৩০ কোম্পানির ২৯টি দর হারাল ‘সর্বোচ্চ’

নতুন করে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়া ৩০ কোম্পানির সব কটি দাম হারিয়েছে রোববার। ছবি: নিউজবাংলা

৩০ কোম্পানির ২৯টি দর হারাল ‘সর্বোচ্চ’

যেসব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস কমানো হয়েছে, সেগুলোর একটি বিশেষ সুবিধা আছে। তা হলো অন্যগুলোর মতোই এগুলোর দাম ১০ শতাংশ বাড়তে পারবে, কিন্তু কমতে পারবে দুই শতাংশ। প্রথম দিন সব কটি কোম্পানি দর হারিয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি কোম্পানিই দাম সর্বোচ্চ পরিমাণের চেয়ে কম কমেছে।

নতুন করে যে ৩০টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন দর বা তুলে নেয়া হয়েছে, তার প্রতিটিই দর হারিয়েছে। এসব কোম্পানির দর হারানোর প্রান্তসীমা ছিল দুই শতাংশ। আর একটি ছাড়া সবগুলোই এই পরিমাণ দর হারিয়েছে।

এর আগে ফ্লোর তুলে দেয়া ৬৬ কোম্পানির মতোই এই কোম্পানির ক্ষেত্রেও একটি প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। আর তা হলে ফ্লোর প্রাইসে কোনো কোনোদিন একটি শেয়ারও হাতবদল না হলেও ‘মুক্ত’ হয়ে যাওয়ার পর সব কটি কোম্পানিই লেনদেন হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এরপর প্রথম লেনদেন হয়েছে রোববার।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ার পর শেয়ার মূল্যে দেখা দেয়া ধস ঠেকাতে এই ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়া হয় সবগুলো শেয়ারের। কিন্তু শেয়ারের আয়, মৌলভিত্তি বিবেচনায় না এনে কেবল বাজারমূল্যের ভিত্তিতে এই সর্বনিম্ন দাম দেয়া হয়।

পরে দেখা যায়, বহু কোম্পানি বিপুল পরিমাণ লোকসান দিচ্ছে। আর এ কারণে বেঁধে দেয়া সেই মূল্য অযৌক্তিক হয়ে যায় আর সেই দামে শেয়ার হাতবদল হচ্ছিল না বললেই চলে।

এই পরিস্থিতিতে প্রথমে ৭ এপ্রিল ৬৬টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়া হয়। সেই কোম্পানিগুলোর প্রায় অর্ধেক এখন বেঁধে দেয়া ফ্লোর প্রাইসের ওপরে উঠে গেছে। আর প্রতিদিনই বেশ ভালো পরিমাণে লেনদেন হচ্ছে।

এর পরেও আরও বেশ কিছু কোম্পানি থেকে যায়, যেগুলো লেনদেন হচ্ছিল না বললেই চলে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে তোলা হয় ৩০টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে কোনো ফ্লোর প্রাইস রাখা হবে না। কিন্তু একদিনে সবগুলো তুলে দিলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় তারা ধাপে ধাপে এই সিদ্ধান্ত নেবেন।

যেসব কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস কমানো হয়েছে, সেগুলোর একটি বিশেষ সুবিধা আছে। তা হলো অন্যগুলোর মতোই এগুলোর দাম ১০ শতাংশ বাড়তে পারবে, কিন্তু কমতে পারবে দুই শতাংশ।

কিন্তু শতকরা হিসাবের কারণে কোনো কোনো কোম্পানির দাম কমতে পারে দুই শতাংশের কম।

বিএসইসি চেয়ারম্যান নিউজবাংলার সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছিলেন, হঠাৎ করে এই সুবিধা উঠিয়ে দেয়া হলে তা পুঁজিবাজারের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। এজন্য পুঁজিবাজার যখন স্বাভাবিক হবে, বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি আস্থাশীল হবে তখন আস্তে আস্তে এসব সুযোগ উঠিয়ে দেয়া হবে।

কোনটার দাম কত কমল

রেনউইক যগেশ্বর ফ্লোর প্রাইস ছিল ৯০০ টাকা। রোববার কোম্পানিটির শেয়ার দর দিনের সর্বোচ্চ ২ শতাংশ কমে হয়েছে ৮৮২ টাকা।

ফ্লোর উঠানোর আগে বৃহস্পতিবার লেনদেন ছিল আটটি। সেটি বেড়ে হয়েছে ২১টি।

মুন্নু এগ্রোর দর ফ্লোর প্রাইস ৭৯৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে দুই শতাংশ কমে হয়েছে ৭৭৮ টাকা ৯০ পয়সা।

ফ্লোরে থাকার শেষ দিন কোনো শেয়ার হাতবদল না হলেও আজ লেনদেন হয়েছে ৩১টি।

নর্দার্ন জুট কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩২৪ টাকা ৯০ পয়সা। এটিও দর হারিয়েছে ২ শতাংশ। আজ ৩০৭টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৩১৮ দশমিক ৪০ পয়সায়। ফ্লোর উঠার আগে লেনদেন ছিল ১৮টি।

ইস্টার্ন কেবলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ১৪০ টাকা ১০ পয়সা। দুই টাকা ৮০ পয়সা বা দুই শতাংশ কমে এখন দাম হয়েছে ১৩৭ টাকা ৩০ পয়সা।

ফ্লোর উঠার আগের দিন ১১৬টি শেয়ার হাতবদল হলেও সেটি এখন বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৫৪৫টি

গত অর্থবছরে বিপুল পরিমাণ লোকসান দেয়া বাটা শুর ফ্লোর প্রাইস ৬৯৩ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছিল না বললেই চলে।

ফ্লোর মুক্ত দিনে ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে দাম হয়েছে ৬৭৯ দশমিক ৪০ পয়সা। লেনদেনও হয়েছে প্রায় তিন ‍গুণ।

বৃহস্পতিবার হাতবদল হয়েছেল ৭৯৯টি। আর রোববার হয়েছে দুই হাজার ১৯৭টি।

৩০ কোম্পানির ২৯টি দর হারাল ‘সর্বোচ্চ’
নতুন করে যে ৩০টি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়েছে

কোহিনুর ক্যামিকেলের ফ্লোর প্রাইস ছিল ৪৭২ টাকা ৮০ পয়সা। এর দরও ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে হয়েছে ৪৬৩ টাকা ৪০ পয়সা।

ফ্লোরে থাকার শেষ দিন কোনো লেনদেন না হওয়া কোম্পানিটির জট খুলেছে। ৫১৬টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

ওয়াটা ক্যামিকেল ফ্লোর প্রাইস ছিল ৩০৬ টাকা ৮০ পয়সা। ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে দাম হয়েছে ৩০০ টাকা ৭০ পয়সা।

আগের দিন ১১৬টি শেয়ার হাতবদল হলেও এর লেনদেন বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৫৪৮টি।

এপেক্স স্পিনিং এর দর ১৩০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে হয়েছে ১২৮ টাকা ১০ পয়সা।

ফ্লোরের শেষ দিন কোনো লেনদেন না হওয়া কোম্পানিটিরও জট খুলেছে। দাম কমার পর হাতবদল হয়েছে ৪০০টি।

সিভিও পেট্রো ক্যামিকেলের দাম ১১৫ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমে হয়েছে ১১৩ টাকা ১০ পয়সা।

আগের দিন মাত্র তিনটি শেয়ার হাতবদল হলেও ফ্লোর থেকে মুক্ত হওয়ার পর হাতবদল হয়েছে ৪১১টি।

স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের দর ৩০৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে হয়েছে ৩০১ টাকা ৮০ পয়সা।

তবে এটির লেনদেন কমেছে। আগের দিন ১২০টি শেয়া হাতবদল হলেও আজ হয়েছে ৯২টি।

সোনালী পেপারের দাম ২৭৩ টাকা থেকে ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে হয়েছে ২৬৭ টাকা ৬০ পয়সা।

এটিরও লেনদেন কমেছে। আগের দিন ২০টি হাতবদল হলেও আজ হয়েছে দুটি।

কে অ্যান্ড এর দর ২০৭ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে হয়েছে ২০৩ টাকা ৩০ পয়সা।

এটিরও লেনদেন কমেছে। আগের দিন লেনদেন হয় ৮৬৯টি। আজ হয়েছে একটি।

স্টাইলক্রাফটের দর ১৪৬ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে হয়েছে ১৪৩ টাকা ৩০ পয়সা।

আগের দিন ফ্লোর প্রাইসে দুই হাজার ৯৩টি শেয়ার লেনদেন হলেও এটি আজ হাতবদল হয়েছে দ্বিগুণ। লেনদেন হয়েছে চার হাজার ২৯২টি।

বিডিঅটোকারের দর ১৪৭ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমে হয়েছে ১৪৪ টাকা ৪০ পয়সা।

ফ্লোর প্রাইসের শেষ দিন তিনটি শেয়ার হাতবদল হলেও মুক্ত হওয়ার পর হাতবদল হয়েছে ৩৩৫টি।

মুন্নু সিরামিকের দর ১২৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমে হয়েছে ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা।

ফ্লোর প্রাইসের শেষ দিন ৭৪ শেয়ার হাতবদল হলেও মুক্ত হওয়ার পর হাতবদল হয়েছে এক হাজার ২৫১টি।

বঙ্গজের দাম ফ্লোর প্রাইস ১১৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ কমে হয়েছে ১১৪ টাকা ৬০ পয়সা।

এই কোম্পানিরও লেনদেন বেড়েছে। আগের দিন ফ্লোর প্রাইসে এক হাজার ৭২৬টি শেয়ার লেনদেন হলেও এটি আজ হাতবদল হয়েছে দুই হাজার ৪০৬টি।

৩০ কোম্পানির ২৯টি দর হারাল ‘সর্বোচ্চ’
প্রথম ধাপে ফ্লোর তুলে নেয়া ৬৬ কোম্পানি

এপেক্স ট্যানারির দাম ফ্লোর প্রাইস ১০৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে হয়েছে ১০৪ টাকা ৮০ পয়সা।

ফ্লোর প্রাইসের শেষ দিন ১০০টি শেয়ার হাতবদল হলেও মুক্ত হওয়ার পর হাতবদল হয়েছে দুই হাজার ২২৯টি।

সমতা লেদারের দর ফ্লোর প্রাইস ১০৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে হয়েছে ১০৪ টাকা ৮০ পয়সা।

আগের দিন ফ্লোর প্রাইসে একটি শেয়ার লেনদেন হলেও এটি আজ হাতবদল হয়েছে ১৭টি।

এপেক্স ফুটওয়্যারের দর ফ্লোর প্রাইস ২১৯ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে হয়েছে ২১৫ টাকা।

এই কোম্পানির এটিরও লেনদেন কমেছে। আগের দিন তিন হাজার ৩৫১টি শেয়ার হাতবদল হলেও আজ হয়েছে দুই হাজার ৪৬৭টি।

আজিজ পাইপের দর ফ্লোর প্রাইস ৯৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমে হয়েছে ৯৫ টাকা ৬০ পয়সা।

ফ্লোরে থাকার শেষ দিন ৭১০ শেয়ার হাতবদল হলেও মুক্ত হওয়ার পর লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৪৯৫টি।

ন্যাশনাল টিউবের দর ১০৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমে হয়েছে ১০১ টাকা ১০ পয়সা।

আগের দিন ১৪১টি শেয়ার হাতবদল হলেও আজ লেনদেন হয়েছে ৭০৮টি।

ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ৭২ টাকা ১০ পয়সা থকে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৭০ টাকা ৭০ পয়সা।

এটির লেনদেনও কমেছে। ফ্লোরে থাকার শেষ দিন ১০ হাজার শেয়ার হাতবদল হলেও দর কমার দিন লেনদেন হয়েছে দুই হাজার ৩৭৪টি।

ন্যাশনাল পলিমারের দর ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমে হয়েছে ৫৫ টাকা ৫০ পয়সা।

লেনদেন কমেছে এটিরও। ফ্লোরে থাকার শেষ দিন হাতবদল হয়েছে দুই লাখ ৫৩ হাজার ৩৫১টি। তবে আজ হাতবদল হয়েছে ৩৮ হাজার ১০৯টি।

জেমিনি সি ফুডের দর ফ্লোর প্রাইস ১৪৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমে হয়েছে ১৪১ টাকা ৫০ পয়সা।

এটির লেনদেনও কমেছে। ফ্লোরে থাকার শেষ দিন ৭১৮টি শেয়ার হাতবদল হলেও দর কমার দিন লেনদেন হয়েছে ৪৪৭টি।

এসকে ট্রিমসের দর ৬২ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে হয়েছে ৬১ টাকা।

ফ্লোরের শেষ দিন একটি শেয়ারও লেনদেন না হওয়া কোম্পানিটির ১৬টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

লিগ্যাসি ফুটওয়ারের দর ৬২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে হয়েছে ৬১ টাকা ৭০ পয়সা।

ফ্লোরে থাকার শেষ দিন এটিরও কোনো শেয়ার লেনদেন হয়নি। তবে আজ হাতবদল হয়েছে আট হাজার ১১৯টি।

সিপার্লের দর ফ্লোর প্রাইস ৭৯ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে হয়েছে ৭৭ টাকা ৭০ পয়সা।

ফ্লোরে থাকার শেষ দিন এটিরও কোনো শেয়ার লেনদেন হয়নি। তবে আজ হাতবদল হয়েছে ১১টি।

হাক্কানি পাল্পের দর ফ্লোর প্রাইস ৭৪ টাকা থেকে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে হয়েছে ৭২ টাকা ৬০ পয়সা।

এটির লেনদেনও কমেছে। ফ্লোরে থাকার শেষ দিন এক হাজার ১০১টি শেয়ার হাতবদল হলেও দর কমার দিন লেনদেন হয়েছে ২২টি।

ডেফোডিল কম্পিউটারের দর ফ্লোর প্রাইস ৫৩ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ কমে হয়েছে ৫২ টাকা ৪০ পয়সা।

এটির লেনদেনও কমেছে। ফ্লোরে থাকার শেষ দিন ২৯ হাজার ৯০টি শেয়ার হাতবদল হলেও দর কমার দিন লেনদেন হয়েছে ১৭ হাজার ২১টি।

একমাত্র শেয়ার হিসেবে এটলাসের দর সর্বনিম্ন সীমা থেকে কম কমেছে। কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস ছিল ১০৯ টাকা ৪০ পয়সা। দাম কমতে পারত ১০৭ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত। কিন্তু দিন শেষে দাম হয়েছে ১০৮ টাকা ৯০ পয়সা।

তবে এর লেনদেন হয়েছে ন্যূনতম। আগের দিন দুটি শেয়ার হাতবদল হওয়া কোম্পানিটির তিনটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে এটি।

‘দাম কমাই স্বাভাবিক’

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধন গবেষণা কমর্কতা দেবব্রত সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতদিন লেনদেন না হওয়ার কারণ কোম্পানিগুলোর ফ্লোর প্রাইস ছিল অতিমূল্যায়িত। এখন দর কমবে, বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনবে।’

আরও পড়ুন:
আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার
সেই ৬৬ কোম্পানির শেয়ারে এখন বাড়তি ‍সুবিধা
আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক
পুঁজিবাজারে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর প্রাইস
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হালাল ফুড: সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অংশীদারত্বে আগ্রহী ঢাকা

হালাল ফুড: সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অংশীদারত্বে আগ্রহী ঢাকা

‘বাংলাদেশ হালাল ফুড উৎপাদন করতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের নতুন প্রযুক্তি ও সহযোগিতা হালাল ফুড উৎপাদনে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ যৌথভাবে হালাল ফুড উৎপাদনে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরের সাথে কাজ করতে পারে। মিউচুয়াল রিকগনিশন, সার্টিফিকেশন এবং কোয়ালিটি নিশ্চিত করে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হালাল পণ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

হালাল ফুড রপ্তানিতে সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নেবে বাংলাদেশ। দেশটির নতুন প্রযুক্তি ও সহযোগিতা দেশের হালাল ফুড উৎপাদনে আরো সহায়ক হবে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাংলাদেশ হালাল ফুড উৎপাদনে সিঙ্গাপুরের সাথে যৌথভাবে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার ‘স্পট লাইট বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এই আগ্রহের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে ভার্চু্য়ালি যোগ দেন সিঙ্গাপুরের ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড মিনিস্টার ইন চার্জ অফ ট্রেড রিলেশনস এস. ইসওয়ারান।

ওয়েবিনারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সিঙ্গাপুরের ট্রেড রিলেশনস মিনিস্টারও বাংলাদেশে যৌথভাবে হালাল ফুড উৎপাদন, বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের অভিজ্ঞতা শেয়ার এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর, সিঙ্গাপুর ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাই কমিশন ইন সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, এফবিসিসিআই এবং বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অফ সিঙ্গাপুর যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে কাজ করছে। বিশ্ববাজারে হালাল ফুডের একটি বড় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে প্রায় ২.৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের হালাল পণ্যের বাজার সৃষ্টি হতে পারে।

‘বাংলাদেশ হালাল ফুড উৎপাদন করতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের নতুন প্রযুক্তি ও সহযোগিতা হালাল ফুড উৎপাদনে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ যৌথভাবে হালাল ফুড উৎপাদনে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরের সাথে কাজ করতে পারে। মিউচুয়াল রিকগনিশন, সার্টিফিকেশন এবং কোয়ালিটি নিশ্চিত করে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হালাল পণ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

টিপু মুনশি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘ভিশন-২০২১’ সফল করার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পেপারলেস ট্রেডে সক্ষমতা অর্জন করছে। এ জন্য বাংলাদেশ ইউএনএস্ক্যাপ এ চুক্তি সই করেছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা ভোগ করছে।

তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যে দক্ষতা অর্জন করে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশের সাথে এফটিএ বা পিটিএ স্বাক্ষরের এর মতো বাণিজ্য চুক্তি করে বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর এ ধরনের অনেক বাণিজ্যচুক্তি করেছে, তাই সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। এতে করে বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের সময় নেগোসিয়েশনে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে।

টিপু মুনশি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্সে বিশ্বে যে ২০ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ তার একটি।

বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগবান্ধব পরিস্থিতি বলেও মনে করেন মন্ত্রী। বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন আমদানি ও রপ্তানি অফিস, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস এর অফিস, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সেবা প্রদান ডিজিটাল করা হয়েছে, সেখানে অনলাইন সেবা চালু করা হয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আমদানি রপ্তানি সহজ করতে ন্যাশনাল সিংগেল উইনন্ডোজ চালু করেছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে নৌ ও আকাশ পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন অনেক উন্নত হয়েছে। পটুয়াখালীতে নতুন সমুদ্র বন্দর চালু হয়েছে, মোংলা সমুদ্র বন্দরকে আধুনিক করা হয়েছে, চট্রগ্রাম সমুদ্র বন্দরে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামের মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম। এতে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন এসবিএফ দক্ষিণ এশিয়া বিজনেস গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান প্রসন মুখার্জি, এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আয়সা আজিজ খান, সাউথ এশিয়া অ্যান্ড মিডিল ইস্ট পিএসএ-এর রিজিওনাল সিইও ওয়ান সি ফং, মার্কেটার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে এর বোর্ড মেম্বার আসিফ ইকবাল, গ্রামীণ ফোন এক্সেলেটর এর প্রধান মিনহাজ আনোয়ার।

আরও পড়ুন:
আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার
সেই ৬৬ কোম্পানির শেয়ারে এখন বাড়তি ‍সুবিধা
আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক
পুঁজিবাজারে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর প্রাইস
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজধানী ঢাকায় আম পাঠাতে কুরিয়ার সার্ভিসের তুলনায় এই বিশেষ ট্রেনে খরচ অনেক কম। কুরিয়ারে প্রতি কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা। আর ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ২ টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন’ উদ্বোধনের পর এক মাসের কম সময়ে ট্রেনটি ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৬ কেজি আম পরিবহন করেছে।

রাজধানী ঢাকায় আম পাঠাতে কুরিয়ার সার্ভিসের তুলনায় এই বিশেষ ট্রেনে খরচ অনেক কম। কুরিয়ারে প্রতি কেজি আম পাঠাতে খরচ পড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা। আর ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ২ টাকা।

জেলার রেলস্টেশনের মাস্টার মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৭ মে এই ম্যাঙ্গো ট্রেন উদ্বোধন করেন। গত ২১ জুন পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে এই ট্রেনের মাধ্যমে রেকর্ড পরিমাণ (৪ লাখ ৫৬ হাজার ৯২৬ কেজি) আম পরিবহন করা হয়েছে মাত্র ২৬ দিনে। গত বছর গোটা আম মৌসুমে ট্রেনে আম গিয়েছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭২ কেজি।

তিনি মনে করেন, খরচ কম হওয়ায় ট্রেনে আম পরিবহনে আগ্রহ বাড়ছে বাগানমালিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের।

উদ্বোধনের পর থেকেই সপ্তাহের সাত দিনই চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম নিয়ে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছে ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেন। প্রথম দিন ৯৬০ কেজি আম নিয়ে যাত্রা করলেও দিন যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে পরিমাণ।

ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে বুকিং দিতে রেলস্টেশনে এসেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের অনুপনগর গ্রামের নাঈম আলী। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে আম সরবরাহ করেন তিনি।

নিউজবাংলাকে নাঈম বলেন, ‘আমি এক ক্যারেট (২৫ কেজি) আম পাঠালাম (ঢাকায়) ৫০ টাকায়। যেখানে কুরিয়ারে এক কেজি আমেই লাগত ১২ টাকা। ট্রেনের আরেকটা সুবিধা হলো, পরের দিনই আম পৌঁছে যাচ্ছে। সেখানে কুরিয়ারে অনেক সময় দুই-তিন লেগে যায়। অনেক সময় আম পচেও যায়। অন্যদিকে ট্রেনে আম খুব সুন্দর থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আম পৌঁছানোর পর স্টেশন থেকে গ্রাহককে ফোন করে খবরটা জানানো হলে আরও ভালো হতো। ঠিক যেমন কুরিয়ার সার্ভিসের ক্ষেত্রে হয়।’

কুরিয়ারে ১৫ টাকা, ম্যাঙ্গো ট্রেনে ২ টাকা


স্পেশাল ট্রেনে আম বুকিং দিতে এসেছিলেন সাহাদাত হোসেন নামে সদর উপজেলার আরেক লোক। তিনি ঢাকায় মামার বাসায় আম পাঠাতে চান।

নিউজবাংলাকে সাহাদত বলেন, ‘কোনো কোনো কুরিয়ারে ঢাকায় এক কেজি আম পাঠাতে ১৫ টাকা লেগে যায়। অন্যদিকে ট্রেনে কুলি খরচসহ দুই টাকাতেই আম পাঠাতে পারছি। ট্রেনে বেশি সুবিধা, তাই ট্রেনেই পাঠাচ্ছি। এর আগেও একবার ১০ মণ আম পাঠিয়েছি।’

করোনার কারণে অনেক দিন রেলসেবা বন্ধ ছিল। এতে দীর্ঘ সময় বেকার ছিলেন কুলি, মজুর ও শ্রমিকরা। ম্যাঙ্গো ট্রেনের কারণে কাজ ফিরে পাওয়ায় তারাও এখন বেশ খুশি।

রেলস্টেশনে প্রায় ৩৬ বছর ধরে কুলির কাজ করেন আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে কোনো কাজ ছিল না। ম্যাঙ্গো ট্রেন চালু হওয়ায় কাজের সুযোগ হয়্যাছে, হ্যামরা খুশি… এ্যাতে খুশি, আল্লাহ আছে, আলহামদুল্লিহ, ভালো আছি।’

ম্যাঙ্গো স্পেশাল ট্রেনে আম পরিবহনের সুযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমকেন্দ্রিক বাণিজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করেন জেলার কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেনের মাধ্যমে প্রতি কেজি আম ১ টাকা ৩০ পয়সায় পরিবহনের সুযোগ এখানকার আমচাষিরা ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন। আমরা প্রত্যাশা করি, সারা বছরই এ সেবা অব্যাহত রাখবে রেলওয়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাল্টা, পেয়ারাসহ অন্য কৃষি পণ্য পরিবহনে সারা বছরই এমন সেবা চালু থাকলে উপকৃত হবে কৃষি খাত।’

আরও পড়ুন:
আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার
সেই ৬৬ কোম্পানির শেয়ারে এখন বাড়তি ‍সুবিধা
আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক
পুঁজিবাজারে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর প্রাইস
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

কোম্পানি আইন আরও সংশোধনের দাবি

কোম্পানি আইন আরও সংশোধনের দাবি

আইসিএবি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে ব্যবসা-বাণিজ্যের বৈশ্বিক সূচকে এবং বাংলাদেশে ব্যবসার পরিবেশের উন্নতির জন্য বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সহজ করার লক্ষ্যে বিদ্যমান কোম্পানি আইন আরও সংশোধন এবং রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসকে (আরজেএসসি) পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের দাবি জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশ (আইসিএবি) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এ দাবি জানান বক্তরা। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের পরিবেশের উন্নতির জন্য বেশ কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সভায় বক্তরা বলেন, বাংলাদেশের অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের বার্ষিক অডিট রিপোর্ট স্বচ্ছ নয়। আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে অডিট রিপোর্ট অবশ্যই স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে।

এ জন্য আন্তর্জাতিক নিরীক্ষণ স্ট্যান্ডার্ড (আইএসএ) এর মাধ্যমে অডিট রিপোর্ট নিরীক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। সভায় অডিটরদের ন্যূনতম নিরীক্ষা ফি নির্ধারণের পক্ষে মত দেয় আইসিএবি।

‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বাণিজ্য সচিব তপন ঘোষ প্রধান অতিথি ছিলেন। স্নেহাশীষ বড়ুয়া এফসিএ ও আইনজীবী তানজিব-উল আলম যৌথভাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আরজেএসসি-এর ভারপ্রাপ্ত নিবন্ধক এএইচএম আহসান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) পরিচালক জীবনকৃষ্ণ সাহা রায়, এমসিসিআই-এর সভাপতি ব্যারিস্টার নীহাদ কবির, বাংলাদেশের পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম. মাসরুর রিয়াজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের করপোরেট, বাণিজ্যিক ও ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং-এর প্রধান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক। আইসিএবির সাবেক সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির এফসিএ, অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

আইসিএবির বর্তমান সভাপতি মাহমুদুল হাসান খুসরু এফসিএ বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান কোম্পানি আইন আরও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। এই আইনের কিছু বিধান সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে গৃহীত পদক্ষেপের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা যেতে পারে। এটা করা হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আরও আকর্ষণ করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে উন্নত হবে ব্যবসার পরিবেশ।

আরও পড়ুন:
আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার
সেই ৬৬ কোম্পানির শেয়ারে এখন বাড়তি ‍সুবিধা
আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক
পুঁজিবাজারে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর প্রাইস
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

ব্যবসায় দরকার উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার

ব্যবসায় দরকার উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলে শ্রম ব্যয় বেড়ে যাবে। যেখানে সস্তায় পণ্য তৈরি হবে, ক্রেতারা যেখানেই চলে যাবে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে বাংলাদেশে এখনও ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটির বেশি প্রতিষ্ঠান হাতে লেখা ডকুমেন্ট ব্যবহার করে। আর তিন-চতুর্থাংশ প্রতিষ্ঠান এখনও হাতে-কলমে পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা করে থাকে।

বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ‘গিয়ারিং আপ ফর দি ফিউচার অফ ম্যানুফ্যাকচারিং ইন বাংলাদেশ’ প্রতিবেদনে এ হতাশাজনক তথ্য বের হয়ে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে অর্থনৈকি উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ সাফল্যের পেছনে তৈরি পোশাক খাতের বড় অবদান রয়েছে। দেশটির মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই আসে এই শিল্প থেকে। ৪০ লাখ শস্তা শ্রমিকের কারণে এই খাত সারা বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক হতে সক্ষম হয়েছে।

তবে অগ্রগতির এই চিত্র চিরকাল টিকে থাকবে এমনটি বলা যায় না। বাংলাদেশ একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হলে শ্রম ব্যয় বেড়ে যাবে। যেখানে শস্তায় পণ্য তৈরি হবে, ক্রেতারা যেখানেই চলে যাবে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়তে পারে দেশটি। মোট কথা, উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার না করলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যহত হবে।

‘বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির এই সঙ্কটকালে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য উৎপাদন খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়তেই হবে। আর এ জন্য বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই’ – বলা হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে আরও বলা হয়, দক্ষ ম্যানেজার, ডিজাইনার ও অন্যান্য কারিগরি বিশেষজ্ঞের অভাব বাংলাদেশের আবেদনকে আরও সীমিত করে তুলবে। কোভিড-১৯ এই চিত্রকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

‘তাহলে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ কী করতে পারে’- এমন প্রশ্ন রেখে প্রতিবেদনে প্রতিবেদনে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কম পারিশ্রমিকে প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণের পরিবর্তে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। সমগ্র উৎপাদন খাতে প্রযুক্তির ব্যবহারকে উন্নত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আরও জ্বালানি সাশ্রয়ী মেশিন ব্যবাহরসহ উন্নত শিল্পপ্রযুক্তি ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তবে শুধু এটুকুই যথেষ্ট নয়। ব্যবসায় পরিচালনায় মান বাড়াতে হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। এখনও দেশের ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪টির বেশি প্রতিষ্ঠান হাতে লেখা ডকুমেন্ট ব্যবহার করে। তিন-চতুর্থাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো হাতে কলমে গুণগতমান পরীক্ষা করে থাকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই আরও উন্নত ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। যেমন, আরও ভালো পরিকল্পনা ও কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা এবং প্রণোদনা ব্যবহার করা। কিন্ত অনেক প্রতিষ্ঠানই মনে করে না যে, তাদের উন্নয়নের দরকার আছে। অন্যরা জানেই না কিভাবে উন্নত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সহায়তা করতে পারে। নতুন নীতিমালা তিনটি ‘স’কে উন্নত করতে পারে- সামর্থ্য, সংযোগ এবং সম্পূরক বাজার।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য

বাংলাদেশে ম্যানেজারদের স্নাতক ডিগ্রি থাকলে প্রযুক্তি ব্যবহার ১০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু যারা ব্যবসায় চালাচ্ছেন, তাদের অর্ধেকেরই স্নাতক ডিগ্রি নেই। নীতিমালায় অবশ্যই শিক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির প্রতি সমর্থন থাকতে হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবশ্যই সাশ্রয়ী পরামর্শ সেবা পেতে এবং প্রাপ্ত সাধ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হতে সরকারকে সাহায্য করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ

যেসব প্রতিষ্ঠান বহুজাতিক সংস্থার সাথে কাজ করে, তারা স্থানীয় প্রর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে। প্রতিযোগিতার কারণেই নতুন হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার কিনে থাকে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের উপর বিধিনিষেধ অবশ্যই কমিয়ে আনতে হবে। তৈরি পোশাকের বাইরে অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকেও অবশ্যই শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির অনুমতি দিতে হবে। আমদানি প্রতিযোগিতা থেকে লাভবান হতে স্পেশাল বন্ডেড ওয়্যার হাউজ ব্যবহারের সুবিধা দিতে হবে, যা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সম্পূরক বাজার

প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রধান বাধা হিসাবে ছোট এবং মাঝারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অর্ধেকই অর্থায়নের অভাবকে দায়ি করে থাকে। নিয়মকানুন বিধিমালা মেনে চলার খরচ সম্পর্কেও তারা চিন্তিত। প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সহজে তাদের প্রযুক্তিগত চাহিদা পূরণের জন্য ঋণ পেতে পারে সে জন্য সরকারকে আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করতে হবে। ব্যবসা সংক্রান্ত বিধি-নিয়মের অপ্রয়োজীয়ন খরচ কমাতে হবে।

এই তিনটি ‘স’ বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সাশ্রয়ী এবং স্থানীয়ভাবে উপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহার করা শুরু করবে। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারবে। বাংলাদেশের উৎপাদন খাত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিসের আবাসিক প্রতিনিধি মার্সি টেম্বন বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক খাত ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এই খাত দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অবদান রাখছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অটোমেশনের কারণে এ খাতে কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে। মহামারি পরবর্তী মহাবিশ্বে এই প্রবণতা আরও ত্বরান্বিত হবে।

‘এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের সস্তা শ্রমিকনির্ভর উৎপাদনশীলতার প্রতিযোগিতা থেকে উচ্চ উৎপাদনশীলতার প্রতিযোগিতা করার জন্য জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। আর এ জন্য সবাইকে সবক্ষেত্রে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।’

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ এবং এই প্রতিবেদনের সহ-সমন্বয়ক সিদ্ধার্থ শর্মা বলেন, ‘বাংলাদেশের আরও উন্নয়নের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থানের দিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিৎ। সে কারণে তৈরি পোশাকসহ উৎপাদন প্রক্রিয়ার সব ক্ষেত্রেই আরও উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে। টেকসই এবং আরও ভাল বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশটিকে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। তাহলে বাংলাদেশের ভবিষৎ উজ্জ্বল হবে।

আরও পড়ুন:
আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার
সেই ৬৬ কোম্পানির শেয়ারে এখন বাড়তি ‍সুবিধা
আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক
পুঁজিবাজারে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর প্রাইস
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

বাজেট সংশোধন করে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর দাবি

বাজেট সংশোধন করে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর দাবি

প্রজ্ঞা ও আত্মা বলছে, সত্যিকার অর্থে ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করতে চাইলে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাইলে ভোক্তা বেশি খায় এমন কম দামি সিগারেটের ওপর বেশি হারে শুল্ক আরোপ করতে হবে। তা না হলে সরকারের লক্ষ্য অর্জিত হবে না।

জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে বাজেট সংশোধন করে কমদামি সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানোসহ সুনির্দিষ্ট করা আরোপের দাবি জানিয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের তামাকবিরোধী সংগঠন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)।

বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সভায় সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেট ও তামাকপণ্যে যে কর প্রস্তাব করা হয়েছে, তা কার্যকর হলে সব ধরনের তামাকপণ্য আরও সহজলভ্য হবে। এতে করে তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাকের ব্যবহার বাড়বে, যা জনস্বাস্থের জন্য হুমকি।

৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেটে শুধু অতি দামি প্রিমিয়ার ও উচ্চস্তর সিগারেটের ট্যারিফ খুব সামান্য বাড়লেও বেশির ভাগ সিগারেট ও তামাকের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

৩০ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেটে পাশ হবে। এর আগেই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের ট্যারিফ মূল্য ও শুল্ক বাড়িয়ে সেটি সংশোধনের দাবি করেছে আত্মা ।

বেসরকারি সংগঠন প্রজ্ঞা ও আত্মার এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশের ৮০ শতাংশ ভোক্তা কম দামি অর্থাৎ নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট খান।

সংগঠন দুটি বলছে, সত্যিকার অর্থে ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করতে চাইলে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাইলে ভোক্তা বেশি খায় এমন কম দামি সিগারেটের ওপর বেশি হারে শুল্ক আরোপ করতে হবে। তা না হলে সরকারের লক্ষ্য অর্জিত হবে না।

বৃহস্পতিবারের আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন আত্মার যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরা কিরণ।

বিশেষ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এনটিভির বার্তা প্রধান জহিরুল আলম।

অতিথি আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের লিড পলিসি অ্যাডভাইজর মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রজ্ঞার হেড অব প্রোগ্রাম হাসান শাহরিয়ার।

বাজেট সংশোধনের প্রস্তাবসমূহ

সভায় আত্মার পক্ষ থেকে ২০২১-২২ সালের সংশোধিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নিচের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়।

এগুলো হলো-

১। সিগারেটের সকল ব্র্যান্ডে অভিন্ন করভারসহ (সম্পূরক শুল্কও খুচরা মূল্যের ওপর ৬৫ শতাংশ) মূল্যস্তরভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা।

২। প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য নিম্নস্তরে ৫০ টাকা, মধ্যম স্তরে ৭০ টাকা, উচ্চস্তরে ১১০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১৪০ টাকা নির্ধারণ করে যথাক্রমে ৩২.৫০ টাকা, ৪৫.৫০ টাকা, ৭১.৫০ টাকা এবং ৯১ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

৩। ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করে (৪৫%) সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

৪। প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৪৫ টাকা নির্ধারণ করে ২৭ টাকা সুনির্দিষ্ট কর এবং ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করে ১৫ টাকা কর আরোপ এবং ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

আরও পড়ুন:
আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার
সেই ৬৬ কোম্পানির শেয়ারে এখন বাড়তি ‍সুবিধা
আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক
পুঁজিবাজারে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর প্রাইস
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

আগে পণ্য পরে টাকায় আপত্তি নেই ইভ্যালির

আগে পণ্য পরে টাকায় আপত্তি নেই ইভ্যালির

‘গণমাধ্যমের সূত্রে বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ছাড়া শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি পরিচালন নির্দেশিকা করা হবে, যাতে পণ্য ডেলিভারির আগে পেমেন্ট নেয়া না হয়। ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ড যাদের আছে, তারা পেমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করবেন।’

যে উদ্যোগকে নিয়ে এত কথা, সেই ইভ্যালি জানিয়েছে, ই-কমার্স ব্যবসায় আগে পণ্য দিয়ে পরে টাকা নেয়ার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় তার সিদ্ধান্ত জানানোর পরপর এক বিজ্ঞপ্তিতে ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল এ কথা জানান।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু এমন ই-কমার্স সাইট তৈরি হয়েছে, যেগুলো গ্রাহকদের অবিশ্বাস্য ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করছে। তবে কোম্পানিগুলোকে আগে টাকা পরিশোধ করতে হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর পণ্য সরবরাহ করে।

তবে টাকা নিয়েও পণ্য সরবরাহে বারবার সময়ক্ষেপণের অভিযোগ আছে। আবার তাদের ব্যবসার কৌশলটিও স্পষ্ট নয়। এ কারণে নানা সন্দেহ-সংশয় আছে জনগণের মধ্যে।

এর মধ্যেই কমার্স সাইট ইভ্যালিকে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি একটি তদন্ত চালিয়েছে; যাতে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি এক টাকা আয় করতে সাড়ে তিন টাকার বেশি ব্যয় করে। আবার তাদের সম্পদের তুলনায় দেনা ছয় গুণ। ফলে তারা এই টাকা আদৌ পরিশোধ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

এর মধ্যে তিনটি ব্যাংক তার গ্রাহকেদর জানিয়ে দিয়েছে কার্ড দিয়ে ১০টি ই-কমার্স সাইটে টাকা পরিশোধ করতে পারবে না। আরও দুটি ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের সতর্ক করেছে।

এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, কোনো প্রতিষ্ঠান পণ্য পৌঁছে দেয়ার আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা পাবে না।

ক্রেতার অর্ডার করা পণ্য হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ওই পণ্যের পেমেন্ট সংশ্লিষ্ট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। এ জন্য পণ্য অর্ডারের বিপরীতে পরিশোধিত টাকা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সরকার কর্তৃক অনুমোদিত মিডলম্যান প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা জমা থাকবে।

অর্ডার করা পণ্য ক্রেতা হাতে পাওয়ার পর ডেলিভারিম্যানের কাছে দেয়া স্বাক্ষরযুক্ত রিসিভ কপি জমা দিলেই পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে টাকা ছাড় হবে। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটওয়ে সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে করা হবে।

এ বিষয়টি নিয়ে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘গণমাধ্যমের সূত্রে বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টিকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ছাড়া শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি পরিচালন নির্দেশিকা করা হবে, যাতে পণ্য ডেলিভারির আগে পেমেন্ট নেয়া না হয়। ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ড যাদের আছে, তারা পেমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করবেন।’

ই-কমার্স নিয়ে নীতিমালা জরুরি বলে মনে করেন রাসেল নিজেও। বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ই-কমার্স নীতিমালা নেই। ইভ্যালি নিজেও দীর্ঘদিন এই নীতিমালার কথা বলে আসছে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে সেই নীতিমালা প্রণয়নের প্রথম ধাপ বলেই বিশ্বাস করেন ইভ্যালি-প্রধান। বলেন, এর ফলে গ্রাহক, বিক্রেতা, ই-কমার্সসহ পুরো ইকো সিস্টেমই উপকৃত হবে।

আরও পড়ুন:
আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার
সেই ৬৬ কোম্পানির শেয়ারে এখন বাড়তি ‍সুবিধা
আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক
পুঁজিবাজারে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর প্রাইস
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন

করোনার চাকরি হারাদের বেকার ভাতা দেয়ার পরামর্শ

করোনার চাকরি হারাদের বেকার ভাতা দেয়ার পরামর্শ

‘সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে করোনার টিকা দিতে হবে। স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ২ শতাংশ কার্যকর বিনিয়োগ করতে হবে। দরিদ্র ও নতুন দরিদ্র, এবং নতুন চাকরি হারানোদের তথ্যভাণ্ডার করতে হবে। নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক মানুষকে দিয়ে বেকার ভাতা চালু করতে হবে।’

করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের চাকরি হারানোর বিষয়টি তুলে ধরে নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক মানুষকে দিয়ে বেকার ভাতা চালুর পরামর্শ দেয়া হয়েছে এক ওয়েবিনারে।

বাণিজ্য নিয়ে কাজ করা একটি উদ্যোগ বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট-বিল্ড আয়োজিত আলোচনায় বুধবার এই পরামর্শ দেয়া হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের (পিইবি) চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন আইএলও হিসাবের গত বছর প্রায় ১৬ লাখ তরুণ গত বছর চাকরি হারিয়েছিল। তাদের বড় অংশ এখনও কাজে ফিরতে পারেনি।

গত বছর দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ১১ শতাংশ। ৪৪ শতাংশ ক্ষুদ্র ও শতাংশ ছোট ফার্ম তাদের প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে।

তিনি বলেন, অন্য দেশগুলো অধিক হারে নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। যেমন, জার্মানি তাদের মোট জিডিপির ২৪ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা দিচ্ছে। তারা কর্মজীবী ও কোম্পানিকে স্বল্প সময়ের জন্য নগদ প্রণোদনা দিয়েছে।

ভারতও ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। কর্মজীবীদের জন্য প্রভিডেন্ড ফান্ডের ব্যবস্থা করছে। কোম্পানির পাশাপাশি সরকারও এতে ব্যয় বহন করছে।

করোনার এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় হিসাবে তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সিএসআরের টাকা কটেজ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় ক্ষেত্রে সহায়তায় কাজে লাগানো যেতে পারে।

‘সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে করোনার টিকা দিতে হবে। স্বাস্থ্যে খাতে জিডিপির ২ শতাংশ কার্যকর বিনিয়োগ করতে হবে। দরিদ্র ও নতুন দরিদ্র, এবং নতুন চাকরি হারানোদের তথ্যভাণ্ডার করতে হবে। নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক মানুষকে দিয়ে বেকার ভাতা চালু করতে হবে।’

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন, ‘রিয়েল টাইম ডাটাবেজ তৈরি করে নতুন দরিদ্র ও নতুন বেকার হওয়া মানুষদের সোস্যাল সেইফটিনেট প্রোগ্রামের আওতায় আনতে হবে।’

শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন আইএলও প্রতিনিধি টুমো পোটিআইনেন বলেন, ‘করোনা শুধু বর্তমান সময়েই নয় ভবিষ্যতের জন্যও এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এজন্য সোস্যাল প্রটেকশন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগ করতে হবে। লেবার মাইগ্রেশনের ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও বিনিয়োগ করতে হবে।’

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বেকার ভাতা চালুর প্রস্তাব নিয়ে কিছু বলেননি। তবে কথা বলেন বিনিয়োগ নিয়ে।

তিনি বলেন, ‘এফডিআই কমেছে, এটি একটি আশঙ্কার কথা। এটি বাড়াতে হবে।’

তবে বিনিয়োগের সবটা পরিসংখ্যানে আসে না বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘সবাই প্রশ্ন করে ৭-৮ শতাংশ গ্রোথ কোথায় হয়? আমি বলব আমদের দেশের লাখ লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রয়েছেন। পানির ফোটার মতো তাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিনিয়োগই প্রবৃদ্ধির মূল শক্তি।’

৮৩ শতাংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা প্রণোদনার বাইরে

ওয়েবিনারে জানানো হয়, সরকার করোনা মোকাবিলায় যে প্রণোদনা দিয়েছে, সেটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পায়নি।

মাসরুর রিয়াজ জানান, বিল্ড ও পলিসি এক্সচেঞ্জর যৌথ (কুইক সার্ভে) জরিপ চালিয়ে এই তথ্য পেয়েছে।

চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্রেডিং, টেক্সটাইল, কৃষি, প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন খাতের মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়। জরিপে অংশ নেয়া ৬৯ শতাংশ উদ্যোক্তা বলেছেন, করোনার কারণে তারা কর্মচারীদের বেতন ও অফিস খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বিল্ড যাদেরকে নিয়ে কাজ করেছে, তাদের ৮৬ শতাংশ জানিয়েছে, করোনায় তাদের ব্যবসায় বিক্রি কমে গেছে। করোনার আগের তুলনায় তাদের পণ্যের চাহিদাও কম রয়েছে বলে জানিয়েছে ৯৫ শতাংশ।

মাসরুর বলেন, প্রণোদনা না পাওয়ার কারণ হিসাবে উদ্যোক্তারা এসব ছোট ব্যবসায় পর্যাপ্ত কাগজপত্র না থাকা, ব্যাংকের সঙ্গে সুসম্পর্কের অভাব, ব্যবসার আকার ছোট হওয়া, ঋণের ক্ষেত্রে গ্যারান্টার সমস্যা, কর্মকর্তাদের বৈষম্যমূলক আচরণ, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার অভাব ইত্যাদিকে তুলে ধরেন। তাদের মধ্যে ৬১ শতাংশ মনে করে তাদের আয় চলতি বছর আরও কমে যাবে।

সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘মার্চ পর্যন্ত ৮৩ শতাংশ বিতরণ হয়েছে। সরকার পরবর্তী প্রণোদনার কথা ভাবছে। যা একেবারেই নিম্ন স্তরের মানুষের জন্য নেয়া হবে, যারা ব্যাংকে যেতে পারে না। পিকেএসএফের মতো প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।’

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ‘আমাদের বিকল্প স্ট্রাটেজি নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ এখন করেনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। নতুন নীতির পরিবর্তন করতে হবে। সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সবইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। সময় অনেক কম কাজ অনেক বেশি।’

তথ্যভাণ্ডার তৈরিতে জোর

গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান শ্রমশক্তি নিয়ে মানসম্মত জরিপের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘কোন খাতে কত লোক কাজ করছে তার সঠিক তথ্যও নেই। এতে সঠিক নীতি প্রনয়নে চ্যালেঞ্জে পড়তে হচ্ছে। এটা না থাকলে সরকারের ১০০ ইকোনমিক জোনে কীভাবে ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে? বিনিয়োগ কোথা থেকে আসবে?‘

ব্যবসায়ীদের সংগঠন ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘পর্যাপ্ত ডাটাবেজ (তথ্যভাণ্ডার) না থাকায় এসএমই খাত সহায়তা পাচ্ছে না। সিএসএমইর একটি ন্যাশনাল ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সরাসরি নগদ সহায়তা ছাড়া বিকল্প নেই।’

এমএমই ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, ‘১০ হাজার ব্যাংক শাখা থাকলেও নানা কারণে এসএমই সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকমতো ঋণ পাচ্ছে না।’

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘মধ্যবিত্তরা দেশের চালিকা শক্তি। করোনায় তারা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে। বর্তমান অবস্থায় জাকাতের অর্থকে প্রতিষ্ঠানিকভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:
আরও ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার
সেই ৬৬ কোম্পানির শেয়ারে এখন বাড়তি ‍সুবিধা
আতঙ্ক থাকলেও ফ্লোর প্রত্যাহারের প্রভাব ইতিবাচক
পুঁজিবাজারে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর প্রাইস
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার: দরপতন ঠেকাতে নতুন সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন