসা খুব খারাপ চলছে।’

কাবুলের বাসিন্দারা জানান, আগে বাজারটিতে উচ্চ মানসম্পন্ন জিনিসপত্র পাওয়া যেত। এখন আর তেমনটা দেখা যাচ্ছে না।

নাকিবুল্লাহ নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বুশ বাজারে খুব ভালো ভালো জিনিস পাওয়া যেত। এখন আগের মতো আর বিদেশি জিনিসপত্র এখানে বিক্রি হচ্ছে না।’

কাবুলে বাজারটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৪ বছর আগে। এখন বাজারটিতে দোকানপাট ও স্টলের সংখ্যা সবমিলিয়ে প্রায় পাঁচ শ।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তানে আফিম নির্মূল কেন অসম্ভব?
সামাজিকমাধ্যমে কোন কৌশলে এগোচ্ছে তালেবান
হুড়োহুড়িতে কাবুল বিমানবন্দরে নিহত ৭
কাবুল বিমানবন্দরে ভিড় ঠেকাচ্ছে তালেবান
দেশের পথে শতাধিক ভারতীয়, কাবুলে আটকে সহস্রাধিক

শেয়ার করুন