আরও ৭ দিনের বিশেষ লকডাউনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বাড়লো বিশেষ লকডাউনের সময়সীমা। ছবি: নিউজবাংলা

আরও ৭ দিনের বিশেষ লকডাউনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চলমান লকডাউনের সপ্তম দিনেও মাঠে রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। জেলাজুড়ে বসানো পুলিশের ৫০টি চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সাধারণ মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউই বাড়ির বাইরে থাকতে পারছেন না। লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করা অনেককেই গুনতে হচ্ছে জরিমানা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলমান বিশেষ লকডাউন আরও সাতদিন বাড়িয়েছে প্রশাসন। এই লকডাউন চলবে ১ জুন থেকে ৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত।

নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সোমবার দুপুর ১টার দিকে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা শেষে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের সংক্রমণের হার কিছুটা নিম্নমুখী। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই আমরা আরও সাত দিনের লকডাউন বাড়িয়েছি। আশা করি পরিস্থিতি আগামীতে আরও উন্নত হবে। আমরা এর আগে সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করি, জেলাবাসী তা মেনে নেন। এবারও মানুষ লকডাউনের সিদ্ধান্তে আমাদের সঙ্গে একমত হবেন বলে আশা করছি। '

চলমান লকডাউনের মতোই বর্ধিত সাত দিনেও ১১টি বিধিনিষেধ মানার কথা উল্লেখ করেছেন জেলা
প্রশাসক মঞ্জুরুল। এবারও আমকেন্দিক সব কার্যক্রম লকডাউনের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে অন্য জেলা থেকে আম ব্যবসায়ীরা আম কেনার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জেও আসতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলার সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী, পুলিশ
সুপার (এসপি) এইচ এম আব্দুল রকিব।

এর আগে, করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় গত মঙ্গলবার থেকে সাত দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মঞ্জুরুল হাফিজ।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে লকডাউন সর্বাত্মকভাবেই কার্যকর হয়েছে। সাধারণ মানুষ তাদের নিজেদের নিরাপদ রাখার জন্যই এটাকে মেনে নিয়েছেন।'

রোববার ২৪ ঘণ্টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন করে ৯৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আরটিপিসিআর ল্যাবে ৬৩ জনের নমুনায় ৪৫ জনের করোনা পজিটিভ আসে। বাকিদের করোনা শনাক্ত হয় স্থানীয়ভাবে করা র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে।

চলমান লকডাউনের সপ্তম দিনেও মাঠে রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। জেলাজুড়ে বসানো পুলিশের ৫০টি চেক পোস্টে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সাধারণ মানুষের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউই বাড়ির বাইরে থাকতে পারছেন না। লকডাউনের বিধিনিষেধ অমান্য করা অনেককেই গুনতে হচ্ছে জরিমানা। পুলিশের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সিভিল সার্জন জাহিদ নজরুল চৌধুরী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে এ ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের হার কমানো কঠিন হয়ে পড়বে।’

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কেউ মারা যাননি। এ পর্যন্ত এ জেলায় করোনায় মারা গেছেন ৩২ জন।

আরও পড়ুন:
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউন ৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
করোনা ঠেকাতে সীমান্তের ৮ জেলা অবরুদ্ধের সুপারিশ
লকডাউন বাড়ানোর ইঙ্গিত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফরিদপুরে করোনায় আরও ৬ মৃত্যু

ফরিদপুরে করোনায় আরও ৬  মৃত্যু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বর্তমানে ১০২ জন রোগীর চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে ১০ জন আইসিইউতে এবং ৯২ জন করোনা ওয়ার্ডে রয়েছেন।’

ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জন মারা গেছেন।

হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অনন্ত কুমার বিশ্বাস শনিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তাদের মধ্যে পাঁচজন ফরিদপুরের এবং একজন রাজবাড়ীর বাসিন্দা। ফরিদপুরের পাঁচজনের মধ্যে দুজন নারী এবং তিনজন পুরুষ রয়েছেন।

মৃতরা হলেন ফরিদপুর শহরের ওয়ারলেসপাড়া মহল্লার ফজলুর রহমান, শহরের ভাটিলক্ষ্মীপুর মহল্লার আজিজুর শেখ, নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের জ্যোৎসা বেগম, ওই উপজেলার পুরাপাড়া গ্রামের শিরিয়া বেগম, বোয়ালমারী উপজেলার আবুল হোসেন এবং রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার মো. আক্তার।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বর্তমানে ১০২ জন রোগীর চিকিৎসা চলছে। তাদের মধ্যে ১০ জন আইসিইউতে এবং ৯২ জন করোনা ওয়ার্ডে রয়েছেন।’

ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরে এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৪০৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৯৯ জন।

জেলার সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান বলেন, ‘ফরিদপুরে করোনা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। শনাক্তের হার কোনো দিন বাড়ছে, আবার কোনো দিন কমছে। তবে শনাক্তের হার স্পমপ্রতি ২২ শতাংশের নিচে নামেনি।’

তিনি বলেন, ‘ফরিদপুরকে লকডাউনের আওতায় আনা উচিত। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

এদিকে ফরিদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ফরিদপুরে মোট শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৪০৭ জনের।

শুক্রবার ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ২৬৮ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে ৭৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। গত বৃহস্পতিবার এ হার ছিল ৪২ দশমিক ১৫ শতাংশ। এক দিনের শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমেছে।

আরও পড়ুন:
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউন ৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
করোনা ঠেকাতে সীমান্তের ৮ জেলা অবরুদ্ধের সুপারিশ
লকডাউন বাড়ানোর ইঙ্গিত

শেয়ার করুন

সিনোফার্মের টিকা পেলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যালের ১৯৬ শিক্ষার্থী

সিনোফার্মের টিকা পেলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যালের ১৯৬ শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচির ফোকাল পার্সন অজয় কুমার ঘোষ ‘আমরা আপাতত ৩০ তারিখ পর্যন্ত চট্টগ্রামের পাবলিক ও প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার তালিকা প্রস্তুত করেছি। তাছাড়া চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা টিকা দেয়ার নির্ধারিত বুথে টিকা না দিয়ে আমরা আপাতত মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের টিউটোরিয়াল কক্ষে শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দিচ্ছি।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের পাঠানো টিকাদানের প্রথম দিনে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ১৯৬ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল নয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের টিউটোরিয়াল কক্ষে চলে টিকাদান কার্যক্রম। নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচির ফোকাল পার্সন ও কলেজের চর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অজয় কুমার ঘোষ।

তিনি জানান, এদিন এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষ, বিডিএস তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের ১৯৬ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়েছে।

অজয় কুমার ঘোষ বলেন, ‘সিনোফার্মের টিকাদান কর্মসূচি শুরুর দিন শনিবার আমাদের কলেজের ১৯৬ জন শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আপাতত ৩০ তারিখ পর্যন্ত চট্টগ্রামের পাবলিক ও প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার তালিকা প্রস্তুত করেছি। তাছাড়া চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা টিকা দেয়ার নির্ধারিত বুথে টিকা না দিয়ে আমরা আপাতত মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের টিউটোরিয়াল কক্ষে শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দিচ্ছি।’

প্রথমদিন টিকা গ্রহণকারী মেডিক্যাল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা আরাফাত ইসলাম বলেন, ‘আমাদের আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়নি, আমাদের সমস্ত তথ্য যেহেতু জমা দেয়া আছে তাই আমরা সহজেই টিকা পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে (পঞ্চম বর্ষ) যারা আগে টিকা নেয়নি, তাদের সবাইকে টিকা দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ পর আমাদের ফাইন্যাল (চূড়ান্ত) পরীক্ষা, পরীক্ষা শেষে ইন্টার্ন। এখন টিকা নেয়ায় তখন কাজ করার সময় আর খুব একটা ভয় থাকবে না। চার সপ্তাহ পর টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার কথাও রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউন ৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
করোনা ঠেকাতে সীমান্তের ৮ জেলা অবরুদ্ধের সুপারিশ
লকডাউন বাড়ানোর ইঙ্গিত

শেয়ার করুন

২৪ ঘণ্টায় খাগড়াছড়িতে শনাক্ত ১৩

২৪ ঘণ্টায় খাগড়াছড়িতে শনাক্ত ১৩

স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, ৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এক দিনে ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর আগে দুই দিনে করোনো আক্রান্ত হন ১০ জন।

খাগড়াছড়িতে করোনা সংক্রমণ হঠাৎ বেড়েছে গেছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জন শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, ৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে এক দিনে ১৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর আগে দুই দিনে আক্রান্ত হন ১০ জন।

জেলায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্যবিভাগ জানায়, এখন পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলায় ছয় হাজার ৭২০ জন করোনা পরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে পজিটিভ হয়েছেন ৯৩১ জন। আক্রান্তের হার ৯ শতাংশ। এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে আট জনের।

খাগড়াছড়ির ডেপুটি সিভিল সার্জন মিটন চাকমা বলেন, জেলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে কিছুটা অবহেলা দেখা যাচ্ছে। সবাইকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এতে সংক্রমণ কমানো সম্ভব হবে।

সিভিল সার্জন নুপূর কান্তি দাশ বলেন, মাঝে কম থাকলেও নতুন করে শনাক্তের হার বেড়েছে। সবাইকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এছাড়া কোন উপায় নেই।

আরও পড়ুন:
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউন ৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
করোনা ঠেকাতে সীমান্তের ৮ জেলা অবরুদ্ধের সুপারিশ
লকডাউন বাড়ানোর ইঙ্গিত

শেয়ার করুন

জামালপুরে করোনায় আরও ৩ মৃত্যু

জামালপুরে করোনায় আরও ৩ মৃত্যু

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস জানান, তিন জনের দুজন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং একজন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

জামালপুর শহরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মৃত্যু ৪২ জনে দাঁড়ালো।

এরা হলেন আয়কর আইনজীবী আতাউর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য রকিবুল ইসলাম এবং পিডিবি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস।

তিনি জানান, তিন জনের দুজন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং একজন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জামালপুর পৌরসভার কাচারিপাড়া এলাকার আয়কর আইনজীবী আতাউর রহমান ১৭ জুন করোনায় আক্রান্ত হন। তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার সকালে তিনি মারা যান।

পৌর এলাকার পাথালিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য রকিবুল ইসলাম করোনার উপসর্গ নিয়ে দুদিন আগে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। শুক্রবার তার নমুনা পরীক্ষার পর করোনা শনাক্ত হয়। রাতেই তিনি মারা যান।

একই এলাকার পিডিবির কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন হৃদরোগে অসুস্থ হলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। নমুনা পরীক্ষায় ১৪ জুন তিনি পজিটিভ হন। শনিবার বিকালে মারা যান তিনি।

আরও পড়ুন:
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউন ৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
করোনা ঠেকাতে সীমান্তের ৮ জেলা অবরুদ্ধের সুপারিশ
লকডাউন বাড়ানোর ইঙ্গিত

শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া শুরু

সিরাজগঞ্জে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া শুরু

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ আমিরুল জানান, সিরাজগঞ্জের তিনটি মেডিক্যাল কলেজের ৮৬৮ শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া হবে। প্রথমদিনেই তিন মেডিক্যালের ১৯২ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু হয়েছে।

সদর উপজেলার শিয়ালকোলস্থ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বর্হিবিভাগে শনিবার দুপুরে এই কর্মসূচির উদ্বোধন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক হাবিবে মিল্লাত মুন্না।

এ কার্যক্রম আগামী ১৯, ২২, ২৬, ২৯ জুন ও ১ জুলাই চলবে।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কোভিড-১৯ টিকাদান কার্যক্রম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক কৃষ্ণ কুমার পাল, পরিচালক আবুল কাশেম, সিভিল সার্জন রামপদ পাল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম হীরা।

আরও উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক আব্দুল্লাহেল কাফী, টিকাদান কেন্দ্রের ভোকালপারসন সহকারী অধ্যাপক লায়লা রাজ্জাক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ উদ্দিন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক।

এ সময় সাংসদ হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে টিকা নেয়ার পরও সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সুরক্ষা নীতি মেনে মাস্ক ব্যবহার ও হাত পরিষ্কার করুন। পাশাপাশি নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন ও অন্যকেও সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দিন।’

মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রমে প্রথম টিকা নেন শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী তানভীরুল ইসলাম। প্রথম দিনে ১৯২ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়।

এর মধ্যে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ৫৩ জন, নর্থ বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ৫৬ জন ও খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ৮৩ জন টিকা পান।

শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সিরাজগঞ্জের তিনটি মেডিক্যাল কলেজের ৮৬৮ শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে এই টিকা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউন ৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
করোনা ঠেকাতে সীমান্তের ৮ জেলা অবরুদ্ধের সুপারিশ
লকডাউন বাড়ানোর ইঙ্গিত

শেয়ার করুন

করোনার টিকা, ৩২ বুথের মধ্যে চালু ২টি

করোনার টিকা, ৩২ বুথের মধ্যে চালু ২টি

পটুয়াখালিতে শনিবার ১২০ জনকে করোনার টিকা দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

‘চীনের তৈরি ‘সাইনোফার্ম কোভিড-১৯ নামের এই টিকা পটুয়াখালী জেলার জন্য ৮ হাজার ৪০০ ডোজ পাওয়া গেছে। চার বিভাগে টিকা দেয়া হচ্ছে। এই চার বিভাগে আছেন নার্স, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী, বিদেশগামী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।’

পূর্ব ঘোষণা ছাড়া টিকা দেয়া বন্ধের ২০ দিনের মাথায় পটুয়াখালীতে আবারও শুরু হয়েছে টিকাদান।

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শনিবার বেলা ১০টার দিকে টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী।

তবে আগের মত ৩২টি বুথে নয় এবার শুধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেতর দুটি বুথে এ টিকাদান চলবে। আগেরবার কেবল পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮টি বুথে টিকাদান দেয়া হয়েছিল।

সীমিত আকারে স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টদের এই টিকা দেয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম শিপন।

তিনি বলেন, ‘চীনের তৈরি ‘সাইনোফার্ম কোভিড-১৯ নামের এই টিকা পটুয়াখালী জেলার জন্য ৮ হাজার ৪০০ ডোজ পাওয়া গেছে। চার বিভাগে টিকা দেয়া হচ্ছে। এই চার বিভাগে আছেন নার্স, মেডিক্যাল শিক্ষার্থী, বিদেশগামী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

‘ইতোমধ্যে নিবন্ধন করা ১২০ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে।’

২৮ মে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া পটুয়াখালীতে করোনা টিকা প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্যবিভাগ।

চলতি বছরের গত ৮ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৮টি বুথসহ জেলার আট উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোট ৩২টি বুথে একযোগে করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, জেলায় এ পর্যন্ত টিকা গ্রহনের জন্য ৫৮ হাজার ৫৮২জন আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে ২৮ মে পর্যন্ত ১ম ডোজের টিকা নিয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৩৭ জন।

জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম শিপন জানান, ‘পটুয়াখালীতে যে পরিমাণ করোনা টিকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা শেষ হওয়ার কারণে টিকা দান কর্মসূচী বন্ধ ছিল।

‘প্রথমবার ৪৬ হাজার ডোজ থেকে ৪৫ হাজার ৫৩৭ ডোজ দেয়া হয়েছে। ৪৬৩ ডোজ সিস্টেম লস বা অপচয়। একটা ভায়াল থেকে ১০বার ইনজেকশন নিলে কিছু অপচয় হয়।

‘এরপর ২য় দফায় ৩১ হাজার ডোজ থেকে ৩০ হাজার ৮২৪ জন নিবন্ধনকারীকে দেয়া হয়। দুই ডোজ মিলিয়ে আমাদের সিস্টেম লস বা অপচয় ০.৮%।’

আরও পড়ুন:
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউন ৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
করোনা ঠেকাতে সীমান্তের ৮ জেলা অবরুদ্ধের সুপারিশ
লকডাউন বাড়ানোর ইঙ্গিত

শেয়ার করুন

দিনাজপুরে পথে পথে বাঁশের ব্যারিকেড, মানছে না অনেকেই

দিনাজপুরে পথে পথে বাঁশের ব্যারিকেড, মানছে না অনেকেই

দিনাজপুরে রাস্তার মোড়ে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না মানুষের চলাচল। ছবি: নিউজবাংলা

শহরের সরকারি কলেজ মোড়, মহারাজার মোড় ও ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডের পাশাপাশি শহরে প্রবেশের সব পথগুলো বাঁশের ব্যরিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হলেও সাধারণ মানুষকে দমানো যাচ্ছে না। দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কাছে ওষুধ, বাচ্চার খাবারসহ নানা জিনিসের জরুরি প্রয়োজনের দোহাই দিচ্ছেন তারা।

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হলেও করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ হিসেবে যেসব প্রশাসন যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলো মানতে চরম অনীহা দেখাচ্ছে মানুষ।

শহরের সরকারি কলেজ মোড়, মহারাজার মোড় ও ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ডের পাশাপাশি শহরে প্রবেশের সব পথগুলো বাঁশের ব্যরিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হলেও সাধারণ মানুষকে দমানো যাচ্ছে না।

সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কাছে ওষুধ, বাচ্চার খাবারসহ নানা জিনিসের জরুরি প্রয়োজনের দোহাই দিচ্ছেন তারা। এভাবে প্রতিদিনই শহরে ঢুকছে অসংখ্য মানুষ।

দিনাজপুরে করোনার সংক্রমণ ও এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত ১৫ জুন মঙ্গলবার থেকে কঠোর লকডাউন চলছে। লকডাউনের পঞ্চম দিন শনিবার শহরে প্রবেশের সব পথে বাঁশের ব্যারিকেড দেখা গেলেও সেগুলো কাজে লাগতে দেখা যায়নি।

তেমন কোনো কাজ না থাকলেও ওষুধ-খাবারের জরুরি প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে দিচ্ছেন ব্যারিকেডে দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের। তাদের আর আটকে রাখার মতো পর্যাপ্ত লোকবল নেই প্রশাসনের। এই সুযোগে বাঁশের ব্যরিকেডের নিচ দিয়ে শহরের ঢুকতে দেখা গেছে অনেক মানুষকে। শহরে গণপরিবহন বন্ধ থাকার কথা থাকলেও চলছে ইজিবাইক, ভ্যান ও রিকশা। বেশিরভাগ দোকানপাটও রয়েছে খোলা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা যথা সাধ্য বাধা দিচ্ছেন। কিন্তু মানুষ কথা শুনতে চায় না। নিষেধ করলে নানা অজুহাত দেখায়। বোঝা যায়, বেশিরভাগ বানানো কথা। কিন্তু যাচাই করা সম্ভব হয় না। তাই ছেড়ে দিতে হয়।

শনাক্ত আরও ৬৫, মৃত্যু ৩

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, দিনাজপুরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এ সময়ে ১৩৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়; শনাক্তের হার ৪৭ শতাংশ।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সদর উপজেলায় ১১১ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়, ভাইরাসটি শনাক্ত হয়ে ৫৫ জনের; শনাক্তের হার প্রায় ৫০ শতাংশ।

একই সময়ে জেলায় করোনায় মারা গেছেন ৩ জন। তারা হলেন চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল তালপুকুর গ্রামের ৮৪ বছর বয়সী আনিসুর রহমান, ফুলবাড়ী উপজেলার কাটাবাড়ী গ্রামের ৮৪ বছর বয়সী এম এ হান্নান ও হাকিমপুর পৌর শহরের হিলি বাজারের ৫০ বছর বয়সী রোকেয়া বেগম।

তাদেরকে নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৫০ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে চলতি মাসে মৃত্যু হয়েছে ২২ জনের।

দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক কঠোর লকডাউন চলছে। তবে প্রশাসনের চেয়ে সাধারণ মানুষদের আগের সচেতন হতে হবে।’

আরও পড়ুন:
বিশেষ লকডাউনের শেষ দিনেও তৎপর প্রশাসন
লকডাউন কবে উঠবে জানেন না জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
লকডাউন ৬ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন
করোনা ঠেকাতে সীমান্তের ৮ জেলা অবরুদ্ধের সুপারিশ
লকডাউন বাড়ানোর ইঙ্গিত

শেয়ার করুন