চাঁপাইনবাবগঞ্জে শনাক্তের হার কমেছে ২১ শতাংশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শনাক্তের হার কমেছে ২১ শতাংশ

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চলছে দ্বিতীয় দফায় বিশেষ লকডাউন। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, শনিবার শনাক্তের হার ছিল শতকরা ৪০ দশমিক ৬৮ ভাগ। রোববার ২৪ ঘণ্টায় জেলার ৩৯২টি নুমনা পরীক্ষায় ৭৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

সীমান্তঘেঁষা চাঁপাইনবাবগঞ্জে দ্বিতীয় দফার বিশেষ লকডাউনের মধ্যে রোববার ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের হার শতকরা ২১ দশমিক ৫৫ ভাগ কমে ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশে নেমেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলার সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, শনিবার শনাক্তের হার ছিল শতকরা ৪০ দশমিক ৬৮ ভাগ। রোববার ২৪ ঘণ্টায় জেলার ৩৯২টি নুমনা পরীক্ষায় ৭৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

শুক্রবার জেলায় করোনা শনাক্তের হার ছিল ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ।

এদিকে দ্বিতীয় দফার বিশেষ লকডাউনের সপ্তম দিন সোমবার সকালের দিকে শহরের নিউমার্কেট এলাকায় প্রয়োজনীয় বাজার করতে আসা মানুষের ভিড় দেয়া গেছে। শহরের মধ্যে রিকশা চলাচলের সংখ্যাও বেড়েছে।

সকাল থেকে শহরজুড়ে বসানো ৫০টি চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

চলমান লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়বে কি না, এ নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন।

সাধারণ জনগণের এ প্রশ্নের উত্তর জানতে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘করোনা শনাক্তের হার দুই দিন ধরে নিম্নগামী। আমরা বিষয়টি নিয়ে আজ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে করোনা প্রতিরোধ কমিটির মিটিং করব। সন্ধ্যার পর আজকের (সোমবার) নমুনা পরীক্ষার ফলও পেয়ে যাব। সবকিছু পর্যালোচনা করে লকডাউনের সময়সীমার বিষয়ে রাত ৮টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ২৪৩ জনকে শনিবার সুস্থ ঘোষণা করা হয়। এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ২ হাজার ৪৮৯ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৬৪ জন। সুস্থতার হার ৫৮ দশমিক ৮১ শতাংশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ও করোনা ইউনিটের তথ্য কর্মকর্তা আহনাফ শাহরিয়ার জানান, ইউনিটে ৫০টি বেডে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ৫০জনই ভর্তি রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সোমবার বেলা ১১টার দিকে একজন রোগীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, তার অনেক বেশী অক্সিজেন সাপোর্ট প্রয়োজন পড়ছিল। অন্যদিকে তিনজন রোগীকে সুস্থ্য হওয়ায় ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। অক্সিজেন সাপোার্ট ছাড়াই তারা ভাল আছেন, তারা বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেবেন।

আহনাফ শাহরিয়ার বলেন, ‘অনেকেই আমাদের কাছে ফোন দিচ্ছে হাসপাতালের বেডের জন্য। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবারাহের পাইপগুলো যেভাবে বসানো আছে, তাতে আরও ২০টি বেড করোনা ইউনিটে সংযোজন করা যাবে।’

নতুন করে করোনা ইউনিটে আর কেউ মারা যাননি বলেনও জানান চিকিৎসক আহনাফ শাহরিয়ার।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত এমপি গোপাল
দুই মাসের মধ্যে ভারতে সর্বনিম্ন শনাক্ত
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
যশোরে এক দিনে ১০৫ জনের করোনা শনাক্ত
করোনায় আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৭৬

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যালে অনিয়ম, তদন্ত চেয়ে রিট

শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যালে অনিয়ম, তদন্ত চেয়ে রিট

গোপালগঞ্জে শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি

সম্প্রতি ‘হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাগ্নের দুর্নীতি, বাথরুম লাইটের দাম ৩ হাজার ৮৪৩ টাকা’ এমন শিরোনামে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারিত হয়। এরপর বিভিন্ন পত্রিকায়ও সংবাদটি প্রকাশ হয়। এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে রিট করেছেন আইনজীবী এম. আনিসুজ্জামান।

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর মা শেখ সায়েরা খাতুনের নামে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে অনিয়মের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আনিছুর রহমানের পক্ষে এ রিট করেন আইনজীবী এম. আনিসুজ্জামান।

রিটে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাগ্নে রায়ান হামিদের প্রতিষ্ঠান বিডি থাই কসমো লিমিটেডের নামে অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে দুর্নীতি-অনিয়ম ঠেকাতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না সেটি জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

রিটে বিবাদী করা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (অর্থ বিভাগ), স্বাস্থ্য সচিব (স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক (অর্থ), গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, দুদক চেয়ারম্যান এবং বিডি থাই কসমো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে।

রিটকারী আইনজীবী মো. আনিসুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর মা শেখ সায়েরা খাতুনের নামে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে জিনিসপত্র ক্রয়ে বড় ধরনের অনিয়মের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসে। যেটি রূপপুরের বালিশকাণ্ডকেও হার মানিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘করোনার এ সময়ে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। এ অবস্থায় হাসপাতালে এত বড় দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় আমাদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিষয়টি নিয়ে ১৫ জুলাই সরকারকে আইনি নোটিশ দিয়েছিলাম। কিন্তু তাতে কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় রিট করেছি।’

রিটটির শুনানি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে হতে পারে বলেও জানান আইনজীবী মো. আনিসুজ্জামান।

১৩ জুলাই ‘হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাগ্নের দুর্নীতি, বাথরুম লাইটের দাম ৩ হাজার ৮৪৩ টাকা’ এমন শিরোনামে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারিত হয়। এরপর বিভিন্ন পত্রিকায়ও সংবাদটি প্রকাশ হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ ওয়াট বাথরুম লাইটের দাম ধরেছে ৩ হাজার ৮৪৩ টাকা, যার বাজারদর ২৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫০ টাকা। ১৮ ওয়াট এলইডি সারফেস ডাউন লাইটের দাম ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৫১ টাকা, যার সর্বোচ্চ বাজারদর ৭০০-৮০০ টাকা। এলইডি ওয়াল স্পট লাইটের দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৫৬ টাকা, যার বাজারদর ৩০০-৪০০ টাকা। এমন ২৪ ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিডব্লিউডির তালিকাভুক্ত না হলেও রায়ান হামিদের প্রতিষ্ঠান ‘বিডি থাই কসমো লিমিটেড’ এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের চাপে কাজ দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া অন্য প্রতিষ্ঠানের দাম বিডি থাই কসমো লিমিটেডের (কসমো লাইটিং) দেয়া দাম থেকে অনেক কম। বিডি থাই কসমো লিমিটেড ১৫ ওয়াট বাথরুম লাইটের ৩ হাজার ৮৪৩ টাকার যে দাম ধরেছে, দরপত্রের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ৭১৫ টাকা করে দিতে চাইলেও সেটি নেয়নি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত এমপি গোপাল
দুই মাসের মধ্যে ভারতে সর্বনিম্ন শনাক্ত
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
যশোরে এক দিনে ১০৫ জনের করোনা শনাক্ত
করোনায় আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৭৬

শেয়ার করুন

খুলনা ও রাজশাহীতে ডেঙ্গু রোগী

খুলনা ও রাজশাহীতে ডেঙ্গু রোগী

কিছু দিন ধরে আতঙ্কজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা। ফাইল ছবি

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার ভর্তি হওয়া তিন রোগীর মধ্যে দুজনই শিশু। তাদের কারও বাড়ি খুলনা জেলার না হলেও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজশাহীতে ভর্তি রোগী অবশ্য ঢাকা থেকেই আক্রান্ত হন।

ঢাকায় উদ্বেগ তৈরি করা মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এক রোগী ভর্তি হয়েছে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার ভর্তি হওয়া তিন রোগীর মধ্যে দুজনই শিশু। তাদের কারও বাড়ি খুলনা জেলার না হলেও পার্শ্ববর্তী এলাকায় হওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী হিলাড়ি স্বপন কর্মকারও একইদিন বিকেলে সেখানে যান। তার বাড়ি রাজশাহীতে হলেও পড়াশোনার জন্য ঢাকায় ছিলেন। সেখান থেকেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তিনি।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে ভর্তি তিন রোগী হলো বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ৩২ বছরের সজীব, রামপাল উপজেলার বাঁশতলি এলাকার অপু বিশ্বাসের চার বছরের ছেলে অতিস ও নড়াইল লোহাগড়ার লুটিয়া এলাকার কানু ঘোষের ১০ বছরের ছেলে লিংকন ঘোষ।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘খুলনায় এখনও ডেঙ্গু প্রভাব বিস্তার করেনি। তবুও সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘প্রাথমিকভাবে ১০ শয্যার একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

খুলনার সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, ‘খুলনায় এখনও ডেঙ্গু আক্রান্ত কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। উপজেলাগুলোতে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে কোনো রোগী আসলে করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু টেস্টও করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত কিটের ব্যবস্থা রাখা আছে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভর্তি স্বপনের বাড়ি নগরীর ডিঙ্গাডোবা বাগানপাড়া এলাকায়। তিনি ঢাকায় নর্দান ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী। সোমবার ভোরে তিনি রাজশাহীতে পৌঁছান। বিকেলেই হাসপাতালটিতে ভর্তি হন তিনি।

স্বপন জানান, তিনি নার্সিং কলেজের হোস্টেলে থাকেন। কয়েকদিন আগে তিনি অসুস্থ হওয়ায় সেখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে পজেটিভ রেজাল্ট আসে। এর পরই তিনি রাজশাহীতে চলে আসেন।

সোমবার রামেক হাসপাতালে ভর্তির পর ফের পরীক্ষা করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এখানেও পরীক্ষায় পজেটিভ এসেছে। এখন ডেঙ্গুর চিকিৎসা চলছে। তবে শারীরিকভাবে এখনও ভালো আছেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘তিনি ঢাকাতেই আক্রান্ত হয়েছিলেন। এখানে আসার পর আমরা তাকে ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি।

‘চলতি মৌসুমে এই হাসপাতালে এটিই প্রথম ডেঙ্গু রোগী। আমরা তাকে সুরক্ষা দিয়ে রাখছি। বুধবার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু ওয়ার্ড করার পর তাকে সেখানে রাখা হবে।’

ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অবশ্য আগেই প্রস্তুতি নিয়েছে। ঈদের আগে ঢাকা থেকে অনেকেই যাওয়ায় ডেঙ্গু ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কায় গত মাসের শেষ সপ্তাহেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিয়ে রাখে।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত এমপি গোপাল
দুই মাসের মধ্যে ভারতে সর্বনিম্ন শনাক্ত
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
যশোরে এক দিনে ১০৫ জনের করোনা শনাক্ত
করোনায় আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৭৬

শেয়ার করুন

এক দিনে মৃত্যু ২৩৫, শনাক্ত ১৫৭৭৬

এক দিনে মৃত্যু ২৩৫, শনাক্ত ১৫৭৭৬

দেশে এ পর্যন্ত ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজার ৩৯৭ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৫ হাজার ৭৭৬ জনের শরীরে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজার ৩৯৭ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৬৯৭টি ল্যাবে করোনার ৫৫ হাজার ২৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

এই সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ১৬ হাজার ২৯৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১১ লাখ ২৫ হাজার ৪৫ জন। সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৮০ শতাংশ।

গত একদিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৪০ জন, নারী ৯৫ জন। এর মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। বাকিদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ৪, ত্রিশোর্ধ্ব ১৫, চল্লিশোর্ধ্ব ২৫, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৪৫ ও ষাটোর্ধ্ব ৮০, সত্তরোর্ধ্ব ৪১, অশীতিপর ১১ ও নবতিপর ৪ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রামে বিভাগ, ৬৫ জন। এ ছাড়া খুলনা ৩২ জন, রাজশাহীতে ২১, বরিশালে ৮, সিলেটে ১২, রংপুরে ১২ ও ময়মনসিংহে ১২ জনের করে মৃত্যু হয়েছে।

দেশে করোনা প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। উদ্বেগ থাকলেও প্রথম কয়েক মাসে ভাইরাসটি সেভাবে ছড়ায়নি। তবে মে মাস থেকে ব্যাপকভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তখন আক্রান্তের হটস্পট ছিল ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের মতো জনবহুল শহরগুলো।

গত শীতে দ্বিতীয় ঢেউ আসার উদ্বেগ থাকলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু-দুটোই কমে আসে। একপর্যায়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবেচনায় মহামারি নয়, নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি। তবে গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শনাক্তের হার আবার বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় ঢেউ নিশ্চিত হওয়ার পর এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতে করোনার নতুন ধরনের কথা জানা যায়। সেই ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্তদের দ্রুত অসুস্থ করে দেয়, তাদের অক্সিজেন লাগে বেশি। ছড়ায়ও দ্রুত, তাই মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি।

করোনার ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে দফায় দফায় কঠোর বিধিনিষেধ, লকডাউন বা শাটডাউন দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে ঈদুল আজহা পরবর্তী ১৪ দিনের শাটডাউন চলছে দেশে, যা শেষ হবে ৫ আগস্ট। তার আগেই আরও পাঁচদিন বাড়িয়েছে সরকার। সে অনুযায়ী, ১১ আগস্ট থেকে বাসসহ গণপরিবহন চালু করা এবং দোকানপাট ও অফিস আদালত খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত এমপি গোপাল
দুই মাসের মধ্যে ভারতে সর্বনিম্ন শনাক্ত
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
যশোরে এক দিনে ১০৫ জনের করোনা শনাক্ত
করোনায় আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৭৬

শেয়ার করুন

ডেঙ্গুতে আরও ২৬৪ জন হাসপাতালে

ডেঙ্গুতে আরও ২৬৪ জন হাসপাতালে

ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশা। ছবি: কবিরুল বাশার

দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৭২ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১ হাজার ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। গত এক দিনে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৬৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে মঙ্গলবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতেই ভর্তি হন ২৪৮ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হন ১৬ জন।

চলতি বছর এ নিয়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৬ জনের দেহে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৮৬ জন ছিলেন গত মাসেই।

এসব রোগীর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ হাজার ৩৭০ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৭২ জন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর এই বিস্তার নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে সরকার। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র এডিস মশা নির্মূলে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। নগরীর বিভিন্ন ভবনে অভিযান চালিয়ে এডিস বিস্তারের পরিবেশ থাকায় জরিমানা করা হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে চলছে প্রচার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায় মশার মাধ্যমে। আর অন্য মশার সঙ্গে ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী এডিস মশার পার্থক্য আছে। মূলত এই মশার জন্ম হয় আবদ্ধ পরিবেশে। ফলে নাগরিকরা সচেতন না হলে এই রোগ প্রতিরোধ করা কঠিন।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু রোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর গত বছর সতর্ক অবস্থানে ছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তারপরও ২০২০ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৪০৫ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন মারা যান।

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তারে আক্রান্ত হয় ১ লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে মৃত্যু হয় ১৭৯ জনের। গত বছর সংক্রমণের মাত্রা অনেকটা কম থাকলেও এ বছর পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। শহরের মানুষ ঈদের জন্য গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় ৬৪টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। ঢাকা শহরের সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এখন লকডাউনের কারণে বন্ধ, এগুলো এডিস মশার প্রজননের বড় ক্ষেত্র।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে মশা নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে, এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমতে পারে।’

নির্দিষ্ট হচ্ছে হাসপাতাল

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ডেঙ্গু রোগীদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিতে কয়েকটি হাসপাতাল নির্দিষ্ট করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের এমন পরিস্থিতিতে নতুন সংকট তৈরি করেছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই হাসপাতালের বারান্দায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ‌্যা বাড়ছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের অনেকেই হাসপাতালে এসে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ডেঙ্গু রোগীদের জন‌্য সুনির্দিষ্ট হাসপাতালের ব‌্যবস্থা করার পরিকল্পনা নিচ্ছি।’

সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ, শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, লালকুঠি হাসপাতাল, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালকে ডেঙ্গু চিকিৎসায় ‘ডেডিকেটেড’ করা হবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত এমপি গোপাল
দুই মাসের মধ্যে ভারতে সর্বনিম্ন শনাক্ত
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
যশোরে এক দিনে ১০৫ জনের করোনা শনাক্ত
করোনায় আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৭৬

শেয়ার করুন

অস্ট্রেলিয়ার উদ্বৃত্ত টিকা বাংলাদেশে পাঠাতে প্রবাসীদের চেষ্টা

অস্ট্রেলিয়ার উদ্বৃত্ত টিকা বাংলাদেশে পাঠাতে প্রবাসীদের চেষ্টা

বাংলাদেশে টিকা পাঠানোর চেষ্টা নিয়ে ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি বাংলাদেশে ৫ কোটি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন উপহার হিসেবে পাঠানোর জন্য অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টে প্রবাসীদের একটি আবেদনে অনুমোদন দেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এখন ই-পিটিশনে চলছে সই সংগ্রহ। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী নাগরিকেরা এই পিটিশনে সই করছেন। আগামী ১২ আগস্টের আগে কমপক্ষে ১০ হাজার সই সংগৃহীত হলে পার্লামেন্ট সেটা স্পিকারের মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন করবে।

অস্ট্রেলিয়ার উদ্বৃত্ত ৫ কোটি অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা বাংলাদেশে উপহার হিসেবে পাঠানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

এ উদ্যোগের অগ্রগতি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন, সিটিজেনশিপ, মাইগ্রেশন সার্ভিস ও মাল্টিকালচারাল বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স হকের সঙ্গে একটি অনলাইন আলোচনা সভা করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

এই ভার্চুয়াল সভায় যোগ দেন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রায় সবকটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভায় অ্যালেক্স হক জানান, তারা চান না বাংলাদেশ ভারতের মতো বিপর্যয়ে পড়ুক। অস্ট্রেলিয়া সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ভার্চুয়াল সভায় অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি আরও অংশগ্রহণ করেন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার সুফিউর রহমান। অস্ট্রেলিয়ার সবকটি রাজ্য ও শহর থেকে অংশ নেওয়া সংগঠক, সাংবাদিক, সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলরসহ অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিও অংশগ্রহণ করেন।

এ আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন কেন্টারবুরি-ব্যাংক্সটাউন কাউন্সিলের লিবারেল পার্টির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর শাহে জামান টিটু। পরিচালনা করেন ডা. আয়াজ চৌধুরী ও প্রকৌশলী আব্দুল মতিন।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ৫ কোটি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন উপহার হিসেবে পাঠানোর জন্য অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টে প্রবাসীদের একটি আবেদনে অনুমোদন দেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এখন ই-পিটিশনে চলছে সই সংগ্রহ। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী নাগরিকেরা এই পিটিশনে সই করছেন। আগামী ১২ আগস্টের আগে কমপক্ষে ১০ হাজার সই সংগৃহীত হলে পার্লামেন্ট সেটা স্পিকারের মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন করবে।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত এমপি গোপাল
দুই মাসের মধ্যে ভারতে সর্বনিম্ন শনাক্ত
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
যশোরে এক দিনে ১০৫ জনের করোনা শনাক্ত
করোনায় আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৭৬

শেয়ার করুন

আবাসিক হোটেলেও করোনা চিকিৎসা

আবাসিক হোটেলেও করোনা চিকিৎসা

‘আমাদের হাসপাতাল করার আর জায়গা নেই। হাসপাতাল খালিও নেই। তাই আমরা এখন হোটেল খুঁজছি। যেখানে আমরা একটা ব্যবস্থা করতে পারি, মৃদু যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রাখতে পারি। ওখানে থেকে চিকিৎসা নিয়ে যাতে ভালো হয়ে বাড়ি যেতে পারেন। সেই ব্যবস্থাটুকু আমরা হাতে নিয়েছি।’

করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। তাই করোনায় আক্রান্ত হওয়া কম ঝুঁকিপূ্র্ণ রোগীদের হোটেলে রেখে চিকিৎসা দেয়ার চিন্তা-ভাবনা সরকার করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার কোভিড-১৯ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত সবাইকে কিন্তু হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ে না। যেগুলো হালকা, মাইল্ড কেস, সেই সমস্ত রোগীর জন্য আমরা আলাদা হোটেল ভাড়া করার চিন্তা করেছি। যে হোটেলের মধ্যে আমাদের ডাক্তার থাকবে, নার্স থাকবে, ওষুধপত্র থাকবে, কিছু অক্সিজেনের ব্যবস্থাও আমরা রাখব।’

হাসপাতালে শয্যা সংকট হওয়ার কারণে সরকার এই বিকল্প ভাবনা ভাবছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘কারণ আমাদের হাসপাতাল করার আর জায়গা নেই। হাসপাতাল খালিও নেই। তাই আমরা এখন হোটেল খুঁজছি। যেখানে আমরা একটা ব্যবস্থা করতে পারি, মৃদু যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রাখতে পারি। ওখানে থেকে চিকিৎসা নিয়ে যাতে ভালো হয়ে বাড়ি যেতে পারেন। সেই ব্যবস্থাটুকু আমরা হাতে নিয়েছি।’

ইতিমধ্যে হাসপাতালে ৯০ শতাংশ আসনে রোগী ভর্তি আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোগী আছে, (শয্যা) ফাঁকা নেই। আইসিইউ অলরেডি ৯৫ শতাংশ অকুপাইড। এই চিন্তা করে আমরা ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করছি। সেটার কাজ চলমান আছে। সেখানে ইমিডিয়েটলি আমরা হয়তো ৫০০ থেকে ৬০০ বেড রেডি করতে পারব। পরে তা এক হাজার বেডে নেয়া যাবে।’

আগামী ৭ আগস্ট থেকে সাত দিনের জন্য বাংলাদেশ প্রত্যেকটি ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে টিকা দেয়ার কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই সাত দিনে আমরা প্রায় এক কোটি টাকা দিব। এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।’

এজন্য সভায় বিভিন্ন দপ্তরের সাহায্য চাওয়া হয়েছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে গ্রামের বয়স্কদের আমরা অগ্রাধিকার দিব। পঞ্চাশোর্ধ যারা আছেন, তাদের আমরা অগ্রাধিকার দেব, এই বয়সীদের মৃত্যু এখন ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে সোয়া কোটি টিকা আছে। আরও এক কোটি টিকা আমাদের হাতে এসে পৌঁছাবে। অর্থাৎ টিকা কর্মসূচি বজায় থাকবে।’

‘এনআইডির (জাতীয় পরিচয়পত্র) মাধ্যমে আমরা ভ্যাকসিন দিব। যাদের এনআইডি নেই তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেয়া হবে। এ বিষয়ে ঘোষণার আগেই দেয়া হয়েছে।’

স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে এবং বাংলাদেশের একটি কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করেছি। সেই টিকা উৎপাদন করার কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমরা আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিও পেয়েছি।’

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত এমপি গোপাল
দুই মাসের মধ্যে ভারতে সর্বনিম্ন শনাক্ত
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
যশোরে এক দিনে ১০৫ জনের করোনা শনাক্ত
করোনায় আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৭৬

শেয়ার করুন

৭ দিনে দেয়া হবে এক কোটি টিকা

৭ দিনে দেয়া হবে এক কোটি টিকা

‘দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম দুটি করে কেন্দ্রে টিকা দেয়া হবে। প্রায় ১৪ হাজার কেন্দ্রে একসঙ্গে সপ্তাহব্যাপী ভ্যাকসিন দেয়া হবে। সেখানে বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। শ্রমজীবী মানুষ, দোকানদার, বাসের হেলপারদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে। ভ্যাকসিন না দিয়ে কেউ কোনো কর্মস্থলে আসতে পারবেন না। যার যার এলাকা থেকে ভ্যাকসিন নিতে হবে। ১১ আগস্টের পরে টিকা না নিয়ে কেউ মুভমেন্ট করলে শাস্তিযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’

করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৭ আগস্ট থেকে সাত দিন দেশের সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে এক কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ সময় ১৪ হাজার কেন্দ্রে একযোগে টিকা কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার কোভিড-১৯ পর্যালোচনাসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভা শেষে তারা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

৫০ বছরের বেশি বয়সীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই টিকা দেয়া হবে বলেও জানান তারা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, ৭ আগস্ট থেকে সাত দিনের জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে প্রায় এক কোটি টিকা দেব। সেই টিকা দিতে অনেকের সহযোগিতা লাগবে। এ জন্য আজ সভা করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বাহিনীপ্রধানদের কাছে সেই সাহায্য চাওয়া হয়েছে। গ্রামের বয়স্ক, অর্থাৎ ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের অগ্রাধিকার দেব। কারণ তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৮০-৯০ শতাংশ।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম দুটি করে কেন্দ্রে টিকা দেয়া হবে। প্রায় ১৪ হাজার কেন্দ্রে একসঙ্গে সপ্তাহব্যাপী ভ্যাকসিন দেয়া হবে। সেখানে বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। শ্রমজীবী মানুষ, দোকানদার, বাসের হেলপারদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে। ভ্যাকসিন না দিয়ে কেউ কোনো কর্মস্থলে আসতে পারবেন না। যার যার এলাকা থেকে ভ্যাকসিন নিতে হবে। ১১ আগস্টের পরে টিকা না নিয়ে কেউ মুভমেন্ট করলে শাস্তিযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’

সরকারের টিকার মজুত নিয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাতে সোয়া কোটি টিকা আছে। এ মাসে আরও এক কোটি টিকা এসে পৌঁছাবে। যাদের এনআইডি কার্ড নেই, তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেব।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনে জোর দিয়েছি। চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছি। আইন মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্রও পাওয়া গেছে।’

মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে করোনায় আক্রান্ত এমপি গোপাল
দুই মাসের মধ্যে ভারতে সর্বনিম্ন শনাক্ত
রাজশাহী মেডিক্যালে করোনায় আরও ৭ মৃত্যু
যশোরে এক দিনে ১০৫ জনের করোনা শনাক্ত
করোনায় আরও ৩৮ মৃত্যু, শনাক্ত ১৬৭৬

শেয়ার করুন