× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অর্থ-বাণিজ্য
Swiss banks have no chance of keeping corruption money Ambassador
hear-news
player
google_news print-icon

সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত

সুইস-ব্যাংকে-দুর্নীতির-অর্থ-রাখার-সুযোগ-নেই-রাষ্ট্রদূত
বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিকাব আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড। ছবি: নিউজবাংলা
সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড কালো টাকা রাখার স্বর্গরাজ্য নয়। এই বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। সুইস ব্যাংক অবৈধ অর্থকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করে না। সুইস ব্যাংক বিশ্বের একটি অন্যতম ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আমাদের জিডিপির অন্যতম একটি বড় অংশ। সুইস জাতীয় ব্যাংক প্রতি বছর বাংলাদেশি গ্রাহকদের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় ব্যক্তিগত টাকা সংরক্ষণ হার বাড়ছে না, বরং কমছে।’

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ জমা নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে বাংলাদেশে দেশটির রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড জানিয়েছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত বা অপ্রদর্শিত অর্থ রাখার সুযোগ তাদের কোনো ব্যাংকে নেই। তিনি এও জানিয়েছেন, বাংলাদেশিদের মধ্যে কারা টাকা জমা রেখেছে, সে বিষয়ে তার দেশের সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য চায়নি বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়তে তার দেশের উদ্যোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবা‌দিক‌দের এক প্রশ্নের জবা‌বে তিনি এ কথা ব‌লেন।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড ব‌লেন, ‘সুইস ব্যাংক আন্তর্জাতিক সব প্রক্রিয়া মেনেই কাজ করে। সেখানে কালো টাকা বা দুর্নীতির অর্থ রাখার কোনো সুযোগ নেই।’

সুইস ব্যাংক বলতে সুইজারল্যান্ডের কোনো একক ব্যাংককে বোঝায় না। সুইস নাশনাল ব্যাংক বলতে যে প্রতিষ্ঠানটি আছে, সেটি দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশটির যেকোনো ব্যাংকে রাখা টাকাই সুইস ব্যাংকের টাকা হিসেবে আলোচনায় আসে।

গত জুনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সুইস ব্যাংকগুলোতে এখন বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার ২৭৫ কোটি টাকার বেশি। টাকার অবমূল্যায়নে এই অঙ্ক এখন ৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে গত ১২ মাসে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে।

এই অর্থ জমা নিয়ে বরাবর তুমুল বিতর্ক হয় বাংলাদেশে। সমালোচকরা বলে আসছেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ এটি।

সুইস ব্যাংকে দুর্নীতির অর্থ রাখার সুযোগ নেই: রাষ্ট্রদূত

অবশ্য বাংলাদেশ থেকে নানাভাবে অবৈধ উপায়ে পাচার হওয়া অর্থ যেমন সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা হয়, তেমনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। তাই সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশিদের মোট অর্থের মধ্যে বৈধ-অবৈধ সব অর্থই রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে অনেক প্রশ্নের জবাব মেলে না এ কারণে যে, সাধারণত সুইস ব্যাংক অর্থের উৎস গোপন রাখে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমা রাখেন।

এই হিসাব প্রকাশের আগের বছর সুইস ব্যাংক থেকে বাংলাদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ ফেরত আনার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। এরপর সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে (সুইস ব্যাংক) সঞ্চয়কারী বাংলাদেশিদের নামের তালিকা চায় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব ব্যাংকে টাকা জমাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানাতে বলা হয়। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে দেয়া হয়নি।

সুইস রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সুইজারল্যান্ড কালো টাকা রাখার স্বর্গরাজ্য নয়। এই বিষয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। সুইস ব্যাংক অবৈধ অর্থকে কোনোভাবেই উৎসাহিত করে না। সুইজ ব্যাংক বিশ্বের একটি অন্যতম ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আমাদের জিডিপির অন্যতম একটি বড় অংশ। সুইজ জাতীয় ব্যাংক প্রতি বছর বাংলাদেশি গ্রাহকদের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় ব্যক্তিগত টাকা সংরক্ষণ হার বাড়ছে না, বরং কমছে।’

অন্য এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা কত টাকা জমা রেখেছে ওই তথ্য প্রতি বছর সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক দিয়ে থাকে। ওই অর্থ অবৈধপথে আয় করা হয়েছে কি না, এটি আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশ সরকার সুনির্দিষ্ট কারও তথ্য চায়নি

অন্য এক সুইস প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট করে কারো সম্পর্কে তথ্য চায়নি।

অর্থপাচার নিয়ে সুইজারল্যান্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি ব‌লেন, ‘তথ্য পেতে হলে কী করতে হবে, সে সম্পর্কে আমরা সরকারকে জানিয়েছি, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো তথ্যের জন্য আমাদের কাছে অনুরোধ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক মান অনুসারে আমরা যেকোনো ধরনের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও চুক্তি করতে পারি। ইতোম‌ধ্যে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সব তথ্য সরবরাহ করে‌ছি।’

বাংলা‌দে‌শের স‌ঙ্গে সুইজারল‌্যা‌ন্ডের সহ‌যো‌গিতা অব‌্যাহত থাক‌বে জানিয়ে নাথালি চুয়ার্ড ব‌লেন, ‘গত বছর দুই দেশের বাণিজ্য এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এ দেশের স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম সুইস সরকারের সহায়তায় হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সুইস সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। সুইস সরকার ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। আগামী দিনগুলোতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

আগামী দিনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তির প্রসারে সুইস সরকারের সহায়তা অব্যাহত থাকবে ব‌লেও জানান রাষ্ট্রদূত।

রো‌হিঙ্গা সংকট প্রস‌ঙ্গে তিনি ব‌লেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট সমাধা‌নে সুইজারল্যান্ড সব সময় বাংলাদেশের পাশে আছে। সুইজারল্যান্ড চায় রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও নিরাপদে প্রত্যাবাসন হোক।

‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন অবস্থায় আমরা বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করব। আমরা জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য নই। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে এখন রয়েছি। সেখানে আমরা বিষয়গুলো তুলে ধরব।'

অনুষ্ঠানে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) এর সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দীনের সঞ্চালনায় সংগঠনটির সভাপতি রেজাউল করিম লোটাসসহ উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির আড়ালে অর্থপাচার!
বাংলাদেশ ব্যাংকের পুঁজিবাজারবান্ধব আরেক সিদ্ধান্ত
শ্রীলঙ্কা সংকট পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য সতর্কতা: আইএমএফ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
23 killed in missile attack in Zaporizhia
রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি দোষারোপ

জাপোরিজ্জায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২৩

জাপোরিজ্জায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২৩ গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরকে দোষারোপ করছে। ছবি: সংগৃহীত
শুক্রবার ইউক্রেনের জাপোরিজ্জাসহ চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর আগে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জাপোরিজ্জাকে স্বীকৃতিও দিয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে অঞ্চলটিতে একটি গাড়িবহরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন এই ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চল জাপোরিজ্জায় একটি গাড়িবহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এই হামলার জন্য রাশিয়ার সেনাদের দায়ী করেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ২৩ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছে। হতাহতের সবাই বেসামরিক লোক।

টেলিগ্রামের এক বার্তায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন জাপোরিজ্জার আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্দার স্টারুক।

তিনি জানিয়েছেন, গাড়িবহরে থাকা ব্যক্তিরা তাদের আত্মীয়দের রাশিয়া অধিকৃত ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থলেই রয়েছে।

তবে ক্রেমলিন মনোনিত জাপোরিজ্জা কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে।

মস্কোপন্থি কর্মকর্তা ভ্লাদিমির রোগভ টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় দাবি করেছেন, কিয়েভের শাসকেরা রাশিয়ার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে, যা একটি জঘন্য উসকানি।

তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় যোদ্ধারা আরও একটি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেছে।

এদিকে আজই রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে যাওয়া ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে জাপোরিজ্জা। গতকালই প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে জাপোরিজ্জা ও খেরসনের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে যুক্ত করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই এমন ডিক্রি জারি করা হয়েছে।

তবে পশ্চিমা বিশ্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনীয় অঞ্চলের অন্তর্ভূক্তির স্বীকৃতি তারা দেবে না।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস পর্যন্ত বলেছেন, এ পদক্ষেপের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

আরও পড়ুন:
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামান: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী
অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া
দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব
রাশিয়াকে শাস্তি পেতেই হবে: জেলেনস্কি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Tearshell arrests 90 in anti Iranian protests in Norway

নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০

নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০ ইরানবিরোধী বিক্ষুব্ধরা নরওয়ে পুলিশের ওপরও হামলা করেছে। ছবি: ডয়চে ভেলে
ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিক্ষোভ হচ্ছে। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইরানের বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে ইরানি দূতাবাসের সামনে জড়ো হয় একদল মানুষ। এ সময় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।

নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে ইরানে পোশাকের স্বাধীনতার দাবিতে চলা আন্দোলনের ইস্যুতে সহিংসতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে ইউরোপের দেশ নরওয়েতে।

দেশটির রাজধানী অসলোতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের সামনে প্রবাসী কুর্দি বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়। এ সময় তারা মাহসাকে নিয়ে এবং ইরানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভরত বেশ কয়েকজন আক্রমণাত্মক হয়ে পড়ে এবং গেট ভেঙে দূতাবাস ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।

এ সময় বিক্ষুব্ধরা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে মারে এবং লাঠি হাতে চড়াও হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তারা টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

নরওয়েতে ইরানবিরোধী বিক্ষোভে টিয়ার শেল, আটক ৯০
বিক্ষোভকারীদের হাতে কুর্দি ভাষায় লেখা ও ইরানবিরোধী প্ল্যাকার্ড ছিল

ঘটনাস্থল থেকে ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এ ঘটনায় দুজন সামান্য আহত হয়েছেন।

ইরানের দূতাবাস ঘিরে হওয়া এই বিক্ষোভ কোন সংগঠন আয়োজন করেছে, তা জানা যায়নি।

ইরানি দূতাবাস এই ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

বিক্ষোভ চলাকালীন অনেকের হাতেই ইরানবিরোধী পোস্টার দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীরা এ সময় ‘নারী, জীবন ও স্বাধীনতা’ এবং ‘কুর্দিস্তান দীর্ঘজীবী হোক’ স্লোগান দিতে থাকে।

এর আগে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসেও ইরানবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে এবং সেখানেও বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন:
বিক্ষোভ দমনে সীমান্ত পেরিয়েও ইরানি হামলা, ৯ কুর্দি নিহত
মাস্কের স্টারলিংক ইরানে কেন কাজ করবে না?
ইরান বিক্ষোভের পরিণতি কী?
নারী কোন পোশাক পরবে, সে সিদ্ধান্ত নারীর: মালালা
ইরানে গুলির মুখেও বিক্ষোভকারীরা অটল, নিহত বেড়ে ৭৬

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Putin recognized the independence of two more regions of Ukraine

ইউক্রেনের আরও দুই অঞ্চলের স্বাধীনতায় স্বীকৃতি পুতিনের

ইউক্রেনের আরও দুই অঞ্চলের স্বাধীনতায় স্বীকৃতি পুতিনের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রির মাধ্যমে জাপোরিজ্জা ও খেরসনের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে যুক্ত করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবেই এমন ডিক্রি জারি করা হয়েছে। তবে পশ্চিমাবিশ্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির স্বীকৃতি তারা দেবে না। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস পর্যন্ত বলেছেন, এ পদক্ষেপের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

ইউক্রেনের জাপোরিজ্জা ও খেরসন অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর আগে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর আগে তিনি দোনেৎস্ক ও লুহানেস্ককেও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার জারি করা এক প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রিতে পুতিন বলেছেন, ‘আমি দক্ষিণ ইউক্রেনের জাপোরিজ্জা ও খেরসনের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার স্বীকৃতি দিচ্ছি।’

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দোনেৎস্ক, লুহানেস্ক, জাপোরিজ্জা ও খেরসনের সংযুক্তির প্রস্তুতি হিসেবেই জাপোরিজ্জা ও খেরসনের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন পুতিন।

আজই এক জমকালো অনুষ্ঠানে নতুন এই চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তির ঘোষণা দেবেন পুতিন।

এরই মধ্যে ইউক্রেনের এই চারটি অঞ্চলের ক্রেমলিন মনোনীত নেতারা রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় জড়ো হয়েছেন।

খেরসন অঞ্চলের একজন কর্মকর্তা রেড স্কয়ারে নিজের একটি ভিডিওতে বলতে দেখা যায়, ‘বিজয় আমাদেরই, আমরা রাশিয়া।’

এর আগে এই চার অঞ্চলে পাঁচ দিনব্যাপী চলা এক গণভোটে বাসিন্দারা রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দেয় বলে দাবি করেছে ক্রেমলিন।

এর আগে ২০১৪ সালেও একইভাবে ক্রিমিয়া অঞ্চলকে রুশ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

যদিও এতদিন রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার সরাসরি স্থল ভূখণ্ডে যোগাযোগ না থাকলেও নতুন এই চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হলে ক্রিমিয়ার সঙ্গেও সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হবে।

এদিকে এই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাবিশ্বের অনেক দেশ।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস নিউ ইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেছেন, এর (চার অঞ্চলের রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তি) কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

আরও পড়ুন:
অধিকৃত ইউক্রেনের ভোট থেকে যা চায় রাশিয়া
দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব
রাশিয়াকে শাস্তি পেতেই হবে: জেলেনস্কি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
NATO troops may enter Ukraine Polands foreign minister

ইউক্রেনে ঢুকতে পারে ন্যাটো সেনা: পোল্যান্ডের মন্ত্রী

ইউক্রেনে ঢুকতে পারে ন্যাটো সেনা: পোল্যান্ডের মন্ত্রী অস্ত্র সহায়তা দিলেও এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে সেনা মোতায়েন করেনি ন্যাটো। ছবি: সংগৃহীত
আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল নিজ ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে যাচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনের হামলা প্রতিহত করতে এরই মধ্যে ৩ লাখ সেনা সমাবেশের নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, বিকল্প হিসেবে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের। পারমাণবিক হুমকির প্রেক্ষিতে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইউক্রেনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে ন্যাটো সেনা।

ইউক্রেনে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করলে ন্যাটো দেশটিতে সেনা পাঠাতে পারে বলে জানিয়েছেন পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেবিগনিউ রাউ।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাতে রাশিয়া টুডে এমনটাই জানিয়েছে।

আরএমএফ এফএম রেডিওর সঙ্গে কথা বলার সময় রাউকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যে রাশিয়া যদি পারমাণবিক বিকল্প বিবেচনা করে তবে সংস্থাটি কিভাবে জবাব দেবে। মন্ত্রীর মতে, পশ্চিমারা দৃঢ়ভাবে ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এই ধরণের আক্রমণের (পারমাণবিক হামলা) জবাব দেবে।

এ ধরণের (পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন, কিংবা হামলা) পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে ন্যাটো সেনা প্রবেশের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি রাউ।

একই সঙ্গে তিনি জানান, সবচেয়ে খারাপ কিছু যদি ঘটে (পারমাণবিক হামলা) তবে এর প্রতিক্রিয়া সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের নির্দেশিত পদক্ষেপের থেকে খুব বেশি আলাদা হবে না।

ইউক্রেনে ঢুকতে পারে ন্যাটো সেনা: পোল্যান্ডের মন্ত্রী
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেবিগনিউ রাউ

এর আগে জ্যাক সুলিভান জানিয়েছিলেন, রাশিয়া পারমাণবিক হামলা চালালেও কনভেনশনাল (প্রচলিত) পথেই জবাব দেবে পশ্চিমারা।

যদিও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো বরাবরই বলে এসেছে, রাশিয়ার সঙ্গে তারা কোনো যুদ্ধে নেই এবং তারা ন্যাটো-রাশিয়া সংঘাতের পক্ষে নয়।

এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমাদের থেকে পারমাণবিক হামলার ব্ল্যাকমেইলের বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, এই বাতাস পশ্চিমাদের দিকেও ঘুরে যেতে পারে।

এদিকে, রাশিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ দাবি করেছেন, মস্কো কাউকে পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি দিচ্ছে না।

রাশিয়ার মিলিটারি ডকট্রেইনের (সামরিক নীতি) রেফারেন্স দিয়ে রিয়াবকভ জানান, এই ধরণের অস্ত্র রাশিয়া কেবল দেশের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়লেই ব্যবহার করবে।

আরও পড়ুন:
দোনবাস রক্ষায় রুশ পরমাণু অস্ত্র, ইউএস কমান্ডারের মতে পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব
রাশিয়াকে শাস্তি পেতেই হবে: জেলেনস্কি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
যুদ্ধেই ইউক্রেন সংকটের সমাধান: ক্রেমলিন
রুশ ফেডারেশনে ঢুকতে ডনবাস প্রজাতন্ত্রে গণভোট

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Defects in the American region of the Nord Stream pipeline Russia

গ্যাস পাইপলাইনের আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ছিদ্র: রাশিয়া

গ্যাস পাইপলাইনের আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ছিদ্র: রাশিয়া নর্ড স্ট্রিম ১ গ্যাস পাইপলাইনের ছিদ্র থেকে গ্যাস বের হচ্ছে। ছবি:এএফপি
রাশিয়ার গ্যাসের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল ইউরোপ। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিতে বিপদে পড়েছে ইইউ। যে পাইপলাইন দিয়ে ইউরোপে গ্যাস পৌঁছায়, ত্রুটির কারণে সেটি দিয়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞার কারণে পাইপলাইন সারানো যাচ্ছে না।

ডেনমার্কের পর রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইনে চতুর্থ ত্রুটি খুঁজে পেল সুইডেন। দেশটির কোস্টগার্ড বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। এতে গ্যাসলাইনের চারটি জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পাইপলাইনে ত্রুটির পেছনে ওয়াশিংটনের হাত রয়েছে বলে দাবি মস্কোর। চতুর্থ ছিদ্র পাওয়ায় খবর প্রকাশের পর পরই তারা জানায়, যে অঞ্চলে ছিদ্র পাওয়া গেছে সেটির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের হাতে।

প্রতিক্রিয়ায় মস্কোর দাবি উড়িয়ে এ ধরনের অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বলেছে ওয়াশিংটন।

শুরুর দিকে বলা হচ্ছিল, বাল্টিক সাগরের তলদেশের পাইপলাইনগুলোর তিনটি জায়গায় ছিদ্র রয়েছে; যেগুলোর দুটি নর্ড স্ট্রিম ১ এবং নর্ড স্ট্রিম ২-এর কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।

তবে সুইডিশ কোস্টগার্ডের মুখপাত্র জেনি লারসন বৃহস্পতিবার বলেন, ‘সাগরের তলদেশে অবকাঠামোগুলোতে চারটি ছিদ্র পাওয়া গেছে। দুটি সুইডেনের অর্থনৈতিক অঞ্চলে; বাকিগুলো ডেনমার্কের বিশেষ অঞ্চলে।

সম্প্রতি নর্ড স্ট্রিম ১ এবং নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যায়। অনুসন্ধানে গত সোমবার পাইপলাইনে ছিদ্র খুঁজে পায় ডেনিশ কর্তৃপক্ষ।

ড্যানিশ ও সুইডিশ কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, বোর্নহোম দ্বীপের কাছে সাগরের নিচে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতেই পাইপলাইনে ছিদ্র হয়েছে।

এর পরপর রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইডেন দাবি করে, ‘ইচ্ছাকৃত’ কেউ বা কারা পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

পাইপলাইনে বিস্ফোরণকে ‘নাশকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইইউ। সতর্ক করেছে ব্লকটি বলেছে, ইউরোপীয় জ্বালানি অবকাঠামোতে যেকোনো ‘ইচ্ছাকৃত’ ব্যাঘাত অগ্রহণযোগ্য। এর প্রতিক্রিয়া কঠিন হবে।’

ইউক্রেন সংঘাত শুরু পর থেকে মস্কো এবং ব্রাসেলসের মধ্যে জ্বালানি স্থবিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাইপলাইনগুলো।

গ্যাস পাইপলাইনের আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ছিদ্র: রাশিয়া

নর্ড স্ট্রিম ১ এবং ২ পাইপলাইন রাশিয়াকে জার্মানির সঙ্গে সংযুক্ত করে, সম্প্রতি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে এগুলো। ছবি: সংগৃহীত

নর্ড স্ট্রিম ২ পাইপলাইনের নির্মাণ শেষ হয় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। তবে জার্মানি ছাড়পত্র না দেয়ায় এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে এটির ব্যবহার শুরু করা যায়নি।

আগস্টের শেষদিকে নর্ড স্ট্রিম ১ পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয় রাশিয়া। মস্কো বলছে, পাইপলাইনে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে; ইউক্রেন ইস্যুতে তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে, যা সারানো যাচ্ছে না।

বিস্ফোরণের সময় পাইপলাইনগুলো চাপযুক্ত গ্যাসে পূর্ণ ছিল। ডেনিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ বন্ধ করে দিলেও, পাইপলাইনে যে পরিমাণ গ্যাস রয়েছে তা চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বুদবুদ আকারে বের হতে থাকবে বাল্টিক সাগরে।

বাল্টিক সাগরের তলদেশে গ্যাস পাইপলাইনে আকস্মিক এবং ব্যাখ্যাতীত ত্রুটির তদন্ত করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

আরও পড়ুন:
পশ্চিম নত না হলে ‘নষ্টই থাকবে’ রুশ গ্যাসলাইন
ইউরোপে আবারও গ্যাস বন্ধ করল রাশিয়া
ইউরোপে গ্যাস পুরো বন্ধ করলেও ক্ষতি নেই রাশিয়ার
ইউরোপে আবারও গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা রাশিয়ার
টারবাইন ফেরত নিয়ে গ্যাস দিন: রাশিয়াকে জার্মানি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Russia claims victory in referendum in 4 occupied regions of Ukraine

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলে গণভোটে জয় দাবি রাশিয়ার

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চলে গণভোটে জয় দাবি রাশিয়ার চলছে গণভোট। ছবি: বিবিসি
রাশিয়া যদি এই চারটি অঞ্চল এবার নিজেদের দেশের সঙ্গে যুক্ত করে নেয় তবে চলমান যুদ্ধ আরেকটি ভিন্ন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাবে। কারণ এসব অঞ্চল ফিরে পেতে ইউক্রেন হামলা করলে সেই হামলা হবে রাশিয়ার সার্বভৌম ভূমিতে হামলা।

রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলের গণভোটে রায় এসেছে মস্কোর পক্ষে, তবে এই গণভোটকে জালিয়াতি আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেন এবং তার মিত্র দেশগুলো।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর এ গণভোটের আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি

অঞ্চলগুলোতে দায়িত্ব নেয়া রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, গণভোটে অংশগ্রহণকারীদের সবাই এখন এর মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন।

নির্বাচনে প্রায় ৪০ লাখ ভোটারকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাবে প্রক্রিয়াটি স্বাধীনভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি।

দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে রুশপন্থী বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, ৯৯.২৩ শতাংশ মানুষ রাশিয়ায় যোগ দেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। আর খেরসনে ৮৭ শতাংশ এবং জাপোরিঝঝিয়ায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেয়ার পক্ষে।

অবশ্য গণভোটে এত বেশি ভোট পড়ার দাবি অনেকটা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এমন প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হচ্ছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার রাশিয়ার পার্লামেন্টে যৌথ অধিবেশনে এ অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়ার ঘোষণা দেবেন। এ চারটি অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূমির প্রায় ১৫ শতাংশ।

আরটির প্রতিবেদন বলছে, এ অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে অঙ্গীভূত করার জন্য রাশিয়ার পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্টের অনুমোদন লাগবে। এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগবে।

তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, কাজটি দ্রুতই হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এর আগে ২০১৪ সালের মার্চে একই ধরনের একটি গণভোটের মাধ্যমে পুতিন ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ করে নেয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বিবিসি বলছে, রাশিয়া যদি এই চারটি অঞ্চল এবার নিজেদের দেশের সঙ্গে যুক্ত করে নেয় তবে চলমান যুদ্ধ আরেকটি ভিন্ন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছে যাবে। কারণ এসব অঞ্চল ফিরে পেতে ইউক্রেন হামলা করলে সেই হামলা হবে রাশিয়ার সার্বভৌম ভূমিতে হামলা।

ইউক্রেনের ভেতরে থাকা এই চারটি অঞ্চল জোর করে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টাকে জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনেস্কি। তিনি বলেন, দখল করা এলাকাগুলোতে এ ধরনের প্রহসনকে গণভোটের নকলও বলা যায় না।

সার্বিক পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে রাশিয়ার ওপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরে গণভোট বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

আর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, এসব অঞ্চলকে রাশিয়া তাদের অংশ করে নিলে সেটিকে পাশ্চাত্য কখনোই স্বীকৃতি দেবে না।

তবে পুতিন বলেছেন, এসব অঞ্চলে বসবাসরত জাতিগত রাশিয়ান এবং রাশিয়ান ভাষাভাষী জনগণের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করার জন্য এই আয়োজন।

আরও পড়ুন:
পুতিনের সেনা সমাবেশের ঘোষণার প্রতিবাদে রাশিয়ায় বিক্ষোভ
রাশিয়ার আংশিক সেনা সমাবেশে যাদের ডাকা হবে
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ন্যাটো!  
রুশ সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ৩ লাখ রিজার্ভ সেনা তলব করছেন পুতিন
পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে পুতিনকে হুঁশিয়ারি বাইডেনের

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Far right victory in Italy puts EU on edge

ইতালিতে উগ্র ডানপন্থিদের জয়ে ইইউর কপালে ভাঁজ

ইতালিতে উগ্র ডানপন্থিদের জয়ে ইইউর কপালে ভাঁজ সিলভিও বারলুসকোনি (মাঝে) এবং মাত্তেও সালভিনির (বাঁয়ে) সঙ্গে জোট বেঁধেছেন জর্জিয়া মেলোনি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইতালি। সাধারণ নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থিরা বিজয়ী হওয়ায় ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ বিপদের আশঙ্কায় রয়েছে। উল্টো দিকে এই জয় স্বস্তি তৈরি করতে পারে রাশিয়ার জন্য।   

ইতালির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতা জর্জিয়া মেলোনি। ২৫ সেপ্টেম্বরের ভোটে মেলোনির দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায়, সাত দশকের বেশি সময় পর ইতালির ক্ষমতায় আসছে উগ্র ডানপন্থিরা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ইতালি। উগ্র ডানপন্থিরা ক্ষমতায় এলে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ বিপদে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ভোটের পর মেলোনি জানিয়েছিলেন, তারা সবার জন্য সরকার গঠন করবেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না।

তিনি বলেন, ‘ব্রাদার্স অফ ইতালির নেতৃত্বে ডানপন্থি সরকারের পক্ষে রায় দিয়ে ইতালীয়রা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।’

মেলোনির দল পেয়েছে ২৬ শতাংশ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনরিকো লেটার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভোট ১৯.৬ শতাংশ।

ভোটের এই ফলে সামনে দুঃসময় দেখছেন মধ্য-বামপন্থি এনরিকো। তিনি বলেন, ‘উগ্র ডানপন্থিদের বিজয় ইতালি এবং ইউরোপের জন্য দুঃখজনক অধ্যায়। তারপরও আমরা শক্তিশালী একটি বিরোধীদল দেশকে উপহার দেব।’

ইতালিতে উগ্র ডানপন্থিদের জয়ে ইইউর কপালে ভাঁজ
উগ্র ডানপন্থি ব্রাদার্স পার্টির নেতা জর্জিয়া মেলোনি

মাত্তেও সালভিনির লিগ ফর সালভিনি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির সেন্টার রাইট ফোর্জা ইতালিয়া দলের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন মেলোনি। ভোটে সালভিনির দল পেয়েছে ৮.৮৭ শতাংশ ভোট; বারলুসকোনির পক্ষে গেছে ৮.১২ শতাংশ।

সব মিলিয়ে প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন নিয়ে পার্লামেন্টের সিনেট এবং চেম্বার- দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছে ডানপন্থি এই জোট।

চার বছর আগে হওয়া নির্বাচনে মেলোনির ব্রাদার্স পার্টি পেয়েছিল মাত্র ৪ শতাংশ ভোট। এবার জাতীয় ঐক্য সরকারে নিজেদের না জড়িয়ে বাজিমাত করেছে উগ্র ডানপন্থি দলটি।

ভোটে বাদার্স পার্টির অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে বিরোধী দলগুলোর বিভেদও কাজ করেছে। এক মাস আগেও ইতালির বাম এবং মধ্যপন্থি দলগুলো উগ্র ডানপন্থি মেলোনি জোটকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত ছিল। তবে শেষপর্যন্ত তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। বলা হচ্ছে, এতেই কপাল খুলেছে মেলোনির জোটের।

জোট বেঁধে ক্ষমতায় এলেও প্রধানমন্ত্রী পদে মেলোনির আসা এখনও কিছুটা অনিশ্চিত। কারণ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট মাতারেলা, যিনি ইতালির সংবিধান অনুসারে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে অক্টোবরের শেষদিকে।

ন্যাটোর সদস্য ইতালি ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তবে ইইউতে মেলোনির দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে তাকে হাঙ্গেরির জাতীয়তাবাদী নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

মেলোনির দুই জোটসঙ্গীর সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ভোটের কিছুদিন আগে বারলুসকোনি দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনে আক্রমণ চালাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বাধ্য করা হয়েছে। মস্কোর ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।

ইতালির ডানপন্থি দলগুলোকে অভিনন্দন জানিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরামর্শক বালাজ অরবান। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন অনেক বন্ধু প্রয়োজন, যারা ইউরোপের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম।’

মেলোনি জোটকে স্বাগত জানিয়েছেন ফ্রান্সের উগ্র ডানপন্থিরাও। ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা জর্ডান বারডেলা বলেন, ‘ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েনকে মোলায়েম শিক্ষা দিয়েছে ইতালীয়রা।’

মন্তব্য

p
উপরে