ভল্টের টাকা উধাও: ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ভল্টের টাকা উধাও: ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

আসামি দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার শুক্রবারই দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বংশাল থানা পুলিশ।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা ব্যাংক বংশাল শাখার সিনিয়র ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক ও ম্যানাজার অপারেশন এমরান আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

আসামি দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার শুক্রবারই দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বংশাল থানা পুলিশ।

কারাগারে আটক রাখার পুলিশের আবেদনে বলা হয়, আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল। বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল ও কম পায়।

‘ব্যাংকের ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে অডিট টিম টাকা গরমিলের হিসাব বিবরণী দাখিল করে। আবু বক্কর সিদ্দিক অডিট টিমের হিসাব বিবরণীর ভিত্তিতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।’

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঢাকা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আইসিসি ডিভিশনের ইন্টারন্যাল অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন ইউনিটের একটি দল বার্ষিক নিরীক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৭ জুন ব্যাংকটির বংশাল শাখা পরিদর্শনে যায়। এ সময় ভল্টে থাকা নগদ টাকার মধ্যে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে পরিদর্শনকারী দলের কর্মকর্তারা সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ ইনচার্জ) রিফাতুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি এবং ম্যানেজার (অপারেশন) এমরান আহম্মেদ লোভের বশবর্তী হয়ে গত বছরের ২০ জুন থেকে চলতি বছরের ১৬ জুন পর্যন্ত ওই টাকা অল্প অল্প করে সরিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রিফাতুল হক ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর ক্যাশ ইনচার্জ হিসেবে যোগ দেন ওই ব্যাংকে। সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ ইনচার্জ) রিফাতুল হক এবং এফভিপি ও ম্যানেজার (অপারেশন) এমরান আহম্মেদের কাছে ভোল্টের একটি চাবি থাকতো। তারা যৌথভাবে ভল্টের রক্ষক। তারা পরস্পর যোগসাজশে এ টাকা আত্মসাৎ করেন।

ভল্টের টাকা জুয়ায়

আশ্চর্যজনক, বিশ্বাসযোগ্য না হলেও স্বীকারোক্তিতে এটিই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে খেলা হয়েছে জুয়া। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বংশাল শাখার ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাতুল হক জিজ্ঞাসাবাদে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন পুলিশ।

ঢাকা ব্যাংক বংশাল শাখার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক জানান, ২০১৮ সাল থেকে ব্যাংকের ক্যাশে হাত দেয়া শুরু। সময় সুযোগ বুঝে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেয়া হয় বড় অঙ্কের অর্থ। গেল ১৭ জুন ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওঠে আসে টাকা সরানোর ঘটনা।

অডিট কমিটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে বলা হয়, ভল্টে রাখা ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকার নোট দিয়ে বাকি নোট সরিয়ে নেয়া হয়। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে একাই এই কাজ করতেন রিফাতুল। খরচ করতেন জুয়ার আসরে।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

আরও পড়ুন:
ঢাকা ব্যাংকের ভল্টের টাকা জুয়ায়
সুইস ব্যাংকে ভারতীয় আমানত ১৩ বছরে সর্বোচ্চ
ঢাকা ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা কারাগারে
ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে পৌনে ৪ কোটি টাকা উধাও
প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদিত পণ্যেও নগদ সহায়তা

শেয়ার করুন

মন্তব্য