আর্জেন্টিনার জয়ের পর শান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আর্জেন্টিনার জয়ের পর শান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়ের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া একেবারেই শান্ত। কোনো রকম হট্টগোল ছাড়া জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট পরিসরে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিজয় মিছিল বের করতে দেখা গেছে। আশপাশের কিছু এলাকা ঘুরে তারা বাড়ি ফিরে যান অল্প সময়েই। 

লাতিন আমেরিকা থেকে প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচের উত্তেজনা ছড়িয়েছে এখানেও।

জেলার ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উন্মাদনা নিয়ে আলোচনা দেশ ছাড়িয়ে পৌঁছেছে বিদেশেও। তাই ফাইনালের পর এই জেলার পরিস্থিতি কী হয়, তা নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই দেশবাসীর।

ফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়ের পর একেবারেই শান্ত দেখা গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। কোনো রকম হট্টগোল ছাড়া জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট পরিসরে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বিজয় মিছিল বের করতে দেখা গেছে। আশপাশের কিছু এলাকা ঘুরে তারা বাড়ি ফিরে যান অল্প সময়েই।

এর আগে গত ৬ এপ্রিল দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষের পর আলোচনায় আসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তাই ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল পুলিশের। পাশাপাশি গত শনিবার সতর্কতামূলক মাইকিংও করা হয়েছিল।

ফুটবল ম্যাচ ঘিরে পুলিশের এমন উদ্যোগকে অনেকটাই ‘বাড়াবাড়ি’ মনে করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ।

আর্জেন্টিনার জয়ের পর শান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘চলমান লকডাউনে এমনিতেই বাইরে বের হওয়ার সুযোগ নেই। প্রশাসনও নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে।

‘এ অবস্থায় বাইরে কোথাও বড় পর্দায় টিভি দেখতে না পারারই কথা। মিছিল না করতে নির্দেশনা দিয়ে মাইকিং করা হাস্যকর।’

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, ‘ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কিংবা অন্য কোনো দলের ফুটবল ম্যাচ নিয়ে সারা দেশেই আগ্রহ থাকার বিষয়টি বেশ পুরোনো। একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এভাবে গতকাল যেভাবে মাইকিং করা হয়েছে, সেটিতে জেলাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছিল। আজকে দেখেন খেলার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিস্থিতি কিন্তু স্বাভাবিক রয়েছে।

‘লকডাউনের কারণে খেলা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগের মতো উত্তেজনা নেই বললেই চলে। তবে উঠতি বয়সের ছেলেরা খেলা নিয়ে উৎসাহিত হবে, এটা অস্বাভাবিক কিছু না। দেখার বিষয় শুধু কেউ যেন সংঘাতে জড়িয়ে না যায়। আমরা সেটিই দেখেছি খেলার পর কোনো সংঘাত বা সংঘর্ষ জেলায় নেই।’

আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের খেলার পর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, বড় স্ক্রিন, কোনো ক্লাবে কিংবা চায়ের দোকানে আয়োজন করে খেলা দেখা হয়নি। সবাই যার যার বাড়ি থেকে খেলা উপভোগ করেছে।

এর আগে শনিবার পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘যেন কোনো গোলযোগ না হয়, সে জন্য ১১৬টি বিটে চারজন করে কাজ করবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তা ছাড়া ফাইনাল খেলার বিজয়কে কেন্দ্র করে রাস্তাঘাটে বিজয় মিছিল করা যাবে না।’

আর্জেন্টিনার জয়ের পর শান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া

যে কারণে এই সতর্কতা

বাংলাদেশে ফুটবলভক্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের। ১৪ বছর পর বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ।

এই ম্যাচকে ঘিরে দক্ষিণ আমেরিকায় যে উত্তেজনা, সেখান থেকে যোজন যোজন দূরে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়াও যেন কম নয়।

কোপা আমেরিকার আসরের শুরু থেকেই দুই দলের সমর্থকরা গলা ফাটাচ্ছেন। আর এই উত্তেজনাকে ঘিরে ৬ জুলাই পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজনের আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।

আরও পড়ুন:
টুর্নামেন্টে সেরা মেসি, ফাইনালে সেরা দি মারিয়া
অবশেষে তিনি ‘আর্জেন্টিনার মেসি’
দি মারিয়ার গোলে মেসির হাতে শিরোপা
ফাইনালের মহাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা
কোপা ফাইনাল: মৌসুমী ব্রাজিল-তিশা আর্জেন্টিনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য