পুলিশ প্রত্যাহার, পিটুনির ‘নির্দেশদাতা’ ইউএনওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই

পুলিশ প্রত্যাহার, পিটুনির ‘নির্দেশদাতা’ ইউএনওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী ইউএনও রুনা লায়লা।

গণমাধ্যমে প্রথমে সংবাদ প্রকাশ হয় যে, ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় পুলিশ ব্যবসায়ীকে পিটিয়েছে। ইউএনও এই সংবাদের প্রতিবাদ করার পর বিভিন্ন গণমাধ্যম সেটি ছাপিয়েছে। তবে সেই ব্যবসায়ীকে মারধরের বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না। সিংগাইর সার্কেলের এএসপি নিশ্চিত করেছেন যে, ইউএনওর নির্দেশেই এই পিটুনি দেয়া হয়েছে।

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে শাটডাউনের মধ্যে দোকান খোলা রাখায় এক স্বর্ণকারকে মারধরের ঘটনায় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তবে ‘নির্দেশদাতা’ হিসেবে নাম আসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম মোল্লা পুলিশ সদস্যকে প্রত্যহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলছেন না।

নিউজবাংলাকে ওসি বলেন, ‘ঘটনার পরদিন অর্থাৎ শুক্রবার তাকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে যেহেতু ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করেছে। এই অভিযোগে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।’

ওই পুলিশ সদস্যের নাম রফিক বলে প্রকাশ পেয়েছে। তবে তার পুরো নাম জানা যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই মারধরের ঘটনা ঘটে সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের জাগীর বাজারে। মারধরের শিকার হন তপন চন্দ্র দাশ। তাকে দুই হাজার টাকা জরিমানাও করেন ইউএনও রুনা লায়লা।

প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আসে যে, ব্যবসায়ী তপন চন্দ্র দাশ ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় তাকে পিটুনি দেয় পুলিশ।

ইউএনও এই সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একটি জাতীয় গণমাধ্যমে তার প্রতিবাদলিপি ছাপার পর নিজের ফেসবুক পেজে সেই প্রতিবাদলিপি পোস্টও করেছেন। তবে সেই ব্যবসায়ীকে মারধরের বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না।

আবার ইউএনওর নানা অভিযানের ছবি উপজেলা পরিষদের ফেসবুক পেজে নিয়মিত পোস্ট করা হলেও বৃহস্পতিবারের একটি ছবিও পোস্ট করা হয়নি।

পুলিশ প্রত্যাহার, পিটুনির ‘নির্দেশদাতা’ ইউএনওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই
ইউএনও রুনা লায়লা তার প্রতিবাদলিপিতে ‘আপা’ ডাকা প্রসঙ্গ তুললেও ব্যবসায়ীকে পিটুনির নির্দেশের বিষয়ে কিছু বলছেন না

পিটুনি দেয়া পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হলেও নির্দেশদাতা ইউএনওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই কেন- এমন প্রশ্নের জবাব জানতে জেলা প্রশাসক আব্দুল লতিফকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি আইনশৃঙ্খলার মিটিংয়ে আছি, পরে কথা বলি।’

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনিরুজ্জামানকে কল করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

ঘটনা যা ঘটেছে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে শাটডাউনের মধ্যে সিংগাইরের ধল্লা ইউনিয়নের জাগীর বাজারে দোকান খুলেছিলেন স্বর্ণকার তপন চন্দ্র দাশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই বাজারে অভিযান চালান ইউএনও রুনা লায়লা।

অভিযানে তপন চন্দ্র দাশকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করার পর তা পরিশোধ করেন।

ইউএনও বলেন, ‘সরকারের নির্দেশ উপেক্ষা করে লকডাউনের মধ্যে দোকান খোলা রেখে দোকানের শাটার নামিয়ে মালিকসহ ৮-১০ জন লোক বসা ছিল। দোকান খোলা ও লোকসমাগম করার অপরাধে তাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’

পুলিশ প্রত্যাহার, পিটুনির ‘নির্দেশদাতা’ ইউএনওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলাকালে মারধরের শিকার সিংগাইরের জাগীর বাজারের স্বর্ণকার তপন চন্দ্র দাশ

পিটুনির শিকার ব্যবসায়ী তপন চন্দ্র দাশ বলেন, ‘ক্রেতাদের পূর্বের কিছু মালের অর্ডার থাকায় সেগুলো ডেলিভারি দিতেই দোকান খুলেছিলাম। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত এসে হাজির হয়। আমি জরিমানার টাকাও পরিশোধ করি। পুলিশ দেখে ভয় পেয়ে ইউএনওকে আপা বলে ক্ষমা চাই। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে লাঠি দিয়ে তিন-চারটি বাড়ি মারে এক পুলিশ।’

গণমাধ্যমে আসে যে, অভিযান চলাকালে ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করেন স্বর্ণকার তপন। আর এরপর তাকে মারধর করে সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে থাকা এক নিরাপত্তাকর্মী।

ইদানীং দেখা যাচ্ছে, সরকারি চাকুরেদের মধ্যে ‘স্যার’ শব্দ শোনার বাসনা পেয়ে বসেছে। বহু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ‘স্যার’ না বলার কারণে মানুষকে অপমানিত হতে হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মানিকগঞ্জের এই ঘটনাটি সামনে আসার পরও ‍তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে ইউএনও প্রতিবাদলিপিতে বলেছেন, তাকে আপা ডাকা নিয়ে পুলিশ কর্তৃক ব্যবসায়ীকে মারধরের বিষয়টি সঠিক নয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় ব্যবসায়ীকে জরিমানা করার পাশাপাশি সরকারি কাজে অসহযোগিতার জন্য তাকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

মারধর হয়েছে বলছেন ডিসি, ইউএনও নিজে, তবে দায় দিলেন পুলিশকে

সার্বজনীন মানবাধিকারের ঘোষণা অনুযায়ী কাউকে নির্যাতনমূলক কোনো সাজা দেয়া যাবে না। বাংলাদেশ এই ঘোষণায় অনুস্বাক্ষর করেছে আর কাউকে আঘাত করা বাংলাদেশেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

স্পষ্টত সেদিন সেখানে আইনের লঙ্ঘন হয়েছে এবং এর দায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী ইউএনও রুনা লায়লার।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল লতিফ এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন ‘অতি উৎসাহী’ পুলিশ সদস্যকে। নিউজবাংলাকে তিনি শুক্রবার বলেন, ‘অতি উৎসাহী হয়ে পুলিশের এক কনস্টেবল লাঠি দিয়ে কয়েকটা বাড়ি দেয়। কেউ যদি অতি উৎসাহী হয়ে কাউকে বাড়ি দেয়, সেটা তো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দোষ না। কারণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তো তাকে মারতে বলে নাই।’

ইউএনও বলেছেন, ‘আমি তো কাউকে মারতে বলিনি।’ কিন্তু মারল কেন- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি তখন দূরে। কিন্তু ঘটনা ঘটে গেছে।’

কিন্তু তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা কেন নেননি আর সেই পুলিশের বিরুদ্ধে কেন রিপোর্ট করেননি- এমন প্রশ্নে ইউএনও বলেন, ‘এটা ওই রকমের কোনো ঘটনা না, সে জন্য পুলিশকে কিছু জানানো হয়নি।’

তবে পুলিশের ভাষ্যে মিলেছে অন্য তথ্য।

সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেজাউল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি সেখানে ছিলাম না। তবে আমার পুলিশ সদস্য রফিকের কথা রেকর্ড করেছি। সে বলেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশেই মেরেছে।’

আরও পড়ুন:
ইউএনওর দোষ নেই: ডিসি, পিটুনি তার নির্দেশেই: পুলিশ
উপজেলার বাজেট ব্যয়ে ৮ নির্দেশনা
ইউএনওর নম্বর ক্লোন করে চাঁদা দাবি
ভাতা তুলতে প্রবীণ পেলেন মোবাইল ফোন
‘ভুল’ স্বীকার করলেন সেই ইউএনও

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মা আর নেই, ঢাবি ছাত্র জানলেন অনলাইন পরীক্ষায় বসে

মা আর নেই, ঢাবি ছাত্র জানলেন অনলাইন পরীক্ষায় বসে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরীক্ষা। ফাইল ছবি

অনলাইন পরীক্ষার পরিদর্শক এবং বিভাগের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা নেহরীর খান বলেন, ‘অনলাইন পরীক্ষার ভিতর রাজীব জানায়, সে মায়ের কাছে যাবে। তারপর সে লিভ নিল। পরীক্ষা শেষে আমরা জানতে পারি তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে।’ রাজীবের পরীক্ষার বিষয়ে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন শরীফ মিয়া ও তার অন্য বন্ধুরা। শরীফ মিয়া জানান, বিভাগ কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, পরীক্ষার ফল পেতে রাজীবের কোনও সমস্যা হবে না।

সহপাঠীদের সঙ্গে ভিডিও অন রেখে অনলাইনে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজীব মোহাম্মদ। পরীক্ষায় থাকা অবস্থায় রাজীব টের পেয়েছেন, মায়ের কিছু হয়েছে। জুম প্লাটফর্মেই কেঁদে ফেলেন রাজীব। দায়িত্বরত শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষা থেকে বের হবার পর জানলেন, মা আর পৃথিবীতে নেই।

রোববার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রাজীবের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায়। সেখানে বসেই সে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শরীফ মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ সাড়ে ৯টা থেকে আমাদের অনলাইন পরীক্ষা শুরু হয়। আধাঘণ্টা পর রাজীব হঠাৎ ম্যামকে ডাকা শুরু করে। ম্যাম হয়ত কিছুক্ষণের জন্য অনলাইনের বাইরে ছিলেন। এর মধ্যেই হঠাৎ আমরা একটা চিৎকার শুনতে পাই। রাজীব কেঁদে ফেলে। পরে ম্যাম এসে জিজ্ঞাসা করেন, রাজীব, তোমার কী হয়েছে? রাজীব জানায়, ম্যাম আমার আম্মুর কী যেন হয়েছে। আমাকে লিভ নিতে হবে। পরে ম্যাম কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে রাজীবকে বের হওয়ার অনুমতি দেন।’

মা আর নেই, ঢাবি ছাত্র জানলেন অনলাইন পরীক্ষায় বসে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজীব মোহাম্মদ অনলাইন পরীক্ষায় বসে জানলেন তার মা আর নেই। ছবি: নিউজবাংলা

শরীফ মিয়া বলেন, পরীক্ষা শেষে বের হওয়ার পরে শুনতে পাই রাজীবের আম্মু মারা গেছেন। আসলে এটা কঠিন পরিস্থিতি।

অনলাইন পরীক্ষার পরিদর্শক এবং বিভাগের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা নেহরীর খান বলেন, ‘অনলাইন পরীক্ষার ভিতর রাজীব জানায়, সে মায়ের কাছে যাবে। তারপর সে লিভ নিল। পরীক্ষা শেষে আমরা জানতে পারি তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে।’

রাজীবের পরীক্ষার বিষয়ে বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন শরীফ মিয়া ও তার অন্য বন্ধুরা। শরীফ মিয়া জানান, বিভাগ কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, পরীক্ষার ফল পেতে রাজীবের কোনও সমস্যা হবে না।

রাজীবের মায়ের মৃত্যুর পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন রাজীবের অন্য এক সহপাঠী আল আমিন সরকার। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘অনলাইন পরীক্ষা চলছিল। প্রায় ৩০ মিনিট অতিক্রান্ত হয়েছে এমন অবস্থায়, হঠাৎ কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম। ডিসপ্লেতে তাকিয়ে দেখি বন্ধু রাজীবের চোখে পানি। রাজীব বলতেছে, ম্যাম, ম্যাম....., ম্যাম, আমি কী লিভ নিতে পারি! আমার মায়ের কী যেন হয়েছে।

‘এক মিনিট পর লিভ নেয়ার অনুমতি পেলেন তিনি। এইতো কিছুক্ষণ আগে শুনলাম তার মা আর ইহজগতে নেই! আমরা পরীক্ষা শেষ করে কেবলই একটা ফুরফুরে মেজাজে হাসিখুশিতে মেতে উঠছিলাম আর বন্ধুর জীবনে কত বড় পরীক্ষা হয়ে গেল। মৃত্যু কত নিষ্ঠুর, কখন ডাক আসবে কেউ জানে না। আল্লাহ উনাকে মাগফিরাত দান করে জান্নাত দান করুক এবং আমার বন্ধু ও তার পরিবারকে যেন ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করেন, আমিন।’

রাজীব মোহাম্মদের মায়ের জানাজা কখন হবে সেটি এখনও জানা যায়নি।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর দোষ নেই: ডিসি, পিটুনি তার নির্দেশেই: পুলিশ
উপজেলার বাজেট ব্যয়ে ৮ নির্দেশনা
ইউএনওর নম্বর ক্লোন করে চাঁদা দাবি
ভাতা তুলতে প্রবীণ পেলেন মোবাইল ফোন
‘ভুল’ স্বীকার করলেন সেই ইউএনও

শেয়ার করুন

সহায়তার টাকায় ঘুরে দাঁড়াতে চান বুধোই-রাজিয়া দম্পতি

সহায়তার টাকায় ঘুরে দাঁড়াতে চান বুধোই-রাজিয়া দম্পতি

রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র শীল চন্দন জানান, এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের কাছ থেকে রাজিয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তাকে ৫ হাজার টাকা দেন। নাম, পরিচয় প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। এমন মহানুভবতার জন্য সবার পক্ষ থেকে সৌমিত্র তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

বুধোই মণ্ডল আর রাজিয়া বেগমের টানাটানির সংসার। স্বামী অন্যের ভ্যান ভাড়া নিয়ে চালান।

দুই ছেলের একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত, আরেকজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। আরও একটি ছেলে ছিল তাদের যে মারা গেছে কিডনি রোগে।

অন্যের বাড়িতে কাজ করে কিছু টাকা জমিয়ে রাজিয়া কিনেছিলেন একটি ছাগল। স্বপ্ন ছিল ছাগল পালনের মাধ্যমে সংসারের অভাব কিছুটা কমবেন।

সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল রাজবাড়ীর বালিয়াকন্দির ৫০ বছর বয়সী রাজিয়ার। শনিবার তার ছাগলটি বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাজবাড়ী শহরের এক ব্যক্তি এগিয়ে এসেছেন তাদের পাশে। নাম, পরিচয় গোপন রেখে ভ্যানচালক বুধোই মণ্ডল ও তার স্ত্রীর জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন ৫ হাজার টাকা।

রাজবাড়ী জেলা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে রোববার দুপুরে তাদের হাতে এই টাকা তুলে দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র শীল চন্দন।

সৌমিত্র নিউজবাংলাকে জানান, ওই ব্যক্তি সাংবাদিকদের কাছ থেকে রাজিয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তাকে ৫ হাজার টাকা দেন। নাম, পরিচয় প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। এমন মহানুভবতার জন্য সবার পক্ষ থেকে সৌমিত্র তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এমন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আর্থিক সহায়তা পেয়ে কেঁদে ফেলেন ওই দম্পতি।

বুধোই জানান, দুই ছেলেকে নিয়ে খুবই কষ্টে তাদের দিন যায়। এ অবস্থায় শনিবার একমাত্র ছাগলটা অসুস্থ হয়ে পড়লে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নেয়া হয়।

শনিবার অফিস ছুটির দিন হওয়ায় একজন ডাক্তারকে ফোন দিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেন। ডাক্তার আসতে আসতে তার ছাগলটি মারা যায়।

তিনি জানান, এই টাকা তাদের আবার ভরসা জুগিয়েছে। দ্রুতই তারা ছাগল কিনবেন। যে ব্যক্তি এভাবে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর দোষ নেই: ডিসি, পিটুনি তার নির্দেশেই: পুলিশ
উপজেলার বাজেট ব্যয়ে ৮ নির্দেশনা
ইউএনওর নম্বর ক্লোন করে চাঁদা দাবি
ভাতা তুলতে প্রবীণ পেলেন মোবাইল ফোন
‘ভুল’ স্বীকার করলেন সেই ইউএনও

শেয়ার করুন

কিশোর হত্যা মামলায় দুইজন কারাগারে

কিশোর হত্যা মামলায় দুইজন কারাগারে

প্রতীকী ছবি

ওসি দুলাল বলেন, ‘দীর্ঘসময় জিজ্ঞাসাবাদের পর মহসীন ও ইরিফান খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্যই মূলত শাকিলকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন তারা।’

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এক কিশোর হত্যা মামলায় দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ।

দুই আসামি হলেন উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মহসীন এবং চট্টগ্রাম নগরীর ইতালি কলোনি এলাকার মো. ইরফান।

এর আগে শনিবার বিকেল ৫ টার দিকে উপজেলার বন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওইদিন বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী সড়কের পাশের ধানক্ষেত থেকে মো. শাকিল নামের ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শাকিল একই উপজেলার শিকলবহা ইউনিয়নের মো. নাজিমের ছেলে।

শনিবার বিকেল ৪টার দিকে কর্ণফুলী থানায় মামলা করে শাকিলের বাবা নাজিম।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুইজনের কাছ থেকে শাকিলের মোবাইল ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি দুলাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার সকালে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধারের পর বিকেলে তার বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

ওসি আরও বলেন, ‘দীর্ঘসময় জিজ্ঞাসাবাদের পর মহসীন ও ইরিফান খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্যই মূলত শাকিলকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন তারা।’

মামলাল এজহার থেকে জানা যায়, শাকিল কর্ণফুলীর পুরাতন ব্রিজঘাট এলাকায় একটি গ্যাসের দোকানে কাজ করত। অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য মাঝেমধ্যে রাতে রিকশা চালাত সে।

শুক্রবার বিকেলেও রিকশা নিয়ে বের হয় শাকিল। কিন্তু এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাতে তার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়।

কর্ণফুলী থানার ওসি দুলাল বলেন, ‘উদ্ধারের সময় শাকিলের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।’

আরও পড়ুন:
ইউএনওর দোষ নেই: ডিসি, পিটুনি তার নির্দেশেই: পুলিশ
উপজেলার বাজেট ব্যয়ে ৮ নির্দেশনা
ইউএনওর নম্বর ক্লোন করে চাঁদা দাবি
ভাতা তুলতে প্রবীণ পেলেন মোবাইল ফোন
‘ভুল’ স্বীকার করলেন সেই ইউএনও

শেয়ার করুন

বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে জখম

বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে কুপিয়ে জখম

প্রতীকী ছবি

আহত টিপুর ভাই আকাশ জানান, তার ভাই মাছের আড়তে কাজের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। সকালে স্থানীয় জুবায়ের, বাদু, শামসুদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, দানেশ, শুকুরসহ ৮ থেকে ১০ জন আলাপের কথা বলে টিপুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। তারা তাকে মাদক কারবারের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তারা দোলাইরপার কবরস্থান রোড এলাকায় টিপুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।

রাজধানীর কদমতলীতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা।

দোলাইরপাড় কবরস্থান রোড এলাকায় রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। অবস্থা সংকটপূর্ণ হওয়ায় আহতকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তার আত্মীয়রা।

আহত যুবকের নাম মোহাম্মদ টিপু। তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। দোলাইরপাড় বাজার এলাকায় স্ত্রী শীমলা বেগম ও দুই মাসের ছেলেসন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকেন তিনি।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২৬ বছর বয়সী আহত টিপুর ভাই আকাশ জানান, টিপু মাছের আড়তে কাজের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। সকালে স্থানীয় জুবায়ের, বাদু, শামসুদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, দানেশ, শুকুরসহ ৮ থেকে ১০ জন আলাপের কথা বলে টিপুকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। তারা টিপুকে মাদক কারবারের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় তারা দোলাইরপার বাজারের লালমিয়ার গলি কবরস্থান রোড এলাকায় টিপুকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।

পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

আকাশ আরও বলেন, ‘টিপুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক আমাদের ৪ ব্যাগ রক্ত জোগাড় করে রাখতে বলেছেন।’

পুলিশ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। আহত যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর দোষ নেই: ডিসি, পিটুনি তার নির্দেশেই: পুলিশ
উপজেলার বাজেট ব্যয়ে ৮ নির্দেশনা
ইউএনওর নম্বর ক্লোন করে চাঁদা দাবি
ভাতা তুলতে প্রবীণ পেলেন মোবাইল ফোন
‘ভুল’ স্বীকার করলেন সেই ইউএনও

শেয়ার করুন

গাভির তিন বাছুর প্রসব

গাভির তিন বাছুর প্রসব

ছ‌বি বেগম ব‌লেন, ‘তিন‌টি বাছুর একসা‌থে প্রসব হই‌ছে শুইনা দেখ‌তে আস‌ছি। দেখ‌ছিও, এমন ঘটনা প্রথমই শুন‌ছি।’

সাধারণত একসঙ্গে একটি বা দুটি বাছুর প্রসবের খবর মেলে। কিন্তু এবার তিনটি বাছুর প্রসব করেছে একটি গাভি। সেই গাভি ও বাছুরগুলোক দেখতে আবার ভিড় করছে উৎসুক মানুষ।

ঘটনাটি ব‌রিশা‌লের বানারীপাড়া উপ‌জেলার। এই উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রা‌মে শা‌হিন হাওলাদা‌রের ডেই‌রি ফার্মে রোববার জন্ম নেয়া তিনটি বাছুরই সুস্থ রয়েছে। সুস্থ আছে গাভিটিও।

শাহিনের ফার্মে গাভি দেখতে এসেছেন মো. জয়নাল। তিনি বলেন, এক‌টি বা দুটি বাছুর প্রসব করার খবর শু‌নি, কিন্তু একসঙ্গে তিন‌টি বাছুর প্রস‌বের কথা প্রথম শুনেছি। তাই দেখ‌তে এ‌সে‌ছি বাছুরগুলোকে।

ছ‌বি বেগম ব‌লেন, ‘তিন‌টি বাছুর একসা‌থে প্রসব হই‌ছে শুইনা দেখ‌তে আস‌ছি। দেখ‌ছিও, এমন ঘটনা প্রথমই শুন‌ছি।’

ফার্মের মা‌লিক শাহিন হাওলাদার ব‌লেন, সকাল ৭টার দিকে আমার ডেইরি ফার্মের একটি গাভি তিনটি বাছুর প্রসব করে। বাছুরগুলো সুস্থ আ‌ছে।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর দোষ নেই: ডিসি, পিটুনি তার নির্দেশেই: পুলিশ
উপজেলার বাজেট ব্যয়ে ৮ নির্দেশনা
ইউএনওর নম্বর ক্লোন করে চাঁদা দাবি
ভাতা তুলতে প্রবীণ পেলেন মোবাইল ফোন
‘ভুল’ স্বীকার করলেন সেই ইউএনও

শেয়ার করুন

পাঠ্যপুস্তকে ভুল: এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টে তলব

পাঠ্যপুস্তকে ভুল: এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টে তলব

আইনজীবী আলী মোস্তাফা খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে ভুল। সেই ভুলের বিষয়ে দায়িত্বহীন আচরণের কারণে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সে ভুলগুলো সংশোধনে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে।’

পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভুল থাকায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহাকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১০ নভেম্বর তাকে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আলী মোস্তাফা খান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকে ভুল। সেই ভুলের বিষয়ে দায়িত্বহীন আচরণের কারণে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সে ভুলগুলো সংশোধনে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে।’

তার সঙ্গে কারিকুলাম বোর্ডের সদস্যকেও আদালত তলব করেছে। একই দিনে তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর দোষ নেই: ডিসি, পিটুনি তার নির্দেশেই: পুলিশ
উপজেলার বাজেট ব্যয়ে ৮ নির্দেশনা
ইউএনওর নম্বর ক্লোন করে চাঁদা দাবি
ভাতা তুলতে প্রবীণ পেলেন মোবাইল ফোন
‘ভুল’ স্বীকার করলেন সেই ইউএনও

শেয়ার করুন

ট্রেনে ডাকাতিতে সংঘবদ্ধ চক্র: র‍্যাব

ট্রেনে ডাকাতিতে সংঘবদ্ধ চক্র: র‍্যাব

ময়মনসিংহে ট্রেনে প্রাণহানির ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

অধিনায়ক মো. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে চলতে শুরু করলে তারা ইঞ্জিনের পরের বগির ছাদে বসে থাকা যাত্রীদের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন লুট করা শুরু করেন। একপর্যায়ে সাগর মিয়া ও নাহিদ বাধা দিলে তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তখন ডাকাতরা ওই দুজনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে সাগর ও নাহিদ ট্রেনের ছাদে লুটিয়ে পড়েন।’

ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটের ট্রেনে ডাকাতির সময় বাধা দেয়ায় দুই যাত্রীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১৪-এর অধিনায়ক মো. রোকনুজ্জামান।

র‌্যাব-১৪ সদরদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে রোববার বেলা ১টার দিকে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে ময়মনসিংহ সদরে অভিযান চালিয়ে শনিবার রাত ১টার দিকে ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা পেশাদার ডাকাত বলে জানায় র‍্যাব।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, লুট করা টাকা ও কয়েকটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, আশরাফুল ইসলাম স্বাধীন, মাকসুদুল হক রিশাদ, হাসান, রুবেল মিয়া ও মোহাম্মদ। তারা ময়মনসিংহ সদরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

অধিনায়ক মো. রোকনুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ট্রেনে ডাকাতি করতে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চারজন দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনে ওঠেন। গ্রেপ্তার রিশাদ, হাসান ও স্বাধীন টঙ্গী থেকে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। ট্রেনটি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ফাতেমানগর স্টেশনে থামলে তাদের সঙ্গে যোগ দেন মোহাম্মদ ও তার এক সহযোগী।

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে চলতে শুরু করলে তারা ইঞ্জিনের পরের বগির ছাদে বসে থাকা যাত্রীদের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন লুট করা শুরু করেন। একপর্যায়ে সাগর মিয়া ও নাহিদ বাধা দিলে তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তখন ডাকাতরা ওই দুজনের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে সাগর ও নাহিদ ট্রেনের ছাদে লুটিয়ে পড়েন।’

তখন ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে ঢোকার আগে সিগন্যালে ট্রেনের গতি কমলে ডাকাতরা পালিয়ে যান।

অধিনায়ক মো. রোকনুজ্জামান আরও জানান, গ্রেপ্তাররা মূলত সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। তারা ঢাকার কমলাপুর, এয়ারপোর্ট ও টঙ্গী রেলস্টেশন থেকে উঠে ডাকাতি করত। তাদের কিছু সহযোগী ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ফাতেমানগর স্টেশন থেকে উঠে সম্মিলিতভাবে ডাকাতি ও ছিনতাই করে ময়মনসিংহ স্টেশনে নেমে যেত। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

দুই যাত্রীকে হত্যার ঘটনায় নিহত সাগরের মা হনুফা বেগম শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায় আট থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলায় ওই দিন রাত ৩টার দিকে নগরীর কেওয়াটখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিমুল মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার বিকেলে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আসামিকে ময়মনসিংহের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে তোলা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:
ইউএনওর দোষ নেই: ডিসি, পিটুনি তার নির্দেশেই: পুলিশ
উপজেলার বাজেট ব্যয়ে ৮ নির্দেশনা
ইউএনওর নম্বর ক্লোন করে চাঁদা দাবি
ভাতা তুলতে প্রবীণ পেলেন মোবাইল ফোন
‘ভুল’ স্বীকার করলেন সেই ইউএনও

শেয়ার করুন