× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য

অর্থ-বাণিজ্য
The cash dividend of the bank is Rs
hear-news
player
print-icon

ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশই পৌনে ৩ হাজার কোটি টাকা

ব্যাংকের-নগদ-লভ্যাংশই-পৌনে-৩-হাজার-কোটি-টাকা
কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশ এতটাই ভালো আসছে যে এখন ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা রাখলে যে হারে সুদ পাওয়া যায়, বেশ কিছু ব্যাংকের শেয়ার কিনে রাখলে তার চেয়ে বেশি টাকা পাওয়া যায়। সঙ্গে আসে বোনাস শেয়ারও। নতুন শেয়ার যোগ হওয়ায় যাতে শেয়ারের ক্রয়মূল্য ক্রমেই কমে আসে আর এ কারণে পরের বছরগুলোতে একই হারে নগদ লভ্যাংশ পেতে থাকলে লভ্যাংশের ইল্ড বেশি আসে।

ব্যাংক খাত নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশ বেড়েই চলেছে। আর কয়েক বছর ধরে বাড়তে বাড়তে তা এখন পৌনে ৩ হাজার কোটি টাকা ছুঁইছুঁই হতে যাচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ব্যাংকগুলোর এরই মধ্যে লভ্যাংশ ঘোষণা শেষ হয়েছে। তবে বার্ষিক সাধারণ সভা করে লভ্যাংশ চূড়ান্ত করে সেটি বিতরণ শুরু হয়েছে কেবল।

তবে ঘোষিত লভ্যাংশ পরিবর্তনের ইতিহাস নেই বললেই চলে। ঘোষিত লভ্যাংশই যদি বিতরণ করা হয়, তাহলেও এবার ব্যাংকগুলো তার শেয়ারধারীদের মধ্যে বিতরণ করবে মোট ২ হাজার ৬৯১ কোটি ১০ লাখ ১৩ হাজার ৭৮৮ টাকা।

এর মধ্যে প্রাইম ব্যাংক একাই প্রায় ২০০ কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যেটি সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পৌনে ২০০ কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ দেবে ব্যাংক এশিয়া।

কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশ এতটাই ভালো আসছে যে এখন ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা রাখলে যে হারে সুদ পাওয়া যায়, বেশ কিছু ব্যাংকের শেয়ার কিনে রাখলে তার চেয়ে বেশি টাকা পাওয়া যায়। সঙ্গে আসে বোনাস শেয়ারও। নতুন শেয়ার যোগ হওয়ায় যাতে শেয়ারের ক্রয়মূল্য ক্রমেই কমে আসে আর এ কারণে পরের বছরগুলোতে একই হারে নগদ লভ্যাংশ পেতে থাকলে লভ্যাংশের ইল্ড বেশি আসে।

২০২০ সালে ব্যাংকগুলো প্রথমবারের মতো আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এর পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যাংক বোনাস শেয়ার ও কিছু ব্যাংক নগদের পাশাপাশি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল।

ওই বছর সব মিলিয়ে ২ হাজার ৫১০ কোটি ৪৯ লাখ ৬৩ হাজার ২৮৪ টাকা বিতরণ করা হয়েছিল।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোট ৩৩টি ব্যাংক। এর মধ্যে গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য আটটি ব্যাংক কেবল নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, আগের বছর এই সংখ্যাটি ছিল সাত।

মোট ১৮টি ব্যাংক নগদ ও বোনাস মিলিয়ে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের বছরও ১৮টি ব্যাংক নগদ ও বোনাস মিলিয়ে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

এ বছর মোট পাঁচটি ব্যাংক কেবল বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে, যা আগের বছর সংখ্যাটি ছিল চার।

গত বছরের মতোই একটি ব্যাংক এবারও লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। আর একটি ব্যাংক লভ্যাংশসংক্রান্ত সভার কথা জানালেও সভার সিদ্ধান্ত কী, সেটি বিজ্ঞপ্তি আকারে আসেনি।

এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে শেয়ারপ্রতি সর্বোচ্চ সাড়ে ১৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে মোট তিনটি ব্যাংক। এর মধ্যে এই পরিমাণ নগদের সঙ্গে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ারও দিয়েছে একটি ব্যাংক।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে দুটি ব্যাংক।

তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ নগদের পাশাপাশি সমপরিমাণ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে একটি ব্যাংক।

চতুর্থ সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ছয়টি ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে দুটি আবার ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। আর বাকিগুলোর মধ্যে তিনটি ব্যাংক বোনাসের পাশাপাশি দিয়েছে ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার। একটি ব্যাংক কেবল এই পরিমাণ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে।

২০১০ সালের মহাধসের পর ব্যাংকের শেয়ারদর ব্যাপকহারে কমে যায়। সেগুলো আর ফিরে পাওয়া যায়নি। এক যুগ ধরে বোনাস শেয়ার যোগ হওয়ার পরেও অনেক বিনিয়োগকারী এখনও লোকসানে। অবশ্য বেশ কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে অবশ্য বোনাস শেয়ার সমন্বয়ের কারণে লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখেছেন বিনিয়োগকারীরা।

তবে ২০১৬ সালের পর থেকে ব্যাংকের শেয়ার কিনে যারা ধরে রেখেছেন, তাদের মধ্যে বেশির ভাগ শেয়ারধারীই বেশ লাভবান হয়েছেন।

তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাংকের শেয়ার নিয়ে অনীহা আছে বলে মনে করেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু আহমেদ। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ভালো ডিভিডেন্ড দেয়ার পরেও মানুষ ব্যাংকের শেয়ার কেনেন না। দেখা যায়, একটা ব্যাংক সাড়ে ২২ শতাংশের মতো লভ্যাংশ দিচ্ছে, অথচ বিনিয়োগ করছেন না মানুষ, শেয়ার বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়।’

তিনি বলেন, ‘মানুষ ভয়ে বিনিয়োগ করতে আসেন না। জুজুর ভয়। আসলে এটা তো টেকনিক্যাল মার্কেট। জানতে হয় অনেক। ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির প্রয়োজন আছে। আমাদের বিনিয়োগকারীদের মাঝে তা কম, এমনকি যারা এই মার্কেটে আছেন তাদের মধ্যেই ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসির অভাব আছে।

‘না জানার কারণে লাফালাফি করে। আজ এই শেয়ার তো কাল ওই শেয়ার। এভাবে লাফালাফি করে হাত-পা ভাঙে (লোকসান)। এরপর বাজার থেকে চলে যায়। যার কারণেই বাজারে লিক্যুইডিটি সংকট দেখা দেয়।

‘আরও একটা অংশ আছে যারা সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারী। তারা এই দিকে আসেন না। আবার এখানে যারা বিনিয়োগ করে ভালো লাভ করেন তারা ওইদিকে যান না। আমাদের বাজারে ফান্ডামেন্টাল শেয়ারের সংখ্যা খুবই কম, কিন্তু যেগুলো আছে সেগুলোতেও বিনিয়োগে লিটারেসি প্রয়োজন। লিটারেসি না থাকার কারণে জুজুর ভয় কাজ করে।’

নগদে লভ্যাংশের প্রবণতা কয়েক বছর ধরে

২০১৯ সালের বাজেটে কর প্রস্তাবের পর। তখন বলা হয়, কোনো কোম্পানি নগদ লভ্যাংশের সমপরিমাণ বোনাস দিলে বোনাসের ওপর কর দিতে হবে না। আর শুধু বোনাস দিলে অথবা নগদ লভ্যাংশের চেয়ে বেশি বোনাস দিলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

এই বিধানের পর ২০২০ সাল থেকেই ব্যাংকগুলো বোনাসের সমপরিমাণ নগদ লভ্যাংশ দিতে থাকে। যদিও করোনা পরিস্থিতিতে ব্যাংকের হাতে নগদ টাকা রাখার সুবিধার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকগুলোকে কেবল বোনাস শেয়ার দিতে বাড়তি করারোপের শর্ত থেকে মুক্তি দেয়া হয়। তার পরও কোম্পানিগুলো বোনাসের পাশাপাশি নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করে।

ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশই পৌনে ৩ হাজার কোটি টাকা

কেবল নগদ লভ্যাংশ যাদের

প্রাইম ব্যাংক শেয়ারপ্রতি বিতরণ করবে ১ টাকা ৭৫ পয়সা বা সাড়ে ১৭ শতাংশ। এই ব্যাংকটির শেয়ারসংখ্যা ১১৩ কোটি ২২ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৭টি। এই ব্যাংকটি বিতরণ করবে ১৯৮ কোটি ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৪ টাকা।

ব্যাংক এশিয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা হয়েছে ১৫ শতাংশ। এই ব্যাংকটির শেয়ারসংখ্যা ১১৬ কোটি ৫৯ লাখ ৬ হাজার ৮৬০টি। এই হিসাবে ব্যাংকটি বিতরণ করবে মোট ১৭৪ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার ২৯০ টাকা।

১০ শতাংশ বা শেয়ারপ্রতি ১ টাকা করে বিতরণ করবে ইসলামী ব্যাংক। অর্থাৎ এই ব্যাংকটির বিনিয়োগকারীরা পাবেন শেয়ার সংখ্যার সমান ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮ টাকা।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১৫ শতাংশ, অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি দেড় টাকা করে বিতরণ করবে। এই ব্যাংকটির শেয়ারসংখ্যা মোট ১০৬ কোটি ৪৯ লাখ ২ হাজার ১৮৫টি। এই হিসাবে ব্যাংকটি বিতরণ করবে ১৫৯ কোটি ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৭ টাকা ৫০ পয়সা।

এক্সিম ব্যাংকও দেবে ইসলামী ব্যাংকের মতো শেয়ারপ্রতি ১ টাকা। এই হিসাবে ব্যাংকটি বিতরণ করবে মোট ১৪৪ কোটি ৭৫ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ টাকা।

যমুনা ব্যাংকের লভ্যাংশের হারও প্রাইম ব্যাংকের সমান, শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৭৫ পয়সা। তবে ব্যাংকটির শেয়ারসংখ্যা তুলনামূলক কম। এই সংখ্যাটি হলো ৭৪ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার ৬৫০টি। এই হিসাবে ব্যাংকটি বিতরণ করবে ১৩১ কোটি ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৮৭ টাকা ৫০ পয়সা।

পূবালী ব্যাংক শেয়ারপ্রতি দেবে ১ টাকা ২৫ পয়সা। ব্যাংকটির শেয়ারসংখ্যা ১০২ কোটি ৮২ লাখ ৯৪ হাজার ২১৯টি। এই হিসাবে ব্যাংকটি বিতরণ করবে মোট ১২৮ কোটি ৫২ লাখ ৬৭ হাজার ৭৭৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

ঢাকা ব্যাংক বিতরণ করবে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা। এই হিসাবে ব্যাংকটির বিনিয়োগকারীরা পাবেন মোট ১১৩ কোটি ৯৫ লাখ ৪৯ হাজার ৭০৪ টাকা ৮০ পয়সা।

নগদ বোনাস মিলিয়ে লভ্যাংশ যেসব ব্যাংকের

নগদ ও বোনাস মিলিয়ে যেসব ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে নগদে সবচেয়ে বেশি বিতরণ করবে সিটি ব্যাংক। এই ব্যাংকটি সাড়ে ১২ শতাংশ করে নগদ ও বোনাস শেয়ার দেবে ব্যাংকটি। এর শেয়ারসংখ্যা ১০৬ কোটি ৭২ লাখ ৫ হাজার ৯৯৪ টি। এই হিসাবে ব্যাংকটি বিতরণ করবে ১৩৩ কোটি ৪০ লাখ ৭ হাজার ৪৯২ টাকা ৫০ পয়সা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রিমিয়ার ব্যাংক এবার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে সাড়ে ২২ শতাংশ। এর মধ্যে নগদে ১ টাকা ২৫ পয়সা করে মোট ১৩০ কোটি ৩৮ লাখ ৩৮ হাজার ৪০৮ টাকা ৭৫ পয়সা দেয়া হবে নগদে। পাশাপাশি ব্যাংকটি বোনাস শেয়ার হিসাবে ইস্যু করবে ১০ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার ৭২টি।

তৃতীয় সর্বোচ্চ ১২৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার ২৮৫ টাকা দেবে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। এই ব্যাংকটি সাড়ে ১২ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেবে।

এনসিসি ব্যাংক বিতরণ করবে ১২২ কোটি ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৬০ টাকা ৪০ পয়সা। এই ব্যাংকটির শেয়ারসংখ্যা মোট ১০১ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ৯৬৭ টি। শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সার পাশাপাশি ৪ শতাংশ বোনাস শেয়ারও দেবে ব্যাংকটি।

ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশই পৌনে ৩ হাজার কোটি টাকা

নগদ ও বোনাস মিলিয়ে মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে ইবিএল। এর মধ্যে নগদে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ২৫ পয়সা হারে ১১৯ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৫৮৫ টাকা দেয়া হবে নগদে। আরও সাড়ে ১২ শতাংশ বোনাস শেয়ারও দেয়া হবে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক সাড়ে ১৭ শতাংশ হিসাবে বিতরণ করবে ১১০ কোটি ৬৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এই ব্যাংকটি ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ারও দেবে।

ব্র্যাক ব্যাংক সাড়ে ৭ শতাংশ করে নগদ ও বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। ব্যাংকটির শেয়ারসংখ্যা মোট ১৩৯ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ৩৯৯টি। এই হিসেবে বিনিয়োগকারীরা পাবেন ১০৪ কোটি ৪১ লাখ ২৯ হাজার ২৯৯ টাকা ২৫ পয়সা। সমপরিমাণ বোনাস শেয়ারও পাবেন বিনিয়োগকারীরা।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারসংখ্যা মোট ১০২ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫২টি। ব্যাংকটি এবার শেয়ারপ্রতি ১ টাকা হিসাবে শেয়ারসংখ্যার সমপরিমাণ টাকা বিতরণ করতে যাচ্ছে। সঙ্গে দেয়া হবে ৫ শতাংশ বোনাস।

সাউথইস্ট ব্যাংক এবার ৮ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৪ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। ব্যাংকটির মোট শেয়ারসংখ্যা ১১৮ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার ৫২২টি। এই হিসাবে ব্যাংকটি বোনাস শেয়ারের পাশাপাশি নগদে বিতরণ করবে ৯৫ কোটি ১১ লাখ ৫২ হাজার ৪১৭ টাকা ৬০ পয়সা।

ট্রাস্ট ব্যাংক ১০ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি নগদে বিতরণ করবে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২৫ পয়সা করে। ব্যাংকটির শেয়ারসংখ্যা ৭০ কোটি ৭৬ লাখ ২৫ হাজার ৫৭৬টি। এই হিসাবে বিনিয়োগকারীরা পাবেন মোট ৮৮ কোটি ৪৫ লাখ ৩১ হাজার ৯৭০ টাকা।

উত্তরা ব্যাংক ১৪ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি সমপরিমাণ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ব্যাংকটির শেয়ারসংখ্যা ৫৬ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৮৯টি। এই হিসাবে বিনিয়োগকারীরা নগদে পাবেন ৭৯ কোটি ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৪ টাকা ৬০ পয়সা।

গত বছর তালিকাভুক্ত এনআরবিসি সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি সমপরিমাণ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই ব্যাংকটি তার ৭৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৭টি শেয়ারের বিপরীতে বিতরণ করবে ৫৫ কোটি ৩২ লাখ ৩২ হাজার ১৩৫ টাকা ২৫ পয়সা।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ারের পাশাপাশি সমপরিমাণ নগদ হিসেবে ৯৯ কোটি ৬১ লাখ ৯৮ হাজার ২১১টি শেয়ারের জন্য লভ্যাংশ দেবে ৪৯ কোটি ৮০ লাখ ৯৯ হাজার ১০৫ টাকা ৫০ পয়সা।

ইউনিয়ন ব্যাংকের লভ্যাংশও এসেছে সমপরিমাণ। ৫ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি ৯৮ কোটি ৬৯ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬০টি শেয়ারের বিপরীতে ব্যাংকটি নগদ লভ্যাংশ দেবে ৪৯ কোটি ৩৪ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা।

এসআইবিএলের লভ্যাংশও অন্য দুটির মতোই এসেছে ১০ শতাংশ। ৫ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি ৯৮ কোটি ৪৯ লাখ ৮ হাজার ৮৪৪টি শেয়ারের বিপরীতে তারা বিতরণ করবে ৪৯ কোটি ২৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪২২ টাকা।

স্ট্যান্ডার্ন্ড ব্যাংক ৩ শতাংশ বোনাস শেয়ারের পাশাপাশি তার ১০৩ কোটি ১১ লাখ ৪০ হাজার ৫৫টি শেয়ারের জন্য নগদে বিতরণ করবে ৩০ কোটি ৯৩ লাখ ৪২ হাজার ১৬৭ টাকা।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক ১ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি তার ৮১ কোটি ৬০ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৮টি শেয়ারের জন্য ৩ শতাংশ হিসাবে ২৪ কোটি ৪৮ লাখ ৯ হাজার ৪০১ টাকা লভ্যাংশ দেবে।

সবচেয়ে কম ১৬ কোটি ৭১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৪ টাকা লভ্যাংশ দেবে এবি ব্যাংক। ৩ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি ২ শতাংশ নগদ হিসেবে এই লভ্যাংশ বিতরণ করবে তারা।

কেবল বোনাস

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ১০ শতাংশ বোনাস। এই হিসাবে ব্যাংকটি তার বিদ্যমান ১২৭ কোটি ৮৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৪৯টি শেয়ারের বিপরীতে আরও ১২ কোটি ৭৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫০টি শেয়ার ইস্যু করবে।

তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ২০১৯ সালে বোনাসের পাশাপাশি ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এর পর আবার দুই বছর বোনাস শেয়ারে ফিরে গেল ব্যাংকটি। বিদ্যমান ৮১ কোটি ২৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬৬০টি শেয়ারের বিপরীতে আরও ৮ কোটি ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬০টি শেয়ার ইস্যু করবে।

টানা বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে আসা আইএফআইসি ব্যাংক এবারও তার ১৭০ কোটি ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬১টি শেয়ারের ৫ শতাংশ হিসাবে সাড়ে ৮ কোটির বেশি বোনাস শেয়ার দেবে।

ব্যাংকের নগদ লভ্যাংশই পৌনে ৩ হাজার কোটি টাকা

২০২০ সালে নগদ লভ্যাংশ বিতরণ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তিতে পড়া ওয়ান ব্যাংক এবার কেবল বোনাস লভ্যাংশ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংকটির আয় কমে যাওয়ার পর ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার বিতরণ করার ঘোষণা এসেছে।

ব্যাংকটির শেয়ারসংখ্যা ৯৩ কোটি ৪০ লাখ ৪০ হাজার ৪৫৬টি। নতুন করে ইস্যু হবে আরও ৪ কোটি ৬৭ লাখ ২ হাজার ২২টি।

রাষ্ট্রায়াত্ত রূপালী ব্যাংকও এখন পর্যন্ত কেবল বোনাস শেয়ার ইস্যুর ধারাবাহিকতা থেকে বের হতে পারেনি। এবার ব্যাংকটি ২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ব্যাংকটির বিদ্যমান শেয়ার ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯৫টির বিপরীতে নতুন করে ইস্যু হবে ৯১ লাখ ১১ হাজার ৭১০টি শেয়ার।

লভ্যাংশ নেই

ঋণ কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া ওরিয়েন্টাল ব্যাংক আইসিবি ইসলামী নামে কার্যক্রম শুরু করার পর প্রায় দেড় যুগেও মুনাফার মুখ দেখেনি। এবারও তারা লোকসান করার পর লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক ৩০ এপ্রিল গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য লভ্যাংশ এবং চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের হিসাব প্রকাশের জন্য পর্ষদ সভা ডেকেছিল।

এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ১৮ পয়সা লোকসানের কথা গণমাধ্যমে এসেছে। তবে লভ্যাংশসংক্রান্ত সভায় কী হয়েছে, সে বিষয়ে এনবিএলের কোনো বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে আসেনি। কোম্পানিটির ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

আরও পড়ুন:
চতুর্থ প্রান্তিকে বিপর্যয়, ওয়ান ব্যাংকের লভ্যাংশ তলানিতে
চতুর্থ প্রান্তিকে ‘বিপর্যয়’, তিন বছর পর বাড়ল লভ্যাংশ
পুঁজিবাজারে এসেই কমল আয়
আয় বেড়ে আড়াই গুণ, লভ্যাংশ তলানিতে
পাঁচ বছর ধরেই একই হারে লভ্যাংশ এসআইবিএলের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অর্থ-বাণিজ্য
Mass to two percent again to prevent collapse

পতন ঠেকাতে আবার ‘দুই শতাংশে ভর’

পতন ঠেকাতে আবার ‘দুই শতাংশে ভর’
ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পুঁজিবাজারে ধস ঠেকাতে গত ৮ মার্চ এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়টি বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিলেও পরে দেখা যায়, এটি লেনদেন কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে উঠে আসে। পরে ২০ এপ্রিল দর পতনের সীমা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়।

পুঁজিবাজারে এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা আবার ২ শতাংশে নামিয়ে এনেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

ঈদের পর থেকে অব্যাহত দরপতনের মধ্যে বুধবার এই সিদ্ধান্ত জানায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, যা বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে।

বিকেলে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এক দিনে দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা আগের মতোই ১০ শতাংশ থাকবে।

এই সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে পাঁচ টাকার নিচে থাকা কোনো কোম্পানির শেয়ারদর কমতে পারবে না, কেবল বাড়া সম্ভব। ৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে ৯ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ১০ পয়সা। ১০ টাকা থেকে ১৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত কমতে পারবে সর্বোচ্চ ২০ পয়সা।

১৫ টাকা থেকে শুরু করে ১৯ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ৩০ পয়সা, ২০ টাকা থেকে ২৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ৪০ পয়সা, ২৫ টাকা থেকে ২৯ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা।

৩০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমবে সর্বোচ্চ ৬০ পয়সা, ৩৫ টাকা থেকে ৩৯ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত শেয়ারের দর কমতে পারবে সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা। ৪০ টাকা থেকে ৪৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮০ পয়সা, ৪৫ টাকা থেকে ৪৯ টাকা ৯০ পয়সা পয়সা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা এবং ৫০ টাকা থেকে ৫৪ টাকা ৯০ পয়সা পয়সা পর্যন্ত শেয়ারে সর্বোচ্চ এক টাকা দর কমতে পারবে।

ঈদের পর পুঁজিবাজারে ধসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে নানা সিদ্ধান্তের পরও বাজার পড়তে থাকার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।

ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পুঁজিবাজারে ধস ঠেকাতে গত ৮ মার্চ এক দিনে দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ১০ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে এই বিষয়টি বাজারের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিলেও পরে দেখা যায়, এটি লেনদেন কমে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে উঠে আসে।

পুঁজিবাজারে এক দিনে কোনো কোম্পানির ২ শতাংশ দরপতন মোটেও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। দাম কমলে শেয়ারের চাহিদা বাড়লে আবার দর বাড়ার প্রবণতাও দেখা দেয়। কিন্তু ২ শতাংশের এই নির্দেশনা আসার পর দেখা যাচ্ছিল, ২ শতাংশ দাম কমে গেলে শেয়ারের আর ক্রেতা পাওয়া যায় না। এভাবে দিনের পর দিন কোম্পানিগুলোর দরপতন হচ্ছিল। আর ক্রেতা না থাকায় লেনদেন ক্রমেই কমছিল।

রোজা শুরুর আগে বাজারে এক হাজার এক শ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হলেও গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল তা নেমে আসে চার শ কোটি টাকার ঘরে।

এরপর ২০ এপ্রিল দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। লেনদেন বাড়তে থাকে।

তবে ঈদের পর আবার বাজার পতনের ধারায় ফিরে যায়। টানা আট কর্মদিবসে ৫৫৫ পয়েন্ট সূচক পড়ার পর রোববার রোববার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সঙ্গে।

বৈঠকে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দেন মন্ত্রী। সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে ব্যাংকগুলো আইসিবির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে যে বিনিয়োগ করবে, সেটাকে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগসীমার (এক্সপোজার লিমিট) বাইরে রাখা হবে।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য আইসিবিকে দেয়া ১৫৩ কোটি টাকার যে তহবিলের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেটির মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তহবিলের আকারও বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশও দেন মন্ত্রী।

এই বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ১১৮ পয়েন্টের উত্থান হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে শঙ্কা রয়ে গিয়েছিল, সেটির প্রমাণ পাওয়া যায় লেনদেনেই। বাজারে সক্রিয় না হয়ে আরও অপেক্ষার নীতি নেয়ায় লেনদেন কমে যায় অনেকটাই।

এই ১১৮ পয়েন্টের মধ্যে ৭৩ পয়েন্ট হারিয়ে যায় দুই দিনে। এরপর বিকেলে দরপতনের সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনায় উত্থানেও সতর্কতা
সাকিবের স্বর্ণের ব্যবসা: শোকজ নয়, জানতে চেয়েছে বিএসইসি
পুঁজিবাজার চাঙায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অর্থমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা
এবার ঋণসীমা বাড়িয়ে সামাল দেয়ার চেষ্টা
আবার ‘সেঞ্চুরিতে’ ১১ মাসের তলানিতে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
BSEC is going to open a Facebook page to prevent rumors

গুজব প্রতিরোধে ফেসবুক পেজ খুলতে যাচ্ছে বিএসইসি

গুজব প্রতিরোধে ফেসবুক পেজ খুলতে যাচ্ছে বিএসইসি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কার্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদেরকে সঠিক তথ্য দিতে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও লিংকডইন আইডি খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

পুঁজিবাজার নিয়ে সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য জানতে ফেসবুকে পেজ ও ও লিংকডইন আইডি খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নাম ব্যবহার করে গুজব ছড়িয়ে প্রতারণা রোধে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য বিনিয়োগকারীরা সঠিক তথ্য প্রদান এবং ভুয়া ফেসবুক পেজে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে নিজেদের অবস্থানের জানান দেয়া।

এর পাশাপাশি বিএসইসির নাম ব্যবহার করে যেসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, সেগুলো বন্ধেরও উদ্যোগ নেয়া হবে।

বিএসইসির নাম, লোগো ব্যবহার করে ফেসবুক পেজ বা অন্য কোনো সামাজিক মাধ্যমে পেজ খোলা অবৈধ। এ কারণে কমিশনের নাম ও লোগো ব্যবহার করে যেসব ফেসবুক, লিংকডইন, টুইটার সচল রয়েছে, সেগুলো অচিরে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেয়ারবাজার নিয়ে বেআইনিভাবে কমিশনের নাম ও লোগো ব্যবহার করে আসছিল এমন দুটি পেজ এর মধ্যে রয়েছে- https://www.facebook.com/bsecbangladesh ও https://www.facebook.com/SECBD/

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদেরকে সঠিক তথ্য দিতে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও লিংকডইন আইডি খোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

পুঁজিবাজারে দরপতন ও বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারদরে অস্বাভাবিক উত্থানের ক্ষেত্রে প্রায়ই গুজবের বিষয়টি সামনে আসে। এসব ঘটনায় বিএসইসি আইনি পদক্ষেপও নিচ্ছে।

বাজারে আরও দরপতন হবে এবং কত পর্যন্ত সূচক কমবে- এমন স্ট্যাটাস দেয়ার ঘটনায় মাহবুবুর রহমান নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বন্ধ বিও থেকে লেনদেন নয়
পুঁজিবাজার নিয়ে গুজব ছড়ানোয় গ্রেপ্তার
পুঁজিবাজারে ধস: এবার ফ্লোর প্রাইস নয়
ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি
প্রথম নারী কমিশনার পেল বিএসইসি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
When to produce oil in Emerald

এমারেল্ডে তেল উৎপাদন কবে

এমারেল্ডে তেল উৎপাদন কবে এমারেল্ড অয়েলের স্পন্দন তেল ২০১৭ সালের পর থেকে আর বাজারে আসেনি।
মিলটির ইনচার্জ আহসান হাবিব বেগ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন মিলটি বন্ধ থাকায় অনেক যন্ত্রপাতি খারাপ হয়ে গেছে। তাই পুরোপুরি উৎপাদন চালু করতে দেরি হচ্ছে। চাহিদা থাকলেও আমাদের আগামী এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি খাওয়ার উপযোগী তেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাসের। চাপ কম থাকায় আমরা উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখতে পারি না।’

ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বাজারে টালমাটাল পরিস্থিতিতে সরকার দেশে ধানের কুঁড়ার তেল বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে- এমন একটি বক্তব্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমারেল্ড অয়েলের শেয়ারদরে দিয়েছে লাফ। তবে কোম্পানিটি কবে তেল উৎপাদন শুরু করতে পারবে, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছেন না কোম্পানিসংশ্লিষ্টরা।

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে মালিকরা জড়িয়ে পড়ার পর ২০১৭ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিটিতে প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা করছে মিনোরি বাংলাদেশ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

গত ৯ জানুয়ারি এমারেল্ডের পক্ষ থেকে ঢাকা ও চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জে উৎপাদন শুরুর নোটিশ এলেও পরিস্থিতি ভিন্ন।

সেই নোটিশে বলা হয়, পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সফল হওয়ার পর কোম্পানিটি সেদিন থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে।

কোম্পানিটি স্পন্দন ব্র্যান্ডের তেল বাজারজাত করে দেশে সাড়া ফেলেছিল। সয়াবিন তেল সংকটেও কোম্পানিটির সেই তেল বাজারে না আসার বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু বলতে এখনও মানুষের খাওয়ার উপযোগী তেল উৎপাদনের কাছাকাছি যেতে পারেনি কোম্পানিটি।

মিলটির ইনচার্জ আহসান হাবিব বেগ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমানে আমরা ক্রুড অয়েল তৈরি করছি। এটা খুলনায় পাঠানো হচ্ছে। এটি এখন মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।’

এই কর্মকর্তা জানান, চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি এই অশোধিত অয়েল উৎপাদন শুরু করা হয়। এই তেল পরিশোধন করে মানুষের খাওয়ার উপযোগী করে তোলার মতো যন্ত্রগুলো নষ্ট। তাও আবার গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে প্রায়ই।

কবে নাগাদ তেল পাওয়া যাবে- জানতে চাইলে আহসান হাবিব বেগ বলেন, ‘দীর্ঘদিন মিলটি বন্ধ থাকায় অনেক যন্ত্রপাতি খারাপ হয়ে গেছে। তাই পুরোপুরি উৎপাদন চালু করতে দেরি হচ্ছে।

‘চাহিদা থাকলেও আমাদের আগামী এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি খাওয়ার উপযোগী তেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা গ্যাসের। চাপ কম থাকায় আমরা উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখতে পারি না।’

এমারেল্ডে তেল উৎপাদন কবে
শেরপুরের শেরীপাড়ায় এমারেল্ড অয়েলের কারখানা

কোম্পানিটি থেকে তেল পাওয়ার অপেক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারাও। শহরের রাজাবাড়ী মহল্লার চান মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা স্পন্দন তেলডা খাইতাম। তেলডার মধ্যে ক্ষতিকর কিছু না থাকায় আমরা নিয়মিত খাইতাম।’

নয়ানী বাজারের আব্দুর রফিক বলেন, ‘স্পন্দন তেলের তো চাহিদা অনেক ছিল। হুনলাম, মালিক নাকি জেলে। তাই মেলটি বন্ধ হয়ে গেছেগা। এহন তো আমরা তেল খাইতে পারতাছি না। তেলডা তো বালাই আছিল। তাই আমরা চাই এই মিলডা থাইকা তেল তৈরি করা হোক।’

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভোজ্যতেলের আন্তর্জাতিক বাজারে দর বাড়ছেই। সেই সঙ্গে বাড়ছে দেশে। আবার দাম বাড়ার পর সরবরাহ সংকটেও ভোক্তাদের ভোগান্তি দেখা দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সরিষা ও ধানের কুঁড়ার বা রাইস ব্র্যান অয়েলের উৎপাদন বাড়ানো হবে।

গত ১৮ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা শুধু সয়াবিন ও আমদানিনির্ভর থাকব না, সয়াবিনের বিকল্প সরিষা ও রাইস ব্র্যান কিংবা ক্যানোলা তেল খাব, আমাদের সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

‘ইতোমধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে দেশে সরিষা ও রাইস ব্র্যান উৎপাদন বাড়ানোর। কৃষি মন্ত্রণালয় এ নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করছে।’

দেশে রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন ৫০ হাজার টন। সরকার হিসাব করে দেখেছে এটি সাত লাখ টনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটা যদি আমরা করতে পারি, তাহলে আমাদের মোট ভোজ্যতেলের চাহিদার ২৪ থেকে ২৫ পার্সেন্ট রাইস ব্র্যান থেকেই মিটে যাবে।

মন্ত্রী এই বক্তব্য দেয়ার দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৩২ টাকা। পরদিন লাফ দিয়ে দাম উঠে যায় ৩৪ টাকা ৮০ পয়সায়।

পুঁজিবাজার এখন টালমাটাল পরিস্থিতিতে থাকলেও এই কোম্পানিটির শেয়ারদর সেভাবে প্রভাব পড়েনি। বুধবার দর ৩৫ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

এমারেল্ড অয়েল উৎপাদনে যাবে, এমন সম্ভাবনায় মাস আটেক আগে শেয়ারদর এক পর্যায়ে ৪৫ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

এমারেল্ডে তেল উৎপাদন কবে
উৎপাদন শুরুর নিশ্চয়তা না থাকলেও সম্প্রতি এমারেল্ড অয়েলের শেয়ারদর বেড়ে চলেছে

২০০৯ সালে জামালপুরের সৈয়দ হাসিবুল গনি গালিব শেরপুর শহরে এই কারখানা গড়ে তোলেন। স্পন্দন নামে বাজারে ছাড়া এই তেল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চাহিদাও বাড়তে থাকে।

কোম্পানিটি ২০১৪ সালে ১০ টাকা করে অভিহিত মূল্যে ২ কোটি শেয়ার বিক্রি করে ২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে পুঁজিবাজার থেকে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার দুই বছর পর রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি মামলার কারণে ২০১৬ সালের ২৭ জুন থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় কোম্পানিটির। মামলার আসামি হয়ে মালিকপক্ষ উধাও হয়ে যায়।

শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বিএসইসি এ রকম রুগ্ণ বেশ কিছু কোম্পানিকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে একটি এমারেল্ড অয়েল।

এর অংশ হিসেবে জাপান প্রবাসী এক বাংলাদেশির কোম্পানি মিনোরি বাংলাদেশ কোম্পানিটি চালুর উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়।

২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বরে উৎপাদন চালুর ঘোষণা দিয়েও পারেনি কোম্পানিটি। এই ঘটনায় সে সময় কোম্পানিটিতে বিনিয়োগ করে আর্থিক লোকসানে পড়েন বিনিয়োগকারীরা।

আরও পড়ুন:
সোমবার উৎপাদনে ফিরছে আরএসআরএম স্টিল
এমারেল্ডে সাহায্যের হাত বিএসইসির
যে জটিলতায় আটকে এমারেল্ডের উৎপাদন
সেপ্টেম্বরে ‘জাগবে’ এমারেল্ডের স্পন্দন
জাপানি মিনোরিতে আবার জাগবে এমারেল্ডের স্পন্দন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
In the fall the transaction sank to the bottom

আবার পতনে লেনদেন নামল তলানিতে

আবার পতনে লেনদেন নামল তলানিতে
দিন শেষে কমেছে ২৫০টি কোম্পানির শেয়ার দর, বেড়েছে ৭৬টির আর অপরিবর্তিত থাকে ৪৯টির দর। লেনদেন হয়েছে ৫১২ কোটি ৭৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসের লেনদেনের পর সর্বনিম্ন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের বৈঠকের পর দিন উত্থান হলেও এরপর টানা দুই দিন দরপতন হলো পুঁজিবাজারে। বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তায় লেনদেনও নেমে এসেছে পাঁচ শ কোটির ঘরে।

সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবস বুধবার দর হারিয়েছে আড়াই শ টি কোম্পানি, যার মধ্যে দর পতনের সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়েছে বেশ কিছু কোম্পানি।

চলতি সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার ১১৫ পয়েন্ট পতনের পর দিন ১১৮ পয়েন্ট উত্থানে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে চাপ কাটবে ভেবেছিলেন যারা, তারা আবার হয়েছেন আশাহত।

মঙ্গলবার ৫০ পয়েন্ট দরপতন আস্থায় যতটা চিড় ধরিয়েছিল পর দিন আরও ২৩ পয়েন্টের পতন আরও আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে।

অবশ্য লেনদেন শুরুর সোয়া এক ঘণ্টায় সূচক ৭১ পয়েন্ট পড়ে গিয়েছিল। পরে বেলা দেড়টার দিকে এর পুরোটাই পুনরুদ্ধার হয়। কিন্তু শেষ ঘণ্টায় আবার পতন হয়।

দিন শেষে কমেছে ২৫০টি কোম্পানির শেয়ার দর, বেড়েছে ৭৬টির আর অপরিবর্তিত থাকে ৪৯টির দর।

লেনদেন হয়েছে ৫১২ কোটি ৭৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসের লেনদেনের পর সর্বনিম্ন।

অবশ্য গত এক যুগের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি থাকে কম, তখন লেনদেনও সেভাবে হয় না।

এবার ঈদের ছুটি শেষে ৫ মে কর্মদিবস থাকলেও পরের দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সেদিন লেনদেন ছিল কম। হাতবদল হয় ৪৬৮ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

তবে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে রোববারই লেনদেন ৯৭২ কোটি টাকা ছাড়ায়। এর পরের তিন কর্মদিবসে লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়ায়।

১২ মে থেকে বাজারে আবার লেনদেন ও সূচক কমতে থাকে।

আবার পতনে লেনদেন নামল তলানিতে
সোমবার উত্থানের পর টানা দুই দিন দরপতন দেখল বিনিয়োগকারীরা

ঈদের অবসর শেষে টানা আট কর্মদিবসে ৫৫৫ পয়েন্ট সূচকের পতনের পর রোববার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সঙ্গে।

বৈঠকে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দেন মন্ত্রী। সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে ব্যাংকগুলো আইসিবির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে যে বিনিয়োগ করবে, সেটাকে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগসীমার (এক্সপোজার লিমিট) বাইরে রাখা হবে।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য আইসিবিকে দেয়া ১৫৩ কোটি টাকার যে তহবিলের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেটির মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তহবিলের আকারও বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশও দেন মন্ত্রী।

এই বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ১১৮ পয়েন্টের উত্থান হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে শঙ্কা রয়ে গিয়েছিল, সেটির প্রমাণ পাওয়া যায় লেনদেনেই। বাজারে সক্রিয় না হয়ে আরও অপেক্ষার নীতি নেয়ায় লেনদেন কমে যায় অনেকটাই।

এই ১১৮ পয়েন্টের মধ্যে ৭৩ পয়েন্ট হারিয়ে গেল দুই দিনে।

পুঁজিবাজারের লেনদেন নিয়ে মিয়া আব্দুর রশিদ সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা শেখ ওহিদুজ্জামান স্বাধীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজারে এখন সমস্যা হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক। দাবি আদায়ের বাজার হয়ে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজার। বাজার খারাপের কোনো টেকনিক্যাল ইস্যু নেই। অভ্যন্তরীণ চাওয়া-পাওয়ার জেরেই বাজার এমন।

‘বাজার খারাপের ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে তাই পড়ছে, তাহলে যেদিন ১১৮ পয়েন্ট বাড়ল সেদিন কীভাবে অর্থনীতি ভালো হয়ে গেল? আবার পরের দিন যখন ৭০ পয়েন্ট পড়ল তখন কি একদিনই অর্থনীতি খারাপ হয়ে গেল?

‘মূল ব্যাপারটা হচ্ছে, বাজারকে স্বাভাবিক নিয়মে চলতে দেয়া হচ্ছে না। যখন ইচ্ছা হচ্ছে তখন কেনা হচ্ছে, যখন ইচ্ছা হল না তখন কিনছে না, এ রকম পদ্ধতিতে বাজার চলছে।’

তিনি বলেন, 'শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও কলম্বো স্টক এক্সচেঞ্জ রাইজিংয়ের মধ্যে আছে। পাকিস্তানের অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ অবস্থানে। তারপরও তাদের স্টক মার্কেট হাই। এমনকি ভারতেও তাই। কিন্তু বাংলাদেশের এই অবস্থা!’

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, 'মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো সেল প্রেসার বাড়িয়েছে। একদমই বাই করছে না। কারণ তারা নিচে নামিয়ে কিনতে চায়।'

'এর আগে যখন বাজারের সূচক ৫ হাজারের নিচে নেমে যায় তখন মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো আট হাজার কোটি টাকার মতো লাভ করেছে, সেটা পত্রপত্রিকায় আমরা দেখেছি। মার্কেট পড়লে আবার তারা কিনবে।'

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজার চাঙায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অর্থমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা
এবার ঋণসীমা বাড়িয়ে সামাল দেয়ার চেষ্টা
আবার ‘সেঞ্চুরিতে’ ১১ মাসের তলানিতে পুঁজিবাজার
আরও পড়ল পুঁজিবাজার, এক সপ্তাহে হাওয়া ৩০৭ পয়েন্ট
আরও পতনে দিশেহারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Sri Lankan companies are coming to the countrys capital market

ব্রোকারেজ ব্যবসায় নামছে শ্রীলঙ্কান কোম্পানি

ব্রোকারেজ ব্যবসায় নামছে  শ্রীলঙ্কান কোম্পানি রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাল সিকিউরিটিজের বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু নিয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে ব্যবসা শুরুর আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে ক্যাল সিকিউরিটিজ বিএসইসি থেকে শেয়ার কেনাবেচায় স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার লাইসেন্স পেয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, এই ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে বেটা ওয়ান মার্চেন্ট ব্যাংক লিমিটেডকে অধিগ্রহণ করেছে, যার কার্যক্রম চলমান।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ ব্যবসায় আসছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক শ্রীলঙ্কান বহুজাতিক কোম্পানি ক্যাল সিকিউরিটিজ।

আগামী ১ জুন থেকে যৌথ মূলধনি কোম্পানি হিসেবে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করছে তারা।

ব্রোকারেজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার কেনাবেচার বাইরেও সঠিক বিনিয়োগে সহায়তা করতে গবেষণানির্ভর ব্যবসা পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) অডিটরিয়ামে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা শুরুর পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কোম্পানির চেয়্যারম্যান অজিত ফার্নান্দো, পরিচালক ও বাংলাদেশি অংশীদার গ্রামীণফোনের সাবেক ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ আহমেদ রায়ান সামসি, চিফ অপারেটিং অফিসার (সিইও) জুবায়ের মহাশিন কবির, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজেশ সাহা, পুষ্প রাজাসহ অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে ব্যবসা শুরুর আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে শেয়ার কেনাবেচায় স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার লাইসেন্স পেয়েছে ক্যাল সিকিউরিটিজ। শুধু তাই-ই নয়, এই ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে বেটা ওয়ান মার্চেন্ট ব্যাংক লিমিটেডকে অধিগ্রহণ করেছে, যার কার্যক্রম চলমান।

মালিকানা পরিবর্তনের পর প্রতিষ্ঠানটি ক্যাল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড নামে পরিচালিত হবে, যা এ দেশের পুঁজিবাজারের বৈশ্বিক বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে কোম্পানির চেয়ারম্যান অজিত ফার্নান্দো বলেন, ‘ক্যাল বাংলাদেশ গতানুগতিক ব্যবসার বাইরে গিয়ে ব্রোকারেজে নতুন মাত্রা যুক্ত করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা শুরুর আগেই বাংলাদেশের মাইক্রো অর্থনীতির ওপর একটি গবেষণা করেছি, যাতে দেখা গেছে বাংলাদেশে আগামী দিনে বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনেক বেশি। পুঁজিবাজারও অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই আমরা।’

‘আমরা আরও দেখেছি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্যাপিটাল মার্কেটের গুরুত্ব এই মুহূর্তে অনেক বেশি। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই আমরা। এর মাধ্যমে আমরা শুধু গতানুগতিক শেয়ার কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ থাকব না; বরং পুঁজিবাজার ও অর্থনীতির উন্নয়নে বহুমুখী গবেষণাকাজেও জোর দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন খাতে এই গবেষণা সম্পর্কিত প্রতিবেদন আমরা বিশ্বের সেরা ফ্রন্টিয়ার কোম্পানিগুলোর কাছে তুলে ধরব, যাতে তারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি ক্যাল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের নিবন্ধিত ক্লায়েন্টদের মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহী করার পাশাপাশি লাভ-লোকসানের পূর্বাভাস বুঝে শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রেও আমরা নেপথ্যে ভূমিকা রাখব।

এতে করে বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগও নিরাপদ হবে।’

‘শ্রীলঙ্কার অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। আপনারা সেখানে বিনিয়োগ না করে কেন বাংলাদেশে ব্যবসার পরিকল্পনা করছেন?’

এক সাংবাদিকের করা উল্লিখিত প্রশ্নের জবাবে অজিত ফার্নান্দো বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য চমৎকার পরিবেশ রয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে। সবচেয়ে বড় কারণ হলো এ দেশে ব্যবসা পরিচালনায় শ্রীলঙ্কার তুলনায় খরচ কম এবং মুনাফা বেশি।

‘তা ছাড়া বাংলাদেশে আগামী দিনে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রবল। ফলে কাজ করার অনেক সুযোগও আছে। সে কারণে আমরা বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছি।’

কোম্পানির পরিচালক আহমেদ রায়হান শামসি বলেন, ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নতুন মাত্রায় অবদান রাখতে চায় ক্যাল বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপী ফ্রন্টিয়ার মার্কেটে প্রতিষ্ঠানটির ২২ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

‘এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ পুঁজিবাজারে কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই কোম্পানিটির সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজ করতে সম্মত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অর্থনীতির দিক থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে। আগামী ২০ বছর পরে আরও ভালো অবস্থানে যাবে। এই সম্ভাবনা দেখে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছে।

‘এই ব্যবসা শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে, যা বাংলাদেশের সুনাম বা ব্র্যান্ড ইমেজ বাড়াবে। বৈশ্বিক বিনিয়োগও ত্বরান্বিত করবে।’

রাজেশ সাহা বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তি এবং গবেষণানির্ভর বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যপূর্ণ বিনিয়োগ পণ্য এবং সেবা চালু করবে, যা বিনিয়োগকারী এবং পুঁজি উত্তোলনকারী উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সংযোজন করতে ভূমিকা রাখবে।’

কোম্পানির পরিচালক পুষ্প রাজা বলেন, ‘একটি গবেষণা করেছি, যাতে দেখা গেছে বাংলাদেশে আগামী বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনেক বেশি।’

আরও পড়ুন:
এবার ঋণসীমা বাড়িয়ে সামাল দেয়ার চেষ্টা
আবার ‘সেঞ্চুরিতে’ ১১ মাসের তলানিতে পুঁজিবাজার
আরও পড়ল পুঁজিবাজার, এক সপ্তাহে হাওয়া ৩০৭ পয়েন্ট
আরও পতনে দিশেহারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী
ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Disappointment again in the rise and fall of tickle

টিকল না উত্থান, দরপতনে আবার হতাশা

টিকল না উত্থান, দরপতনে আবার হতাশা
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ সাদেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজার নিয়ে আর কী বলব, কিছুই বলার নাই। কী বলব বুঝতে পারছি না। এত সাপোর্ট, এত কিছু- ভেবেছিলাম বাজার এবার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু একদিন বেড়েই আবার সেই পতন। কিছুই বলার নেই।’

পতনমুখী পুঁজিবাজারকে টেনে তুলতে দেয়া একগুচ্ছ সিদ্ধান্তও বাজারে আস্থা ফেরাতে পারেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নানা ঘোষণায় যে উত্থান হয়েছিল, সেটি টিকল না এক দিনও।

সোমবার ১১৮ পয়েন্ট সূচক বাড়ার সুখস্মৃতি নিয়ে লেনদেন শুরু করা পুঁজিবাজারে মঙ্গলবার পতন হলো ৫০ পয়েন্ট।

লেনদেন শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগেও সূচক পড়ে যায় ৭১ পয়েন্ট। তবে শেষ সময়ের সমন্বয়ে এই সূচক সেখান থেকে ২১ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয় লেনদেন।

গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া বড় দরপতনে যে চিত্র প্রতিদিন দেখা গেছে, সেটি দেখা গেল আবার। এদিনও একপর্যায়ে সূচক বেড়ে গিয়ে আশা তৈরি করে পরে হতাশ করেছে বিনিয়োগকারীদের।

শেয়ারদর ও সূচকের পতন হয়েছে মূলত শেষ সময়ে, যাতে বোঝা যায়, দেড় দিনের উত্থানের সুযোগে মুনাফা তুলে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। অর্থাৎ পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে, এমন আশায় শেয়ার ধরে না রেখে যে মুনাফা হয়েছে, সেটিই নিয়ে নিয়েছেন তারা।

টিকল না উত্থান, দরপতনে আবার হতাশা
১১৮ পয়েন্ট সূচক বৃদ্ধির পর দিন শেয়ারদর আরও বেড়েও পরে শেষ বেলায় কমে যায় অনেকটাই

ঈদের অবসর শেষে টানা আট কর্মদিবসে ৫৫৫ পয়েন্ট সূচকের পতনের পর রোববার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআরর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সঙ্গে।

বৈঠকে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দেন মন্ত্রী। সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে ব্যাংকগুলো আইসিবির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে যে বিনিয়োগ করবে, সেটাকে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগসীমার (এক্সপোজার লিমিট) বাইরে রাখা হবে।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য আইসিবিকে দেয়া ১৫৩ কোটি টাকার যে তহবিলের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেটির মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তহবিলের আকারও বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশও দেন মন্ত্রী।

এই বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ১১৮ পয়েন্টের উত্থান হলেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে শঙ্কা রয়ে গিয়েছিল, সেটির প্রমাণ পাওয়া যায় লেনদেনেই। বাজারে সক্রিয় না হয়ে আরও অপেক্ষার নীতি নেয়ায় লেনদেন কমে যায় অনেকটাই।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক আহমেদ সাদেক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাজার নিয়ে আর কী বলব, কিছুই বলার নাই। কী বলব বুঝতে পারছি না। এত সাপোর্ট, এত কিছু- ভেবেছিলাম বাজার এবার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু একদিন বেড়েই আবার সেই পতন। কিছুই বলার নেই।’

সূচক পতনের দিন লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বাড়ে। আগের দিন লেনদেন ছিল ৬৫৮ কোটি ৯৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। সেটি হয়েছে ৬৬০ কোটি ৪৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

আগের দিন প্রায় সাড়ে ৩০০ কোম্পানির দর বাড়লেও আজ কমে যায় পৌনে ৩০০ কোম্পানির দর।

দিন শেষে বাড়ে ৫৫টির দর, কমে যায় ২৭৮টির আর দর অপরিবর্তিত থাকে ৪৩টির।

এর মধ্যে সিরামিকস, চামড়া, টেলিযোগাযোগ, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের সব শেয়ারই দর হারিয়েছে।

প্রধান খাতগুলোর মধ্যে ওষুধ ও রসায়ন খাতে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। বাকি সব খাতেই দর হারিয়েছে সিংহভাগ কোম্পানি।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের ১৩টি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১৬টির।

প্রধান অন্য খাতগুলোর মধ্যে বস্ত্রে ৪টি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৫০টির দর, প্রকৌশণ খাতে ৬টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৩৪টি, সাধারণ বিমায় ৫ টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৩২টি, জীবন বিমায় ৩টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে ৯টির, খাদ্য খাতে ৩টির বিপরীতে ১৮টি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩টির বিপরীতে ২০টি, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ৪টির বিপরীতে ২০টি, বিবিধ খাতে ২টির বিপরীতে ১২টি, ব্যাংক খাতে ৬টির বিপরীতে ১৪টি, আর্থিক খাতে ৩টির বিপরীতে ১৩টি, তথ্য প্রযুক্তিতে একটির বিপরীতে ১০টি, সিমেন্টের একটির বিপরীতে ৫টি, সেবা ও আবাসনে একটির বিপরীতে ৩টির দর কমেছে।

ফের ঢালাও পতন

দর পতনের শীর্ষ তালিকায় সোনালী পেপার দেখালেও প্রকৃতপক্ষে এই কোম্পানিটির দর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদেরকে প্রতি দুটি শেয়ারের বিপরীতে একটি করে রাইট শেয়ার দিয়েছে, যার রেকর্ড ডেট ছিল সোমবার।

রেকর্ড ডেটে দর ছিল ৭২৮ টাকা ২০ পয়সা। দুটি শেয়ারে অভিহিত মূল্যে একটি রাইট শেয়ার দিলে একেকটি শেয়ারের দর দাঁড়ায় ৪৮৮ টাকা ৮০ পয়সা। দিন শেষে দর দাঁড়িয়েছে ৫৩১ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ দর বেড়েছে ৮.৭৩ শতাংশ।

এদিন সব মিলিয়ে ১৫টির মতো কোম্পানি দিনের দরপতনের সর্বোচ্চ সীমা পাঁচ শতাংশ বা কাছাকাছি কমে লেনদেন শেষ করেছে।

আরও ১৩টি কোম্পানির দর ৪ শতাংশের বেশি, ৩২টির দর ৩ শতাংশের বেশি, ৬৭টির দর ২ শতাংশের বেশি কমেছে।

বিপরীতে একটি কোম্পানিও দিনের দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ ছুঁতে পারেনি। সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া সিলকো ফার্মার দর বেড়েছে ৬.৮৫ শতাংশ।

এর বাইরে দুটি কোম্পানির দর ৫ শতাংশের বেশি, ৪টির দর ৪ শতাংশের বেশি, দুটির দর ৩ শতাংশের বেশি, তিনটির দর ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সূচকের পতন যাদের কারণে

সূচক সবচেয়ে বেশি ৫.৯৩ পয়েন্ট কমিয়েছে ওয়ালটন। কোম্পানিটির দর কমেছে ১.৬২ শতাংশ। সোনালী পেপারের রাইট শেয়ারের সঙ্গে দর সমন্বয়ে সূচক কমেছে ৪.৭৭ পয়েন্ট। গ্রামীণ ফোনের দর ০.৮৫ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৩.৮৮ পয়েন্ট।

এছাড়া ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো ২.১৫ পয়েন্ট, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট ২.০৫ পয়েন্ট, বেক্সিমকো ফার্মা ১.৯৭ পয়েন্ট, বেক্সিমকো লিমিটেড ১.২৬ পয়েন্ট, ও বিএসআরএম স্টিল ০.৯১ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে।

সব মিলিয়ে সূচক যতটা কমেছে, তার অর্ধেকের বেশি, অর্থাৎ ২৬ পয়েন্টই কমিয়েছে এই ১০টি কোম্পানি।

অন্যদিকে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে, এমন একটি কোম্পানিও এক পয়েন্ট বাড়াতে পারেনি। সব মিলিয়ে ১০টি কোম্পানি সম্মিলিতভাবে বাড়াতে পেরেছে ৪.১১ পয়েন্ট।

আরও পড়ুন:
আবার ‘সেঞ্চুরিতে’ ১১ মাসের তলানিতে পুঁজিবাজার
আরও পড়ল পুঁজিবাজার, এক সপ্তাহে হাওয়া ৩০৭ পয়েন্ট
আরও পতনে দিশেহারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী
ডিএসইর কাছে ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে আইসিবি
ইউনিলিভারের শেয়ারে ৪৪ টাকা লভ্যাংশ অনুমোদন

মন্তব্য

অর্থ-বাণিজ্য
Another support for the capital market

পুঁজিবাজারের জন্য আরেক ‘সাপোর্ট’

পুঁজিবাজারের জন্য আরেক ‘সাপোর্ট’
ঈদের অবসরের পর টানা পড়তে থাকা পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণের সীমা বাড়ানোর পর এবার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সীমা বাড়াল বিএসইসি। পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বৈঠকের পর দিন এই আদেশ জারি করা হয়।

পতনমুখি পুঁজিবাজারকে টেনে তুলতে আরও একটি সিদ্ধান্ত নিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, যা বাজারে তারল্য বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসে বড় উত্থানের পর সোমবার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগসীমা বাড়িয়ে তিন গুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

কমিশন জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে তারল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাট অফ ডেট এ যোগ্য বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগসীমা বাড়িয়ে তিন কোটি টাকা করা হয়েছে। এতদিন এই সীমা ছিল এক কোটি টাকা।

কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে কমিশনের ৮২৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

রোববার পর্যন্ত আট কর্মদিবসে ৫৫৫ পয়েন্ট সূচক পতনের পর তারল্য বাড়াতে দুই দিনে এটি বিএসইসির দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত। আগের দিন মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:০৮ থেকে বাড়িয়ে ১:১ করা হয়।

তবে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে এই সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের নানা নির্দেশনা।

রোববার ১১৫ পয়েন্ট পতনের পর মন্ত্রী পুঁজিবাজার ইস্যুতে বসেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআরর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সঙ্গে।

বৈঠকে বাজার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দেন মন্ত্রী। সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে ব্যাংকগুলো আইসিবির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে যে বিনিয়োগ করবে, সেটাকে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগসীমার (এক্সপোজার লিমিট) বাইরে রাখা হবে।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য আইসিবিকে দেয়া ১৫৩ কোটি টাকার যে তহবিলের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেটির মেয়াদ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তহবিলের আকারও বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এবং আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশও দেন মন্ত্রী।

এই বৈঠকের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ১১৮ পয়েন্টের উত্থান বিনিয়োগকারীদের মনের চাপ অনেকটাই দূর করেছে।

তবে এই উত্থানেও বিনিয়োগকারীরা যে পুরোপুরি সক্রিয় হননি, সেটি স্পষ্ট লেনদেনে। আগের দিনে ধসে যত টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছিল, এবার উত্থানেও হয়নি ততটা।

রোববার ১১৫ পয়েন্ট সূচকের পতনের দিন লেনদেন ছিল ৬৮২ কোটি ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। পরদিন ১১৮ পয়েন্ট সূচক বাড়ার দিন হাতবদল হলো ৬৫৮ কোটি ৯৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকার।

বাজারে লেনদেন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিএসইসির আসা আদেশে বলা হয়, পেনশন ফান্ড এবং স্বীকৃত প্রোভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচ্যুইটি ফান্ড ব্যতীত অন্যান্য যোগ্য বিনিয়োগকরীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা ১ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

আর অনুমোদিত পেনশন ফান্ড এবং স্বীকৃত প্রোভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচ্যুইটি ফান্ডের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ৫০ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে দেড় কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পেনশন ফান্ড এবং স্বীকৃত প্রোভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচ্যুইটি ফান্ড ইলেকট্রনিক্স সাবসক্রিপশন সিস্টেমে (ইএসএস) নিবন্ধনের জন্য এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) অনুমোদিত কপি এবং নিরীক্ষিত আর্থিক ও ব্যাংক বিবরণী যাচাই করতে হবে।

আরও পড়ুন:
অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনায় উত্থানেও সতর্কতা
সাকিবের স্বর্ণের ব্যবসা: শোকজ নয়, জানতে চেয়েছে বিএসইসি
পুঁজিবাজার চাঙায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে অর্থমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা
এবার ঋণসীমা বাড়িয়ে সামাল দেয়ার চেষ্টা
আবার ‘সেঞ্চুরিতে’ ১১ মাসের তলানিতে পুঁজিবাজার

মন্তব্য

p
উপরে