নারী পাচার: নদীসহ সাতজন রিমান্ডে

নারী পাচার: নদীসহ সাতজন রিমান্ডে

ভারতে নারী পাচারের ঘটনায় আলোচিত হয়ে ওঠা নদী। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ বলছে, পাচারের উদ্দেশ্যে আনা মেয়েদের যশোর সীমান্তে বাড়িতে রেখে সুযোগমতো ভারতে পাচার করত চক্রটি। পাচারকৃত প্রত্যেক মেয়ের জন্য স্থানীয় এক ইউপি সদস্য এক হাজার টাকা করে নিতেন। পাচারকালে কোনো মেয়ে বিজিবির কাছে আটক হলে সেই ইউপি সদস্য তাকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতেন।

হাতিরঝিল থানার মামলায় আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের সদস্য সন্দেহে গ্রেপ্তার নদী আক্তার ইতিসহ সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চার দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—নদী আক্তার ইতি বা নুর জাহান, তরিকুল ইসলাম, আল আমিন সোহেল, সাইফুল ইসলাম, বিনাস সিকদার, আমিরুল ইসলাম ও পলক মণ্ডল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক (নিরস্ত্র) আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেককে ১০ দিন করে হেফাজতে নিতে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে হাতিরঝিল থানার নারী ও শিশু আদালতের নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাফাত আরা সুলতানা রিমান্ড আবেদন অনুমোদনের আবেদন করেন।

আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, ‘আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। মাঠেঘাটে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।’

‘কাজ করার সময় যশোর এবং নড়াইল থেকে এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাউকে সাত দিন আবার কাউকে ১৫ দিন আগেও গ্রেপ্তার করেছে। অনেক দিন তারা থানায় ছিলেন। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরও বেশি কিছু জানার থাকলে তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।’

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া, দুবাইয়েও নারী পাচারে নদীর নাম

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোরের শার্শা থেকে আল আমিন, সাইফুল, আমিরুলকে; বেনাপোল থেকে নদী আক্তার, পলক মণ্ডল, তরিকুলকে এবং নড়াইল থেকে বিনাস সিকদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, পাচারের উদ্দেশ্যে আনা মেয়েদের যশোর সীমান্তে বাড়িতে রেখে সুযোগমতো ভারতে পাচার করত চক্রটি।

পাচারকৃত প্রত্যেক মেয়ের জন্য স্থানীয় এক ইউপি সদস্য এক হাজার টাকা করে নিতেন। পাচারকালে কোনো মেয়ে বিজিবির কাছে আটক হলে সেই ইউপি সদস্য তাকে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতেন।

এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে মেয়েদের পাচার করে আসছিল এই চক্রটি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য