সম্ভাবনার খাতটিই এখন সবচেয়ে সংকটে

সম্ভাবনার খাতটিই এখন সবচেয়ে সংকটে

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের সাধারণ ছুটির ক্ষতিই এখন পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। তার ওপর এখন আবার লকডাউন, পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ রকম চলতে থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যাবে বলে শঙ্কা তাদের।

প্রবাসীবহুল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত সিলেট। প্রবাসীবহুলতার পাশাপাশি এই অঞ্চলের মানুষের বিনিয়োগের অনাগ্রহও দীর্ঘদিনের। বিনিয়োগহীনভাবে ব্যাংকে টাকা ফেলে রাখার প্রবণতা রয়েছে এখানে।

তবে গত এক থেকে দেড় দশকে এই অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন এনেছে পর্যটন খাত। এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছেন বেসরকারি উদ্যোক্তারা। গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট। গত এক দশকে পর্যটক সমাগমও বেড়েছে। ছুটির দিনগুলোতে কোনো হোটেল-মোটেলে কক্ষ খালি পাওয়া যেত না।

পর্যটন খাতকেই সিলেট অঞ্চলের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ খাত হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সেটিই এখন সবচেয়ে বড় সংকটে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের সাধারণ ছুটির ক্ষতিই এখন পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। তার ওপর এখন আবার লকডাউন, পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ রকম চলতে থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠানই বন্ধ হয়ে যাবে বলে শঙ্কা তাদের।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েবের হোটেল ব্যবসা রয়েছে নগরীতে। শোয়েব বলেন, সিলেটে তেমন ভারী শিল্পকারখানা নেই। ট্রেডিং, পর্যটন আর আমদানি-রপ্তানিই এখানকার প্রধান ব্যবসা। এর মধ্যে পর্যটনকেই সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মনে করা হয়েছিল। করোনার কারণে এই খাতের ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

sylhet tourism
ফাইল ছবি

বছর তিনেক আগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকায় একটি দ্বিতল বাসা ভাড়া নিয়ে ‘হিমাচল’ নামে একটি ছোট্ট রিসোর্ট চালু করেছিলেন ঢাকার আজিজুর রহমান সাজু। ভালোই চলছিল রিসোর্ট। তবে সব ওলট-পালট করে দেয় করোনাভাইরাস।

গত বছর প্রায় ছয় মাস বন্ধ ছিল রিসোর্ট। এরপর চালু হলেও ব্যবসা আগের জায়গায় ফেরার আগেই আবার বাড়তে শুরু করে করোনার সংক্রমণ; দেয়া হয়েছে লকডাউন।

সাজু বলেন, ‘গত বছর বন্ধ থাকাকালীন মাসে আমার প্রায় এক লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। আমরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। গত বছরের লোকসানের ধকলই কাটিয়ে উঠতে পারিনি। অনেকের কাছ থেকে ঋণ করতে হয়েছে। এখন আবার লকডাউন এসেছে। পর্যটক সমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয় তবে রিসোর্টটি বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকবে না।’

সিলেটের হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা বলছেন, গত বছর সাধারণ ছুটি চলাকালে সিলেটের হোটেল-রিসোর্ট খাতে প্রতিদিন প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাসে ক্ষতি হয়েছে প্রায় এক শ কোটি টাকা। এবার আবার লকডাউনের কারণে দীর্ঘমেয়াদি লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

জাফলং, বিছনাকান্দি, পাংথুমাই, রাতারগুলসহ সিলেটের বেশির ভাগ দর্শনীয় স্থানের অবস্থান গোয়াইনঘাট উপজেলায়। এই উপজেলার প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, করোনায় গত বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত পর্যটন বন্ধ থাকার পর নভেম্বর থেকে পর্যটক সমাগম বাড়তে শুরু করে। নতুন বছরে সবগুলো পর্যটন স্পটে প্রচুর পর্যটক আসছিলেন।

sylhet tourism
ফাইল ছবি

তবে তাতেও ব্যবসা বাড়েনি বলে জানালেন সিলেট হোটেল মোটেল রেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমাত নুরী জুয়েল। তিনি বলেন, ‘করোনার বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার পর গত তিন থেকে চার মাস সিলেটে অনেক পর্যটক এসেছেন। কিন্তু যারা বেড়াতে এসেছিলেন, তাদের প্রায় সবাই তরুণ। আগে যেভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ বেড়াতে আসতেন এবার তারা সেভাবে আসেননি।

‘যে তরুণরা এসেছেন তারা ঘুরেফিরে চলে গেছেন। হোটেলে থাকেননি। থাকলেও অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার হোটেলে থাকছেন। ফলে তিন ও চার তারকা মানের হোটেল ও রিসোর্টগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে। এর মধ্যে এখন আবার সবকিছু বন্ধ হয়ে গেল।

সিলেটের পর্যটন খাতের উন্নয়নে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন হাসান মোরশেদ। তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পর্যটন সেক্টরের সংকট কাটবে না। কারণ, মানুষের আয় কমবে; ফলে খরচ কমাবে। আগের মতো পর্যটকরা আসবে না। এতে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে পর্যটন খাতের উদ্যোক্তাদের। এ কারণে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই করবে। ছোট অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।’

সিলেট হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, এই সংগঠনের সদস্যভুক্ত হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে ৩৪টি। তবে সিলেটে ছোট-বড় মিলিয়ে হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে দুই শতাধিক। সিলেট বিভাগে এই সংখ্যা পাঁচ শতাধিক।

সিলেট বিভাগের পর্যটকদের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল। বছরজুড়েই এই উপজেলা শহরে পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। গত অর্ধযুগে কেবল শ্রীমঙ্গল শহরেই গড়ে উঠেছে শতাধিক রিসোর্ট।

পর্যটন বদলে দিয়েছিল চায়ের জন্য বিখ্যাত এই শহরটির অর্থনীতি। তবে করোনায় কাহিল শ্রীমঙ্গলের পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা।

শ্রীমঙ্গলের ‘এসকেডি আমার বাড়ি’ রিসোর্টের পরিচালক সজল দাশ বলেন, ‘আমার ব্যাংক লোন আছে দুই কোটি টাকা। গত বছরের প্রায় ছয় মাস রিসোর্ট বন্ধ ছিল। দুই-তিন মাস কিছুটা ব্যবসা করেছি। এখন আবার বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। আয় না হলেও কর্মচারীদের বেতন, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা ঋণের জালে আটকে যাচ্ছি। পুঁজি হারানোর ভয়ে আছি।’

sylhet tourism
ফাইল ছবি

একই এলাকার ‘হোটেল মেরিনা’র পরিচালক নাজমুল হাসান মিরাজ বলেন, ‘আমার হোটেলটি ভাড়া নিয়ে করেছি। মাসিক ভাড়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। কর্মচারীদের বেতনসহ মাসিক খরচ আড়াই লাখ টাকা। বর্তমান অবস্থায় ঋণে জড়িয়ে পড়েছি। সরকারের সাহায্য ছাড়া এই অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে পারব না।’

ঈদ, পূজাসহ যেকোনো উৎসব বা সরকারি ছুটির দিনে অতিথিতে পূর্ণ থাকে এসব হোটেল-রিসোর্ট। তবে গত ঈদুল ফিতরের মতো বড় উৎসবেও পুরোপুরি ফাঁকা ছিল হোটেলগুলো। এবারও ঈদুল ফিতর আসন্ন। লকডাউনের কারণে ঈদ মৌসুমের ব্যবসা নিয়েও শঙ্কিত ব্যবসায়ীরা।

শ্রীমঙ্গল শহরের ‘গ্রিনলিফ’ রিসোর্টের পরিচালক এস কে দাস সুমন বলেন, ‘২০১৯ সালে ঈদের এক মাস আগেই আমার রিসোর্টের সব কক্ষ বুক হয়ে যায়। এখানে বেশির ভাগ বিদেশি অতিথিরা আসেন। কিন্তু গত ঈদে পুরো ফাঁকা ছিল রিসোর্ট। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আগামী ঈদেও রিসোর্ট বন্ধ রাখতে হবে।’

উদ্যোক্তাদের মতো বিপাকে পড়েছেন পর্যটন খাতের কর্মীরাও। গত বছরের সাধারণ ছুটিতেই অনেকের চাকরি চলে গেছে। কম বেতনেও কাজ করছেন অনেকে। এ অবস্থায় আবার লকডাউন সংকট আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা তাদের।

পর্যটককে কেন্দ্র করে গত এক দশকে সিলেটে ব্যাপকভাবে প্রসার ঘটেছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসারও। প্রায় ৫০০ ছোটবড় রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে শহরে। গত বছরের সাধারণ ছুটির ক্ষতি সামলাতে না পেরে অনেক রেস্টুরেন্টই বিক্রি হয়ে গেছে। বন্ধও হয়ে গেছে কয়েকটি।

sylhet tourism
ফাইল ছবি



নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার জনপ্রিয় ‘পানসী’ রেস্টুরেন্টের ব্যবসায়িক অংশীদার নুরুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, ‘গত বছর বিরাট লোকসান গুনতে হয়েছে। এরপর মাস ছয়েক খোলা থাকলেও ব্যবসা আগের জায়গায় যায়নি। এভাবে চলতে থাকলে অনেক রেস্টুরেন্টই বন্ধ করতে হবে।’

গোয়াইনঘাটের হাদারপাড় এলাকার ইঞ্জিন নৌকা চালক সমুজ মিয়া। হাদারপাড় থেকে পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতে নৌকা চালান তিনি। পর্যটকসমাগম নিষিদ্ধ করায় শঙ্কিত তিনিও।

সমুজ মিয়া বলেন, ‘গত বছরের এই সময়ের কথা মনে হলে এখনও আতঙ্কে ভুগি। জীবনে কখনও এ রকম বেকার হইনি। বিছনাকান্দিতে পর্যটকদের আনাগোনা সব সময় লেগে থাকে। আয় ভালোই হচ্ছিল। কিন্তু গত চার থেকে পাঁচ মাস এখানে কোনো পর্যটক আসেননি। ফলে মানুষের সাহায্য-সহায়তা নিয়ে চলতে হয়েছে। এবারও এমন পরিস্থিতি হলে তো আর রক্ষা নেই।’

সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘সবার আগে জীবন। আমাদের জীবনরক্ষায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যবসায়ীরাও নিশ্চিয়ই এটি উপলব্ধি করতে পারবেন। তাই আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়েও তারা এই মহামরি প্রতিরোধে আমাদের সহযোগিতা করছেন।

‘লকডাউন ঘোষণার আগেই ২ এপ্রিল থেকে সিলেটে বাইরের জেলা থেকে পর্যটকদের আগমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।’

আরও পড়ুন:
আইনি কাঠামোয় আসছে ট্যুর অপারেটর-গাইড
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘কফিনে শুয়ে’ পর্যটন খাত

‘কফিনে শুয়ে’ পর্যটন খাত

করোনার মহামারির কারণে চরম সংকটে দেশের পর্যটন খাত। ছবি: বাংলাদেশ ট্যুরিজম রোর্ড

প্রথম দফার লকডাউনে দেশে সবচেয়ে পর্যুদস্ত খাতগুলোর মধ্যে ছিল পর্যটন। দ্বিতীয় দফায় এ খাত আরও ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের পর্যটন শিল্প আবারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে এরই মধ্যে প্রধান সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারসহ দেশের সকল পর্যটক স্পট বন্ধের ঘোষণায় নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

করোনার প্রথম ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই দ্বিতীয় ঢেউয়ের কবলে পড়ল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ খাতটি।

পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটররা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।

এ শিল্পের দুদর্শার কথা তুলে ধরে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি রাফিউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখন কফিনে শুয়ে আছি, কবরে যাওয়ার অপেক্ষায়।

‘করোনার প্রথম ধাক্কা সামলে ট্যুরিজম খাত কোনো রকম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল। দ্বিতীয় ঢেউ কফিনে শেষ পেরেক বিদ্ধ করল। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’

এদিকে, দেশের পর্যটন শিল্পকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার। গত ৩ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত বিল উপস্থাপন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

বিলটির ব্যাপারে আপত্তি জানান জাতীয় পার্টির সাংসদ ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেসরকারি ট্যুর অপারেটররা দেশের পর্যটন কার্যক্রমকে একটি জায়গায় নিয়ে এসেছে। তাদের কার্যক্রম ব্যহত করতে এ আইনটি করা হচ্ছে।

পরে বিলটি যাচাই-বাছাই করে এক মাসের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত আইনের কিছু ধারায় সংশোধনী এনে তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে টোয়াব।

গত বছর মার্চে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হ্ওয়ার পর ১৮ মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকে। পাঁচ মাস পর নভেম্বরে সব খুলে দেয়ার পর কিছুটা প্রাণ ফিরতে শুরু করে।

ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, করোনা শুরুর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে পাঁচ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে এসেছিল। করোনাকালে পুরো বছর জুড়ে শূন্য হয়ে পড়ে বিদেশি পর্যটক।

গত বছরের নভেম্বরের পর অভ্যন্তরীণ পর্যটনে কিছুটা চাঙ্গা ভাব দেখা দিলেও করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন শুরু হওয়ায় আবার অনিশ্চয়তা তৈরি হলো এ খাতে।

টোয়াবের সভাপতি রাফিউজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত সব খাতের জন্য সরকার প্রণোদনা দিলেও কিছুই পায়নি পর্যটন শিল্প। ব্যাংকগুলো বলেছে, পর্যটন শিল্প ঝুঁকিপূর্ণ। ঋণ দিলে পরিশোধ করতে পারবে না। আমাদেরকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না তারা। এ জন্য সুবিধা দেয়া হয়নি।’

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘বইমেলা চলতে পারে, বাজারঘাট, যানবাহনসহ সব কিছু চলছে -তাহলে পর্যটনকেন্দ্র কেন বন্ধ থাকবে?’

বাংলাদেশে পর্যটনকে একটি উদীয়মান শিল্প ধরে নেয়া হয়। কয়েক বছর ধরে এ শিল্প হাঁটি হাঁটি, পা পা করে এগোচ্ছে। করোনা ভাইরাসের আকস্মিক প্রাদুর্ভাবে খাতটি প্রায় ধ্বংসের পথে। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ খাতটি পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে।

প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়শনের (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের গত বছর করা সমীক্ষা অনুযায়ী, করোনার কারণে গত বছর দেশের পর্যটন খাতে ক্ষতি হয় ১০ হাজার কোটি টাকা। তবে টোয়াবের হিসাবে এ ক্ষতির পরিমাণ আরও কম। প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।

দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বছরে কমপক্ষে ১০ লাখ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটক পাওয়া গেলে ১ কোটি লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর সুফল ভোগ করার সুযোগ রয়েছে।

পর্যটন একটি সম্ভাবনাময় খাত হওয়ার পরও জাতীয় বাজেটে তা বরাবর অবহেলিত থেকে যায়। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাজেটে মোট বরাদ্দের ১ শতাংশের কম দেয়া হয় এ খাতে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এটি কমপক্ষে ৪ শতাংশে উন্নীত করার দাবি জানায় টোয়াব।

বিলে সংশোধনের দাবি

প্রস্তাবিত বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালন) খসড়া আইনের কিছু ধারায় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে ট্যুর অপারেটররা।

খসড়া আইনে বিদেশি ট্যুর প্রতিষ্ঠানকে এ দেশে ব্যবসার সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ বিদেশিদের জন্য পর্যটন ব্যবসা উন্মুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় ট্যুর অপারেটররা এতে আপত্তি জানিয়ে বলেছে, এ মুহূর্তে বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে ব্যবসার অনুমতি দেয়া হলে অম্ভ্যন্তরীণ পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিল থেকে এটি বাদ দেয়ার দাবি জানিয়েছে টোয়াব প্রতিনিধিরা।

এখন শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে যে কেউ প্রতিষ্ঠান খুলে পর্যটন ব্যবসা করতে পারে। নতুন আইনে ট্রাভেল এজেন্সির মতো ট্যুর অপারেটরদেরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের বিধান করা হয়েছে।

ট্যুর অপারেটরা বলেছে, নিবন্ধনে তাদের আপত্তি নেই। তবে, এর জন্য যে ফি এবং নবায়ন ফি ধরা হবে, তা যেন সহনীয় হয়।

বর্তমানে জনশক্তি রফতানিকারক সমিতি ‘বায়রা’ ও হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন ‘হাব’-এর সদস্য ছাড়া অন্য কেউ এ ধরনের ব্যবসা করতে পারে না। কিন্ত টোয়াবের সদস্য না হলেও অন্য কেউ ট্যুরিজম ব্যবসা করতে পারে।

ট্যুর অপারটেরদের মত হচ্ছে, যারা পর্যটন ব্যবসা পরিচালনা করতে চাইবে, তাদের অবশ্যই টোয়াবের সদস্য হতে হবে এবং নতুন আইনে এসব বিষয় যুক্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন:
আইনি কাঠামোয় আসছে ট্যুর অপারেটর-গাইড
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক

শেয়ার করুন

যে বাড়ি ফেলনা বোতলের

যে বাড়ি ফেলনা বোতলের

লালমনিরহাট গেলে দেখা মিলবে এই বোতল বাড়ির। ছবি: নিউজবাংলা

৮০ হাজার পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে এমন এক বাড়ি বানিয়েছেন লালমনিরহাটের এক দম্পতি, যা ইটের বাড়ির চেয়ে শক্ত এবং নিরাপদ। পরিবেশবান্ধব এ বাড়ি বানাতে খরচও কম হয়েছে।

১৭০০ বর্গফুটের একটি বাড়ি, তাতে নেই কোনো ইট। এর বদলে কাজে লাগানো হয়েছে ৮০ হাজার পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল।

এ রকম এক অদ্ভুত নির্মাণ উপকরণ দিয়ে বাড়ি বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন লালমনিরহাটের এক শিক্ষক দম্পতি।

প্রতিদিন দলে দলে লোক আসছে কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নওদাবাস গ্রামের এ বাড়িটি দেখতে।

বাড়িটি শুধু যে বসবাসযোগ্য তাই নয়, অন্যান্য পাকা বাড়ির চেয়ে শক্তপোক্ত এবং নিরাপদ।

এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ যারা নিয়েছেন, সেই রাশেদুল আলম ও তার স্ত্রী আসমা খাতুন দুজনে ঢাকার শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজে পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে লেখাপড়া করেন। পরে তারা সেখানে খণ্ডকালীন শিক্ষকতাও করেন কিছুদিন।

এই দম্পতির দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে রাফিদুল বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ছোট ছেলেটিরও বাকপ্রতিবন্ধিতা আছে। তাদের কোলাহলমুক্ত পরিবেশে রাখতে বাবা-মাকে পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এ জন্য শহর ছেড়ে শান্ত পরিবেশে পারিবারিক ভিটায় সন্তানদের নিয়ে এসেছেন ওই শিক্ষক দম্পত্তি।

বাড়িতে এসে তারা ভাবতে থাকেন কী ধরনের বাড়ি করবেন। ইন্টারনেট থেকে স্ত্রী আসমা খাতুন জানতে পারেন পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে ইকো-হাউস নামে পরিবেশবান্ধব বাড়ি তৈরি করছেন জাপানিরা। এতে উৎসাহিত হয়ে এ দম্পত্তি প্লাস্টিকের বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। দুজন মিলে রপ্ত করতে থাকেন বাড়ি তৈরির কলাকৌশল। সেই সঙ্গে তারা বোতল সংগ্রহ করা শুরু করেন।

lalmonirhat House
বাড়ির প্রতিটি অংশ বোতলে গাঁথা

শুরুর দিকে অনেকে উপহাস করেছেন। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা বাধা দিয়েছেন। বলেছেন, এ রকম বাড়ি টেকসই হবে না। কিন্তু কারও কথাই কানে তোলেননি এ দম্পতি।

এমন বাড়ি নির্মাণের খবর গণমাধ্যমে প্রচার হলে এটি দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করতে থাকে। ইতোমধ্যে বাড়িটি ‘বোতল হাউজ’ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড়িটিতে চার রুমের থাকার ঘর আছে। আছে দুটি বাথরুম, রান্নাঘর ও বারান্দা।

১৭০০ বর্গফুটের বাড়িটি নির্মাণে বিভিন্ন আকৃতির প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক ও মেঝেতেও ব্যবহার করা হয়েছে বোতল। বাড়ির ভিত্তিমূলে এক লিটার এবং দেয়ালে ব্যবহার করা হয়েছে আধা লিটারের প্লাস্টিকের বোতল।

বোতলগুলো বালুতে ভর্তি করার পর সিমেন্ট দিয়ে তা দেয়ালে গাঁথা হয়। বোতলে বালু দেয়ায় স্বাভাবিক ইটের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি শক্ত হয় বলে জানান রাশেদুল। এ ছাড়া বালু গরমে তাপ শোষণ করে ঘরকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা রাখে বলে জানান তিনি।

রাশেদুল জানান, পরিবেশ রক্ষার দায়বদ্ধতা থেকে অভিনব এই বাড়ির কাজে হাত দিয়েছেন তিনি। স্ত্রী আসমা খাতুন তাকে সার্বক্ষণিক সাহস জোগাচ্ছেন। পরিবেশবান্ধব, তাপ শোষক, অগ্নিনিরোধক, ভূমিকম্পসহ বাড়িটি নির্মাণে ইটের তৈরি বাড়ি থেকে ৪০ শতাংশ কম ব্যয় হয়েছে।

নির্মাণকাজ পুরোটা আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এখনও অনেক লোকজন দেখতে আসছে বলে বোতল ঢাকতে দেয়াল প্লাস্টার করা হয়নি।

রাশেদুল বলেন, ‘আমরা বাড়ি তৈরি করব, কিন্তু ইট দিয়ে নয়। কারণ, ইট তৈরিই হয় পরিবেশের ক্ষতি করে। বোতলের মধ্যে যদি বালু ভরাট করা হয়, তাহলে দুটি বোতল একটি ইটের কাজ করবে।’

lalmonirhat House
এই বাড়ি দেখতে প্রতিদিনই আসেন দর্শনার্থীরা

বাড়িটি তৈরি করতে ৮০ হাজার প্লাস্টিকের বোতল লেগেছে। ওজনে তারা ৬০ মণ বোতল কিনেছিলেন। প্রতি কেজি বোতল প্রকারভেদে কিনতে হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। টিনের চালা বাদে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মধ্যে বাড়ির পুরো কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তারা।

বাড়ির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এ পর্যন্ত ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু প্লাস্টার করা বাকি। এখনই বাড়িতে বসবাস শুরু করেছেন তারা।

রাশেদুল বলেন, ‘প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বাড়ি করলে আগুন সহজে লাগবে না। এটি শক্তিশালী ফায়ার প্রুফ হিসেবে কাজ করবে। আগুন লাগলে প্লাস্টিকের বোতল গলে যাবে, তখন ভেতরের বালু ঝরে পড়বে, ফলে আগুন নিভে যাবে।’

প্লাস্টিকের বোতলে বালু ভরাট করায় এটি ভূমিকম্পসহও হবে। গবেষণাগারে পরীক্ষায় দেখা গেছে, বোতল দিয়ে বানানো বাড়ি রিখটার স্কেলে আট মাত্রার ভূমিকম্প প্রতিরোধ করতে পারে। তা ছাড়া ইটের তৈরি বাড়ির চেয়ে এটি অনেক শক্ত ও টেকসই।

রাশেদুল আরও বলেন, সীমান্ত এলাকার ক্যাম্পগুলোতে বালু দিয়ে বস্তা ভর্তি করে বাংকার তৈরি করে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি)। সে ক্ষেত্রে খালি বোতলে বালু ভরাট করে বাংকার তৈরি করলে তা আরও শক্তিশালী হবে।

রাশেদুল জানান, ইট দিয়ে এ বাড়ি তৈরি করলে তার চার লাখের মতো টাকা ব্যয় হতো। বোতলের বাড়ি নির্মাণে খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকা।

এ গ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম বলেন, ‘ফেলনা বোতল দিয়ে যে বাড়ি করা যায়, তা রাশেদুলের এই বাড়ি না দেখলে কারও বিশ্বাস হতো না। তার এই বাড়ি দেখে এলাকার অনেকে উদ্বুব্ধ হচ্ছেন। অনেকে তাদের কাছ থেকে বাড়ির নকশা করে নিয়ে যাচ্ছেন।’

lalmonirhat house
বোতলের বাড়ি নির্মাণে খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকা

গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘এত কম ট্যাকায় মজবুত বাড়ি হয়, এটা আগোত জানলে হামরাও প্লাস্টিকের বোতল কুড়ায় বাড়ি কইরবার পানু হয়।’

পরিবেশবান্ধব হলেও বাড়ি নির্মাণে প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন হওয়া উচিত বলে মনে করেন কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবু তৈয়ব মো. শামছুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘এটি পরিবেশবান্ধব হতে পারে। কারণ ইট দিয়ে বাড়ি পরিবেশের জন্য হুমকি। এটি ট্রায়াল দিয়ে দেখা যেতে পারে। আরও কিছু বাড়ি হলে বোঝা যাবে, এটি কতটা শক্তিশালী। তবে এটি যে তাপ শোষণ করার ক্ষেত্রে ভালো কাজ করবে, এতে সন্দেহ নেই। গরমকালে শীতল থাকবে বাড়িটি।’

আরও পড়ুন:
আইনি কাঠামোয় আসছে ট্যুর অপারেটর-গাইড
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক

শেয়ার করুন

ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা

ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা

আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ষাট গম্বুজ মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ ও সুন্দরবনে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া মহামারি ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগে দর্শনার্থী প্রবেশে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক শুক্রবার সন্ধ্যায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে শনিবার থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বেলায়েত হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র, হিরণ পয়েন্ট, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালীসহ বনের বিভিন্ন স্পটে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে।

জেলে, মৌয়ালসহ বনজীবী যারা বনের মধ্যে অবস্থান করছে তাদেরও লোকালয়ে ফিরিয়ে আনার জন্য বনবিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ ও সুন্দরবনে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া মহামারি ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে মাস্ক বিতরণ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে।’

জেলা সিভিল সার্জন কে এম হুমায়ুন কবির জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বাগেরহাটে এ পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ছয় দিনে নতুন করে করোনা সংক্রমিত হয়েছে ৩৬ জনের দেহে। এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৩ জনে।

আরও পড়ুন:
আইনি কাঠামোয় আসছে ট্যুর অপারেটর-গাইড
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক

শেয়ার করুন

১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন

১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন

প্রতি বছর দেশি-বিদেশি প্রায় দুই লাখ পর্যটক সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন।

সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম জোন মিলিয়ে সাতটি পর্যটন স্পট রয়েছে। যার মধ্যে পশ্চিমে দুটি এবং পূর্বে পাঁচটি স্পট অবস্থিত। এগুলো সবই শনিবার থেকে বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া দেশে বন বিভাগের যত পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে, সবগুলোই এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।

সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বনবিভাগ। করোনাভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা ও সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা মেনে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

শনিবার থেকে পরবর্তী দুই সপ্তাহ বলবৎ থাকবে নিষেধাজ্ঞা। তবে মৌয়াল বা জেলেরা এর আওতায় পড়বে না।

খুলনা সার্কেলের বনসংরক্ষক মো. মঈনুদ্দিন খান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় দেশের সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আমরা পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা হাতে পেয়েছি। তাই শনিবার থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম জোন মিলিয়ে সাতটি পর্যটন স্পট রয়েছে। যার মধ্যে পশ্চিমে দুটি এবং পূর্বে পাঁচটি স্পট অবস্থিত। এগুলো সবই শনিবার থেকে বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া দেশে বন বিভাগের যত পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে, সবগুলোই এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।’

বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশি-বিদেশি প্রায় দুই লাখ পর্যটক সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত বছর সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকলেও পৌনে দুই লাখের মতো পর্যটক বেড়াতে যান বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে।

মূলত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম। এ সময়ে বিপুলসংখ্যক পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেন। মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত আনাগোনা অব্যাহত থাকে।

আরও পড়ুন:
আইনি কাঠামোয় আসছে ট্যুর অপারেটর-গাইড
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক

শেয়ার করুন

করোনা: শেরপুরে ১৫ দিনের জন্য সমাগম নিষিদ্ধ

করোনা: শেরপুরে ১৫ দিনের জন্য সমাগম নিষিদ্ধ

শেরপুরে করোনা সংক্রমণ রোধে কড়াকড়ি হয়েছে বিধিনিষেধ। ছবি: নিউজবাংলা

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যান চলাচল, হোটেল ও উপাসনালয় খোলা রাখা যাবে।

শেরপুরে করোনা সংক্রমণ রোধে ১ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটন কেন্দ্র, সিনেমা হল, বিয়ে, খেলাধুলা এবং সব ধরনের সভা-সমাবেশ বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

নির্দেশনা জারি করে ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বন্ধ ঘোষণাসংক্রান্ত পোস্ট দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ কেন্দ্র, নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকো পার্ক, তাড়ানি পানিহাতা, শ্রীবরদীর রাজার পাহাড়, ডিসি উদ্যান, অর্কিডসহ জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। আর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।

তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যান চলাচল, হোটেল ও উপাসনালয় খোলা রাখা যাবে। এ ছাড়া প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০টার পর বাড়ির বাইরে না বেরোনোর নির্দশনা দেয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) এ টি এম জিয়াউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন:
আইনি কাঠামোয় আসছে ট্যুর অপারেটর-গাইড
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক

শেয়ার করুন

করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক

করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলো বন্ধের কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, সমুদ্রসৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলো বন্ধের কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ঠিক কখন বন্ধ হবে, তা-ও সুনির্দিষ্ট নয়। তবে আলোচনা সাপেক্ষে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা হলেও কক্সবাজারের পর্যটন স্পটগুলো বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক।

বিষয়টি বুধবার রাতে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ।

তিনি জানান, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ পর্যটন স্পটগুলো বন্ধের কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ঠিক কখন বন্ধ হবে তা-ও সুনির্দিষ্ট নয়। তবে আলোচনা সাপেক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আপাতত কক্সবাজারের সব পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের আগমন সীমিত করা হয়েছে।

এ ছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ১৮টি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্র বন্ধের খবর সঠিক নয়

মামুনুর রশীদ আরও জানান, করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটন স্পট বন্ধের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব, প্রশাসন, পর্যটন ব্যবসায়ীসহ সবার সঙ্গে বসে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

কক্সবাজারে জেলায় সর্বশেষ গত ৩০ মার্চ ৫০০ নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ৪৩ জনের। তার মধ্যে সদরে ৪১ জন।

লকডাউন উঠে যাওয়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা ৫ শতাংশের নিচে থাকলেও বর্তমানে তা ৩৫ শতাংশের উপরে।

আরও পড়ুন:
আইনি কাঠামোয় আসছে ট্যুর অপারেটর-গাইড
ষাটগম্বুজ মসজিদে ১৩ দিনের নিষেধাজ্ঞা
১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকশূন্য থাকবে সুন্দরবন
কক্সবাজারসহ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ
করোনা: কক্সবাজারে সীমিত হচ্ছে পর্যটক

শেয়ার করুন