‘৩ ডোজ টিকা’ নেয়া সেই ওমর ফারুক কোথায়?

‘৩ ডোজ টিকা’ নেয়া সেই ওমর ফারুক কোথায়?

একদিনে তিন ডোজ টিকা পাওয়া ওমর ফারুক। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বিকেলে নিউজবাংলার কাছে ওমর ফারুককে তিন ডোজ টিকা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে রাতেই তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করেন। অন্যদিকে ফারুককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

করোনার তিন ডোজ টিকা নেয়ার অভিযোগ তোলা ওমর ফারুককে নিয়ে লুকোচুরি করছে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। ফারুককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তবে তা অস্বীকার করছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বিকেলে নিউজবাংলার কাছে ওমর ফারুককে তিন ডোজ টিকা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এরপরও ফারুক সুস্থ আছেন এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার বক্তব্যের অডিও রেকর্ড নিউজবাংলার কাছে আছে।

তবে উপাচার্য মঙ্গলবার রাতেই তার বক্তব্য পরিবর্তন করে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে কাউকে একসঙ্গে তিন ডোজ টিকা দেয়া হয়নি।

সৌদি আরবে যাওয়ার আগে করোনা প্রতিরোধী টিকা নিতে সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ওমর ফারুক। তবে না বুঝেই তিনটি বুথ থেকে তিন ডোজ টিকা নেন তিনি।

টিকা নেয়ার পর ওমর ফারুক একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেন, ‘আমি যখন প্রথমে টিকাকেন্দ্র ঢুকলাম, তখন একজন ইশারা দিয়ে ডান সাইটে যেতে বললেন। ওখানে গিয়ে এক ডোজ টিকা নিলাম। টিকা দিয়ে উনি সামনের দিকে যেতে বললেন।

‘সামনের ব্যক্তি দ্বিতীয়বার টিকা দিয়ে বললেন, আপনি সামনে যান। আরও সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে একটি চেয়ারে বসলাম। উনি কিছু জিজ্ঞেস না করে আরও এক ডোজ টিকা আমাকে দিয়েছেন। পরে বাইরে এসে লোকদের জিজ্ঞেস করলাম আপনারা কয়বার টিকা দিয়েছেন, তারা বললেন, একবার।’

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার বিকেলে নিউজবাংলা বলেন, ‘ওমর ফারুক সুস্থ আছেন এবং তিনি সাত দিন পর্যবেক্ষণে থাকবেন।’

আরও পড়ুন: একসঙ্গে তিন ডোজ টিকা নেয়া ওমর ফারুক পর্যবেক্ষণে

তবে এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উপাচার্য তার বক্তব্য পরিবর্তন করে দাবি করেন, একজনকে তিনবার টিকা দেয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বিএসএমএমইউর লুকোচুরি

ঘটনাটি নিয়ে বুধবারও দিনভর অনুসন্ধান চালায় নিউজবাংলা। দুপুরে বিএসএমএমইউর উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে ওমর ফারুকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে সকালে একটি মিটিং হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ঘটনা ভাইরাল হয়েছে, যে কারণে অনেক সাংবাদিক আমাকে প্রশ্ন করছে। আমি তাদের বলেছি, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না। বাংলাদেশে এমন কোনো ব্যক্তি নেই, যিনি জানেন না এক দিনে একটার বেশি টিকা নেয়া যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই ব্যক্তিটি (টেলিভিশনের প্রতিবেদনে দেখানো ওমর ফারুক) পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা ছিল। তিনবার টিকা নিলে পাঞ্জাবির হাতা তিনবার ওঠানো লাগছে, কত সময় লাগছে। এ ছাড়া টিকা যারা দিচ্ছেন সেই নার্সরাও অনেক দক্ষ। একবার দেয়ার পর দ্বিতীয়বার দিলে টিকাদানের স্থান দেখলেই নার্সরা বুঝতে পারতেন। টিকা নেয়ার স্থান লাল হয়ে থাকত।’

তাহলে আগের দিন নিউজবাংলাকে তিনি কেন ওমর ফারুককে পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বলেছিলেন, এমন প্রশ্ন করলে উপাচার্য শুরুতে বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে ফোন রেকর্ড থাকার কথা জানানোর পর তিনি বলেন, ‘আমরা ওই লোকটিকে পাইনি। আর ওই লোকটির যদি কিছু হতো তাহলে তো জানতেই পারতাম। আপনারাও জানতেন। তার মানে এই লোকটি এখনও বেঁচে আছেন। তিন ডোজ টিকা তিনি কীভাবে নিলেন, সেটি খোঁজার দায়িত্ব সহকারী পরিচালককে দিয়েছি।’

টিকাদানে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

ওমর ফারুকের ক্ষেত্রে তিনবার টিকা নেয়ার বিষয়টি কীভাবে ঘটতে পারে, সেটি বোঝার জন্য বিএসএমএমইউর টিকাদান কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা। তবে তথ্য দিতে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

টিকাদান কেন্দ্রে গেলে গেটেই নিউজবাংলার প্রতিবেদককে আটকে দেন আনসার সদস্যরা। এরপর মোবাইল ফোনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনা টিকাদান কার্যক্রমের সমন্বয়ক খোরশীদ আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাংবাদিকদের টিকাকেন্দ্রের ভেতরে যেতে না দিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মানা রয়েছে।’

এরপর টিকাকেন্দ্রের বাইরে এসে কথা বলেন খোরশীদ আলম। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করিনি এমন একটা অপপ্রচার সাংবাদিক ভাইয়েরা ছড়াবেন। আমাদের এখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটে নাই।’

ওই কেন্দ্রে টিকা নেয়া বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তাদের অনেকেই অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন।

ওই কেন্দ্র থেকে টিকা নেয়া বেশ কয়েকজন নিউজবাংলাকে জানান, টিকা নেয়ার কক্ষে ঢোকার আগেই সবার কাছ থেকে কার্ড নিয়ে তাতে সিল-স্বাক্ষর দিয়ে দেয়া হয়। ফলে টিকা পাওয়ার আগেই সার্ভারে যুক্ত হয়ে যায় গ্রহীতার তথ্য। এরপর একসঙ্গে ১০-১৫ জনকে কক্ষে ডেকে নিয়ে টিকা দেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ওই কক্ষে যে যার ইচ্ছামতো যেকোনো টেবিলের সামনের চেয়ারে বসে টিকা নেন। ওই কক্ষে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে টিকাদান এবং নজরদারির বিষয়টি খুব দুর্বল বলে জানিয়েছেন কয়েকজন টিকা গ্রহীতা।

বিএসএমএমইউর ওই কেন্দ্র থেকে টিকা নিয়েছেন বেসরকারি একটি টেলিভিশনের কর্মী ফারহানা ফারাহ। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা টিকা পাওয়ার আগেই সার্ভারে আপডেট করে দিয়েছিল যে, প্রথম ডোজ সম্পন্ন হয়েছে। তারপর নাম ডেকে ডেকে একসঙ্গে বেশ কয়েকজনকে রুমে ঢুকিয়ে টেবিল দেখিয়ে দেয়।’

ফারহানা বলেন, “আমার সঙ্গে এক নারী ছিলেন, তিনি রুমে ঢোকার পর বলছিলেন, ‘আমি একটু পরামর্শ করতে যাব, বাইরে আমার লোক আছে।’ তখন স্বেচ্ছাসেবক ওনাকে বলেছেন, ‘আপনি চাইলে যেতে পারেন, কিন্তু টিকা আর পাবেন না, কারণ আপনার ডেটা সার্ভারে অলরেডি আপডেট করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে বিকেলে নিউজবাংলা ফোনে যোগাযোগ করে টিকাদান কার্যক্রমের সমন্বয়ক খোরশীদ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘টিকার তাপমাত্রা জটিলতা ও প্রতিটি ভায়ালে ১০ ডোজ টিকা থাকার কারণে আগেই আমরা টিকা কার্ড সংগ্রহ করে তারপর টিকা দিই।’

এভাবে টিকা দিলে একাধিক ডোজ নেয়ার শঙ্কা থাকে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এখনে নার্স, চিকিৎসক ছাড়াও কিছু স্বেচ্ছাসেবী আছেন। তাদের সামনে কীভাবে একাধিকবার টিকা নেয়া সম্ভব।’

এরপর ব্যস্ততার কথা জানিয়ে ফোন কেটে দেন খোরশীদ আলম।

অন্য ওমর ফারুকের ফোন নম্বর দিল কর্তৃপক্ষ

বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গত সোমবার টিকা নেয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাইলে তারা জানায়, সেদিন যারা টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে চারজনের নাম ওমর ফারুক।

এর মধ্যে একজনের মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শও দেন তারা। তবে ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করে একজন দাবি করেন, টিভিতে যিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, তিনি ওই ওমর ফারুক নন। তার নামের আরও মানুষ থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের হয়তো ভুল হচ্ছে, ওই ব্যক্তি আমি নই। আমি এ বিষয়ে নিয়ে কিছুই জানি না। আমি সৌদিতে ছিলাম, এখন বাসায় আছি। আপনারা যার ভিডিও দেখছেন, তার মুখে দাড়ি ছিল। আমার মুখে দাড়ি নেই। আমি এক ডোজ টিকা দিয়েছি। আমার সঙ্গে কোনো সাংবাদিকের যোগাযোগ হয় নাই।’

টেলিভিশনে কথা বলা ওমর ফারুক তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে জানালেও বিএসএমএমইউর সরবরাহ করা ফোন নম্বরের ওমর ফারুকের বাসা ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে। তবে তার টিকা কার্ডে ঠিকানা পল্টন উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আবারও বিএসএমএমইউতে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই ফোন কেটে দেয়।

নারায়ণগঞ্জের ওমর ফারুককে তুলে আনার অভিযোগ

নিউজবাংলার অনুসন্ধানের একপর্যায়ে জানা যায়, টেলিভিশনে কথা বলেছেন যে ওমর ফারুক, তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূঁইঘরে।

ওই ঠিকানায় যোগাযোগ করা হলে ফারুকের বাবা জামাল হোসেন প্রধান অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে বুধবার সকালের দিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

‘৩ ডোজ টিকা’ নেয়া সেই ওমর ফারুক কোথায়?
ওমর ফারুক নিখোঁজের খবরে তার বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশীরা

তিনি সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ছেলে ওমর ফরুক সোমবার টিকার ডোজ দিয়ে আসছে। আজ বেলা সাড়ে ১১টার সময় দুইটা গাড়ি আমার বাড়িতে আসে। তাতে ১০ থেকে ১৫ জন লোক ছিল। তাদের কাছে আমার ছেলেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা পিজি হাসপাতাল থেকে এসেছি। ওনাকে পিজিতে নিয়ে যেতে হবে। এরপর নিয়ে চলে যায়।’

তিনি ক্ষোভের স্বরে বলেন, ‘আপনি সাংবাদিক হয়ে থাকলে পিজি হাসপাতালের ভিসিকে ফোন করেন। আমার ছেলে ৭টার সময় ফোন করে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। সে বলছে, আমি পিজি হাসপাতালে আছি। এখানে আমার একটা টেস্ট করা হবে। তাই আমাকে পিজি হাসপাতালে থাকতে হবে। তুমি চিন্তা করো না।’

তবে জামাল হোসেনের দাবি অস্বীকার করেছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। ওমর ফারুক কোথায় আছেন, জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর সুব্রত বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনি এমনভাবে বলছেন যেন আপনি জানেন, তিনি আমাদের হাসপাতালেই আছেন। সাংবাদিকদের মতো আমরাও ওমর ফারুককে খুঁজছি। আপনার কাছে যদি ওনার বাবার নম্বর থাকে, তাহলে আমাদের দেন, আমরা ওনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’

তিনি বলেন, ‘এই নিউজটা ভুয়া। আমরা সোমবার যাদের টিকা দিয়েছি তার মধ্যে চারজন ওমর ফারুক রয়েছেন। তাদের সবার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। তাদের কেউই তিন ডোজ টিকা দেননি। আর কাউকে বাড়ি থেকে তুলে আনা হয়নি।’

যা বলছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস পরিচালক মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ ঘটনা যেখানে ঘটেছে তারা বিষয়টি তদন্ত করবে।’

এমআইএসের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক যদি এ বিষয়ে তদন্ত করতে বলে অবশ্যই করব। কারণ এটা না করলে টিকাদান কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’

বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের বক্তব্যও জানার চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। তবে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা
ভুয়া এসএমএসে টিকা নিতে ভিড়
‘কয়দিন বাঁচার ইচ্ছা, তাই টিকা নিতি আলাম’
পরীক্ষা করান-টিকা নিন: প্রধানমন্ত্রী
একসঙ্গে তিন ডোজ টিকা নেয়া ওমর ফারুক পর্যবেক্ষণে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আরও ৬ বিভাগে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র

আরও ৬ বিভাগে বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র

বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন ঢাকা। ছবি: সংগৃহীত

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিগগির খুলনাসহ আরও ৬ বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপিত হবে। অন্যান্য জেলা এবং খুলনাতেও সিনেপ্লেক্সসহ তথ্য কমপ্লেক্স হবে।’

দেশের আরও ছয় বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপনের কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ।

খুলনায় শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিগগির খুলনাসহ আরও ৬ বিভাগীয় শহরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্র স্থাপিত হবে। অন্যান্য জেলা এবং খুলনাতেও সিনেপ্লেক্সসহ তথ্য কমপ্লেক্স হবে।

‘বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে দেশে যে চলচ্চিত্রশিল্পের যাত্রা, তাকে নতুন জীবন দিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া খুলনা নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি এ অঞ্চলের পত্রিকাগুলোর স্বার্থে আবার চালুর জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’

বাংলাদেশ টেলিভিশনের বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার কেন্দ্র রয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতেও সম্প্রচার কেন্দ্র করা হলে এর সংখ্যা হবে আটটি।

এ সময় রাজনৈতিক নানা ইস্যুতেও কথা বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে যারা জনগণের ভোট ও রায়ের ওপর নির্ভর করে, তাদের জন্য নির্বাচন বর্জন আত্মহনের মতো সিদ্ধান্ত, কিন্তু যারা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়, তারা নির্বাচন বর্জন করতে পারে।

‘পত্রিকায় দেখলাম বিএনপি নাকি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে যায়নি, কিন্তু নির্বাচন হয়েছে এবং দেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। ২০১৮ সালেও বিএনপি নির্বাচনে যাবে-যাবে না করে গাধার জল ঘোলা করে খাওয়ার মতো শেষে গেছে। তাই তাদের এ সিদ্ধান্তই থাকবে কিনা জানি না, কিন্তু বিএনপির জন্য এ সিদ্ধান্ত আত্মহননমূলক। অবশ্য বিএনপির সবসময় পেছনের দরজাটাই পছন্দ।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি মিথ্যাচার আর ষড়যন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত। গত সাড়ে ১২ বছর ধরে তাদের রাজনীতিটা ছিল জনগণের বিপক্ষে।

‘জনগণের ওপর পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা, হরতাল-অবরোধের নামে জনগণকে বন্দী করে রাখা এসবের মধ্যেই বিএনপির রাজনীতিটা সীমাবদ্ধ ছিল। এ কারণে প্রতিনিয়ত তারা জনগণ থেকে দূরে সরে গেছে এবং এই প্রেক্ষাপটে তারা সিরিজ বৈঠক করেছে। তাদের উচিত জনগণের সঙ্গে বৈরিতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা
ভুয়া এসএমএসে টিকা নিতে ভিড়
‘কয়দিন বাঁচার ইচ্ছা, তাই টিকা নিতি আলাম’
পরীক্ষা করান-টিকা নিন: প্রধানমন্ত্রী
একসঙ্গে তিন ডোজ টিকা নেয়া ওমর ফারুক পর্যবেক্ষণে

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘নিউ ইয়র্কের লটে নিউইয়র্ক প্যালেসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি।’

বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়শী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের লটে নিউইয়র্ক প্যালেসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি।

পরে এক ব্রিফিংয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, ‘বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাসচিব গুতেরেসকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলোকে জাতিসংঘ গুরুত্ব দেয় জানিয়ে মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মত বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো জাতিসংঘেরও অগ্রাধিকার।

এ সময় জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের উচ্চপদে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আরও বেশি সদস্যকে নিযুক্ত করতে গুতেরেসের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গুতেরেস এ আহ্বানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তিনি এটিকে ন্যায্য মনে করেন ও বাংলাদেশের জন্য আরও কিছু করতে চান।’

গতিশীল অর্থনীতির বাংলাদেশকে জাতিসংঘ ‘রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বলেও জানান মোমেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে নেদারল্যান্ডের রাণী ম্যাক্সিমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী।

মহাসচিবের পাশাপাশি জাতিসংঘ সদরদপ্তরে নেদারল্যান্ডের রাণী ম্যাক্সিমা, ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান ফুক এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মাদ সহিলের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নেদারল্যান্ডের রাণী ম্যাক্সিমার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে তার সরকার ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা চালু করার চিন্তা ভাবনা করছে।

এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব
ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান ফুকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মাদ সহিলের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে ড. মোমেন বলেন, ‘মালে ও চট্টগ্রামের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চালু করার ব্যাপারে দুই দেশ এক সঙ্গে কাজ করছে।’

ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান ফুকের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা
ভুয়া এসএমএসে টিকা নিতে ভিড়
‘কয়দিন বাঁচার ইচ্ছা, তাই টিকা নিতি আলাম’
পরীক্ষা করান-টিকা নিন: প্রধানমন্ত্রী
একসঙ্গে তিন ডোজ টিকা নেয়া ওমর ফারুক পর্যবেক্ষণে

শেয়ার করুন

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে আট কর্মকর্তার পদায়ন

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে আট কর্মকর্তার পদায়ন

প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাহেদ মিয়া, মো. মনিরুজ্জামান, মো. নাজমুল ইসলাম, মো. শরিফুল আলম, আতিকুর রহমান চৌধুরী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টিআর) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আটজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে।

শুক্রবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ পদায়ন করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাহেদ মিয়া, মো. মনিরুজ্জামান, মো. নাজমুল ইসলাম, মো. শরিফুল আলম, আতিকুর রহমান চৌধুরী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টিআর) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

একই দিনে পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেনকে শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা
ভুয়া এসএমএসে টিকা নিতে ভিড়
‘কয়দিন বাঁচার ইচ্ছা, তাই টিকা নিতি আলাম’
পরীক্ষা করান-টিকা নিন: প্রধানমন্ত্রী
একসঙ্গে তিন ডোজ টিকা নেয়া ওমর ফারুক পর্যবেক্ষণে

শেয়ার করুন

মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন ১৪০ পুলিশ সদস্য

মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন ১৪০ পুলিশ সদস্য

শান্তিরক্ষায় অসামান্য অবদান ও উঁচুমানের পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ পদক দেয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

কমান্ডার (পুলিশ সুপার) বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার সদস্যরা চলমান কোভিড-১৯ মহামারিতেও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রেখেছেন।’

মালির রাজধানী বামাকোতে ইউনাইটেড নেশনস মাল্টিডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশনে (এমআইএনইউএসএমএ) কর্মরত বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের ১৪০ জন সদস্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদকে ভূষিত হয়েছেন।

শান্তিরক্ষায় অসামান্য অবদান ও উঁচুমানের পেশাদারত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ পদক দেয়া হয়।

এমআইএনইউএসএমএ এর সদরদপ্তরে ২১ সেপ্টেম্বর পদক দেয়ার সময় প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ কমিশনার জেনারেল বেটিনা পেট্রিসিয়া বুগানি। চিফ অপারেশনস শারফাদিন মার্গিস ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের মিলিটারি, পুলিশ ও সিভিলিয়ান সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কমিশনার জেনারেল বেটিনা পেট্রিসিয়া বুগানি, বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, মিশন ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে ব্যানএফপিইউ-১ এর সদস্যরা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন। তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ মেডেল দেয়া হয়েছে।

কমান্ডার (পুলিশ সুপার) বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার সদস্যরা চলমান কোভিড-১৯ মহামারিতেও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রেখেছেন।’

বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীদের পদক দেয়ায় তিনি জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কমান্ডার বেলাল উদ্দিন এফপিইউ সদস্যদের মেডেল পরিয়ে দেন।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা
ভুয়া এসএমএসে টিকা নিতে ভিড়
‘কয়দিন বাঁচার ইচ্ছা, তাই টিকা নিতি আলাম’
পরীক্ষা করান-টিকা নিন: প্রধানমন্ত্রী
একসঙ্গে তিন ডোজ টিকা নেয়া ওমর ফারুক পর্যবেক্ষণে

শেয়ার করুন

স্কুলের গাছ, বেঞ্চ বিক্রির টাকা ‘আত্মসাৎ’

স্কুলের গাছ, বেঞ্চ বিক্রির টাকা ‘আত্মসাৎ’

বাজিতপুরের গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায়ের ব্যাপারটি স্বীকার করে স্কুল পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি আলমগীর বলেন, ‘গত ১ মাস আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। পরে সেগুলো আবার ফেরত দেয়া হয়েছে।’

কিশোরগঞ্জে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ ও পুরাতন বেঞ্চ বিক্রির টাকা আত্মসাৎ এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুরে ৫৩ নম্বর খাশালা গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত এ অভিযোগ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন কবির হোসেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, কবির হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকার সময় তৎকালীন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বকুলের সঙ্গে যোগসাজশে স্কুল প্রাঙ্গণের ১৭টি গাছ কেটে বিক্রি করেন।

এসব গাছের আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ওই টাকার হিসাব বিদ্যালয়ের রেজুলেশন খাতায় উল্লেখ না করে তা আত্মসাৎ করা হয়।

আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার পরও তাকে না জানিয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতির সঙ্গে যোগসাজশে কেজি দরে স্কুলের পুরাতন বেঞ্চ বিক্রি করেছেন কবির।

স্থানীয় ভাঙারি ব্যবসায়ী বিচন আলীর কাছে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিদ্যালয়ের ৫০০ কেজি বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করেন। সেই হিসেবে দাম পেয়েছেন ২২ হাজার ৫০০ টাকা। এটিও রেজুলেশন খাতায় উল্লেখ করা হয়নি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে শিক্ষক কবিরের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ের ৫২৫ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৩০ টাকা করে মোট ৬৮ হাজার ২৫০ টাকা তোলেন কবির। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সেই টাকা ফেরত দেয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। অ্যাসাইনমেন্টের জন্য আমার ছেলেসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৩০ টাকা করে নেয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকার লোকেরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি করলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে টাকা ফেরত দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।’

স্কুলের গাছ, বেঞ্চ বিক্রির টাকা ‘আত্মসাৎ’
ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য আরিফুল হক মুরাদ নিউজবাংলাকে জানান, নতুন স্কুল পরিচালনা কমিটিতে অভিভাবক সদস্য হয়েছেন তিনি। কিছু দিন আগে স্কুলের রেজুলেশন বই চেক করেন তিনি। তখন দেখতে পান গাছ বিক্রির কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদোত্তর দেননি কবির হোসেন।

বিভিন্ন সভায় এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কথা উঠলেও গাছ বিক্রির বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা হলেও কোনো প্রতিকার হয়নি।

পিরিজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা নেয়ার বিষয়টি অন্যদের মুখ থেকে শুনেছি। আমার ছেলেও এ স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়া হয়নি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বকুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। স্কুলের বাউন্ডারি করা হয়েছে দুই বছর আগে। এর আগে স্কুল প্রাঙ্গণে এতগুলো গাছ ছিল কি না বিষয়টি উনি প্রমাণ করুক, এ ঘটনায় আমিও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’

স্কুল পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গাছ কেটে বিক্রি করার যে অভিযোগ সেটি আমার সময়ে নয়। তাই এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। তবে আমি সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পরে স্কুলের পুরাতন বেঞ্চ বিক্রি করার যে অভিযোগ সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যিনি অভিযোগটি করেছেন তিনি অন্য কারও প্ররোচনায় এমনটি করেছেন।’

তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায়ের ব্যাপারটি স্বীকার করেছেন তিনি। আলমগীর বলেন, ‘গত ১ মাস আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। পরে সেগুলো আবার ফেরত দেয়া হয়েছে।’

বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোরশেদা খাতুন নিউজবাংলাকে জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা
ভুয়া এসএমএসে টিকা নিতে ভিড়
‘কয়দিন বাঁচার ইচ্ছা, তাই টিকা নিতি আলাম’
পরীক্ষা করান-টিকা নিন: প্রধানমন্ত্রী
একসঙ্গে তিন ডোজ টিকা নেয়া ওমর ফারুক পর্যবেক্ষণে

শেয়ার করুন

বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

প্রতীকী ছবি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আরও খাদ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য।’

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী একটি স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ‘জাতিসংঘ ফুড সিস্টেমস সামিট ২০২১’ শীর্ষক সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

ওই সময় একটি বৈশ্বিক জোট ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে খাদ্যের অপচয় কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত খাবার পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার, যা সকল নাগরিকের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সংযুক্ত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আরও খাদ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য।’

শেখ হাসিনা তার পরামর্শে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি উন্নয়নের জন্য গবেষণা, বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই খাদ্যব্যবস্থা অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বর্ধিত তহবিল প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা টেকসই নিরাপত্তা অর্জনে প্রযুক্তি শেয়ারিংসহ জলবায়ুজনিত চরম ঘটনাগুলোর সঙ্গে অভিযোজনের জন্য প্রতিশ্রুত তহবিল ছাড়েরও পরামর্শ দেন।

এ শীর্ষ সম্মেলনে আয়োজনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহামারি পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে এই অনুষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জনে আমাদের জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনায় সমন্বিত খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরকে একটি সমন্বিত কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, জাতীয় কৃষি নীতি-২০১৮, জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি-২০২০ এবং এর কর্মপরিকল্পনা (২০২১-২০৩০) দেশের খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দেয়।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছি এবং আমরা দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘনঘন চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ এই গতিবেগকে প্রভাবিত করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বৈশ্বিক নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি আমরা সবার জন্য মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা জোরদার করেছি।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা
ভুয়া এসএমএসে টিকা নিতে ভিড়
‘কয়দিন বাঁচার ইচ্ছা, তাই টিকা নিতি আলাম’
পরীক্ষা করান-টিকা নিন: প্রধানমন্ত্রী
একসঙ্গে তিন ডোজ টিকা নেয়া ওমর ফারুক পর্যবেক্ষণে

শেয়ার করুন

সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ‘ডেলিভারিং দ্য ইউএন কমন এজেন্ডা: অ্যাকশন টু অ্যাচিভ ইকুয়েলিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন’ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশকে। এদের মধ্যে আছেন নারী, অতি দরিদ্র, জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং অন্যান্য দুর্বল জনগোষ্ঠী।’

করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষতি কোনো দেশের পক্ষে এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয় জানিয়ে সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে সাহসী এবং দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ‘ডেলিভারিং দ্য ইউএন কমন এজেন্ডা: অ্যাকশন টু অ্যাচিভ ইকুয়েলিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন’ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় ধারণ করা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়ার জন্য জাতিসংঘের ঘোষণা বাস্তবায়নে আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

এসময় সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১. এই সময়ের সবচেয়ে জরুরি আহ্বান হলো, ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করা।

২. আমাদের একটি নতুন দৃষ্টান্ত দরকার, যা সামগ্রিকভাবে বৈষম্যের সমাধান করবে। এর সঙ্গে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, লিঙ্গ সমতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা এসডিজির গভীর সম্পর্কে রয়েছে।

৩. স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বিশেষ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৪. অভিবাসী মানুষের ভঙ্গুরতা মোকাবিলা করা অপরিহার্য।

৫. বিকশিত ডিজিটাল যুগে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল বিভাজন’ দূর করতে হবে।

সমাজের প্রকৃত ‘চেঞ্জমেকার’ হিসেবে নারী এবং কন্যাশিশুদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে তাদের আরও সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

‘আমাদের অভিন্ন এজেন্ডা’ সম্পর্কিত জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে ওঠেছে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি সবচেয়ে দরিদ্র এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে আঘাত করেছে। দারিদ্র্য, বৈষম্য কমাতে আমাদের কয়েক দশকের অর্জন দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান ‘সকল নাগরিকের সুযোগের সমতা’ নিশ্চিত করে।”

প্রধানমন্ত্রী এসময় জাতির পিতার কথা স্মরণ করে বলেন, “১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতায় আমাদের জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘প্রত্যেকের নিজের এবং তার পরিবারের স্বাস্থ্য এবং কল্যাণে উপযুক্ত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব রয়েছে।”

বঙ্গবন্ধুর এই উদ্ধৃতি ওই সময়ের তুলনায় বর্তমানে আরও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই চেতনাকে ধরে রেখে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে আমরা একটি সামগ্রিক পন্থা নিয়েছি। একইসঙ্গে কোভিডের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও একটা পন্থা রয়েছে যেখানে, ‘বাদ যাবে না কেউ।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশকে। এদের মধ্যে আছেন নারী, অতি দরিদ্র, জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং অন্যান্য দুর্বল জনগোষ্ঠী।’

আরও পড়ুন:
চট্টগ্রামে সিনোফার্ম ও মডার্নার ১ লাখ ৮৫ হাজার টিকা
ভুয়া এসএমএসে টিকা নিতে ভিড়
‘কয়দিন বাঁচার ইচ্ছা, তাই টিকা নিতি আলাম’
পরীক্ষা করান-টিকা নিন: প্রধানমন্ত্রী
একসঙ্গে তিন ডোজ টিকা নেয়া ওমর ফারুক পর্যবেক্ষণে

শেয়ার করুন