খেলাপি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে: ইব্রাহিম খালেদ

খেলাপি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে: ইব্রাহিম খালেদ

ছাড় দেয়ার কারণে যাদের ঋণ খেলাপি ঘোষণা করা যায়নি, তাদের বিষয়টি তো আর বছর বছর আটকে রাখা যাবে না। এক সময় এসব ঋণ খেলাপির খাতায় চলে আসবে। তখন ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে। এটা আগামী বছরের মাঝামাঝি থেকেই ঘটতে শুরু করবে।

স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় বাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

রাষ্ট্রায়ত্তখাতের সবচেয়ে বড় সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কৃষি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বলছেন, সরকার বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করছে এবং তাদের হাতে সরকার বন্দি। ব্যাংক খাতে স্বতন্ত্র কমিশন গঠন না হওয়ার জন্য বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপকে দায়ী করছেন তিনি।

করোনাকালে দেশের অর্থনীতির অবস্থা, ব্যাংক খাতে আলোচিত ঋণের সুদ হার নয়-ছয় নির্ধারণ, রেমিট্যান্স, রিজার্ভসহ আর্থিক খাতের নানা বিষয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবু কাওসার ও শেখ শাফায়াত হোসেন।

করোনা পরবর্তী দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

করোনা এখনও লেগে আছে। তবে প্রথমে যেমন সব কিছু অচল হয়ে পড়েছিল, সেই পরিস্থিতির কিছুটা উত্তোরণ ঘটেছে। দোকানপাট খুলেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে। শিল্প-প্রতিষ্ঠানসবগুলো ভালো চলছে না। ক্ষুদ্র শিল্প আগের মতো ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তরা অভিযোগ করেছেন, তারা প্রণোদনার ঋণ ঠিকমতো পাচ্ছেন না। পোশাক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ইউরোপ-আমেরিকাতে করোনার প্রকোপ বেশি। ফলে সেখানকার ক্রয় আদেশ কিছুটা কমেছে। জাপানসহ অন্যান্য দেশ থেকে কিছু আদেশ আছে বলে পোশাকখাত এখনও চলনসই রয়েছে।

খেলাপি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে: ইব্রাহিম খালেদ

ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলেও খেলাপি হবে না- এমন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সুবিধা দফায় দফায় বাড়ানোর বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী ?

সময় আর বাড়ানো ঠিক হবে না। গত বছর মাত্র ২ শতাশং ডাউনপেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই টাকা আর ফিরে আসবে না। এটা করার পেছনে দুই-তিনজন প্রভাবশালী নেপথ্যে কাজ করেছেন। তারা এক রকম জোর করে এ ধরনের নীতিমালা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করিয়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক রাজি ছিল না।

এ সংস্কৃতি অত্যন্ত খারাপ। আমাদের অর্থনীতিকে যেভাবে বিকৃত করা হয়েছে, এমনটা আগে কখনও দেখা যায়নি। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া মুশকিল হবে।

আগামী এক-দুই বছরে ব্যাংকগুলোর অবস্থা আরও শোচনীয় হবে। কারণ, ছাড় দেয়ার কারণে যাদের ঋণ খেলাপি ঘোষণা করা যায়নি, তাদের বিষয়টি তো আর বছর বছর আটকে রাখা যাবে না। এক সময় এসব ঋণ খেলাপির খাতায় চলে আসবে। তখন ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে। এটা আগামী বছরের মাঝামাঝি থেকেই ঘটতে শুরু করবে।

খেলাপি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে: ইব্রাহিম খালেদ

সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণে নানা অনিয়ম ঘটেছে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি এর জন্য দায়ী কে?

ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একেবারেই অসহায়। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হচ্ছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। কিছু কিছু ব্যাংক পরিচালক এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। অন্তত দুটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রত্যক্ষভাবে বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখছেন। তারা আবার অন্যদেরকে প্ররোচিত করেন।

তবে এটাও ঠিক অনেক ব্যাংকে ভালো পরিচালক আছেন। তারা পেশাদারত্বের সঙ্গে ব্যাংক চালাচ্ছেন, বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকে। ফলে ব্যাংকের পরিচালকেরা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ঢালাওভাবে বলা যাবে না।

সরকারি ব্যাংকে অনিয়মের জন্য কারা দায়ী?

সরকারের দুর্বলতাই প্রধানত দায়ী এখানেও বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ আছে। তারা সরকারকে প্ররোচিত করছে। সরকারি ব্যাংকের বড় খেলাপিদের চরিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, এখানেও বড় বড় ব্যবসায়ীরা আছে। একই গাছের শেকড় চারদিকে ছড়াচ্ছে। এতে দেশের ক্ষতি হচ্ছে।

ব্যাংকারা তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন বলে কি আপনি মনে করেন ?

ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে কিছু করতে পারছে। কিন্তু যখনই বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের ঋণের আবেদন নিয়ে কথা ওঠে, তখন ঋণগুলো একরকম ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়া হয়। এখানে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কোনো হাত নেই।

ঋণ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আইন কঠোরের দরকার আছে কী ?

আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার। প্রয়োগের বিষয়টি শক্তির খেলায় পরিণত হয়েছে। শক্তি আইনকে পরাভূত করেছে। সব জায়গায় হেরে গেলেও জালিয়াতরা রিট করে বসে থাকে। সেখানেও ১০ বছর ধরে মামলার নিষ্পত্তি হয় না। এক্ষেত্রে আইনের দোষ দেয়া যাবে না।

আমাদের পরামর্শ ছিল, হাইকোর্টে নির্দিষ্ট দুটি বা তিনটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেয়ার। এই বেঞ্চগুলো শুধু ব্যাংকের মামলাগুলো দেখবে। তাহলে রিট মামলা ঝুলে থাকবে না এবং প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষা হবে না। কিন্তু এত বছর পরও তা করা হয়নি।

খেলাপি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে: ইব্রাহিম খালেদ

বাংলাদেশ ব্যাংক কি স্বাধীনভাবে চলতে পারছে?

একেবারেই না। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন মনিব নয়, ভৃত্যের কাজ করছে। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে একটি ব্যাংকের পর্ষদের চেয়ারম্যান ও অন্য এক পরিচালক হাতাহাতির ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। তখন আমরা পুরো পর্ষদই ভেঙে দিয়েছিলাম।

সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে হস্তক্ষেপের চেষ্টা ছিল, কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটা করতে দেয়নি।

ব্যাংকখাতের সুশাসনের জন্য পৃথক কমিশন গঠনের দাবি বহু পুরনো এটা কতটা জরুরি বলে আপনি মনে করেন?

অত্যন্ত জরুরি। সরকার কমিশন করার কথা বলেছিল, কিন্তু রাজনৈতিক ভাবে এই সরকার দুর্বল। এ কারণে করতে চেয়েও পারেনি। ওই যে, কয়েকটা বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের কথা বললাম, তাদের কারণে ব্যাংক কমিশন করতে পারছে না সরকার।

খেলাপি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে: ইব্রাহিম খালেদ

ব্যাংক ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিট বাস্তবায়ন হচ্ছে কি?

ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদহার নয় বা ছয় শতাংশ নির্ধারণ করা নিয়ে কোনো আপত্তি ছিল না। আপত্তি সুদহার নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে। সুদহার নির্ধারণ করবে বাজার। দীর্ঘদিন ধরে সুদহার বাজারের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়ে আসছিল। এমন সময় সরকারের সুদহার নির্ধারণ করে দেয়ার কোনো দরকার ছিল না।

ঋণের সুদ ৯ শতাংশ এবং আমানতের সুদহার ৬ শতাংশ হলে মাঝখানে স্প্রেড বা সুদহারের ব্যবধান থাকে ৩ শতাংশ। বিশ্বের অনেক দেশে তিন শতাংশ স্প্রেড আছে, কিন্তু বাংলাদেশে ৩ শতাংশ স্প্রেডে ব্যাংক চালানো সম্ভব নয়। ফলে ব্যাংকগুলো লুকোচুরির আশ্রয় নিচ্ছে। মুখে বলছে ঋণের সুদ ৯ শতাংশ, নিচ্ছে হয়ত ১০ শতাংশ। আমানতের সুদ বলছে ৬ শতাংশ, নিচ্ছে হয়ত ৭ শতাংশ। এটা ব্যাংকের জন্য ভালো না, কেননা ব্যাংকগুলো চলে আস্থার ওপরে। এখানে লুকোচুরি করা ঠিক নয়।

ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ কমাতে সুদহার নির্ধারণ করা হয়, সরকারের সিদ্ধান্ত কি ঠিক হয়নি?

বড় ব্যবসায়ীদের হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে সরকার। বড় ব্যবসায়ীরা যা বলেন, সরকার তাই করছে। এটা উচিৎ না। সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখা হয় না। তারপরও বলব, এ সিদ্ধান্তে বড় ব্যবসায়ীরা যে খুব উপকৃত হয়েছেন তা দেখছি না।

আমানতকারীদের সুরক্ষা কে দেবে?

কেউ দেবে না। কারণ, আমানতকারীরা সংগঠিত নন। সুরক্ষা পাচ্ছেন না তারা। এ কারণে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। বড়দের কথায় এখন অর্থনীতি চলছে।

খেলাপি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে: ইব্রাহিম খালেদ

বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৪২ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে, এই অর্জনকে কীভাবে দেখছেন?

করোনা শুরুর পরপরই এক লাখ ৭০ হাজার প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। আসার সময় তাদের সঞ্চয়ও নিয়ে এসেছেন। প্রথম উল্লম্ফনটা ওখানেই হয়। এদের দেখাদেখি বিদেশি অবস্থানকারীরাও চাকরি হারানোর ভয়ে আগেভাগেই সঞ্চয় দেশে পাঠিয়ে দেন।

এছাড়া সরকারের ঘোষিত ২ শতাংশ প্রণোদনা রেমিট্যান্স বাড়াতে কাজ করেছে। কোনো কোনো ব্যাংক এই সুবিধার সঙ্গে বাড়তি ১ শতাংশ প্রণোদনা যোগ করেছে। এসব পদক্ষেপ রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বাড়াতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। এটা ভালো। ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

রিজার্ভ থেকে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন কাজে ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে সরকার, এটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?

ভারতের মোদি সরকার রিজার্ভ বিনিয়োগ করেছে। প্রথম দফায় মোদি সরকার যখন রিজার্ভের টাকা চেয়েছিলে তখন রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর রাজি হননি। তিনি পদত্যাগ করলে অন্য একজনকে গভর্নর বানিয়ে মোদি সরকার রিজার্ভ থেকে অর্থ নিয়ে বিনিয়োগ করেছে।

উদাহরণ নেই তা বলব না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে রিজার্ভ থেকে অর্থ নেয়া ঠিক হবে না। তবে সরকার যদি নিজস্ব গ্যারান্টির বিপরীতে নিতে চায়, কিছুটা নিতে পারে। অন্তত ১০ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভ মজুত রেখে বাকিটা নিতে চাইলে আপত্তি থাকবে না। তবে এটাকে চর্চা বানানো যাবে না। একবারের জন্য নেয়া যেতে পারে।

খেলাপি ঋণের বোঝা আরও বাড়বে: ইব্রাহিম খালেদ

করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের মাথাপিছু গড় আয় বাড়ছে আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর শেষে মাথাপিছু গড় আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে এই অর্জনকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

আমাদের মাথাপিছু গড় আয় বেড়েছে। যদি বিশ্লেষণ করি কার কাছে কত টাকা, তাহলে দেখা যাবে শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের কাছে মোট সম্পদ কুক্ষিগত। বাকি ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে কিছু নেই। ভারতেও এই সম্পদ বণ্টনের গুণগত পরিস্থিতি যে খুব ভালো তা বলব না, তবে বাংলাদেশের থেকে ভালো আছে।

করোনা মহামারি না আসলে আমরা বুঝতাম না বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার কী হারে বেড়েছে। এই সময় অনেককে ভাত রান্না করে খাওয়াতে হয়েছে, এটা কিন্তু ভারতে হয়নি।

আরও পড়ুন:
করোনায় খেলাপি ঋণ কমল যেভাবে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাহাজ রাখার সক্ষমতা বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের

জাহাজ রাখার সক্ষমতা বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের

বন্দর সচিব ওমর ফারুক নিউজাবাংলাকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে অস্থায়ী স্থাপনার কারণে কিছু বয়া অপসারণ করতে হয়েছে। ৮টি বয়া তুলে ফেলার বিপরীতে আমরা ৪৮ বয়া স্থাপন শুরু করেছি। এর মাধ্যমে অন্তত ১০০টি জাহাজ বাড়তি নোঙরের সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা চাই কর্ণফুলী সেতুর উজান থেকে কালুঘাট পর্যন্ত লাইটার জাহাজগুলো নিরাপদে নোঙর করে রাখুক।

কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট অংশ পর্যন্ত অন্তত আরও ১০০টি লাইটার জাহাজ নোঙর করার সুবিধা দিতে নতুন ৪৮টি বয়া বসাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। জায়গায়টি দুটি ব্লকে ভাগ করে এসব বয়া বসানো হবে, যার মধ্যে ১৬টি বয়া বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে বসবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন বয়া বসানোর ফলে ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে জাহাজগুলোকে নিরাপদে রাখা সম্ভব হবে। এ ছাড়াও বিদেশি জাহাজের সঙ্গে লাইটার জাহাজের সংঘর্ষের মতো দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে।

এরই মধ্যে কর্ণফুলী নদীতে বঙ্গবন্ধু টানেল, কোস্টগার্ডের নতুন স্থাপনা, নৌবাহিনীর নতুন বেইস স্টেশনের কারণে বেশ কটি বয়া কর্ণফুলী নদী থেকে তুলে ফেলতে হয়েছে। এতে করে নদীতে জাহাজ রাখার স্থান কমেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শাহ আমানত সেতু থেকে কর্ণফুলী সেতু হয়ে কালুরঘাট পর্যন্ত মোট ৪৮টি বয়া স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। শাহ আমানত সেতুর উজান থেকে ইতোমধ্যে ১৬টি বয়া বসানো শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তত ১০০টি ছোট জাহাজ নিরাপদে নোঙর করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে বন্দর সচিব ওমর ফারুক নিউজাবাংলাকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে অস্থায়ী স্থাপনার কারণে কিছু বয়া অপসারণ করতে হয়েছে। ৮টি বয়া তুলে ফেলার বিপরীতে আমরা ৪৮ বয়া স্থাপন শুরু করেছি। এর মাধ্যমে অন্তত ১০০টি জাহাজ বাড়তি নোঙরের সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা চাই কর্ণফুলী সেতুর উজান থেকে কালুঘাট পর্যন্ত লাইটার জাহাজগুলো নিরাপদে নোঙর করে রাখুক।

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশপথ বা চ্যানেল থেকে শাহ আমানত সেতুর উজান পর্যন্ত ছোট বা লাইটার জাহাজগুলো কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা থাকে। সম্প্রতি নৌ বাণিজ্য দপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর, জাহাজ মালিকদের সংগঠন যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয় গুপ্তবাঁক থেকে চ্যানেল পর্যন্ত কোনো জাহাজ নোঙর করতে পারবে না। মূলত জাহাজ চলাচলের পথ নির্বিঘ্নে রাখতেই এই উদ্যোগ। আর একারণেই নতুন ৪৮ বয়া বসিয়ে বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় খেলাপি ঋণ কমল যেভাবে

শেয়ার করুন

ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট

ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট

প্রতীকী ছবি

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাঁধন সোমবার সকালে এ রিট করেন। এতে বাণিজ্যসচিব, অর্থসচিব, টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, ই-ক্যাবসহ ছয় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে।

দেশে ই-কমার্স ব্যবসা তদারকি করতে একটি ই-কমার্স রেগুলেটরি অথরিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাঁধন সোমবার সকালে এ রিট করেন।

রিটে বাণিজ্যসচিব, অর্থসচিব, টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, ই-ক্যাবসহ ছয় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

এদিকে রোববার এক মামলার শুনানিতে দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতকে বলেন, ‘মাই লর্ড, আমাদের দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিষয়টা এমন যে, প্রথমে তারা অফার দিবে একটা মোটরসাইকেলের টাকায় দুইটা মোটরসাইকেল। এরপর গ্রাহকরা টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল পাবে এবং টাকাটা বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটওয়ে দিয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে চলে যাবে।

‘এরপর আবার দুইটা কিনলে আরও দুইটা ফ্রি, চারটা কিনলে আরও চারটা ফ্রি পাবে, এমন অফার আসে এবং গ্রাহক সে মোটরসাইকেল পায়। কিন্তু একপর্যায়ে যখন গ্রাহক অধিকসংখ্যক যেমন, আটটা মোটরসাইকেল কিনলে আরও আটটা মোটরসাইকেল পাওয়ার জন্য টাকা দেয়, তখন সে টাকা চলে যায়, কিন্তু মোটরসাইকেল আর আসে না।’

আইনজীবী শিশির মনির আদালতকে আরও বলেন, ‘মাই লর্ড, আমাদের এখানে লোভের শিকার হয়ে এবং ই-কমার্সের প্রতিষ্ঠানের প্রতারণায় গ্রাহকেরা প্রতারিত হচ্ছে।’

তখন হাইকোর্ট বলে, ‘আপনারা তো পাবলিক ইন্টারেস্টের মামলা করেন। আপনাদের উচিত পাবলিকদের সচেতন করা, তারা যেন এ ক্ষেত্রে লোভ কমান।’

দেশের একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন গ্রাহকরা। তাদের কেউ কেউ অর্থ আত্মসাতের মামলাও করেছেন।

এমন একটি মামলায় আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন:
করোনায় খেলাপি ঋণ কমল যেভাবে

শেয়ার করুন

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিষ্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগ ওঠার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে গিয়ে হঠাৎ মামলা সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য মিলেছে। এত বেশি অভিযোগ আসছে যে, নিষ্পত্তিতে হিমশিম খাচ্ছে অধিদপ্তর। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠিয়ে তা বন্ধ পাচ্ছেন।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে বিপুল পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে। এত বেশি সংখ্যায় অভিযোগ এর আগে জমা পড়েনি।

সম্প্রতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আরেক প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কর্তাব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন ভারতে। আরেক প্রতিষ্ঠান ধামাকার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা হয়েছে।

কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায় এই তিনটি ছাড়াও অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে টাকা দিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন মানুষ। নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পেয়ে এখন তারা সমাধানের আশায় ছুটছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুব্ধ মানুষ এসে লিখিতভাবে তুলে ধরছেন কোটি কোটি টাকার চাহিদা।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে কেবল ইভ্যালি নিয়েই অভিযোগ পড়েছে ৭ হাজার ১৩৮টি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিস্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

ভোক্তা অধিকার সূত্র জানায়, গেল জুন পর্যন্ত ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ ছিল ১৩ হাজার ৩৫৭টি। আর নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৬টি অভিযোগ। এক্ষেত্রে অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ। তবে জুলাই এবং আগস্ট ধরলে নিষ্পত্তির হার কম।

কোন প্রতিষ্ঠানের কত অভিযোগ

৩০ জুন পর্যন্ত ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৩১৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৪টি অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

তবে জুলাই ও আগস্ট এ দুই মাসে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে ৫ হাজার ৯৮৭টি। অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ৩০৪টিতে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ হাজার ২৯৭টি। নিষ্পত্তির হার ৬৪ শতাংশ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জ নিয়ে অভিযোগের হার বেশি। এর মধ্যে এক ভোক্তার ১ কোটি টাকার অভিযোগ আছে। এর বাইরে ৩০ লাখ, ৫০ লাখ টাকার অভিযোগ কম নেই।

এ সময়ে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে ভোক্তার অভিযোগের সংখ্যা ৭ হাজার ১৩৮টি। ভোক্তা অধিকার নিষ্পত্তি করেছে ৪ হাজার ৪৯৫টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তি ৬৩ শতাংশ।

ই-অরেঞ্জ ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৩টি। এর মধ্যে মাত্র ৩৩টি নিষ্পত্তি করা গেছে। নিষ্পত্তির হার ১ শতাংশ।

দারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১ হাজার ৫১টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৫৮টি। শতকরা হারে যা ৯১ শতাংশ।

ধামাকার বিরুদ্ধে ৩২৩টি অভিযোগের বিপরীতে ৫৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১৮ শতাংশ।

সহজডটকমের বিরুদ্ধে ৯৩টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৮৫টি।

আজকের ডিল ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ১৮২টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬৭টি। শতকরা ৯২ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ৩২২টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৫১টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তির হার ৭৮ শতাংশ।

চালডাল ডটকমের বিরুদ্ধে ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন ১৯০টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৭৯টি। শতকরা নিষ্পত্তি ৮৯ শতাংশ।

প্রিয়শপ ডটকমের বিরুদ্ধে ৬২৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৪২টি। নিষ্পত্তির হার ৭১ শতাংশ।

ফালগুনি ডটকমের মালিক আইনের আওতায় আছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৬৪৪টি অভিযোগ পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৫১টি।

অথবা ডটকমের বিরুদ্ধে ১৮৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬০টি। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

উবার ডটকমের বিরুদ্ধে ১২৮টি অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২৫ অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৯৮ শতাংশ।

পাঠাওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ২৬৭টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ২৬৫টি।

বিক্রয় ডটকমের বিরুদ্ধে ১৭৪টি অভিযোগের বিপরীতে ১৫৭টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নিষ্পত্তির হার ৯০ শতাংশ।

নিরাপদ ডটকম বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগের বিপরীতে ৬৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যার হার ৫৬ শতাংশ।

আদিয়ানমার্ট ডটকম বিরুদ্ধে ১১৬টি অভিযোগের বিপরীতে ৩৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ৩৩ শতাংশ।

আলিশা মার্টের বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগের বিপরীতে মাত্র ২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১০ শতাংশ।

গ্রাহক যা বলেন

ধানমন্ডি থেকে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন আলী শরীফ। তিনি জানান, সব মিলিয়ে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার টাকার পণ্য কেনার জন্য অর্ডার দেয়া হয়। কিন্তু কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি। বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অফিসে গেলে ডেলিভারির দিনক্ষণ দেয়া হয়নি।

শফিক খান নামে একজন বলেন, ‘একটি বাইক কেনার জন্য অর্ডার দিয়েছি তিন মাস আগে। কিন্তু বাইকটি দেয়া হচ্ছে না।’

অন্য একজন গ্রাহক জানান, দুটি মোবাইল সেট কেনার জন্য টাকা দিয়েও পণ্য পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার পণ্য ডেলিভারির যে দিন নির্ধারণ করা হয়, সেই দিনে পণ্য দেয়া হয়নি। তারপরে এক মাসে সময় বাড়িয়ে দিন দেয়া হয়েছে। আসলে পাওয়া যাবে না।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘ই-কমার্স নিয়ে এত অভিযোগ আসছে, তাতে অন্য অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিঘ্ন ঘটছে। লোকবল কম থাকায় হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে। তারপরও গ্রাহকের স্বার্থে সব ধরণের উদ্যোগ নেবে এই প্রতিষ্ঠান।’

আরও পড়ুন:
করোনায় খেলাপি ঋণ কমল যেভাবে

শেয়ার করুন

‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ চার্জমুক্ত রাখার নির্দেশ

‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ চার্জমুক্ত রাখার নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগ রোববার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জীবন বিমা করপোরেশনের সা‌র্বিক প‌রিচালনায় এ বিমার আর্থিক লেনদেন শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং‌য়ে করা যা‌বে। ত‌বে এ জন্য কোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ বা ফি নেয়া যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগ রোববার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় মুজিব শতবার্ষিকীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জীবন বিমা করপোরেশনের বিমাকারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমাসংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এ জন্য কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ বা ফি নেয়া যাবে না।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা ও লেনদেন অব্যাহত রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। এ ছাড়া বিমাসংক্রান্ত অন্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

অর্থের অভাবে কোমলম‌তি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ পলিসির আওতায় প্রিমিয়াম মাসে ২৫ টাকা, বছরে ৩০০ টাকা, বিমার অঙ্ক ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
করোনায় খেলাপি ঋণ কমল যেভাবে

শেয়ার করুন

রেমিট্যান্সে ফের গতি

রেমিট্যান্সে ফের গতি

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ধীরগতি নিয়ে শুরু হয় ২০২১-২২ অর্থবছর। প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা। যা ছিল আগের চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। দ্বিতীয় মাস আগস্ট জুলাইয়ের চেয়েও কম রেমিট্যান্স আসে ১৮১ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিট্যান্সের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৬ দিনে (১ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর) ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে আবার গতি ফিরেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ দিনেই ১০৯ কোটি পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বর্তমান বাজারদরে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ২৫ পয়সা) টাকার অংকে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

গত তিন মাস ধরে রেমিট্যান্সের গতি নিম্মমুখি। ২ বিলিয়ন ডলারের কম এসেছে। জুনে এসেছিল ১৯৪ কোটি ডলার। পরের দুই মাস জুলাই ও আগাস্টে আসে যথাক্রমে ১৮৭ কোটি ও ১৮১ কোটি ডলার।

সেক্ষেত্রে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আসার মধ্য দিয়ে রেমিট্যান্সপ্রবাহের গতি আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করবে আশার কথা শুনিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘জুলাই মাসে ২১ তারিখ কোরবানির ঈদ উদযাপিত হয়। ঈদের পর ওই মাসের বাকি দিনগুলোতে খুবই কম রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। সে কারণে জুলাই মাসে ২ বিলিয়ন ডলারের কম রেমিট্যান্স দেশে আসে। তার রেশ আগস্ট মাসেও থাকে। সেপ্টেম্বর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করছি। ইতোমধ্যে তার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।’

মহামারি করোনাভাইরাসের মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪.৮ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ছিল আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সে ফের গতি

টাকার অঙ্কে ওই অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ১১৫ কোটি টাকা, যা ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের এক-তৃতীয়াংশের বেশি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছর বা অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স কখনই আসেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেটে দেখা যায়, গত অর্থবছরের ১২ মাসের সাত মাসই ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬০ কোটি ডলার এসেছিল ওই অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে। যা এখন পর্যন্ত এক মাসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স।

কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ধীরগতি নিয়ে শুরু হয় ২০২১-২২ অর্থবছর। প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার দেশে পাঠান প্রবাসীরা। যা ছিল আগের চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। দ্বিতীয় মাস আগস্ট জুলাইয়ের চেয়েও কম রেমিট্যান্স আসে ১৮১ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিট্যান্সের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৬ দিনে (১ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর) ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। এরমধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

বেসরকারি ৪০ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৮৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর বিদেশি ৯ ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪০ লাখ ডলার।

মহামারির মধ্যে গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে। ওই মাসে প্রায় ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পাঠান প্রবাসীরা, যা এক মাসের হিসাবে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে মে মাসে ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

গত অর্থবছরের ১২ মাসের মধ্যে ৭ মাসেই ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারের বেশি করে রেমিট্যান্স এসেছে। গড় হিসাবে প্রতি মাসে ২ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার করে এসেছে।

তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ (১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা ছিল এক অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি।

মহামারির কারণে রেমিট্যান্স কমার আশঙ্কা করা হলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। গত বছরের মার্চে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়ে।

ওই মাসে ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে। এরপর আর রেমিট্যান্স কমেনি, প্রতি মাসেই বেড়ে চলেছে। রেকর্ডের পর রেকর্ড হয়েছে।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটেও এই প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় সরকার।

রিজার্ভ ৪৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার

রেমিট্যান্সপ্রবাহে গতি ফেরায় বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় আছে। রোববার দিন শেষে রিজার্ভ ৪৬ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি বাড়ার পরও গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন) ডলার এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) ঋণ রিজার্ভে যোগ হওয়ায় এক লাফে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অত্রিকম করে।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

আরও পড়ুন:
করোনায় খেলাপি ঋণ কমল যেভাবে

শেয়ার করুন

এডিপি বাস্তবায়নে শুরুতেই এগিয়ে আইসিটি খাত

এডিপি বাস্তবায়নে শুরুতেই এগিয়ে আইসিটি খাত

এডিবি বাস্তবায়নে অন্য সব মন্ত্রণালয়ের চেয়ে এগিয়ে আছে আইসিটি বিভাগ।

কেবল এবার নয়, গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরেও সামগ্রিক হারের ‍তুলনায় আইসিটিতে এডিপি বাস্তবায়নের হার বেশি ছিল। ওই বছরে আইসিটি বিভাগ ৮৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, যদিও সামগ্রিকভাবে এডিপি বাস্তবায়ন হয় ৮২ দশমিক ২১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নে অন্য অনেক মন্ত্রণালয়ের চেয়ে বেশি সফল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি বিভাগ।

দুই মাসে এই বিভাগে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫ শতাংশ, যা সামগ্রিক হারের প্রায় দেড় গুণ। এই দুই মাসে সামগ্রিকহারে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।

কেবল এবার নয়, গত জুনে সমাপ্ত অর্থবছরেও সামগ্রিক হারের ‍তুলনায় আইসিটিতে এডিপি বাস্তবায়নের হার বেশি ছিল। ওই বছরে আইসিটি বিভাগ ৮৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, যদিও সামগ্রিকভাবে এডিপি বাস্তবায়ন হয় ৮২ দশমিক ২১ শতাংশ।

রোববার বিভাগটির এডিপি বাস্তবায়ন পর্যালোচনা সভায় অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের এই তথ্য জানানো হয়।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই সভায় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব রীনা পারভীনের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরসহ বিভাগের অধীন বিভিন্ন সংস্থা প্রধান এবং বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকরাও যুক্ত হন।

সভায় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী গুণগতমান বজায় রেখে দ্রুত প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি শতভাগ নিশ্চিত এবং যথাসময়ে কাজ শেষ করতে প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

চলতি অর্থবছরে আইসিটি বিভাগের অধীন ২৩টি উন্নয়ন তিনটি কারিগরি ও একটি নিজস্ব প্রকল্পসহ মোট ২৭টি প্রকল্প রয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নসহ এডিপির বরাদ্দ এক হাজার ৪৫২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

সভায় আইসিটি বিভাগের চলতি অর্থবছরে গৃহীত প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, মাসভিত্তিক বাস্তব ও আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহ এবং জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংস্থা প্রধান ও প্রকল্প পরিচালকরা নিজ নিজ প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও সর্বশেষ অগ্রগতি সভায় তুলে ধরেন।

সভায় যেসব প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- জেলা পর্যায়ে আইটি/হাইটেক পার্ক স্থাপন প্রকল্প, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব, বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি-২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প, জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন, ইনফো সরকার-৩ প্রকল্প, দুর্গম এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্ক স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প, অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (২য় সংশোধিত)।

‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক রাজশাহী (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প, কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কসহ অন্যান্য হাইটেক পার্ক উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন, বিজিডি ই-গভ সার্ট এর সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্প, লিভারেজিং আইসিটি ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গ্রোথ অফ দ্য আইটি-আইটি ইএস ইন্ডাস্ট্রিজ প্রকল্প।

‘জাপানিজ আইটি সেক্টরের উপযোগী করে আইটি ইঞ্জিনিয়ারদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প, মোবাইল গেইম অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন এর দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠা প্রকল্প, বাংলাদেশ সরকারের জন্য নিরাপদ ইমেইল ও ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টার স্থাপন প্রকল্প, কানেক্টেড বাংলাদেশ শীর্ষক প্রকল্প, ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি স্থাপন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।’

আরও পড়ুন:
করোনায় খেলাপি ঋণ কমল যেভাবে

শেয়ার করুন

সোহেল রানাকে দেশে ফেরানোর আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সোহেল রানাকে দেশে ফেরানোর আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ই-অরেঞ্জের কথিত মালিক ও বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

বনানী থানার সাময়িক বরখাস্ত পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানা আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কথিত মালিক। পুলিশে চাকরির আড়ালে তিনি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা হলে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

ভারতে আটক বনানী থানার সাময়িক বরখাস্ত পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

সোহেল রানা আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কথিত মালিক। পুলিশে চাকরির আড়ালে তিনি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা হলে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

সোহেল রানাকে যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে রোববার আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।
তিনি বলেন, ‘তাকে (সোহেল রানা) দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাকে ফিরিয়ে আনা হবে।’

সোহেল রানাকে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে আটক করা হয় বলে জানায় ভারতের গণমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ভারত।

ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে। ৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন আসামি সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান ও প্রতিষ্ঠানের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আমানউল্লাহ চৌধুরী।

সোনিয়া মেহজাবিন কাগজে-কলমে ই-অরেঞ্জের মালিক হলেও তার ভাই শেখ সোহেল রানা আড়ালে থেকে সব পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডে থাকার সময় ই-অরেঞ্জের সাবেক সিওও নাজমুল আলম রাসেল এমন তথ্য দিয়েছেন।

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতারণা বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা মানুষকে প্রতারিত করবে তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজে বের করবে। তাদের শাস্তির ব্যবস্থাও আমরা করে দেব। আমাদের কাছে যে খবরগুলো আসছে, সেগুলোর উপরে আমাদের তদন্ত দল কাজ করছে।’

জনগণকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ই-বিজনেস বলুন, আর যেটাই বলুন অনেকেই প্রতারণা করছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমরা দেখেছি তৈরি হয়েছে, যেমন- ইভ্যালি, ধামাকা, ই-অরেঞ্জ। এরা মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কমিটমেন্ট পূরণ কীভাবে করবে, তা আমার জানা নেই।

‘তারা জনগণকে যে কমিটমেন্ট দিয়েছে তা যদি পূরণ না করে তাহলে আমরা আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। করতেই হবে। যারা এসব প্রতিষ্ঠানে লগ্নি বা ইনভেস্ট করেন, তারা বুঝে করবেন যেন প্রতারিত না হন। যে প্রলোভন তারা দেখাচ্ছে, সেটা বাস্তবসম্মত কি না সেটাও আপনারা ভেবে দেখবেন।’

ই-অরেঞ্জের হিসাব থেকে সোহেল রানার প্রায় আড়াই কোটি টাকা উত্তোলনেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এরপর গত ২৮ আগস্ট ৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সোহেল রানাসহ ই-অরেঞ্জের ১০ জন মালিক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেন টিটু নামের একজন গ্রাহক। আদালতের নির্দেশে গুলশান থানা পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে।

পরের দিন বনানী থানায় নিজ কর্মস্থলে যোগ দেননি সোহেল রানা। এরপর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, অনুপ্রেবেশের অভিযোগে দেশটির নেপাল সীমান্ত থেকে তাকে আটক করেছে বিএসএফ।

সোহেল রানাকে আটকের সময় তার কাছে পাসপোর্ট, কয়েকটি দেশের মুদ্রা, থাইল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের কয়েকটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড পেয়েছে বিএসএফ। ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় খেলাপি ঋণ কমল যেভাবে

শেয়ার করুন