× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

রেস-জেন্ডার
Journalist Shireen was deliberately murdered Investigation report
hear-news
player
google_news print-icon

সাংবাদিক শিরিনকে জেনেবুঝেই খুন করা হয়: তদন্ত

সাংবাদিক-শিরিনকে-জেনেবুঝেই-খুন-করা-হয়-তদন্ত-
চলতি বছরের ১১ মে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি স্নাইপারের গুলিতে নিহত হন শিরিন আবু আকলেহ। ছবি: সংগৃহীত
যৌথ তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, স্নাইপার তিন দফায় গুলি চালায় শিরিনকে লক্ষ্য করে। প্রথমবার ৬টি, আট সেকেন্ড পর আরও ৭টি। এই ১৩টি গুলির একটি শিরিনের হেলমেটের ঠিক নিচে আঘাত হানে। দুই মিনিট পর, তাকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা বন্ধ করতে আরও ৩টি গুলি ছোড়ে স্নাইপার।

আল জাজিরার সিনিয়র সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে ‘জেনেবুঝেই’ খুন করার তথ্য উঠে এসেছে যৌথ এক তদন্ত প্রতিবেদনে। লন্ডনভিত্তিক বহুবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ফরেনসিক আর্কিটেকচার এবং ফিলিস্তিনি অধিকার গোষ্ঠী আল হক অনুসন্ধানটি চালায়।

পশ্চিম তীরের শহর জেনিনে ১১ মে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের খবর সংগ্রহের সময় গুলিতে নিহত হন ৫১ বছরের শিরিন। প্রত্যক্ষদর্শী এবং তার সহকর্মীরা দাবি করে আসছেন, ইসরায়েলি স্নাইপারের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

তবে শুরু থেকেই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে ইসরায়েল। তেল আবিবের দাবি, শিরিনের গায়ে গুলি ভুলক্রমে লেগেছে।

শিরিন আবু আকলেহ ২৫ বছর ধরে আল জাজিরার হয়ে কাজ করছিলেন। ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদে সরব ছিলেন তিনি। এ কারণে তিনি ‘ফিলিস্তিনের কণ্ঠস্বর’ নামেও পরিচিত ছিলেন

যৌথ তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, স্নাইপার তিন দফায় গুলি চালায় শিরিনকে লক্ষ্য করে। প্রথমবার ৬টি, আট সেকেন্ড পর আরও ৭টি। এই ১৩টি গুলির একটি শিরিনের হেলমেটের ঠিক নিচে আঘাত হানে। দুই মিনিট পর, তাকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা বন্ধ করতে আরও ৩টি গুলি ছোড়ে স্নাইপার।

এ ছাড়া ঘটনার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, ওই এলাকায় সাংবাদিক ছিলেন, এটা স্নাইপার জানতেন। এ সময় জেনিনে ইসরায়েলি বাহিনী এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কাও নাকচ করে দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

আইসিসিতে অভিযোগ

শিরিনের পরিবার বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) একটি অভিযোগ জমা দেয়ার দিনই এই অনুসন্ধানগুলো আসে।

শিরিনের ভাই অ্যান্টন বলেন, ‘হত্যার জবাবদিহিতা নিশ্চিতে পরিবারের যা যা করা দরকার তা-ই করবে।

‘শিরিন ও তার সহকর্মীদের লক্ষ্য করে ১৬টি গুলি ছোড়া হয়। এমনকি আহত অবস্থায় যে ব্যক্তি তাকে নিরাপদে টেনে নেয়ার চেষ্টা করে তাকেও তারা টার্গেট করেছিল।’

অভিযোগটি ফিলিস্তিনের প্রেস সিন্ডিকেট এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ জার্নালিস্ট (আইএফজে) দ্বারা সমর্থিত।

চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল জানায়, শিরিনকে হত্যা করা হয়েছে এমন দাবি উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে তারা অপরাধমূলক তদন্ত শুরু করবে না।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের হামলায় ৬ ফিলিস্তিনি শিশুসহ নিহত ২৪
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ইসলামিক জিহাদ কমান্ডার নিহত
ইসরায়েলের গ্যাসক্ষেত্রে হামলার হুমকি হিজবুল্লাহর
‘ইরানে হামলা চালাতে পারে ইসরায়েল’
ইসরায়েলের বিমানের জন্য উন্মুক্ত সৌদির আকাশ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

রেস-জেন্ডার
Searching for oceans deep within the Earth

পৃথিবীর গভীরে মহাসাগরের সন্ধান

পৃথিবীর গভীরে মহাসাগরের সন্ধান পৃথিবীতে আরেক মহাসাগরের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রাঙ্কফুর্টের গোয়েথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর জিওসায়েন্সেসের একদল গবেষক বলছেন, পৃথিবীর একেবারে উপরের আবরণ (mantle) ও কেন্দ্রের মধ্যবর্তী একটি স্তরে লুকিয়ে আছে এই মহাসাগর।

পৃথিবীতে আরেক মহাসাগরের সন্ধান মিলেছে। এমনকি তা এই গ্রহের বুক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা পাঁচ মহাসগারের যেকোনোটির চেয়ে এর ব্যাপ্তিও কম নয়।

তাৎপর্যের বিষয় হলো- আমাদের জানা মহাসাগরগুলোকে আমরা দেখতে পাই। কারণ সেগুলো আছে পৃথিবীর বুকে। নতুন আবিষ্কৃত মহাসাগরের অবস্থান পৃথিবীর গভীরে।

বিজ্ঞানীদের নতুন এক গবেষণা আমাদের এতদিনের জানা ভূগোলকে ভুল প্রমাণ করতে যাচ্ছে। তারা বলছেন, পৃথিবীতে আসলে ৬টি মহাসাগর রয়েছে। তবে এটির অবস্থান ভূপৃষ্ঠে নয়, পৃথিবীর অভ্যন্তরে।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের গোয়েথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর জিওসায়েন্সেসের একদল গবেষক সম্প্রতি বিরল এক হীরার ওপর গবেষণা চালিয়ে নতুন মহাসাগরের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছেন। তারা বলছেন, পৃথিবীর একেবারে উপরের আবরণ (mantle) ও কেন্দ্রের মধ্যবর্তী একটি স্তরের মধ্যে লুকিয়ে আছে এটি।

‘বাকি পাঁচটি মহাসাগর যেখানে উপরের আবরণের মধ্যে অবস্থিত, সেখানে ৬ নম্বরটি তার নিচে। এ কারণে এটির অস্তিত্ব এতদিন টের পাওয়া যায়নি।’

গবেষকরা বলছেন, দুই আবরণের মধ্যবর্তী স্তরে পাথরের মাঝে আটকে আছে বিপুল জলরাশি, যা কোনো মহাসাগরের চেয়ে কম নয়। তাই এটিকে ৬ নম্বর মহাসাগর বলার যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে।

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশ বতসোয়ানায় সম্প্রতি বিরল এক হীরার সন্ধান মেলে। ১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারের হীরাটি ৬১০ কিলোমিটার গভীর থেকে তোলা হয়েছিল।

গবেষকরা বলছেন, হীরাটির বেশিরভাগ অংশ জুড়েই রয়েছে পানি। আর এই পানির উৎস খুঁজতে গিয়েই খোঁজ মেলে নতুন মহাসাগরের।

ফ্রাঙ্কফুর্টের গোয়েথে ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর জিওসায়েন্সেসের অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক ব্রেনকার বলেন, ‘রামন এবং এফটিআইআর স্পেকট্রোমেট্রিসহ বেশ কয়েকটি কৌশলের মাধ্যমে বিরল এই হীরার ওপর গবেষণা চালাই। এতে বহুদিনের একটি তত্ত্বের প্রমাণ মিলেছে।

‘সাগরের পানি স্ল্যাবগুলোকে সাবডাক্ট করে এবং একই প্রক্রিয়ায় ট্রানজিশন জোনে প্রবেশ করে। এর মানে হলো, আমাদের গ্রহের পানিচক্র পৃথিবীর অভ্যন্তরের সঙ্গে যুক্ত।’

‘গোটা ট্রানজিশন জোন ভাঙতে প্রায়ই অসুবিধায় পড়তে হয় সাবডাক্টিং প্লেটগুলোকে। তাই এই অঞ্চলে এ জাতীয় প্লেটের স্তূপ থাকতে পারে। এসব কিছু এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এখানে লুকিয়ে আছে আরেকটি মহাসাগর।’

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Chaos at football field in Indonesia 129 killed in stampede

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে হাঙ্গামা: পদদলিত হয়ে ১২৫ মৃত্যু

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল মাঠে হাঙ্গামা: পদদলিত হয়ে ১২৫ মৃত্যু ইন্দোনেশিয়ার উত্তর জাভা প্রদেশে মাঠে হাঙ্গামার সময় বিক্ষুব্ধ দর্শকদের সরানোর চেষ্টা করেন আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: এএফপি
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর জাভা প্রদেশে শনিবার রাতে আরেমা ফুটবল ক্লাব ও পেরসেবায়া সুরাবায়ার মধ্যে ম্যাচ চলছিল। ম্যাচ শেষে পরাজিত দলের সমর্থকরা মাঠে নেমে হাঙ্গামা শুরু করে। তাদের সরাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে অনেকে পদদলিত হয়। শ্বাসকষ্টও শুরু হয় অনেকের মধ্যে।

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর জাভা প্রদেশে ফুটবল মাঠে পরাজিত দলের সমর্থকদের হাঙ্গামার সময় পদদলিত হয়ে ১২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নতুন আপডেটে জানিয়েছে দেশটির সরকার। শুরুতে সংখ্যাটা ১৭৪ বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছিল তারা। সংশোধনীতে পূর্ব জাভার ভাইস গভর্নর এমিল দারদাক জানান, নিহতদের তালিকায় অনেকের নাম দুইবার ওঠায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল।

স্থানীয় সময় শনিবারের ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৮০ জন।

উত্তর জাভা পুলিশের প্রধান নিকো আফিন্তার বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার রাতে প্রদেশে আরেমা ফুটবল ক্লাব ও পেরসেবায়া সুরাবায়ার মধ্যে ম্যাচ চলছিল। ম্যাচ শেষে পরাজিত দলের সমর্থকরা মাঠে নেমে হাঙ্গামা শুরু করে। তাদের সরাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়লে অনেকে পদদলিত হয়। শ্বাসকষ্টও শুরু হয় অনেকের মধ্যে।

স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলোর ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মালাং স্টেডিয়ামের দর্শক সারি থেকে লোকজন ফুটবল পিচের দিকে ছুটে যাচ্ছে। মাঠে মরদেহ বহনের ব্যাগও দেখা গেছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ক্লাবগুলোর মধ্যে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ কখনও কখনও সমর্থকদের সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী জাইনুদ্দিন আমালি স্থানীয় কম্পাসটিভিকে বলেন, ফুটবল ম্যাচের নিরাপত্তার বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করবে মন্ত্রণালয়। মাঠে দর্শকদের প্রবেশে অনুমতি না দেয়ার বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে।

ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্দোনেশিয়া (পিএসএসআই) জানিয়েছে, মাঠে হাঙ্গামা ও প্রাণহানির পরিপ্রেক্ষিতে বিআরআই লিগা ওয়ানের ম্যাচগুলো এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

লিগের সর্বশেষ ম্যাচে আরেমাকে ৩-২ গোলে হারায় পেরসেবেয়া।

আরও পড়ুন:
রান্নার তেলের চরম সংকট ইন্দোনেশিয়ায়
ইন্দোনেশিয়ার বারে সংঘর্ষ, নিহত ১৯
আবারও সেমেরুতে অগ্ন্যুৎপাত, পালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা
ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে মৃত্যু বেড়ে ১৩
ইন্দোনেশিয়ায় অগ্ন্যুৎপাতে প্রাণহানি, এলাকা ছাড়ছে মানুষ

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Same sex marriage legalized in Cuba

কিউবায় বৈধতা পেল সমলিঙ্গের বিয়ে

কিউবায় বৈধতা পেল সমলিঙ্গের বিয়ে প্রতীকী ছবি
ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ আরও অনেকের বিরোধিতার মুখে ২০১৮ সালে সমপ্রেমী বিয়েকে বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার। তবে এর চার বছরে বদলেছে জনমত। কিউবার বেশির ভাগ নাগরিক আইন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

কমিউনিস্ট শাসিত দেশ কিউবায় সমলিঙ্গদের বিয়ে এবং সন্তান দত্তক নেয়ার অধিকার বৈধতা পেয়েছে। এ-বিষয়ক গণভোটে কিউবানরা বিদ্যমান আইন সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

এ ঘটনাকে কিউবার এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশটির দীর্ঘদিনের নেতিবাচক মনোভাবের বিস্ময়কর পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

চার দশকের পুরোনো একটি ‘পারিবারিক আইনে’ বড় সংস্কার আনার পক্ষে ২৫ সেপ্টেম্বর ভোট দেয় কিউবার মানুষ। এই সংস্কারের ফলে দেশটির বয়স্ক মানুষ, নারী ও শিশুদের জন্য বাড়তি সুরক্ষার পাশাপাশি এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর বেশ কিছু অধিকার নিশ্চিত হবে।

কমিউনিস্ট শাসিত কিউবায় কোনো আইন নিয়ে গণভোট আয়োজনের উদাহরণ খুব বেশি নেই। বিরল সে ধরনেরই এক গণভোটে তিন-চতুর্থাংশ নাগরিক আইন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ছয় দশক আগেও কিউবায় সমপ্রেমী বিয়ে এবং সন্তান দত্তকের ভাতা পাওয়ার ঘটনা ছিল কষ্টকল্পনা।

ফিদেল কাস্ত্রো সরকারের বিরুদ্ধে ১৯৫৯ সালে বিপ্লবের পর সমপ্রেমী জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ ওঠে। গ্রেপ্তার করা হয় অনেককে। কাস্ত্রো পরে অবশ্য ওই নিপীড়নের জন্য ক্ষমা চান। বিপ্লবের ২০ বছর পর ১৯৭৯ সালে কিউবায় সমপ্রেম বৈধতা পায়, তবে বিয়ে করার অধিকার দেয়া হয়নি।

গত এক দশকে দেশটির এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন কাস্ত্রো পরিবারেরই এক সদস্য। সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই রাউল কাস্ত্রোর মেয়ে মারিলা কাস্ত্রো দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার নিয়ে কাজ করছেন।

ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ আরও অনেকের বিরোধিতার মুখে ২০১৮ সালে সমপ্রেমী বিয়েকে বৈধতা দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার।

তবে এর চার বছরে বদলেছে জনমত। কিউবার বেশির ভাগ নাগরিক রায় দিয়েছেন আইন সংস্কারের পক্ষে।

আরও পড়ুন:
প্রেমে পড়া সিলেট ও গাইবান্ধার সেই দুই তরুণী ঘরছাড়া
সঙ্গিনী থেকে বিচ্ছিন্ন নোয়াখালীর সেই তরুণী কেটেছেন হাত
ফের বিচ্ছিন্ন সেই ২ তরুণী, যোগাযোগ বন্ধের নির্দেশ প্রশাসনের
স্কুলছাত্রীর প্রেমে নোয়াখালী থেকে টাঙ্গাইলে তরুণী
দুই তরুণীর প্রেম, বিয়েতে পরিবারের ‘না’

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Foreigners were also arrested in connection with protests in Iran

ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার

ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় বিদেশিদেরও গ্রেপ্তার মাহসা আমিনিকে নিয়ে চলমান বিক্ষোভে বিদেশি ইন্ধনের দাবি তুলেছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে চলমান বিক্ষোভের জন্য বিদেশি ইন্ধনকে দায়ী করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটিতে আটক করা হয়েছে ৯ ইউরোপীয় নাগরিককে। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় বিদেশি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনায় ও পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে ব্যাপক ধরপাকড়ে এবার বিদেশিদের গ্রেপ্তার শুরু করেছে ইরানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

এরই মধ্যে ৯ জন ইউরোপীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইরানের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের চলমান অস্থিরতায় ভূমিকা পালনের কারণে আটক করা হয়েছে।

চলমান বিক্ষোভের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষ বিদেশি শত্রুদের দায়ী করছে।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা জার্মানি, পোল্যান্ড, ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও অন্যান্য দেশের নাগরিক।

তাদের গ্রেপ্তারের ঘটনা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে।

দেশটির গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ও ৯ জন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছেই। পুলিশি ধরপাকড়েও থামছে না প্রতিবাদ। এরই মধ্যে ৮৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

মানবাধিকার গোষ্ঠী হেনগাও একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যাতে বলা হয়েছে যে শুক্রবার গভীর রাতে আমিনির নিজ শহর সাকেজে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে।

ইরানের হিজাব নিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যুবতী নারীদের মাথার স্কার্ফ খুলে ফেলার সময় উল্লাস করতে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীন-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ
ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
বিক্ষোভ দমনে সীমান্ত পেরিয়েও ইরানি হামলা, ৯ কুর্দি নিহত
মাস্কের স্টারলিংক ইরানে কেন কাজ করবে না?
ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
BBC Bangla Radio Service is shutting down

বন্ধ হচ্ছে বিবিসি বাংলা রেডিও সার্ভিস

বন্ধ হচ্ছে বিবিসি বাংলা রেডিও সার্ভিস বাংলাসহ মোট ১০টি ভাষায় সম্প্রচার বন্ধ করতে যাচ্ছে বিবিসি। ছবি: সংগৃহীত
অর্থ বাঁচাতে ১০টি ভাষার রেডিও সার্ভিস বন্ধ করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন। এর মধ্যে রয়েছে বাংলা সার্ভিসও। এ ছাড়া বাংলা ইউনিটের কার্যক্রম লন্ডন থেকে সরিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসার প্রস্তাবও করা হয়েছে। তবে চীন, রাশিয়া, ইউক্রেন ও আফগানিস্তানের মতো দেশের শ্রোতাদের জন্য আরও বিনিয়োগ করতে চায় সংবাদমাধ্যমটি।

বিবিসি বাংলা রেডিও সার্ভিস ৮০ বছরেরও বেশি সময় চলার পর অবশেষে বন্ধ হতে যাচ্ছে।

ইনডিপেনডেন্ট ইউকের এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

বিবিসি রেডিওর বাংলা সার্ভিস ছাড়াও আরও ৯টি ভাষাতেও সম্প্রচার বন্ধের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে চালিত সংবাদমাধ্যমটি।

এ ছাড়া খরচ কমাতে কিছু ইউনিটকে লন্ডন থেকে সরিয়ে নিজ দেশে পাঠানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিবিসি বাংলা সার্ভিসের পরিষেবা ঢাকায়, থাই পরিষেবা ব্যাংককে, কোরিয়ান পরিষেবা সিউলে এবং ফোকাস অন আফ্রিকা টিভি বুলেটিন নাইরোবি থেকে সম্প্রচার করা হবে।

রেডিওতে বাংলা ছাড়া সম্প্রচার বন্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে আরবি, ফার্সি, কিরগিজ, উজবেক, হিন্দি, বাংলা, চীনা, ইন্দোনেশিয়ান, তামিল ও উর্দু রেডিওর।

ফলে এসব পরিষেবায় কর্মরত ৩৮২ জন চাকরি হারাতে যাচ্ছেন।

বিবিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়তে থাকা খরচ ও লাইসেন্স ফির নিষ্পত্তির কারণে সংবাদমাধ্যমটিকে কিছু কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে যেতে হচ্ছে।

বিবিসির পরিষেবাগুলোতে ব্যয় হওয়া ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে ২৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড বাঁচিয়ে পুনরায় অন্য খাতে বিনিয়োগ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

১০টি ভাষায় বিবিসি রেডিও বন্ধ হলেও বিশ্বের কাছে চীনের গল্প তুলে ধরতে আরও খরচ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। সে জন্য নতুন চায়না গ্লোবাল ইউনিট প্রতিষ্ঠা করার জন্য অর্থ দরকার তাদের। সে ক্ষেত্রে বেঁচে যাওয়া অর্থ এই প্রকল্পে ব্যয় করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া রাশিয়া, ইউক্রেন ও আফগানিস্তানের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়ে ও সংবাদ পরিবেশনে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে চায় বিবিসি।

আরও পড়ুন:
ব্রিটিশ ‘নির্ভীক’ সাংবাদিক বহিষ্কার রাশিয়ার, নিন্দা বিবিসির
বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সাইটে বিপর্যয়

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Afghan women are also on the streets to show solidarity with the Iran protests

ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়

ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায় কাবুলে ইরানি দূতাবাদের সামনে বিক্ষোভ করছেন আফগান নারীরা। ছবি: সংগৃহীত
‘ইরান ঘুরে দাঁড়াল, এখন আমাদের পালা’, ‘মাহসার রক্ত ​​আমাদের পথ, আমাদের অনুপ্রেরণা’... স্লোগানে অন্তত ৩০ নারী কাবুলের ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন।

ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা বিক্ষোভের ঢেউ লেগেছে আরেক রক্ষণশীল দেশ আফগানিস্তানে। তালেবানের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার কাবুলে বিক্ষোভ করেছেন নারীরা। একপর্যায়ে ফাঁকা গুলিতে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় দেশটির শাসকগোষ্ঠী তালেবান।

‘ইরান ঘুরে দাঁড়াল, এখন আমাদের পালা’, ‘মাহসার রক্ত ​​আমাদের পথ, আমাদের অনুপ্রেরণা’... স্লোগানে অন্তত ৩০ নারী ইরানি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন।

পরিচয় গোপন রাখতে সবার পরনে ছিল বোরকা, চোখে সানগ্লাস, কারও মুখে মাস্ক। তাদের হাতে ছিল ২২ বছরের কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির ছবি।

মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

ইরান বিক্ষোভে সংহতি জানাতে আফগান নারীরাও রাস্তায়
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর রাস্তায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ফেসবুক ও টুইটারে #mahsaamini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের মধ্যেও ইরানের অন্তত ৮০ শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকরা ইরানি নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

কাবুলের দূতাবাস এলাকার এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নারীর স্বাধীনতা চাওয়ার পাশাপাশি ইরান সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল বিক্ষোভকারীরা। একসময় তালেবানের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সামনে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যে নারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।’

অন্যসব দিনের মতো বৃহস্পতিবারও কাবুলের ইরানি দূতাবাসের সামনে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন ছিল। এসবের মধ্যেও তালেবান সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিল। তারা ভেবেছিল, প্রতিবেশী দেশে আফগান শরণার্থীদের নিপীড়নের প্রতিবাদে সমাবেশ করতে যাচ্ছেন নারীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক তালেবান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম তারা ইরানে সহিংস আচরণের শিকার আফগান অভিবাসীদের পক্ষে প্রতিবাদ করছে। হঠাৎ বুঝতে পারলাম তারা ইরানি মেয়েটির জন্য প্রতিবাদ করছে। তাই আমাদের সহকর্মীরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’

গত বছরের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালেবানের হাতে আসার পর নিজেদের অধিকারের দাবিতে বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভ করেছে নারীরা। শাসকদের দমন-পীড়নের কারণে এসবের বেশির ভাগই হয়েছে ঘরোয়াভাবে।

আফগান নারীদের দাবি, তাদের কর্মক্ষেত্র এবং হাইস্কুলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হোক। তালেবানরা মেয়েদের জন্য হাইস্কুল নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে আফগান নারীরাও তাদের পুরো শরীর ঢেকে রাখতে বাধ্য। পুরুষ সঙ্গী ছাড়া কোথাও ভ্রমণ কর‍তে পারে না তারা।

এসব বিধিনিষেধের বেশির ভাগই তালেবানের প্রথম শাসনের পুনরাবৃত্তি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছে তালেবান। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার শুরুর দিকে নারীর প্রতি মনোভাব বদলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। তবে ক্ষমতায় পোক্ত হওয়ার পর স্বরূপে ফিরতে শুরু করে তালেবান।

আরও পড়ুন:
ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?
নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা
ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬
ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার নিষেধাজ্ঞা
ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি

মন্তব্য

রেস-জেন্ডার
Viral in the Iran protests the young woman was shot dead?

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত? চুল বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া তরুণীকে হাদিস নাজাফি দাবি করে তার মৃত্যুর তথ্য প্রচার করছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
বিবিসি ফার্সির টুইটের পর হাদিসের মৃত্যুর প্রতিবেদন থেকে চুল বাঁধা তরুণীর ছবি সরিয়ে নেয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। তবে এর দু’দিন পর ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, ঝুঁটি বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ওই তরুণীর নাম হাদিস নাজাফি। বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমও বলছে, ভাইরাল ভিডিওর তরুণী গুলিতে নিহত হয়েছেন।

কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে কঠোর পোশাকবিধি নিয়ে ইরানি নারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে । ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে অন্তত ৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি।

নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করলেও প্রতিবাদের ঢেউ দেশটির অন্তত ৮০টি শহরে এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। নারীর পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে প্রতিদিনই প্রাণ দিচ্ছে মানুষ। নিহতদের মধ্যে পুরুষের পাশাপাশি নারী-শিশুও রয়েছে।

মাহসাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে নতুন করে আরও একটি নাম প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তিনি ২২ বছরের তরুণী হাদিস নাজাফি।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
মাহসা আমিনির (বাঁয়ে) পর এবার ইরানে নারীর পোশাকের স্বাধীনতা দাবির বিক্ষোভের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন এই তরুণী

কারাজ শহরে ২১ সেপ্টেম্বর ওই বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারান তিনি।

এর চার দিন পর গত রোববার সাংবাদিক এবং নারী অধিকারকর্মী মাসিহ আলিনেজাদ একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে দেখা যায় এক তরুণী তার খোলা চুল ঝুঁটি বেধে বিক্ষোভে যোগ দিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। মাসিহ আলিনেজাদের দাবি ছিল, ওই তরুণীর নামই হাদিস নাফাফি। বিক্ষোভে যোগ দেয়ার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর ছয়টি গুলিতে তিনি প্রাণ হারান।

ইরানের সাংবাদিক ফারজাদ সেফিকারানকে উদ্ধৃত করে আল আরাবিয়া জানায়, বিক্ষোভে নিহত হাদিসের মুখ, ঘাড় এবং বুকে গুলি লেগেছিল। স্থানীয় ঘায়েম হাসপাতালে নেয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়। আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনেও ভিডিওতে চুল বাঁধা তরুণীকে ‘হাদিস নাজাফি’ বলে উল্লেখ করা হয়।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
ভাইরাল ভিডিওর এই তরুণীকে হাদিস নাজাফি হিসেবে দাবি করা হচ্ছে

তবে সোমবার বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আগে চুল বাঁধা ওই তরুণীর নাম হাদিস নাজাফি নয়। ওই তরুণী নিজেও বিবিসিকে একটি ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘আমি বিক্ষোভে নিহত হাদিসা নাজাফি নই। তবে আমি নারীদের জন্য, মাহসাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

চুল বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া নারীকে ‘হাদিস নাজাফি’ বলে দাবি করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি অ্যানিমেশন ভাইরাল হয়েছে। তবে বিবিসি ফার্সির টুইটের পর ওই অ্যামিনেশনের নির্মাতা এলো নিকো শিরোনামে একটি সংশোধনী দেন। এলো নিকো লেখেন, বিবিসি জানিয়েছে চুল বাঁধা যে তরুণীর অ্যানিমেশন আমি করেছি, তিনি জীবিত আছেন।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?

বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদনের পর হাদিসের মৃত্যুর প্রতিবেদন থেকে চুল বাঁধা তরুণীর ছবি সরিয়ে নেয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?

তবে এর দু’দিন পর ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দেশটির বার্তা সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালের (এএনআই) বরাতে জানায়, ঝুঁটি বেঁধে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ওই তরুণীর নাম হাদিস নাজাফি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এসব প্রতিবেদনের বরাতে বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমও ভাইরাল ভিডিওর তরুণী ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন দাবি করে বুধবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ভাইরাল ভিডিওর তরুণী আর হাদিস নাজাফি যে আলাদা ব্যক্তি তা নিয়ে সোমবার রাতেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউজবাংলা।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর গত মঙ্গলবার এই বিভ্রান্তি নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছে। এতে বলা হয়, কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম চুল বেঁধে বিক্ষোভে সামিল হওয়া তরুণীকে হাদিস নাজাফি বলে দাবি করেছে। তারা বলেছে ভিডিওর ওই তরুণীকে পরে হত্যা হরা হয়। তবে ভিডিওটিতে যাকে দেখা গেছে তিনি হাদিস নাজাফি নন।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইরাল ভিডিওটির অপব্যবহার হলেও হাদিস নাজাফির মৃত্যুর ঘটনা সত্যি।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
হাদিস নাজাফির মৃত্যু সনদ

নেদারল্যান্ডভিত্তিক ফার্সি ভাষার রেডিও জামানেহ কথা বলেছে হাদিসের এক স্বজনের সঙ্গে। তার তথ্য অনুসারে, হাদিসের বয়স ২২ বছর। ইরানের কারাজে শহরে গত ২১ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের সময় শর্টগানের অন্তত ২০টি গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়। বুকে, মুখে এবং ঘাড়ে লাগা এসব গুলিতে প্রাণ হারান হাদিস।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইরান বিক্ষোভে নিহতদের যে তালিকা করেছে সেখানেও হাদিস নাজাফির নাম রয়েছে। তার পরিবার সোমবার বিবিসি ফার্সিকে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে। হাদিসের মৃত্যু সনদও প্রকাশ করেছে পরিবার। ইনস্টাগ্রামে হাদিসের অ্যাকাউন্ট ‘রিমেম্বারিং’ রয়েছে।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
ইনস্টাগ্রামে হাদিস নাজাফির অ্যাকাউন্ট

হাদিসের বোন শিরিন নাজাফি রেডিও জামানেহকে জানান, পরিবারিক বন্ধুরা তাদের কাছে আলোচিত তরুণীর ভাইরাল ভিডিওটি পাঠিয়েছিলেন। এরপর তারা প্রাথমিকভাবে সাংবাদিকদের বলেছিলেন চুল বাঁধা তরুণীটি হাদিস হতে পারে। কারণ ভিডিওর তরুণীর চুল, পোশাক ও চশমা অনেকটা হাদিসের মতোই দেখাচ্ছিল। তবে আসল তরুণী পরে বিবিসিকে তার নিজের আরেকটি ভিডিও পাঠানোর পর হাদিসের পরিবার নিজেদের ভুল বুঝতে পারে।

কুর্দি নারী মাহসা আমিনিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তেহরানের ‘নৈতিকতা পুলিশ’ গ্রেপ্তার করে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে তেহরানে ঘুরতে আসা মাহসাকে একটি মেট্রো স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সঠিকভাবে হিজাব করেননি।

পুলিশ হেফাজতে থাকার সময়েই মাহসা অসুস্থ হয়ে পড়েন, এরপর তিনি কোমায় চলে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৬ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। পুলিশ মাহসাকে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরিবারের অভিযোগ গ্রেপ্তারের পর তাকে পেটানো হয়।

ইরান বিক্ষোভে ভাইরাল সেই তরুণী কি গুলিতে নিহত?
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর মারা যান মাহসা আমিনি

মাহসার মৃত্যুর পর থেকেই উত্তাল ইরান। ফেসবুক ও টুইটারে #MahsaAmini এবং #Mahsa_Amini হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে চলছে প্রতিবাদ। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় নারীর পোশাকের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে নিরাপত্তা বাহিনীর।

আরও পড়ুন:
ইরানের নৈতিকতা পুলিশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার নিষেধাজ্ঞা
ইরানে মাহসার পর এবার বিদ্রোহের প্রতীক হাদিস নাজাফি
পোশাকের স্বাধীনতায় ইরানি ২ বোনের হৃদয়ছোঁয়া ‘বেলা চাও’
বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইরানি অস্কারজয়ীর
উত্তাল ইরানে ইলন মাস্কের ভূমিকা কী

মন্তব্য

p
উপরে