একটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগেই প্লেসমেন্টে শেয়ার বিক্রি করে টাকা নিয়ে ফেরত দেয়নি। আরেকটি তালিকাভুক্ত হওয়ার পরে উচ্চমূল্যে শেয়ার বিক্রি করে ব্যবসা বন্ধ করে ঠকিয়েছে বিনিয়োগকারীদের।
কেবল বিনিয়োগকারী নয়, সরকারকেও ঠকিয়েছে জিএমজি ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনস। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বেবিচকের পাওনা পরিশোধ করেনি তারা। উল্টো বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ফেলে রেখে তৈরি করেছে সমস্যা।
বারবার তাগাদা দিয়ে টাকা আদায়ে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার বেবিচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিমানবন্দরে ফেলে রাখা উড়োজাহাজগুলো বিক্রি করে দেবে তারা।
এই দুই প্রতিষ্ঠানের ১২টিসহ মোট ২২টি উড়োজাহাজ শিগগিরই বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান।
দুটি কোম্পানির কাছে বেবিচকের পাওনার পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ও বিমান পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহেদুল আলমের মতে, উড়োজাহাজগুলো বাজেয়াপ্তের উদ্যোগ আরও আগেই নেয়া উচিত ছিল।
তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটা এয়ারপোর্ট হচ্ছে একটা দেশের গেটওয়ে। দেশে ঢুকতেই বিদেশের যাত্রীরা যখন এ ধরনের একটা পরিস্থিতি দেখে, রংচটা এয়ারক্রাফট পড়ে থাকা এটা খুবই দৃষ্টিকটু।
‘এটা কখনোই একটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাঙ্ক্ষিত সাইট হতে পারে না। পৃথিবীর কোথাও এমন দৃশ্য দেখা যাবে না। এটা আমাদের এখানে এত দিন ধরে চলছে। অনেক আগেই কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল ওগুলো সরিয়ে ফেলা।’
তিনি বলেন, ‘যে সময় এগুলো এখানে পার্ক করা হয়েছিল, সে সময় সিভিল এভিয়েশনের উচিত ছিল মালিকদের সঙ্গে কথা বলে একটা সমাধানে পৌঁছানো। যারা এটা করেছে তারাও ভালো কাজ করেনি।
‘যে এয়ারলাইনসগুলো বন্ধ আছে তাদের কথা বাদই দিলাম, কিন্তু যারা সার্ভিসে আছে তাদের অনেকেরই এয়ারক্রাফট আছে। তাদের সঙ্গে দেনদরবার করেও জিনিসটা শেষ করা যেত। এখন যত দ্রুত সরানো যায় ততই ভালো।’
হঠাৎ করে কোনো এয়ারলাইনস বন্ধ হয়ে গেলে তাদের পাওনা আদায়ে শক্তিশালী আইন হওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ। জিএমজি ও ইউনাইটেড এয়ারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘মুশকিল হলো, আমাদের দেশে লিমিটেড কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো আইনই নেই।
‘এখন যদি কোনো কারণে এয়ারলাইনস দেউলিয়া হয়ে যায় বা অপারেশনে না থাকে তাদের কাছে টাকা আদায় করা মুশকিল। ইউনাইটেড শেয়ারবাজারে এনলিস্টেড কোম্পানি। এমন একটা পদ্ধতি বের করা উচিত যাতে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়।’
সাময়িক বন্ধের পর আর চালু হয়নি জিএমজি, প্লেসমেন্ট শেয়ারের টাকার কী হবে?
১৯৯৭ সালে কোম্পানি খুলে পরের বছরের এপ্রিলে অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে দেশে কার্যক্রম শুরু করে বেসরকারি জিএমজি এয়ারলাইনস। ২০০৪ সালে প্রথম বেসরকারি এয়ারলাইনস হিসেবে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটে আসে তারা।
২০০৯ সালে এয়ারলাইনসটির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার কিনে নেয় বেক্সিমকো গ্রুপ। তবে তারা ব্যবসায় সফল হতে পারেনি।
তিন বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় জিএমজির ফ্লাইট। তবে এর মধ্যেই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা বলে ৩০০ কোটি টাকার প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রির তথ্য আসে গণমাধ্যমে। পরে কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হয়নি।
আর এই প্লেসমেন্টে যারা শেয়ার কিনেছিলেন, তাদের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে কি না, সেই তথ্য আর গণমাধ্যমে আসেনি। এ বিষয়ে জিএমজির পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য কখনও দেয়া হয়নি।
২০১২ সালের ৩০ মার্চ বন্ধ করে দেয়ার সময় জিএমজি বলেছিল, আবার চালু হবে কোম্পানি। তবে তা আর হয়নি। সে সময় পর্যন্ত বকেয়া বাবদ প্রতিষ্ঠানটির কাছে বেবিচকের পাওনা ছিল ৩০০ কোটি টাকারও বেশি।
ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ হয়ে গেলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি এমডি এইটটি থ্রি ও দুটি ড্যাশ এইট উড়োজাহাজ ফেলে রাখে জিএমজি। পরে ড্যাশ এইট দুটি বিক্রি করা হলেও সাত বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে এমডি এইটটি থ্রি উড়োজাহাজগুলো।
কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জিএমজির কোনো কার্যালয় নেই, দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ইউনাইটেড কাণ্ড
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ার শাহজালালে ১০টি উড়োজাহাজ ফেলে ২০১৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করা কোম্পানিটি ব্যবসা গুটিয়ে ফেলে হঠাৎ করে। বন্ধ হওয়ার সময় তাদের কাছে বেবিচকের পাওনা ছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
ইউনাইটেডের ফেলে যাওয়া উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে চারটি এমডি এইটটি থ্রি, দুটি এয়ারবাস থ্রি ওয়ান জিরো, তিনটি এটিআর সেভেনটি টু ও একটি ড্যাশ এইট উড়োজাহাজ।
বিমানবন্দরে ২০১৪ সাল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইনসের একটি ট্রাইস্টার উড়োজাহাজ, অ্যাভিয়েনা এয়ারলাইনসের একটি ড্যাশ এইট, বিসমিল্লাহ এয়ারলাইনসের একটি ড্যাশ এইট ও আছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি ড্যাশ এইট উড়োজাহাজ।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে এগুলো কার্গো টার্মিনালের সামনে ছিল। আমরা এগুলোকে সরিয়েছি। এখন এক জায়গায় রেখেছি। এখান থেকেও এগুলো সরিয়ে ফেলব। কারণ, এগুলো আমাদের স্পেস অকুপাই করে আছে।
‘আমরা এখন একটি আইনি প্রক্রিয়াতে যাচ্ছি। এগুলোকে এরই মধ্যে ডিরেজিস্ট্রেশন করে ফেলেছি। এর মানে আগে যে কোম্পানির নামে ছিল। এখন আর সে নামে নেই। এখন যেটা করতে হচ্ছে, আইনের নিয়ম হচ্ছে এদের বাজেয়াপ্ত করতে হবে। তো বাজেয়াপ্তের কাজ আমরা হাতে নিচ্ছি।’
বাজেয়াপ্ত উড়োজাহাজগুলো পরে নিলামে তোলা হবে বলে জানান বেবিচক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘যখন বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে তখন এগুলোর মালিকানা সিভিল এভিয়েশনের হয়ে যাবে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা বাজেয়াপ্ত করছি। করার পরে আমরা এটাকে নিলামে দিয়ে দেব।
‘যেগুলো নিলামযোগ্য না, সেগুলোকে ধ্বংস করে দেব। এখন যে এয়ারলাইনসগুলোর উড়োজাহাজ রয়েছে তার মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারের উড়োজাহাজই সবচেয়ে বেশি। যেহেতু থার্ড টার্মিনালের এক্সপানশন চলছে এই জায়গাগুলো দ্রুত খালি করতে হবে।’
ইউনাইটেড এয়ারের অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করা শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিভিল এভিয়েশনের কাছে আমাদের বেশ কিছু টাকা পাওনা রয়েছে। সেগুলো এখনও শোধ করা হয়নি।
‘আর্থিক অসংগতির কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে ইউনাইটেড এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। উড়োজাহাজগুলোর প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণও করা যায়নি। সহসা সেই অবস্থাও নেই। যদিও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছেন আবার চালু করার, কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হয়নি।’
২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকেরা প্রায় সব শেয়ার বাজারে বিক্রি করে নিজেদের বিনিয়োগের টাকা তুলে নিয়েছেন, কিন্তু ২০১৬ সালের পর আর কোনো আর্থিক হিসাব বিবরণীও প্রস্তুত করেনি।
এ কারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কোম্পানিটিকে মূল মার্কেট থেকে সরিয়ে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে নিয়ে গেছে।
১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর ৭৫০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হয়েছে কোম্পানিটির শেয়ার। পরে ১০ টাকা অভিহিত মূল্য হওয়ার পর শেয়ারের দাম কমতে কমতে দুই টাকার নিচে চলে আসে।
ওটিসি মার্কেটে যাওয়ার সময় কোম্পানিটির ৭২ কোটির বেশি শেয়ার ছিল বিনিয়োগকারীদের। এই শেয়ারের কার্যত এখন কোনো মূল্য আর রইল না।
আরও পড়ুন:মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেয়ে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে জবেদা আক্তারের। বাবা-মায়ের আদর স্নেহ না পেয়ে বেড়ে ওঠা জবেদা আক্তার সরকারি চাকরি পেয়ে এবার নিজেই নিজের স্বপ্ন পূরণ করবেন। দেড় বছর বয়সে জবেদা আক্তারের বাবা-মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। প্রথমে বাবা মো: জামিনুর ও কয়েক বছর পরে মা মোছা: ঝর্না আক্তার অন্যত্র বিয়ে করে আলাদা সংসার শুরু করেন। বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন শিশু জবেদা আক্তারের ঠাই হয় নানা-নানীর কাছে। নানা জয়নাল, নানী মোছা: লাইলী ও মামাদের আশ্রয়ে বেড়ে উঠে জবেদা আক্তার। জামালপুরে এবারের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি পেয়েছেন জবেদা আক্তার (১৮)।
নিজের যোগ্যতায় সরকারি চাকরি হওয়ায় স্বপ্ন পূরণে জবেদা আক্তারের চোখ বেয়ে অশ্রু বইছে। জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার দুরমুট নয়াপাড়া এলাকার জবেদা আক্তার বলেন, নানা-নানী ও মামার সংসারে থেকে লেখাপড়া করেছি। সেভাবে বাবা-মায়ের আদর পাইনি, তারা থেকেও যেন নেই, আমার চলার পথ সহজ ছিলো না। মেলান্দহ উপজেলার কলাবাধা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে এখন স্থানীয় টনকি বাজারস্থ আলেয়া আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীতে লেখাপড়া করছি। আমি ভাবিনি আমার সরকারি চাকরি হবে। বাড়ি থেকে একা একাই পুলিশ লাইন্সে এসেছি চাকরির পরীক্ষা দিতে, আমার সাথে কেউ আসেনি। এখন সবাইকে ফোন করে চাকরির বিষয়টি জানাচ্ছি। মাত্র ১২০ টাকায় চাকরি পেয়ে আমি অনেক খুশি, এখন থেকে আমার আনন্দের সময় শুরু- বেশ উচ্ছাস নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন জবেদা আক্তার।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চেংটিমারী গ্রামের মো: আবু তালেবের ছেলে কোরআনে হাফেজ মো: রুহেল মিয়া (১৯) পুলিশে চাকরি পেয়েছেন। তিনি জানান, এর আগে আরও দুই বার পরীক্ষা দিয়েছিলাম, আমি দেখেছি সবারই নিজ নিজ যোগ্যতায় চাকরি হয়েছে। তাই হাল ছাড়িনি, এবার আমি তৃতীয় বারের মত পরীক্ষা দিয়েছি এবং উত্তীর্ণ হয়েছি। এবার আমার চাকরি হয়েছে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই, আলহামদুলিল্লাহ। আমি ব্র্যাক স্কুল থেকে ৫ম শ্রেণী পাশ করে আমার এলাকার মাঠেরঘাট হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে হাফেজ হয়েছি। এরপর গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরের জামিয়া ইবনে আব্বাস কওমী মাদ্রাসায় পড়াশুনা করেছি। বর্তমানে আমি টঙ্গী সরকারি কলেজে ইসলাম শিক্ষা বিভাগে অনার্স ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত।
মশিউর রহমান (১৯), আনোয়ার হোসেন (১৮), তাপসী তৃষা (২০) ছাড়াও আরও কয়েকজন পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্তরা বলেন, এত স্বচ্ছ নিয়োগ হবে জানতাম না। ভাবতাম পুলিশে চাকরি নিতে অনেক তদবীর করতে হয়, লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। চাকরি হবে কিনা সংশয় ছিলো, তবুও পুলিশ লাইন্সে এসেছি নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে। কোন অনিয়ম, দুর্নীতি, তদবীর ও লেনদেন ছাড়াই মাত্র ১২০ টাকায় যোগ্যাত ও মেধায় পুলিশে চাকরি হয়েছে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ২৪ এর জুলাই বিপ্লব তথা ৫ই আগষ্টের পর সাধারণ মানুষ যে জনআকাঙ্খার পুলিশ চায় সেই পুলিশ গড়ে তুলতে হলে সবার আগে স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা দরকার। সারাদেশে এভাবেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুলিশে নিয়োগ হচ্ছে। আমরা অভিভাবকদের আহবান জানাবো তারা যেন তাদের সন্তানদের পুলিশে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করেন। ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে এবার প্রায় ১ হাজার ৪শ জন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। যাচই-বাছাই শেষে এদের মধ্যে মোট ৮০৩ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সেখান থেকে ৭৩ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়, তাদের মধ্যে মোট ৩২ জনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২৯ জন পুরুষ, ৩ জন নারী, একজনকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে, অপেক্ষমান রয়েছে ৬ জন।
বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পর সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে সনাক্ত হলো গৃহবধুর সপ্নার পরিচয়।
গতকাল কুষ্ঠিয়ার মিরপুরের ট্রেন লাইন থেকে নিহত গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় রেলওয়ে পুলিশ।
পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ রাখা হয়েছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।
তার পরিচয় সনাক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া হয় ছবি।
ছবি দেখে সনাক্ত হয় গৃহবধু মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের পুরাতন মটমুড়া গ্রামে মোবাইল মেরামতকারী সুজনের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী স্বপ্না।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলার বাওট গ্রামের রাজধানী পাড়ার মৃত রেজাউল হকের মেয়ে স্বপ্নার সাথে মটমুড়া গ্রামের সুজনের বিয়ে হয় প্রায় ১ যুগ আগে। সুজন স্বপ্নার সংসারে রয়েছে একটি মেয়ে ও একটি ছেলে।
স্বপ্নার মৃত্যুতে শোকে ভাসছে দুটি পরিবার সহ আত্মীয় স্বজনরা।
সপ্নার মৃত্যুর সংবাদে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন স্বামী সুজন আলী।
স্বপ্নার শাশুড়ি জানিয়েছে, গতকাল শনিবার বিকেলে সে পাশের বাড়িতে যায়। ফিরে এসে জানতে পারে তার পুত্রবধু স্বপ্না বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শুনতে পাই স্বপ্নার মৃত্যুও খবর।
গৃহবধু স্বপ্নার মা জানিয়েছে তার মেয়ের সাথে দুদিন কোন কথা হয়নি। শনিবার রাত ৯টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবেশীরা স্বাপ্নার ছবি দেখে তাকে দেখালে সে তার মেয়ে স্বপ্নাকে চিনতে পারে। আমি এখন কি করবো? আমার সাথে এম কি হলো? যে সে নিজ জেলা ছেড়ে অন্য জেলায় গিয়ে আত্মহত্যা করলো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট মনোনীত ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জি এস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটের শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে। বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি শেখ তাহসান আলী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই দিন ধার্য করেন।
এর আগে বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক প্রার্থী বিএম ফাহমিদা আলম এই রিট করেন। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
আদালতের আজকের কার্যতালিকার ২৮৫ নম্বর ক্রমিকে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য রাখা হয়েছিল। তবে ব্যস্ত কার্যসূচির কারণে আদালত তাৎক্ষণিক শুনানি না করে মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন।
হবিগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মো. আকবর আলী (৩৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। গতকাল শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উবাহাটা ইউনিয়নের নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
রবিবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় র্যাব-৯। গ্রেপ্তার চুনারুঘাট উপজেলার উসমানপুর গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৯ মার্চ ভুক্তভুগীর সঙ্গে একই বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকদিন পর স্বামী তার শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করে বিয়ের আগেই অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাবাকে জানান। পরে বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগী জানান, গত বছরের ৫ অক্টোবর থেকে একই গ্রামের আবু তাহের ও আকবর আলী বিভিন্ন সময়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছেন।
গত ৮ মে তাকে মেডিক্যাল টেস্ট করানো হলে জানা যায়, ২৭ সপ্তাহ ৪ দিনের অন্তঃসত্ত্বা তিনি।
এ ঘটনায় গত ১১ মে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে চুনারুঘাট থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প গতকাল শনিবার উবাহাটা ইউনিয়নের নতুন ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতি. পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য গ্রেপ্তার আকবরকে চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অগ্নিকাণ্ডে পড়লো দুইটি পিও জুতার ফ্যাক্টরি। পরবর্তীতে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দুই ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শনিবার (৩০ আগষ্ট) রাত পোনে ৯টার দিকে পৌর শহরের লক্ষীপুর এলাকার উসমান মোল্লার মার্কেটে অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সুত্রে জানা যায়, ভৈরব পৌর শহরের লক্ষ্রীপুর এলাকার উসমান মার্কেটের অগ্নিকান্ডে ঈগল পিও ফুটওয়ার ও চেইন্স পিও ফুটওয়ের ফ্যাক্টরির সকল যন্ত্রাংশ ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস জানান বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পরে। তবে কারখানা দুইটির কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল ও সরঞ্জাম পুড়েছে।
স্থানীয় প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, রাত পোনে নয়টা আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে অনেক চেষ্টা করে রাত সাড়ে ১২ টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় দোকানদার ইকরাম মোল্লা রানা বলেন,আমার দোকান হচ্ছে এই ফ্যাক্টরির বিপরীত পাশের এক কোণায়। যখন দেখতে পেলাম দুইটা লোক দৌড় দিয়ে এদিকে আসলো তখন আমি সামনে গিয়ে দেখি ফ্যাক্টরির দরজা জানালা বন্ধ কিন্তু ভিতরে আগুন দাঊ দাঊ করে ধরতেছে। সবাই ফায়ার সার্ভিসকে ফোন করার চেষ্টা করতেছে। কিন্তু কারও কাছে ফোন না থাকার কারণে সঠিক সময় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে দেরি হয়ে গেছে। যদি সঠিক সময় খবর দিতে পারতো তাহলে হয়তো বেশী আগুন লাগতো না।
ফ্যাক্টরি জায়গার মালিক আবুল বাশার বলেন, আগুন লাগার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। প্রথমে একটি টিম পরে আরো একটি টিম এসে কাজ করেন।
দেখাযায় আগুন প্রথমে চেইন্স ফ্যাক্টরিতে লাগে। আর ফ্যাক্টরিতে ঢোকার পরে দেখা যায় ধোয়া আর ধোয়া। পরে এই আগুন সাথের ঈগল ফ্যাক্টরি আগুন লাগলে পরে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেছে। অনেক চেষ্টার পরে রাত সাড়ে বারোটায় নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দেখা যায় স্থাপনা ছাড়া প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হতে পারে।
ঈগল ফুটওয়্যারের সহকারী পরিচালক মো: সুহাস জানান, আরামকো, ঈগল ও চেইন্স তিনটি ফ্যাক্টরি একসাথে ছিলো। চেইন্স ফ্যাক্টরিতে ধোয়া দেখতে পেলে ফ্যাক্টরির মালিক পক্ষ না থাকায় ও ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকায় সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে দেরি হয়ে যায়। ততক্ষনে চেইন্স ফ্যাক্টরির সকল কিছু পুড়ে যায়। আর আমাদের ফ্যাক্টরিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে আর সকল কিছু পুড়ে যায়। আমাদের প্রায় ৩-৪ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।
পাদুকা মালিক সমিতির সভাপতি মো: আল-আমিন মিয়া বলেন, আগুন লাগার খবর মোবাইল ফোনে জানতে পেরে তাড়াতাড়ি আসি। এসে দেখি দুটো ফ্যাক্টরি আগুনে পুড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এতে করে তাদের প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হতে পারে। প্রায় সময় এসব ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে কিন্তু কেন এমন হয় তার কোন স্থায়ী সমাধান হয়নি। আমরা চায় যে এ-ই পর্যন্ত যতো ক্ষতি হয়েছে সরকার যেন একটু নজর দেয়।
পিও ফুটওয়্যার এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক বাহারুল আলম বাচ্চু বলেন, খবর পেয়ে জানতে পেরে এসে দেখি আগুনে দুটো ফ্যাক্টরির সকল মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ১০-১২ কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামনে শীতের সিজন হিসেবে তাদের অনেক মালামালের তৈরির কার্যক্রম ছিলো কিন্তু আগুনে সব শেষ। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় এই ক্ষতি যেন অনুদানের মাধ্যমে পুষিয়ে দেয় সেই দাবী জানাচ্ছি।
ভৈরব ফায়ার সার্ভিস ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর রাজন আহমেদ জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের তিনটি ইউনিট আগুন নেভাতে চলে আসি। প্রায় দুই ঘন্টা পর আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছি। আগুনে দুটো ফ্যাক্টরি চেইন্স ফুটওয়্যার ও ঈগল ফুটওয়্যারের সকল কিছু পুড়ে শেষ হয়ে যায়। আর সামনের ৫-৬ টি দোকানের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে দুটো ফ্যাক্টরির কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। এছাড়া কি কারণে আগুন লাগতে পারে তা এখন বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করছি বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট কিংবা কোন মিশিনারিজ চালু হওয়া থাকলে হয়তো আগুন লাগতে পারে। পরে তদন্ত করে জানতে পারবো।
রাজধানীর গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে মোবাইল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য সন্দেহে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র গোয়েন্দা বিভাগ।
অভিযানে ১০৩টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৬৮টি অ্যান্ড্রয়েড এবং ৩৫টি বাটন ফোন রয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. আব্দুল মান্নান (৫০), মো. সিয়াম মিয়া (১৮), মো. আব্দুর রহমান (১৮), মো. সাজু মিয়া (২১), মো. আব্দুল্লাহ ইবনে আল মাকসুদ আরাফাত (২০), নাজমুল ইসলাম (১৮), মো. আব্দুল (১৮), মো. রাকিব (১৮), মো. রেজাউল হক (৫৫) ও মো. আশরাফুল (১৯)।
গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের সূত্রে জানা যায়, শনিবার গুলিস্তানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তারা মোবাইল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আজ রোববার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিকেল ৩টায় তিনি বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর সাড়ে ৪টায় জামায়াতের সঙ্গে এবং সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপির সঙ্গে বৈঠক হবে। শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সর্বশেষ গত ২২ জুলাই বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। গত ২১ জুলাই মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে বিক্ষোভের পর দলগুলোকে বৈঠকে ডেকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেন সরকারপ্রধান। পরের দুই দিনে আরও ২৫টি দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠকে তিনি একই বার্তা দেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর গত বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ১১ আগস্ট তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম বৈঠক করেন। পরবর্তী সময়ে যখনই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তখনই দলগুলোকে ডেকে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা। গত এক বছরে বিএনপি এবং জামায়াত পাঁচবার করে বৈঠক করেছে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে।
শুক্রবার জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পুলিশ ও সেনাসদস্যদের পিটুনিতে গুরুতর আহত হন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক এই ভিপির মাথায় আঘাত লেগেছে, ভেঙেছে নাকের হাড়।
এ পরিস্থিতিতে দলগুলোকে আবার ডাকলেন প্রধান উপদেষ্টা। বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির পর সামনে অন্য দলগুলোকেও বৈঠকে ডাকা হতে পারে। অতীতেও এ রীতি দেখা গেছে। গতকাল সরকারের বিবৃতিতে নুরের ওপর হামলার নিন্দা করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছে সরকার। জুলাই সনদ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিরোধের কারণে ভোট নির্ধারিত সময়ে হবে কিনা– এ নিয়ে প্রশ্ন করছেন কেউ কেউ।
তবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদও গতকাল বলেছেন, আল্লাহ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঠেকানোর শক্তি কারও নেই।
বৈঠকে যাবেন বলে জানিয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, নির্বাচন ভণ্ডুলের জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করা যাচ্ছে। জামায়াতই প্রথম ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের দাবি তুলেছিল। নির্বাচনের সময় নিয়ে জামায়াতের আপত্তি নেই। তবে নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। ভোট হতে হবে পিআর পদ্ধতিতে।
এর আগে প্রেস সচিব জানান, শনিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কয়েকজন উপদেষ্টার বৈঠক হয়। এতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নুরের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ বৈঠক থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় ডাকার সিদ্ধান্ত হয়।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; জনগণের প্রতি যা অন্তর্বর্তী সরকারের একনিষ্ঠ অঙ্গীকার। নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার এবং গণতন্ত্রপ্রেমী দেশপ্রেমিক জনগণ দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করবে।
মন্তব্য