× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
That inexhaustible Casco is decaying
hear-news
player
google_news print-icon
পুরোনো দিনের মায়াবী পণ্য

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো

ক্ষয়ে-যাচ্ছে-সেই-অক্ষয়-কসকো
নব্বইয়ের দশকে বাজারে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছে কসকো সাবান। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাসাবাড়িতে কমেছে কসকোর ব্যবহার। তবে হোটেল-রেস্তোরাঁয় হাত ধোয়ার জন্য এই সাবানের ব্যবহার এখনও বেশ চোখে পড়ার মতো। চিকিৎসকের পরামর্শেও অনেকে কসকো সাবান নিয়মিত ব্যবহার করছেন।

আমি কবি তুমি কবিতা

তুমি প্রথম প্রেম, প্রথম প্রেম ওগো সুস্মিতা

ত্বকের সৌন্দর্যে কসকো…

নব্বইয়ের দশকে তারিন-পল্লবের টিভি বিজ্ঞাপনে এই জনপ্রিয় জিঙ্গেলের কথা অনেকের হয়তো মনে আছে। এই বিজ্ঞাপনটি যে পণ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিত তার নাম ‘কসকো গ্লিসারিন সোপ’।

দেশে উৎপাদিত এই সাবানের দাপুটে বাজার ছিল দীর্ঘদিনের। ‘ক্ষয় কম; ব্যবহার করা যায় বেশি দিন’ এমন সুবিধায় অনেকেই আপন করে নেন কসকো সাবান। ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি খাবারের হোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিপুল জনপ্রিয়তা পায় পণ্যটি। সেই সঙ্গে গ্লিসারিনের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে ত্বকের সমস্যায় এই সাবানের নিয়মিত ব্যবহার শুরু হয়।

নব্বইয়ের দশকের সেই বিপুল জনপ্রিয়তায় অনেক দিন ধরেই অবশ্য ভাটার টান চলছে। দেশি-বিদেশি সাবানের দাপটে কসকো এখন অনেকটাই ম্রিয়মাণ। বাসাবাড়িতে কমে গেছে ব্যবহার। তবে ক্ষয় কম হওয়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁয় এখনও কসকোর বেশ চাহিদা রয়েছে।

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো

পণ্যের ধরন ও মোড়কে আসেনি পরিবর্তন

কসকো সাবান নব্বইয়ের দশকে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও মূলত সত্তর দশকের পর থেকে ধীরে ধীরে বাজার দখল শুরু হয়। পাঁচ দশক পরেও পণ্যের গুণগত মান ও মোড়কে পরিবর্তন আসেনি। সাবানের রংও আছে আগের মতো। ক্রেতার আস্থা ধরে রাখতে গন্ধেও বদল আনেনি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠান কমান্ডার সোপ কোম্পানি লিমিটেডের বিপণনপ্রধান এম এ মতিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যবসা তেমন বড় হয়নি, তবে উৎপাদন থেমে নেই। গ্লিসারিন সাবানের পাশাপাশি আমরা হ্যান্ডওয়াশ, ডিশওয়াশ, কসকো বার সাবানও বাজারজাত করছি। মানুষের আস্থাই কসকোর পুঁজি।’

কমান্ডার সোপ কোম্পানির সেলস বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোম্পানির তেজগাঁও কারখানায় ৫০ থেকে ৬০ জন কর্মরত আছেন। মালিক ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।’

তিনি জানান, পণ্যে গ্রাহক আস্থা ধরে রাখতে কোনো ধরনের পরিবর্তনের ঝুঁকি নেয়া হয়নি। সাবানে ভিন্নতা আনলে ভোক্তার কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে তা নিয়ে শঙ্কায় ছিল কর্তৃপক্ষ। পুঁজির ঝুঁকি এড়াতে তাই আগের মতোই রয়ে গেছে কসকো সাবান।

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো
কসকো সাবানের বিজ্ঞাপনে তারিন ও পল্লব

বদলেছে ভোক্তার ধরন

নব্বইয়ের দশকে বাজারে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছে কসকো সাবান। পরে বিদেশি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন কোম্পানির সাবান বাজার নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যায়। ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ে কসকো।

বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিটিএমএ) ২০১৬ সালের একটি প্রতিবেদন বলছে, দেশে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় বিউটি সোপ লাক্স। এর মার্কেট শেয়ার ৪৫ শতাংশ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাসাবাড়িতে কমেছে কসকোর ব্যবহার। তবে হোটেল-রেস্তোরাঁয় হাত ধোয়ার জন্য এই সাবানের ব্যবহার এখনও বেশ চোখে পড়ার মতো।

রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ের আলম রেস্তোরাঁয় ব্যবহার হয় কসকো সাবান। এর মালিক হোসেন আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কসকো পুরোনো সাবান। ক্ষয় কম হয়, টেকে বেশি দিন। অন্য সাবান দ্রুত ফুরিয়ে যায়, কিন্তু কসকো একটু বেশি দিন টেকে।’

চিকিৎসকের পরামর্শেও অনেকে কসকো সাবান ব্যবহার করছেন। শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গ্লিসারিনযুক্ত এই সাবান ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।

মিরপুর শেওড়াপাড়ার গৃহবধূ রেহানা পারভীন গায়ে দেয়ার সাবান হিসেবে সারা বছর কসকো ব্যবহার করেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এলার্জির কারণে চিকিৎসক আমাকে এই সাবান ব্যবহার করতে বলেছেন।’

তবে কসকো সাবান কিনতে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয় বলে জানান রেহানা। তিনি বলেন, ‘এলাকার অলিগলির কোনো দোকানেই পাওয়া যায় না। বড় একটা সুপার সপ থেকে এই সাবান আমাকে কিনতে হয়। সেখানেও সব সময় পাওয়া যায় না। তাই আমি একসঙ্গে ৫-৬টি কিনে রাখি।’

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো

নিভে গেছে প্রচারের আলো

একসময়ে দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকায় থাকত কসকো সাবানের বর্ণিল বিজ্ঞাপন। বিটিভিতেও প্রচার হতো পণ্যের গুণগান। তবে এখন এই পণ্যের কোনো ধরনের বিজ্ঞাপনী প্রচার নেই।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও নেই কসকো সাবানের প্রচার।

কোম্পানি বা পণ্যের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কথা বলতে উৎসাহ দেখা যায়নি। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নেই কোনো ফোন নম্বর। দুটি ই-মেইল ঠিকানা থাকলেও সেখানে মেইল করে সাড়া মেলেনি।

তেজগাঁওয়ে কসকোর কারখানায় গিয়ে কথা বলতে চাইলেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে কর্তৃপক্ষের অনীহা দেখা গেছে। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের কেউ কোম্পানি সম্পর্কে কথা বলতে ইচ্ছুক নয়।’

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো
কসকো সাবানের বিজ্ঞাপনে তারিন

তিনি জানান, কমান্ডার সোপ কোম্পানি লিমিটেডের একটি ব্র্যান্ড ‘কসকো’। দেশভাগের পরের বছর ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই কোম্পানি।

ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকায় রয়েছে কোম্পানির কারখানা। এটি কসকোর দ্বিতীয় কারখানা। কমান্ডার সোপ কোম্পানি লিমিটেডের প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন শিল্পপতি ফজলুর রহমান খান। ১৯৮৫ সালে এমডির দায়িত্ব নেন তার ছেলে মোহাম্মদ জাকারিয়া খান। তিনিই এখন কোম্পানি পরিচালনার দায়িত্বে আছেন।

আরও পড়ুন:
কীসের গল্প বলবে ‘রঙবাজার’
পদোন্নতি বিতর্ক: লিখিত ব্যাখ্যা দিল ডিএসই
প্রি ওপেনিংকে ফের কারসাজির সুযোগ ভাবল বিএসইসি
এসএমইতে বিনিয়োগ: বিএসইসির আবেদন শোনেনি চেম্বার আদালত
এক দিন পরই সূচকের ধপাস, ‘ক্রেতাশূন্য’ তিন শ কোম্পানি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
LPG 12 kg cylinder price increased by Tk 266

এলপিজি: ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৬৬ টাকা

এলপিজি: ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৬৬ টাকা দোকানে সাজিয়ে রাখা এলপিজি সিলিন্ডার। ফাইল ছবি
ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেটি জানুয়ারি মাসে ছিল ‍১ হাজার ২৩২ টাকা। এর অর্থ হলো ফেব্রুয়ারিতে এসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য ২৬৬ টাকা বেশি গুনতে হবে ভোক্তাকে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেই ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে সরকার।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানিয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেটি জানুয়ারি মাসে ছিল ‍১ হাজার ২৩২ টাকা। এর অর্থ হলো ফেব্রুয়ারিতে এসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য ২৬৬ টাকা বেশি গুনতে হবে ভোক্তাকে। প্রতি ইউনিট অটো গ্যাস এখন থেকে বিক্রি হবে ৬৯.৭১ টাকায়।

আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে প্রতি মাসেই এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি।

সংস্থাটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করেছিল।

এর আগের দুই মাসে জ্বালানিটির দাম বাড়ায় বিইআরসি।

গত বছরের ডিসেম্বরে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৯৭ টাকা ঠিক করেছিল সংস্থাটি।

এর আগে নভেম্বরে এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ২৫১ টাকা।

আরও পড়ুন:
২ মাস কমার পর এলপিজির দাম বাড়ল কেজিতে ১ টাকা
দুই মাসে এলপিজির দাম কমল ১৯৭ টাকা
আখাউড়া দিয়ে ত্রিপুরায় গেল ৩৬ টন এলপিজি
তিন মাস বাড়ার পর কমল এলপিজির দাম
‘যুদ্ধের প্রভাবে’ আবার বাড়ল এলপিজির দর

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sugar will not be available in the market if prices are not increased Commerce Minister

দাম বাড়ানো না হলে বাজারে চিনি পাওয়া যাবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

দাম বাড়ানো না হলে বাজারে চিনি পাওয়া যাবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ফাইল ছবি
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব হিসাব-নিকাশ করে চিনির দাম যতটুকু বাড়ানো দরকার ততটুকু বাড়ানো হয়েছে।’

দাম বাড়ানো না হলে বাজারে চিনি পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

রাজধানীর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) এক অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।

টিপু মুনশি বলেন, ‘দাম তখনই বাড়ানো হয় যখন প্রয়োজন হয়। আমাদের ট্যারিফ অ্যান্ড ট্রেড কমিশন আছে তারা এগুলো হিসাব করে করে। যদি এটা বাড়ানো না হতো তাহলে ফলাফল হবে কি ? বাজারে চিনি পাওয়াই যাবে না। সে সব বিবেচনা করে তারা দাম বাড়িয়েছে।’

বাংলাদেশের চিনির কলগুলো উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ায় দামে প্রভাব পড়েছে কি না প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,‘ আমাদের ২০ লাখ টন চিনি দরকার। সেখানে দেশে ৫০ হাজার টনও উৎপাদ হয় না। এটা আসলে কোনো প্রভাব বিস্তার করে না। আমাদের নির্ভর করতে হয় আমদানির ওপরে। গ্লোবাল মার্কেটে চিনির দাম বেড়েছে । যার জন্য সমস্যাটা হয়েছে। পাশাপাশ আমরা চেষ্টা করছি যাতে শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হয়।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ,‘বিদ্যুতের দাম যৌক্তিক করা যায় কি না সেটা নিয়ে কাজ চলছে। ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন। দাম বাড়ালেও তারা সাপ্লাই চায়। দাম যেটা বাড়ানো হয়েছে সেটা তাদের জন্য একটু বেশি হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে তারা কথা বলেবেন বলে তারা আমাদের জানিয়েছেন। আমরাও আমাদের রিপোর্ট তৈরি করছি। আমরা দেখি কমানো যায় কি না। ’

বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করে চিনির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায় পণ্যটির পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারা প্যাকেটজাত চিনি প্রতি কেজির দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১১২ টাকা এবং খোলা চিনি প্রতি কেজির দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে ১০৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন এই দাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

দাম বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেন সংগঠনের নেতারা।

সর্বশেষ গত বছরের ১৭ নভেম্বর প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনির দাম ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১০৮ টাকা করা হয়। আগে দাম ছিল ৯৫ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলোতে ৩০ হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদিত হয়। বাকি চিনি আমদানি করতে হয়।

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The price of sugar is increasing

ফের দাম বাড়ছে চিনির

ফের দাম বাড়ছে চিনির দোকানে বস্তাবন্দি খোলা চিনি। ফাইল ছবি
দাম বাড়ানোর ফলে ৪ টাকা বেশি দিয়ে প্যাকেটজাত এক কেজি চিনি ১১২ টাকায় কিনতে হবে ভোক্তাকে। এর আগে এ চিনির কেজি ছিল ১০৮ টাকা।

নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দামের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে চিনির মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

চিনি পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের সংগঠনটি বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, নতুন এ দাম কার্যকর হবে পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে।

এর আগে দাম বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে সংগঠনটির নেতারা।

দাম বাড়ানোর ফলে ৪ টাকা বেশি দিয়ে প্যাকেটজাত এক কেজি চিনি ১১২ টাকায় কিনতে হবে ভোক্তাকে। এর আগে এ চিনির কেজি ছিল ১০৮ টাকা।

ভাষার মাসের প্রথম দিন থেকে পরিশোধিত খোলা চিনির কেজিপ্রতি দাম পড়বে ১০৭ টাকা, আগে যা ছিল ১০২ টাকা।

সবশেষ গত বছরের ১৭ নভেম্বর কেজিতে প্যাকেটজাত চিনির দাম ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আগে এর কেজি ছিল ৯৫ টাকা।

বেশ কিছুদিন ধরেই বাজারে চিনির সংকট দেখা যাচ্ছিল। এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহের শেষ দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটির দরবৃদ্ধির খবর এলো।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে চিনির চাহিদা ১৮ থেকে ২০ লাখ টন।

দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মিলগুলোতে চিনির উৎপাদন ৩০ হাজার টন। চাহিদার বাকিটা আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকে।

আরও পড়ুন:
তেল, চিনি সংকটের সুরাহা কবে
টিসিবির জন্য সাড়ে ১২ হাজার টন চিনি কিনছে সরকার
এবার বাড়ল দেশি চিনির দাম, কেজিতে ১৪ টাকা
গ্যাসের অভাবে চিনির উৎপাদন ব্যাহত: বাণিজ্যমন্ত্রী
চিনি-সংকটের নেপথ্যে গ্যাস-সংকট?

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
DCs instructed to take action if prices of daily commodities increase during fasting

রোজায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবস্থা নিতে ডিসিদের নির্দেশ

রোজায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবস্থা নিতে ডিসিদের নির্দেশ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বুধবার ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ অধিবেশনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা
অধিবেশন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অধিবেশনে ডিসিদের বলেছি, আপনারা সরকারের হাত। রমজান মাস সামনে। খেয়াল রাখবেন কেউ যাতে সুযোগ না নেয়। শক্ত ব্যবস্থা নেবেন।’

রোজায় নিত্যপ্র‌য়োজনীয় প‌ণ্যের দাম বাড়া‌নোর বিরু‌দ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নি‌তে জেলা প্রশাসক‌দের (ডিসি) নি‌র্দেশ দি‌য়ে‌ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বুধবার ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ অধিবেশনে তিনি মাঠ প্রশাস‌নের শীর্ষ কর্মকর্তা‌দের এ নি‌র্দেশ দেন।

অধিবেশন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অধিবেশনে ডিসিদের বলেছি, আপনারা সরকারের হাত। রমজান মাস সামনে। খেয়াল রাখবেন কেউ যাতে সুযোগ না নেয়। শক্ত ব্যবস্থা নেবেন। একই সঙ্গে বলেছি ভোক্তাদেরও অধিকার সচেতন করতে হবে।’

নিত্যপণ্যের বাজার তদার‌কি নিয়ে এক প্র‌শ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী ব‌লেন, ‘রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে ডিসিরা সতর্ক থাকবেন। সরকারের সব পদক্ষেপ তাদের বাস্তবায়ন করতে হয়।

‘বাণিজ্য প্রসারে ডিসিদের সহযোগিতার দরকার রয়েছে। মানুষ কোরবানির সময় পশুর চামড়ার দাম পায় না। সে সময়ও ডি‌সিরা সতর্ক থাকবেন, ব্যবস্থা নেবেন, যাতে চামড়ার দাম নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলা না হয়।’

আরও পড়ুন:
চিনির দাম বেশি রাখলে জেলে যেতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
‘নারীদের সঙ্গে না নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়’
বাণিজ্য সুবিধা বহাল রাখতে ইতালির সমর্থন প্রত্যাশা
নারীদের ঋণ দিলে ৯৯ শতাংশই ফিরে আসবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
রপ্তানি বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
On holidays the prices of everyday products are higher

ছুটির দিনে দাম বাড়তি নিত্যপণ্যের

ছুটির দিনে দাম বাড়তি নিত্যপণ্যের রাজধানীতে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি, মাছসহ অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
দাম বাড়ায় বরাবরের মতোই ক্রেতাদের অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচমালের দরবৃদ্ধি ও দরপতন অনিশ্চিত বিষয়। সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে আসে, সরবরাহ কমলে বেড়ে যায়। তাই খুব বেশি কারণ দর্শানোর নেই।

রাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম, যাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

এক সপ্তাহ আগের তুলনায় শুক্রবার কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত।

চালের দাম আগের সপ্তাহে কিছুটা কমলেও এ সপ্তাহে ফের কেজিতে কয়েক টাকা বেড়েছে। এ ছাড়াও বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি, মাছ ও খাসির মাংসের দাম।

দাম বাড়ায় বরাবরের মতোই ক্রেতাদের অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচমালের দরবৃদ্ধি ও দরপতন অনিশ্চিত বিষয়। সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে আসে, সরবরাহ কমলে বেড়ে যায়। তাই খুব বেশি কারণ দর্শানোর নেই।

বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে যাওয়ায় চাহিদার সঙ্গে মাংসের দাম বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ একাধিক বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

সবজি

কারওয়ান বাজারে গত সপ্তাহে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে মরিচের কেজি বিক্রি হয়েছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। সেখান থেকে আজ আরও ২০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় মরিচ।

আগের সপ্তাহের মতোই প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তার আগে এসবের দাম প্রায় অর্ধেকে ছিল।
৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হয় লাউ।

বিক্রেতারা একেকটি লাউয়ের দাম হাঁকছেন ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত। দরদাম শেষে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় উঠছে ক্রেতার থলেতে।

করলার কেজিতে আরও ২০ টাকা বেড়েছে। আগের সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছিল ৮০ টাকায়। সেটি আজ বিকিকিনি হয়েছে ১০০ টাকায়, তবে ছোট করলার কেজি ছিল ৬০ টাকা।

চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও ঝিঙের কেজি ছিল ৬০ টাকা। বরবটির কেজি ৮০ টাকা ছুঁয়েছে। এ ছাড়া আগের সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা বেড়ে শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মুলা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা এবং গাজর ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

ক্রেতা মেহেদী হাসান ইফরান বলেন, ‘সবজিতে ভরপুর বাজার, কিন্তু দাম কিন্তু কম না। অন্য সময়ের তুলনায় বেশি বলা যায় না, কিন্তু শীতের মধ্যে এত আমদানি থাকার পরে যে দাম, সেটা বেশিই বলতে হবে।’

বিক্রেতা জামাল বলেন, ‘কাঁচামালের দামের ঠিক নাই। এক দিনের ব্যবধানে দাম ওঠে, নামে।’

পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকার মতো কমে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। আর এক মাসেরও কম সময়ে কেজিতে ১০০ টাকার মতো বেড়ে চীনা আদা ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

রসুন ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়, তবে দেশি আদা ও রসুন ১৫০ ও ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় বলে জানান বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম।

চাল

দেশে আমনের উৎপাদন ও ভারতীয় চাল আমদানির পরে গত সপ্তাহে দাম কমেছিল পণ্যটির। সপ্তাহের ব্যবধানে ফের চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কেজিতে কয়েক টাকা বেড়ে মিনিকেট ধরনভেদে ৬৮ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকা পর্যন্ত। আটাশ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। গুটি স্বর্ণা ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫২ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আহসান এন্টারপ্রাইজের আসাদ বলেন, ‘মৌসুমেও চালের দাম বাড়ার কারণ সিন্ডিকেট। পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। স্বর্ণা চালের প্রতি বস্তাতে ১০০ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে।

‘ধানের দাম মণে ১৫০ টাকা বেড়েছে। সামনে আরও কিছু বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

মাছ-মাংস

খাশির মাংস প্রতি কেজি ১ হাজার ১০০ টাকা, ছাগলের মাংস ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহেও ৫০ টাকা কম ছিল।

গরুর মাংসের কেজি আগের মতোই ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কিন্তু আগে অনেকের কাছেই ১০ থেকে ২০ টাকা কম নিতেন বিক্রেতারা। সেটা এখন আর পারছেন না বলে জানান তারা।

বিক্রেতা সেলিম বলেন, ‘আগে কিছু ছাড় দিয়ে মাংস বিক্রি করার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে নিতে পারছি না। এখন বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠানের জন্য মাংসের চাহিদা বেশি, যার কারণে বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

এদিকে ব্রয়লারের কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বিক্রেতা সোহাগ জানান, প্রতি কেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এ ছাড়া ১০ টাকা বেড়ে সোনালি ২৬০ টাকা, লাল লেয়ার ও সাদা কক ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

তীব্র শীতের মধ্যে ইলিশের চাহিদা কমায় দামও হ্রাস পেয়েছিল। শীত কমে আসার সঙ্গে সুস্বাদু মাছটির চাহিদা বাড়তে শুরু করে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০০ টাকা বেড়েছে ইলিশের দাম।

এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় এক হাজার ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।

আল্লার দান ফিশের স্বত্বাধিকারী শুক্কুর আলী বলেন, ‘শীত কমতে থাকায় চাহিদা বাড়ছে। বড় ইলিশ, যেগুলো এক কেজি ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজন, সেগুলোর দাম ১০০ টাকা বেড়েছে।’

এ ছাড়াও ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বিভিন্ন মাছের দাম। রকমভেদে প্রতি কেজি কাতলা মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, রুই ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, শিং ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, পাঙাশ ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, কৈ ২৬০ টাকা ও বোয়াল ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

আরও পড়ুন:
দাম কমছে ইলিশের
দামে কারসাজি: ইউনিলিভার, সিটি, প্যারাগন, কাজীর বিরুদ্ধে মামলা
৩০০ টাকা থেকে মরিচ এখন ৪০
ঝাঁজ কমল কাঁচা মরিচের, কমল সবজির দামও
কমেছে সবজির দাম, বেড়েছে মাংসের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Vegetable prices are still falling more than rice

শীত বাজারেও সবজির দাম চড়া, কমছে চালের

শীত বাজারেও সবজির দাম চড়া, কমছে চালের রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজি ও চালের দোকান। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
ভারত থেকে আমদানি হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম কমেছে চালের। অন্যদিকে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম বেড়ে দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।

শীতে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও রাজধানীর বাজারগুলোতে বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি। ক্রেতা তো বটেই, বিক্রেতারাও শোনালেন চড়া দামের কথা।

এদিকে ভারত থেকে আমদানি হওয়ায় খুচরা বাজারে দাম কমেছে চালের। অন্যদিকে ডিমের পাইকারি দর বেড়েছে। বিপরীতে মাছ, মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ একাধিক বাজারে শুক্রবার ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

আলোচিত এ বাজারে মরিচের কেজি বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। দুই থেকে তিন দিনের ব্যবধানে দাম বাড়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি এখনও ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ১৫ দিন আগেও এগুলোর দাম প্রায় অর্ধেক ছিল।

একটি লাউ বিক্রি হয় ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।

করলার কেজি ফের ৮০ টাকায় পৌঁছেছে। ১০ থেকে ১২ আগেও এটি বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মুলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা ও গাজর ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

কলাবাগান থেকে কারওয়ান বাজারে আসা গৃহিণী হ্যাপি আকতার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কিছু সবজির দাম তো অনেক বেশি। আবার কয়েকটির কমেছেও।’

বিক্রেতা বিল্লাল হোসেন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘সব জিনিসেরই দাম বেশি। টমেটো এখন থাকার কথা ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি, কিন্তু বিক্রি হচ্ছে তো ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা।’

পেঁয়াজের কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এক দিনের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে চীনা আদা ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয় রসুন।

এসবের বাইরে দেশি আদা ও রসুন ১৫০ ও ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় বলে জানান বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম।

কমছে চালের দাম

ভারতীয় চাল আমদানির প্রভাবে খুচরা বাজারে চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। প্রতি কেজি গুটিস্বর্ণা বিক্রি হয় ৫০ টাকায়, যা আগে ছিল ৫৫ টাকা।

৫ টাকা কম দরে মিনিকেট ৭০ টাকা, আটাশ ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া নাজিরশাইল ৫ থেকে ১০ টাকা কমে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।

আহসান এন্টারপ্রাইজের আসাদ বলেন, ‘ভারতীয় চাল আমদানি হওয়ায় পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সব চালের দাম কমেছে, শুধু পোলাও চালের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

‘ভালো পোলাও চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেটা কিছু দিন আগেও ১০০ টাকা ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘চালের দাম এখন কম থাকবে। ইন্ডিয়া থেকে চাল আসতে থাকলে বাংলাদেশে দাম বাড়ে না। চৈত্র মাসের দিকে গিয়ে আবার দাম বাড়বে।’

ডিমের পাইকারি দরবৃদ্ধি

১০০ ডিমের দাম দেড় শ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, তবে খুচরা বাজারে ফার্মের মুরগির প্রতি হালি ডিম ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, হাঁসের ৭০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ৬০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে দাম বাড়ছে ডিমের। প্রতি দিনই ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আগে ১০০টি ডিমের দাম ছিল ৮১০ থেকে ৮২০ টাকা।

‘এখন সেটা ৯৬০ টাকায় ঠেকেছে। এভাবে আমাদের ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে, তবে আমরা খুচরা বাজারে আগের দরেই বিক্রি করছি।’

স্থিতিশীল মাছ-মাংসের বাজার

ব্রয়লার ছাড়া সব ধরনের মুরগি ও মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বিক্রেতা নাসির ও সোহেল জানান, কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। এ ছাড়া অপরিবর্তিত থেকে সোনালি ২৫০ টাকা, লাল লেয়ার ও সাদা কক ২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হয় ৭০০ টাকায়। আর মহিষের মাংসের কেজি ৮০০ টাকা বলে জানান বিক্রেতা খোকন।

অন্যদিকে খাশির মাংস এক হাজার ৫০ থেকে এক হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। ছাগলের মাংস বিক্রি হয় ৯০০ টাকা কেজি।

বিক্রেতা সেলিম বলেন, প্রায় মাস দুয়েক যাবত এই দামেই বিক্রি হচ্ছে। এখন খাসি ও বকরির দাম অনেক বেশি। কারণ শীতকালে বিয়ে, পিকনিক ও অনুষ্ঠান বেশি হচ্ছে। আর এই সময়ে মানুষ বিরিয়ানি ও মাংস একটু বেশিই খায়।

মাছের দামও স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। শীতে কমেছে ইলিশ মাছের চাহিদা। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয় এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায়। এক কেজির কম ইলিশ বিক্রি হয় হাজার টাকার নিচে।

বিক্রেতা শিবচরণ দাস বলেন, ‘শীতকালে ইলিশের সেই স্বাদ থাকে না, যার কারণে চাহিদা কমে যায়। শীতের শুরু থেকেই ইলিশের দাম কেজিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কম।’

প্রায় সব ধরনের মাছের দামেই অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে রকমভেদে রুই ২৫০ থেকে ৩৫০, কাতলা ৩০০ থেকে ৩৫০, মৃগেল ২০০ থেকে ৩০০, শোল ৭০০ থেকে ৮০০, শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

আরও পড়ুন:
দামে কারসাজি: ইউনিলিভার, সিটি, প্যারাগন, কাজীর বিরুদ্ধে মামলা
৩০০ টাকা থেকে মরিচ এখন ৪০
ঝাঁজ কমল কাঁচা মরিচের, কমল সবজির দামও
কমেছে সবজির দাম, বেড়েছে মাংসের
ঈদের ছুটিতে কাঁচা মরিচের ডাবল সেঞ্চুরি, শসার সেঞ্চুরি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Garment exports to India surprise US slowdown

ভারতে পোশাক রপ্তানিতে চমক, যুক্তরাষ্ট্রে ধীরগতি

ভারতে পোশাক রপ্তানিতে চমক, যুক্তরাষ্ট্রে ধীরগতি
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের পর থেকেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতেও বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশ ভারতে পোশাক রপ্তানির এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।

ভারতে পোশাক রপ্তানিতে চমক দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৫৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এ ছয় মাসে ৩৬ কোটি ৫৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। অন্যদিকে একক দেশ হিসেবে পোশাক রপ্তানি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা আসা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই ছয় মাসে বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের পর থেকেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক রপ্তানিতে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতেও বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশ ভারতে পোশাক রপ্তানির এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।

তারা বলছেন, এমনিতেই ভারতে রপ্তানি বাড়ছিল। অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের মাইলফলক ছুঁয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন মাত্রা পেয়েছে। তার ফলেই রপ্তানি বাড়ছে।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ভারতে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিলেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। আগস্টে তা বেড়ে ২২ কোটি ২৪ লাখ ডলারে ওঠে। সেপ্টেম্বরে তা আরও বেড়ে ২৪ কোটি ডলারে ওঠে। অক্টোবরে রপ্তানি হয়েছে ১৭ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য।

নভেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে ১৭ কোটি ৭৫ লাখ ডলার আয় হয়েছে। সবশেষ ডিসেম্বরে ১৭ কোটি ১৭ লাখ ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে ভারতে পণ্য রপ্তানি থেকে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বৃহস্পতিবার দেশভিত্তিক পণ্য রপ্তানির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) পণ্য রপ্তানি থেকে ২৭ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার আয় করে বাংলাদেশ। এ সংখ্যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি।

এ আয়ের মধ্যে ২৩ বিলিয়ন ডলার বা ৮৪ দশমিক ২০ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ছয় মাসে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয় ১৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

পোশাক রপ্তানি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা দেয়, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ভারতে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এই ছয় মাসে ভারতে ১১৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আলোচ্য সময়ের মোট রপ্তানি আয়ের ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। আর গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি।

ভারতে সার্বিক পণ্য রপ্তানিতে ৭ শতাংশের কিছু বেশি প্রবৃদ্ধি হলেও পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫০ শতাংশ। এ ছয় মাসে ভারতে রপ্তানি আয়ের অর্ধেকেরও বেশি ৫৫ কোটি ডলার এসেছে তৈরি পোশাক থেকে। এর মধ্যে নিট পোশাক থেকে আসে ২৫ কোটি ৩১ লাখ ডলার; বেড়েছে ৫৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আর ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আসে ২৯ কোটি ৫৭ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি হয় ৪৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আসে ১১ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে এসেছিল ১০ কোটি ৩৩ লাখ ডলার; বেড়েছে ১২ শতাংশ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আসে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৩৩ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪ কোটি ২৩ লাখ ডলার।

কটন ও কটন প্রোডাক্টস থেকে এসেছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল এর চেয়ে একটু বেশি ২ কোটি ১২ লাখ ডলার। প্লাস্টিক পণ্য থেকে এসেছে ৩ কোটি ২২ লাখ ৬০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এসেছিল ৮৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, একক দেশ হিসেবে পোশাক রপ্তানি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা আসে যে দেশ থেকে, সেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ৪২৭ কোটি ৮৫ লাখ (৪ দশমিক ২৮ বিলিয়ন) ডলার আসে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ১১ শতাংশ।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে জার্মানিতে পোশাক রপ্তানি ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে ৷ স্পেন ও ফ্রান্সে রপ্তানি যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ৩৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার এবং ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।

অন্যদিকে এ ছয় মাসে পোল্যান্ডে রপ্তানি ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে। যুক্তরাজ্য এবং কানাডায় রপ্তানি যথাক্রমে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ২৮ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন এবং ৭৭ কোটি ৬১ লাখ ডলারে পৌঁছায়।

প্রচলিত বাজারগুলো ছাড়াও অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের মধ্যে ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৪ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপানে রপ্তানি ৪২ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৭৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলার হয়।

পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ কথা ঠিক যে, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। এই দুই মাসে যে আয় এসেছে, সেগুলো কিন্তু আগের অর্ডারের। এখন কিন্তু অর্ডার অনেক কমে গেছে। আগামী দিনগুলোতেও অর্ডার বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

তিনি বলেন, ‘ইপিবির তথ্যে দেখা যাচ্ছে, প্রধান দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও আগের মাসগুলোর তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে আগামী দিনগুলোতে প্রবৃদ্ধি আরও হ্রাস পেতে পারে। এমনকি কোনো কোনো বাজারে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধিও দেখা দিতে পারে, তবে আশার কথা হচ্ছে, পাশের দেশ ভারতে আমাদের পোশাক রপ্তানিতে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।

‘এটা যদি আমরা ধরে রাখতে পারি, তাহলে পোশাক শিল্পের জন্য খুবই ভালো হবে।’

গত দুই অর্থবছরে সব দেশেই বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে, তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভারতে।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারের মাইলফলক ছুঁয়েছে, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছিল প্রায় ৭২ কোটি ডলার (ওভেন ৪০ কোটি ও নিট ৩১ কোটি ৫৬ লাখ ডলার)।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে মাত্র তিনটি অর্থবছরে ভারতে পণ্য রপ্তানি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বেশি হয়েছে, তা-ও সেটা গত তিন বছরে। তার আগের বছরগুলোয় ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে।

২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ভারতে ১২৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেন, যা ছিল এ যাবতকালের সর্বোচ্চ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে এ আয় বেশি ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতের বাজারে ১২৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে ১০৯ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলারে নেমে আসে।

২০১১ সালে বাংলাদেশকে অস্ত্র ও মাদক বাদে সব পণ্যে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা দেয় ভারত। যদিও সেই সুবিধা খুব বেশি কাজে লাগাতে পারছিলেন না বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। ২০১১ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের বেশ কিছু কারখানার কাছ থেকে পোশাক নিয়ে টাকা দেয়নি ভারতীয় কোম্পানি লিলিপুট। সে জন্য বেশ কয়েক বছর পোশাক রপ্তানিতে ভাটা পড়ে, কিন্তু গত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন শহরে পোশাকের নামী বিদেশি অনেক ব্র্যান্ড বিক্রয়কেন্দ্র খোলায় তাতে পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমনিতেই ভারতে আমাদের রপ্তানি বাড়ছিল। গত সেপ্টেম্বরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের মধ্য দিয়ে তা আরও বাড়ছে। ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।

‘এটা আমাদের জন্য খুবই খুশির খবর। আশা করছি চলতি অর্থবছরে দেশটিতে আমাদের রপ্তানি তিন বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছাবে।’

গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশই কাছাকাছি উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহের দিকে মনোযোগ বাড়িয়েছে। আবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবকাঠামোগত যোগাযোগের উন্নতিও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব। এর জন্য রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত মান পরিপালনের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে, তবে ভারতের বাজারে অনেক সময় অযৌক্তিকভাবে অশুল্ক বাধা আরোপ করা হয়।

‘এই বাধা দূর করার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং রপ্তানিকারকদের নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়াতে হবে।’

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এ গবেষক আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ বর্তমানে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষর নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

‘বাংলাদেশ যথাযথ নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে এ চুক্তি করলে ভারতে রপ্তানি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে এ দেশে ভারতের বিনিয়োগ বাড়বে। ভারতের বিনিয়োগকারীদের উৎপাদিত পণ্য তাদের দেশে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানি হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রত্যাশার চেয়েও রপ্তানি আয় বেশি আসছে: ফারুক
কঠিন সময়ে রপ্তানির চমক, রেকর্ড গড়ল ডিসেম্বর
পদ্মাপারের সবজি যাচ্ছে ইউরোপে
রপ্তানি শিল্পের কাঁচামাল: ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল
৫ মাসেই ভারতে রপ্তানি বিলিয়ন ডলার

মন্তব্য

p
উপরে