× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
That cute cold cream on a cold day
hear-news
player
google_news print-icon
পুরোনো দিনের মায়াবী পণ্য

হিম হিম ঠান্ডা দিনের সেই কিউট কোল্ড ক্রিম

হিম-হিম-ঠান্ডা-দিনের-সেই-কিউট-কোল্ড-ক্রিম
নিম্নবিত্তের কাছে এখনও বিপুল জনপ্রিয় কিউট কোল্ড ক্রিম। ছবি: নিউজবাংলা
মুক্তবাজার অর্থনীতির দাপটে ধীরে ধীরে বাজার দখলে নিয়েছে বিদেশি প্রসাধন সামগ্রী। দেশের নামি ব্র্যান্ডের অনেক পণ্যই এখন উধাও, কিছু ব্র্যান্ড টিকে আছে কোনোমতে। তবে বিশাল এই ধাক্কার মধ্যেও বেশ ভালোভাবে ব্যবসা ধরে রেখেছে কিউটের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান।

‘হিম হিম ঠান্ডা এমন দিনে চাই কিউট কোল্ড ক্রিম...’। ১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে এই বিজ্ঞাপনে মন আন্দোলিত হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। শীতের রুক্ষতা থেকে ত্বকের সুরক্ষায় কিউট কোল্ড ক্রিম সে সময় ছিল দারুণ জনপ্রিয়।

শহরের পাশাপাশি গ্রামেও প্রায় একচেটিয়া বাজার ছিল দেশীয় এই পণ্যের। শুধু কোল্ড ক্রিম নয়, গরমে কিউটের ট্যালকম পাউডারের চাহিদাও ছিল তুঙ্গে।

তবে মুক্তবাজার অর্থনীতির দাপটে ধীরে ধীরে বাজার দখলে নিয়েছে বিদেশি প্রসাধনসামগ্রী। দেশের নামি ব্র্যান্ডের অনেক পণ্যই এখন উধাও, কিছু ব্র্যান্ড টিকে আছে কোনোমতে। তবে বিশাল এই ধাক্কার মধ্যেও বেশ ভালোভাবে ব্যবসা ধরে রেখেছে কিউটের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান।

হিম হিম ঠান্ডা দিনের সেই কিউট কোল্ড ক্রিম
৯০ এর দশকে কিউট ব্র্যান্ডের ট্যালকম পাউডারের একটি বিজ্ঞাপন

অবশ্য ভোক্তার ধরনে এসেছে বড় পরিবর্তন। কিউটের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ বলছে, আগে প্রায় সব ধরনের ভোক্তা কিউটের বিভিন্ন পণ্য ব্যবহার করলেও এখন নিম্নবিত্তের ভোক্তার সংখ্যাই বেশি। শিল্প ও পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের পছন্দের শীর্ষে আছে কিউট।

ভোক্তা বাড়লেও প্রসাধনীর বাজারে কমেছে অংশীদারত্ব

বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিটিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার প্রসাধন পণ্য বিক্রি হয়, এর বেশির ভাগের দখল বিদেশি কোম্পানির কাছে। বিদেশি কোম্পানির নামে নকল পণ্যও বিক্রি হচ্ছে প্রচুর।

প্রতিকূল এই পরিস্থিতিতেও আগের চেয়েও বড় হয়েছে কিউটের পণ্যের বাজার। তবে, প্রসাধনীর বাজারে মোট চাহিদার সঙ্গে তুলনা করলে কমেছে কিউটের অংশীদারত্ব বা মার্কেট শেয়ার।

মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ উৎপাদিত কিউটের মোট ১৩৬টি পণ্য রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত ৭০ থেকে ৮০টি পণ্য বাজারজাত করা হয়। পণ্যের কাঁচামাল প্রধানত ইউরোপ থেকে আনা হয়। নতুন কিছু পণ্যের কাঁচামাল আসে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ঢাকার বংশালে, আর কারখানা রয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কিউটপল্লিতে। প্রধান কার্যালয় ও কারখানায় সব মিলিয়ে সাড়ে তিন হাজার কর্মী কাজ করছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শীত মৌসুমে কিউট ব্র্যান্ডের ১৩ থেকে ১৫টি পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছে। এর মধ্যে আছে রিফাইন পেট্রোলিয়াম জেলি, ভেসলিন, কোল্ড ক্রিম, ক্র্যাক ক্রিম, পমেড, লিপ জেল ও বিভিন্ন ফ্লেভারের লোশন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় কোল্ড ক্রিম।

মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজের সহকারী নির্বাহী পরিচালক (উৎপাদন প্রধান) কাজী সাদ ইবনে মইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৯৯০-এর দশকে কোল্ড ক্রিম বাজারে আসার পর এখনও এ ক্রিমের দাপট কমেনি। একসময় বাংলাদেশে একচেটিয়া ব্যবসা করেছে কিউট।’

হিম হিম ঠান্ডা দিনের সেই কিউট কোল্ড ক্রিম
একসময় শীর্ষ অভিনেতাদের দিয়ে কিউটের বিজ্ঞাপন করা হতো

তিনি বলেন, ‘তখন দেশের মানুষ দেশীয় পণ্য ব্যবহারে লজ্জাবোধ করত না। আর এখনকার ট্রেন্ড হচ্ছে, দেশীয় পণ্য যতই ভালো হোক বাইরের পণ্য ব্যবহার করা। মানসিকতা পরিবর্তনের কারণে এমন অবস্থা হয়েছে। বর্তমান শহুরে প্রজন্ম এসব পণ্য ব্যবহার করবে না। এ জন্য এদের টার্গেট কাস্টমার বানানোর চেষ্টা বৃথা।’

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাজার চাহিদা বিবেচনায় কিউট ব্র্যান্ডে নতুন পণ্য যোগ হয়েছে। ১৯৯৫ সালে প্রথম লোশন বাজারে আনা হয়। এরপর বেবি লোশনসহ আরও কিছু পণ্য এসেছে।

১৯৯২-৯৩ সালের দিকে মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিপস্টিক উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু করে। তবে দুই থেকে তিন বছর পর এই পণ্যের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়। বাজারে অসম প্রতিযোগিতাই এর কারণ বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ।

১৯৯৯ সালে পারফিউম বাজারে আনে মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রথমে দুটি পণ্য বাজারজাত করার পর এখন তা বেড়ে আটটিতে পৌঁছেছে। এই কোম্পানির আতরও রয়েছে বাজারে।

হিম হিম ঠান্ডা দিনের সেই কিউট কোল্ড ক্রিম
সুগন্ধি সামগ্রীরও বিভিন্ন পণ্য রয়েছে কিউটের

দেশে বিপুল জনগোষ্ঠী যখন দাঁত মাজতে পাউডারে অভ্যস্ত ছিল, তখন টুথপেস্ট উৎপাদন শুরু করে করে মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ। এ জন্য করা হয় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। টুথপেস্টের উপাদান ও মেশিনারিজ আনা হয় ইংল্যান্ড থেকে। এখনও বাজারে আছে এই কোম্পানির টুথপেস্ট।

প্রধান ভোক্তা নিম্ন আয়ের মানুষ

নিম্নবিত্তের মানুষের মধ্যে কিউটের পণ্য এখনও বেশ এখনও বেশ জনপ্রিয়। কোম্পানির কর্তৃপক্ষ বলছে, গ্রাম এবং মফস্বলে বসবাসরতদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় রেখে তারা পণ্য উৎপাদন করছে।

কোম্পানির সহকারী নির্বাহী পরিচালক (উৎপাদন প্রধান) কাজী সাদ ইবনে মইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সব সময় গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পণ্যের দাম রাখার দিকটি বিবেচনা করে থাকি। দেশের মধ্যে অঞ্চলভিত্তিক বিভাজন করা হয়। এরপর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা হয়, কোন এলাকার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কতটুকু। তারা পণ্যের পেছনে কতটুকু খরচ করতে পারবেন সেটাও আমরা পর্যালোচনা করি।’

হিম হিম ঠান্ডা দিনের সেই কিউট কোল্ড ক্রিম
এমন নানা পণ্য গ্রামীন জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখে তৈরি করছে কিউটের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের লাক্সারি বা বিলাসদ্রব্যও আছে। তবে কোম্পানির অধিকাংশ গ্রাহক নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির, যাদের মাসিক আয় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। বিভিন্ন শিল্পকারখানা, গামের্ন্টসে কর্মরত শ্রমিকই আমাদের পণ্যের মূল ক্রেতা। তাদের আয়ের বিষয়টি মাথায় রেখেই পণ্য বাজারজাত হয়।’

কর্তৃপক্ষের দাবি, প্যাকেজিং, কাঁচামাল, মার্কেটিং সবকিছু মিলিয়ে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা হয়। যে পণ্য ৫০ টাকায় বিক্রি হবে সেটার কাঁচামাল ও প্যাকেজিং ব্যয় হয় ৩০ বা ৩২ টাকা। দোকান ও পরিবেশক কমিশন আরও ১০ বা ১২ টাকা। এরপর লাভ থাকে ৩ বা ৪ টাকা।

কীভাবে এলো কিউট

মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কোম্পানির একটি ব্র্যান্ড ‘কিউট’। ১৯৭২ সালে এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর দুটি ব্র্যান্ডের অধীনে প্রসাধনসামগ্রী উৎপাদন শুরু হয়, যার একটি কিউট, অন্যটি লাবনি।

মূলত চার ভাই মিলে তৈরি করেন এই প্রতিষ্ঠান। চেয়ারম্যান ছিলেন প্রয়াত কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন প্রয়াত কাজী আশরাফ উদ্দিন আহমেদ। আর পরিচালক ছিলেন কাজী মঈন উদ্দিন আহমেদ ও কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ।

বর্তমানে কাজী মঈন উদ্দিন আহমেদ কোম্পানির এমডি ও কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। এ ছাড়া আরও দুইজন পরিচালক আছেন কোম্পানিতে।

১৯৮৪ সালে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে ৬২ একর জায়গার ওপর নির্মাণ হয় কিউটপল্লি।

প্রসাধনী বাজারজাত করার পরপরই কিউট ব্র্যান্ডটি সারা দেশে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে গঠিত হয় ১৯৮২ সালে।

১৯৯০ সালে ওমানে পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে রপ্তানির খাতায় নাম লেখায় মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ। এই প্রতিষ্ঠানের পণ্য এখন ওমান, সৌদি আরব, কেনিয়া, সুদান, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল ও পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

নিভৃত মার্কেটিং

এক সময় কিউটের পণ্যের প্রচারে টেলিভিশনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক বিজ্ঞাপন দেয়া হলেও এখন তা প্রায় বন্ধ। অনেকটা নিভৃতে চলছে এই ব্র্যান্ডের পণ্যের বিপণন।

কোম্পানির সহকারী নির্বাহী পরিচালক (উৎপাদন প্রধান) কাজী সাদ ইবনে মইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পণ্য বাজারজাত করতে আমবা বিজ্ঞাপনের পেছনে এখন অর্থ ব্যয় করি না। কোনো পণ্যের মার্কেটিং বাজেট যদি হয় ৫০ লাখ টাকা, সে টাকা তো বিভিন্নভাবে পণ্যের ব্যয়ের মধ্যে ভাগ করতে হবে। এ খরচ সমন্বয় করতে গেলে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এ জন্য মার্কেটিং বাবদ তেমন ব্যয় করে না আমাদের কোম্পানি।’

হিম হিম ঠান্ডা দিনের সেই কিউট কোল্ড ক্রিম
বাণিজ্য মেলায় কিউট ব্র্যান্ডের একটি স্টল

তিনি দাবি করেন, ‘মার্কেটিং বাবদ যে ব্যয় হতো সেটি আমরা পণ্যের গুণগত মান ঠিক রাখার কাজে ব্যবহার করি। বিজ্ঞাপনের পেছনে টাকা ব্যয় না করে মান ঠিক রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

আরও পড়ুন:
৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েও ‘পোষাচ্ছে না’ তাদের
কোটি টাকার ভেজাল প্রসাধনসামগ্রী জব্দ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
The price of vegetables is high even in season

মৌসুমেও দাম চড়া সবজির

মৌসুমেও দাম চড়া সবজির কারওয়ান বাজারেও অনেকটা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। ছবি: নিউজবাংলা
শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি আমদানির শুরুর দিকে প্রতি পিস বিক্রি হতো ৬০ টাকায়। এখন সেটা ৩০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে বাঁধাকপি এখনও ৫০ টাকার ওপরে। কোথাও ৫০ আবার কোথাও ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও কমছে না দাম। ফুলকপি, মুলা, বেগুন ও পেঁপে ছাড়া ৫০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি। শীতকালীন সবজির মৌসুমেও সবজির এমন দামকে চড়া বলছেন ক্রেতারা। যদিও বিক্রেতাদের দাবি, দাম কমেছে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আরও কয়েকটি বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি আমদানির শুরুর দিকে প্রতি পিস বিক্রি হতো ৬০ টাকায়। এখন সেটা ৩০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে বাঁধাকপি এখনও ৫০ টাকার ওপরে। কোথাও ৫০ টাকা পিস আবার কোথাও ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ক্রেতা নাসিমা চৌধুরী বলেন, ‘এখনও বাঁধাকপির দাম ৫০ টাকা! তাহলে দাম আর কোথায় কমল? শুধু শীতকালীন সবজি নয়, সব জিনিসের দামই বেশি।’

বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৪০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা, মরিচ ৪০ টাকা, টম্যাটো ১০০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হয়েছে।

এসব সবজির দাম গত ১৫ দিন আগেও যেমন ছিল তেমনই রয়েছে।

তবে বিক্রেতা শাওন দাবি করেন সবজির দাম কমেছে। তিনি বলেন, ‘পেঁপে, ফুলকপি- এগুলোর দাম তো কমছে, আর কত কমবে?’

মৌসুমেও দাম চড়া সবজির
অনেকটা চড়া দামেই কারওয়ান বাজার থেকে সবজি কিনছেন ক্রেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

আরেক বিক্রেতা আলী রিয়াজের দাবি সবজির দাম কমেছে। পটোল, বেগুনের মতো সবজির দাম কেন কমেনি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো শেষ হয়ে যাবে, মৌসুম শেষ, তাহলে কীভাবে দাম কমবে?’

কথা হয় ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ডাক্তার ফয়সাল ইমনের সঙ্গে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখনও সেরকমভাবে দাম কমেনি। ফুলকপি ও শিম কিছুটা কমেছে, বাকি সব সবজির দামি অনেক বেশি।’

বিক্রেতা মো. বাদশা জানান, কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এ ছাড়া আদার দাম কিছুটা কমে দেশি আদা ১০০ টাকা এবং চায়না আদা ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। দাম অপরিবর্তিত থেকে দেশি রসুন ৬০ এবং চায়না রসুন ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়।

কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা। এ ছাড়া অপরিবর্তিত থেকে ব্রয়লার ১৪৫ থেকে ১৫০, লেয়ার ২৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা ইয়াসিন।

আরও পড়ুন:
আবার বাড়ছে ডিমের দাম
কাঁচাবাজার নিয়ন্ত্রণহীন
রাত ৮টার পর মার্কেট-দোকান বন্ধের নির্দেশ
কাঁচাবাজারে পড়েনি ধর্মঘটের প্রভাব

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
80 thousand tons of fertilizer is being bought to keep the production normal

উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে কেনা হচ্ছে ৮০ হাজার টন সার

উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে কেনা হচ্ছে ৮০ হাজার টন সার ফসলের মাঠে সার ছিটাচ্ছেন কৃষক। ফাইল ছবি
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সাংবাদিকদের জানান, কানাডা ও মরক্কো থেকে সার কেনা হবে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএডিসি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে কিনবে ৫০ হাজার টন এমওপি সার। এতে ব্যয় হবে ৩৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

কৃষিপণ্য উৎপাদন ঠিক রাখতে ৮০ হাজার টন সার কিনছে সরকার, যাতে ব্যয় হবে ৫১০ কোটি টাকা।

বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত দরপ্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সাংবাদিকদের জানান, কানাডা ও মরক্কো থেকে এ সার কেনা হবে।

এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে কিনবে ৫০ হাজার টন মিউরেট অফ পটাশ (এমওপি) সার। এতে ব্যয় হবে ৩৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

মরক্কো থেকে কেনা হবে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার। সে জন্য ১৫০ কোটি ৬৭ লাখ টাকায় ব্যয়প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ ছাড়া ‌ঢাকা স্যানিটেশন ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় পূর্ত এবং পরামর্শক নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়, যাতে ব্যয় হবে ৭০০ কোটি টাকার বেশি।

সভায় ছয়টি দরপ্রস্তাব পাস হয়। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৩ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা।

সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি ও দেশীয় ব্যাংকের ঋণ হিসেবে থাকছে ১ হাজার ২২৯ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
যৌতুকের মামলায় মডেল সারিকার স্বামীকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা
আর্জেন্টিনার হারের মাঠে ব্রাজিলের জয়
পূর্ণশক্তির দল নিয়ে সার্বিয়ার মুখোমুখি ব্রাজিল
আরও ১ লাখ ৪০ হাজার টন সার কিনবে সরকার
আইয়ুব বাচ্চুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ‘বামবা-চ্যানেল আই’ কনসার্ট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
The government will buy 2 crore 2 million liters of soybeans

২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন কিনবে সরকার

২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন কিনবে সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেল। ফাইল ছবি
ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ২ কোটি ২০ লাখ লিটার তেল কিনতে ব্যয় দাঁড়াবে ২৯৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। লিটারপ্রতি তেলের দাম পড়বে ১৫৬ টাকা ৯৮ পয়সা। এর আগে এ তেল কিনতে লিটারপ্রতি সরকারের ব্যয় হয় ১৬২ টাকা ৯৪ পয়সা।

বাজারে ভোজ্যতেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমায় রাখতে টিসিবির মাধ্যমে খোলাবাজারে বিক্রির জন্য ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার।

বুধবার ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে এ প্রস্তাব। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সভার পর ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বলেন, ২ কোটি ২০ লাখ লিটার তেল কিনতে ব্যয় দাঁড়াবে ২৯৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। লিটারপ্রতি তেলের দাম পড়বে ১৫৬ টাকা ৯৮ পয়সা।

আগে এ তেল কিনতে লিটারপ্রতি সরকারের ব্যয় হয় ১৬২ টাকা ৯৪ পয়সা।

কোন প্রতিষ্ঠান থেকে তেল কেনা হবে তা জানাননি সচিব।

স্থানীয় বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য প্রায় ২০০ টাকা, তবে ভর্তুকি দামে কার্ডধারীদের মধ্যে লিটারপ্রতি ১১০ টাকায় তেল বিক্রি করছে টিসিবি।

আরও পড়ুন:
ফের বেড়ে সয়াবিন তেল ১৯০, চিনি ১০৮
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব
টিসিবির জন্য ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনবে সরকার
অজুহাতের শেষ নেই, ঘোষণার পরও কমছে না দাম
১ কোটি ৬৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনছে সরকার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
That inexhaustible Casco is decaying
পুরোনো দিনের মায়াবী পণ্য

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো নব্বইয়ের দশকে বাজারে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছে কসকো সাবান। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাসাবাড়িতে কমেছে কসকোর ব্যবহার। তবে হোটেল-রেস্তোরাঁয় হাত ধোয়ার জন্য এই সাবানের ব্যবহার এখনও বেশ চোখে পড়ার মতো। চিকিৎসকের পরামর্শেও অনেকে কসকো সাবান নিয়মিত ব্যবহার করছেন।

আমি কবি তুমি কবিতা

তুমি প্রথম প্রেম, প্রথম প্রেম ওগো সুস্মিতা

ত্বকের সৌন্দর্যে কসকো…

নব্বইয়ের দশকে তারিন-পল্লবের টিভি বিজ্ঞাপনে এই জনপ্রিয় জিঙ্গেলের কথা অনেকের হয়তো মনে আছে। এই বিজ্ঞাপনটি যে পণ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিত তার নাম ‘কসকো গ্লিসারিন সোপ’।

দেশে উৎপাদিত এই সাবানের দাপুটে বাজার ছিল দীর্ঘদিনের। ‘ক্ষয় কম; ব্যবহার করা যায় বেশি দিন’ এমন সুবিধায় অনেকেই আপন করে নেন কসকো সাবান। ব্যক্তিগত ব্যবহারের পাশাপাশি খাবারের হোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিপুল জনপ্রিয়তা পায় পণ্যটি। সেই সঙ্গে গ্লিসারিনের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে ত্বকের সমস্যায় এই সাবানের নিয়মিত ব্যবহার শুরু হয়।

নব্বইয়ের দশকের সেই বিপুল জনপ্রিয়তায় অনেক দিন ধরেই অবশ্য ভাটার টান চলছে। দেশি-বিদেশি সাবানের দাপটে কসকো এখন অনেকটাই ম্রিয়মাণ। বাসাবাড়িতে কমে গেছে ব্যবহার। তবে ক্ষয় কম হওয়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁয় এখনও কসকোর বেশ চাহিদা রয়েছে।

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো

পণ্যের ধরন ও মোড়কে আসেনি পরিবর্তন

কসকো সাবান নব্বইয়ের দশকে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও মূলত সত্তর দশকের পর থেকে ধীরে ধীরে বাজার দখল শুরু হয়। পাঁচ দশক পরেও পণ্যের গুণগত মান ও মোড়কে পরিবর্তন আসেনি। সাবানের রংও আছে আগের মতো। ক্রেতার আস্থা ধরে রাখতে গন্ধেও বদল আনেনি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান।

উৎপাদক প্রতিষ্ঠান কমান্ডার সোপ কোম্পানি লিমিটেডের বিপণনপ্রধান এম এ মতিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যবসা তেমন বড় হয়নি, তবে উৎপাদন থেমে নেই। গ্লিসারিন সাবানের পাশাপাশি আমরা হ্যান্ডওয়াশ, ডিশওয়াশ, কসকো বার সাবানও বাজারজাত করছি। মানুষের আস্থাই কসকোর পুঁজি।’

কমান্ডার সোপ কোম্পানির সেলস বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোম্পানির তেজগাঁও কারখানায় ৫০ থেকে ৬০ জন কর্মরত আছেন। মালিক ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।’

তিনি জানান, পণ্যে গ্রাহক আস্থা ধরে রাখতে কোনো ধরনের পরিবর্তনের ঝুঁকি নেয়া হয়নি। সাবানে ভিন্নতা আনলে ভোক্তার কাছে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে তা নিয়ে শঙ্কায় ছিল কর্তৃপক্ষ। পুঁজির ঝুঁকি এড়াতে তাই আগের মতোই রয়ে গেছে কসকো সাবান।

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো
কসকো সাবানের বিজ্ঞাপনে তারিন ও পল্লব

বদলেছে ভোক্তার ধরন

নব্বইয়ের দশকে বাজারে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছে কসকো সাবান। পরে বিদেশি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন কোম্পানির সাবান বাজার নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যায়। ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ে কসকো।

বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিটিএমএ) ২০১৬ সালের একটি প্রতিবেদন বলছে, দেশে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় বিউটি সোপ লাক্স। এর মার্কেট শেয়ার ৪৫ শতাংশ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাসাবাড়িতে কমেছে কসকোর ব্যবহার। তবে হোটেল-রেস্তোরাঁয় হাত ধোয়ার জন্য এই সাবানের ব্যবহার এখনও বেশ চোখে পড়ার মতো।

রাজধানীর বাংলামোটর মোড়ের আলম রেস্তোরাঁয় ব্যবহার হয় কসকো সাবান। এর মালিক হোসেন আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কসকো পুরোনো সাবান। ক্ষয় কম হয়, টেকে বেশি দিন। অন্য সাবান দ্রুত ফুরিয়ে যায়, কিন্তু কসকো একটু বেশি দিন টেকে।’

চিকিৎসকের পরামর্শেও অনেকে কসকো সাবান ব্যবহার করছেন। শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গ্লিসারিনযুক্ত এই সাবান ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়।

মিরপুর শেওড়াপাড়ার গৃহবধূ রেহানা পারভীন গায়ে দেয়ার সাবান হিসেবে সারা বছর কসকো ব্যবহার করেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এলার্জির কারণে চিকিৎসক আমাকে এই সাবান ব্যবহার করতে বলেছেন।’

তবে কসকো সাবান কিনতে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয় বলে জানান রেহানা। তিনি বলেন, ‘এলাকার অলিগলির কোনো দোকানেই পাওয়া যায় না। বড় একটা সুপার সপ থেকে এই সাবান আমাকে কিনতে হয়। সেখানেও সব সময় পাওয়া যায় না। তাই আমি একসঙ্গে ৫-৬টি কিনে রাখি।’

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো

নিভে গেছে প্রচারের আলো

একসময়ে দৈনিক, সাপ্তাহিক পত্রিকায় থাকত কসকো সাবানের বর্ণিল বিজ্ঞাপন। বিটিভিতেও প্রচার হতো পণ্যের গুণগান। তবে এখন এই পণ্যের কোনো ধরনের বিজ্ঞাপনী প্রচার নেই।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও নেই কসকো সাবানের প্রচার।

কোম্পানি বা পণ্যের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কথা বলতে উৎসাহ দেখা যায়নি। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নেই কোনো ফোন নম্বর। দুটি ই-মেইল ঠিকানা থাকলেও সেখানে মেইল করে সাড়া মেলেনি।

তেজগাঁওয়ে কসকোর কারখানায় গিয়ে কথা বলতে চাইলেও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে কর্তৃপক্ষের অনীহা দেখা গেছে। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের কেউ কোম্পানি সম্পর্কে কথা বলতে ইচ্ছুক নয়।’

ক্ষয়ে যাচ্ছে সেই ‘অক্ষয়’ কসকো
কসকো সাবানের বিজ্ঞাপনে তারিন

তিনি জানান, কমান্ডার সোপ কোম্পানি লিমিটেডের একটি ব্র্যান্ড ‘কসকো’। দেশভাগের পরের বছর ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই কোম্পানি।

ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকায় রয়েছে কোম্পানির কারখানা। এটি কসকোর দ্বিতীয় কারখানা। কমান্ডার সোপ কোম্পানি লিমিটেডের প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন শিল্পপতি ফজলুর রহমান খান। ১৯৮৫ সালে এমডির দায়িত্ব নেন তার ছেলে মোহাম্মদ জাকারিয়া খান। তিনিই এখন কোম্পানি পরিচালনার দায়িত্বে আছেন।

আরও পড়ুন:
কীসের গল্প বলবে ‘রঙবাজার’
পদোন্নতি বিতর্ক: লিখিত ব্যাখ্যা দিল ডিএসই
প্রি ওপেনিংকে ফের কারসাজির সুযোগ ভাবল বিএসইসি
এসএমইতে বিনিয়োগ: বিএসইসির আবেদন শোনেনি চেম্বার আদালত
এক দিন পরই সূচকের ধপাস, ‘ক্রেতাশূন্য’ তিন শ কোম্পানি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Salman hopes that the dollar crisis in the bank will end in January

জানুয়ারিতে ব্যাংকে ডলার সংকট কাটবে, আশা সালমানের

জানুয়ারিতে ব্যাংকে ডলার সংকট কাটবে, আশা সালমানের মেহেরপুরের মুজিবনগরে শনিবার দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক আইএফআইসির এক হাজারতম সামাজিক উপশাখার উদ্বোধন করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন সালমান এফ রহমান। ছবি: নিউজবাংলা
ডলার সংকট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাস থেকে ব‍্যাংকগুলোতে ডলারের সংকট কেটে যাবে ইনশাল্লাহ। তা ছাড়া আগামী রমজান মাসকে কেন্দ্র করে যে জিনিসপত্রগুলো আমদানি করা দরকার, তা করা হবে।’

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ব‍্যাংকগুলোতে ডলার সংকট কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান।

মেহেরপুরের মুজিবনগরে শনিবার দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক আইএফআইসির এক হাজারতম সামাজিক উপশাখার উদ্বোধন করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সকাল ১০টার দিকে মুজিবনগরে পৌঁছে মু্ক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

ওই সময় ডলার সংকট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগামী জানুয়ারি মাস থেকে ব‍্যাংকগুলোতে ডলারের সংকট কেটে যাবে ইনশাল্লাহ। তা ছাড়া আগামী রমজান মাসকে কেন্দ্র করে যে জিনিসপত্রগুলো আমদানি করা দরকার, তা করা হবে। তাই আগামী রমজান মাসে কোনো সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ এবং আপনারা জানেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা যখন বিদেশ থেকে কোনো কিছু আমদানি করছি, তখন তার ওপর এর এফেক্ট পড়ছে।

‘তারপরও সরকার যেটা করছে, তা হলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এক কোটি পরিবারকে টিসিবি কার্ডের মাধ‍্যমে নিত‍্যপ্রয়োজনীয় পণ‍্য বিতরণ করছে। এক কোটি পরিবার মানে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৫ কোটি মানুষ। ১৬ কোটি মানুষের মধ‍্যে আমরা যদি ডিরেক্ট এ সাহায্যটা পৌঁছে দিতে পারি, ইনশাল্লাহ দেশে কোনো সমস‍্যা থাকবে না। আমি আবারও বলছি ব‍্যাংকগুলোতে জানুয়ারি মাস থেকে ডলারের সংকট কেটে যাবে ইনশাল্লাহ।’

গত বছরের আগস্ট থেকে দেশে আমদানি ব্যয় বাড়তে থাকে। দেখা দিতে থাকে ডলারের সংকট, বাড়তে থাকে দর। শক্তিশালী হতে থাকে ডলার, দুর্বল হতে থাকে টাকা।

এতদিন বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে ডলারের জোগান দিলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারাও হাত গুটিয়ে নিয়েছে। ব্যাংকগুলোকে এখন নিজেদের ডলার দিয়ে চলতে হচ্ছে, কিন্তু প্রবাসী আয় ও রপ্তানিতে টান পড়ায় সেই সক্ষমতাও হারাতে বসেছে তারা।

আরও পড়ুন:
৪ মাসেই ৫ বিলিয়ন বিক্রি, তারপরও ডলার নেই ব্যাংকে
উচ্চ আয়ের প্রবাসীরাও পাবেন ডলারপ্রতি ১০৭ টাকা
রিজার্ভ থেকে ডলার পাবে না বেসরকারি ব্যাংকগুলো
ডলার প্রিমিয়াম ও ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগে এনআইডি লাগবে না
ডলার দর: রেমিট্যান্সে কমল, রপ্তানিতে বাড়ল

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Why are tea workers lagging behind?

চা শ্রমিকেরা কেন পিছিয়ে

চা শ্রমিকেরা কেন পিছিয়ে মজুরি বাড়লেও চা শ্রমিকরা আছেন কষ্টে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা
‘বাংলাদেশের চা বাগানের শ্রমিকেরা কেন পিছিয়ে পড়ে আছে?’ শিরোনামে সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ। এতে অংশ নেন চা শ্রমিক, বাগানমালিকসহ অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারকরা।

মজুরি বাড়লেও চা শ্রমিকদের জীবনমানের সামগ্রিক উন্নয়ন হয়নি। এ জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ।

রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক ইন সেন্টারে বুধবার সকালে এক সংলাপ অনুষ্ঠানে এ অভিমত এসেছে।

‘বাংলাদেশের চা বাগানের শ্রমিকেরা কেন পিছিয়ে পড়ে আছে?’ শিরোনামে সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ। এতে অংশ নেন চা শ্রমিক, বাগানমালিকসহ অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারকরা।

চা শ্রমিকেরা কেন পিছিয়ে
চা শ্রমিকরা পিছিয়ে আছেন জীবনযাত্রায়। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

সংলাপে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এদেশীয় আবাসিক সমন্বয়ক গ্যান লুইস বলেন, ‘চা শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। পুষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চা শ্রমিকরা পিছিয়ে আছেন। এ খাতে সরকারের টেকসই পরিকল্পনায় শ্রমিকের জীবন যেমন উন্নত হবে তেমনি এই শিল্পেরও প্রসার হবে।’

চা কন্যা নারী সংগঠনের সভাপতি খায়রুন আখতার বলেন, ‘৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে আমরা আন্দোলনে নেমেছিলাম। চা শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি দিনে ১৭০ টাকা। জিনিসপত্রের যত দাম তাতে এ টাকাতে কিছুই হয় না।’

মৌলভীবাজার কমরেগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য মালতি ব্যানার্জি বলেন, ‘বাগানে চা শ্রমিকের যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা তা তারা পাচ্ছেন না। চা শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা শোনার কেউ নেই।’

প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. আবদুস শহীদ বলেন, ‘সমাজের কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না, এটাই সরকারের লক্ষ্য। চা শিল্পে আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সঙ্গে চা শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নে আরও নজর দেয়া প্রয়োজন।’

চা শ্রমিকেরা কেন পিছিয়ে
চা শ্রমিকদের জীবন নিয়ে সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। ছবি: নিউজবাংলা

সংলাপ সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘চা বাগানে বহুমাত্রিক দারিদ্রসীমা, পুস্টিহীনতা, মাতৃমৃত্যুর হার, বাল্যবিবাহ বেশি। অন্যদিকে শিক্ষার হার, আয়ুষ্কাল ও চিকিৎসাসেবা কম। চা শ্রমিকদের জীবনমানে অনেকটা অগ্রগতি হলেও তারা জাতীয় গড় থেকে পিছিয়ে আছেন। দেশের নীতি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে চা শ্রমিকরা ততটা মনোযোগ পাচ্ছেন না।’

সিপিডির আরেক বিশেষ ফেলো অধ্যাপত মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন করার দায়িত্ব সরকারের। এই জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনতে হবে।’

চা বাগানের শ্রমিকদের যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা, তা দেয়া হচ্ছে না বলে স্বীকার করেন ইস্পাহানি গ্রুপ অব টি এস্টেটের চিফ অপারেটিং অফিসার গোলাম মোস্তফা।

তিনি বলেন, ‘চা বাগানে শ্রমিকদের অনেক সুবিধা দেয়া হয়। তবে আরও প্রয়োজন। মূলত চা বাগান টিকে আছে মালিক-শ্রমিকের প্রচেষ্টায়।’

স্যোশালিস্ট লেবার ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘দেশে চায়ের উৎপাদন বেড়েছে। বাজারেও চায়ের দাম বেশি। কিন্তু চা শ্রমিকদের জীবনমান বদলায়নি, চা শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি বাড়েনি।’

সংলাপে অংশ নেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নূরী, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমানসহ চা শিল্পে জড়িত অনেকে।

আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রীকে চায়ের দাওয়াত দিলেন শ্যামলী গোয়ালা
বিকেলে চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী
‘শেখের বেটির’ দেখা পেতে তর সইছে না চা শ্রমিকদের
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শনিবার, চা বাগানগুলোতে প্রস্তুতি
চা শ্রমিকদের চাঁদার ২ কোটি টাকা যায় কোথায়?

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Many companies are losing business due to increasing costs

ব্যয় বাড়ায় ব্যবসা হারাচ্ছে বহু প্রতিষ্ঠান

ব্যয় বাড়ায় ব্যবসা হারাচ্ছে বহু প্রতিষ্ঠান এফবিসিসিআই আয়োজিত সভায় ব্যবসায়ী নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা
প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দেশে-বিদেশে কারুপণ্যের মেলা আয়োজনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে (ইপিবি) আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার আহ্বানও তারা। একইসঙ্গে নামমাত্র ফি পরিশোধের বিনিময়ে মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ চান নারী উদ্যোক্তারা।

সুতার দাম বেড়ে যাওয়ায় কাপড় ও পোশাক তৈরির ব্যয় বেড়েছে তাঁত, হস্ত ও কারুশিল্পে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে কমেছে বিক্রি।

উদ্যোক্তাদের দাবি, এমন অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। ঝুঁকিতে থাকা এসব ব্যবসা উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের নীতি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান তাদের।

মঙ্গলবার এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি অন হ্যান্ডিক্র্যাফটস, হ্যান্ডলুম, কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ, এথনিক অ্যান্ড ট্রাইবাল প্রোডাক্টস’-এর প্রথম সভায় এসব কথা উঠে আসে। যেখানে প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

সভায় কমিটির সদস্যরা, দেশে-বিদেশে কারুপণ্যের মেলা আয়োজনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে (ইপিবি) আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নামমাত্র ফি পরিশোধের বিনিময়ে মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ চান নারী উদ্যোক্তারা।

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। তিনি বলেন, ‘দেশে-বিদেশে আয়োজিত মেলাগুলোতে কেবল পণ্য বিক্রির মানসিকতা নিয়ে গেলে হবে না। মেলার উদ্দেশ্য পণ্য বিক্রি নয়, সেখান থেকে ক্রয়াদেশ নিয়ে আসতে হবে। নিজেদের পণ্যের মান উন্নয়ন করতে হবে। জোর দিতে হবে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর।’

তাঁত, হস্ত ও কারুশিল্পের সংকট নিরসনে উদ্যোক্তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব লিখিত আকারে জমা দেয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি আমিন হেলালী। তিনি বলেন, ‘কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেটা উদ্যোক্তারাই ভালো বলতে পারবেন। আপনারা উদ্যোগী হয়ে সেগুলো লিখিত আকারে আমাদের দেন। আমরা বিষয়ভিত্তিক প্রতিকার চেয়ে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সেগুলো তুলে ধরব।’

সরকারের নীতিগত এবং আর্থিক সহায়তা পেলে এসএমই উদ্যোক্তারা বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে জানান কমিটির ডিরেক্টর ইনচার্জ আলী হোসেন শিশির। শিল্পের উন্নয়নে সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নারী উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে কারুশিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন কমিটির চেয়ারম্যান রাশেদুল করিম মুন্না। তাঁত, হস্ত ও কারুশিল্পের জন্য আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের কর্মকৌশল নির্ধারণ করে উদ্যোক্তাদের অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যাক্তাদের বিনিয়োগকে নিরাপদ ও টেকসই করতে জাতীয় হস্ত ও কারুশিল্প নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানান ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি মির্জা নুরুল গনি শোভন।

যেসব উদ্যোক্তা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিদেশে সরাসরি কারুপণ্য বিক্রি করেন, তাদের মূল্য প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে দেশে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে চালুর আহ্বান জানান বক্তারা।

আরও পড়ুন:
পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি ব্যবসায়ীদের
ব্যাংক ঋণ সহজীকরণ চান নারী উদ্যোক্তারা
কৃষিপণ্য ও মৎস্য রপ্তানি সম্ভাবনায় এফবিসিসিআই-ইউএসডিএর সমঝোতা
মূল্যস্ফীতি কমাতে হবে জ্বালানির দাম কমিয়ে: এফবিসিসিআই
এফবিসিসিআই-এফএসসিসি সমঝোতা চুক্তি সই

মন্তব্য

p
উপরে