‘৩ ডোজ টিকা’: সেই ওমর ফারুকের হালকা জ্বর

‘৩ ডোজ টিকা’: সেই ওমর ফারুকের হালকা জ্বর

একদিনে ‘তিন ডোজ টিকা পাওয়া’ ওমর ফারুক। ছবি: সংগৃহীত

স্বজনরা জানান, বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মা রহিমা বেগমের মোবাইল ফোনে কথা বলেন ফারুক। তিনি জানান, সুস্থ আছেন, হাসপাতালে আছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী তিন ডোজ টিকা নেয়ার অভিযোগ তোলা ওমর ফারুক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে নারায়ণগঞ্জের বাড়িতে ফেরার পর হালকা জ্বরে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজন।

অসুস্থ বোধ করায় তাকে খেতে দেয়া হয় ডাবের পানি ও দুধ। এরপর বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দুটি মাইক্রোবাসে লোকজন এসে চিকিৎসার কথা বলে তাকে নিয়ে যায়।

স্বজনরা জানান, বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর সারাদিন তার কোনো খোঁজ না থাকলেও সন্ধ্যা ৭টার দিকে মা রহিমা বেগমের মোবাইল ফোনে কথা বলেন ফারুক। মাত্র ছয় সেকেন্ডের ফোনকলে তিনি মাকে জানান, সুস্থ আছেন, হাসপাতালে আছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়েছে, তখনও চিকিৎসক আসেননি।

অবশ্য ফারুককে নিজেদের পর্যবেক্ষণে নেয়ার কথা স্বীকার করেনি বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ওমর ফারুক বুধবার সন্ধ্যায় ফোন করার পর তার খোঁজে ঢাকা গিয়েছেন বাবা জামাল হোসেন প্রধান। তবে সবশেষ অবস্থা জানতে নিউজবাংলা জামাল হোসেনকে একাধিকবার ফোন করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ওমর ফারুককে নিজেদের কাছে রাখার দাবি অস্বীকার করেছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। ফারুক কোথায় আছেন, জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর সুব্রত বিশ্বাস সন্ধ্যায় নিউজবাংলা প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনি এমনভাবে বলছেন যেন আপনি জানেন, তিনি আমাদের হাসপাতালেই আছেন। সাংবাদিকদের মতো আমরাও ওমর ফারুককে খুঁজছি। আপনার কাছে যদি ওনার বাবার নম্বর থাকে, তাহলে আমাদের দেন, আমরা ওনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’

তবে ফারুকের স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দুটি মাইকোবাসে আসা লোকজন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ভুঁইগড় এলাকার বাড়ি থেকে তাকে ঢাকা নিয়ে যায়। ফারুকের সঙ্গে যান তার ভগ্নিপতি গোলাম সারোয়ার নাহিদ। এরপর বিএসএমএমইউতে পৌঁছে ফারুককে হাসপাতালে ভর্তির টিকেট কাটতে নাহিদকে কাউন্টারে পাঠানো হয়। তিনি ফিরে এসে ফারুক বা ওই মেডিক্যাল টিমের কাউকেই খুঁজে পাননি।

‘৩ ডোজ টিকা’: সেই ওমর ফারুকের হালকা জ্বর
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন ওমর ফারুকের স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ছবি: নিউজবাংলা

এসব তথ্য নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন ওমর ফারুকের বোন ফারজানা আক্তার।

তিনি জানান, কিছুদিন আগে তার ভাই সৌদি আরবের ভিসা পেয়েছেন। প্রবাসী অ্যাপ থেকে অনলাইনে নিবন্ধন করে ২৬ জুলাই সকালে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে টিকা নেয়ার জন্য যান। সেখানে প্রথমে একটি বুথে তাকে এক ডোজ টিকা দেয়া হয়। ওমর ফারুক ওই বুথের স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে পরবর্তী করণীয় জানতে চাইলে তাকে সামনের বুথের দিকে যেতে বলা হয়। পরের বুথে গেলে তাকে আবার টিকা দেয়া হয়, এরপর সামনের আরেকটি বুথ থেকে দেয়া হয় টিকার আরেকটি ডোজ।

এ ঘটনা নিয়ে বেসরকারি একটি টেলিভিশনে প্রতিবেদন প্রচারের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বিকেলে নিউজবাংলা বলেন, ‘ওমর ফারুক সুস্থ আছেন এবং তিনি সাত দিন পর্যবেক্ষণে থাকবেন।’

তবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উপাচার্য তার বক্তব্য পরিবর্তন করে দাবি করেন, একজনকে তিনবার টিকা দেয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওমর ফারুক নামে কেউ তাদের পর্যবেক্ষণে নেই বলেও দাবি করে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: ‘৩ ডোজ টিকা’ নেয়া সেই ওমর ফারুক কোথায়?

তবে ফারুকের পরিবার জানায়, ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেও তিনি তিন ডোজ টিকা নেয়ার কথা স্বজনদের জানিয়েছেন। ওমর ফারুকের বোন ফারজানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিন টিকা নেয়ার পর আমার ভাইয়ের থেমে থেমে একটু জ্বর ও শরীরে ব্যথা হয়েছে। এছাড়া তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। বাড়ি আসার পর তাকে ডাবের পানি, দুধ ও ডিম খাওয়ানো হয়েছিল। তিন টিকা নেয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে পিজি (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেয়ার জন্য মোবাইল ফোনে অনেকবার কল এসেছিল।’

ফারজানা জানান, তার ভাই ভয়ে হাসপাতালের ফোন ধরেননি এবং যেতে চাননি। পরে তিনি ফোন বন্ধ করে রাখেন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মেডিক্যাল টিম পরিচয়ে হাসপাতাল থেকে লোকজন এসে তার ভাইকে তুলে নিয়ে যায়।

তিনি জানান, ভাইয়ের সঙ্গে তার স্বামী গোলাম সারোয়ার নাহিদকে দেয়া হলেও হাসপাতালে তিনি ফারুককে হারিয়ে ফেলেন। নারায়ণগঞ্জের বাড়িতে যাওয়া টিমের সদস্যদের মধ্যে একজন নিজেকে নিজেকে সহযোগী অধ্যাপক পরিচয় দিয়েছিলেন।

ফারজানা বলেন, ‘আমার ভাই টিকার বিষয়টি বুঝতে পারেনি। কিন্তু তার শরীরে যারা তিন ডোজ টিকা পুশ করল তারা কীভাবে ইনকেজশন পুশ করল? যারা ওই বুথের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ভুলের কারণে তিনি তিন বার টিকা নিয়েছেন।’

ওমর ফারুকের প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী দাবি করেন, ওমর ফারুককে মেডিক্যাল টিম পরিচয় দিয়ে নিতে আসা দুটি গাড়ির একটির লোকজনের কাছে অস্ত্র ছিল।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চাই, ওর চিকিৎসা হোক। তবে ওমর ফারুককে কোথায় রাখা হয়েছে, সেটি পরিবারের লোকজনকে জানানো হোক। ওর কারণে তার বাবা-মা অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’

স্বজনরা জানান, ওমর ফারুকের চার বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। তার বাবা পেশায় অটোরিকশা চালক।

ফারুকরা তার চাচা আলাউদ্দিনের তিন তলা বাড়ির নিচ তলায় ভাড়া থাকেন। চার বছর আগে তিনি ভুঁইঘর মিছির আলী মাদ্রাসা থেকে হেফজ বিভাগে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর থেকে বেকার ছিলেন ওমর ফারুক। সম্প্রতি তার সৌদি আরব যাওয়ার ভিসা হয়।

প্রতিবেশী আবুল হোসেন জানান, ফারুককে নিতে আসা গাড়িগুলো তার বাড়ির সামনের রাস্তা পর্যন্ত এসেছিল। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যে লোকজন ফারুককে নিয়ে চলে যায়।

এদিকে ওমর ফারুকের তিন ডোজ টিকা নেয়ার বিষয়টি নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কেউ জানে না। জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওমর ফারুককে ভূঁইঘর থেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। কেউ আমাদেরকে বিষয়টি জানায়নি।’

আরও পড়ুন:
টিকা: নিবন্ধনে আরও সময় পেল বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিকের সবাইকে টিকা নেয়ার নির্দেশ
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খাগড়াছড়িতে দুই ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা, আহত ৭

খাগড়াছড়িতে দুই ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা, আহত ৭

স্থানীয় লোকজন জানায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে ইটবোঝাই দুটি ট্রাক্টর জেলা শহরে আসছিল। আলুটিলা পাহাড় থেকে নামার সময় শহরের প্রবেশমুখে একটি ট্রাক সামনে থাকা ট্রাক্টরকে ধাক্কা দেয়। ট্রাক্টরটি সড়কের বামে উল্টে যায়। এরপর এর সামনের ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা লাগে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় পাহাড় থেকে নামার সময় দুইটি ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কায় সাতজন আহত হয়েছে।

জেলা সদরের প্রবেশমুখে ২০ নম্বর জিরোমাইল সংলগ্ন আলুটিলা পাহাড়ের রাস্তায় রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ট্রাক্টরচালক মইনুল হোসেন, ট্রাক্টরের শ্রমিক বাদশা মিয়া, রমজান আলী, মো. শাহাদাত, আবদুর রহিম, মো. করিম ও সুজন। বাদশা ও রমজানের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।

স্থানীয় লোকজন জানায়, মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে ইটবোঝাই দুটি ট্রাক্টর জেলা শহরে আসছিল। আলুটিলা পাহাড় থেকে নামার সময় শহরের প্রবেশমুখে একটি ট্রাক সামনে থাকা ট্রাক্টরকে ধাক্কা দেয়। ট্রাক্টরটি সড়কের বামে উল্টে যায়। এরপর এর সামনের ট্রাক্টরে ট্রাকের ধাক্কা লাগে।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রশিদ নিউজবাংলাকে জানান, ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেয়া হয়েছে। তবে চালককে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘প্রবেশমুখের মোড়টি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় সময়ই এখানে দুর্ঘটনা হয়। ট্রাকটি বেপরোয়া গতিতে আসায় দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

আরও পড়ুন:
টিকা: নিবন্ধনে আরও সময় পেল বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিকের সবাইকে টিকা নেয়ার নির্দেশ
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা

শেয়ার করুন

লিবিয়া থেকে ফিরেই গ্রেপ্তার হত্যা মামলার আসামি

লিবিয়া থেকে ফিরেই গ্রেপ্তার হত্যা মামলার আসামি

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ওই মামলায় কালুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। এরপরই সেই পরোয়ানা বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় তার সন্ধানে। ঘটনার ৫ বছর পর কালু দেশে ফিরতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এখন বাকি আইনি কার্যক্রম আদালতের নির্দেশে পরিচালিত হবে।

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন এক আসামি।

গ্রেপ্তার আজাদ হোসেন কালুকে রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজাদ হোসেন কালুর বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ধানডোবা গ্রামে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে গৌরনদী মডেল থানার এসআই কেএম আব্দুল হক জানান, ২০১৬ সালে স্কুলছাত্রী কবিতা হত্যার পর লিবিয়ায় পালিয়ে যান আসামি আজাদ হোসেন কালু। শনিবার সকালে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরেন তিনি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় কালুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলার বিষয়টি জানতে পারেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। ইমিগ্রেশন থেকে গৌরনদী মডেল থানায় যোগাযোগ করা হলে কালুকে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ওই মামলায় কালুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। এরপরই সেই পরোয়ানা বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় তার সন্ধানে। ঘটনার ৫ বছর পর কালু দেশে ফিরতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এখন বাকি আইনি কার্যক্রম আদালতের নির্দেশে পরিচালিত হবে।

২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সকালে গৌরনদীর সুন্দরদী এলাকার আয়নাল হকের মেয়ে কবিতা আক্তারের হাত-পা বাঁধা মরদেহ স্থানীয় একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। টরকী বন্দর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী কবিতা আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার ধানডোবা গ্রামের আজাদ হোসেন কালুর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই কবিতাকে তার প্রেমিক কালু হত্যা করেছে বলে অভিযোগ তোলেন স্বজনরা এবং মেয়েটির বাবা আইনুল হক বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এসব ঘটনার পর থেকেই কালুর কোনো সন্ধান মিলছিল না।

আরও পড়ুন:
টিকা: নিবন্ধনে আরও সময় পেল বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিকের সবাইকে টিকা নেয়ার নির্দেশ
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা

শেয়ার করুন

চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে শিশুর প্রাণ গেল দুর্ঘটনায়

চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে শিশুর প্রাণ গেল দুর্ঘটনায়

আদুরি খাতুন জানান, মেয়ের ঠাণ্ডা-জ্বর হওয়ায় তাকে নিয়ে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আলমসাধুতে বাড়ি ফিরছিলেন। হাকিমপুরে ভাঙাচোরা রাস্তায় ঝাঁকি লেগে তিনি মেয়েসহ আলমসাধু থেকে পড়ে যান।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার সময় আলমসাধু থেকে পড়ে সাত মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে শিশুটির মা।

আলমডাঙ্গা উপজেলার হাকিমপুর গ্রামে রোববার বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত আনিকা খাতুন আলমডাঙ্গা উপজেলার তিয়রবিলা গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম ও আদুরি খাতুনের ছোট মেয়ে। তাদের পাঁচ বছরের একটি ছেলে আছে।

আদুরি খাতুন নিউজবাংলাকে জানান, মেয়ের ঠাণ্ডা-জ্বর হওয়ায় তাকে নিয়ে সদর হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আলমসাধুতে বাড়ি ফিরছিলেন। হাকিমপুরে ভাঙাচোরা রাস্তায় ঝাঁকি লেগে তিনি মেয়েসহ আলমসাধু থেকে পড়ে যান।

স্থানীয়রা তাদের সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগেই শিশুটি মারা গেছে। তার মাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘শিশুটির মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত বা মামলার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

আরও পড়ুন:
টিকা: নিবন্ধনে আরও সময় পেল বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিকের সবাইকে টিকা নেয়ার নির্দেশ
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা

শেয়ার করুন

১২ বছর পর হত্যা মামলার আসামির যাবজ্জীবন

১২ বছর পর হত্যা মামলার আসামির যাবজ্জীবন

শেরপুরে মোটরসাইকেলচালক হত্যার ১২ বছর পর আসামি মো. আলমকে কারাদণ্ড দিয়েছে জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

২০০৯ সালে শেরপুরের আবু বক্কর ছিদ্দিক নামের এক মোটরসাইকেলচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয় জামালপুরের বকশীগঞ্জের চন্দ্রাবাজ এলাকা থেকে। তার মোবাইল ফোনের সাহায্যে মো. আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার আলমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয় আদালত।

শেরপুরে এক মোটরসাইকেলচালক হত্যার ১২ বছর পর মামলার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খান রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নির্মল কান্তি ভদ্র।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. বাকী বিল্লাহ।

দণ্ডাদেশ পাওয়া আসামি হলেন মো. আলম। তার বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার মিরিকপুর গ্রামে।

আইনজীবী নির্মল কান্তি ভদ্র জানান, ২০০৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর শেরপুরের শ্রীবরদী থানার রুপাড়পাড়ার আবু বক্কর ছিদ্দিক ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ওই দিন রাতেই আবু বক্করের মরদেহ জামালপুরের বকশীগঞ্জের চন্দ্রাবাজ এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।

১৯ ডিসেম্বর আবু বক্করের ছোট ভাই মো. হেদায়েতুল ইসলাম সাগর বকশীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

আইনজীবী আরও জানান, এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আবু বক্করের ব্যবহৃত মোবাইলের সাহায্যে আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই আবু বক্করকে হত্যা করা হয় বলে জানান আইনজীবী।

২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য নেয়া শেষে আদালত রোববার এ রায় ঘোষণা করে।

আরও পড়ুন:
টিকা: নিবন্ধনে আরও সময় পেল বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিকের সবাইকে টিকা নেয়ার নির্দেশ
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা

শেয়ার করুন

জমি লিখে নিতে অমানবিক আচরণ, তবু নেই অভিযোগ

জমি লিখে নিতে অমানবিক আচরণ, তবু নেই অভিযোগ

হাত-পা বেঁধে মাদারীপুরে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে নিয়াতনের অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী-ছেলে-মেয়ের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

খলিল শেখ বলেন, ‘আমি ১২ বছর বিদেশে ছিলাম। আমার ১০-১২ বিঘা জমি ও একটি বিল্ডিং আছে। কিছুদিন আগে জমি বিক্রি করে সাত লাখ টাকা পরিবারকে দিয়েছি। ওরা সব সম্পত্তি লিখে নিতে মাঝেমধ্যেই চাপ দিত। রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করেছে। আমি মরে গেলে তো ওরাই এসব সম্পত্তির মালিক হবে। কেন আগে লিখে দেব।’

জমিজমা লিখে নিতে ষাটোর্ধ্ব খলিল শেখকে স্ত্রী-সন্তানরা পাবনার একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করান। মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি করে ভর্তির পর চিকিৎস জানান খলিল শেখ সুস্থ। এরপর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন স্ত্রী-সন্তানরা। অমানবিক এমন আচরণের শিকার হলেও খলিল শেখ বলছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের বৌলগ্রামে।

বাড়ি ফিরে খলিল শেখ নিজেকে মানসিক ভারসাম্যহীন নয় দাবি করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পাগল না, আমাকে পাগল সাজানো হয়েছিল।’

রোববার সকালে বাড়িতে ফিরে সাংবাদিকদের কাছে এমন দাবি করেন খলিল শেখ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এক ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে খলিল শেখের বিষয়ে জানতে পারেন এলাকার লোকজন।

জানা গেছে, সম্পত্তি বেহাতের আশঙ্কা করে তা লিখে নিতে খলিল শেখের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে মিলে তাকে নির্যাতনের পর ১০ সেপ্টেম্বর একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।

খলিল শেখের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর খালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ আলম হামিদুর রহমানের সহযোগিতায় স্থানীয় ইউপি সদস্য সাগর হোসেন, যুবলীগ নেতা রেজওয়ান হোসেন এবং নির্যাতনের শিকার খলিল শেখের দুই ছেলে নাজমুল শেখ ও আসিব শেখ পাবনা সুরমা মেন্টাল ক্লিনিক মানসিক হাসপাতালে গিয়ে খলিলকে বাড়ি আনেন। চিকিৎসরা খলিল শেখ সুস্থ বলে জানান।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে খলিল শেখ বলেন, ‘আমি কখনোই পাগল ছিলাম না। সম্পত্তির জন্য আমার স্ত্রী-সন্তানরা আমাকে পাগল সাজিয়ে পাবনা নিয়ে গেছে। তারা ভেবেছে আমার সম্পত্তি আমি অন্য কারও নামে লিখে দেব। সেটা তাদের ভুল ধারণা। এখন তাদের ধারণা পাল্টেছে, তাই বাড়িতে আনছে। আমি ওদের সঙ্গেই থাকব। ওদের ছাড়া আমার তো কেউ নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি ১২ বছর বিদেশে ছিলাম। আমার ১০-১২ বিঘা জমি ও একটি বিল্ডিং আছে। কিছুদিন আগে জমি বিক্রি করে সাত লাখ টাকা পরিবারকে দিয়েছি। ওরা সব সম্পত্তি লিখে নিতে মাঝেমধ্যেই চাপ দিত। রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করেছে। আমি মরে গেলে তো ওরাই এসব সম্পত্তির মালিক হবে। কেন আগে লিখে দেব।’

খলিল শেখের ছোট ছেলে আসিব শেখ বলেন, ‘আমার বাবা সুস্থ হওয়ায় পাবনা থেকে বাড়িতে এনেছি। আব্বা আমাদের সঙ্গে বাড়িতে থাকবে। আত্মীয়স্বজনরা তাকে দিয়ে সম্পত্তি লিখে নেয়ার চেষ্টা করেছিল।’

খলিল শেখের ছোট ভাই তারা মিয়া বলেন, ‘আমরা সম্পত্তি লিখে নিতে চাইনি। বরং তার স্ত্রী-সন্তানরা মিলে আমার ভাইকে নির্মম নির্যাতন করে পাগল সাজিয়েছিল। এখন অন্তত বাড়িতে আনছে, এতেই আমরা খুশি।’

এ ব্যাপারে রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘খলিল শেখের ছোট ভাই নিখোঁজের জন্য সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। তিনি এখন বাড়িতে। বিষয়টি নিয়ে কিছু করার নেই। তবে খলিল শেখ যদি তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অন্ধকার ঘরে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করার ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন:
টিকা: নিবন্ধনে আরও সময় পেল বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিকের সবাইকে টিকা নেয়ার নির্দেশ
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা

শেয়ার করুন

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় মিনুসহ বিএনপির ৩ নেতার জামিন

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় মিনুসহ বিএনপির ৩ নেতার জামিন

বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন জানান, আগামী ৩০ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ। সেই তারিখ পর্যন্ত আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিচারিক আদালতে জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুসহ তিন বিএনপি নেতা।

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে রোববার দুপুরে তারা জামিনের আবেদন করলে বিচারক ও এইচ এম ইলিয়াস হোসাইন তাদের জামিন দেন।

মিজানুর রহমান মিনু ছাড়াও জামিন পাওয়া অন্য দুই নেতা হলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং মহানগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মুসাব্বিরুল ইসলাম রাষ্ট্রদ্রোহের এই মামলাটির বাদী।

তিন নেতার আইনজীবী আবদুল মালেক রানার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জামিন দেয়। শুনানিতে বিএনপি নেতাদের পক্ষে রাজশাহী বার সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহিদীসহ বেশ কিছু আইনজীবী অংশ নেন।

জামিন পাওয়ার পর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন জানান, আগামী ৩০ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ। সেই তারিখ পর্যন্ত আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন।

গত ২ মার্চ রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে সরকারবিরোধী বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি এবং সরকার উৎখাতের হুমকির অভিযোগে মামলাটি করা হয়। এ মামলায় বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও আসামি।

গত ২৫ আগস্ট মিনু, বুলবুল ও মিলন উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন। উচ্চ আদালত সেদিন তাদের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন দিয়ে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এই তিন নেতা বিচারিক আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান। তবে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে নথি না আসার কারণে সেদিন শুনানি হয়নি। সেদিন শুনানির জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর দিন রেখেছিল আদালত। এদিন বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে আদালতে যান ওই তিন নেতা। শুনানি শেষে তারা জামিনও পেলেন।

গত ২ মার্চ রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের পাশে একটি কমিউনিটি সেন্টারের পাশে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু যে বক্তব্য দেন তার একাংশে বলেন, ‘আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, রাজপথে থেকে দেশনেত্রী হয়েছেন। তাকে বের করে আনব, মুক্তি চাই না হাসিনা... রেডি হও। ‘আজ সন্ধ্যার সময়, কালকে সকাল তোমার নাও হতে পারে। মনে নাই ৭৫ সাল? ৭৫ সাল মনে নাই?’ এর প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে নগর আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন:
টিকা: নিবন্ধনে আরও সময় পেল বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিকের সবাইকে টিকা নেয়ার নির্দেশ
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা

শেয়ার করুন

আবার ধরা পড়ল ঢাই মাছ

আবার ধরা পড়ল ঢাই মাছ

পদ্মায় ধরা পড়া সাড়ে ৮ কেজির ঢাই মাছ। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার সকালে পদ্মায় ৩৭ কেজির একটি বাগাড় মাছ ধরা পড়েছে। এটি বিক্রি হয়েছে ৪৮ হাজার ১০০ টাকায়। দুপুরে ধরা পড়ে সাড়ে ৮ কেজির ঢাই মাছ।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আবারও ধরা পড়েছে ঢাই মাছ। এবারের মাছের ওজন সাড়ে ৮ কেজি।

পদ্মা নদীর চরকনেশনা এলাকায় দৌলতদিয়ার বাচ্চু হালদারের জালে রোববার বেলা ২টার দিকে মাছটি ধরা পড়ে।

ফেরিঘাটের মাছ ব্যবসায়ী শাজাহান শেখের কাছে ২ হাজার ৮৫০ টাকা কেজি দরে তিনি এই মাছ বিক্রি করেন।

শাজাহান শেখ নিউজবাংলাকে জানান, মাছটি কেনার পর বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর পদ্মা-যমুনা নদীর মোহনায় ১১ কেজির ঢাই মাছ ধরা পড়ে।

এই মাছের নাম আছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইউসিএন) লাল তালিকায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম Silonia Silondia। শিলং নামেও পরিচিত মাছটি।

রোববার সকালে পদ্মায় ৩৭ কেজির একটি বাগাড় মাছও ধরা পড়েছে। এটি বিক্রি হয়েছে ৪৮ হাজার ১০০ টাকায়।

আবার ধরা পড়ল ঢাই মাছ
পদ্মায় ধরা পড়া ৩৭ কেজির বাগাড় মাছ

চরকনেশনা এলাকাতেই মানিকগঞ্জের জাফরগঞ্জের জেলে গোবিন্দ হালদারের জালে এই মাছ ধরা পড়ে।

গোবিন্দ হালদার নিউজবাংলাকে জানান, দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কের পাশে দুলাল মণ্ডলের মৎস্য আড়তে নিয়ে গেলে নিলামে সর্বোচ্চ দাম বলেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী চাঁদনী-আরিফা মৎস্য আড়তের মালিক চান্দু মোল্লা।

চান্দু মোল্লা বলেন, ‘সকালে ঘাটে এসেই দেখি একটি বড় বাগাড় নিলামে উঠছে। পদ্মার মাছের প্রতি মানুষের চাহিদা বেশি। তাই একটু বেশি দামেই মাছটি কিনে নিই।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রোকোনুজ্জামান জানান, পদ্মায় এখন নিয়মিতই বড় বড় মাছ ধরা পড়ছে। এতে জেলে ও ব্যবসায়ী সবাই খুশি।

আরও পড়ুন:
টিকা: নিবন্ধনে আরও সময় পেল বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিকের সবাইকে টিকা নেয়ার নির্দেশ
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা

শেয়ার করুন